ইসরায়েলের সঙ্গে একটি যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি করতে চায় সিরিয়া। এ লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি দেশের মধ্যস্থতায় দামেস্ক জোর তৎপরতা চালাচ্ছে। রোববার (২৬ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার ‘আল মুকাবেলা’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে সিরিয়ার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা এই তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইসরায়েলের সঙ্গে এই নিরাপত্তা চুক্তিটি মধ্যপ্রাচ্যে একটি সমন্বিত শান্তি প্রক্রিয়ার দ্বার উন্মোচন করতে পারে। তবে তিনি এ-ও স্পষ্ট করেছেন যে, এই চুক্তির ফলে ১৯৭৩ সাল থেকে ইসরায়েলের অবৈধ দখলে থাকা গোলান মালভূমির ওপর সিরিয়ার ন্যায্য অধিকার কোনোভাবেই ক্ষুণ্ণ হবে না।
মূলত, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর দক্ষিণ সিরিয়ায় ইসরায়েল তাদের বিমান ও স্থল হামলা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়েছে। শুধু চলতি মাসেই ইসরায়েলি বাহিনী সিরিয়া সীমান্তে ২০ বারের বেশি অনুপ্রবেশ করেছে ও হামলা চালিয়েছে। এই অব্যাহত সামরিক অভিযানের মুখে সিরিয়া ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত এড়িয়ে একটি নিরাপত্তা চুক্তির মাধ্যমে বৃহত্তর সমাধানের পথ খুঁজছে বলে জানান সাবেক এই বিদ্রোহী নেতা।
সাক্ষাৎকারে লেবানন পরিস্থিতি নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট। তিনি নিশ্চিত করেছেন, প্রতিবেশী লেবাননে সামরিক হস্তক্ষেপের কোনো ইচ্ছা সিরিয়ার নেই। দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে চলমান লড়াইয়ের প্রেক্ষাপটে তিনি জানান, লেবাননের সংকট কাটিয়ে দেশটিতে স্থিতিশীলতা ফেরাতে সরকার কীভাবে সহায়তা করতে পারে, সে বিষয়ে দামেস্ক আলোচনা চালাচ্ছে।
লেবাননের সার্বভৌমত্বকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে শারা বলেন, দেশটিতে অস্ত্রের একক নিয়ন্ত্রণ এবং যুদ্ধ বা শান্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কেবল রাষ্ট্র ও সেনাবাহিনীর হাতেই থাকা উচিত। তিনি সতর্ক করে বলেন, লেবাননের যেকোনো অস্থিতিশীলতা কিংবা ওই অঞ্চলে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে তা সিরিয়ার ওপর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। পাশাপাশি প্রতিবেশী ইরাকের সঙ্গেও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নতি হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অভ্যন্তরীণ ও অর্থনৈতিক ইস্যু প্রসঙ্গে আহমেদ আল-শারা জানান, সিরিয়ার ওপর থেকে কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়াই যথেষ্ট নয়; বরং সন্ত্রাসবাদের মদদদাতা দেশের তালিকা থেকেও তাদের নাম বাদ দিতে হবে। কুর্দি নেতৃত্বাধীন ‘এসডিএফ’-এর সঙ্গে চুক্তি বাস্তবায়নে দেরি হলেও সরকার এর প্রতি সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট ২০১১ থেকে ২০২৪ সালের যুদ্ধ চলাকালে নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তিদের সন্ধানে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের কথা জানান। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে এই কমিটি কাজ করবে। জাতিসংঘের হিসাব মতে, যুদ্ধে প্রায় ১ লাখ মানুষ গুম হয়েছেন, যদিও সিরিয়ার জাতীয় কমিশনের ধারণা এই সংখ্যা ৩ লাখ পর্যন্ত হতে পারে।