কাতারের সামুদ্রিক পরিবেশ ও উপকূল রক্ষা করতে দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ম্যানগ্রোভ বন বাঁচানো এবং তা আরও বড় করার উদ্যোগ নিয়েছে পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। 'আন্তর্জাতিক ম্যানগ্রোভ সংরক্ষণ দিবস' উপলক্ষে সম্প্রতি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমানে কাতারে প্রায় ১৪ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে ম্যানগ্রোভ বন রয়েছে।
এর মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি—অর্থাৎ ৭ বর্গকিলোমিটারের বেশি এলাকা রয়েছে সংরক্ষিত 'আল থাখিরা প্রকৃতি অঞ্চলে'।
কাতারের আল থাখিরা, আল খোর, আল ওয়াকরাহ, মেসাইদ, ফুওয়াইরিত, আল রুওয়াইস এবং আল আলিয়া দ্বীপের মতো উপকূলীয় জায়গাগুলোতে এসব ম্যানগ্রোভ বন ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।
শুধু চারা লাগানো নয়, টেকসই বৃদ্ধিই আসল লক্ষ্য
মন্ত্রণালয়ের বন্যপ্রাণী বিভাগের পরিচালক খালিদ জুমা আল-মোহান্নাদি জানান, ম্যানগ্রোভ বন রক্ষার মূল বিষয় শুধু হাজার হাজার চারা লাগানো নয়। চারাগুলো ঠিকমতো টিকে থাকছে কি না—সেটাই আসল কথা।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন:
"কতগুলো চারা রোপণ করা হলো, সাফল্য তার ওপর নির্ভর করে না। চারাগুলো জোয়ার-ভাটা আর লোনা পানি সহ্য করে স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠছে কি না এবং সামুদ্রিক প্রাণীদের আশ্রয় দিতে পারছে কি না—সেটাই বড় বিষয়।"
তিনি আরও জানান, নিয়ম না মেনে যত্রতত্র গাছ কাটা বন্ধ করা, গাছগুলোকে প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠার সুযোগ দেওয়া এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করাই মন্ত্রণালয়ের মূল কৌশল। কোথাও কোনো ম্যানগ্রোভ রোপণ করতে চাইলে অবশ্যই মন্ত্রণালয়ের আগাম অনুমতি নিতে হবে।
কাতার ও পরিবেশের জন্য কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?
ম্যানগ্রোভ বন কেবল পরিবেশ রক্ষা করে না, বরং দেশের জন্য নানাভাবে বড় ভূমিকা রাখছে:
দূষণ কমানো: ম্যানগ্রোভ বন বাতাস ও মাটি থেকে প্রচুর পরিমাণে ক্ষতিকর কার্বন টেনে নিয়ে বাতাস পরিষ্কার রাখে।
উপকূলের সুরক্ষা: ঝড় ও সমুদ্রের তীব্র ঢেউয়ের হাত থেকে উপকূলীয় এলাকা ও মাটিকে ভাঙন থেকে বাঁচায়।
মাছ ও পাখির আশ্রয়: সামুদ্রিক মাছ, চিংড়ি ও বিভিন্ন দেশি-বিদেশি পাখির নিরাপদ জন্ম ও বসবাস নিশ্চিত করে।
পর্যটন ও বিনোদন: আল থাখিরার মতো ম্যানগ্রোভ এলাকাগুলো এখন কায়াকিং ও পরিবেশ-প্রেমীদের কাছে ঘোরাঘুরির জনপ্রিয় জায়গায় পরিণত হয়েছে।
উপকূলীয় পরিবেশ রক্ষা আর জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কা সামলাতে মন্ত্রণালয়ের এই উদ্যোগকে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও কার্যকর হিসেবে দেখা হচ্ছে।