১ নভেম্বর ২০২৬

ব্যালন ডি’অর পাওয়ার র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ পাঁচে মেসি

প্রকাশ: রবিবার, জুলাই ২৬, ২০২৬
ব্যালন ডি’অর পাওয়ার র‍্যাঙ্কিংয়ে  শীর্ষ পাঁচে মেসি
টপ স্টোরিজ

ঐতিহ্যগতভাবেই বিশ্বকাপ ফুটবল ব্যালন ডি’অরের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে দেয়। ২০০৬ সালে ইতালির বিশ্বজয়ের ওপর ভর করে এই ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছিলেন ফ্যাবিও কানাভারো, ২০১৮ সালে ক্রোয়েশিয়াকে ফাইনালে তুলে বাজিমাত করেছিলেন লুকা মদরিচ, আর দুই বছর আগে কাতার বিশ্বকাপে অসাধারণ পারফরম্যান্স করে বর্ষসেরার বিতর্ক একপ্রকার থামিয়েই দিয়েছিলেন লিওনেল মেসি।

তবে ২০২৬ সালের নিউইয়র্ক ফাইনালের পর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। স্পেন ট্রফি উঁচিয়ে ধরলেও এবারের লড়াইয়ে একক কোনো ফেভারিট বেছে নেওয়া বেশ কঠিন। কেউ ক্লাবের হয়ে অনন্য উচ্চতা ছুঁয়েছেন কিন্তু দেশের হয়ে পারেননি, আবার কেউ বিশ্বমঞ্চ রাঙালেও ক্লাব ফুটবলে পিছিয়ে পড়েছেন। আগামী ব্যালন ডি’অরের এই উন্মুক্ত দৌড়ে শীর্ষ পাঁচের পাওয়ার র‌্যাঙ্কিং প্রকাশ করেছে স্পোর্টস স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ডিএজেডএন।

১. হ্যারি কেইন (বায়ার্ন মিউনিখ / ইংল্যান্ড)

বিশ্বকাপের মঞ্চে ট্রফি উঁচিয়ে ধরতে না পারলেও পুরো মৌসুম জুড়ে ধারাবাহিকতার অনন্য এক গল্প লিখেছেন ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি কেইন। ইংল্যান্ডকে সেমিফাইনাল পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার পথে ৬টি গোল করেছেন থমাস টুখেলের প্রধান এই অস্ত্র। তবে তার ব্যালন ডি’অর জয়ের শক্ত দাবির পেছনে সবচেয়ে বড় ভিত্তি হলো বায়ার্ন মিউনিখ ও জাতীয় দলের হয়ে এক মৌসুমে করা অবিশ্বাস্য ৭০টি গোল।

সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বুন্দেসলিগা শিরোপা। বড় টুর্নামেন্টের ট্রফি না জিতলেও পুরো মৌসুমজুড়ে এমন অতিমানবীয় পারফরম্যান্সই তাঁকে এবার বর্ষসেরা হওয়ার দৌড়ে সবার চেয়ে এগিয়ে রাখছে। ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের তৃতীয় হয়েছে, চ্যাম্পিয়নস লিগে বায়ার্ন হয়েছে রানার্সআপ।

২. লামিন ইয়ামাল (বার্সেলোনা/স্পেন)

হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট কাটিয়ে বিশ্বকাপে নামা লামিন ইয়ামাল হয়তো নিজের সেরা রূপটি শতভাগ দেখাতে পারেননি, তবুও স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম নায়ক তিনিই। স্প্যানিশ ফুটবলের এই বিস্ময় বালক বড় মঞ্চে ঠিকই দলের প্রয়োজনে আলো ছড়িয়েছেন। তবে তার আসল শক্তি ক্লাব ফুটবলের পারফরম্যান্স; একক নৈপুণ্যে বার্সেলোনাকে এনে দিয়েছেন লা লিগা শিরোপা। বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বেও যদি ক্লাবের মতো বিধ্বংসী রূপ বজায় রাখতে পারতেন, তবে র্যাংকিংয়ের এক নম্বর জায়গাটা হয়তো তার দখলেই থাকত।

৩. রদ্রি (ম্যানচেস্টার সিটি/স্পেন)

ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে এবার তুলনামূলকভাবে কিছুটা ম্লান মৌসুম কাটলেও জাতীয় দলের জার্সিতে আবারও নিজেকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন রদ্রি। মাঝমাঠের গতি নিয়ন্ত্রণ, ঠান্ডা মাথার পাসিং ও বিশ্বমানের নেতৃত্বের জোরে স্পেনকে বিশ্বসেরার মুকুট এনে দিয়েছেন তিনি। টুর্নামেন্টের সেরা ফুটবলার হিসেবে জিতে নিয়েছেন ‘গোল্ডেন বল’। ব্যালন ডি’অরের বিচারে বিশ্বকাপের এই সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত পুরস্কারটির প্রভাব সবসময়ই প্রবল, আর এটিই রদ্রিকে ট্রফির অন্যতম প্রধান দাবিদার করে তুলেছে।

৪. কিলিয়ান এমবাপে (রিয়াল মাদ্রিদ/ফ্রান্স)

বিশ্বকাপে ১০ গোল করে ‘গোল্ডেন বুট’ নিজের নামে করে নিয়েছেন কিলিয়ান এমবাপে। এই পারফরম্যান্সে লিওনেল মেসিকে টপকে বিশ্বকাপের ইতিহাসের একক সর্বোচ্চ গোলদাতাও এখন ফরাসি এই ফরোয়ার্ড। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ব্যক্তিগত পরিসংখ্যান চোখধাঁধানো হলেও লা লিগা বা চ্যাম্পিয়নস লিগের কোনো ট্রফিই ঘরে তুলতে পারেনি তার দল। অন্যদিকে দিদিয়ে দেশমের শক্তিশালী ফ্রান্সের সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়াটাও বড় ধাক্কা। ব্যক্তিগত রেকর্ড সমৃদ্ধ হলেও ট্রফিশূন্য মৌসুম তাঁকে বর্ষসেরার দৌড়ে চার নম্বরে আটকে রেখেছে।

৫. লিওনেল মেসি (ইন্টার মায়ামি/আর্জেন্টিনা)

৩৯ বছর বয়সেও বিশ্বকাপের মঞ্চে আর্জেন্টিনার মূল কাণ্ডারি ছিলেন লিওনেল মেসি। ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্টে আলবিসেলেস্তেদের টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালের মঞ্চে পৌঁছে দিতে তিনি মূল ভূমিকা পালন করেন। তবে ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে তার পারফরম্যান্স কিছুটা নিষ্প্রভ ছিল। অন্যদিকে ইন্টার মায়ামির হয়ে চমৎকার খেললেও ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোর বাইরের ফুটবলকে ব্যালন ডি’অরের ভোটাররা কিছুটা কম নম্বর দিয়ে থাকেন। ফলে মহাকাব্যিক এক বিশ্বকাপের পরও রেকর্ড নবম ব্যালন ডি’অর উঁচিয়ে ধরা মেসির জন্য এবার বেশ কঠিন।

কাতারে মাঠে গড়াচ্ছে এশিয়া কাপ রাইজিং স্টার্স: বাংলাদেশের খেলা কবে কোথায়

প্রকাশ: রবিবার, অক্টোবর ২৫, ২০২৬
কাতারে মাঠে গড়াচ্ছে এশিয়া কাপ রাইজিং স্টার্স: বাংলাদেশের খেলা কবে কোথায়
টপ স্টোরিজ

আগামী ১৯ নভেম্বর শুরু হতে যাচ্ছে এশিয়া কাপ রাইজিং স্টার্স। ভেন্যু এবার কাতারে, এরই মধ্যে এসিসি টুর্নামেন্টের সূচি প্রকাশ করেছে।

একই গ্রুপে রয়েছে ভারত ও পাকিস্তান। কাতারের ওয়েস্ট এন্ড ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়াম ও ইউনিভার্সিটি অব দোহা ফর সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ক্রিকেট মাঠে হবে এবারের এশিয়া কাপ রাইজিং স্টার্স।

'এ' গ্রুপে বাংলাদেশ 'এ' দল, শ্রীলঙ্কা 'এ' দল, আফগানিস্তান 'এ' দল এবং হংকং দল। এ ছাড়া 'বি' গ্রুপে থাকছে ভারত 'এ' দল, পাকিস্তান 'এ' দল এবং নেপাল ও সংযুক্ত আরব আমিরাত জাতীয় দল। এই টুর্নামেন্টের ফরম্যাট ৫০ ওভারের।

১৯ নভেম্বর প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হংকং। দ্বিতীয় ম্যাচে শ্রীলঙ্কা লড়বে আফগানিস্তানের বিপক্ষে।

