১ আগস্ট ২০২৬

কাবা শরিফের শত বছরের পুরোনো ‘বাব আল-তাওবা’র গিলাফ এখন কাতারে

প্রকাশ: শুক্রবার, জুলাই ৩১, ২০২৬
কাবা শরিফের শত বছরের পুরোনো ‘বাব আল-তাওবা’র গিলাফ এখন কাতারে

কাতারের মিউজিয়াম অব ইসলামিক আর্ট (এমআইএ) তাদের সংগ্রহে থাকা দুর্লভ ও ঐতিহাসিক শিল্পকর্মের অংশ হিসেবে পবিত্র কাবা শরিফের ভেতরের দরজার বিশেষ কিসওয়া (গিলাফ) প্রদর্শন ও সংরক্ষণের তথ্য প্রকাশ করেছে

কাবা শরিফকে সজ্জিত করার শত বছরের পুরোনো ঐতিহ্যের নিদর্শন হিসেবে এই মূল্যবান কিসওয়াটি বর্তমানে দোহার এমআইএ-তে পরম যত্নে সংরক্ষিত রয়েছে

প্রতি বছর কাবার পোশাক পরিবর্তনের প্রক্রিয়ায় এর ভেতরের দরজা, যা 'বাব আল-তাওবা' (অনুশোচনার দরজা) নামে পরিচিত এবং কাবার ছাদের দিকে যাওয়ার পথ নির্দেশ করে—তা ঢেকে দেওয়ার জন্য এই বিশেষ কারুকাজ করা রেশমি গিলাফটি ব্যবহার করা হতো। কাবার বাইরের বিখ্যাত কালো কিসওয়ার পাশাপাশি এর ভেতরের অংশও এমন চোখধাঁধানো ও কারুকার্যময় রেশমি পর্দা দিয়ে সজ্জিত করার ঐতিহ্য ছিল

কায়রো থেকে মক্কার পথে 'মাহমাল' শোভাযাত্রা

ইতিহাস অনুযায়ী, প্রতি বছর কাবার জন্য এসব অলঙ্কৃত গিলাফ মিসরের কায়রোতে তৈরি করে বিশেষ পালকিতে (যাকে ‘মাহমাল’ বলা হতো) রাখা হতো। মক্কাগামী হজযাত্রী ও কাফেলার একেবারে সামনের সারিতে করে পূর্ণ মর্যাদায় এসব উপহার মক্কায় নিয়ে আসা হতো

১২ ৩৩ হিজরিতে (১৮১৭ খ্রিস্টাব্দ) উসমানীয় গভর্নর মুহাম্মদ আলী পাশা কায়রোতে কাবার পর্দা তৈরির জন্য বিশেষ কারখানা ‘দার আল-কিসওয়া’ প্রতিষ্ঠা করেন, যেখানে কেবল এই পবিত্র বস্ত্রগুলোই বুনন করা হতো

কিসওয়ার বুনন ও টেক্সট বিশদ

কালো, লাল ও সবুজ রেশমের ওপর উজ্জ্বল সোনালী সুতোর নিখুঁত এমব্রয়ডারি দিয়ে সাজানো হয়েছে এই ঐতিহাসিক কিসওয়াটি। এতে খোদাই করা রয়েছে পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশ:

  • কুরআনের বাণী: লাল পটভূমির ওপর লেখা রয়েছে সূরা আল-শূরার ২৫ নম্বর আয়াতের আল্লাহর অশেষ করুণা সংক্রান্ত অংশ

  • আয়াতুল কুরসি: নিচের আয়তক্ষেত্রাকার অংশে খোদাই করা আছে সম্পূর্ণ আয়াতুল কুরসি (সূরা আল-বাকারা: ২৫৫)

  • শাহাদাত ও দোয়া: এর মাঝে গোলাকার বৃত্তে খোদাই করা আছে কালেমা শাহাদাত এবং মহানবী (সা.)-এর প্রতি দুরুদ ও দোয়া

