২৭ জুলাই ২০২৬

ইরান যুদ্ধের জেরে ব্যাহত কাতারের এলএনজি রফতানি

প্রকাশ: সোমবার, জুলাই ২৭, ২০২৬
ইরান যুদ্ধের জেরে ব্যাহত কাতারের এলএনজি রফতানি

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে গ্যাস সরবরাহে ফোর্স ম্যাজিউর বা অনিবার্য পরিস্থিতির কারণে সরবরাহ বন্ধের ঘোষণার মেয়াদ বাড়াচ্ছে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘কাতারএনার্জি’। তাদের দাবি, যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে রফতানি স্থগিত রাখতে বাধ্য হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি মাসে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমকারী ট্যাংকারগুলোয় নতুন করে হামলা চালায় ইরান। এর ফলে যুদ্ধপূর্ব অবস্থার মতো গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

বাণিজ্যিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, কাতারএনার্জি এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি এশীয় ক্রেতার কাছে এলএনজি সরবরাহে তাদের ‘ফোর্স ম্যাজিউরের মেয়াদ বাড়িয়েছে এবং আগামী অক্টোবরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত তাদের বেশ কিছু এলএনজি ট্যাংকার অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছে লিজ দিয়ে রেখেছে।

ফোর্স ম্যাজিউর বা অনিবার্য পরিস্থিতির কারণে সরবরাহ বন্ধ হলো এমন একটি আইনি ধারা, যা নিয়ন্ত্রণবহির্ভূত কোনো ঘটনার কারণে সরবরাহ চুক্তি পূরণে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে দায়মুক্তি দেয়।

বিশ্বের মোট এলএনজি বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহ করে কাতার। চলমান যুদ্ধের প্রভাবে এ সরবরাহ সংকট যদি দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে তা বৈশ্বিক বাজারে এলএনজির যোগান কমিয়ে দেবে এবং প্রধান এশীয় ক্রেতাদের জন্য গ্যাসের দাম অনেক বাড়িয়ে দেবে।

আঞ্চলিক শান্তি ও উত্তেজনা কমাতে আলোচনায় কাতার ও আমিরাত

প্রকাশ: সোমবার, জুলাই ২৭, ২০২৬
আঞ্চলিক শান্তি ও উত্তেজনা কমাতে আলোচনায় কাতার ও আমিরাত

সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুল রহমান বিন জসিম আল থানি।

আলাপে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো এবং মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে অঞ্চলের উত্তেজনা কমানো, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদার করতে কীভাবে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানো যায়—সে বিষয়ে জোর দেন দুই নেতা।

কথোপকথনে কাতার প্রধানমন্ত্রী কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর আলোকপাত করেন:

  • সংলাপ ও কূটনীতি: সংঘাত এড়াতে সব পক্ষকে আলোচনা ও কূটনৈতিক পথেই সমাধান খোঁজার আহ্বান জানান।

  • যুক্তরাষ্ট্র-ইরাণ সমঝোতা: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সই হওয়া সমঝোতা স্মারকের সব বিষয় সঠিকভাবে বাস্তবায়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

  • নৌচলাচলের স্বাধীনতা: অঞ্চলের নিরাপত্তা ও উন্নয়ন ধরে রাখতে 'হরমুজ প্রণালী'তে জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত রাখার কথা বলেন।

তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমিয়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য যা যা উদ্যোগ নেওয়া হবে, কাতার তার সবটিতেই পূর্ণ সমর্থন দিয়ে যাবে।

ইরান যুদ্ধের জেরে ব্যাহত কাতারের এলএনজি রফতানি

প্রকাশ: সোমবার, জুলাই ২৭, ২০২৬
ইরান যুদ্ধের জেরে ব্যাহত কাতারের এলএনজি রফতানি

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে গ্যাস সরবরাহে ফোর্স ম্যাজিউর বা অনিবার্য পরিস্থিতির কারণে সরবরাহ বন্ধের ঘোষণার মেয়াদ বাড়াচ্ছে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘কাতারএনার্জি’। তাদের দাবি, যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে রফতানি স্থগিত রাখতে বাধ্য হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি মাসে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমকারী ট্যাংকারগুলোয় নতুন করে হামলা চালায় ইরান। এর ফলে যুদ্ধপূর্ব অবস্থার মতো গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

বাণিজ্যিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, কাতারএনার্জি এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি এশীয় ক্রেতার কাছে এলএনজি সরবরাহে তাদের ‘ফোর্স ম্যাজিউরের মেয়াদ বাড়িয়েছে এবং আগামী অক্টোবরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত তাদের বেশ কিছু এলএনজি ট্যাংকার অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছে লিজ দিয়ে রেখেছে।