২০ নভেম্বর পাকিস্তান-ইউএই ও ভারত-নেপাল ম্যাচ। পরদিন শ্রীলঙ্কা-হংকং ও বাংলাদেশ-আফগানিস্তান লড়াই।

২২ তারিখ ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ছাড়াও রয়েছে ইউএই-নেপাল ম্যাচ।

২৩ নভেম্বর আফগানিস্তান-হংকং এবং শ্রীলঙ্কা-বাংলাদেশ ম্যাচ এবং ২৪ নভেম্বর ভারত-ইউএই ও পাকিস্তান-নেপাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।

২৬ নভেম্বর ও ২৭ নভেম্বর দুটি সেমিফাইনাল এবং ২৯ নভেম্বর ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।

২ থেকে ৭ নভেম্বর দোহায় শুরু হচ্ছে প্যাডেল বিশ্বকাপ!

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২২, ২০২৬
২ থেকে ৭ নভেম্বর দোহায় শুরু হচ্ছে প্যাডেল বিশ্বকাপ!
টপ স্টোরিজ

আন্তর্জাতিক প্যাডেল ফেডারেশন (FIP)-এর অন্যতম প্রধান আসর 'এফআইপি প্যাডেল বিশ্বকাপ কাতার ২০২৬' আয়োজনের জন্য সার্বিকভাবে প্রস্তুত রয়েছে দোহা।

আগামী ২ থেকে ৭ নভেম্বর রাজধানী দোহার খলিফা ইন্টারন্যাশনাল টেনিস অ্যান্ড স্কোয়াশ কমপ্লেক্সে জমকালো এই বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।

বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে কাতার প্যাডেল ফেডারেশন (QPF) টুর্নামেন্ট শুরুর এই চূড়ান্ত প্রস্তুতির কথা নিশ্চিত করেছে।

এবারের বিশ্বকাপে বিশ্বের শীর্ষ স্থানীয় ৩২টি জাতীয় দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। এর মধ্যে পুরুষ বিভাগে ১৬টি এবং নারী বিভাগে ১৬টি দল অংশ নেবে।

২০২১ ও ২০২৪ সালের সফল আয়োজনের পর এবার তৃতীয়বারের মতো এই বিশ্বমঞ্চের আয়োজন আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে কাতারের উচ্চমানের পেশাদারিত্ব এবং একটি বৈশ্বিক স্পোর্টস হাব হিসেবে দোহার অবস্থানকে আরও শক্ত ভিত্তি প্রদান করল।

কাতার টেনিস, স্কোয়াশ ও ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের (QTSBF) মহাসচিব এবং টুর্নামেন্ট ডিরেক্টর তারিক দরবেশ জয়নাল কাতার নিউজ এজেন্সি (QNA)-কে জানিয়েছেন যে, টুর্নামেন্টের লজিস্টিকস, কোর্ট ব্যবস্থাপনা ও টেকনিক্যালসহ সার্বিক অবকাঠামোগত কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, কাতার জাতীয় দল সম্প্রতি জাপানে অনুষ্ঠিত আইচি-নাগোয়া ২০২৬ এশিয়ান গেমসে ঐতিহাসিক স্বর্ণপদক জয় নিশ্চিত করায় এবার স্বাগতিক কাতার দলের প্রতি সমর্থকদের প্রত্যাশা আরও অনেক উঁচুতে। র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ ১০-এ থাকা কাতার দল ঘরের মাঠে সেরা পারফরম্যান্স উপহার দিতে আশাবাদী।

টুর্নামেন্টের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর সাদ আল-মোহান্নাদি জানান, অনলাইন টিকিট প্ল্যাটফর্ম চালু করা হয়েছে যাতে দেশি-বিদেশি দর্শকরা সহজেই খেলা উপভোগ করতে পারেন। আন্তর্জাতিক প্যাডেল ফেডারেশন কাতারের ওপর আস্থা রেখে ২০২৬ এবং ২০২৮ সালের দুটি বিশ্বকাপ আয়োজন তুলে দেওয়ায় এটিকে বিশ্ব ক্রীড়া সংস্থার বিশেষ স্বীকৃতি হিসেবে দেখছে দোহা।

অংশগ্রহণকারী চূড়ান্ত দল ও বাছাইপর্ব:

ইতোমধ্যে পুরুষ ও নারী উভয় বিভাগে ১৫টি করে মোট ৩০টি দেশ সরাসরি মূল পর্বের টিকিট নিশ্চিত করেছে।

