২৭ জুলাই ২০২৬

ইসরায়েলের সঙ্গে কেন চুক্তি করতে চাচ্ছে সিরিয়া?

প্রকাশ: সোমবার, জুলাই ২৭, ২০২৬
ইসরায়েলের সঙ্গে কেন চুক্তি করতে চাচ্ছে সিরিয়া?

ইসরায়েলের সঙ্গে একটি যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি করতে চায় সিরিয়া। এ লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি দেশের মধ্যস্থতায় দামেস্ক জোর তৎপরতা চালাচ্ছে। রোববার (২৬ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার ‘আল মুকাবেলা’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে সিরিয়ার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা এই তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইসরায়েলের সঙ্গে এই নিরাপত্তা চুক্তিটি মধ্যপ্রাচ্যে একটি সমন্বিত শান্তি প্রক্রিয়ার দ্বার উন্মোচন করতে পারে। তবে তিনি এ-ও স্পষ্ট করেছেন যে, এই চুক্তির ফলে ১৯৭৩ সাল থেকে ইসরায়েলের অবৈধ দখলে থাকা গোলান মালভূমির ওপর সিরিয়ার ন্যায্য অধিকার কোনোভাবেই ক্ষুণ্ণ হবে না।

মূলত, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর দক্ষিণ সিরিয়ায় ইসরায়েল তাদের বিমান ও স্থল হামলা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়েছে। শুধু চলতি মাসেই ইসরায়েলি বাহিনী সিরিয়া সীমান্তে ২০ বারের বেশি অনুপ্রবেশ করেছে ও হামলা চালিয়েছে। এই অব্যাহত সামরিক অভিযানের মুখে সিরিয়া ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত এড়িয়ে একটি নিরাপত্তা চুক্তির মাধ্যমে বৃহত্তর সমাধানের পথ খুঁজছে বলে জানান সাবেক এই বিদ্রোহী নেতা।

সাক্ষাৎকারে লেবানন পরিস্থিতি নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট। তিনি নিশ্চিত করেছেন, প্রতিবেশী লেবাননে সামরিক হস্তক্ষেপের কোনো ইচ্ছা সিরিয়ার নেই। দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে চলমান লড়াইয়ের প্রেক্ষাপটে তিনি জানান, লেবাননের সংকট কাটিয়ে দেশটিতে স্থিতিশীলতা ফেরাতে সরকার কীভাবে সহায়তা করতে পারে, সে বিষয়ে দামেস্ক আলোচনা চালাচ্ছে।

লেবাননের সার্বভৌমত্বকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে শারা বলেন, দেশটিতে অস্ত্রের একক নিয়ন্ত্রণ এবং যুদ্ধ বা শান্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কেবল রাষ্ট্র ও সেনাবাহিনীর হাতেই থাকা উচিত। তিনি সতর্ক করে বলেন, লেবাননের যেকোনো অস্থিতিশীলতা কিংবা ওই অঞ্চলে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে তা সিরিয়ার ওপর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। পাশাপাশি প্রতিবেশী ইরাকের সঙ্গেও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নতি হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অভ্যন্তরীণ ও অর্থনৈতিক ইস্যু প্রসঙ্গে আহমেদ আল-শারা জানান, সিরিয়ার ওপর থেকে কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়াই যথেষ্ট নয়; বরং সন্ত্রাসবাদের মদদদাতা দেশের তালিকা থেকেও তাদের নাম বাদ দিতে হবে। কুর্দি নেতৃত্বাধীন ‘এসডিএফ’-এর সঙ্গে চুক্তি বাস্তবায়নে দেরি হলেও সরকার এর প্রতি সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট ২০১১ থেকে ২০২৪ সালের যুদ্ধ চলাকালে নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তিদের সন্ধানে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের কথা জানান। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে এই কমিটি কাজ করবে। জাতিসংঘের হিসাব মতে, যুদ্ধে প্রায় ১ লাখ মানুষ গুম হয়েছেন, যদিও সিরিয়ার জাতীয় কমিশনের ধারণা এই সংখ্যা ৩ লাখ পর্যন্ত হতে পারে।

ইসরায়েলের সঙ্গে কেন চুক্তি করতে চাচ্ছে সিরিয়া?

