৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে সৌদি ক্রাউন প্রিন্সের চিঠি!

প্রকাশ: সোমবার, জুলাই ০৬, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে সৌদি ক্রাউন প্রিন্সের চিঠি!

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ জাফর এইচ. বিন আবিয়া। এ সময় সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান আল সৌদের একটি চিঠি প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।

সোমবার (৬ জুলাই) সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি শাহাদাৎ স্বাধীন এ তথ্য জানান।

সাক্ষাৎকালে সৌদি রাষ্ট্রদূত সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান আল সৌদের একটি চিঠি প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন।

এ ছাড়া দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়।

এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের উপ-রাষ্ট্রদূত ইব্রাহিম আবদুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।

প্রবাসী আয়ে বড় লাফ, এক বছরেই বাড়ল ৫.২৬ বিলিয়ন ডলার

প্রকাশ: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২৬
প্রবাসী আয়ে বড় লাফ, এক বছরেই বাড়ল ৫.২৬ বিলিয়ন ডলার

বাংলাদেশে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স এক বছরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে বিভিন্ন দেশ থেকে মোট ৩০.৩৩ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এলেও ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে ৩৫.৫৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ এক বছরে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৫.২৬ বিলিয়ন ডলার।

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে সৌদি আরব থেকে। দেশটি থেকে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে ৪.২৬ বিলিয়ন ডলার এলেও ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে ৫.৮৪ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের চতুর্থ দিনে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এসব তথ্য জানান।

নিলোফার চৌধুরী মনি জানতে চেয়েছিলেন, ২০২৪-২০২৫ ও ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে কোন কোন দেশ থেকে কী পরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছে। পাশাপাশি প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের একটি অংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহৃত হয়। এসব অর্থে দুই অর্থবছরে কোথায় কী ধরনের কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ তথ্যও জানতে চান তিনি।

যুক্তরাজ্য থেকে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৬০ শতাংশ

সৌদি আরবের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছে যুক্তরাজ্য থেকে। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে দেশটি থেকে ৩.১৭ বিলিয়ন ডলার আসে। ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে ৫.৭২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। এক বছরে যুক্তরাজ্য থেকে রেমিট্যান্স বেড়েছে প্রায় ৬০.১%।

সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে রেমিট্যান্স ৪.১৭ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৪.৫৮৪ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। মালয়েশিয়া থেকে প্রবাসী আয় ২.৮০৪ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে ৩.৪০ বিলিয়ন ডলার।

ওমান থেকে রেমিট্যান্স ১.৬৬ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২.৪৮ বিলিয়ন ডলার এবং ইতালি থেকে ১.৬৫ বিলিয়ন থেকে বেড়ে ২.৫১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

কুয়েত থেকে রেমিট্যান্স ১.৬২ বিলিয়ন থেকে বেড়ে ১.৭৬ বিলিয়ন ডলার, এবং কাতার থেকে ১.২০ বিলিয়ন থেকে বেড়ে ১.৫৫ বিলিয়ন ডলার হয়েছে।

সিঙ্গাপুর থেকে রেমিট্যান্স ৯৮৯ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ১.৪৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ৪০৩ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে ৬৬৯ মিলিয়ন ডলার।

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে কমেছে

তবে সব উৎস দেশ থেকে রেমিট্যান্স বাড়েনি। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দেশ থেকে রেমিট্যান্স কমেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় পতন হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে।

২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৪.৭৩ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এলেও—২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে তা কমে ৩.৩৩ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। অর্থাৎ এক বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে রেমিট্যান্স কমেছে প্রায় ৩৫.৯%।

কানাডা থেকেও রেমিট্যান্স কমেছে। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে দেশটি থেকে ২২১ মিলিয়ন ডলার এলেও—পরের অর্থবছরে তা কমে ১১০ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ প্রায় ৫০% কমেছে।

এ ছাড়া মালদ্বীপ ও মরিশাস থেকেও রেমিট্যান্স কমেছে।

ইউরোপের কয়েকটি দেশ থেকেও বেড়েছে

ফ্রান্স থেকে রেমিট্যান্স ৩৩৫.৫৯ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৪৭১.৪৪ মিলিয়ন ডলার এবং গ্রিস থেকে ১৮৫.১১ মিলিয়ন থেকে বেড়ে ২০৩.৮২ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

জর্ডান থেকে রেমিট্যান্স ১৬৮.১৭ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২৪৬.৩৬ মিলিয়ন ডলার এবং অস্ট্রেলিয়া থেকে ১৯৭.৯ মিলিয়ন থেকে বেড়ে ২৫৮.১৬ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে।

সব মিলিয়ে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে অধিকাংশ উৎস দেশ থেকেই বাংলাদেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাসহ কয়েকটি দেশ থেকে উল্লেখযোগ্য হারে রেমিট্যান্স কমেছে।

বাংলাদেশসহ ৩১ দেশের মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা বাতিল মালয়েশিয়ার

প্রকাশ: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২৬
বাংলাদেশসহ ৩১ দেশের মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা বাতিল মালয়েশিয়ার

পর্যটকদের জন্য মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা (এমইভি) ব্যবস্থায় বড় ধরনের কড়াকড়ি আরোপ করেছে মালয়েশিয়া। নতুন নীতিতে বাংলাদেশসহ ৩১টি দেশের নাগরিকদের জন্য ভিজিট ভিসায় মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা সুবিধা সীমিত করেছে দেশটি। এর ফলে বাংলাদেশি পর্যটকদের ক্ষেত্রে এক বছরের মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসার পরিবর্তে সাধারণত সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসা নিতে হবে।

মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ পরিবর্তনের কথা জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে সব দেশের নাগরিকদের জন্য আগের মতো ঢালাওভাবে মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা দেওয়া হচ্ছে না।

নতুন নিয়মে নির্দিষ্ট কিছু ভ্রমণ উদ্দেশ্যে মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসার সুযোগ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ব্যবসায়িক ভ্রমণ, চিকিৎসা, ‘ফ্লাই অ্যান্ড ক্রুজ’ এবং ওয়েডিং ট্যুরিজম।

অন্যদিকে, বাংলাদেশসহ যেসব দেশের নাগরিকদের সাধারণ ভিজিট বা সামাজিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসার সুবিধা প্রত্যাহার করা হয়েছে, তাদের সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে। এ-সংক্রান্ত দেশগুলোর তালিকাও প্রকাশ করেছে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ।

তবে নতুন এই সিদ্ধান্তের প্রভাব মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি বা অন্যান্য বিদেশি কর্মীদের ওপর পড়বে না। কারণ, ইমিগ্রেশন বিভাগের বিজ্ঞপ্তিটি মূলত ভিজিট ভিসা বা সামাজিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কর্মীদের ওয়ার্ক পারমিট কিংবা কর্মসংস্থান-সংক্রান্ত ভিসা এই পরিবর্তনের আওতাভুক্ত নয়।

মালয়েশিয়ায় ভ্রমণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য নতুন এই ভিসা নীতি কার্যকর হওয়ায় পর্যটকদের আগের তুলনায় ভিসা ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের মুখে পড়তে হবে।

এশিয়া টাইমসের বিশ্লেষণ/

চীনের যুদ্ধবিমান জে-১০সিই বাংলাদেশের আকাশ প্রতিরক্ষা কতটা শক্তিশালী করবে

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
চীনের যুদ্ধবিমান জে-১০সিই বাংলাদেশের আকাশ প্রতিরক্ষা কতটা শক্তিশালী করবে

বাংলাদেশ যদি শেষ পর্যন্ত চীনের তৈরি জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কেনে, তাহলে দেশের বিমানবাহিনীর সক্ষমতা নিঃসন্দেহে বাড়বে। কিন্তু এর সঙ্গে আরেকটি প্রশ্নও সামনে আসছে—নতুন যুদ্ধবিমান কেনার মাধ্যমে বাংলাদেশ কি ধীরে ধীরে চীনের আরও বড় একটি সামরিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে?

বাংলাদেশের জে-১০সিই কেনার প্রস্তাবটি এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায়। একটি খসড়া প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের কাছে পাঠানো হয়েছে। শুধু যুদ্ধবিমান নয়, পুরো প্যাকেজে আক্রমণকারী হেলিকপ্টার, ভিআইপি পরিবহনের হেলিকপ্টার এবং চালকবিহীন আকাশযানও থাকার কথা রয়েছে। অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে চলতি অর্থবছরেই কেনার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। তা না হলে সেটি চলে যেতে পারে পরবর্তী বাজেট চক্রে।

বাংলাদেশ ২০ থেকে ২৪টি জে-১০সিই কেনার কথা ভাবছে। প্রতিটি যুদ্ধবিমানের মূল দাম প্রায় ৬ কোটি ২৭ লাখ মার্কিন ডলার। কিন্তু দামই শেষ কথা নয়। প্রশিক্ষণ, রসদ, অবকাঠামো, রক্ষণাবেক্ষণসহ অন্যান্য খরচ যোগ হলে প্রতিটি যুদ্ধবিমানের পেছনে মোট ব্যয় প্রায় ১১ কোটি ৫০ লাখ ডলারে পৌঁছাতে পারে।

আরও পড়ুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়ে চিঠি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

জে-১০সিই নিয়ে এত আগ্রহ কেন
জে-১০সিই নিয়ে বাংলাদেশের আগ্রহের পেছনে ২০২৫ সালের মে মাসের ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষের প্রভাব থাকতে পারে। ওই সংঘর্ষে পাকিস্তান দাবি করেছিল, তাদের জে-১০সিই ভারতীয় কয়েকটি যুদ্ধবিমান, এমনকি রাফালও ভূপাতিত করেছে। তবে পাকিস্তানের দাবিটি এখনো বিতর্কিত এবং স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তারপরও সংঘর্ষে জে-১০সিই-এর ব্যবহার এই যুদ্ধবিমানটির প্রতি আন্তর্জাতিক আগ্রহ বাড়িয়েছে। পাকিস্তানই এখন পর্যন্ত এই রপ্তানি সংস্করণের একমাত্র নিশ্চিত বিদেশি ব্যবহারকারী।

তবে এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে। পাকিস্তানের জে-১০সিই যে সক্ষমতা দেখিয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে, তার পুরোটা হয়তো শুধু যুদ্ধবিমানটির নিজের ক্ষমতা নয়।

পাকিস্তান এসব যুদ্ধবিমান একা ব্যবহার করেনি। এর পেছনে ছিল চীনা প্রযুক্তিনির্ভর একটি বড় সামরিক ব্যবস্থা। অর্থাৎ যুদ্ধবিমান, রাডার, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র এবং আকাশ থেকে নজরদারি ও নির্দেশনা দেওয়ার বিমান—সব মিলিয়ে একটি সমন্বিত ব্যবস্থা।

তাই বাংলাদেশ শুধু জে-১০সিই কিনলেই পাকিস্তানের মতো একই ধরনের সক্ষমতা পেয়ে যাবে—এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।

জে-১০সিই আর জেএফ-১৭
বাংলাদেশের যুদ্ধবিমান আধুনিকায়নের আলোচনায় এর আগে চীন-পাকিস্তানের যৌথভাবে তৈরি জেএফ-১৭ থান্ডার ব্লক-৩-এর নামও এসেছে। এশিয়া টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, বাংলাদেশ পুরোনো এফ-৭ ও মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান বদলে জেএফ-১৭ কেনার পরিকল্পনা করছে। এসব বিমানে দৃষ্টিসীমার বাইরে থাকা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে পারে এমন ক্ষেপণাস্ত্র এবং উন্নত এভিওনিকস থাকার কথা।

জে-১০ এবং জেএফ-১৭কে একই ধরনের বিমান হিসেবে দেখলে বিষয়টি বোঝা কঠিন হবে। দুটির কাজ অনেকটা আলাদা।

জে-১০ তুলনামূলক ভারী এবং এর মূল শক্তি আকাশে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা, উন্নত রাডার ও বেশি গতিশীলতা। অন্যদিকে জেএফ-১৭ হালকা, তুলনামূলক কম খরচে পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করা যায় এবং বিভিন্ন ধরনের মিশনে ব্যবহার করা সম্ভব।

দুটি বিমান একসঙ্গে থাকলে বাংলাদেশ একটি ‘হাই-লো’ ধরনের যুদ্ধবিমান কাঠামো পেতে পারে। সহজ করে বললে, বেশি কঠিন ও গুরুত্বপূর্ণ আকাশপ্রতিরক্ষার দায়িত্বে থাকতে পারে জে-১০। আর নিয়মিত আকাশ টহল ও আঘাত হানার মতো কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে জেএফ-১৭।

চীনা যুদ্ধবিমান বাংলাদেশের জন্য আকর্ষণীয় হওয়ার আরও একটি কারণ আছে। বাংলাদেশ বহু বছর ধরে চীনের তৈরি সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহার করছে। ফলে এসব সরঞ্জাম পরিচালনার অভিজ্ঞতা, চীনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের অস্ত্র কেনাবেচার সম্পর্ক এবং তুলনামূলক কম দাম—সব মিলিয়ে চীনা যুদ্ধবিমান বাংলাদেশের কাছে স্বাভাবিক একটি বিকল্প।

আসল বিষয় যুদ্ধবিমান নয়
২০২৫ সালের ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষে পাকিস্তানের জে-১০সিই-এর কথিত সাফল্য বিশ্লেষণ করতে গিয়ে দেখা যায়, যুদ্ধবিমানগুলোর সঙ্গে চীনা প্রযুক্তির আরও অনেক ব্যবস্থা একসঙ্গে কাজ করেছিল।

সংঘর্ষের সময় পাকিস্তানের চীনা তৈরি স্থলভিত্তিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভারতীয় বিমান শনাক্ত ও লক্ষ্যবস্তু করার কাজে যুক্ত ছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে পাকিস্তানের চীনা তৈরি যুদ্ধবিমানগুলো চীনা প্রযুক্তিনির্ভর আকাশপথে আগাম সতর্কতা ও নিয়ন্ত্রণের বিমান বা এ-ডব্লিউ অ্যান্ড সি-এর সহায়তায় ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল।

জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান কিনতে চায় বাংলাদেশ, উদ্বিগ্ন কেন ভারতচীন-পাকিস্তানের যৌথভাবে তৈরি জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান। ছবি: সংগৃহীত
অর্থাৎ একটি যুদ্ধবিমান যত আধুনিকই হোক, তার পুরো সক্ষমতা পেতে হলে সেটিকে রাডার, নজরদারি, যোগাযোগ, ক্ষেপণাস্ত্র, আকাশ প্রতিরক্ষা এবং কমান্ড ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে চালাতে হয়।

এখানেই বাংলাদেশ চীনের ওপর নির্ভরশীল। জে-১০সিই কেনার পর যদি এর সর্বোচ্চ সক্ষমতা কাজে লাগাতে আরও চীনা প্রযুক্তি ও সহায়তা প্রয়োজন হয়, তাহলে বাংলাদেশের চীনা সামরিক ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কও আরও গভীর হতে পারে।

যুদ্ধবিমান কিনলেই কাজ শেষ নয়
একটি যুদ্ধবিমান কেনার পর সেটিকে বছরের পর বছর সচল রাখাই আসল চ্যালেঞ্জ। উন্নত যুদ্ধবিমানের জন্য নিয়মিত খুচরা যন্ত্রাংশ, রক্ষণাবেক্ষণ, সফটওয়্যার হালনাগাদ, প্রশিক্ষণ এবং প্রস্তুতকারকের কাছ থেকে প্রযুক্তিগত সহায়তা দরকার হয়। ফলে অস্ত্র কেনার চুক্তির সঙ্গে সঙ্গে একটি দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ ও সহায়তা সম্পর্কও তৈরি হয়।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ গত ২০ বছরে কেনা মোট অস্ত্রের প্রায় ৭০ শতাংশই এসেছে চীন থেকে। চীন বাংলাদেশকে যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান, ট্যাংক ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন ধরনের সামরিক সরঞ্জাম দিয়েছে। ফলে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক শুধু অস্ত্র কেনাবেচার মধ্যে আটকে নেই। এসব সরঞ্জাম সচল রাখতে যে খুচরা যন্ত্রাংশ, রক্ষণাবেক্ষণ, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দরকার, সেগুলোর সঙ্গেও চীনের সম্পর্ক তৈরি হয়।

দীর্ঘমেয়াদে এই নির্ভরতা চীনের প্রভাবকে অস্ত্রের বাজারের বাইরেও নিয়ে যেতে পারে। একটি দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যত বেশি একটি নির্দিষ্ট দেশের প্রযুক্তি ও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করবে, তার প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্রনীতি এবং অর্থনৈতিক স্বার্থও তত বেশি সেই দেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে।

মিয়ানমারের জেএফ-১৭ এর সতর্কবার্তা
চীনা সামরিক সরঞ্জামের ওপর নির্ভরতার ঝুঁকি বোঝাতে মিয়ানমারে থাকা জেএফ-১৭গুলোর উদাহরণ সামনে আসে।

বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমানগুলোতে কাঠামোগত ও প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা দিয়েছে। উচ্চমাত্রার জি-ফোর্সে চালানোর সময় বিমানগুলোর কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকির কথাও উঠে এসেছে।

এ ছাড়া জেএফ-১৭-এর কেএলজে-৭এল রাডারের রক্ষণাবেক্ষণ ও নির্ভুলতা নিয়েও সমস্যার অভিযোগ রয়েছে। অস্ত্র পরিচালনা ব্যবস্থার কম্পিউটারে ত্রুটির অভিযোগও আছে। এসব সমস্যা বিমানের দৃষ্টিসীমার বাইরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করার সক্ষমতাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

আরেকটি সমস্যা খুচরা যন্ত্রাংশ নিয়ে। মিয়ানমারের ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে জেএফ-১৭তে ব্যবহৃত পশ্চিমা এভিওনিকস ও ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে যুদ্ধবিমানগুলো সচল রাখার ক্ষেত্রেও সমস্যা তৈরি হয়েছে।

এর মানে এই নয় যে একই সমস্যা বাংলাদেশের জে-১০সিইতে হবেই। তবে আধুনিক যুদ্ধবিমান কেনার ক্ষেত্রে বিমানটির দাম বা সক্ষমতার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ।

ভারতের হিসাবেও বদল আসতে পারে
বাংলাদেশ জে-১০সিই বা জেএফ-১৭ কিনলে ভারতের সামগ্রিক আকাশ-আধিপত্য অবশ্যই পাল্টে যাবে না। ২০২৬ সালের আইআইএসএসের হিসাবে ভারতের ২৯টি যুদ্ধবিমান স্কোয়াড্রন রয়েছে।

তবে বাংলাদেশের হাতে আরও আধুনিক যুদ্ধবিমান এলে দুই দেশের কৌশলগত সক্ষমতার ব্যবধান কিছুটা কমবে। বাংলাদেশের আকাশসীমায় টহল ও প্রতিরক্ষার সক্ষমতাও বাড়বে। এর প্রভাব ভারতের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে শিলিগুড়ি করিডোরকে ঘিরে। প্রায় ২০ কিলোমিটার প্রশস্ত এই স্থলপথ ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে দেশের বাকি অংশের সঙ্গে যুক্ত করেছে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এটি ভারতের সামরিক পরিকল্পনার জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি এলাকা।

বাংলাদেশের বিমান সক্ষমতা বাড়লে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় প্রতিরক্ষা পরিকল্পনায় এই এলাকার গুরুত্ব আরও বাড়তে পারে। বড় কোনো আঞ্চলিক সংকটের সময় ভারতকে পূর্ব দিকের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় আরও পরিকল্পনা ও কিছু অতিরিক্ত সম্পদ দিতে হতে পারে।

এখানে অবশ্য একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে কোনো সক্রিয় ভূখণ্ডগত বিরোধ নেই। তবে ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন বেড়েছে। ভারতের সঙ্গে শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বাংলাদেশের তার বিরোধীদের একটি অংশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই অসন্তোষের কারণ ছিল। এরই মধ্যে ভারত শিলিগুড়ি করিডোরের আশপাশে সামরিক অবকাঠামোও শক্তিশালী করেছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারতের এই সামরিক প্রস্তুতির পেছনে করিডোরটির ভঙ্গুরতা নিয়ে দীর্ঘদিনের উদ্বেগ রয়েছে।

চীনের সীমান্তবর্তী চুম্বি উপত্যকার কাছাকাছি অবস্থান করায় শিলিগুড়ি করিডোর এমনিতেই ভারতের জন্য স্পর্শকাতর। বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের কাছাকাছি ভারতীয় সামরিক উপস্থিতি বাড়লে সেটিকে বাংলাদেশেও উত্তর সীমান্তে ভারতের চাপ বাড়ার দৃষ্টিতে দেখা হতে পারে, বিশেষ করে দুই দেশের সম্পর্ক যখন আগের মতো স্বস্তিদায়ক নয়।

চীনের ওপর বেশি নির্ভরশীলতা
শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ ভারতের কাছ থেকে কিছুটা দূরত্ব তৈরি করতে চাইছে—এমন পরিস্থিতি চীনের জন্যও বাংলাদেশে প্রভাব বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের দৃষ্টিতে চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ভারতের প্রভাবের ভারসাম্য তৈরির একটি উপায়। কিন্তু ভারতের দৃষ্টিতে বিষয়টি অন্যরকম। তাদের পূর্বাঞ্চলীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকায় চীনের প্রভাবের একটি নতুন মাত্রা তৈরি হচ্ছে। এখানেই বাংলাদেশের জন্য মূল কৌশলগত প্রশ্নটি আসে।

ভারতের অতিরিক্ত প্রভাব এড়াতে গিয়ে যদি বাংলাদেশ চীনের সামরিক ব্যবস্থার ওপর আরও বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তাহলে এক ধরনের নির্ভরতা কমাতে গিয়ে আরেক ধরনের নির্ভরতা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকবে।

বাংলাদেশের কয়েক দশকের চীনা অস্ত্রনির্ভরতা একদিনে শেষ করা সম্ভব নয়। তবে অন্য দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক বাড়িয়ে এই নির্ভরতা কিছুটা কমানো সম্ভব।

এরই মধ্যে তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক এগিয়েছে। দুই দেশ পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের অংশগ্রহণে প্রতিবছর ‘টু প্লাস টু’ আলোচনা আয়োজনের বিষয়ে সম্মত হয়েছে। অর্থাৎ শুধু সামরিক সরঞ্জাম কেনাবেচার সম্পর্ক না রেখে প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতির উচ্চপর্যায়েও সম্পর্ককে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।

এছাড়াও তুরস্কের বাইরে জাপানের সঙ্গেও বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম হস্তান্তরের সুযোগ তৈরির জন্য একটি চুক্তি করেছে। ফলে জে-১০সিই ও জেএফ-১৭ বাংলাদেশের যুদ্ধবিমান বহরকে আধুনিক করার বড় সুযোগ দিতে পারে। এগুলো দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ও সামরিক সক্ষমতা বাড়াবে, ভারতের সঙ্গে কৌশলগত ব্যবধানও কিছুটা কমাতে পারে। কিন্তু আধুনিক যুদ্ধবিমানের সক্ষমতা শুধু বিমানের ওপর নির্ভর করে না। এর সঙ্গে যে রাডার, অস্ত্র, যোগাযোগ, প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থা যুক্ত থাকে, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

দেশের পুরো ব্যবস্থাই যদি ক্রমশ চীনকেন্দ্রিক হয়ে ওঠে, তাহলে বাংলাদেশ যে সামরিক সক্ষমতা অর্জন করছে, তা একদিকে তার বিকল্প বাড়াবে, আবার অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদে কৌশলগত স্বাধীনতার জায়গাটিও সংকুচিত করতে পারে।

(এশিয়া টাইমস থেকে নেওয়া। ইংরেজি থেকে অনুবাদ করেছেন মাহজাবিন নাফিসা)

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়ে চিঠি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়ে চিঠি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে চিঠি দিয়ে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চিঠিতে তিনি দুই দেশের সুসম্পর্ক ও বাংলাদেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন।

সোমবার (৩১ আগস্ট) হোয়াইট হাউজ থেকে পাঠানো এক চিঠিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই ধন্যবাদ জানান। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য জানান।

চিঠিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প লেখেন, ‘বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে আপনার চিঠি আমি মাত্র পেয়েছি এবং কেনার সিদ্ধান্তের জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। বোয়িং আপনাকে হতাশ করবে না এবং আমি এই বিষয়টি মনে রাখব। এই বিষয়ে আপনার বিশেষ মনোযোগের জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। নিকট ভবিষ্যতে আপনার সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।’

বাংলাদেশ ও এ দেশের মানুষের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট চিঠিতে আরও লেখেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের প্রতি আমার উষ্ণ শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা পৌঁছে দেবেন। তারা অনেক কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছেন, তবে আপনার নেতৃত্বে তারা এবং আপনার দেশ নিজেই একটি অত্যন্ত উজ্জ্বল ভবিষ্যতের অধিকারী হবে বলে আমি নিশ্চিত।’

চিঠির শেষাংশে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ‘সর্বোত্তম শুভেচ্ছাসহ’ নিজের স্বাক্ষর যুক্ত করে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সম্পর্ক জোরদারের ইতিবাচক বার্তা দেন।

শাহজালালে দুর্ঘটনায় নিহত ৩ বিমান বাহিনীর সদস্যকে শেষ শ্রদ্ধা

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬

সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর তিন সদস্যের জানাজা ও ফিউনারেল প্যারেড সম্পন্ন হয়েছে। জানাজা শেষে নিহতদের মরদেহ দাফনের জন্য নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়েছে।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টায় ঢাকা সেনানিবাসের বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ঘাঁটি বীর উত্তম এ কে খন্দকারের সি-১৩০ হ্যাঙ্গারে জানাজা ও ফিউনারেল প্যারেড সম্পন্ন হয়।

জানাজায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানসহ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা অংশ নেন। বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান নিহতদের কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান।

সোমবার (৩১ আগস্ট) রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এলাকায় কিউআরএফ (কুইক রেসপন্স ফোর্স)-এর দায়িত্ব পালনের সময় বিমান বাহিনীর সাত সদস্যকে বহনকারী একটি জিপ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।

দুর্ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার করে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ওয়ারেন্ট অফিসার সুলতান মাহমুদ, কর্পোরাল মনিরুজ্জামান পিয়াস এবং এলএসি মো. জুবাইদুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত আরও চার সদস্য সিএমএইচে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বিমান বাহিনীর পক্ষ থেকে নিহতদের মৃত্যুতে গভীর শোক ও পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে আহত সদস্যদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

আগস্টে রেমিট্যান্সে ২২ দশমিক ৫০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি

গভীর রাতে প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে প্রবেশের দায়ে যুবক আটক

ঢাকা-চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে কাস্টমসের অভিযান, কোটি টাকার পণ্য জব্দ

দালালের খপ্পরে পড়ে লিবিয়ায় নির্যাতন ও কারাবাস শেষে দেশে ফিরলেন ১৭৪ প্রবাসী

কাতারে নির্মিত হচ্ছে প্রথম বৈদ্যুতিক গাড়ির কারখানা

হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্রিতে শাটল সার্ভিস চালু

কাতারে খোলা জায়গায় গাড়ি ধোয়া নিষিদ্ধ: অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা