৪ আগস্ট ২০২৬

তিন বছরের বন্দিদশা থেকে তাহলে মুক্তি পাচ্ছেন ইমরান খান

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ০৩, ২০২৬
তিন বছরের বন্দিদশা থেকে তাহলে মুক্তি পাচ্ছেন ইমরান খান

২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে বন্দী ইমরান খান। তখন থেকে অনেকটা লোকচক্ষুর আড়ালেই পাকিস্তানের ১৯৯২ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক। এবার তাঁর কারামুক্তির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে ইংল্যান্ডের এক সংবাদমাধ্যমে।

সামরিক বাহিনীর সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে ইমরান ২০২৩ সালে দুর্নীতির মামলায় কারাবন্দী হয়েছেন। তাঁর বন্দিদশা ও সম্ভাব্য মুক্তির বিষয়টি এতটাই সংবেদনশীল যে সরাসরি কোনো আলোচনা হচ্ছে না। তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা হচ্ছে বলে একটি সূত্র ‘দ্য অবজারভারের’ প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে। ইংল্যান্ডের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী পাকিস্তানকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হলে এই রাজনৈতিক অচলাবস্থার শেষ হওয়া অতীব জরুরি।

কারাগারে মরলেও নীতির ব্যাপারে আপস করবেন না ইমরান খানকারাগারে মরলেও নীতির ব্যাপারে আপস করবেন না ইমরান খান

ইমরানের ব্যাপারে মাঝে তো মৃত্যুর গুজবও ছড়িয়ে পড়ে। ‘দ্য অবজারভার’কে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে পাকিস্তানি কিংবদন্তির দুই ছেলে সুলাইমান ও কাসিম খান বলেন, ‘বাবাকে সাত মাসের বেশি সময় ধরে একঘরে করে রাখা হয়েছে। এই দীর্ঘ কারাবাসে তাঁর স্বাস্থ্য ভেঙে পড়েছে বলে আমাদের আশঙ্কা। স্বাধীনভাবে কথা বলা তো দূরে থাক, নিয়মিত যোগাযোগের সুযোগও হচ্ছে না।’

ইমরান খানের স্বাস্থ্যগত ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দ জুলফি বুখারি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য অবজারভার’কে তিনি বলেন, ‘তাঁকে (ইমরান) সম্পূর্ণ নির্জন কারাবাসে রাখা হয়েছে। বোন, পরিবারের সদস্য কিংবা আইনজীবীদের সঙ্গেও দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। তাঁর স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটছে। জরুরি ভিত্তিতে উপযুক্ত চিকিৎসা প্রয়োজন। সরকারের মধ্যে ন্যূনতম দায়িত্ববোধ থাকলে স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া উচিত।’

পাকিস্তানের উত্তরে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারের এক নির্জন কক্ষে বন্দী ‘কয়েদি নম্বর ৮০৪’ ব্যক্তিই ইমরান খান। তাঁর নেতৃত্বেই ১৯৯২ ওয়ানডে বিশ্বকাপ জেতে পাকিস্তান। মাঠের পাকিস্তানের ক্রিকেটেও গড়েছেন অসংখ্য রেকর্ড। এ বছরের ফেব্রুয়ারি সুনীল গাভাস্কার, কপিল দেব, মাইক আথারটনসহ কিংবদন্তিরা তাঁর স্বাস্থ্যের অবনতিতে উদ্বেগ জানিয়ে পাকিস্তান সরকারকে একটি দীর্ঘ চিঠি দিয়েছিলেন। ২০১৮ থেকে ২০২২ পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ইমরান খান।

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে আত্মঘাতী বোমা হামলা: পুলিশসহ নিহত ১৪

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ০৩, ২০২৬
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে আত্মঘাতী বোমা হামলা: পুলিশসহ নিহত ১৪

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের সোয়াত উপত্যকার কাবাল থানায় এক ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা হামলায় পুলিশ কর্মকর্তাসহ অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৮ জন।

রবিবার (২ আগস্ট) সোয়াত পুলিশের মুখপাত্র নাসির ইকবাল কারিমি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ডন-কে নিহতের এই সংখ্যা নিশ্চিত করেছেন।

মালাকান্দ বিভাগের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (ডিআইজি) অফ পুলিশ ফিদা হুসাইন জানান, নিহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। এছাড়া হামলাকারী হিসেবে সন্দেহভাজন এক ব্যক্তির মরদেহও উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন

সোয়াত জেলার পুলিশ অফিসার (ডিপিও) উমর খান জানান, আত্মঘাতী হামলাকারী প্রবেশদ্বার দিয়ে থানায় ঢোকার চেষ্টা করলে পুলিশ সদস্যরা তাকে থামান এবং তল্লাশি করতে যান। ঠিক তখনই সে শরীরে থাকা বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। ঘটনার পরপরই নিরাপত্তা বাহিনী পুরো এলাকা কর্ডন করে ঘিরে ফেলেছে এবং আলামত সংগ্রহে তদন্ত শুরু হয়েছে।

দুর্ঘটনার সময় কাবাল থানার কাছেই ‘কাবাল চক’-এ সোয়াত উপত্যকায় সাম্প্রতিক সহিংসতা ও সন্ত্রাসবাদের পুনরুত্থানের বিরুদ্ধে শত শত মানুষ একটি প্রতিবাদ সমাবেশে অংশ নিচ্ছিলেন। সমাবেশের শেষ বক্তার বক্তব্য চলাকালীন এই বিকট বিস্ফোরণ ঘটে, যার ফলে উপস্থিত সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

রেসকিউ ১১২২-এর মুখপাত্র বিলাল আহমেদ ফৈজি জানিয়েছেন, ৯ জন ভিকটিমের মরদেহ সাইদু শরীফ সেন্ট্রাল হাসপাতালে এবং ৫ জনের মরদেহ কাবাল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এই আত্মঘাতী হামলার দায় স্বীকার করেনি।

এ ঘটনায় গভীর শোক ও নিন্দা প্রকাশ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি, খাইবার পাখতুনখাওয়ার গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্দি এবং মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি। তারা ঘটনাটির তদন্ত নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসার আশ্বাস দিয়েছেন।

তিন বছরের বন্দিদশা থেকে তাহলে মুক্তি পাচ্ছেন ইমরান খান

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ০৩, ২০২৬
তিন বছরের বন্দিদশা থেকে তাহলে মুক্তি পাচ্ছেন ইমরান খান

২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে বন্দী ইমরান খান। তখন থেকে অনেকটা লোকচক্ষুর আড়ালেই পাকিস্তানের ১৯৯২ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক। এবার তাঁর কারামুক্তির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে ইংল্যান্ডের এক সংবাদমাধ্যমে।

সামরিক বাহিনীর সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে ইমরান ২০২৩ সালে দুর্নীতির মামলায় কারাবন্দী হয়েছেন। তাঁর বন্দিদশা ও সম্ভাব্য মুক্তির বিষয়টি এতটাই সংবেদনশীল যে সরাসরি কোনো আলোচনা হচ্ছে না। তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা হচ্ছে বলে একটি সূত্র ‘দ্য অবজারভারের’ প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে। ইংল্যান্ডের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী পাকিস্তানকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হলে এই রাজনৈতিক অচলাবস্থার শেষ হওয়া অতীব জরুরি।

কারাগারে মরলেও নীতির ব্যাপারে আপস করবেন না ইমরান খানকারাগারে মরলেও নীতির ব্যাপারে আপস করবেন না ইমরান খান

ইমরানের ব্যাপারে মাঝে তো মৃত্যুর গুজবও ছড়িয়ে পড়ে। ‘দ্য অবজারভার’কে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে পাকিস্তানি কিংবদন্তির দুই ছেলে সুলাইমান ও কাসিম খান বলেন, ‘বাবাকে সাত মাসের বেশি সময় ধরে একঘরে করে রাখা হয়েছে। এই দীর্ঘ কারাবাসে তাঁর স্বাস্থ্য ভেঙে পড়েছে বলে আমাদের আশঙ্কা। স্বাধীনভাবে কথা বলা তো দূরে থাক, নিয়মিত যোগাযোগের সুযোগও হচ্ছে না।’

ইমরান খানের স্বাস্থ্যগত ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দ জুলফি বুখারি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য অবজারভার’কে তিনি বলেন, ‘তাঁকে (ইমরান) সম্পূর্ণ নির্জন কারাবাসে রাখা হয়েছে। বোন, পরিবারের সদস্য কিংবা আইনজীবীদের সঙ্গেও দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। তাঁর স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটছে। জরুরি ভিত্তিতে উপযুক্ত চিকিৎসা প্রয়োজন। সরকারের মধ্যে ন্যূনতম দায়িত্ববোধ থাকলে স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া উচিত।’

পাকিস্তানের উত্তরে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারের এক নির্জন কক্ষে বন্দী ‘কয়েদি নম্বর ৮০৪’ ব্যক্তিই ইমরান খান। তাঁর নেতৃত্বেই ১৯৯২ ওয়ানডে বিশ্বকাপ জেতে পাকিস্তান। মাঠের পাকিস্তানের ক্রিকেটেও গড়েছেন অসংখ্য রেকর্ড। এ বছরের ফেব্রুয়ারি সুনীল গাভাস্কার, কপিল দেব, মাইক আথারটনসহ কিংবদন্তিরা তাঁর স্বাস্থ্যের অবনতিতে উদ্বেগ জানিয়ে পাকিস্তান সরকারকে একটি দীর্ঘ চিঠি দিয়েছিলেন। ২০১৮ থেকে ২০২২ পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ইমরান খান।

পাকিস্তানে বিশ্বখ্যাত পর্বতারোহীর মৃত্যু, মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ০৩, ২০২৬
পাকিস্তানে বিশ্বখ্যাত পর্বতারোহীর মৃত্যু, মরদেহ উদ্ধার

উত্তর পাকিস্তানের বিশ্বের অন্যতম উচ্চতম শৃঙ্গ ‘ব্রড পিক’-এ তুষারধসের কবলে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন প্রখ্যাত পর্বতারোহী নির্মল পুরজা এবং তাঁর টিমের ৯ জন সদস্য। কয়েক দিনের ধারাবাহিক অনুসন্ধানের পর রোববার (২ আগস্ট) তাঁর মরদেহ উদ্ধার করেছে উদ্ধারকারী দল। আলপাইন ক্লাব অব পাকিস্তান এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার শক্তিশালী হিমধসটি আঘাত হানলে ৪৩ বছর বয়সী ব্রিটিশ-নেপালি পর্বতারোহী নির্মল পুরজার নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অভিযাত্রী দলটি সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আলপাইন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আয়াজ শিগরি জানান, উদ্ধারকারীরা প্রায় ৫,৭০০ মিটার উচ্চতায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছিলেন। সেখান থেকে নির্মল পুরজা, আরও দুজন নেপালি এবং একজন চীনা নাগরিক—এই চারজনের মরদেহ নিচে নামিয়ে আনা হচ্ছে।

সংস্থাটি আরও জানায়, অনেক উঁচুতে আরও একটি মৃতদেহের সন্ধান পাওয়া গেলেও দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান এবং চরম প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সেটি এখন উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না। এর আগে শুক্রবার ওমানের এক নারী, এক নেপালি পুরুষ এবং এক আমেরিকান নারীর মরদেহ উদ্ধার করে স্কার্দু শহরে পাঠিয়েছিল আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষ। শনিবার পুরজার এক্সপেডিশন কোম্পানি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করে, এই দুর্ঘটনায় দলের কোনো সদস্যই জীবিত নেই।

এই নির্মম ট্র্যাজেডি আন্তর্জাতিক পর্বতারোহী সম্প্রদায়ে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে। ব্রিটেনের প্রিন্স উইলিয়াম এক্স মাধ্যমে গভীর শোক প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘তিনি (নির্মল পুরজা) ব্রিটিশ সশস্ত্র বাহিনীতে অসাধারণ সেবা দেওয়ার পর বিশ্বের অন্যতম সেরা পর্বতারোহী হয়ে উঠেছিলেন এবং নেপালি পর্বতারোহীদের বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।’

উল্লেখ্য, পুরজা ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর ঐতিহ্যবাহী গোর্খা ব্রিগেড এবং পরবর্তীতে রয়্যাল মেরিনসের স্পেশাল বোট স্কোয়াড্রনে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এর পর তিনি পূর্ণকালীন পর্বতারোহী হিসেবে একাধিক বিশ্বরেকর্ড গড়েন। মৃত্যুর কয়েক দিন আগে তিনি এক বার্তায় লিখেছিলেন, তিনি বিশ্বের ১৪টি ‘সুপার পিক’ বা ৮,০০০ মিটারের উঁচু সব শৃঙ্গ দ্বিতীয়বারের মতো অক্সিজেন ছাড়া জয় করার খুব কাছাকাছি রয়েছেন। পাকিস্তানের ‘ব্রড পিক’ নিয়ে তিনি লিখেছিলেন, ‘আমি শুধু নিরাপদে ওপরে ওঠা আর ফিরে আসার পথটুকু চাই।’

পাকিস্তানের কারাকোরাম পর্বতমালায় অবস্থিত ব্রড পিক হলো বিশ্বের ১২ তম উচ্চতম পর্বত (৮,০০০ মিটারের বেশি)। এটি অন্যতম কঠিন পর্বতারোহণের স্থান হিসেবে বিবেচিত।

স্যুটকেসে ব্রিটিশ নারীর মরদেহ, গ্রিসে আফগান যুবক আটক

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ০৩, ২০২৬
স্যুটকেসে ব্রিটিশ নারীর মরদেহ, গ্রিসে আফগান যুবক আটক
‘লিসা’ নামেও পরিচিত ছিলেন নিহত এলিজাবেথ জেন রস। ছবি: সংগৃহীত

গ্রিসের রাজধানী এথেন্সে স্যুটকেসের ভেতর থেকে এক ব্রিটিশ নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ২৬ বছর বয়সী এক আফগান নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে ওই যুবক হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি ও অস্ত্র আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

রোববার (২ আগস্ট) ডেইলি মেইল জানিয়েছে, নিহত নারীর নাম এলিজাবেথ জেন রস। ৩৮ বছর বয়সী এই নারী ‘লিসা’ নামেও পরিচিত ছিলেন। গত ১৮ জুলাই এথেন্সের কিপসেলি এলাকায় একটি পরিত্যক্ত গাড়ি পার্কিংয়ের স্থান থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এক গৃহহীন ব্যক্তি সেখানে একটি স্যুটকেস দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দিলে মরদেহের সন্ধান মেলে।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া ২৬ বছর বয়সী আফগান যুবকের সঙ্গে লিসার পরিচয় হয়েছিল শরণার্থী ও গৃহহীন মানুষের সহায়তায় তাঁর স্বেচ্ছাসেবী কাজের সূত্রে। পুলিশের তদন্তে জানা যায়, লিসার ব্যাংক কার্ড ব্যবহার করে ওই যুবক টাকা তুলেছিলেন। এই সূত্র ধরেই তাঁর গতিবিধি শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

তদন্তকারীরা আরও জানান, স্যুটকেসে ওই যুবকের আঙুলের ছাপ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি সিসিটিভি ফুটেজে তাঁকে স্যুটকেসটি বহন করে পরিত্যক্ত গাড়ি পার্কিংয়ের স্থানে নিয়ে যেতে দেখা যায়। গত ৩০ জুলাই তাঁকে এথেন্সের একটি ঠিকানা থেকে আটক করা হয়। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন বলে জানানো হয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যার পর লিসার মরদেহ স্যুটকেসে ভরে নির্জন স্থানে নিয়ে যান ওই যুবক। পরে তাঁর ব্যাংক কার্ড ব্যবহার করে নগদ অর্থ তোলেন। গ্রেপ্তার যুবকের বাসায় তল্লাশি চালিয়ে একটি খেলনা বা নকল পিস্তল এবং একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।

লিসা ছিলেন ধর্মপ্রাণ খ্রিষ্টান এবং গত সাত বছর ধরে নিয়মিত গ্রিসে যাতায়াত করতেন। শরণার্থী ও বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সহায়তায় কাজ করা সংগঠনগুলোর সঙ্গে তিনি স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে যুক্ত ছিলেন। গ্রিসে ‘ওয়ান হার্ট’ নামের একটি সংগঠনের সঙ্গেও তিনি কাজ করতেন, যারা বিশেষ করে আফগানিস্তান ও ইরান থেকে আসা শরণার্থীদের চিকিৎসা সহায়তা দিয়ে থাকে।

গত ২৬ জুন লিসা এথেন্সে পৌঁছান এবং কেরাতসিনি এলাকায় গ্রিক বন্ধুদের সঙ্গে থাকছিলেন। গত ১৫ জুলাই তিনি জানিয়েছিলেন, কিপসেলিতে পরিচিত কয়েকজন মার্কিন বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন। এর প্রায় ৭২ ঘণ্টা পর তাঁর মরদেহ উদ্ধার হয়।

তদন্তকারীরা সন্দেহ করেছিলেন, স্বেচ্ছাসেবী কাজের সূত্রে পরিচিত কারও হাতেই লিসা খুন হয়ে থাকতে পারেন। তাঁর মৃত্যুর পরও কেউ তাঁর ফোন থেকে পরিবার ও পরিচিতদের বার্তা পাঠিয়ে তাঁকে জীবিত দেখানোর চেষ্টা করেছে বলেও তদন্তে উঠে এসেছে। তাঁর বাবাকে ১৫ থেকে ২৯ জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন বার্তা পাঠানো হয়। পরে ফোনটি বন্ধ হয়ে যায়।

সমঝোতার শর্তে ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত বাতিল করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

সূত্র: আল-জাজিরা
প্রকাশ: রবিবার, আগস্ট ০২, ২০২৬
সমঝোতার শর্তে ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত বাতিল করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরানে হামলার পরিকল্পনা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, দ্রুত একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর শর্তে তিনি ইরানের ওপর পরিকল্পিত সামরিক হামলা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান ট্রাম্প।

পোস্টে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর নজিরবিহীন মাত্রার সামরিক শক্তি প্রয়োগের জন্য প্রস্তুত ছিল।

তবে তিনি বলেন, ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে হামলা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছে, কারণ একটি সম্ভাব্য চুক্তির মৌলিক কাঠামো বা রূপরেখা নিয়ে সমঝোতা হয়েছে। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, সম্ভাব্য ওই চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত রাখা হবে এবং ইরানের পারমাণবিক হুমকির অবসান ঘটানো হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বের কল্যাণ এবং একটি সফল ও সমৃদ্ধ ইরানের স্বার্থে আমি হামলা বাতিল করতে সম্মত হয়েছি, তবে শর্ত হলো দ্রুত একটি চুক্তি সম্পন্ন হতে হবে।’

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইসরাইলও এই সিদ্ধান্তে তার সঙ্গে একমত হয়েছে। পোস্টে শেষে তিনি বলেন, ‘সবাই কাজে নেমে পড়ুন এবং দ্রুত চুক্তিটি সম্পন্ন করুন। ধন্যবাদ।’

তবে ট্রাম্পের এই দাবির বিষয়ে ইরান বা ইসরাইলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।