ফোর্স ম্যাজিউর বা অনিবার্য পরিস্থিতির কারণে সরবরাহ বন্ধ হলো এমন একটি আইনি ধারা, যা নিয়ন্ত্রণবহির্ভূত কোনো ঘটনার কারণে সরবরাহ চুক্তি পূরণে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে দায়মুক্তি দেয়।

বিশ্বের মোট এলএনজি বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহ করে কাতার। চলমান যুদ্ধের প্রভাবে এ সরবরাহ সংকট যদি দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে তা বৈশ্বিক বাজারে এলএনজির যোগান কমিয়ে দেবে এবং প্রধান এশীয় ক্রেতাদের জন্য গ্যাসের দাম অনেক বাড়িয়ে দেবে।

আজ থেকে কাতারে আবার শুরু হলো সব ধরনের নৌযান চলাচল

প্রকাশ: রবিবার, জুলাই ২৬, ২০২৬
আজ থেকে কাতারে আবার শুরু হলো সব ধরনের নৌযান চলাচল

কাতারের সমুদ্রে সব ধরনের নৌযান, বাণিজ্যিক জাহাজ ও সাধারণ বোট চলাচল আবার আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয়। আজ ২৬ জুলাই থেকে সমুদ্রপথের যাবতীয় কাজকর্ম আগের মতো পুরোদমে চালু থাকবে।

সামুদ্রিক যাত্রা ও নৌ-পরিবহন নিরাপদ রাখতে সব জলযানের মালিক, ক্যাপ্টেন ও জেলেদের কড়া নিরাপত্তা নিয়ম মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

সমুদ্রে নামার আগে যা মেনে চলতে হবে

দুর্ঘটনা এড়াতে পরিবহন মন্ত্রণালয় কয়েকটি বিশেষ নির্দেশ দিয়েছে:

নিরাপত্তা আইন মানা: সামুদ্রিক নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের সব হালনাগাদ নিয়মকানুন ঠিকঠাক মেনে চলতে হবে।

আবহাওয়ার খবর নেওয়া: সমুদ্রে নামার আগেই আবহাওয়া দপ্তরের সর্বশেষ খবরাখবর ও পূর্বাভাস দেখে নিতে হবে।

জরুরি সরঞ্জাম সাথে রাখা: প্রতিটি বোট বা জাহাজে লাইফ জ্যাকেট ও যোগাযোগের দরকারি সব যন্ত্রপাতি সচল রাখতে হবে।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সমুদ্রে নিরাপত্তা বজায় রাখতে তাদের মনিটরিং টিম সবসময় নজরদারি করবে। সমুদ্রপথ খুলে দেওয়ায় দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন খাতে বেশ গতি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সুক ওয়াকিফে ১১তম খেজুর উৎসব: ভাঙতে পারে বিক্রির সব পুরনো রেকর্ড

প্রকাশ: রবিবার, জুলাই ২৬, ২০২৬

কাতারের কৃষিখাত ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে সুক ওয়াকিফের ইস্টার্ন স্কোয়ারে শুরু হয়েছে '১১তম স্থানীয় খেজুর উৎসব ২০২৬'। দেশীয় কৃষকদের সরাসরি পণ্য বিক্রির সুযোগ তৈরি ও খাদ্য নিরাপত্তা বাড়াতে আয়োজিত এই উৎসব চলবে আগামী ১০ আগস্ট পর্যন্ত।

২০১৬ সালে মাত্র ১৯টি খামার নিয়ে শুরু হওয়া এই আয়োজনে এবার অংশ নিয়েছে রেকর্ড ১২৫টি স্থানীয় খামার।

সুক ওয়াকিফের পরিচালক ও উৎসবের প্রধান সমন্বয়ক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল-সালেম জানান, প্রতি বছর খামারের সংখ্যা বাড়াই প্রমাণ করে যে কৃষকদের আস্থা কতটা বেড়েছে। ঐতিহ্যবাহী সুক ওয়াকিফে আয়োজনের ফলে ক্রেতা ও বিক্রেতা—উভয় পক্ষই কেনাকাটায় সুবিধা পাচ্ছেন।

এক ছাদের নিচে তাজা খেজুর ও ফলমূল

উৎসবে আসা দর্শনার্থীরা সরাসরি খামার থেকে আনা সেরা জাতের খেজুুর কেনার সুযোগ পাচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছে ইখলাস, খুনাইজি, শিশি ও বারহি।

খেজুরের পাশাপাশি এখানে মিলছে কাতারেই চাষ হওয়া তাজা ডুমুর, পেঁপে, লেবু ও বাদাম। সবই বিক্রি হচ্ছে খামার মূল্যে।

