২০ অক্টোবর ২০২৬

কাতারের নিহত ইরানি পাইলটের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন

কাতারের  নিহত ইরানি পাইলটের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আকস্মিক হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা আক্রমণের অংশ হিসেবে পরিচালিত এক ঝুঁকিপূর্ণ অপারেশনে নিহত ইরানি বিমান বাহিনীর পাইলট ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজিদ কাজেমি-র মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ডিএনএ (DNA) পরীক্ষার মাধ্যমে তাঁর পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়ার পর কাতার থেকে মরদেহ ইরানে পাঠানোর চূড়ান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

ইরানি গণমাধ্যম ও দেশটির সেনাবাহিনীর আন্তর্জাতিক বুলেটিন অনুযায়ী, গত ২ মার্চ শিরাজের শহীদ دوران বিমানঘাঁটি থেকে ইরানের দুটি পুরোনো কিন্তু কার্যকর সুখোই-২৪ (Su-24) যুদ্ধবিমান কাতারের রাজধানী দোহার অদূরে অবস্থিত মার্কিন আল-উদেইদ বিমানঘাঁটি (Al Udeid Air Base) অভিমুখে মিশন পরিচালনা করে।

অভিযানের মূল বিবরণ:

  • ঝুঁকিপূর্ণ মিশন: সর্বাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও রাডার ফাঁকি দিয়ে পারস্য উপসাগরের আকাশসীমা অতিক্রম করে ইরানি যুদ্ধবিমান দুটি আল-উদেইদ ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু বানায়।

  • ক্ষয়ক্ষতি: ইরানের সেনাবাহিনীর দাবি অনুযায়ী, এই হামলায় মার্কিন আল-উদেইদ বিমানঘাঁটিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছিল।

  • আকাশ প্রতিরক্ষার আঘাত ও ক্র্যাশ: মিশন সম্পন্ন করে ফেরার পথে পারস্য উপসাগরের ওপর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার নিখুঁত আঘাতে একটি সুখোই-২৪ বিমান ভূপাতিত হয়। এতে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজিদ কাজেমি নিহত হন।

ঘটনার পর থেকে বাকি বৈমানিকদের ভাগ্যের পরিণতি ও মরদেহ শনাক্তকরণ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। টানা কয়েক মাস ধরে ফরেনসিক পরীক্ষা ও ডিএনএ যাচাইয়ের পর জেনারেল কাজেমির মরদেহ নিশ্চিত করে রাজধানী তেহরানের শহীদ লাশগারী ঘাঁটিতে আনা হয় এবং পরবর্তীতে সামরিক সম্মান প্রদর্শন পূর্বক তাঁর জন্মস্থান শিরাজে দাফনের ব্যবস্থা করা হয়।

এক বিবৃতিতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, এই অভিযানে অংশ নেওয়া অপর তিনজন বৈমানিক ও ক্রু সদস্যদের বিষয়ে তদন্ত ও তথ্য সংগ্রহের কাজ এখনও অব্যাহত রয়েছে।

আল-উদেইদ ঘাঁটিতে হামলার কারণে সৃষ্ট চরম নিরাপত্তা ঝুঁকিতে যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে তাদের কিছু সেনা সদস্য ও সামরিক সরঞ্জাম নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছিল। ইরানের পক্ষ থেকে এই বৈমানিককে জাতীয় বীর ও তাদের অভিযানকে বীরত্বপূর্ণ প্রতিক্রিয়া হিসেবে তুলে ধরা হলেও, আঞ্চলিক সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনী ও তেহরানের মধ্যকার কৌশলগত সংঘাতকে আরও জটিল ও বহুমুখী রূপ দিয়েছিল।

নতুন আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব ঘোষণা দিতে যাচ্ছে কাতার

প্রকাশ: মঙ্গলবার, অক্টোবর ২০, ২০২৬
নতুন আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব ঘোষণা দিতে যাচ্ছে কাতার

দোহায় অনুষ্ঠিত গ্লোবাল সিকিউরিটি ফোরামে কাতারের উপপ্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সামরিক সক্ষমতা জোরদার করতে নতুন একটি আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা অংশীদারত্বের ঘোষণা দিতে যাচ্ছে তার দেশ।