সুলতান আব্দুল হামিদের আমলের নিদর্শন

গিলাফটির একেবারে নিচের দিকে বৃত্তাকার সবুজ প্যানেলে খোদাই করা রয়েছে অটোমান বা উসমানীয় সুলতান আব্দুল হামিদের রাজকীয় মোহর 'তুগরা'

তুগরার ভেতরের লেখা অনুযায়ী, এই বস্ত্রটি অটোমান সুলতান দ্বিতীয় আব্দুল হামিদের (শাসনকাল: ১২৯৩-১৩২৭ হিজরি / ১৮৭৬-১৯০৯ খ্রিস্টাব্দ) নির্দেশে তৈরি করা হয়েছিল এবং এর সময়কাল ছিল ১৩২১ হিজরি (১৯০৩-১৯০৪ খ্রিস্টাব্দ)। ইসলামী শিল্পকলা ও পবিত্র কাবার ইতিহাসের অনন্য এক স্মারক হিসেবে কাতার মিউজিয়াম অব ইসলামিক আর্টে সংরক্ষিত এই ঐতিহাসিক কিসওয়াটি বিশ্বজুড়ে দর্শনার্থী ও গবেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে

কাতারে লাইসেন্সবিহীন ওষুধ বিক্রিতে কঠোর ব্যবস্থা

প্রকাশ: শনিবার, আগস্ট ০১, ২০২৬
কাতারে লাইসেন্সবিহীন ওষুধ বিক্রিতে কঠোর ব্যবস্থা

কাতারে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ ও অঘোষিত রাসায়নিক উপাদান থাকায় লাইসেন্সবিহীন ওজন কমানোর পণ্য কেনাবেচা এবং সেবনের বিরুদ্ধে কড়া সতর্কতা জারি করেছে দেশটির জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় (MOPH)। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বহুল প্রচারিত ‘ইটলেস - ন্যাচারাল স্লিমিং ফর্মুলা’ (Eatless - Natural Slimming Formula) নামক একটি ভুয়া পণ্যের বিষয়ে এই জরুরি হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ‘সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক’ হিসেবে দাবি করা এই স্লিমিং পণ্যটি কাতার রাষ্ট্রে বিক্রির জন্য কোনোভাবেই অনুমোদিত বা লাইসেন্সপ্রাপ্ত নয়। ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় দেখা গেছে, এতে ‘সিবিউট্রামিন’ (Sibutramine) ও ‘ফেনলফথালিন’ (Phenolphthalein) নামক দুটি ক্ষতিকর অঘোষিত রাসায়নিক উপাদান রয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকি।

জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাতার সরকারের বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট সংস্থার সহায়তায় এসব অবৈধ পণ্যের প্রচার ও বিক্রির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে কঠোর আইনি ও নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু হয়েছে।

কেন বিপজ্জনক এই উপাদানগুলো?

ল্যাব পরীক্ষায় পাওয়া বিষাক্ত উপাদান দুটি মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর:

  • সিবিউট্রামিন (Sibutramine): মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে ২০১০ সালেই এই উপাদানটিকে বিশ্বব্যাপী নিষিদ্ধ ও বাজার থেকে প্রত্যাহার করা হয়। এটি সেবনে রক্তচাপ এবং হৃদস্পন্দন অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। ফলে যাদের হৃদরোগ, হার্ট ফেইলিওর বা স্ট্রোকের ঝুঁকি রয়েছে, তাদের জন্য এটি প্রাণঘাতী হতে পারে।

  • ফেনলফথ্যালিন (Phenolphthalein): এটি বর্তমানে চিকিৎসাবিজ্ঞানে অনুমোদিত কোনো ওষুধের উপাদান নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, শরীরে এই রাসায়নিক যৌগটি প্রবেশ করলে ক্যানসারের (Cancer) ঝুঁকি বহুলাংশে বেড়ে যায়।

সোশ্যাল মিডিয়ায় "১০০% ভেষজ", "সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক" কিংবা "কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই"—এমন চটকদার ও ভুয়া বিজ্ঞাপনে বিভ্রান্ত না হতে অনুরোধ জানিয়েছে জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

লাইসেন্সবিহীন বা অনাকাঙ্ক্ষিত যেকোনো অনলাইন পেজ ও অবৈধ উৎস থেকে এ ধরনের স্লিমিং প্রোডাক্ট ক্রয় ও সেবন করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকার তাগিদ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

দোহার ইসলামিক আর্ট মিউজিয়ামে বিরল হজ-দলিলসহ ঐতিহাসিক শিল্পকর্মের প্রদর্শনী

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুলাই ৩০, ২০২৬
দোহার ইসলামিক আর্ট মিউজিয়ামে বিরল হজ-দলিলসহ ঐতিহাসিক শিল্পকর্মের প্রদর্শনী
মিউজিয়াম অব ইসলামিক আর্ট বা এমআইএ-তে দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে কাজ করছেন ডক্টর মৌনিয়া আবুদায়া।

গত ১৪০০ বছরের বেশি সময় ধরে তিন মহাদেশজুড়ে বিস্তার লাভ করা ইসলামী শিল্পকলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে বিশ্ববাসীর সামনে নতুন করে তুলে ধরছে দোহার ‘মিউজিয়াম অব ইসলামিক আর্ট’ (এমআইএ)। কাতার মিউজিয়ামসের বছরব্যাপী সাংস্কৃতিক উদ্যোগ ‘কাতার ক্রিয়েটস’-এর বিশেষ সিরিজ ‘ইভোলিউশন নেশন’-এ এই দীর্ঘ ইতিহাসকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

জাদুঘরের উপ-পরিচালক ড. মুনিয়া আবুদায়া জানান, কৃত্রিম সীমানা মানুষকে আলাদা করলেও এই প্রদর্শনী ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে ইসলামী বিশ্বের মধ্যকার গভীর ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা মনে করিয়ে দেয়।

পঞ্চদশ শতাব্দীর দুর্লভ 'হজ-দলিল'
এমআইএ-এর বিরল সংগ্রহের মধ্যে অন্যতম হলো ১৫ শতকের একটি বিশেষ ‘হজ-সংক্রান্ত স্ক্রোল’।

এই ঐতিহাসিক দলিলের বিশেষত্ব হলো:

বিরল দলিল: পঞ্চদশ শতাব্দীতে খুব কমসংখ্যক হজ-সংক্রান্ত স্ক্রোল তৈরি হয়েছিল, যার একটি সংরক্ষিত রয়েছে এই জাদুঘরে।

হজযাত্রীর লিখিত ইতিহাস: সাইয়্যেদ ইউসুফ বিন সাইয়্যেদ শিহাব আল-দিন নামের এক ব্যক্তির উমরাহ ও তীর্থযাত্রার আইনি সনদ এটি, যেখানে তাঁর নামসহ ৬ জন সাক্ষীর সাক্ষর রয়েছে।

মানচিত্র ও ক্যালিগ্রাফি: এই স্ক্রোলে মক্কা, মদিনা ও অন্যান্য পবিত্র স্থানের মানচিত্রের পাশাপাশি কুরআনের আয়াত এবং আরবি ও ফারসি ক্যালিগ্রাফি আঁকা রয়েছে।

শিল্পের মাধ্যমে নিজেদের ইতিহাস পুনরুদ্ধার
ড. আবুদায়ার মতে, মধ্যপ্রাচ্য ও ইসলাম নিয়ে বৈশ্বিক অঙ্গনে প্রচলিত নানা ভুল ধারণা দূর করতে এই প্রদর্শনী বড় ভূমিকা রাখছে। শিল্প ও সংস্কৃতির মাধ্যমে কাতার তার নিজস্ব ইতিহাস ও বৈশ্বিক ইসলামী ঐতিহ্যকে ইতিবাচকভাবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরছে।

