১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গুলশানের সেই তরুণীকে এখনো মিস করেন শাকিব খান!

প্রকাশ: সোমবার, জুলাই ২৭, ২০২৬
গুলশানের সেই তরুণীকে এখনো মিস করেন শাকিব খান!

‘ওকেই বিয়ে করতে চেয়েছিলাম’—অপূর্ণ প্রেমের গল্প শোনালেন শাকিব
জীবনে কখনো কারও প্রেমে পড়েনি, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল। হোক সে বিয়ের আগে প্রেম বা বিয়ের পরে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে প্রেম। তারকারও তার ব্যতিক্রম নন। কেননা তারাও রক্তে-মাংসে গড়া মানুষ। তাদের জীবনেও থাকে প্রেম, সম্পর্ক আর পরিণয়ের গল্প। তেমনি একজন চিত্রনায়ক শাকিব খান।

Advertisement


ঢালিউড এই মেগাস্টারের ব্যক্তিজীবন নিয়ে সাধারণত আলোচনায় আসে চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস ও শবনম বুবলীর নাম। কিন্তু এই দুই সম্পর্কের বাইরেও তার জীবনে ছিল আরেকটি গভীর ভালোবাসা। যা এতদিন ছিলো অজানা। প্রথম প্রেমের সেই গল্পই এবার শোনালেন মেগাস্টার।

জানালেন রাজধানীর গুলশানের ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করা এক তরুণীর প্রেমে পড়েছিলেন তিনি। তাকে বিয়েও করতে চেয়েছিলেন। তবে সেই সম্পর্ক বেশি দূর এগোয়নি। সম্পর্কের পরিণতি না হলেও এখনো সেই ভালোবাসা ভুলতে পারেননি শাকিব। কখনো কখনো সেই দিনের কথা মনে পড়লে এক ধরনের না-পাওয়ার বেদনা ও অনুশোচনায় ভরে ওঠে শাকিবের মন।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাতে দেশের বেসরকারি একটি টেলিভিশনের একটি অনুষ্ঠানে চিত্রনায়িকা পূর্ণিমার মুখোমুখি হয়ে জীবনের সেই প্রথম প্রেমের গল্পই শোনান চিত্রনায়ক।

Advertisement

জানা যায়, পূর্ণিমার উপস্থাপনায় ‘চাঁদ তারার গুঞ্জরণ’ নামের টক শোতে এসেছিলেন শাকিব খান। সেখানে চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারের পাশাপাশি ব্যক্তিজীবন নিয়েও কথা বলেন তিনি। সেই অনুষ্ঠানে নিজের অপূর্ণ প্রেমকাহিনির কথা শেয়ার করেন এই নায়ক।

শাকিব বলেন, ‘মনে মনে আমি তাকেই বিয়ে করতে চেয়েছিলাম। ওর পরিবার খুব ভালো, বনেদি পরিবার। দেখতে খুব সুন্দর ছিল। আমাকেও অনেক ভালোবাসত, আমিও।’

জানা যায়, অভিনয় জীবনের কয়েক বছর পরে সেই মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে শাকিব খানের। মেয়েটির পরিবার ছিল গুলশানের প্রতিষ্ঠিত ও উচ্চশিক্ষিত পরিবার। সম্পর্কও ভালোভাবেই এগোচ্ছিল।

প্রেম ভেঙে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে শাকিব খান বলেন, ‘বেশি ভালোবাসা থাকলে আমরা ছোট ছোট বিষয়ে অভিমান করি। একে অপরের প্রতি খুব মান-অভিমান হয়। ভালোবাসা বেশি ছিল, তাই ছোট ছোট বিষয়েও রাগ করে ফেলতাম। আসলে কী থেকে কী হয়ে গেল, বুঝে উঠতে পারিনি। বিষয়টি আমার কাছে মিস্ট্রি থেকে গেছে।’

এরপর পূর্ণিমা জানতে চান, সেই সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ায় তিনি রিগ্রেট ফিল করেন কি না। শাকিব খানের সোজাসাপটা উত্তর, ‘একদম, খুব।’

প্রথম প্রেমের কথা বলতে গিয়ে কিছুটা আবেগপ্রবণ হন শাকিব। তা আবার তুলে ধরেন পূর্ণিমা। শাকিব বলেন, ‘আমি ওখানেই সেটেল্ড হতে চেয়েছিলাম। মাঝে মাঝে একা বসে থাকলে ভাবি, আমি যেতে চাইলাম কোথায়? আমি কার সঙ্গে থাকতে চাইলাম, ভালোবাসলাম কাকে, আর আমি গেলাম কোথায়! কীভাবে ঘটনাটা ঘটল, আমি নিজেও বুঝতে পারিনি।’