প্রকাশ: সোমবার, জুলাই ২৭, ২০২৬
ইসরায়েলের সঙ্গে কেন চুক্তি করতে চাচ্ছে সিরিয়া?

ইসরায়েলের সঙ্গে একটি যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি করতে চায় সিরিয়া। এ লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি দেশের মধ্যস্থতায় দামেস্ক জোর তৎপরতা চালাচ্ছে। রোববার (২৬ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার ‘আল মুকাবেলা’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে সিরিয়ার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা এই তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইসরায়েলের সঙ্গে এই নিরাপত্তা চুক্তিটি মধ্যপ্রাচ্যে একটি সমন্বিত শান্তি প্রক্রিয়ার দ্বার উন্মোচন করতে পারে। তবে তিনি এ-ও স্পষ্ট করেছেন যে, এই চুক্তির ফলে ১৯৭৩ সাল থেকে ইসরায়েলের অবৈধ দখলে থাকা গোলান মালভূমির ওপর সিরিয়ার ন্যায্য অধিকার কোনোভাবেই ক্ষুণ্ণ হবে না।

মূলত, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর দক্ষিণ সিরিয়ায় ইসরায়েল তাদের বিমান ও স্থল হামলা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়েছে। শুধু চলতি মাসেই ইসরায়েলি বাহিনী সিরিয়া সীমান্তে ২০ বারের বেশি অনুপ্রবেশ করেছে ও হামলা চালিয়েছে। এই অব্যাহত সামরিক অভিযানের মুখে সিরিয়া ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত এড়িয়ে একটি নিরাপত্তা চুক্তির মাধ্যমে বৃহত্তর সমাধানের পথ খুঁজছে বলে জানান সাবেক এই বিদ্রোহী নেতা।

সাক্ষাৎকারে লেবানন পরিস্থিতি নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট। তিনি নিশ্চিত করেছেন, প্রতিবেশী লেবাননে সামরিক হস্তক্ষেপের কোনো ইচ্ছা সিরিয়ার নেই। দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে চলমান লড়াইয়ের প্রেক্ষাপটে তিনি জানান, লেবাননের সংকট কাটিয়ে দেশটিতে স্থিতিশীলতা ফেরাতে সরকার কীভাবে সহায়তা করতে পারে, সে বিষয়ে দামেস্ক আলোচনা চালাচ্ছে।

লেবাননের সার্বভৌমত্বকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে শারা বলেন, দেশটিতে অস্ত্রের একক নিয়ন্ত্রণ এবং যুদ্ধ বা শান্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কেবল রাষ্ট্র ও সেনাবাহিনীর হাতেই থাকা উচিত। তিনি সতর্ক করে বলেন, লেবাননের যেকোনো অস্থিতিশীলতা কিংবা ওই অঞ্চলে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে তা সিরিয়ার ওপর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। পাশাপাশি প্রতিবেশী ইরাকের সঙ্গেও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নতি হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অভ্যন্তরীণ ও অর্থনৈতিক ইস্যু প্রসঙ্গে আহমেদ আল-শারা জানান, সিরিয়ার ওপর থেকে কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়াই যথেষ্ট নয়; বরং সন্ত্রাসবাদের মদদদাতা দেশের তালিকা থেকেও তাদের নাম বাদ দিতে হবে। কুর্দি নেতৃত্বাধীন ‘এসডিএফ’-এর সঙ্গে চুক্তি বাস্তবায়নে দেরি হলেও সরকার এর প্রতি সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট ২০১১ থেকে ২০২৪ সালের যুদ্ধ চলাকালে নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তিদের সন্ধানে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের কথা জানান। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে এই কমিটি কাজ করবে। জাতিসংঘের হিসাব মতে, যুদ্ধে প্রায় ১ লাখ মানুষ গুম হয়েছেন, যদিও সিরিয়ার জাতীয় কমিশনের ধারণা এই সংখ্যা ৩ লাখ পর্যন্ত হতে পারে।

উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর হামলা স্থগিতের ঘোষণা তেহরানের

প্রকাশ: সোমবার, জুলাই ২৭, ২০২৬
উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর হামলা স্থগিতের ঘোষণা তেহরানের