তিনি বলেন, আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে প্রতিরক্ষা খাতে নতুন উদ্যোগ গ্রহণের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শিগগিরই এ অংশীদারত্বের ঘোষণা দেওয়া হবে।

উপপ্রধানমন্ত্রী আল-থানি বলেন, সম্প্রতি কাতার তার প্রতিরক্ষা সক্ষমতা পর্যালোচনা করেছে। এ ক্ষেত্রে আকাশ প্রতিরক্ষা, ড্রোন হামলা মোকাবিলা, সাইবার নিরাপত্তা ও পানির নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

তিনি উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদভুক্ত (জিসিসি) দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

আল-থানি বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মৌলিক বিষয়গুলোতে আমাদের মধ্যে ঐকমত্য রয়েছে।’ তবে তিনি উল্লেখ করেন, ‘প্রতিটি দেশের নিজস্ব পররাষ্ট্রনীতি রয়েছে।’

কাতারের উপপ্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়িয়েছে। তার দাবি, চলমান সংঘাতের সময় যৌথ অভিজ্ঞতা ও কয়েক দশকের সামরিক বিনিয়োগের ফলে ৯০ শতাংশের বেশি হামলা প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে।

সূত্র: আলজাজিরা

তেল-গ্যাসের বিশ্ববাজারে আসতে চলেছে বড় বিপর্যয়! কাতার

প্রকাশ: মঙ্গলবার, অক্টোবর ২০, ২০২৬
তেল-গ্যাসের বিশ্ববাজারে আসতে চলেছে বড় বিপর্যয়! কাতার

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের কারণে বিশ্বে জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার সবচেয়ে বড় ধাক্কা এখনও আসেনি বলে সতর্ক করেছেন কাতারের উপ-প্রধানমন্ত্রী শেখ সৌদ বিন আবদুর রহমান আল থানি।

তার আশঙ্কা, আগামী দিন ও মাসগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর আরও চাপ তৈরি হতে পারে।

সোমবার দোহায় গ্লোবাল সিকিউরিটি ফোরামে বক্তব্য দেওয়ার সময় কাতারের প্রতিরক্ষাবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা আল থানি বলেন, জ্বালানির ক্ষেত্রে আমরা এখনও সংকটের চূড়ায় পৌঁছাইনি। আগামী দিন ও মাসগুলোতে এর আরও প্রভাব পড়তে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

কাতার ও উপসাগরীয় অঞ্চলের সামনে থাকা বিভিন্ন নিরাপত্তাঝুঁকি তুলে ধরে আল থানি বলেন, এর মধ্যে দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি এবং জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের আশঙ্কাও রয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা এবং এর জবাবে তেহরানের আঞ্চলিক বিভিন্ন স্থানে পাল্টা হামলার পর থেকে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে।

বিশ্বে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ এটি। এ পথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহের পাশাপাশি বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকা-েও প্রভাব পড়তে পারে।

গত মার্চে কাতারের রাস লাফান শিল্প কমপ্লেক্সে ইরানের হামলায় বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসব স্থাপনা মেরামত করতে কয়েক বছর লেগে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে আল থানি বলেন, আমরা বিস্মিত হয়েছিলাম।

তবে ওই ঘটনার পর ইরানের সঙ্গে এ বিষয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এ হামলা থেকে কাতার শিক্ষা নিয়েছে উল্লেখ করে আল থানি বলেন, ভবিষ্যতে কোনো অপ্রত্যাশিত হামলা থেকে দেশের সব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সম্পদ সুরক্ষিত রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর কোনো ধরনের টোল বা ট্রানজিট ফি আরোপের বিরোধিতা করেন কাতারের উপ-প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ট্রানজিট ফি আরোপ করা উচিত নয়। এই নৌপথ নিয়ে অনিশ্চয়তা শেষ পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভোক্তাদের ওপর প্রভাব ফেলবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করেনি কাতার : ইরানের হামলার পরও তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে দোহা বলে জানিয়েছেন আল থানি। তার ভাষায়, আমরা কখনোই যোগাযোগ বন্ধ করি না। দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি।

হামলার আগে ইরানের সঙ্গে কাতারের সম্পর্ককে আস্থাভিত্তিক হিসেবে বর্ণনা করেন আল থানি। দুই দেশের অভিন্ন সমুদ্রতলীয় গ্যাসক্ষেত্র এবং দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক স্বার্থের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ইসরাইলসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠায় কাতার, পাকিস্তান ও ওমানের মধ্যস্থতা সফল হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। তবে তার মতে, টেকসই সমাধানের জন্য আরও বিস্তৃত আঞ্চলিক সংলাপ প্রয়োজন।