এখনো ওই তরুণীকে মিস করেন কি না—জানতে চাইলে শাকিবের উত্তর ‘মাঝেমধ্যে মিস করি তাকে। তবে এখন আর যোগাযোগ নেই। যোগাযোগ আর করতে চাইনি। তার সেই আগের বাসার সামনে দিয়ে এখনো আমার যাতায়াত হয়, কিন্তু তার খোঁজ জানি না। সে আসলে অনেক ভালো কিছু ডিজার্ভ করে।’

প্রেম, প্রেমের সম্পর্কের কথা বলতে গিয়ে শেষে ভাগ্যের প্রসঙ্গ টেনে চিত্রনায়ক জানান, ‘আমরা অনেকেই ভাগ্যে বিশ্বাস করতে চাই না। কিন্তু জীবনে কিছু ঘটনা ঘটে, তখন মনে হয়—কিছু বিষয় আল্লাহ তার হাতেই রেখে দিয়েছেন।’

সেই ভালোবাসা পূর্ণতা না পেলেও পরবর্তী সময়ে শাকিব খান ভালোবেসে বিয়ে করেন চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস ও শবনম বুবলীকে। তবে এখন আর নিজের এই সম্পর্কগুলো নিয়ে কোনো কথা বলতে চাইলেন না তিনি।

ডিসেম্বরে বিয়ে করছেন মিমি, পাত্র নৌবাহিনীর সদস্য!

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
ডিসেম্বরে বিয়ে করছেন মিমি, পাত্র নৌবাহিনীর সদস্য!

পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী চলতি বছরই বিয়ের পিঁড়িতে বসতে চলেছেন—এমন খবর প্রকাশ করেছে পশ্চিমবঙ্গের গণমাধ্যম আনন্দবাজার ও সংবাদ প্রতিদিন। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ডিসেম্বরেই পাহাড়ি শহর কালিম্পঙে বসতে পারে মিমির বিয়ের আসর।

ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইতোমধ্যে বিয়ের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। চলছে শপিং ও নিমন্ত্রণপত্র বিলির কাজ। এমনকি বিয়ের আগে নভেম্বরেই আংটিবদল হতে পারে বলেও জানা গেছে। তবে বিয়ে নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেননি মিমি।

গুঞ্জনের পাশাপাশি আলোচনায় এসেছে অভিনেত্রীর হবু স্বামীর পরিচয়ও। শোনা যাচ্ছে, সিদ্ধার্থ নামের এক ব্যক্তি মিমির জীবনসঙ্গী হতে যাচ্ছেন, যিনি ভারতীয় নৌবাহিনীর সদস্য। টালিপাড়ার সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্ক নেই বলেই দাবি করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে মিমি কিংবা সিদ্ধার্থ—কেউই এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কিছু বলেননি।

মিমির প্রেম ও বিয়ে নিয়ে এর আগেও বিভিন্ন সময় গুঞ্জন ছড়িয়েছে। তবে অভিনেত্রী বরাবরই এসব বিষয়ে নীরব থেকেছেন। কয়েক বছর আগে বিয়ে নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানিয়েছিলেন, বিয়ে করতে হলে আগে পাত্র খুঁজতে হবে, দেখা-সাক্ষাতের জন্যও সময় প্রয়োজন—যেটা তখন তাঁর ছিল না। এবার সেই ব্যস্ত অভিনেত্রীর জীবনেই নাকি চুপিসারে এসেছেন বিশেষ কেউ।

২০১০ সালে ‘গানের ওপারে’ ধারাবাহিকে ‘পুপে’ চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে পরিচিতি পান মিমি। ২০১২ সালে ‘বাপি বাড়ি যা’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তাঁর। এরপর ‘বোঝে না সে বোঝে না’সহ একাধিক সিনেমায় অভিনয় করে জনপ্রিয়তা পান। ২০২৪ সালে শাকিব খানের বিপরীতে রায়হান রাফীর ‘তুফান’ সিনেমায় অভিনয়ের পর বাংলাদেশেও তাঁর জনপ্রিয়তা আরও বেড়ে যায়।

অভিনয়ের পাশাপাশি ২০১৯ সালে রাজনীতিতেও পা রাখেন মিমি। যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত হয়ে সংসদ সদস্য হন তিনি। বর্তমানে অভিনয়ের কাজ নিয়ে ব্যস্ত এই অভিনেত্রী। পূজায় মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ‘এম্পেরর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’।