ওয়াশিংটন থেকে নতুন করে কোনো আক্রমণ না আসায় উপসাগরীয় দেশগুলো এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে তেহরান। পরপর দুদিন ইরানের ওপর মার্কিন বাহিনী কোনো বিমান হামলা না চালানোর পর এ সিদ্ধান্ত জানাল দেশটি।

রোববার কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরামিনিয়া জানিয়েছেন, আমাদের রণকৌশল মূলত প্রতিশোধমূলক আক্রমণভিত্তিক ছিল। মার্কিন হামলা বন্ধ থাকায় আমরাও আমাদের পাল্টা সামরিক অভিযান স্থগিত করেছি।

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে টানা প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে তীব্র সংঘর্ষ চলার পর এ নতুন পরিস্থিতি তৈরি হলো।

এর আগে প্রতিদিন মার্কিন হামলার জবাবে ইরানও উপসাগরীয় অঞ্চলগুলোতে পাল্টা আঘাত হানছিল। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে পরপর দুই রাত ইরানে নতুন করে কোনো হামলা না চালানোর পর, রোববার মধ্যপ্রাচ্যের কোনো স্থানে ইরানের পক্ষ থেকেও নতুন করে কোনো আক্রমণের খবর পাওয়া যায়নি।

তবে কি পরমাণু বোমা তৈরির পথে ইরান, মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে তোলপাড়

প্রকাশ: রবিবার, জুলাই ২৬, ২০২৬
তবে কি পরমাণু বোমা তৈরির পথে ইরান, মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে তোলপাড়

ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি তার প্রয়াত পিতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির চেয়ে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির বিষয়ে বহুগুণ বেশি আগ্রহী বলে মনে করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। এ বিষয়ে বাবার নীতি বদলে নিজের শক্ত অবস্থান বজায় রেখেছেন মোজতবা।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে ওয়াশিংটনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানানো হয়েছে, প্রকাশ্য মঞ্চে মোজতবা খামেনি পারমাণবিক অস্ত্র নির্মাণের পক্ষে সরাসরি কোনো অবস্থান না নিলেও, তিনি এবং তেহরানের বর্তমান কট্টরপন্থী নেতৃত্ব ইরানকে পারমাণবিক শক্তিসম্পন্ন রাষ্ট্রে পরিণত করতে বেশ আগ্রহী।

মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক হামলার মুখে তেহরানের এই সম্ভাব্য নীতিগত পরিবর্তন ট্রাম্প প্রশাসনের মূল লক্ষ্য ও আগ্রাসী পদক্ষেপের এক মারাত্মক বিপরীতমুখী পরিণতি হিসেবে দেখা দিচ্ছে বলে সামরিক বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন।

গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় নিহত হন দীর্ঘ ৩৬ বছর ধরে ইরান শাসন করা তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। আলি খামেনির শাসনামলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে প্রযুক্তিগতভাবে বেশ দূর এগিয়ে নেওয়া হলেও, তিনি ব্যক্তিগতভাবে পারমাণবিক বোমা বা মারণাস্ত্র নির্মাণের নীতিগত বিরোধী ছিলেন।

তবে তার মৃত্যুর পর দেশটির ক্ষমতার শীর্ষভাগে আসা তার পুত্র মোজতবা খামেনি এবং নতুন নেতৃত্ব সেই দীর্ঘদিনের অবস্থান পরিবর্তন করতে পারেন বলে মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নে উঠে এসেছে। যদিও চলতি সংঘাতের সময় মোজতবা খামেনি মারাত্মকভাবে আহত হন এবং এরপর থেকে তার জনসমক্ষে আসা অনেকটাই কমে গেছে, তবু তিনিই বর্তমানে ইরানের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারকের আসনে সমাসীন।

তবে মার্কিন কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, আয়াতুল্লাহ মোজতবার মানসিকতা ও চিন্তাভাবনা-সংক্রান্ত বেশির ভাগ তথ্যই বর্তমান সংঘাত শুরুর আগে সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং তার বাবা যে নিরঙ্কুশ ও একক কর্তৃত্ব ভোগ করতেন, মোজতবা এখনো সেই সমপর্যায়ের প্রভাব তৈরি করতে পারেননি।

ইরানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার মেরুকরণের পাশাপাশি মোজতবা খামেনির নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বেশ কঠোর ও আক্রমণাত্মক অবস্থান গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর তেহরানের প্রশাসনিক ও সামরিক নিয়ন্ত্রণ এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি শক্ত।

