ডায়াবেটিস রোগীদের বারবার আঙুল ফোটানোর কষ্ট থেকে মুক্তি দিতে 'গ্লুকোওয়াচ' নামের এক নতুন স্মার্টওয়াচ উদ্ভাবন করেছেন কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। রক্ত না তুলে বা কোনো ধরনের ব্যথা ছাড়াই ডিভাইসটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে রক্তে গ্লুকোজের সঠিক মাত্রা মেপে দিতে পারবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. খালিদ আবু আল সৌদ-এর নেতৃত্বে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের একদল ছাত্রী—নোরা আল বার্দিনি, মাজুন আল শাহওয়ানি, ফাতিমা আল কাবী ও সারা আল মুহান্নাদি এই সাফল্য অর্জন করেছেন। উদ্ভাবনটি ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে পেটেন্টের জন্য নিবন্ধিত হয়েছে।
কীভাবে কাজ করে এই 'গ্লুকোওয়াচ'?
গ্লুকোওয়াচ মূলত হৃদস্পন্দনের গতি, রক্তচাপের রিডিং ও আনুষঙ্গিক তথ্য বিশ্লেষণ করে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে গ্লুকোজের পরিমাণ হিসাব করে।
এর মূল সুবিধাগুলো হলো:
-
ব্যথামুক্ত পর্যবেক্ষণ: কোনো সূঁচ না ফুটিয়ে বা রক্ত না তুলে স্বাভাবিক উপায়ে গ্লুকোজ মাপা যায়।
-
মোবাইল অ্যাপ: একটি স্মার্টফোন অ্যাপের মাধ্যমে ব্যবহারকারী নিজেই নিজের স্বাস্থ্যের আপডেট দেখতে পারবেন।
-
জরুরি সংকেত: গ্লুকোজের মাত্রা বেশি বা কম হলে সাথে সাথে অ্যাপের মাধ্যমে সতর্কবার্তা চলে আসবে, যা চাইলে চিকিৎসক বা স্বজনদের কাছেও পাঠানো যাবে।
প্রজেক্ট থেকে আন্তর্জাতিক স্বর্ণপদক
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি সাধারণ গ্র্যাজুয়েশন প্রজেক্ট হিসেবে কাজটির যাত্রা শুরু হয়েছিল, যা পরে পূর্ণাঙ্গ গবেষণায় রূপ নেয়। ২০২৩ সালে কুয়েতে অনুষ্ঠিত ‘ইন্টারন্যাশনাল ইনভেনশন ফেয়ার অফ দ্য মিডল ইস্ট’-এ এই উদ্ভাবনটি স্বর্ণপদক জয় করে।
সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্য
গবেষক দলটি এখন এর এআই মডেলকে আরও নিখুঁত করার কাজ চালাচ্ছে, যাতে ডিভাইসটির হিসাব একদম নিখুঁত হয়। সব ধরনের বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদন পাওয়ার পর এটি বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
ড. আবু আল সৌদ জানান, 'কাতার ন্যাশনাল ভিশন ২০৩০'-এর অংশ হিসেবেই এই গবেষণা পরিচালিত হয়েছে। অনুমোদন পেলেই সাশ্রয়ী মূল্যে কাতারসহ বিশ্বের ডায়াবেটিস রোগীদের হাতে এটি তুলে দেওয়া সম্ভব হবে।