প্রবাসীদের ‘কামলা’ বলায় তোপের মুখে নাট্যকার আজাদ

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
প্রবাসীদের ‘কামলা’ বলায় তোপের মুখে নাট্যকার  আজাদ

একটি মন্তব্যকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন বরেণ্য অভিনেতা ও বাচিকশিল্পী আজাদ আবুল কালাম। বিশেষ করে প্রবাসীদের একাংশ তাঁর বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে তাঁর মন্তব্যের ভিডিও ও বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া। কেউ কেউ অভিনেতার বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে তৈরি করছেন নানা মিমও।

সম্প্রতি ইতালির ভেনিসে একটি চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে গিয়ে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হাতে হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে খবর প্রকাশিত হয়।

বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধঘোষিত দলটির নেতাকর্মীদের এমন আচরণের প্রতিবাদে দেশের শোবিজ অঙ্গনের অনেকেই বাঁধনের পাশে দাঁড়ান।

এরই ধারাবাহিকতায় বাঁধনের প্রতি সংহতি ও ভালোবাসা জানিয়ে একটি টেলিভিশন চ্যানেলে কথা বলেন অভিনেতা ও টেলিভিশন অভিনয় শিল্পী সংঘের সভাপতি আজাদ আবুল কালাম। সেখানে একপর্যায়ে প্রবাসীদের উদ্দেশে ‘ইউরোপে কামলা খেটে চলে’ মন্তব্য করেন তিনি। এরপরই বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয় তীব্র প্রতিক্রিয়া।

প্রবাসীদের অভিযোগ, বিদেশের মাটিতে কঠোর পরিশ্রম করে পরিবার ও দেশের জন্য অর্থ পাঠানো মানুষদের এভাবে সম্বোধন করা অসম্মানজনক।

তাঁদের অনেকে আজাদ আবুল কালামের ছবি ও বক্তব্যের ভিডিও প্রকাশ করে ক্ষোভ জানিয়েছেন।তাঁদের ভাষ্য, প্রবাসীরা পরিবার-পরিজন ছেড়ে বিদেশে গিয়ে কঠোর পরিশ্রম করেন এবং নিয়মিত দেশে রেমিট্যান্স পাঠান। দেশের অর্থনীতিতে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তাই একজন বরেণ্য অভিনেতার কাছ থেকে প্রবাসীদের নিয়ে এমন মন্তব্য তাঁরা প্রত্যাশা করেননি।

শুধু প্রবাসীরাই নন, দেশে থাকা তাঁদের পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের অনেকেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

পাশাপাশি শোবিজ অঙ্গনের কয়েকজন শিল্পী ও কলাকুশলীও বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, কোনো পেশাকেই অবজ্ঞা বা ছোট করে দেখা উচিত নয়।

এদিকে আজাদ আবুল কালামের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ তাঁকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ তুলে সমালোচনা করেছেন।

তাঁদের দাবি, গত ১৭ বছরে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রচার-প্রচারণায় অভিনেতার কণ্ঠ শোনা গেছে। ফলে এখন ভেনিসে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সমালোচনা করতে গিয়ে প্রবাসীদের ‘কামলা’ বলা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তাঁরা।

তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আজাদ আবুল কালামের পক্ষেও অনেকে অবস্থান নিয়েছেন। তাঁদের দাবি, অভিনেতা ইউরোপে থাকা সব প্রবাসীকে উদ্দেশ করে মন্তব্যটি করেননি। বরং আজমেরী হক বাঁধনকে হেনস্তার ঘটনায় জড়িত নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের প্রসঙ্গেই তিনি এমন মন্তব্য করেছেন বলে তাঁদের মত।

সব মিলিয়ে আজাদ আবুল কালামের মন্তব্যকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নিজের বক্তব্য নিয়ে আজাদ আবুল কালামের পক্ষ থেকে নতুন কোনো ব্যাখ্যা বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

অপরাধ শো-এর উপস্থাপিকাই মাদক কারবারি! মিসরে মৃত্যুদণ্ডের রায়

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৬
অপরাধ শো-এর উপস্থাপিকাই মাদক কারবারি! মিসরে মৃত্যুদণ্ডের রায়

মিশরে টিভি উপস্থাপিকাসহ ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড

মাদক তৈরি ও পাচারের মামলায় মিসরের জনপ্রিয় টেলিভিশন উপস্থাপিকা সারাহ খলিফাসহ ১২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। তাঁদের বিরুদ্ধে মাদক তৈরির উপকরণ আমদানি, মাদক উৎপাদন ও পাচারের উদ্দেশ্যে সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র গঠনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংবাদপত্র আল-আহরামের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এএফপি জানিয়েছে, কায়রোর একটি আদালত সারাহ খলিফা ও অপর ১১ আসামিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার রায় দেন। তাঁদের বিরুদ্ধে মাদক তৈরিতে ব্যবহৃত উপকরণ সংগ্রহ করে তা দিয়ে মাদক উৎপাদন ও পাচারের পাশাপাশি লাইসেন্সবিহীন আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি রাখার অভিযোগও রয়েছে।

