লিওনেল মেসির পিতা হোর্হে মেসির মৃত্যুতে শোক নেমে এসেছে আর্জেন্টিনায়। দীর্ঘদিন ক্যান্সারে ভোগার পর আর্জেন্টিনার স্থানীয় সময় গত শুক্রবার রাতে রোজারিওর একটি ক্লিনিকে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। রোজারিওর উপকণ্ঠে পেরেজ শহরের ‘এল প্রাদো’ সিমেট্রিতে ৬৮ বছর বয়সী হোর্হে মেসিকে গতকাল রোববার সমাহিত করা হয়েছে। কঠোর নিরাপত্তায় অনাড়ম্বর এই শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে মেসি পরিবারের বাইরে কেউ ছিলেন না। মেসির জাতীয় দলের সতীর্থরা রোজারিওর বাড়িতে গিয়ে শোক জানান।
পিতার মৃত্যুসংবাদ পেয়ে শনিবার রাতেই স্ত্রী রোকুজ্জো আন্তোনেলা ও সন্তানদের নিয়ে রোজারিওতে পৌঁছান মেসি। টিওয়াইসি স্পোর্টস জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রোববার দুপুরে শেষকৃত্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পিতাকে শেষ বিদায় জানান মেসি। পেরেজ শহরের সিমেট্রিতে ওই প্রাইভেট শেষকৃত্যে মেসির স্ত্রী, মেসির ভাই ম্যাথিয়াস, রদ্রিগো, বোন মারিয়াসহ ঘনিষ্ঠ আত্মীয়রা ছিলেন কেবল।
তারা যেন নির্বিঘ্নে এই অনুষ্ঠান শেষ করতে পারেন, সেজন্য সকাল থেকেই এল প্রাদো সিমেট্রিতে সর্বসাধারণের প্রবেশ নিষেধ করে দেওয়া হয়। অবশ্য এর মাঝেই সিমেট্রির গেট ও সীমানা প্রাচীরে মেসি ভক্তরা বেশ কিছু ব্যানার টানিয়ে দেন। যেখানে লেখা রয়েছে ‘স্টে স্ট্রং, লিও, উই লাভ ইউ’, ‘স্টে স্ট্রং, মেসি ফ্যামিলি’। সে সঙ্গে সিমেট্রির বাইরে ফুলের তোড়া দিয়ে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানাচ্ছেন আর্জেন্টিনার ফুটবলপ্রেমীরা।
এই কঠিন সময়ে মেসির পাশে থাকার কথা জানিয়েছেন তাঁর জাতীয় দলের সতীর্থ লিয়ান্দ্রো পারেদেস। গত শনিবার বুয়েন্স আয়ার্সে তাঁর দলের ম্যাচ শেষে বোকা জুনিয়র্সের এই মিডফিল্ডার বলেন, ‘এখনও লিওর সঙ্গে কথা বলতে পারিনি। জানি সে তখন ভ্রমণে ছিল। আমরা অপেক্ষা করছি তাঁর দেশে ফেরার, যাতে এই কঠিন সময়ে আমরা তাঁর পাশে থাকতে পারি। আমি নিশ্চিত, আমাদের পাশে পেলে তাঁর ভালো লাগবে।’
বোকা জুনিয়র্সের কয়েকজনকে নিয়ে তিনি রোজারিওতে যাবেন বলেও জানিয়েছেন পারেদেস। মেসির জাতীয় দল ও ইন্টার মায়ামি সতীর্থ রদ্রিগো ডি পলও মেসির বাড়িতে যাবেন বলে জানা গেছে। শনিবার সন্ধ্যায় মন্তেরির বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে জয়ের পর ইন্টার মায়ামির হয়ে গোল করে মেসির পিতার প্রতি শ্রদ্ধাও জানিয়েছেন তিনি।
মেসির পিতার মৃত্যুর কারণ প্রকাশ করা হয়নি। তবে স্থানীয় কয়েকটি গণমাধ্যম জানিয়েছে, হোর্হে মেসি ক্যান্সারে ভুগছিলেন। বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে গোল করে কেঁদে ছিলেন মেসি। ওই কান্নার সূত্র ধরেই ম্যাচ শেষেই তাঁর পিতার অসুস্থতার কথা জানা গিয়েছিল। এর মধ্যে বিশ্বকাপের মাঝেই আর্জেন্টিনার এক সাংবাদিক মেসির পিতার মৃত্যুর গুজবও ছড়িয়ে ছিলেন।
তখন মেসি পরিবারের পক্ষ থেকে সবার কাছে মানবিক আচরণের আহ্বান জানানো হয়েছিল। বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পরই সরাসরি রোজারিওতে পিতার কাছে চলে যান মেসি। সেখানে কদিন কাটিয়ে ফিরে গিয়েছিলেন ইন্টার মায়ামিতে। পিতার মৃত্যুসংবাদ পেয়ে আবার ফিরতে হলো তাঁকে।
পিতার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন মেসি। তাঁর ফুটবলার হয়ে ওঠার পেছনে হোর্হে মেসির অনেক বড় ভূমিকা। ‘গ্রোথ হরমোন ডেফিসিয়েন্সি’ নামক এক বিরল রোগে আক্রান্ত মেসিকে ছোটবেলায় স্বাক্ষর করিয়েছিল বার্সেলোনা। ১৩ বছর বয়সী মেসি তখনও দেশের বাইরে কোথায় যাননি। সেই সময় চাকরি ছেড়ে অনেক অনিশ্চয়তা সঙ্গী করে ছেলেকে নিয়ে বার্সেলোনায় পাড়ি জমিয়েছিলেন হোর্হে। তাই তো মেসির কাছে পিতার চেয়েও অনেক বড় কিছু ছিলেন তিনি।