  • পুরুষ বিভাগ: স্বাগতিক কাতার, বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, স্পেন, পর্তুগাল, ইতালি, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ব্রাজিল, ফ্রান্স, চিলি, সুইডেন, যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো, প্যারাগুয়ে, নেদারল্যান্ডস ও জার্মানি।

  • নারী বিভাগ: স্বাগতিক কাতার, স্পেন, আর্জেন্টিনা, ইতালি, পর্তুগাল, নেদারল্যান্ডস, সুইডেন, ফ্রান্স, ব্রাজিল, বেলজিয়াম, যুক্তরাষ্ট্র, প্যারাগুয়ে, চিলি, জার্মানি ও গ্রেট ব্রিটেন।

উভয় বিভাগের মূল লড়াইয়ের চূড়ান্ত ১৬তম দলটি নির্ধারণে আগামী ২৬ থেকে ৩০ অক্টোবর কুয়েতে যৌথ আফ্রিকা-এশিয়া বাছাইপর্বের খেলা অনুষ্ঠিত হবে। সেখান থেকে শীর্ষ স্থান অর্জনকারী দল দুটি দোহায় অনুষ্ঠিত মূল পর্বের চূড়ান্ত ড্র-তে যুক্ত হবে।

গোল করে বিদায় নিলেন আরেক আর্জেন্টাইন বিশ্বজয়ী

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ০৮, ২০২৬
গোল করে বিদায় নিলেন আরেক আর্জেন্টাইন বিশ্বজয়ী
টপ স্টোরিজ

বুয়েনস অ্যাইরেসের মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার রাতে ফুটবল বিশ্ব দেখেছে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ১৮ বছর বয়সে প্রথম আন্তর্জাতিক ফুটবলে পা রাখা লিওনেল মেসির বিদায়।

৮৫ হাজারেরও বেশি দর্শকের উন্মাদনা, আতশবাজির ঝলকানি এবং পুরো বিশ্ব মিডিয়ার স্পটলাইট সবই ছিল মহাতারকা মেসিকে ঘিরে। তবে ৮৫ হাজার দর্শকের গগনবিদারি করতালির আড়ালেই জাতীয় দলের নীল-সাদা জার্সি চিরতরে তুলে রাখলেন আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের অন্যতম সেনাপতি ও ২০২২ কাতার বিশ্বকাপজয়ী নিকোলাস ওতামেন্দি।

বেনিনের বিরুদ্ধে ৩-০ গোলের জয়ের রাতে মেসি যখন মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু, ঠিক তখনই অন্তরালে নিজের ১৭ বছরের দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন এই বর্ষীয়ান ডিফেন্ডার।

ম্যাচের ৪৮তম মিনিটে ফুটবল বিশ্বকে দারুণ এক দৃশ্য উপহার দেন ওতামেন্দি।

মেসির নেওয়া নিখুঁত কর্নার থেকে অসাধারণ এক অ্যাক্রোবেটিক ভলিতে বেনিনের জালে বল জড়িয়ে দেন তিনি। গোল করার পর উল্লাসে ছুটে গিয়ে জড়িয়ে ধরেন দীর্ঘদিনের বন্ধু মেসিকে। বিদায়ি ম্যাচে জাতীয় দলের হয়ে গোল করার মতো বিরল স্মৃতি নিয়ে মাঠ ছাড়েন এই তারকা।

ম্যাচ শেষে আবেগাপ্লুত ওতামেন্দি বলেন, ‘অবিশ্বাস্য এক সমাপ্তি! আমি তো আগেই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছিলাম।

কিন্তু আমাদের অধিনায়কের (মেসি) বিশেষ আমন্ত্রণে আবার এখানে এসে তার এই ঐতিহাসিক ক্ষণের অংশ হওয়ার সুযোগ পেয়েছি। জাতীয় দলের হয়ে ১৭ বছরে আমি কত কী পেয়েছি! আর শেষ ম্যাচে গোল করার অনুভূতি আমি সারা জীবন মনে রাখব।’