৩৯ বছর বয়সী সারাহ খলিফা মিসরে ‘মিশন ইমপসিবল’ নামের একটি অনুষ্ঠানের উপস্থাপিকা হিসেবে পরিচিত। অনুষ্ঠানটিতে নিরাপত্তা ও অপরাধসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হতো। তিনি তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

সারাহ খলিফার দাবি, মাদকবিরোধী সংস্থার কর্মকর্তারা তাঁকে মাদকের সামনে দাঁড় করিয়ে ছবি তুলেছেন। তাঁর ভাষ্য, জীবনে এর আগে তিনি কখনো মাদক দেখেননি।

রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আখবার এল-ইয়োম জানিয়েছে, আসামিদের বিরুদ্ধে বিদেশ থেকে মাদক তৈরির উপকরণ আমদানি করে কৃত্রিম মাদক উৎপাদন ও তা পাচারের উদ্দেশ্যে রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে।

আল-আহরামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামলায় আসামিদের কাছ থেকে ৭৫০ কেজির বেশি মাদক ও মাদক তৈরির কাঁচামাল জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া মাদক তৈরির জন্য ব্যবহৃত দুটি অ্যাপার্টমেন্টকে পরীক্ষাগার হিসেবে ব্যবহার করার তথ্য পাওয়া গেছে। সেখান থেকে লাইসেন্সবিহীন আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিও উদ্ধার করা হয়।

মামলার বিচারকাজে ২০ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। পাশাপাশি আসামিদের মধ্যে কথোপকথনের রেকর্ড ও ভিডিওসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।

রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া সারাহ খলিফাসহ কয়েকজনকে এক তরুণকে অপহরণ ও মারধরের পৃথক মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। সারাহ খলিফার একটি কসমেটিক সার্জারি ক্লিনিক ও অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।

‘হানিয়া কি নেশাগ্রস্ত’, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তুমুল বিতর্ক

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২৭, ২০২৬
‘হানিয়া কি নেশাগ্রস্ত’, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তুমুল বিতর্ক

সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন করে আলোচনার তুঙ্গে উঠে এসেছেন পাকিস্তানের জনপ্রিয় অভিনেত্রী হানিয়া আমির। সম্প্রতি ইন্টারনেটে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে তার শারীরিক হাবভাব এবং অসংলগ্ন কথাবার্তা নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। নিজের টিম ও মেকআপ শিল্পীদের সঙ্গে কথা বলার সময় তার কণ্ঠস্বর জড়িয়ে যাওয়া এবং ঢুলুঢুলু চোখ দেখে অনেকেই তাকে ‘নেশাগ্রস্ত’ বলে দাবি করছেন, যদিও ভক্তদের একাংশের মতে তিনি কেবলই উদযাপনের আনন্দে মেতে ছিলেন।

অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওটিতে দেখা যায়, হানিয়া আমির হ্যালোউইন উৎসবের জন্য নিজের চুল সাজাতে ব্যস্ত। হেয়ার স্টাইলিস্টকে নিজের আসল চুল লুকিয়ে একটি উইগ পরিয়ে দিতে বলছেন তিনি। সাজগোজের পুরো সময়জুড়েই তাকে অত্যন্ত উৎফুল্ল এবং উদযাপন নিয়ে দারুণ উত্তেজিত অবস্থায় দেখা যায়। তবে ভিডিওটি ঠিক কোন স্থানে এবং কোন সময়ে ধারণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্যের উল্লেখ পাওয়া যায়নি।

ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসতেই মন্তব্যের ঘরে নানা প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ দর্শকরা। কেউ কেউ তার তোতলামি ও ঝিমুনো ভাব লক্ষ করে কঠোর মন্তব্য করেছেন। এক নেটিজেন কটাক্ষ করে লেখেন যে, ইন্ডাস্ট্রি এখন ধ্বংসের পথে এবং হানিয়া আমির মাদক, ইনজেকশন ও অ্যালকোহলের মতো খারাপ অভ্যাসে আসক্ত হয়ে পড়েছেন।

অন্য এক ব্যবহারকারী ক্ষোভ প্রকাশ করে মন্তব্য করেন, কোনো পার্লারে বসে তিনি এতটাই মাতাল হয়ে আছেন যে ঠিকমতো কথা বলতে পারছেন না, এমনকি হেয়ার স্টাইলিস্টের থেকেও নাকি আলাদা অনুভূতি পাচ্ছেন। বিশ্বজুড়ে মদ কি নারীদেরও এভাবে গ্রাস করে নিল—এমন প্রশ্ন তুলেছেন সেই নেটিজেন। পরিস্থিতি হালকা করার কোনো সুযোগ না দেখে আরও এক ব্যক্তি মন্তব্য করেন যে, তারকাদের মনে রাখা উচিত চারপাশে ক্যামেরা রয়েছে, কারণ ঘটনাটিকে বেশ বিশৃঙ্খল মনে হচ্ছে।

তবে সমালোচনার কড়া জবাব দিয়ে হানিয়ার পাশে দাঁড়িয়েছেন তার বহু অনুরাগী ও সাধারণ দর্শক। এক নেটিজেন লেখেন, মনে হচ্ছে তিনি সদ্য ঘুম থেকে উঠে শুটিং বা দৈনন্দিন কাজের জন্য তৈরি হচ্ছেন; এর মধ্যে মাদক বা মদ খাওয়ার মতো কিছু নেই যা দাবি করা হচ্ছে। অন্যাংশের মতে, সাধারণ একটা মেয়ে যখন নিজের চুল সাজাচ্ছে, তখন সবাই অযথা কেলেঙ্কারি খোঁজার চেষ্টা করছে। আবার অনেকেই অভিনেত্রীকে পরামর্শ দিয়ে লিখেছেন, সবাই হানিয়াকে প্রাণবন্ত ও চঞ্চল দেখতে পছন্দ করে, কিন্তু নেশাগ্রস্ত বা অন্য কিছুর প্রভাবে থাকা অবস্থায় নয়।

সোশ্যাল মিডিয়াজুড়ে এত জল্পনা-কল্পনা ও তর্কবিতর্ক চললেও এখন পর্যন্ত হানিয়া আমির কিংবা তার দলের পক্ষ থেকে এই ভাইরাল ভিডিওটি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বর্তমানে জনপ্রিয় এই পাকিস্তানি তারকাকে বিলাল আব্বাস খানের সঙ্গে ‘মেরি জিন্দেগি হ্যায় তু’ নাটকে মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করতে দেখা যাচ্ছে।

সূত্র: এনডিটিভি

পাকিস্তানে জনপ্রিয় টিকটক তারকাকে গুলি করে হত্যা

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ১৭, ২০২৬
পাকিস্তানে জনপ্রিয় টিকটক তারকাকে গুলি করে হত্যা

পাকিস্তানের জনপ্রিয় এক টিকটক তারকাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। গত শুক্রবার ইসলামাবাদে এ ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘আয়েশা গিলামানা’ নামে পরিচিত এই তরুণীর টিকটকে প্রায় ১৩ লাখ অনুসারী ছিল।

গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহত ওই নারী কনটেন্ট ক্রিয়েটরের নাম শামসো বিবি। তার বাবা ফজল সাহেবজাদার দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে।

বিবির বাবা পুলিশকে জানান, ঘটনার দিন কাশিফ নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে তার মেয়ে একটি ফোন কল পান। ফোনে তাকে বাড়ির বাইরে আসতে বলা হয়েছিল।

ফোন পাওয়ার পর বিবি তার ১৫ বছর বয়সী বোন আসিমা এবং ভাই নেয়ামতুল্লাহকে নিয়ে বের হন। তারা গাড়িতে করে যাওয়ার সময় একটি পেট্রল পাম্পের কাছে মোটরবাইকে থাকা দুই অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে শুরু করে।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, একটি গুলি বিবির ঘাড়ে বিদ্ধ হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাদের গাড়িটি অন্য একটি গাড়িকে ধাক্কা দিলে তার বোন আসিমা গুরুতর আহত হন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী বিবির বাবা পুলিশকে আরও জানিয়েছেন, কাউসার এবং জাভেদ নামের দুই ব্যক্তির সঙ্গে তার মেয়ের আর্থিক লেনদেন ছিল। তার অভিযোগ, অর্থ ফেরতের দাবি নিয়ে বিবিকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এ নিয়ে পূর্বে ইসলামাবাদে ওই দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছিলেন তিনি।

নিহতের বাবার দেয়া তথ্যমতে, বিবি প্রায় তিন থেকে চার বছর ধরে টিকটক ভিডিও তৈরি করছিলেন। প্ল্যাটফর্মটিতে তার প্রায় ১৩ লাখ ফলোয়ার ছিল।