১০ অক্টোবর ২০২৬

১ সেপ্টেম্বর থেকে বদলে যাচ্ছে কুয়েতের ভিসা নিয়ম!

প্রকাশ: শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬
১ সেপ্টেম্বর থেকে বদলে যাচ্ছে কুয়েতের ভিসা নিয়ম!

কুয়েতে ভিজিট ভিসা ও প্রবাসীদের ছুটির অনুমতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়নের বিশেষ সুবিধা আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে বন্ধ হচ্ছে। এরপর থেকে ভিসা ও ছুটির ক্ষেত্রে স্বাভাবিক আইনি নিয়ম কার্যকর হবে।
কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১ সেপ্টেম্বর থেকে কুয়েতে অবস্থানরত বিভিন্ন শ্রেণির ভিজিট ভিসার মেয়াদ আর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়ানো হবে না। একইভাবে কুয়েতের বাইরে থাকা প্রবাসীদের ছুটির অনুমতিপত্রের ক্ষেত্রেও বিশেষভাবে দেয়া অতিরিক্ত সময়ের সুবিধা শেষ হবে।

চলতি বছরের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে কুয়েতসহ অঞ্চলে বিমান চলাচল ও আন্তর্জাতিক যাতায়াতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এতে অনেক যাত্রী নির্ধারিত সময়ে কুয়েত ত্যাগ করতে পারেননি। একইভাবে কুয়েতের বাইরে থাকা অনেক প্রবাসীও সময়মতো দেশটিতে ফিরতে পারেননি।

এ পরিস্থিতিতে অনিচ্ছাকৃতভাবে ভিসা বা আবাসন আইন লঙ্ঘনের ঝুঁকি কমাতে কুয়েত সরকার সাময়িকভাবে স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বৃদ্ধির ব্যবস্থা চালু করে। এর আওতায় নির্দিষ্ট সময়ের পর মেয়াদ শেষ হওয়া ভিজিট ভিসা এবং কুয়েতের বাইরে থাকা কিছু প্রবাসীর ছুটির অনুমতিপত্রের মেয়াদ অতিরিক্ত সময়ের জন্য বাড়ানো হয়।

তবে এটি কোনো স্থায়ী ভিসা আইন ছিল না। বিশেষ পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেয়া একটি অস্থায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা হিসেবেই এটি চালু করা হয়েছিল।

আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ভিজিট ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আগের মতো স্বয়ংক্রিয়ভাবে অতিরিক্ত সময় পাওয়া যাবে না। ভিসাধারীকে ভিসায় উল্লেখিত বৈধতার শেষ তারিখ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। একইভাবে কুয়েতের বাইরে থাকা প্রবাসীদের ছুটির অনুমতিপত্রের নির্ধারিত মেয়াদই কার্যকর হবে। বিশেষ ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে অতিরিক্ত সময় নিয়ে কুয়েতে ফেরার সুযোগ থাকবে না।

কুয়েতের বাইরে থাকা প্রবাসীদের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তাদের নিজেদের ছুটির অনুমতিপত্রের বৈধতা আগে থেকেই যাচাই করতে হবে। কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সাহেল অ্যাপের মাধ্যমে পাওয়া আবাসন অনুমতিপত্রের অবস্থাসংক্রান্ত সনদকে ছুটির অনুমতিপত্রের মেয়াদ যাচাইয়ের সরকারি রেফারেন্স হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

তাই পুরোনো কাগজপত্র, আগের বার্তা বা নিয়োগকর্তার মৌখিক তথ্যের ওপর নির্ভর না করে সাহেল অ্যাপের মাধ্যমে বর্তমান বৈধতা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ছুটির অনুমতিপত্রের বৈধ সময় শেষ হওয়ার পরও কোনো প্রবাসী কুয়েতে ফিরে না এলে তার আবাসন-সংক্রান্ত অবস্থায় সমস্যা তৈরি হতে পারে। একইভাবে নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ভিজিট ভিসায় কুয়েতে অবস্থান করলে তা আইন লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

