৪ আগস্ট ২০২৬

ইরানের সঙ্গে নতুন করে শুরু হবে আলোচনা: ট্রাম্প

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ০৩, ২০২৬
ইরানের সঙ্গে নতুন করে শুরু হবে আলোচনা: ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর আগে তিনি দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে যে ‘বড় ধরনের’ হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তা তিনি স্থগিত করেছেন।

রোববার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘হামলার ব্যাপকতা সম্পর্কে তাদের ধারণা ছিল, কারণ তারা দেখেছিল যে প্রস্তুতি চলছিল। আমরা আলোচনার মাধ্যমেই তাদের সঙ্গে কথা বলছি। আগামীকাল বিকেল থেকে তা শুরু হবে।’

এর আগে ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, একটি চুক্তির ‘রূপরেখা’ বা মৌলিক কাঠামো তৈরিতে রাজি হওয়ায় ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা তাঁকে হামলা থেকে ‘বিরত থাকতে’ অনুরোধ করেছে।

ট্রাম্পের এসব বক্তব্যের বিষয়ে ইরান অবশ্য এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারবার দাবি করে আসছেন, আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধের অবসান খুবই কাছাকাছি। তবে প্রতিবারই এরপর উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা আবার শুরু হয়েছে।

এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প তেহরানের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্নের কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, ‘দেখা যাক কী হয়। আমরা যখন চাই, তখনই প্রস্তুত...আমি মানুষ হত্যা করতে চাই না।’

ট্রাম্প আরও বলেন, সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদার দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতার তাঁকে সপ্তাহান্তে ইরানের ওপর হামলা না চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত ছিলাম। তারা হামলা না করতে বলেছে, কারণ তাদের ধারণা, একটি চুক্তি হতে যাচ্ছে। হরমুজ নিয়ে একটি চুক্তি হবে এবং পারমাণবিক ইস্যুতেও একটি চুক্তি হবে।’

সোমবারের আলোচনাটি কোথায় হবে কিংবা এতে কারা অংশ নেবেন, সে বিষয়ে এখনো কিছু স্পষ্ট করেননি ট্রাম্প।

এয়ার ফোর্স ওয়ানে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, পরিকল্পিত হামলাটি হলে সেটি ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় হামলা’ হতো এবং এতে কয়েক মাস ধরে চলা যুদ্ধের আলোচনার মাধ্যমে অবসানের সম্ভাবনা নষ্ট হয়ে যেতে পারত।

ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন কি না এ প্রশ্নেরও জবাব দেননি ট্রাম্প। আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন হামলা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

এর আগে ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাজিদ ইবন আল-রেজা বলেন, প্রতিপক্ষের প্রতিটি হুমকিকেই তেহরান ‘বাস্তব ও বিশ্বাসযোগ্য’ হিসেবে বিবেচনা করে, তা মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অংশ হলেও।

তিনি বলেন, ‘আমরা কখনো অপ্রস্তুত অবস্থায় ধরা পড়ব না, আবার নিষ্ক্রিয়ও থাকব না।’

এর আগেও ট্রাম্প তেহরানের উদ্দেশে ভয়াবহ পরিণতির সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তবে পরে আবার তিনি বলেছেন, কূটনীতিকে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে ট্রাম্পের এ ঘোষণার পর সোমবার এশিয়ার লেনদেনে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪ দশমিক ৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে প্রতি ব্যারেল ৮৩ দশমিক ৯৮ ডলার (৬২ দশমিক ২৬ পাউন্ড)। আর যুক্তরাষ্ট্রে লেনদেন হওয়া অপরিশোধিত তেলের দাম ৪ দশমিক ৬ শতাংশ কমে হয়েছে প্রতি ব্যারেল ৮০ দশমিক ৭৪ ডলার (৫৯ দশমিক ৮৫ পাউন্ড)।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় জ্বালানির দামে ওঠানামা করছে। বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশ সাধারণত হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়।

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে ইউক্রেন!

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ০৩, ২০২৬
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে ইউক্রেন!

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পরস্পরের ওপর সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ আপাতত স্থগিত রাখলেও সংঘাতের অবসান ঘটেনি বলে মনে করছেন সামরিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা।

সম্প্রতি কাস্পিয়ান সাগরে ইরান-সংশ্লিষ্ট একটি জাহাজে ইউক্রেনীয় হামলার পর আন্তর্জাতিক মহলে নতুন শঙ্কা তৈরি হয়েছে—তবে কি এবার ইউক্রেনও ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধের নতুন ফ্রন্টে পরিণত হচ্ছে?

গত ২৫ জুলাই কাস্পিয়ান সাগরে ইরান-সংযুক্ত একটি জাহাজে হামলার খবর প্রকাশ্যে আসে। ঘটনার পর থেকে প্রশ্ন উঠছে, ওয়াশিংটন-তেহরান সংঘাতের দ্বিতীয় ধাপে কাস্পিয়ান অঞ্চল কি নতুন যুদ্ধক্ষেত্রে রূপ নিচ্ছে? সংবাদবিশ্লেষণ

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা তুঙ্গে থাকলেও দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চমাত্রার প্রচলিত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া ওয়াশিংটনের জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল। বিশেষ করে কৌশলগত অস্ত্রের মজুদ কমে আসা এবং যুদ্ধের বিপুল ব্যয়ের কারণে যুক্তরাষ্ট্র আপাতত কৌশলগত বিরতির পথ বেছে নিয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে কাস্পিয়ান সাগরে ইউক্রেনের হামলাকে কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখছেন না বিশ্লেষকেরা। ইউক্রেন ও ইরানের মধ্যে কোনো সরাসরি স্থলসীমান্ত না থাকলেও কাস্পিয়ান সাগরে আক্রমণের ঘটনা ইঙ্গিত দিচ্ছে—ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের ইরান সংকট এবার একই সুতোয় গাঁথা হচ্ছে।

কাস্পিয়ান সাগরে হামলার পর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। একই সঙ্গে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে কঠোর পালটা পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটি।

সামরিক বিশ্লেষকদের ধারণা, ইউক্রেনের পক্ষ থেকে ইরানের ওপর এ ধরনের আক্রমণ অব্যাহত থাকলে তেহরানকে তাদের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্ত ও সমুদ্রসীমায় বাড়তি সামরিক শক্তি মোতায়েন করতে হবে। সে ক্ষেত্রে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিট, উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন বহর ও গোয়েন্দা সক্ষমতার একটি বড় অংশ উত্তর ফ্রন্টে সরিয়ে নিতে হবে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের মূল রণক্ষেত্রে তেহরানের সামরিক মনোযোগ ও একক সামর্থ্য কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের জন্য এটিই বড় কৌশলগত সুবিধা এনে দিতে পারে। তাদের মূল লক্ষ্য ইউক্রেনের মাধ্যমে ইরানকে সরাসরি পরাজিত করা নয়; বরং ইরানকে একাধিক ফ্রন্টে ব্যস্ত রাখা, যাতে দেশটি এক জায়গায় সামরিক শক্তি কেন্দ্রীভূত করতে না পারে।

এদিকে কাস্পিয়ান সাগরে ওই আক্রমণের মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ওয়াশিংটনে কূটনৈতিক ও সামরিক তৎপরতা ব্যাপক বৃদ্ধি পায়। একই দিনে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি পৃথকভাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন।

নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকে ইরানের ওপর কূটনৈতিক ও সামরিক চাপ অব্যাহত রাখার বিষয়টি জোর পায়। অন্যদিকে জেলেনস্কির সঙ্গে আলোচনায় ইউক্রেনের সামরিক প্রযুক্তি ও সক্ষমতা বাড়ানোর দিকটি প্রাধান্য পায়।

এর আগেই অবশ্য ন্যাটোর মার্কিন স্থায়ী প্রতিনিধি ম্যাথিউ হুইটেকারের সঙ্গে বৈঠকে ইউক্রেনে ‘প্যাট্রিয়ট’ আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের লাইসেন্সভিত্তিক উৎপাদন এবং ড্রোন প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা করেন জেলেনস্কি। পরে মার্কিন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ‘রেথিয়ন’-এর প্রতিনিধিদের সঙ্গেও তার একই বিষয়ে আলোচনা হয়।

বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, বিষয়টি কেবল ইউক্রেনকে অতিরিক্ত অস্ত্র দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। যুক্তরাষ্ট্র মূলত ইউক্রেনকে নিজেদের সামরিক প্রযুক্তি উৎপাদন ব্যবস্থার অংশ বানিয়ে নিতে চাচ্ছে। পাশাপাশি রাশিয়ার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের যুদ্ধে অভিজ্ঞতা অর্জন করা ইউক্রেনের উন্নত ড্রোন প্রযুক্তিকে মার্কিন সামরিক ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বিত করার প্রক্রিয়া চলছে।

রাশিয়ার সঙ্গে টানা যুদ্ধে ইউক্রেন ইতোমধ্যে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা, ছদ্মবেশী নাশকতা, গোয়েন্দা অভিযান এবং শত্রু ভূখণ্ডের গভীরে নিখুঁত আঘাত হানার সক্ষমতা বাড়িয়েছে। ইউক্রেনের পরিচালনা করা ‘অপারেশন স্পাইডার ওয়েব’-এর মতো অভিযানের সাফল্য প্রমাণ করে, হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করার অভিজ্ঞতা তাদের রয়েছে।

তাই বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ইউক্রেন ও ইরানের মধ্যে ভবিষ্যতে কোনো যুদ্ধ শুরু হলেও তা প্রচলিত স্থলযুদ্ধ বা ট্যাংক যুদ্ধের রূপ নেবে না। বরং দূরপাল্লার ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ছায়াযুদ্ধ ও গোপন গোয়েন্দা অভিযানই হবে এর মূল হাতিয়ার।

তবে এই নতুন সমীকরণ গোটা বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য চরম ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত ও মধ্যপ্রাচ্যের ইরান সংকট একীভূত হলে তা একটি অনিয়ন্ত্রিত বিশ্ব সংকটে রূপ নিতে পারে। এর ফলে কৃষ্ণসাগর, ককেশাস ও কাস্পিয়ান অঞ্চলজুড়ে নতুন রাজনৈতিক ও সামরিক মেরুকরণ তৈরি হবে, যার সরাসরি প্রভাব তুরস্কসহ পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতার ওপর পড়বে।

ইরানের সঙ্গে নতুন করে শুরু হবে আলোচনা: ট্রাম্প

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ০৩, ২০২৬
ইরানের সঙ্গে নতুন করে শুরু হবে আলোচনা: ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর আগে তিনি দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে যে ‘বড় ধরনের’ হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তা তিনি স্থগিত করেছেন।

রোববার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘হামলার ব্যাপকতা সম্পর্কে তাদের ধারণা ছিল, কারণ তারা দেখেছিল যে প্রস্তুতি চলছিল। আমরা আলোচনার মাধ্যমেই তাদের সঙ্গে কথা বলছি। আগামীকাল বিকেল থেকে তা শুরু হবে।’

এর আগে ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, একটি চুক্তির ‘রূপরেখা’ বা মৌলিক কাঠামো তৈরিতে রাজি হওয়ায় ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা তাঁকে হামলা থেকে ‘বিরত থাকতে’ অনুরোধ করেছে।

ট্রাম্পের এসব বক্তব্যের বিষয়ে ইরান অবশ্য এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারবার দাবি করে আসছেন, আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধের অবসান খুবই কাছাকাছি। তবে প্রতিবারই এরপর উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা আবার শুরু হয়েছে।

এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প তেহরানের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্নের কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, ‘দেখা যাক কী হয়। আমরা যখন চাই, তখনই প্রস্তুত...আমি মানুষ হত্যা করতে চাই না।’

ট্রাম্প আরও বলেন, সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদার দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতার তাঁকে সপ্তাহান্তে ইরানের ওপর হামলা না চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত ছিলাম। তারা হামলা না করতে বলেছে, কারণ তাদের ধারণা, একটি চুক্তি হতে যাচ্ছে। হরমুজ নিয়ে একটি চুক্তি হবে এবং পারমাণবিক ইস্যুতেও একটি চুক্তি হবে।’

সোমবারের আলোচনাটি কোথায় হবে কিংবা এতে কারা অংশ নেবেন, সে বিষয়ে এখনো কিছু স্পষ্ট করেননি ট্রাম্প।

এয়ার ফোর্স ওয়ানে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, পরিকল্পিত হামলাটি হলে সেটি ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় হামলা’ হতো এবং এতে কয়েক মাস ধরে চলা যুদ্ধের আলোচনার মাধ্যমে অবসানের সম্ভাবনা নষ্ট হয়ে যেতে পারত।

ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন কি না এ প্রশ্নেরও জবাব দেননি ট্রাম্প। আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন হামলা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

এর আগে ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাজিদ ইবন আল-রেজা বলেন, প্রতিপক্ষের প্রতিটি হুমকিকেই তেহরান ‘বাস্তব ও বিশ্বাসযোগ্য’ হিসেবে বিবেচনা করে, তা মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অংশ হলেও।

তিনি বলেন, ‘আমরা কখনো অপ্রস্তুত অবস্থায় ধরা পড়ব না, আবার নিষ্ক্রিয়ও থাকব না।’

এর আগেও ট্রাম্প তেহরানের উদ্দেশে ভয়াবহ পরিণতির সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তবে পরে আবার তিনি বলেছেন, কূটনীতিকে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে ট্রাম্পের এ ঘোষণার পর সোমবার এশিয়ার লেনদেনে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪ দশমিক ৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে প্রতি ব্যারেল ৮৩ দশমিক ৯৮ ডলার (৬২ দশমিক ২৬ পাউন্ড)। আর যুক্তরাষ্ট্রে লেনদেন হওয়া অপরিশোধিত তেলের দাম ৪ দশমিক ৬ শতাংশ কমে হয়েছে প্রতি ব্যারেল ৮০ দশমিক ৭৪ ডলার (৫৯ দশমিক ৮৫ পাউন্ড)।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় জ্বালানির দামে ওঠানামা করছে। বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশ সাধারণত হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়।

ইরানের বিভিন্ন শহরে দফায় দফায় হামলা যুক্তরাষ্ট্রের

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুলাই ৩০, ২০২৬
ইরানের বিভিন্ন শহরে দফায় দফায় হামলা যুক্তরাষ্ট্রের

কয়েক দিনের বিরতির পর ইরানে আবারও দফায় দফায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা মার্কিন সামরিক বাহিনীর ওপর অতর্কিত হামলা চালানোর চেষ্টার কঠোর প্রতিশোধ নিতে এ অভিযান চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। হামলার পর আবাদান, বন্দর আব্বাস, বুশেহর ও কেশমসহ দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন শহরে দফায় দফায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।

বার্তাসংস্থা আনাদোলু বলছে, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর ওপর ইরানের ‘হামলার চেষ্টার’ জবাব হিসেবে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে সেন্টকম জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বুধবার (২৯ জুলাই) রাত ৮টা (ইরানের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৩টা) থেকে ইরানে এ হামলা শুরু হয়।

সেন্টকমের ভাষ্য, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর ওপর গতকালের ইরানের হামলার চেষ্টার জবাবে এটি শক্তিশালী জবাব।

এর কয়েক ঘণ্টা আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘খুব কঠোর’ জবাব দেয়ার ঘোষণা দেন। মিশরে যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ট্যাংকারে ড্রোন হামলার পর তিনি এ মন্তব্য করেন।

ট্রাম্প বলেন, আমরা তাদের ওপর খুব কঠোরভাবে আঘাত হানব, কারণ এবার আমাদের পালা। তারা জানে, এটি আসছে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। ওয়াশিংটন ইরানে হামলা চালানোর পর তেহরানও উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও সরঞ্জামকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

এদিকে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, ইরানের সর্বশেষ হামলার পর দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, খুজেস্তান প্রদেশের আবাদানে কয়েকটি স্থাপনা লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা হয়েছে।

এছাড়া হরমোজগান প্রদেশের বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসে দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। একই ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে আবু মুসা, কিশ ও কেশম দ্বীপেও। তবে হরমোজগান প্রদেশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সিরিক শহরে কোনও হামলা হয়নি।

আইআরআইবি আরও জানিয়েছে, ইরানের একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র অবস্থিত বুশেহর প্রদেশেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। অন্যদিকে আধা-সরকারি বার্তাসংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, কেশম দ্বীপে শহরের ভেতরে তিনটি বিস্ফোরণ হয়েছে।

স্থানীয়দের বরাতে সংস্থাটি জানায়, একটি ক্ষেপণাস্ত্র আবাসিক এলাকায় আঘাত হেনেছে। তবে এতে হতাহতের কোনও তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। এছাড়া প্রেস টিভি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা শুরুর পর দক্ষিণ ইরানের কয়েকটি স্থানেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

উত্তপ্ত পারস্য উপসাগর: বাহরাইনে জিসিসির যৌথ মহড়া

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুলাই ৩০, ২০২৬
উত্তপ্ত পারস্য উপসাগর: বাহরাইনে জিসিসির যৌথ মহড়া

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে ফের উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। জানা গেছে সাম্প্রতিক নিরাপত্তা উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বাহরাইনে শুরু হয়েছে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি)-এর যৌথ সামরিক মহড়া ‘বাহরাইন শিল্ড’।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই যৌথ মহড়াকে উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

২৮ থেকে ৩০ জুলাই পর্যন্ত চলা এই মহড়ায় সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার, ওমান এবং বাহরাইনের সশস্ত্র বাহিনী অংশ নিচ্ছে।

বাহরাইনের চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধিয়াব বিন সাকর আল-নুয়াইমি বলেছেন, এই মহড়ার উদ্দেশ্য যুদ্ধ প্রস্তুতি বাড়ানো, অপারেশনাল পরিকল্পনার দক্ষতা উন্নত করা এবং জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় আরও শক্তিশালী করা।

আল-নুয়াইমি বলেন, জিসিসি সদস্য দেশগুলোর অংশগ্রহণ একটি শক্তিশালী যৌথ উপসাগরীয় সামরিক বাহিনীর সক্ষমতার প্রতিফলন, যা বিভিন্ন ধরনের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুত।

তার মতে, বাহরাইন শিল্ড’ মহড়া উপসাগরীয় দেশগুলোর সামরিক সংহতির কৌশলগত ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করবে এবং যেকোনো আকস্মিক বা শত্রুতামূলক হামলার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরক্ষা গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।

আল-নুয়াইমি বলেন, সাম্প্রতিক আঞ্চলিক সহিংসতা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি যৌথ সামরিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও উন্নত করার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট করেছে।

ইসরায়েলের সঙ্গে কেন চুক্তি করতে চাচ্ছে সিরিয়া?