ম্যাচের ৫২তম মিনিটে যখন তাকে তুলে নেওয়া হয়, তখন স্টেডিয়ামের গ্যালারি ভেসে যায় করতালিতে। মাঠ ছাড়ার আগে আর্জেন্টিনার ব্যাজে চুমু খেয়ে সমর্থকদের রাজকীয় অভিবাদন গ্রহণ করেন ওতামেন্দি। ডাগআউটে ফেরার পথে কৃতজ্ঞতা জানান সতীর্থ মেসির প্রতি, ‘বিশ্বের সবচেয়ে বিনয়ী মানুষ হওয়ার জন্য তোমাকে ধন্যবাদ।

আর্জেন্টাইন পতাকাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য তোমার কাছে আমরা ঋণী।’

২০০৯ সালে জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক হওয়া নিকোলাস ওতামেন্দি দীর্ঘ ১৭ বছরে খেলেছেন ১৪০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ। রক্ষণে দেয়াল তুলে দাঁড়ানোর পাশাপাশি করেছেন ১০টি গোল। আর্জেন্টিনার আধুনিক ফুটবলের সোনালি যুগের অন্যতম কারিগর ছিলেন তিনি। দেশের হয়ে জিতেছেন চারটি বড় শিরোপা—২০২১ কোপা আমেরিকা, ২০২২ ফিনালিসিমা, ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ এবং ২০২৪ কোপা আমেরিকা।

বিদায়ের রাতে আকাশে ড্রোনে ক্যারিয়ারের গল্প, আবেগে ভাসলেন মেসি

প্রকাশ: বুধবার, অক্টোবর ০৭, ২০২৬
বিদায়ের রাতে আকাশে ড্রোনে ক্যারিয়ারের গল্প, আবেগে ভাসলেন মেসি
টপ স্টোরিজ

আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষ ম্যাচ খেলেছেন লিওনেল মেসি। বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায় লিখে ফেলার পরই কিংবদন্তিকে ঘিরে তৈরি হলো আরও একটি আবেগঘন মুহূর্ত। মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামের আকাশে ড্রোন শোতে ফুটে উঠল আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির বর্ণিল ক্যারিয়ারের স্মরণীয় সব মুহূর্ত।

ম্যাচ শেষ হওয়ার পর আর্জেন্টিনার সতীর্থদের সঙ্গে মাঠে দাঁড়িয়ে সেই বিশেষ আয়োজন দেখেন ৩৯ বছর বয়সী মেসি। আকাশে একের পর এক ড্রোনের আলোয় ফুটে উঠতে থাকে জাতীয় দলের হয়ে তার সেরা মুহূর্তগুলো। মেসির করা দুর্দান্ত কিছু গোলের দৃশ্যও তুলে ধরা হয় সেই আয়োজনে।

বিদায় লিওনেল মেসি, শেষ ম্যাচে আর্জেন্টিনা জিতলো ৩-০ গোলে

তবে সবচেয়ে আবেগঘন দৃশ্যগুলোর একটি ছিল ২০২২ বিশ্বকাপের সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত। কাতারে বিশ্বকাপ জয়ের পর ট্রফিতে চুমু খাচ্ছেন মেসি, ড্রোনের আলোয় আকাশে ফুটে ওঠে সেই ছবিও।

সতীর্থদের মাঝে দাঁড়িয়ে মেসিকে পুরো আয়োজনজুড়েই আবেগাপ্লুত ও আপ্লুত দেখাচ্ছিল। যে জার্সিতে একসময় স্বপ্ন পূরণের লড়াই শুরু করেছিলেন, সেই আর্জেন্টিনার হয়েই শেষ ম্যাচের পর আকাশে তার পুরো ক্যারিয়ারের স্মৃতি তুলে ধরা ছিল যেন এক কিংবদন্তিকে বিদায়ের অনন্য আয়োজন।

বেনিনের বিপক্ষে জয় দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানলেও মেসির সঙ্গে আর্জেন্টিনার গল্প শেষ হওয়ার নয়। বিশ্বকাপ জয়, কোপা আমেরিকা, অসংখ্য গোল আর কোটি মানুষের ভালোবাসা সবকিছুর স্মৃতি নিয়েই জাতীয় দলকে বিদায় জানালেন ফুটবলের এই মহাতারকা।

মেসির বিদায়ী ম্যাচের আগে ক্ষমা ও নিজের শাস্তি চেয়ে রোনালদোর পোস্ট

বিদায় লিওনেল মেসি, শেষ ম্যাচে আর্জেন্টিনা জিতলো ৩-০ গোলে

প্রকাশ: বুধবার, অক্টোবর ০৭, ২০২৬
বিদায় লিওনেল মেসি, শেষ ম্যাচে আর্জেন্টিনা জিতলো ৩-০ গোলে
টপ স্টোরিজ