এ ধরনের ক্ষেত্রে প্রচলিত আবাসন আইনের আওতায় জরিমানা বা অন্যান্য আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে। তবে ১ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন কোনো নির্দিষ্ট জরিমানার হার চালু হচ্ছে-এমন ঘোষণা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেয়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত কোনো নির্দিষ্ট জরিমানার অঙ্ককে তাই সরকারি ঘোষণা হিসেবে গ্রহণ না করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। ব্যক্তির ভিসা বা আবাসনের ধরন এবং কী ধরনের নিয়ম লঙ্ঘন হয়েছে, তার ওপর সম্ভাব্য জরিমানা বা আইনগত ব্যবস্থা নির্ভর করবে।

ইরানের হামলায় কুয়েতের ঘাঁটি ছেড়ে পালিয়ে যায় ৭ হাজার মার্কিন সেনা: সিবিএস নিউজ

প্রকাশ: শুক্রবার, অক্টোবর ০৯, ২০২৬
ইরানের হামলায় কুয়েতের ঘাঁটি ছেড়ে পালিয়ে যায় ৭ হাজার মার্কিন সেনা: সিবিএস নিউজ
ছবি: এআই

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের শুরুর দিনগুলোতে ইরানের ‘ভয়াবহ’ প্রতিশোধমূলক হামলার মুখে কুয়েতের একটি প্রধান মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল মার্কিন বাহিনী।

সম্প্রতি প্রেস টিভির বরাতে সিবিএস নিউজ-এর একটি প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) নতুন প্রাপ্ত ভিডিও এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবৃতির বরাত দিয়ে সিবিএস নিউজ জানায়, পেন্টাগনের ‘গেট অফ দ্য এক্স’ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে যুদ্ধের আগেই ওই ঘাঁটিতে অবস্থানরত প্রায় ৭ হাজার সেনার বেশিরভাগকেই অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলা অব্যাহত থাকলে ব্যাপক হতাহতের ঘটনায় অপ্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও এবং পয়েন্ট ফাইভ-জিরো ক্যালিবারের গোলাবারুদের তীব্র সংকট থাকা সত্ত্বেও প্রায় ১০০ জন সেনা সেখানে রয়ে গিয়েছিলেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সূত্র জানিয়েছে, তারা আমাদের ওপর অত্যন্ত মারাত্মকভাবে হামলা চালিয়েছিল। এটি ছিল ভয়াবহ। সেখানে অনেক সাহসী সেনা লড়াই করার জন্য রয়ে গিয়েছিলেন—আর দেশের বাড়িতে থাকা মানুষগুলো জানেই না আসলে কী ঘটেছিল। শেষ পর্যন্ত আমাদের ঘাঁটিটি ছেড়ে চলে যেতে হয়েছে।

‘ইরানি এফ-৫ পাইলটদের হেলমেট পর্যন্ত দেখতে পেয়েছিলাম’

এদিকে ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলার প্রত্যক্ষদর্শী তিন মার্কিন সেনা সদস্য জানিয়েছেন, ক্যাম্প বিউরিংয়ের ওপর পরিচালিত অভিযানে ইরানের এফ-৫ যুদ্ধবিমানগুলো অংশ নিয়েছিল।

তারা আরও বলেন, তারা (এফ-৫ জেটগুলো) আমাদের এত কাছ দিয়ে উড়ে গিয়েছিল যে আমি তাদের পাইলটদের হেলমেট পর্যন্ত দেখতে পেয়েছিলাম। তারা এসে আমাদের ওপর হামলা চালায় এবং তারপর দ্রুত চলে যায়।


অন্যদিকে, কুয়েতের অন্য একটি পোস্ট থেকে লজিস্টিকস অপারেশন পরিচালনা করা মার্কিন আর্মির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ক্যালিবারের গোলাবারুদ ও প্যাট্রিয়ট মিসাইল ব্যাটারির প্রাপ্যতা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেষ পর্যন্ত সেখান থেকে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেনারা তাদের জিনিসপত্র গুছিয়ে, যতোটা সম্ভব সরঞ্জাম গাড়িতে তুলে রাতের আঁধারে কুয়েতের মরুভূমির গভীরে চলে যান এবং অগ্রবর্তী অপারেটিং বেসগুলোতে অবস্থান নেন।

এ বিষয়ে অবগত মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ক্যাম্প বিউরিং বা অগ্রবর্তী বেসগুলোতে কেউ নিহত না হলেও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে মরুভূমির বালুঝড়ের সময় বজ্রপাতে আহত দুই সেনাও রয়েছেন।

একটি সূত্র জানায়, ক্যাম্প বিউরিং ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এ বিষয়ে একটি তদন্ত করা উচিত। কেন আমাদের সাহায্য করার জন্য কেউ এগিয়ে এল না?