এতে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) সদস্যদেশগুলো, পাকিস্তান ও তুরস্কের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মিত্রদেরও যুক্ত করতে হবে। আল থানি বলেন, আমাদের আস্থা তৈরি করতে হবে।

ভবিষ্যতে সংঘাত এড়াতে ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বাড়ানোর সম্ভাবনার কথাও বলেন তিনি। এ ক্ষেত্রে কয়েক দশকের বৈরিতার পর ফ্রান্স ও জার্মানির মধ্যে গড়ে ওঠা সহযোগিতার উদাহরণ তুলে ধরেন কাতারের উপ-প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ইরান আমাদের প্রতিবেশী। তাদের সঙ্গে বসবাসের উপায় আমাদের খুঁজে বের করতে হবে।

আরও পড়ুন

শান্তিরক্ষীদের ওপর হামলায় কাতারের তীব্র নিন্দা

কাতারের কাছ থেকে যেভাবে বিমান উপহার পেয়েছিলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াচ্ছে কাতার : যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাতারের দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিষয়টিও তুলে ধরেন আল থানি। তার দাবি, গত তিন থেকে চার দশকে দুই দেশের মধ্যে গড়ে ওঠা সামরিক সক্ষমতা ও অভিজ্ঞতা ভাগাভাগির ফলে ৯০ শতাংশের বেশি হামলা প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে।

কাতারে অবস্থিত আল উদেইদ বিমান ঘাঁটির সক্ষমতা বাড়ানোর কাজও চলছে বলে জানান তিনি। এ ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা ও সামরিক সদস্যদের পাশাপাশি অন্য অংশীদার দেশগুলোর সামরিক কর্মীরাও অবস্থান করেন। চলমান সংঘাতের সময় ইরান এই ঘাঁটিতেও হামলা চালিয়েছিল।

কাতারের দাবি, মার্চের শুরুর দিকে একটি হামলার সময় তারা ইরানের দুটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে। এ ছাড়া নতুন একটি আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন আল থানি। তিনি বলেন, কাতার এখন আকাশ প্রতিরক্ষা, ড্রোনবিরোধী ব্যবস্থা ও সাইবার নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

আল থানি বলেন, আজ আমি আনন্দের সঙ্গে আরও ঘোষণা করছি, শিগগিরই আমরা একটি নতুন অংশীদারিত্বের ঘোষণা দেব। তবে এ উদ্যোগে কোন কোন আঞ্চলিক দেশ যুক্ত থাকবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।

কাতারের উপ-প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, মধ্যস্থতার উদ্যোগ নেওয়ার অর্থ এই নয় যে নিজেদের ভূখ- রক্ষার প্রস্তুতি থাকবে না। তার ভাষায়, মধ্যস্থতা করার অর্থ এই নয় যে আমাদের পক্ষ থেকে যেকোনো প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকা উচিত নয়- এমনটা ভাবতে হবে।

শান্তিরক্ষীদের ওপর হামলায় কাতারের তীব্র নিন্দা

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ১৭, ২০২৬
শান্তিরক্ষীদের ওপর হামলায় কাতারের তীব্র নিন্দা

লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত সামরিক উত্তেজনা, শান্তিরক্ষী বাহিনীর ওপর হামলা এবং দেশটির ভূখণ্ডে ইসরায়েলের বিভিন্ন লঙ্ঘনের বিষয়টি বৈরুত সফরে আলোচনার বড় অংশজুড়ে ছিল বলে জানিয়েছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন জাসিম আল থানি।

লেবানন সফরকালে অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলোর বিষয়ে আল থানি বলেন, ইসরায়েলের ক্রমাগত উত্তেজনা সৃষ্টির বিষয়টি আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। এর পাশাপাশি শান্তিরক্ষী বাহিনীর ওপর হামলা এবং লেবাননের ভূখণ্ডে ইসরায়েলের লঙ্ঘন নিয়েও কথা হয়েছে।

কাতারের প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করার উপায় এবং ভবিষ্যতে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বৈঠকে বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতিও আলোচনায় এসেছে।

আল থানি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ১৭০১ নম্বর প্রস্তাব বাস্তবায়নের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন। জাতিসংঘের সঙ্গে সমন্বয় করে সম্পাদিত সব চুক্তি বাস্তবায়নের ওপরও জোর দেন তিনি।

লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যকার উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ১৭০১ নম্বর প্রস্তাব বাস্তবায়ন নিয়ে কাতারের এই অবস্থান সামনে এল। আল থানি বলেন, প্রস্তাবটির পাশাপাশি জাতিসংঘের সঙ্গে সমন্বিতভাবে হওয়া সব চুক্তি কার্যকর করাও গুরুত্বপূর্ণ।

অপরাধ দমনে একজোট কাতার ও মিসর

লেবাননের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মেটাতে হাত বাড়াল কাতার

অপরাধ দমনে একজোট কাতার ও মিসর

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ১৭, ২০২৬
অপরাধ দমনে একজোট কাতার ও মিসর

নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সম্প্রসারণে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে কাতার ও মিসর। সম্প্রতি মিশরের রাজধানী কায়রোতে দুই দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত বৈঠকে কাতারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ খলিফা বিন হামাদ বিন খলিফা আল থানি এবং মিসরের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাহমুদ তৌফিক নিজ নিজ দেশের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন।

সেখানে আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে অপরাধ দমন এবং নিরাপত্তা ইস্যু যৌথভাবে মোকাবিলার লক্ষ্যে উভয় দেশ একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'এক্স'-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় কাতারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সূত্র: আল জাজিরা

সৌদির ওপর হামলায় কাতারের কড়া হুঁশিয়ারি

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ১৭, ২০২৬
সৌদির ওপর হামলায় কাতারের কড়া হুঁশিয়ারি

সৌদি আরবের নিরাপত্তা কাতার তথা সমগ্র উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) যৌথ নিরাপত্তার সাথে অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত বলে পুনর্ব্যক্ত করেছে কাতারের মন্ত্রিসভা।

একই সাথে সাম্প্রতিক শূরা কাউন্সিলে দেওয়া মহামান্য আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির ভাষণকে সব মন্ত্রণালয় ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাজের মূল দিকনির্দেশনা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার দোহায় প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান বিন জাসিম আল থানির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভার শুরুতেই সম্প্রতি রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর বারংবার হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়।

একে সৌদি আরবের সার্বভৌমত্বের মারাত্মক লঙ্ঘন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সাধারণ নাগরিক ও বেসামরিক বিমান চলাচলের ওপর সরাসরি হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে কাতার। নিজেদের নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় সৌদি আরবের গৃহীত যেকোনো পদক্ষেপে কাতারের পূর্ণ সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

বৈঠকে সামাজিক উন্নয়ন ও পরিবার মন্ত্রণালয়ের সামাজিক কৌশল (২০২৫-২০৩০)-এর অংশ হিসেবে প্রস্তুতকৃত শিশুদের অধিকারবিষয়ক নতুন খসড়া আইন এবং শিশুদের ডিজিটাল সুরক্ষাসংক্রান্ত খসড়া আইনের অনুমোদন দেওয়া হয়।

শিশুদের নিরাপদ ও স্থিতিশীল পরিবেশে বড় হয়ে ওঠা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই খসড়া আইনটি সর্বসাধারণের মতামতের জন্য কাতারের 'আল মিযান' আইনি পোর্টাল ও 'শারিক' প্ল্যাটফর্মে ১০ দিনের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে।

এছাড়া পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং কাতারএনার্জির যৌথ উদ্যোগে প্রস্তুতকৃত তেজস্ক্রিয় পদার্থের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা বিষয়ক একটি খসড়া নির্দেশিকাও মন্ত্রিসভায় নীতিগতভাবে অনুমোদিত হয়েছে।

পারমাণবিক বা তেজস্ক্রিয় উপাদানের ব্যবহার, পরিবহন ও সংরক্ষণে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) মানদণ্ড নিশ্চিত করতে এটি প্রস্তুত করা হয়।

সভা শেষে কাতার-আর্মেনিয়া বিচারিক সহযোগিতা এবং কাতার-বাহরাইন পরিবহন ও লজিস্টিকস সেবাসংক্রান্ত কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারকও অনুমোদন প্রদান করা হয়।