১ অক্টোবর ২০২৬

এশিয়ান গেমসে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স: শুটিং, হ্যান্ডবল ও অ্যাথলেটিক্সে ৫টি পদক জিতল কাতার

প্রকাশ: বুধবার, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬
এশিয়ান গেমসে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স: শুটিং, হ্যান্ডবল ও অ্যাথলেটিক্সে ৫টি পদক জিতল কাতার

জাপানের আইচি-নাগোয়ায় অনুষ্ঠিত ২০২৬ এশিয়ান গেমসে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে কাতার দল। গেমসের পদক তালিকায় আরও ৫টি নতুন পদক যোগ করেছে কাতারের অ্যাথলেটরা। এর মধ্যে ৩টি রৌপ্য ও ২টি ব্রোঞ্জ পদক অর্জনের মধ্য দিয়ে প্রতিযোগিতায় কাতারের মোট পদক সংখ্যা দাঁড়াল ১২টিতে। বর্তমানে কাতারের ঝুলিতে রয়েছে ৩টি স্বর্ণ, ৫টি রৌপ্য ও ৪টি ব্রোঞ্জ পদক।

সর্বশেষ পদকগুলো এসেছে শুটিং, অ্যাথলেটিক্স, হ্যান্ডবল ও ভারোত্তোলন ইভেন্ট থেকে। এক নজরে এবারের সফলতার মূল দিকগুলো দেখে নেওয়া যাক:

  • হ্যান্ডবলে রৌপ্য জয়: রোমাঞ্চকর ও তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফাইনালে বাহরাইনের কাছে ৩৩-৩২ গোলে হেরে রৌপ্য পদক নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে কাতারের পুরুষ হ্যান্ডবল দলকে। ২০১৪ ইনচিয়ন, ২০১৮ জাকার্তা এবং ২০২২ হাংজু গেমসে টানা তিনবার চ্যাম্পিয়ন হওয়া কাতার ফাইনালে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চালালেও শেষ পর্যন্ত ব্যবধান ধরে রাখতে পারেনি।

  • শুটিংয়ে ট্র্যাপ ইভেন্টে রূপা: পুরুষদের দলগত ট্র্যাপ শুটিংয়ে মোহাম্মাদ আল-রুমাইহি, সাঈদ হামাদ আবু শারিব এবং অ্যাঞ্জেলো স্ক্যালজো জুটি ৩৪৯টি টার্গেট ভেদ করে রৌপ্য পদক অর্জন করেন। কুয়েত স্বর্ণ এবং কাজাখস্তান ব্রোঞ্জ পদক জিতেছে।

  • অ্যাথলেটিক্সে জোড়া পদক: পুরুষদের ৪x৪০০ মিটার রিলেতে বাসেম মোহাম্মেদ, ইসমাইল আবাকার, ইউসুফ আবদুল আজিজ এবং আম্মার ইব্রাহিম জুটির সেরা টাইমিংয়ে (৩:০০.৯৩) রৌপ্য পদক জয় করে কাতার। এছাড়া পুরুষদের ৮০০ মিটার দৌড়ে ব্যক্তিগত সেরা টাইমিংয়ে (১:৪৫.২৫) ব্রোঞ্জ পদক জিতেছেন আবুবকর আবদাল্লা।

  • ভারোত্তোলনে ইতিহাস: নারীদের +৮৬ কেজি ওজন শ্রেণীতে সর্বমোট ২৭৩ কেজি ওজন তুলে ব্রোঞ্জ পদক জিতেছেন কাতারের ভারোত্তোলক উইসাল ইখলেফ। এশিয়ান গেমসে এটি তাঁর প্রথম পদক।

ভলিবল ও বিচ ভলিবলের আপডেট:

গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ভারতের কাছে রোমাঞ্চকর এক লড়াইয়ে ৩-২ সেটে হেরে গেলেও গ্রুপে দ্বিতীয় হয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে কাতারের পুরুষ ভলিবল দল। আগামী বৃহস্পতিবার শেষ আটের লড়াইয়ে জাপানের মুখোমুখি হবে তারা। অন্যদিকে, বিচ ভলিবলে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন শরিফ ইউনুস ও আহমেদ তিজান জুটি ভিয়েতনামকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছেন। সেখানে তাঁদের প্রতিপক্ষ ইরান।

এশিয়ান গেমসে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স: শুটিং, হ্যান্ডবল ও অ্যাথলেটিক্সে ৫টি পদক জিতল কাতার

প্রকাশ: বুধবার, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬
এশিয়ান গেমসে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স: শুটিং, হ্যান্ডবল ও অ্যাথলেটিক্সে ৫টি পদক জিতল কাতার

জাপানের আইচি-নাগোয়ায় অনুষ্ঠিত ২০২৬ এশিয়ান গেমসে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে কাতার দল। গেমসের পদক তালিকায় আরও ৫টি নতুন পদক যোগ করেছে কাতারের অ্যাথলেটরা। এর মধ্যে ৩টি রৌপ্য ও ২টি ব্রোঞ্জ পদক অর্জনের মধ্য দিয়ে প্রতিযোগিতায় কাতারের মোট পদক সংখ্যা দাঁড়াল ১২টিতে। বর্তমানে কাতারের ঝুলিতে রয়েছে ৩টি স্বর্ণ, ৫টি রৌপ্য ও ৪টি ব্রোঞ্জ পদক।

সর্বশেষ পদকগুলো এসেছে শুটিং, অ্যাথলেটিক্স, হ্যান্ডবল ও ভারোত্তোলন ইভেন্ট থেকে। এক নজরে এবারের সফলতার মূল দিকগুলো দেখে নেওয়া যাক:

  • হ্যান্ডবলে রৌপ্য জয়: রোমাঞ্চকর ও তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফাইনালে বাহরাইনের কাছে ৩৩-৩২ গোলে হেরে রৌপ্য পদক নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে কাতারের পুরুষ হ্যান্ডবল দলকে। ২০১৪ ইনচিয়ন, ২০১৮ জাকার্তা এবং ২০২২ হাংজু গেমসে টানা তিনবার চ্যাম্পিয়ন হওয়া কাতার ফাইনালে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চালালেও শেষ পর্যন্ত ব্যবধান ধরে রাখতে পারেনি।

  • শুটিংয়ে ট্র্যাপ ইভেন্টে রূপা: পুরুষদের দলগত ট্র্যাপ শুটিংয়ে মোহাম্মাদ আল-রুমাইহি, সাঈদ হামাদ আবু শারিব এবং অ্যাঞ্জেলো স্ক্যালজো জুটি ৩৪৯টি টার্গেট ভেদ করে রৌপ্য পদক অর্জন করেন। কুয়েত স্বর্ণ এবং কাজাখস্তান ব্রোঞ্জ পদক জিতেছে।

  • অ্যাথলেটিক্সে জোড়া পদক: পুরুষদের ৪x৪০০ মিটার রিলেতে বাসেম মোহাম্মেদ, ইসমাইল আবাকার, ইউসুফ আবদুল আজিজ এবং আম্মার ইব্রাহিম জুটির সেরা টাইমিংয়ে (৩:০০.৯৩) রৌপ্য পদক জয় করে কাতার। এছাড়া পুরুষদের ৮০০ মিটার দৌড়ে ব্যক্তিগত সেরা টাইমিংয়ে (১:৪৫.২৫) ব্রোঞ্জ পদক জিতেছেন আবুবকর আবদাল্লা।

  • ভারোত্তোলনে ইতিহাস: নারীদের +৮৬ কেজি ওজন শ্রেণীতে সর্বমোট ২৭৩ কেজি ওজন তুলে ব্রোঞ্জ পদক জিতেছেন কাতারের ভারোত্তোলক উইসাল ইখলেফ। এশিয়ান গেমসে এটি তাঁর প্রথম পদক।

ভলিবল ও বিচ ভলিবলের আপডেট:

গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ভারতের কাছে রোমাঞ্চকর এক লড়াইয়ে ৩-২ সেটে হেরে গেলেও গ্রুপে দ্বিতীয় হয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে কাতারের পুরুষ ভলিবল দল। আগামী বৃহস্পতিবার শেষ আটের লড়াইয়ে জাপানের মুখোমুখি হবে তারা। অন্যদিকে, বিচ ভলিবলে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন শরিফ ইউনুস ও আহমেদ তিজান জুটি ভিয়েতনামকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছেন। সেখানে তাঁদের প্রতিপক্ষ ইরান।

ইসরায়েলকে হারিয়ে গাজায় গণহত্যার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানালো আইরিশরা

প্রকাশ: বুধবার, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬
ইসরায়েলকে হারিয়ে গাজায় গণহত্যার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানালো আইরিশরা

গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান ও গণহত্যার প্রতিবাদে আয়ারল্যান্ডের সমর্থকদের বড় অংশ ম্যাচ বয়কট করলেও মাঠে ৩-০ গোলে ইসরায়েলি দলকে হারিয়েছে আয়ারল্যান্ড। রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) হাঙ্গেরির দেব্রেসেনে অনুষ্ঠিত বিতর্কিত উয়েফা নেশনস লিগের ম্যাচটি ঘিরে মাঠের বাইরের প্রতিবাদই শেষ পর্যন্ত হয়ে ওঠে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়।

ম্যাচ শুরুর আগে আয়ারল্যান্ডের খেলোয়াড়েরা কালো বাহুবন্ধনী পরেন। ইসরায়েলের জাতীয় সংগীত চলার সময় তারা মাথা নত করে থাকেন এবং ইসরায়েলি খেলোয়াড়দের সঙ্গে প্রচলিত করমর্দনও করেননি। তবে মাঠের বাইরের দৃশ্য ছিল আরও তাৎপর্যপূর্ণ। ম্যাচটি দেখতে অধিকাংশ আইরিশ সমর্থক স্টেডিয়ামে যাননি। ফলে প্রায় ফাঁকা গ্যালারিতে আনুমানিক ১০০ জন ইসরায়েলি সমর্থক এবং অল্প কয়েকজন আইরিশ দর্শককে দেখা যায়।

আয়ারল্যান্ডজুড়ে বিভিন্ন পানশালাও ম্যাচটি সম্প্রচার থেকে বিরত থাকে। ডাবলিনের পিদার ব্রাউনস পানশালার মালিক আইডান ব্রাউন জানান, তিনি আয়ারল্যান্ড ও বিদেশের প্রায় ১৪০টি পানশালা ও বারের একটি তালিকা করেছেন, যারা ম্যাচটি দেখায়নি। তিনি বলেন, ম্যাচের পয়েন্ট এখানে গুরুত্বপূর্ণ নয়; গাজায় গণহত্যা চলার সময় ফুটবলও আর তেমন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে না।

ডেরিসহ আয়ারল্যান্ডের বিভিন্ন এলাকাতেও এই বয়কটের প্রভাব দেখা যায়। আইরিশ স্পোর্ট ফর প্যালেস্টাইনের সভাপতি রেবেকা ও'কিফে বলেন, এটি কেবল রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ কোনো উদ্যোগ নয়, বরং ব্যাপক জনসম্পৃক্ততার আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। তার ভাষ্য, আয়ারল্যান্ডের এমন অনেক এলাকাতেও এই অবস্থান পৌঁছেছে, যেখানে আগে এ বিষয়ে তেমন সম্পৃক্ততা ছিল না।

ম্যাচ বয়কটের আহ্বানটি এর আগে আয়ারল্যান্ডের ফুটবল অঙ্গনেও ব্যাপক সমর্থন পেয়েছিল। ১৬০ জনের বেশি আইরিশ ক্রীড়াবিদ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন অব আয়ারল্যান্ডের প্রতি ম্যাচটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে খোলা চিঠিতে স্বাক্ষর করেন। আরেকটি জরিপে দেখা যায়, আয়ারল্যান্ডের ৭৬ শতাংশ ফুটবল সমর্থক ম্যাচটি আয়োজনের বিরোধিতা করেছেন।

বিতর্কের প্রভাব পড়ে আয়ারল্যান্ডের খেলোয়াড়দের মধ্যেও। গোলরক্ষক গ্যাভিন বাজুনু ম্যাচটি থেকে সরে দাঁড়ান। তিনি বলেন, নিরপরাধ মানুষ হত্যা করা ভুল, এই ব্যক্তিগত বিশ্বাস থেকেই ইসরায়েলের বিপক্ষে আসন্ন ম্যাচগুলোতে অংশ নেওয়া তার কাছে সঠিক মনে হয়নি।

এরপর ম্যাচটি আদৌ খেলা হবে কি না, তা নিয়ে আইরিশ খেলোয়াড়দের মধ্যে আলোচনা হয়। শেষ পর্যন্ত ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন অব আয়ারল্যান্ড জানায়, উল্লেখযোগ্য সংখ্যাগরিষ্ঠ খেলোয়াড় ম্যাচটি খেলার পক্ষে মত দিয়েছেন। এর আগে সংস্থাটি উয়েফা প্রতিযোগিতা থেকে ইসরায়েলকে সাময়িকভাবে বাদ দেওয়ার আবেদন করেছিল। তবে উয়েফা সেই আবেদন প্রত্যাখ্যান করায় নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়।

ফলে ৩-০ গোলের জয় পেলেও ম্যাচটির বিতর্ক থামেনি। সমালোচকদের মতে, খেলোয়াড়দের কালো বাহুবন্ধনী কিংবা ম্যাচের আগে নেওয়া প্রতীকী অবস্থান মূল প্রশ্নটি দূর করতে পারেনি, গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান চলার সময়ে আয়ারল্যান্ডের ইসরায়েলের বিপক্ষে মাঠে নামাই উচিত ছিল কি না।

দুই দলের পরবর্তী ম্যাচটি আগামী ৪ অক্টোবর সার্বিয়ার বাক্কা তোপোলায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ফলে হাঙ্গেরিতে আয়ারল্যান্ডের ৩-০ গোলের জয়েই ইসরায়েলকে ঘিরে দেশটির ফুটবল অঙ্গনের বিতর্কের অবসান হচ্ছে না। গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে বিপুলসংখ্যক ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আদালত ও জাতিসংঘের তদন্তকারীদের পক্ষ থেকে গণহত্যার অভিযোগও উত্থাপিত হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটেই আয়ারল্যান্ডের ইসরায়েল ম্যাচ ঘিরে মাঠের বাইরের প্রতিবাদ আরও বিস্তৃত হয়েছে।

ম্যারাডোনার পর যেমন বদলে ছিল আর্জেন্টিনা, মেসির পরও কি বদলাবে?

প্রকাশ: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
ম্যারাডোনার পর যেমন বদলে ছিল আর্জেন্টিনা, মেসির পরও কি বদলাবে?
আর্জেন্টিনার ফুটবলকে সংজ্ঞায়িত করেছেন ডিয়েগো ম্যারাডোনা ও লিওনেল মেসি।

কিছু খেলোয়াড় শুধু জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করেন না, তারা হয়ে ওঠেন পুরো একটি দলের পরিচয়। ব্রাজিল যেমন পেলের সঙ্গে একাকার, তেমনি আর্জেন্টিনার ফুটবলকে সংজ্ঞায়িত করেছেন ডিয়েগো ম্যারাডোনা ও লিওনেল মেসি।

এমন উচ্চতার কোনও খেলোয়াড় যখন বুটজোড়া তুলে রাখেন, তখন শুধু একটি ক্যারিয়ার শেষ হয় না; সামনে হাজির হয় আরও বড় এক প্রশ্ন- এরপর কী? যে প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে কখনও কখনও লেগে যায় বহু বছর।

১৯৭০ বিশ্বকাপে পেলের নেতৃত্বে শেষবার শিরোপা জয়ের পর ব্রাজিলকে আবার বিশ্বকাপ জিততে অপেক্ষা করতে হয়েছিল ২৪ বছর। ম্যারাডোনার যুগ শেষ হওয়ার পর আর্জেন্টিনারও লেগেছিল প্রায় একই রকম দীর্ঘ অপেক্ষা। অবশেষে কাতার বিশ্বকাপ ২০২২-এ ফিরেছিল সেই সোনালি ট্রফি। এবার আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে মেসির অবসরের ঘোষণায় সেই অনিশ্চয়তাই যেন আবার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে।

১৯৯৪ বিশ্বকাপে ম্যারাডোনার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়টিও ছিল তার মতোই নাটকীয়। ‘ডি’ গ্রুপে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে ফিরে এসেছিলেন আর্জেন্টিনার এই মহাতারকা। তাকে দলে ফিরে পেয়ে আলফিও বাসিলের দল গ্রিসকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার পর নাইজেরিয়াকেও হারায় ২-১ গোলে। হঠাৎ করেই আর্জেন্টিনা হয়ে ওঠে টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেবারিট।

বিশ্বকাপের আগে ম্যারাডোনা বলেছিলেন, ‘আর্জেন্টিনার আমাকে প্রয়োজন- এটাই আমার প্রয়োজন।’ তখন কোনও ক্লাবের সঙ্গে চুক্তি ছিল না তার, পেশাদার ফুটবলের বাইরেও ছিলেন। কিন্তু দক্ষিণ আমেরিকার বাছাই পর্বে কলম্বিয়ার কাছে ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার পর বাসিলের ডাক এলে সাড়া দিতে দেরি করেননি।

ততদিনে আর্জেন্টিনার দলে সম্ভাবনাময় একদল তরুণের উত্থান ঘটেছে। লিও রদ্রিগেজ, ডিয়েগো সিমিওনে, ফার্নান্দো রেদোন্দো, ক্লদিও কানিজিয়া ও গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতাদের ঘিরে দলটি এরই মধ্যে ১৯৯১ ও ১৯৯৩ সালে জিতেছিল টানা দুটি কোপা আমেরিকা।

কিন্তু বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে সেই তরুণ দলটিই যেন ছন্দ হারিয়ে ফেলেছিল। প্রয়োজন ছিল অনুপ্রেরণার, প্রয়োজন ছিল এমন একজনের, যিনি কঠিন মুহূর্তে দলকে টেনে তুলবেন। আবারও ১০ নম্বর জার্সি গায়ে চাপালেন ম্যারাডোনা। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্লে-অফে ২-১ গোলে জিতে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপের টিকিট এনে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেন তিনি।

মূল টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র ৪০ দিন আগে দীর্ঘদিনের ফিটনেস কোচ ফার্নান্দো সিগনোরিনির সঙ্গে অনুশীলন করতে লা পাম্পায় চলে গিয়েছিলেন ম্যারাডোনা। কিন্তু বিশ্বকাপ শুরু হতেই তার সেই প্রত্যাবর্তনের গল্প থমকে গেলো। নিষিদ্ধ একটি বস্তুর পরীক্ষায় পজিটিভ হন তিনি। সেই খবরের ধাক্কা সামলাতে না সামলাতেই শেষ ষোলোতে রোমানিয়ার কাছে হেরে বিদায় নেয় আর্জেন্টিনা। সেখানেই শেষ হয়ে যায় ম্যারাডোনার আন্তর্জাতিক অধ্যায়।

এরপর আর্জেন্টিনার ডাগআউটে ড্যানিয়েল পাসারেলার আগমন কার্যত ‘এল দিয়েস’-এর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের পর্দা নামিয়ে দেয়। দুজনের সম্পর্ক ছিল কঠিন। কিন্তু ম্যারাডোনাকে পেছনে ফেলে সামনে এগোনোর পথটাও আর্জেন্টিনার জন্য মোটেও সহজ ছিল না।

১৯৯৪ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার প্রস্তুতির সময় ম্যারাডোনার রুমমেট ছিলেন রিভার প্লেট তারকা আরিয়েল ওর্তেগা। ম্যারাডোনার পর সেই বিশাল দায়িত্ব এসে পড়ে তাঁর কাঁধে। গায়ে ওঠে ১০ নম্বর জার্সি। কিন্তু ১৯৯৮ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে একটি মুহূর্তই হয়ে দাঁড়ায় ওর্তেগার পুরো বিশ্বকাপের প্রতিচ্ছবি। ডাচ গোলকিপার এডউইন ফন ডার সারকে মাথা দিয়ে আঘাত করে লাল কার্ড দেখেন তিনি। এরপর আর্জেন্টিনা ২-১ গোলে হেরে বিদায় নেয়।

তবে ওর্তেগাকে ঘিরে গল্পটির বাইরেও আর্জেন্টিনার ফুটবলে তখন বড় পরিবর্তন এসেছিল। দলটি ধীরে ধীরে কোনও একজন খেলোয়াড়ের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আরও বেশি সমষ্টিনির্ভর হয়ে উঠছিল। দেশটির ফুটবলীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে মানানসই প্রতিভার কোনও ঘাটতি ছিল না। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দলকে একাই উদ্ধার করতে পারবেন এমন একজন, একজন সত্যিকারের আইকন, তখনও খুঁজে পায়নি আর্জেন্টিনা।

আর বিষয়টি শুধু ১০ নম্বর জার্সির ছিল না। ছিল সৃজনশীলতার কেন্দ্রবিন্দুর অভাবও। ম্যারাডোনার পর, মেসির আগে দীর্ঘ সময় ধরে আর্জেন্টিনা এমন একজন স্থায়ী নেতারও অভাব অনুভব করেছে, যিনি মাঠে যেমন নিজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করবেন, তেমনি ড্রেসিংরুমেও থাকবেন নেতৃত্বের কেন্দ্রে।

বরং এক খেলোয়াড়ের কাছ থেকে আরেক খেলোয়াড়ের হাতে ঘুরেছে অধিনায়কের আর্মব্যান্ড। ১৯৯৮ সালে পাসারেলা দায়িত্ব দিয়েছিলেন সিমিওনেকে। ২০০২ বিশ্বকাপে দুটি ম্যাচে অধিনায়কত্ব করেন হুয়ান সেবাস্তিয়ান ভেরন; জাপানে দলের শেষ ম্যাচে নেতৃত্ব দেন বাতিস্তুতা। এরপর ২০০৬ সালে হোসে পেকারম্যান দায়িত্ব দেন হুয়ান পাবলো সোরিনকে। ২০১০ সালে সেই দায়িত্ব নেন হাভিয়ের মাসচেরানো।

চার বছর পর আবার বিশ্বকাপে ফেরেন ওর্তেগা। এবার কোচ মার্সেলো বিয়েলসার অধীনে। বিয়েলসার দর্শনে গড়া সেই আর্জেন্টিনা দ্রুত বল এগিয়ে নেওয়া, সরাসরি আক্রমণ, দুই প্রান্ত ব্যবহার করে প্রতিপক্ষের রক্ষণ ছড়িয়ে দেওয়া এবং বল হারানোর পর দ্রুত প্রেসিং করে তা পুনরুদ্ধারের ওপর জোর দিতো।

ওর্তেগার গায়ে ১০ নম্বর জার্সি থাকলেও তিনি আর আগের সেই চিরাচরিত আর্জেন্টাইন অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার ছিলেন না। বরং তাকে খেলানো হতো অনেকটা ওয়াইড ফরোয়ার্ড হিসেবে। প্রতিপক্ষের ফুলব্যাককে অনুসরণ করে রক্ষণেও তাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হতো। কিন্তু ওর্তেগা কখনোই নিজের সেরা ছন্দ খুঁজে পাননি। আর্জেন্টিনাও গ্রুপ পর্ব পেরোতে পারেনি।

ম্যারাডোনা-পরবর্তী যুগে এক বিশ্বকাপ চক্র থেকে আরেক চক্রে আর্জেন্টিনার কোচ বদলেছে। পাসারেলার পর দায়িত্ব আসে বিয়েলসার হাতে, এরপর পেকারম্যানের কাছে।

২০০৬ সালে জার্মানির মাটিতে বিশ্বকাপ অভিযানে আর্জেন্টিনার দায়িত্বে ছিলেন পেকারম্যান। যিনি বয়সভিত্তিক পর্যায়ে দেশটির সোনালি প্রজন্ম তৈরির অন্যতম স্থপতি। তার পছন্দের ১০ নম্বর ছিলেন হুয়ান রোমান রিকেলমে। ১৯৯৭ সালে আর্জেন্টিনার অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই তারকা তখন দলের সৃজনশীলতার মূল কেন্দ্র। আর সেই দলেই ১৯ নম্বর জার্সি গায়ে এক তরুণ মেসি ধীরে ধীরে বিশ্বকে দেখাচ্ছিলেন তার মধ্যে লুকিয়ে থাকা সেই অসাধারণ প্রতিভার ঝলক, যা অচিরেই বিশ্ব ফুটবলে ঝড় তুলবে।

আর্জেন্টিনা তখন খেলতো আরও ঐতিহ্যবাহী এক ছকে। বল দখলে রেখে, আর ১০ নম্বরকে ক্লাসিক প্লেমেকার হিসেবে ব্যবহার করে। খেলার গতি ও ছন্দ নিয়ন্ত্রণ করতেন রিকেলমে। কোয়ার্টার ফাইনালে বিদায় নিলেও ২০০৬-এর সেই আর্জেন্টিনা আজও স্মরণীয় টুর্নামেন্টের অন্যতম আকর্ষণীয় ও দক্ষ দল হিসেবে।

২০১০ সালে আর্জেন্টিনার কাঠামোয় আসে বড় পরিবর্তন। ডাগআউটে তখন ম্যারাডোনা, আর তারই ঐতিহাসিক ১০ নম্বর জার্সি পরে মাঠে নামছেন মেসি।

বার্সেলোনায় নিজের অবিশ্বাস্য ক্যারিয়ারের ভিত্তি গড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে এসেছিলেন ছোটখাটো গড়নের সেই জাদুকর। সঙ্গে ছিল ক্রমেই পরিচিত হয়ে ওঠা বিশাল প্রত্যাশা। ক্লাব ফুটবলে তিনি যা করছেন, আর্জেন্টিনার হয়েও ঠিক সেটিই করতে হবে।

কিন্তু সেই বিশ্বকাপ শেষ হয়েছিল হতাশায়। কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানির কাছে হেরে বিদায় নেয় আর্জেন্টিনা। তবে আজ পেছন ফিরে তাকালে দক্ষিণ আফ্রিকা ২০১০-কে অন্যভাবেও দেখা যায়। কারণ সেখানেই প্রকৃত অর্থে মেসি-যুগের ভিত্তি গড়ে উঠতে শুরু করেছিল।

ম্যারাডোনার পরও আর্জেন্টিনা একের পর এক বিশ্বমানের খেলোয়াড় তৈরি করেছে। গড়ে তুলেছে স্মরণীয় সব দল। কিন্তু বছরের পর বছর তাদের খুঁজতে হয়েছে এমন একজনকে, যিনি ম্যারাডোনার রেখে যাওয়া প্রতীকী শূন্যতা পূরণ করতে পারবেন। এবার শুরু হচ্ছে নতুন অধ্যায়।

অসাধারণ ফুটবলার তৈরি করার আর্জেন্টিনার ঐতিহ্য এখনও অটুট। কিন্তু লা আলবিসেলেস্তেকে আবারও মুখোমুখি হতে হচ্ছে পরিচিত এক চ্যালেঞ্জের- এমন একজন ১০ নম্বরকে ছাড়া পথ চলা, যাকে একসময় মনে করা হয়েছিল অপূরণীয়।

ম্যারাডোনা-পরবর্তী সময় আর্জেন্টিনার জন্য একটি কার্যকর শিক্ষা রেখে গেছে। আর ইতিহাস বলছে, আর্জেন্টিনা হয়তো আরেকজন মেসি খুঁজে পাবে না। কিন্তু প্রধান তারকাকে ছাড়া কীভাবে নিজেদের বদলে নিতে হয়, কীভাবে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয়, সেই পথ তারা আগেও খুঁজে নিয়েছে। হয়তো মেসি-পরবর্তী আর্জেন্টিনার গল্পটাও শেষ পর্যন্ত হবে নতুন করে নিজেদের আবিষ্কারের গল্প হিসেবে।

ফিফা আসিয়ান কাপে বাংলাদেশ দলে জিদানসহ তিন প্রবাসী

প্রকাশ: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
ফিফা আসিয়ান কাপে বাংলাদেশ দলে জিদানসহ তিন প্রবাসী

ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত ফিফা আসিয়ান কাপের জন্য বাংলাদেশের চূড়ান্ত দল হয়েছে। ২৩ সদস্যের দলে একাধিক নতুন মুখ।

প্রবাসী জিদান ইউসুফ, শুকি ইতফোসা ও ফারহান আলী ওয়াহিদ নতুন মুখ। এছাড়া মিনহাজুল করিম স্বাধীন রয়েছেন। বাদ পরেছেন সাইফ, ফাহিম ও জিকো।

বাংলাদেশকে রাখা হয়েছে ‘এ’ গ্রুপে। এই গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষরা হলো স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর।

জাকার্তার গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে হবে খেলাগুলো।

ইন্দোনেশিয়ায় যাওয়া জাতীয় দলের হয়ে অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা ফারহান, জিদান ও শুকির সামনে এবারই প্রথম বড় মঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগ। জাতীয় দলের ক্যাম্পে থাকার পর কোচ টমাস ডুলির আস্থায় তারা জায়গা করে নিয়েছেন আসিয়ান কাপের চূড়ান্ত দলে।

তিনজনের মধ্যে ফারহান আলী ওয়াহিদ আক্রমণভাগের খেলোয়াড়। সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় দলে একজন স্বীকৃত সেন্টার ফরোয়ার্ডের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা ছিল। সেই জায়গায় ফারহানকে নতুন একটি বিকল্প হিসেবে দেখছেন কোচ ডুলি। যদিও চলমান ক্যাম্পে এখনও পাওয়া যায়নি তাঁকে। সরাসরি যোগ দেবেন ইন্দোনেশিয়ায়।

জিদান ইউসুফ রক্ষণভাগের খেলোয়াড়। অনুর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে নজর কেড়েছেন তিনি। আর জাপান প্রবাসী শুকি ইতফুসার অন্তর্ভুক্তি আক্রমণভাগে আরও একটি বিকল্প যোগ করেছে বাংলাদেশ দলে।

তিন প্রবাসীর সঙ্গে এবারের দলে আছেন আগে থেকেই জাতীয় দলের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন প্রবাসী ফুটবলারও। হামজা চৌধুরী, শমিত সোম, তারিক কাজী, জায়ান আহমেদ ও ফাহামিদুল ইসলামের সঙ্গে এবার যোগ হলো নতুন তিন নাম।

​বাংলাদেশ দল

মিতুল মারমা, মো. সুজন হোসেন, মো. মেহেদী হাসান শ্রাবণ, তপু বর্মন, মো. শাকিল আহাদ তপু, মো. সাদ উদ্দিন, মো. রহমত মিয়া, তারিক রায়হান কাজী, জাইয়ান আহমেদ, জিদান আলেকজান্ডার ইউসুফ, এস এম মনজুরুর রহমান, জামাল ভূঁইয়া, মো. সোহেল রানা, সোহেল রানা, মো. হৃদয়, শেখ মোরসালিন, রাকিব হোসেন, মো. মিনহাজুল করিম স্বাধীন, ফাহামেদুল ইসলাম, হামজা দেওয়ান চৌধুরী, শামিত শোম, ফারহান আলী ওয়াহিদ, শুকি ইতফুসা।

৬৮ বছর পর লা লিগায় বিরল কীর্তি বার্সোলোনার

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
৬৮ বছর পর লা লিগায় বিরল কীর্তি বার্সোলোনার

মৌসুমের শুরুতেই গোলের বন্যা বইয়ে দিয়েছে বার্সেলোনার আক্রমণভাগ। লা লিগার প্রথম পাঁচ ম্যাচে রাফিনিয়া, লামিন ইয়ামাল ও ফেরমিন লোপেজ মিলে করেছেন ১৬ গোল। এর মাধ্যমে ১৯৫৮ সালের পর প্রথমবারের মতো স্পেনের শীর্ষ লিগে কোনো আক্রমণত্রয়ী প্রথম পাঁচ ম্যাচে এত গোল করার কীর্তি গড়েছে।

রবিবার রাতে লেভান্তের মাঠে ৪-২ গোলের জয়ের ম্যাচেই রেকর্ডটি স্পর্শ করে বার্সেলোনা। ম্যাচের ৪৮ মিনিটে পেনাল্টি থেকে ইয়ামালের দ্বিতীয় গোলের পর আক্রমণভাগের তিন সদস্যের গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১৬ তে। নতুন মৌসুমে টানা পাঁচ ম্যাচ জিতে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে লা লিগার শীর্ষস্থানও আরও শক্ত করেছে হানসি ফ্লিকের দল।

এই ১৬ গোলের মধ্যে রাফিনিয়া ও ইয়ামালের নামের পাশে রয়েছে ছয়টি করে গোল। বাকি চারটি করেছেন ফেরমিন লোপেজ। লেভান্তের বিপক্ষে জোড়া গোল করে ইয়ামালও দলের দুর্দান্ত শুরুর অন্যতম নায়ক হয়েছেন।

ম্যাচে বার্সেলোনার হয়ে প্রথম গোলটি করেন শাভি এসপার্ত। রাফিনিয়ার পাস থেকে গোলটি আসে। এরপর ইয়ামালের প্রথম গোলেও অবদান রাখেন রাফিনিয়া। পরে পেনাল্টি থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন ইয়ামাল। তবে রক্ষণে দুটি ভুলের কারণে লেভান্তে দুই গোল শোধ করে ম্যাচে ফেরার আভাস দিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত কারিম আদেয়েমির গোলে জয় নিশ্চিত করে বার্সেলোনা।

ইয়ামালের দ্বিতীয় গোলের সাথে সাথেই ৬৮ বছর আগের একটি রেকর্ডের পাশে বসে বার্সার বর্তমান আক্রমণত্রয়ী। ১৯৫৮-৫৯ মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের কিংবদন্তি ত্রয়ী আলফ্রেডো দি স্তেফানো, ফেরেঙ্ক পুসকাস ও হেক্তর রিয়াল প্রথম পাঁচ ম্যাচে করেছিলেন ১৬ গোল।

তবে লা লিগার ইতিহাসে প্রথম পাঁচ ম্যাচে সবচেয়ে বেশি গোলের রেকর্ড এখনো সেভিয়ার। ১৯৪০-৪১ মৌসুমে গিয়ের্মো কাম্পানাল, মিগেল তোরোনতেগুই ও হোসে লোপেজ মিলে করেছিলেন ২৪ গোল।

এর পরের অবস্থানে রয়েছে ১৭ গোল করা দুটি আক্রমণত্রয়ী। একই মৌসুমে অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের প্রুদেন সানচেজ, পাকো কাম্পোস ও কোসমে ভাসকেজ এবং সেলতা ভিগোর আগুস্তিন হারাবো, হুয়ান দেল পিনো ও রাইমুন্দো দিয়াজ এই কীর্তি গড়েছিলেন।

এ ছাড়া ১৯৪১-৪২ মৌসুমে সেভিয়ার রাইমুন্দো ব্লাঙ্কো, পেপিয়ো ও কাম্পানাল এবং ১৯৫০-৫১ মৌসুমে বার্সেলোনার সেসার রদ্রিগেজ, মার্কোস আউরেলিও ও এস্তানিসলাও বাসোরাও প্রথম পাঁচ ম্যাচে ১৬ গোল করেছিলেন। ফলে এবার নিজেদের ক্লাবের পুরোনো রেকর্ডও ছুঁয়ে ফেলেছে ইয়ামাল-রাফিনিয়ারা।