একই সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ও সংঘাত থামানোর লক্ষ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান পরোক্ষ দর-কষাকষিতেও ইরান এক অত্যন্ত কঠোর ও আপসহীন রূপ ধারণ করেছে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ আরও বিস্তৃত করার সম্ভাবনা বিবেচনা করছেন, ঠিক তখনই আমেরিকান গোয়েন্দাদের এই নতুন মূল্যায়ন প্রকাশিত হলো।

আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, মোজতবার পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের এই নতুন সম্ভাবনা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য ইরানে সামরিক অভিযান বাড়ানোর আরও একটি অতিরিক্ত যৌক্তিক ভিত্তি তৈরি করে দিচ্ছে।

মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আরও নিশ্চিত করা হয়েছে যে, ইরান এখন পর্যন্ত তাদের স্তব্ধ হয়ে যাওয়া পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে পুনরায় চালু করেনি। তবে আমেরিকান বিমান হামলার হাত থেকে নিজেদের অবশিষ্ট পারমাণবিক সম্পদ ও পরিকাঠামো রক্ষা করতে তেহরান অত্যন্ত সতর্ক ও সুরক্ষামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

এর অংশ হিসেবে তারা ইতিমধ্যে বেশ কিছু স্পর্শকাতর সেনট্রিফিউজ স্থানান্তর করতে শুরু করেছে। মধ্য ইরানের একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত ও দুর্ভেদ্য ভূগর্ভস্থ কমপ্লেক্সে এসব পারমাণবিক সরঞ্জাম নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, যা মার্কিন সামরিক ও গোয়েন্দা মহলে ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ নামে পরিচিত।

সার্বিক পরিস্থিতিতে মনে করা হচ্ছে, মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসন তেহরানকে পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা থেকে পিছিয়ে দেওয়ার বদলে বরং তাদের দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পথেই চালিত করছে।

বেন গাভিরের নেতৃত্বে আল-আকসা মসজিদে ঢুকে তাণ্ডব চালালো ইসরায়েলিরা

প্রকাশ: শুক্রবার, জুলাই ২৪, ২০২৬
বেন গাভিরের নেতৃত্বে আল-আকসা মসজিদে ঢুকে তাণ্ডব চালালো ইসরায়েলিরা

জোর করে পবিত্র আল-আকসা মসজিদে ঢুকেছে ৪ হাজার ২৮৮ জন ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী ও কট্টর ডানপন্থি গোষ্ঠীর সদস্যরা।

ইহুদিদের একটি ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে এ বছর এটিই মসজিদটিতে ইসরায়েলিদের অন্যতম বড় অনুপ্রবেশের ঘটনা বলে জানিয়েছেন ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা।

সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে কঠোর পুলিশ পাহারায় আল-আকসায় ঢোকেন ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। ইহুদিদের শোক দিবস ‘তিশা বাব’ উপলক্ষে তিনি সেখানে যান।

মসজিদ প্রাঙ্গণের ভেতরে ঢুকেই ইহুদি ধর্মীয় তালমুদিক আচার-অনুষ্ঠান পালন করেছে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা। তারা সেখানে গান গেয়েছে, মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে এবং প্রার্থনা করেছে বলে জানিয়েছে জেরুজালেম গভর্নরেট।

প্রাচীনকালে জেরুজালেমে ইহুদিদের প্রথম ও দ্বিতীয় পবিত্র মন্দির ধ্বংস হওয়ার ঘটনাকে স্মরণ করে এই দিনটি পালন করা হয়। সেই মন্দির মুসলিমদের আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণেই ছিল বলে বিশ্বাস করা হয়। যেটি ইহুদিদের কাছে টেম্পল মাউন্ট নামে পরিচিত।

ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আল-আকসার প্রবেশদ্বারগুলোতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। বহু সাধারণ ফিলিস্তিনি ও শিক্ষার্থীকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি এবং অনেকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে।

আল জাজিরার এক সাংবাদিক জানিয়েছেন, জেরুজালেমের পুরোনো শহরে চরম নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে ইসরায়েল কর্তৃপক্ষ। বয়স্করা ছাড়া সাধারণ ফিলিস্তিনিদের আল-আকসায় প্রবেশ বন্ধ রাখা হয়েছে। সেইসঙ্গে পূর্ব জেরুজালেম ও কালান্দিয়াসহ বিভিন্ন এলাকার তল্লাশিচৌকিতে কড়াকড়ি বাড়ানো হয়েছে।