লিওনেল মেসির বিদায়ী ম্যাচটা স্মরণীয় করে রাখল আর্জেন্টিনা। জাতীয় দলের জার্সিতে শেষ ম্যাচ খেলতে নেমে অধিনায়ক মেসি নিজে গোল করার পাশাপাশি একটি গোলে অ্যাসিস্ট করেছেন। তার দল বেনিনকে হারিয়েছে ৩-০ গোলে।

প্রথমার্ধে একাধিক সুযোগ তৈরি করেও গোল করতে পারেনি আর্জেন্টিনা। বিরতির পর অবশ্য দ্রুতই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় তারা। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই নিকোলাস ওতামেন্দির গোলে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। পরে নিকো পাজের গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়। ৭১ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে শেষ পর্যন্ত নিজেও স্কোরশিটে নাম লেখান মেসি।

প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনা একাধিকবার বেনিনের গোলমুখে আক্রমণ করেছে। মেসি নিজেও কয়েকটি সুযোগ পেয়েছিলেন। তার দুটি শট লক্ষ্যেও ছিল, কিন্তু বেনিনের গোলরক্ষক মার্সেল দান্দজিনু তা ঠেকিয়ে দেন।

৪৩ মিনিটে মেসির থ্রু বল থেকে দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন জুলিয়ান আলভারেজ। তবে তার শটও বেনিনের গোলরক্ষকের দুর্দান্ত সেভে আটকে যায়।

যে বল দিয়ে শেষ ম্যাচ খেলছেন মেসি, লেখা ‘দ্য লাস্ট ড্যান্স’

অন্যদিকে বেনিনও কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করেছিল। এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে কয়েকবার পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়েছে। তবে প্রথম ৪৫ মিনিটে দুই দলই গোল করতে ব্যর্থ হয়। ফলে গোলশূন্য অবস্থায় শেষ হয় প্রথমার্ধ।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় আর্জেন্টিনা। ৪৮ মিনিটে কর্নার থেকে মেসির ক্রসে খুব কাছ থেকে ডান পায়ের শটে গোল করেন নিকোলাস ওতামেন্দি। তার শট গোলের ওপরের মাঝামাঝি দিয়ে জালে জড়ায়। মেসির নিখুঁত ক্রস থেকে আসা এই গোলেই ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা।

৬০ মিনিটে মেসি আবারও বেনিনের গোলরক্ষককে পরীক্ষা করেন। বক্সের বাইরে থেকে তার বাঁ পায়ের শট ওপরের ডান কোণ লক্ষ্য করে যাচ্ছিল। কিন্তু মার্সেল দান্দজিনু সেটিও ঠেকিয়ে দেন। এর এক মিনিট পর অবশ্য আর ঠেকাতে পারেননি তিনি।

শেষ অনুশীলনের ছবি শেয়ার করে ভক্তদের মনে দোলা দিয়েছেন মেসি

৬১ মিনিটে নিকো পাজ বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের দুর্দান্ত শটে বল পাঠান নিচের বাঁ কোণে। আর সেই গোলের পেছনে ছিলেন মেসি। তার অ্যাসিস্ট থেকেই গোলটি করেন পাজ। ফলে আর্জেন্টিনার লিড বেড়ে দাঁড়ায় ২-০।

এই গোলের পরই মেসিকে তুলে নিয়ে নিকো পাজকে মাঠে নামান স্কালোনি। রদ্রিগো দে পলের জায়গাতেও নিকো পাজ নামেন।

৬৮ মিনিটে আর্জেন্টিনা পায় পেনাল্টি। আগুস্তিন গিয়াইকে বেনিনের টামিমু উওরোর ফাউলের কারণে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। ৭০ মিনিটে ইনজুরির কারণে কিছুক্ষণ খেলা বন্ধ থাকে। এরপর ৭১ মিনিটে স্পটকিক নিতে এগিয়ে আসেন মেসি।

বাঁ পায়ের শটে বল পাঠান গোলের ওপরের ডান কোণে। বেনিনের গোলরক্ষককে কোনো সুযোগই দেননি তিনি। গোলের সঙ্গে আর্জেন্টিনার হয়ে নিজের বিদায়ী ম্যাচে মেসির নামও উঠে যায় স্কোরশিটে। স্কোরলাইন তখন আর্জেন্টিনা ৩, বেনিন ০।

৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর আর্জেন্টিনা দলে একাধিক পরিবর্তন আনা হয়। ৫৯ মিনিটে রদ্রিগো দে পলের পরিবর্তে নিকো পাজ মাঠে নামেন। ৬০ মিনিটে জুলিয়ান আলভারেজকে তুলে নিকোলাস গনসালেসকে খেলানো হয়।

৭৮ মিনিটে লাওতারো মার্তিনেজের বদলে লিওনেল ফ্লোরেস মাঠে নামেন। পরের মিনিটে এনজো ফার্নান্দেসের জায়গায় এক্সেকিয়েল পালাসিওস, ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর বদলে ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুনো এবং অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের জায়গায় জিওভানি লো সেলসো মাঠে নামেন।

বেনিনও দ্বিতীয়ার্ধে কয়েকটি পরিবর্তন আনে। ৬৪ মিনিটে জুনিয়র ওলাইতান ও ইয়ামিরু উওরুকে তুলে যথাক্রমে মাত্তেও আহলিনভি ও জুনিয়র ওলুগবাদেকে নামানো হয়। ৭৫ মিনিটে তসিন আইয়েগুন ও টামিমু উওরুর জায়গায় মাঠে নামেন জোডেল দোসু ও শার্লেমাগন আজংনিতোদে। ৭৬ মিনিটে গোলরক্ষক মার্সেল দান্দজিনুর জায়গায় আসেন স্যাতুর্নিন আলাগবে।

মেসি গোল করার পরও আক্রমণ চালিয়ে গেছেন। ৭৫ মিনিটে নিকো গনসালেসের ক্রস থেকে বক্সের মাঝামাঝি জায়গা থেকে ডান পায়ের শট নেন মেসি। তবে বল বাঁ পাশ দিয়ে বাইরে চলে যায়।

৮৩ ও ৮৮ মিনিটে মেসি অফসাইডে ধরা পড়েন। ৮৯ মিনিটে জিওভানি লো সেলসোর সহায়তায় বক্সের মাঝ থেকে আবারও শট নেন তিনি। এবারও বেনিনের গোলরক্ষক স্যাতুর্নিন আলাগবে নিচের বাঁ কোণে ঝাঁপিয়ে পড়ে বল ঠেকিয়ে দেন। একই মিনিটে মেসির থ্রু বল থেকে লিওনেল ফ্লোরেসও গোলের চেষ্টা করেন। তার শটও ঠেকিয়ে দেন আলাগবে।

নির্ধারিত সময়ের পর যোগ করা সময়ে মেসি আরও একটি ফ্রি-কিক পান। ৯৩ মিনিটে ফাউলের শিকার হয়ে আর্জেন্টিনা ফ্রি-কিক পায়। ৯৫ মিনিটে ম্যাচের শেষ সুযোগগুলোর একটিতে সরাসরি ফ্রি-কিক থেকে বাঁ পায়ের শট নেন মেসি। তবে বল গোলপোস্টের অনেক ওপর দিয়ে চলে যায়। এরপরই শেষ বাঁশি বাজে।

শেষ পর্যন্ত বেনিনকে ৩-০ গোলে হারিয়ে বিদায় নেয় আর্জেন্টিনা। ম্যাচে নিকোলাস ওতামেন্দি গোল করে শুরুটা করে দেন, নিকো পাজ ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এবং পেনাল্টি থেকে তৃতীয় গোলটি করেন মেসি। মেসির নামের পাশে থাকল এক গোল ও একটি অ্যাসিস্ট।

জাতীয় দলের জার্সিতে শেষ ম্যাচে অধিনায়কের এমন পারফরম্যান্সে আবেগঘন বিদায় আরও বিশেষ হয়ে উঠল। বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ের মধ্য দিয়ে আর্জেন্টিনাও মেসির শেষ ম্যাচটি শেষ করল জয়ের হাসি নিয়ে।

তবে ম্যাচ শেষ হওয়ার পর এস্টাডিও মনুমেন্টালে বিউগলের করুন সুরের সঙ্গে মেসি ভক্তদের হৃদয় ভেঙে কান্না নেমে আসে। রাতের আঁধার ভেদ করে বুয়েন্স আয়ার্সের আকাশে লেজার লাইটের মাধ্যমে ভেসে ওঠে মেসির বিদায়ী দৃশ্য। তার ১০ নাম্বার জার্সি ও বিদয়ী বার্তা।