জাদুঘরের ৫০ বছর পূর্তিতে বিশেষ উদ্যোগ
১৯৭৫ সালে গঠিত মূল ‘কাতার জাতীয় জাদুঘর’-এর ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই ‘ইভোলিউশন নেশন’ সিরিজটি চালু করা হয়।

কাতার ক্রিয়েটস: সাহিত্য, শিল্প, ফ্যাশন, চলচ্চিত্র ও খেলাধুলার মাধ্যমে কাতারকে বৈশ্বিক সংস্কৃতির কেন্দ্র হিসেবে তুলে ধরতে কাজ করছে কাতার মিউজিয়ামসের এই উদ্যোগ।

অনলাইনে ডিজিটাল প্রচার: এই সিরিজের বিশেষ পর্বগুলো 'কাতার ক্রিয়েটস'-এর অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেল ও কাতার মিউজিয়ামসের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে দেখা যাচ্ছে, যেখানে কাতারের সৃজনশীল যাত্রার পেছনের ব্যক্তিত্বদের গল্প তুলে ধরা হয়েছে।

ইসলামী শিল্প জাদুঘরের এই বিশাল সংগ্রহ কাতারকে আধুনিক একটি রাষ্ট্রের পাশাপাশি বৈশ্বিক শিল্প ও সংস্কৃতির প্রধান কেন্দ্র হিসেবে বিশ্বের কাছে উপস্থাপন করছে।

সমুদ্রপথে তামাক ও নিষিদ্ধ সিগারেটে চোরাচালান নস্যাৎ করল কাতার কাস্টমস

প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুলাই ২৮, ২০২৬
সমুদ্রপথে তামাক ও নিষিদ্ধ সিগারেটে চোরাচালান নস্যাৎ করল কাতার কাস্টমস

একটি বাণিজ্যিক জাহাজের গোপন কুঠুরিতে লুকিয়ে রাখা ১,৬৫০ কেজি চিবানোর তামাক (Chewing Tobacco) এবং ২২,০০৫ প্যাকেট অবৈধ ও নিষিদ্ধ সিগারেট পাচারের এক বড় প্রচেষ্টা নস্যাৎ করে দিয়েছে কাতারের জেনারেল অথরিটি অফ কাস্টমস (GAC)। সমুদ্রপথে দেশে আসা উক্ত জাহাজে অভিযান চালিয়ে শুল্ক কর্মকর্তারা এই বিশাল চালান আটক করেন।

কাতার কাস্টমস নিশ্চিত করেছে যে, দেশের প্রচলিত শুল্ক আইন অমান্য করে এবং নির্ধারিত ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়ার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে পণ্যগুলো জাহাজের ভেতরের গোপন স্থানে তৈরি কুঠুরিতে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।

কাস্টমসের কঠোর হুঁশিয়ারি ও তদারকি

অভিযান শেষে জেনারেল অথরিটি অফ কাস্টমসের কর্মকর্তা ও তদারকি দল জানান যে, দেশের জাতীয় ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা সুসংহত রাখতে সীমান্ত এলাকায় সার্বক্ষণিক সতর্ক অবস্থানে রয়েছে শুল্ক পরিদর্শকরা।

অভিযানের মূল দিকসমূহ:

  • পণ্যের বিবরণ: ১,৬৫০ কিলোগ্রাম চিবানোর তামাক এবং ২২,০০৫ প্যাকেট রাজস্ব-ফাঁকি দেওয়া ও নিষিদ্ধ সিগারেট।

  • চোরাচালানের ধরণ: বাণিজ্যিক জাহাজের সুনির্দিষ্ট ও কাঠামোগত গোপন কুঠুরি ব্যবহার।

  • নিরাপত্তা অবস্থান: কাতার শুল্ক বিভাগ পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, সীমান্তে অত্যাধুনিক স্ক্যানিং প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ব্যবহারে যেকোনো উপায়ে বেআইনি পণ্য প্রবেশ ঠেকানো হবে।

অবৈধ অনুপ্রবেশ ও চোরাচালানের মতো অনৈতিক ও অপরাধমূলক কাজ রুখে দিতে দেশের প্রতিটি সমুদ্র, আকাশ ও স্থলবন্দরে তল্লাশি ও তদারকি ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে কর্তৃপক্ষ।

কাতার এয়ারওয়েজের বিশেষ অফার: ফ্লাইটে মিলবে ২৫% পর্যন্ত ছাড়

প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুলাই ২৮, ২০২৬

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়ানো টিকিটের ভাড়া সম্পর্কিত বিভ্রান্তি দূর করতে কাতারে অবস্থানরত গ্রাহকদের জন্য বড় ছাড়ের নতুন প্রচারণামূলক অফার স্পষ্ট ও নিশ্চিত করেছে কাতার এয়ারওয়েজ।

রাষ্ট্রীয় এই বিমান সংস্থাটি তাদের অফিসিয়াল চ্যানেলের মাধ্যমে বুকিংয়ের ক্ষেত্রে কেবিনভেদে ২০% থেকে ২৫% পর্যন্ত বিশেষ মূল্যছাড়ের ঘোষণা দিয়েছে।

এয়ারলাইনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বুকিং করলে যাত্রীরা ভাড়া ও পয়েন্টে বড় ধরনের ছাড় ও সুবিধা পাবেন।

কাতারে থাকা গ্রাহকরা এয়ারলাইনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, সেলস অফিস কিংবা অনুমোদিত ট্রাভেল এজেন্টের মাধ্যমে এই ছাড়ের সুবিধা নিতে পারবেন।

যেসব অফার থাকছে
চলমান এই বিশেষ ক্যাম্পেইনে গ্রাহকদের জন্য যেসব সুযোগ-সুবিধা রাখা হয়েছে:

ইকোনমি ক্লাস: ইকোনমি কেবিনের টিকিটে মিলবে ২৫% পর্যন্ত ছাড়।

প্রিমিয়াম কেবিন: বিজনেস ও প্রিমিয়াম কেবিনের ক্ষেত্রে পাওয়া যাবে ২০% পর্যন্ত ছাড়।

বোনাস পয়েন্ট: প্রিভিলেজ ক্লাব মেম্বাররা প্রতিটি টিকিটে ৫০% অতিরিক্ত বোনাস 'অ্যাভিওস' (Avios) পয়েন্ট পাবেন।

বুকিং ও ভ্রমণের সময়সীমা
এই ছাড়ের সুবিধা পেতে হলে আগামী ৩০ জুলাই ২০২৬-এর মধ্যে টিকিট বুকিং সম্পন্ন করতে হবে। আর এই টিকিটে ভ্রমণ করা যাবে ১০ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত।

নতুন সদস্যদের জন্য বোনাস পয়েন্ট
যারা এখনও প্রিভিলেজ ক্লাবের সদস্য হননি, তারা PCQA26 প্রোমো কোডটি ব্যবহার করে নতুন মেম্বার হিসেবে সাইন আপ করতে পারবেন। নতুন সদস্যরা তাদের প্রথম ফ্লাইটের পর সর্বোচ্চ ২,০০০ পর্যন্ত বোনাস অ্যাভিওস পয়েন্ট পাবেন।

অনাকাঙ্ক্ষিত ঝামেলা এড়াতে কোনো ধরনের বিভ্রান্তিকর খবরে কান না দিয়ে সরাসরি qatarairways.com ওয়েবসাইট, সেলস অফিস কিংবা অনুমোদিত এজেন্টের কাছ থেকে সঠিক তথ্য জেনে টিকিট কাটার পরামর্শ দিয়েছে কাতার এয়ারওয়েজ।

আগস্ট মাসজুড়ে কাতারে শুরু হচ্ছে 'হালা সামার শপিং ফেস্টিভ্যাল'

প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুলাই ২৮, ২০২৬
আগস্ট মাসজুড়ে কাতারে শুরু হচ্ছে 'হালা সামার শপিং ফেস্টিভ্যাল'

কাতারে গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে কেনাকাটা ও আড্ডার আনন্দ বাড়িয়ে দিতে মাসব্যাপী 'হালা সামার শপিং ফেস্টিভ্যাল'-এর ঘোষণা দিয়েছে ভিজিট কাতার। ‘হালা সামার’ ক্যাম্পেইনের আওতায় পুরো আগস্ট মাসজুড়ে (১ থেকে ৩১ আগস্ট) এই বিশেষ উৎসব চলবে।

এ সময় দেশটিতে থাকা প্রবাসী, স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকরা বিভিন্ন বড় বড় মল ও রেস্তোরাঁয় বিশেষ মূল্যছাড়, অফার এবং আকর্ষণীয় সব সেট মেন্যুর সুবিধা পাবেন।

যেসব মলে মিলবে অফার

কাতারের প্রায় সব বড় শপিং মল এবং 'টেস্ট অব কাতার'-এর নিবন্ধিত নামিদামি রেস্তোরাঁগুলো এই উৎসবে অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

  • প্লেস ভেন্ডোম, দোহা ফেস্টিভ্যাল সিটি ও মল অব কাতার।

  • ভিলাজিও মল, সিটি সেন্টার, ল্যান্ডমার্ক ও দোহা মল।

  • ওয়েস্ট ওয়াক, গেওয়ান, হায়াত প্লাজা এবং আল হাজম।

২০০ রিয়াল খরচ করলেই গাড়ি জেতার সুযোগ

উৎসব চলাকালে এসব নির্দিষ্ট স্থান থেকে সর্বনিম্ন ২০০ কাতারি রিয়াল কেনাকাটা বা খাওয়া-দাওয়া করলেই মিলবে র‍্যাফেল ড্রয়ের কুপন।

  • কুপন সংগ্রহের উপায়: কেনাকাটার রসিদে বিশেষ স্ট্যাম্প লাগিয়ে মলের নির্দিষ্ট 'রিডেম্পশন বুথ' থেকে কুপন নেওয়া যাবে।

  • সাপ্তাহিক ড্র: আগস্টজুড়ে প্রতি সপ্তাহে আলাদা ৪টি মলে (দোহা ফেস্টিভ্যাল সিটি, মল অব কাতার, প্লেস ভেন্ডোম ও ভিলাজিও) বড় ড্র অনুষ্ঠিত হবে।

  • মূল পুরস্কার: বিজয়ী ভাগ্যশালীদের জন্য ৫টি একদম নতুন ব্র্যান্ড নিউ গাড়িসহ থাকছে অসংখ্য আকর্ষণীয় উপহার।

শিশুদের জন্য বিনোদন

কেনাকাটার পাশাপাশি পরিবারের ছোটদের জন্য রাখা হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। কেনাকাটা করার সময় অভিভাবকরা যেন নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন, সেজন্য মলে মলে শিশুদের জন্য থাকবে বিনামূল্যে খেলার ব্যবস্থা, লাইভ পারফর্মেন্স ও বিভিন্ন মজার খেলাধুলা।

ভিজিট কাতারের এই বিশাল আয়োজন সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত চলতে থাকা 'হালা সামার' উৎসবের অংশ, যা গ্রীষ্মকালীন পর্যটন ও কেনাকাটায় কাতারকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে।

অংশগ্রহণকারী মল ও রেস্তোরাঁর বিস্তারিত তালিকা