প্রকাশ: সোমবার, জুলাই ২৭, ২০২৬
ইসরায়েলের সঙ্গে কেন চুক্তি করতে চাচ্ছে সিরিয়া?

ইসরায়েলের সঙ্গে একটি যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি করতে চায় সিরিয়া। এ লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি দেশের মধ্যস্থতায় দামেস্ক জোর তৎপরতা চালাচ্ছে। রোববার (২৬ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার ‘আল মুকাবেলা’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে সিরিয়ার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা এই তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইসরায়েলের সঙ্গে এই নিরাপত্তা চুক্তিটি মধ্যপ্রাচ্যে একটি সমন্বিত শান্তি প্রক্রিয়ার দ্বার উন্মোচন করতে পারে। তবে তিনি এ-ও স্পষ্ট করেছেন যে, এই চুক্তির ফলে ১৯৭৩ সাল থেকে ইসরায়েলের অবৈধ দখলে থাকা গোলান মালভূমির ওপর সিরিয়ার ন্যায্য অধিকার কোনোভাবেই ক্ষুণ্ণ হবে না।

মূলত, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর দক্ষিণ সিরিয়ায় ইসরায়েল তাদের বিমান ও স্থল হামলা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়েছে। শুধু চলতি মাসেই ইসরায়েলি বাহিনী সিরিয়া সীমান্তে ২০ বারের বেশি অনুপ্রবেশ করেছে ও হামলা চালিয়েছে। এই অব্যাহত সামরিক অভিযানের মুখে সিরিয়া ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত এড়িয়ে একটি নিরাপত্তা চুক্তির মাধ্যমে বৃহত্তর সমাধানের পথ খুঁজছে বলে জানান সাবেক এই বিদ্রোহী নেতা।

সাক্ষাৎকারে লেবানন পরিস্থিতি নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট। তিনি নিশ্চিত করেছেন, প্রতিবেশী লেবাননে সামরিক হস্তক্ষেপের কোনো ইচ্ছা সিরিয়ার নেই। দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে চলমান লড়াইয়ের প্রেক্ষাপটে তিনি জানান, লেবাননের সংকট কাটিয়ে দেশটিতে স্থিতিশীলতা ফেরাতে সরকার কীভাবে সহায়তা করতে পারে, সে বিষয়ে দামেস্ক আলোচনা চালাচ্ছে।

লেবাননের সার্বভৌমত্বকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে শারা বলেন, দেশটিতে অস্ত্রের একক নিয়ন্ত্রণ এবং যুদ্ধ বা শান্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কেবল রাষ্ট্র ও সেনাবাহিনীর হাতেই থাকা উচিত। তিনি সতর্ক করে বলেন, লেবাননের যেকোনো অস্থিতিশীলতা কিংবা ওই অঞ্চলে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে তা সিরিয়ার ওপর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। পাশাপাশি প্রতিবেশী ইরাকের সঙ্গেও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নতি হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অভ্যন্তরীণ ও অর্থনৈতিক ইস্যু প্রসঙ্গে আহমেদ আল-শারা জানান, সিরিয়ার ওপর থেকে কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়াই যথেষ্ট নয়; বরং সন্ত্রাসবাদের মদদদাতা দেশের তালিকা থেকেও তাদের নাম বাদ দিতে হবে। কুর্দি নেতৃত্বাধীন ‘এসডিএফ’-এর সঙ্গে চুক্তি বাস্তবায়নে দেরি হলেও সরকার এর প্রতি সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট ২০১১ থেকে ২০২৪ সালের যুদ্ধ চলাকালে নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তিদের সন্ধানে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের কথা জানান। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে এই কমিটি কাজ করবে। জাতিসংঘের হিসাব মতে, যুদ্ধে প্রায় ১ লাখ মানুষ গুম হয়েছেন, যদিও সিরিয়ার জাতীয় কমিশনের ধারণা এই সংখ্যা ৩ লাখ পর্যন্ত হতে পারে।