টানা ১৩ রাত ধরে মার্কিন হামলা, কঠোর জবাব দেওয়ার হুশিয়ারি ইরানের

প্রকাশ: শুক্রবার, জুলাই ২৪, ২০২৬
টানা ১৩ রাত ধরে মার্কিন হামলা, কঠোর জবাব দেওয়ার হুশিয়ারি ইরানের

ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে টানা ১৩তম রাতের মতো হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এতে রাজধানী তেহরানসহ দেশটির একাধিক নগরী ও উপকূলীয় কৌশলগত এলাকা কেঁপে উঠেছে। সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি আবাসিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার খবর পাওয়া গেছে। এর জবাবে মার্কিন বাহিনীর ওপর আরো বিধ্বংসী ও কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার হুশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।

হরমুজ প্রণালিতে অসামরিক নাবিক ও বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অজুহাতে ইরানে টানা ১৩ রাতের মতো অভিযান চালিয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ইরানজুড়ে নতুন দফায় এই হামলা চালানো হয়।

সেন্টকমের দাবি, সর্বশেষ হামলায় ইরানের সামরিক কমান্ড সেন্টার, ড্রোন সংরক্ষণাগার, যোগাযোগ ব্যবস্থা, উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্র এবং সামরিক নৌ সক্ষমতাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সঙ্গে উত্তেজনা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক এই সমুদ্রপথ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অব্যাহত রয়েছে উল্লেখ করে সেন্টকম জানায়, মার্কিন সামরিক বাহিনীর সহায়তায় জাহাজগুলো এখন হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে চলাচল করছে। মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে ৫০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা সদস্য মোতায়েন রয়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

মার্কিন হামলার জেরে ইরানের মূল ভূখণ্ডের একাধিক শহরে পর পর বিকট বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

দেশটির মূলধারার গণমাধ্যমগুলো এসব হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানায়, খোন্দাব শহরের বাইরের একটি এলাকায় শত্রুপক্ষের দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এ ছাড়া খোররামাবাদ ও কোনারাক শহরেও বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ ও আইআরআইবি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির কাছে অবস্থিত অত্যন্ত কৌশলগত বন্দরনগরী জাস্কেও বিকট বিস্ফোরণ ঘটেছে।

অন্যদিকে বার্তা সংস্থা মেহর নিউজ জানায়, রাজধানী তেহরানের পূর্বাঞ্চলের আকাশে শত্রুপক্ষের লক্ষ্যবস্তু প্রতিহত করতে উচ্চ সতর্কতাবস্থায় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে।

বিভিন্ন অঞ্চলে ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহত

উপকূলীয় বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসের আবাসিক এলাকা ‘তাপ্পে আল্লাহ-ও-আকবর’-এ চালানো হামলায় অন্তত দু’জন আহত হয়েছেন।

হরমুজগান প্রদেশের উপ-গভর্নর ওয়ালিউল্লাহ হায়াতিকে উদ্ধৃত করে ফারস নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।

এ ছাড়া দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খুজেস্তান প্রদেশের আন্দিমেশক ও ওমিদিয়ে শহরের আশপাশের এলাকায় মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। তবে এসব হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে মেহর বার্তা সংস্থা নিশ্চিত করেছে।

সংঘাতের দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপ এবং খুজেস্তানের প্রধান শহর আহভাজেও নতুন করে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। কেশম দ্বীপের আকাশে একটি উড়ন্ত বস্তু বা ড্রোন ভূপাতিত করার প্রাথমিক অসংবাদিত তথ্যও পাওয়া গেছে।

আরো বিধ্বংসী জবাবের হুঁশিয়ারি ইরানের

মার্কিন আক্রমণ অব্যাহত থাকায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা বন্ধ না হলে ইরানও পাল্টা আঘাত চালিয়ে যাবে।

ইরানের সামরিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন না থামলে প্রতিবার আরো বিধ্বংসী ও কঠোর জবাব দেওয়া হবে। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে সামনে আরো শক্তিশালী প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটি।