২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কাতারের সরকারি সেবার মান যাচাইয়ে গ্রাহক সন্তুষ্টি জরিপ চালু!

প্রকাশ: রবিবার, আগস্ট ০৯, ২০২৬
কাতারের সরকারি সেবার মান যাচাইয়ে গ্রাহক সন্তুষ্টি জরিপ চালু!

কাতারের সরকারি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিষেবা গ্রহীতাদের অভিজ্ঞতার মান যাচাই এবং সন্তুষ্টির মাত্রা পরিমাপের লক্ষ্যে একটি বৃহৎ সমীক্ষার (Customer Satisfaction Survey) আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়েছে। গত ৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখে দেশটির 'জাতীয় পরিকল্পনা পরিষদ' (National Planning Council), 'বেসামরিক পরিষেবা ও সরকারি উন্নয়ন ব্যুরো'র (Civil Service and Government Development Bureau) সাথে যৌথ সমন্বয়ে এই সমীক্ষা চালুর ঘোষণা দেয়।

প্রদত্ত সরকারি পরিষেবার সার্বিক মূল্যায়ন এবং নাগরিকদের মতামত গ্রহণের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সেবা খাতকে আরও আধুনিকায়ন করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

সমীক্ষার লক্ষ্য ও ‘তৃতীয় জাতীয় উন্নয়ন কৌশল’

জাতীয় পরিকল্পনা পরিষদ সূত্রে জানানো হয়, সরকারি পরিষেবার গুণগত মান সম্পর্কে সরাসরি সেবাগ্রহীতাদের গঠনমূলক মতামত ও অভিজ্ঞতা শনাক্ত করাই এই জরিপের প্রধান লক্ষ্য। এই উদ্যোগটির সাফল্য কাতারের রূপকল্প বাস্তবায়নে ঘোষিত 'তৃতীয় জাতীয় উন্নয়ন কৌশল' (Third National Development Strategy)-এর লক্ষ্য অর্জনে সরাসরি বিশেষ অবদান রাখবে।

জনগণের অংশগ্রহণের সুফল ও গুরুত্ব:

  • পরিষেবার মানোন্নয়ন: রাষ্ট্রীয় পরিষেবাগুলোর মানধারায় ধারাবাহিক ও ইতিবাচক পরিবর্তন আনা।

  • গ্রাহক অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধকরণ: সাধারণ নাগরিক ও বাসিন্দাদের দৈনন্দিন সেবা প্রাপ্তির প্রক্রিয়া সহজ ও গতিশীল করা।

  • উদ্ভাবন ও দক্ষতা: সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে কাজের দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও নিত্যনতুন উদ্ভাবনী প্রযুক্তির প্রয়োগ নিশ্চিত করা।

জনসাধারণের প্রতি আহ্বান:

সরকারের পক্ষ থেকে সাধারণ নাগরিক, বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের এই সমীক্ষায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়ে তাঁদের মূল্যবান অভিজ্ঞতা ও মতামত শেয়ার করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। জনগণের এই সুনির্দিষ্ট মতামত কাতার সরকারের প্রতিটি ডিজিটাল ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিষেবাকে আরও বিশ্বমানের করে তুলতে সরাসরি সাহায্য করবে।

গাজা শান্তি পরিকল্পনার পথে বড় বাধা নেতানিয়াহু: কাতার

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬
গাজা শান্তি পরিকল্পনার পথে বড় বাধা নেতানিয়াহু: কাতার

গাজা শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে দায়ী করেছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন জসিম আল থানি। তাঁর অভিযোগ, গাজা চুক্তির আওতায় ইসরায়েল যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সেগুলো পূরণ করা হচ্ছে না; বরং নেতানিয়াহু ও তাঁর উগ্র ডানপন্থী সরকারের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

কাতারের প্রধানমন্ত্রী বলেন, গাজা চুক্তি লঙ্ঘনের বেশ কিছু ঘটনা ইতোমধ্যে ঘটেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে শান্তি পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন নেতানিয়াহু।

তবে এসব অভিযোগের মধ্যেও মধ্যস্থতাকারীরা গাজা চুক্তির শর্তগুলো পক্ষগুলোকে মেনে চলাতে এবং শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আলে সানি এর আগেও অভিযোগ করেছিলেন, ইসরায়েল গাজা চুক্তির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছে না। তাঁর দাবি, একই সময়ে গাজায় প্রাণহানি অব্যাহত রয়েছে এবং উপত্যকায় পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা প্রবেশেও বাধা দেওয়া হচ্ছে।

কাতার গাজা যুদ্ধ ও সংশ্লিষ্ট চুক্তিগুলোতে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর অন্যতম। ফলে চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্য চলমান শান্তি প্রচেষ্টায় ইসরায়েলের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

হিমায়িত মুরগি ও নির্দিষ্ট কৃষিপণ্যের আমদানি শুল্ক বাড়াল কাতার

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
হিমায়িত মুরগি ও নির্দিষ্ট কৃষিপণ্যের আমদানি শুল্ক বাড়াল কাতার

স্থানীয় উৎপাদকদের সুরক্ষা এবং আমদানি নীতিতে সামঞ্জস্য আনতে নির্বাচিত খাদ্য ও কৃষিপণ্যের শুল্ক হার বৃদ্ধি করেছে কাতার। দেশটির আমির মহামান্য শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি ২০২৬ সালের ৪৫ নম্বর আমিরি ডিক্রি জারির মাধ্যমে এই নতুন শুল্ক হার অনুমোদন করেছেন। গত ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বিচার মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত অফিসিয়াল গেজেটের ১৭তম সংখ্যায় ডেক্রিটি প্রকাশ করা হয়।

কাতারের সংবিধান, সংশোধিত কাস্টমস আইন (২০০২ সালের ৪০ নম্বর আইন) এবং শুল্ক অব্যাহতি ও সমন্বিত শুল্ক সংক্রান্ত পূর্ববর্তী ডেক্রিগুলোর পর্যালোচনার ভিত্তিতে এই নতুন আদেশ জারি করা হয়েছে।

শীতলীকৃত মুরগির শুল্ক বাড়িয়ে ১৮ শতাংশ নির্ধারণ

ডেক্রির প্রথম অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু তাজা ও হিমায়িত মুরগির মাংস আমদানিতে শুল্ক বাড়িয়ে ১৮ শতাংশ করা হয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে—আস্ত তাজা বা হিমায়িত মুরগি, হিমায়িত মুরগির বুক, মুরগির উরু, মুরগির ডানা।

নির্দিষ্ট কৃষিপণ্যে ১৫ শতাংশ শুল্ক

ডিক্রির দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ফসলের ভরা মৌসুমে নির্দিষ্ট কিছু কৃষিপণ্যের আমদানিতে ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। পণ্যের ধরন অনুযায়ী এই সময়ের মেয়াদ ভিন্ন হয়ে থাকে:

  • টমেটো: জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি, মার্চ, এপ্রিল এবং মে মাসে এই ১৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হবে।

  • বেগুন: জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি, মার্চ, এপ্রিল, নভেম্বর এবং ডিসেম্বর মাসে শুল্ক প্রযোজ্য হবে।

  • করলা বা জুকিনি: জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি, মার্চ, এপ্রিল, অক্টোবর, নভেম্বর এবং ডিসেম্বর মাসে এই শুল্ক কার্যকর থাকবে।

নতুন শুল্ক কবে থেকে কার্যকর হবে?

ডেক্রির তৃতীয় অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষকে নিজ নিজ এখতিয়ারের মধ্যে এই ডেক্রি বাস্তবায়ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অফিসিয়াল গেজেটে প্রকাশের ৬০ দিন পর থেকে এই নতুন শুল্ক নীতি কার্যকর হবে। যেহেতু ডেক্রিটি গত ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত হয়েছে, তাই নির্ধারিত ৬০ দিন মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন শুল্কহার কার্যকর হবে।

সমন্বিত কাস্টমস শুল্ক নীতির নিয়মিত হালনাগাদের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য নির্দিষ্ট মৌসুমে দেশীয় কৃষিপণ্যের বাজার সুরক্ষা করা।

গাজায় মানবিক সংকট নিরসনে কাতার, জর্ডান ও যুক্তরাজ্যের ‘কল টু অ্যাকশন’ বৈঠক

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
গাজায় মানবিক সংকট নিরসনে কাতার, জর্ডান ও যুক্তরাজ্যের ‘কল টু অ্যাকশন’ বৈঠক

নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাইডলাইনে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার শোচনীয় মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে একটি বিশেষ “কল টু অ্যাকশন” বৈঠকের আয়োজন করেছে কাতার, জর্ডান ও যুক্তরাজ্য। গত শুক্রবার অনুষ্ঠিত এই ত্রিমুখী বৈঠকে কাতারের প্রতিনিধিত্ব করেন কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. মোহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ বিন সালেহ আল-খুলাইফি।

বৈঠকে দেওয়া বক্তব্যে ড. আল-খুলাইফি ফিলিস্তিন জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে কাতারের সর্বোচ্চ গুরুত্বের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, গাজায় একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি অর্জন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত এবং নিরাপত্তা পরিষদের ২৮০৩ নম্বর রেজুলেশনে অনুমোদিত ব্যাপকভিত্তিক ২০ দফার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে কাতারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা।

কাতারের মানবিক ও চিকিৎসা সহায়তা

দাপ্তরিক কূটনৈতিক তৎপরতার পাশাপাশি গাজায় ব্যাপক মানবিক উদ্যোগ চালিয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে ড. আল-খুলাইফি জানান, কাতার ইতোমধ্যে প্রায় ৪ লাখ ৩৬ হাজার মানুষকে খাদ্য, নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী ও তাঁবু সরবরাহ করেছে। এছাড়া, শেখ হামাদ বিন খলিফা আল-থাকি রিহ্যাবিলিটেশন অ্যান্ড প্রস্থেটিকস হাসপাতালের কার্যক্রম পুনরায় চালুর বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন।

তিনি আরও জানান, গত তিন বছরে গাজায় প্রায় ৩ কোটি লিটার জ্বালানি সরবরাহ করেছে কাতার। সম্প্রতি চিকিৎসা কেন্দ্র ও জরুরি সেবাগুলোর কার্যক্রম সচল রাখতে জাতিসংঘর সাথে নতুন একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার আওতায় আরও ১৩ লাখ লিটার জ্বালানি সরবরাহ করা হবে।

শীতের আগে জরুরি সহায়তার আহ্বান

গাজায় দ্রুত, টেকসই এবং বাধাহীন মানবিক সহায়তা পৌঁছানো নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, মানবিক সংস্থাগুলোকে নিরাপদে তাদের দায়িত্ব পালন করতে দিতে হবে এবং স্বাস্থ্যকর্মী, চিকিৎসা কেন্দ্র ও চিকিৎসা পরিবহন ব্যবস্থার নিরাপত্তা রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে আসন্ন শীত মৌসুমের কথা মাথায় রেখে গাজাবাসীর জন্য দ্রুত আশ্রয়ণ কেন্দ্র, নিরাপদ পানীয় জল এবং স্যানিটেশন সেবা নিশ্চিত করার তাগিদ দেন তিনি।

বক্তব্যের শেষে ড. আল-খুলাইফি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ফিলিস্তিনের জরুরি মানবিক চাহিদা পূরণ, পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠন প্রচেষ্টাকে সমর্থন করতে আন্তর্জাতিক অংশীদার এবং পিস বোর্ডের সাথে কাতার তার কাজ চালিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর, যার চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো একটি ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা।

জাতিসংঘের কাউন্টার-টেররিজম ট্রাস্ট ফান্ডে কাতারের অনুদান ১৪১ মিলিয়ন ডলার

প্রকাশ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬
জাতিসংঘের কাউন্টার-টেররিজম ট্রাস্ট ফান্ডে কাতারের অনুদান ১৪১ মিলিয়ন ডলার

সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা ও প্রতিরোধকে নিজেদের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম শীর্ষ অগ্রাধিকার হিসেবে পুনর্ব্যক্ত করেছে কাতার। গত ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে কাতার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বৈশ্বিক সন্ত্রাস দমনে দেশটির দীর্ঘমেয়াদী প্রতিশ্রুতি এবং জাতিসংঘের সাথে অংশীদারিত্বের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।

বিবৃতিতে জানানো হয়, ২০১৯ সাল থেকে জাতিসংঘ কাউন্টার-টেররিজম অফিস বা ইউএনওসিটি (UNOCT)-এর ট্রাস্ট ফান্ডের সবচেয়ে বড় দাতা দেশ হলো কাতার। এ পর্যন্ত দেশটির মোট আর্থিক অনুদানের পরিমাণ ১৪১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে, যা এই তহবিলে আসা মোট অনুদানের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।

কাতারের বিশেষ ভূমিকা ও অবদানসমূহ:

  • সবচেয়ে বড় দাতা: ২০১৯ সাল থেকে জাতিসংঘ কাউন্টার-টেররিজম অফিসে এককভাবে সর্বোচ্চ আর্থিক অবদান রেখে চলেছে কাতার।

  • দোহায় আন্তর্জাতিক কেন্দ্র: সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আচরণগত অন্তর্দৃষ্টি সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক কেন্দ্র এবং সংসদীয় সম্পৃক্ততা বিষয়ক ইউএনওসিটি প্রোগ্রাম অফিস দোহার মাটিতে hosted বা পরিচালিত হচ্ছে।

  • সক্ষমতা বৃদ্ধি: দোহায় অবস্থিত ইউএনওসিটি প্রোগ্রাম অফিসের কার্যক্রম আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার জন্য কাতার নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে।

  • বৈশ্বিক কৌশলগত আলোচনা: জাতিসংঘের বৈশ্বিক সন্ত্রাস দমন কৌশল পর্যালোচনা সংক্রান্ত রেজুলেশনের যৌথ আলোচনায় ইসলামিক গ্রুপের অংশ হিসেবে কাতার সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছে।

বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা, নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে একযোগে সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে কাতার সবসময় তার কূটনৈতিক ও আর্থিক সহায়তা অব্যাহত রাখবে বলে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর ভিত্তিহীন অভিযোগ জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করল কাতার

প্রকাশ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর ভিত্তিহীন অভিযোগ জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করল কাতার

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দেওয়া বক্তব্য তীব্র ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেছে কাতার। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সরকারি মুখপাত্র এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাজেদ আল আনসারি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই কড়া প্রতিক্রিয়া জানান।

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে দেওয়া বক্তৃতায় ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছিলেন যে, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বিশ্বমতের নেতিবাচক প্রভাব তৈরি করতে এবং জনমত প্রভাবিত করতে একটি সুনির্দিষ্ট প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে কাতার।

ড. মাজেদ আল আনসারি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, কাতার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর এসব ভিত্তিহীন অভিযোগ সম্পূর্ণ এবং দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রত্যাখ্যান করছে। তাঁর মতে, ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ ভূখণ্ডে ইসরায়েলি সরকার যে নৃশংসতা ও ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি করেছে, মূলত বিশ্ববাসীর দৃষ্টি সেই দিক থেকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতেই এই ধরনের কাল্পনিক অভিযোগ তোলা হচ্ছে।

বৈশ্বিক জনমত, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মাঝে ইসরায়েলবিরোধী মনোভাবের যে নজিরবিহীন পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে, তাকে কোনো ‘প্রভাব বিস্তারের প্রচারণা’ বলে ছোট করাকে একটি প্রজন্ম ও তাদের ন্যায়বোধের প্রতি চরম অবমাননা বলে উল্লেখ করেছে কাতার। বিশ্ববাসী সরাসরি চোখের সামনে যা দেখছে, তার ওপর ভিত্তি করেই নিজেদের মতামত তৈরি করছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।

ড. মাজেদ আল আনসারি আরও উল্লেখ করেন যে, বিশ্বমতের এই পতনের জন্য কাতার বা অন্য কাউকে বলির পাঁঠা খোঁজার চেষ্টা না করে ইসরায়েলি নেতৃত্বকে নিজেদের নীতি পরিবর্তন করতে হবে। আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা এবং নিজেদের কাজের দায়ভার নিজ দেশের জনগণের কাছে স্বীকার করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, বারবার কাতারকে নিশানা করার মূল উদ্দেশ্য হলো নিজেদের রাজনৈতিক ব্যর্থতা ও মাঠপর্যায়ের অপরাধ ঢাকাকে আড়াল করা।