কাতারি ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতিফলন

পৌরসভা মন্ত্রণালয়ের কৃষি বিভাগের প্রধান আহমেদ সালেম আল-ইয়াফি জানান, খেজুর কাতারের আতিথেয়তা ও ঐতিহ্যের বড় এক অংশ। দেশের যেকোনো মজলিসে অতিথি আপ্যায়নে খেজুর থাকবেই, আর এই উৎসব সেই ঐতিহ্যকেই বাঁচিয়ে রাখছে।

উৎসবে বাজার করতে আসা সাধারণ মানুষের মধ্যেও দারুণ আগ্রহ দেখা গেছে। নিয়মিত আসা উম্ম সারা নামের এক ক্রেতা জানান, রাসায়নিকমুক্ত তাজা খেজুর কম দামে কেনার পাশাপাশি সন্তানদের দেশীয় কৃষির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার চমৎকার পরিবেশ মিলছে এখানে।

ভাঙতে পারে বিক্রির সব পুরনো রেকর্ড

গত বছর ১০ম খেজুর উৎসবে ১ লাখের বেশি মানুষ এসেছিলেন এবং বিক্রি হয়েছিল প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার কেজি খেজুর। আয়োজকদের আশা, এবার খামারের সংখ্যা বাড়ায় বিক্রি ও দর্শনার্থী—দুই দিক দিয়েই আগের সব রেকর্ড পার হয়ে যাবে।

৯ থেকে ১৩ বছর বয়সীদের জন্য কাতারে শুরু হচ্ছে 'সামার ক্যাম্প ২০২৬'

প্রকাশ: রবিবার, জুলাই ২৬, ২০২৬
৯ থেকে ১৩ বছর বয়সীদের জন্য কাতারে শুরু হচ্ছে 'সামার ক্যাম্প ২০২৬'

কাতারের মিউজিয়াম অব ইসলামিক আর্ট (এমআইএ) এবং দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনী 'লেখুইয়া' যৌথভাবে আয়োজন করতে যাচ্ছে 'সামার ক্যাম্প ২০২৬'। শিশুদের মেধা বিকাশ ও নেতৃত্বের গুণ তৈরি করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আগামী ২ আগস্ট থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পটি চলবে ১৩ আগস্ট পর্যন্ত। ৯ থেকে ১৩ বছর বয়সী কাতারি শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নিতে পারবে।

ক্যাম্পের যাবতীয় আয়োজন এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে পড়াশোনা, সংস্কৃতি, খেলাধুলা ও নেতৃত্ব শেখার একটা দারুণ সুযোগ তৈরি হয়। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ছেলে ও মেয়ে—উভয়দের জন্যই ক্যাম্পটি উন্মুক্ত থাকবে।

এই উদ্যোগে সাড়াও মিলছে বেশ। গ্রীষ্মের ছুটিতে বাচ্চাদের সুশৃঙ্খল পরিবেশ, চরিত্র গঠন ও দেশপ্রেম শেখার সুযোগ দেখে কাতারি অভিভাবকদের মধ্যেও আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।

যা থাকছে এই ক্যাম্পে

শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশে চার ধরনের কার্যক্রম থাকবে:

  • শিল্প ও সংস্কৃতি: ইসলামিক আর্ট মিউজিয়ামের ভেতরে বিশেষ গ্যালারি ঘুরে দেখা এবং শিল্পকলা সম্পর্কিত বিভিন্ন কাজ হাতে-কলমে শেখা।

  • খেলাধুলা ও শৃঙ্খলা: 'লেখুইয়া'র তত্ত্বাবধানে সাঁতার, দলগত খেলাধুলা এবং আত্মবিশ্বাস ও নেতৃত্ব বাড়ানোর নানা শারীরিক প্রশিক্ষণ।

  • বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি: কাতার সায়েন্স ক্লাব এবং কাতার ক্যালেন্ডার হাউসের সাহায্যে মজার মজার বৈজ্ঞানিক ওয়ার্কশপ।

  • স্পোর্টস মিউজিয়াম সফর: ‘৩-২-১ কাতার অলিম্পিক অ্যান্ড স্পোর্টস মিউজিয়াম’ ঘুরে খেলাধুলার ইতিহাস ও ইতিবাচক দিক সম্পর্কে জানা।

নিরাপত্তা সংস্থা ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের এই যৌথ উদ্যোগ শিশুদের জন্য ছুটির সময়টাকে শুধু বিনোদন নয়, বরং নতুন কিছু শেখার নিরাপদ ও উদ্দীপনামূলক সুযোগ করে দিচ্ছে।