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে অবৈধ আগ্রাসী যুদ্ধ শুরু করেছিল। এর ৪০ দিন পর গত ৮ এপ্রিল ইরানের প্রতিরোধ, সফল প্রতিশোধমূলক অভিযান এবং হরমুজ প্রণালীর ওপর শক্ত নিয়ন্ত্রণের মুখে শত্রুপক্ষ যুদ্ধবিরতি মানতে বাধ্য হয়।

পরবর্তীতে গত জুনের ১৭ তারিখে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সাথে স্বাক্ষরিত ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘন করে জুলাই মাসে ইরানের ওপর দফায় দফায় মারাত্মক বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র এবং দেশটির ওপর নৌ-অবরোধ আরোপ করে। এর জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুগুলোতে ধ্বংসাত্মক হামলা চালায় এবং হরমুজ প্রণালীকে সব ধরনের চলাচলের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে।

কুয়েতে মাদক পাচারের অভিযোগে প্রবাসী বাংলাদেশি গ্রেপ্তার

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
কুয়েতে মাদক পাচারের অভিযোগে প্রবাসী বাংলাদেশি গ্রেপ্তার

কুয়েতে মাদক ও সাইকোট্রপিক পদার্থ পাচারের অভিযোগে এক বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

কুয়েতের ক্রিমিনাল সিকিউরিটি সেক্টরের অধীনে মাদক নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত জেনারেল ডিরেক্টরেটের আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণ বিভাগের অভিযানে শুক্রবার তাকে আটক করা হয়।

দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই অভিযানে রাসায়নিক পদার্থে ভেজানো ৮০০টি কাগজের পাতা, তরল রাসায়নিক পদার্থভর্তি দুটি অ্যাম্পুল এবং দুটি নিখুঁত পরিমাপের স্কেল জব্দ করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রাথমিক তদন্তে ইঙ্গিত মিলেছে যে জব্দকৃত এই সামগ্রীগুলো সন্দেহভাজনের কাছে মাদক কারবার এবং ব্যক্তিগত ব্যবহারের উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল।

পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তি ও জব্দকৃত মালামাল ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

পাকিস্তানের পর ভারতের সঙ্গেও প্রতিরক্ষা চুক্তিতে আগ্রহী কুয়েত

প্রকাশ: রবিবার, আগস্ট ৩০, ২০২৬
পাকিস্তানের পর ভারতের সঙ্গেও প্রতিরক্ষা চুক্তিতে আগ্রহী কুয়েত

পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র দুই দিনের মধ্যে এবার ভারতের সঙ্গেও একই খাতে বিস্তৃত সহযোগিতা চুক্তি করতে আগ্রহ দেখিয়েছে কুয়েত। এরই ধারাবাহিকতায় চুক্তির সম্ভাব্য বিষয়বস্তু নিয়ে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) নয়াদিল্লিতে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে কুয়েতের সামরিক বাহিনীর উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল।

ভারতের পক্ষ থেকে বৈঠকে নেতৃত্ব দেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব অমিতাভ প্রসাদ। বৈঠকে তার সঙ্গে প্রতিরক্ষা বিভাগের তিন বাহিনীর প্রধান, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও সমরাস্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ডিআরডিও), আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল সার্ভিস এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে, কুয়েতের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন দেশটির সামরিক বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রায়েদ আল সাক্রান।

ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা দেশটির বার্তাসংস্থা পিটিআইকে জানান, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে কুয়েত সফর করেছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ওই সফরে দুই দেশের সরকারের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছিল। এখন সেই সমঝোতা স্মারককে আরও বিস্তৃত ও পূর্ণাঙ্গ একটি চুক্তিতে রূপ দিতে চায় ভারত ও কুয়েত।

তবে প্রস্তাবিত চুক্তির চূড়ান্ত কাঠামো বা বিষয়বস্তু এখনো নির্ধারিত হয়নি। শুক্রবারের বৈঠকে সম্ভাব্য সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে সামরিক প্রশিক্ষণ, যৌথ মহড়া, সশস্ত্র বাহিনীর জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ, প্রতিরক্ষা শিল্প এবং সমরাস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম নিয়ে গবেষণার বিষয়গুলো চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

পাকিস্তানের সঙ্গেও প্রতিরক্ষা চুক্তি

এর আগে গত ২৭ আগস্ট বৃহস্পতিবার ইসলামাবাদে পাকিস্তানের সঙ্গে ‘প্রটোকল এগ্রিমেন্ট-২০২৬’ নামে একটি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করে কুয়েত। চুক্তির পর কুয়েতের সামরিক বাহিনীর দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো প্রতিরক্ষা ও সামরিক খাতে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো।

পাকিস্তানের সঙ্গে ওই চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে আরও বিস্তৃত করার আগ্রহ দেখাল কুয়েত। ফলে একই সময়ে দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের সঙ্গেই প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে উপসাগরীয় দেশটি।

সূত্র : ফার্স্টপোস্ট।

পাকিস্তান ও কুয়েতের মধ্যে নতুন সামরিক ও প্রতিরক্ষা চুক্তি সই

প্রকাশ: শুক্রবার, আগস্ট ২৮, ২০২৬
পাকিস্তান ও কুয়েতের মধ্যে নতুন সামরিক ও প্রতিরক্ষা চুক্তি সই

পারস্পরিক সামরিক সহযোগিতা আরও বাড়াতে নতুন একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেছে পাকিস্তান ও কুয়েত। এই চুক্তির নাম দেওয়া হয়েছে “প্রটোকল এগ্রিমেন্ট-২০২৬”।

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এবং কুয়েতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ আলী আবদুল্লাহ আল-সালেম আল-সাবাহ এই চুক্তিতে সই করেন। এর আগে ২০২৩ সালে দুই দেশের মধ্যে একটি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি হয়েছিল। নতুন এই চুক্তির ফলে সামরিক প্রশিক্ষণ, নিজেদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং দুই দেশের সম্মতিক্রমে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতার পরিধি আরও অনেক বেড়ে যাবে।

চুক্তি স্বাক্ষরের পর দুই দেশের মন্ত্রীরা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়, আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক নানা ঘটনা নিয়ে আলোচনা করেন। কুয়েত প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই চুক্তিকে দ্বিপাক্ষিক সামরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছে। এর মাধ্যমে দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে অপারেশনাল কাজের সমন্বয়, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং প্রস্তুতি আরও জোরদার হবে।

উল্লেখ্য, উপসাগরীয় দেশগুলোর সাথে গত কিছুদিন ধরে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক বেশ বাড়িয়ে চলেছে পাকিস্তান। এর আগে গত বছরের সেপ্টেম্বরে সৌদি আরবের সাথে একটি কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেছিল পাকিস্তান। এরপর চলতি বছরের আগস্ট মাসের শুরুতে পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং তুরস্কের মধ্যে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার মূল লক্ষ্য ছিল তিন দেশের যৌথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

১ সেপ্টেম্বর থেকে বদলে যাচ্ছে কুয়েতের ভিসা নিয়ম!

প্রকাশ: শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬
১ সেপ্টেম্বর থেকে বদলে যাচ্ছে কুয়েতের ভিসা নিয়ম!

কুয়েতে ভিজিট ভিসা ও প্রবাসীদের ছুটির অনুমতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়নের বিশেষ সুবিধা আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে বন্ধ হচ্ছে। এরপর থেকে ভিসা ও ছুটির ক্ষেত্রে স্বাভাবিক আইনি নিয়ম কার্যকর হবে।
কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১ সেপ্টেম্বর থেকে কুয়েতে অবস্থানরত বিভিন্ন শ্রেণির ভিজিট ভিসার মেয়াদ আর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়ানো হবে না। একইভাবে কুয়েতের বাইরে থাকা প্রবাসীদের ছুটির অনুমতিপত্রের ক্ষেত্রেও বিশেষভাবে দেয়া অতিরিক্ত সময়ের সুবিধা শেষ হবে।

চলতি বছরের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে কুয়েতসহ অঞ্চলে বিমান চলাচল ও আন্তর্জাতিক যাতায়াতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এতে অনেক যাত্রী নির্ধারিত সময়ে কুয়েত ত্যাগ করতে পারেননি। একইভাবে কুয়েতের বাইরে থাকা অনেক প্রবাসীও সময়মতো দেশটিতে ফিরতে পারেননি।

এ পরিস্থিতিতে অনিচ্ছাকৃতভাবে ভিসা বা আবাসন আইন লঙ্ঘনের ঝুঁকি কমাতে কুয়েত সরকার সাময়িকভাবে স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বৃদ্ধির ব্যবস্থা চালু করে। এর আওতায় নির্দিষ্ট সময়ের পর মেয়াদ শেষ হওয়া ভিজিট ভিসা এবং কুয়েতের বাইরে থাকা কিছু প্রবাসীর ছুটির অনুমতিপত্রের মেয়াদ অতিরিক্ত সময়ের জন্য বাড়ানো হয়।

তবে এটি কোনো স্থায়ী ভিসা আইন ছিল না। বিশেষ পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেয়া একটি অস্থায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা হিসেবেই এটি চালু করা হয়েছিল।

আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ভিজিট ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আগের মতো স্বয়ংক্রিয়ভাবে অতিরিক্ত সময় পাওয়া যাবে না। ভিসাধারীকে ভিসায় উল্লেখিত বৈধতার শেষ তারিখ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। একইভাবে কুয়েতের বাইরে থাকা প্রবাসীদের ছুটির অনুমতিপত্রের নির্ধারিত মেয়াদই কার্যকর হবে। বিশেষ ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে অতিরিক্ত সময় নিয়ে কুয়েতে ফেরার সুযোগ থাকবে না।

কুয়েতের বাইরে থাকা প্রবাসীদের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তাদের নিজেদের ছুটির অনুমতিপত্রের বৈধতা আগে থেকেই যাচাই করতে হবে। কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সাহেল অ্যাপের মাধ্যমে পাওয়া আবাসন অনুমতিপত্রের অবস্থাসংক্রান্ত সনদকে ছুটির অনুমতিপত্রের মেয়াদ যাচাইয়ের সরকারি রেফারেন্স হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

তাই পুরোনো কাগজপত্র, আগের বার্তা বা নিয়োগকর্তার মৌখিক তথ্যের ওপর নির্ভর না করে সাহেল অ্যাপের মাধ্যমে বর্তমান বৈধতা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ছুটির অনুমতিপত্রের বৈধ সময় শেষ হওয়ার পরও কোনো প্রবাসী কুয়েতে ফিরে না এলে তার আবাসন-সংক্রান্ত অবস্থায় সমস্যা তৈরি হতে পারে। একইভাবে নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ভিজিট ভিসায় কুয়েতে অবস্থান করলে তা আইন লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

এ ধরনের ক্ষেত্রে প্রচলিত আবাসন আইনের আওতায় জরিমানা বা অন্যান্য আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে। তবে ১ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন কোনো নির্দিষ্ট জরিমানার হার চালু হচ্ছে-এমন ঘোষণা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেয়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত কোনো নির্দিষ্ট জরিমানার অঙ্ককে তাই সরকারি ঘোষণা হিসেবে গ্রহণ না করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। ব্যক্তির ভিসা বা আবাসনের ধরন এবং কী ধরনের নিয়ম লঙ্ঘন হয়েছে, তার ওপর সম্ভাব্য জরিমানা বা আইনগত ব্যবস্থা নির্ভর করবে।