২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিমানবন্দরের কমোডের ট্যাংকে ৪ কেজি স্বর্ণসদৃশ পেস্ট, মূল্য প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকা

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
বিমানবন্দরের কমোডের ট্যাংকে ৪ কেজি স্বর্ণসদৃশ পেস্ট, মূল্য প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকা

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ওয়াশরুমের কমোডের ট্যাংকের ভেতর থেকে ৪ কেজি ২০৪ গ্রাম স্বর্ণসদৃশ পেস্ট উদ্ধার করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। মালিকবিহীন অবস্থায় উদ্ধার করা আটটি ডিমসদৃশ প্যাকেটে থাকা পেস্টের প্রাথমিক বাজারমূল্য প্রায় ৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় বিমানবন্দরের কাস্টমস হলের ১ নম্বর বেল্ট সংলগ্ন ওয়াশরুমে অভিযান চালিয়ে এসব পেস্ট উদ্ধার করা হয়।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এক বিবৃতিতে জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওয়াশরুমের একটি হাই কমোডের ট্যাংকে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় পলিথিনে মোড়ানো আটটি ডিমসদৃশ প্যাকেট পাওয়া যায়। প্যাকেটগুলোর কোনো মালিক পাওয়া যায়নি।

পরে বিমানবন্দরে কর্মরত বিভিন্ন গোয়েন্দা ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে প্যাকেটগুলো উদ্ধার করে কাস্টমস হলের ইনভেন্টরি টেবিলে খোলা হয়। প্যাকেট খুলে প্রাথমিকভাবে ৪ দশমিক ২০৪ কেজি স্বর্ণসদৃশ পেস্ট পাওয়া যায়।

কাস্টমস গোয়েন্দা জানায়, উদ্ধার করা পেস্টে প্রকৃত স্বর্ণের পরিমাণ ও বিশুদ্ধতা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ জন্য নিবন্ধিত স্বর্ণকারের মাধ্যমে পেস্ট থেকে স্বর্ণ পৃথক করার কার্যক্রম চলছে। পৃথকীকরণ শেষে স্বর্ণের প্রকৃত ওজন ও বিশুদ্ধতা নির্ধারণ করা হবে।

প্রাথমিক হিসাবে উদ্ধারকৃত স্বর্ণের বাজারমূল্য প্রায় ৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা হতে পারে বলে জানিয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা।

মালিকবিহীন অবস্থায় বিমানবন্দরের ওয়াশরুমের কমোডের ট্যাংকের ভেতরে এত বিপুল পরিমাণ স্বর্ণসদৃশ পেস্ট কীভাবে এলো এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।

বিমানবন্দরের কমোডের ট্যাংকে ৪ কেজি স্বর্ণসদৃশ পেস্ট, মূল্য প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকা

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
বিমানবন্দরের কমোডের ট্যাংকে ৪ কেজি স্বর্ণসদৃশ পেস্ট, মূল্য প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকা

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ওয়াশরুমের কমোডের ট্যাংকের ভেতর থেকে ৪ কেজি ২০৪ গ্রাম স্বর্ণসদৃশ পেস্ট উদ্ধার করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। মালিকবিহীন অবস্থায় উদ্ধার করা আটটি ডিমসদৃশ প্যাকেটে থাকা পেস্টের প্রাথমিক বাজারমূল্য প্রায় ৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় বিমানবন্দরের কাস্টমস হলের ১ নম্বর বেল্ট সংলগ্ন ওয়াশরুমে অভিযান চালিয়ে এসব পেস্ট উদ্ধার করা হয়।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এক বিবৃতিতে জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওয়াশরুমের একটি হাই কমোডের ট্যাংকে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় পলিথিনে মোড়ানো আটটি ডিমসদৃশ প্যাকেট পাওয়া যায়। প্যাকেটগুলোর কোনো মালিক পাওয়া যায়নি।

পরে বিমানবন্দরে কর্মরত বিভিন্ন গোয়েন্দা ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে প্যাকেটগুলো উদ্ধার করে কাস্টমস হলের ইনভেন্টরি টেবিলে খোলা হয়। প্যাকেট খুলে প্রাথমিকভাবে ৪ দশমিক ২০৪ কেজি স্বর্ণসদৃশ পেস্ট পাওয়া যায়।

কাস্টমস গোয়েন্দা জানায়, উদ্ধার করা পেস্টে প্রকৃত স্বর্ণের পরিমাণ ও বিশুদ্ধতা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ জন্য নিবন্ধিত স্বর্ণকারের মাধ্যমে পেস্ট থেকে স্বর্ণ পৃথক করার কার্যক্রম চলছে। পৃথকীকরণ শেষে স্বর্ণের প্রকৃত ওজন ও বিশুদ্ধতা নির্ধারণ করা হবে।

প্রাথমিক হিসাবে উদ্ধারকৃত স্বর্ণের বাজারমূল্য প্রায় ৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা হতে পারে বলে জানিয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা।

মালিকবিহীন অবস্থায় বিমানবন্দরের ওয়াশরুমের কমোডের ট্যাংকের ভেতরে এত বিপুল পরিমাণ স্বর্ণসদৃশ পেস্ট কীভাবে এলো এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।

অপ্রতীম হত্যা: তিন ‘ঘাতকের’ সঙ্গে মিলল নিহতের মায়ের সেই আইফোনও

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
অপ্রতীম হত্যা: তিন ‘ঘাতকের’ সঙ্গে মিলল নিহতের মায়ের সেই আইফোনও

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডে আটক তিনজনই ‘ঘাতক’ বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। তারা হলেন— মো. তুহিন, শাহরিয়া আনাস ও মো. ফাহিম।

তাদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আটটার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন সালমানপুর এলাকায় ‘ঘাতক’ তুহিনের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে অপ্রতীমের মায়ের আইফোনটিও উদ্ধার করা হয়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এ ঘটনায় প্রথমে তুহিন নামে এক তরুণকে আটক করা হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফাহিম ও আনাস নামে আরও দুইজনকে আটক করা হয়েছে। সন্দেহভাজন হিসেবে আটক তুহিন, আনাস ও ফাহিমই ঘাতক।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় জেলা পুলিশের সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র।

আটকের আগে অপ্রতীমের মৃত্যুর খবরসংবলিত একটি ফটোকার্ড শেয়ার করে ফেসবুকে পোস্ট দেন শাহরিয়া আনাস। সেখানে তিনি লেখেন, ‘ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্নইলাহি রাজিউন। বাচ্চাদের কাছে দামী জিনিস, তার জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ। আল্লাহ তার মা, বাবাকে ধৈর্য ধারণ করার তৌফিক দান করুক।’

পোস্টে অপ্রতীমের সঙ্গে নিজের কথোপকথনের স্মৃতিও তুলে ধরেন আনাস। তিনি লেখেন, ‘মাঝেমধ্যে ছেলেটা আমাকে মেসেজ দিয়ে বলতো যে ভাই কই আছো ছবি তুলবো কয়েকটা। আসলে এগুলো ভেবে এখন খারাপই লাগতেছে।’

এর আগে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কোটবাড়ি এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বের হয় অপ্রতীম। এরপর সে আর বাসায় ফেরেনি। পরে তার বাবা কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

পরে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন জঙ্গল থেকে অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, অপ্রতীমের মুঠোফোনের অবস্থান শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত গন্ধমতী এলাকায় শনাক্ত হয়েছিল। এরপর ফোনটির আর কোনো অবস্থান পাওয়া যায়নি।

অপ্রতীম নিখোঁজ হওয়ার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসহ আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে পুলিশ। ফুটেজে অপ্রতীমের সঙ্গে তুহিন নামে এক তরুণকে দেখা যায়।

পরে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আনাসকে আটক করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। সর্বশেষ ফাহিম আহমেদকেও আটক করা হয়।

অপ্রতীম স্থানীয় বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান।

এদিকে অপ্রতীমের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের শনাক্ত ও দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবিতে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন।

তারা ১২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন এবং দাবি পূরণ না হলে বিশ্ববিদ্যালয় অচল করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

এর আগে তিনজনকে আটকের পর কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক জানিয়েছিলেন, অপ্রতীমের মৃত্যুর ঘটনায় বিভিন্ন তথ্য যাচাই ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আটকদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য এবং অন্যান্য আলামত যাচাই করে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে।

প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরে বোয়িংয়ের সঙ্গে কয়েক শ কোটি ডলারের উড়োজাহাজ চুক্তির সম্ভাবনা

প্রকাশ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরে বোয়িংয়ের সঙ্গে কয়েক শ কোটি ডলারের উড়োজাহাজ চুক্তির সম্ভাবনা

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন নিউইয়র্ক সফরের সময় বোয়িংয়ের সঙ্গে কয়েক শ কোটি ডলারের উড়োজাহাজ ক্রয়সংক্রান্ত চূড়ান্ত চুক্তি সই হতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

প্রত্যাশা অনুযায়ী আলোচনা শেষ হলে আগামী সপ্তাহে নিউইয়র্কে চুক্তিটি সই হতে পারে। উড়োজাহাজগুলোর ধরন, মোট মূল্য, অর্থায়নের কাঠামো ও সরবরাহের সময়সূচিসহ বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

গত এপ্রিলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার জন্য বোয়িংয়ের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি করে। ওই চুক্তির মূল্য ৩৭০ কোটি ডলার বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের একটি সূত্র টাইমসকে জানিয়েছে, অতিরিক্ত উড়োজাহাজ কেনার আলোচনা অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে শুরু হয়েছিল। সূত্রটি বলেছে, ‘আশা করছি, নিউইয়র্কে চূড়ান্ত চুক্তি সই হবে।’

সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বেসামরিক বিমান পরিবহনমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং বোয়িং গ্লোবালের প্রেসিডেন্ট ব্রেন্ডন নেলসন আগামী সপ্তাহে চুক্তিতে সই করতে পারেন।

দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গর গত ৩০ আগস্ট জানান, বোয়িংয়ের কাছ থেকে আরও উড়োজাহাজ কিনতে কয়েক শ কোটি ডলার ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাংলাদেশ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে গর বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যে বাংলাদেশ আরও বোয়িং উড়োজাহাজ কিনতে কয়েক শ কোটি ডলার ব্যয়ের বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে।

তিনি বলেন, নতুন এ প্রতিশ্রুতি ২০২৬ সালের এপ্রিলে বিমানের ৩৭০ কোটি ডলারে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তির ধারাবাহিকতা।

বিমানের বহরে বর্তমানে ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি টার্বোপ্রপ, চারটি বোয়িং ৭৭৭, চারটি ৭৮৭-৮, দুটি ৭৮৭-৯ এবং চারটি ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজ।

চুক্তিগুলো সম্পন্ন হলে এটি হবে বিমানের ইতিহাসে বহরের সবচেয়ে বড় সম্প্রসারণ।

জাতিসংঘ অধিবেশনে ব্যস্ত সূচি

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে তারেক রহমানের সোমবার ঢাকা থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। তিনি নিউইয়র্কে চার রাত অবস্থান করে ২৬ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরতে পারেন।

২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে তার ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। ভাষণে তিনি বহুপক্ষীয়তার গুরুত্ব তুলে ধরার পাশাপাশি তার সরকারের লক্ষ্য, অর্জন ও চ্যালেঞ্জগুলো উপস্থাপন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি অঞ্চলজুড়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানাবেন।

সেখানে বাংলাতেই ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। জাতিসংঘ আয়োজিত দুটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক এবং রোহিঙ্গা সংকট ও ধাত্রীসেবা নিয়ে বাংলাদেশ আয়োজিত দুটি অনুষ্ঠানেও তার অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

অধিবেশনের ফাঁকে বৈঠক

বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদলের প্রধানদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর একাধিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সমন্বয় করছে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন।

কুয়েতের যুবরাজ শেখ সাবাহ খালেদ আল-হামাদ আল-সাবাহ, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি, মালদ্বীপের ভাইস-প্রেসিডেন্ট উজ হুসেইন মোহাম্মদ লতিফ, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগেসহ অন্য নেতাদের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠকের কথা রয়েছে।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা, জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালিহ এবং মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার তুর্কসহ অন্যদের সঙ্গেও তার বৈঠক হতে পারে।

এসব সম্ভাব্য বৈঠকের পাশাপাশি আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, হাইতি, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, কাতার, দক্ষিণ কোরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, নেদারল্যান্ডস, থাইল্যান্ড, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদলের প্রধানদের সঙ্গেও তার বৈঠক হতে পারে।

বেসরকারি খাতের সঙ্গে যোগাযোগ

বাংলাদেশে আরও বিনিয়োগ উৎসাহিত করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের কথা রয়েছে।

এর মধ্যে মেটার চিফ গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স অফিসার জোয়েল কাপলান, ভিওনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং জেপিমরগান আয়োজিত ‘ব্রেকফাস্ট মিটিং উইথ ওয়াল স্ট্রিট’-এ অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে বৈঠক থাকতে পারে।

কেপিসি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান কালী প্রদীপ চৌধুরীসহ অন্যদের সঙ্গেও তার বৈঠকের কথা রয়েছে।

১৭ দিনে বিদেশে পাড়ি জমালেন ৪০ হাজার ৫৯৩ বাংলাদেশি

প্রকাশ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
১৭ দিনে বিদেশে পাড়ি জমালেন ৪০ হাজার ৫৯৩ বাংলাদেশি

চলতি মাসে ৪০ হাজারেরও বেশি বৈদেশিক কর্মসংস্থান
এ মাসের প্রথম ১৭ দিনে ৪০ হাজার ৫৯৩ জন বাংলাদেশি কর্মী বিদেশে গিয়েছেন। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা কিছুটা কম হলেও মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জনশক্তি রপ্তানিতে যে বড় পতন ঘটেছিল, যা কাটিয়ে আবারও গতি ফিরছে বৈদেশিক কর্মসংস্থানে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের সেপ্টেম্বরের ১৭ দিনে কাজের সন্ধানে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন ৫৯ হাজার ৩২ জন। চলতি ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করলে পুরো মার্চ মাসে জনশক্তি রপ্তানি কমে ৪৪ হাজার ৬০০-তে নামে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়য়ের তথ্যে অনুযায়ী, প্রবাসে পাড়ি জমানো বাংলাদেশি কর্মীদের মধ্যে যথারীতি শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরব। পর্যালোচনাধীন ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের ১৭ দিনে একক দেশ হিসেবে সৌদি আরবে গেছেন সর্বোচ্চ ২০ হাজার ৩৪১ জন কর্মী।

তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সিঙ্গাপুর, যেখানে কর্মসংস্থানের উদ্দেশে গেছেন ৪ হাজার ৫৮১ জন কর্মী। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারে ৩ হাজার ৮৫৬ জন, মালদ্বীপে ২ হাজার ৬০১ জন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) ২ হাজার ৫৬০ জন বাংলাদেশি কর্মী কান্ট্রি ক্লিয়ারেন্স নিয়ে পাড়ি জমিয়েছেন।

অন্যান্য দেশের মধ্যে কুয়েতে দুই হাজার ২২১ জন, পর্তুগালে ৬৩৮ জন, ইতালিতে ৬১৭ জন, লাওসে ৩৯৩ জন, জর্ডানে ২৯৪ জন, লেবাননে ২২৩ জন, মরিশাসে ২১২ জন, গ্রিসে ২০৫ জন, ফিজিতে ১৯৩ জন ও ভিয়েতনামে ১৭৪ জন কর্মী গেছেন।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ১৭ দিনে জনশক্তি রপ্তানিতে আগের বছরের মতোই শীর্ষে ছিল সৌদি আরব। ১৭ দিনে দেশটিতে সর্বোচ্চ ৩৭ হাজার ২৭৩ জন কর্মী গেছেন। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে ছিল কাতার, যেখানে গেছেন ৬ হাজার ১৯৩ জন এবং তৃতীয় স্থানে থাকা সিঙ্গাপুরে গেছেন চার হাজার ৬৫ জন কর্মী।

অন্য দেশগুলোর মধ্যে– মালদ্বীপে ২ হাজার ৭১১ জন, কুয়েতে ১ হাজার ৩৪৫ জন, কম্বোডিয়ায় ১ হাজার ২৩০ জন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১ হাজার ৯ জন, ইতালিতে ৯৮৯ জন, জর্ডানে ৭২১ জন, ইরাকে ৪৫২ জন, রাশিয়ায় ৩৪৯ জন, সাইপ্রাসে ৩৩৮ জন, লাওসে ২৮৯ জন, সার্বিয়ায় ২৭৪ জন এবং কঙ্গোয় ২৭১ জন।

এক দশকে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স প্রায় দ্বিগুণ, জানাল জাতিসংঘ

প্রকাশ: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
এক দশকে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স প্রায় দ্বিগুণ, জানাল জাতিসংঘ

বিশ্বের নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স গত এক দশকে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ২০২৫ সালে এসব দেশে মোট ৭২৮ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা ২০১৬ সালের তুলনায় ৯৪ শতাংশ বেশি।

জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল (আইএফএডি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একই সময়ে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলো থেকে অভিবাসীর সংখ্যা বেড়েছে ২৮ শতাংশ। অর্থাৎ শুধু অভিবাসীর সংখ্যা বাড়ার কারণে রেমিট্যান্স বেড়েছে—বিষয়টি এমন নয়; বিদেশে থাকা প্রবাসীরা গড়ে আগের তুলনায় বেশি অর্থ দেশে পাঠাচ্ছেন।

আইএফএডির হিসাবে, বর্তমানে প্রায় ২২ কোটি প্রবাসী ও প্রবাসী-সম্প্রদায়ের মানুষ আনুমানিক ১১০ কোটি স্বজনকে আর্থিকভাবে সহায়তা করছেন। সাধারণত প্রতিবার ৩০০ থেকে ৪০০ ডলার পাঠানো হয় এবং বছরে গড়ে ৯ থেকে ১০ বার অর্থ পাঠানো হয়।

সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২৫ সালে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ বৈশ্বিক সরকারি উন্নয়ন সহায়তার চার গুণেরও বেশি ছিল। একই সময়ে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণকেও ছাড়িয়ে গেছে রেমিট্যান্স।

প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ লাখ লাখ পরিবারের দৈনন্দিন জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আইএফএডির হিসাবে, রেমিট্যান্সের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ খাবার, বাসস্থান ও ইউটিলিটি বিলের মতো তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটাতে ব্যয় হয়।

বাকি প্রায় এক-চতুর্থাংশ অর্থ স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, আবাসন, সঞ্চয় ও ব্যবসায় ব্যবহৃত হয়। ২০২৫ সালে প্রায় ২৩৩ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স গ্রামীণ অর্থনীতিতে পৌঁছেছে। এর একটি অংশ কৃষি ও খাদ্যব্যবস্থায়ও বিনিয়োগ করা হচ্ছে।

আইএফএডির ফাইন্যান্সিং ফ্যাসিলিটি ফর রেমিট্যান্সের ব্যবস্থাপক পেদ্রো দে ভাসকনসেলোস বলেন, রেমিট্যান্সের পরিমাণ বিপুল হলেও এর পেছনে রয়েছে পরিবারগুলোর প্রয়োজন। পরিবারের জন্য রেমিট্যান্স গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটি সরকারি বিনিয়োগ, সামাজিক সুরক্ষা, মানবিক সহায়তা বা জলবায়ু অর্থায়নের বিকল্প হতে পারে না।

রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভরশীলতার ক্ষেত্রে মধ্য আমেরিকার কয়েকটি দেশ উল্লেখযোগ্য। ২০২৫ সালে হন্ডুরাসে রেমিট্যান্সের পরিমাণ দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৩০ শতাংশের সমান ছিল। এল সালভাদরে এই হার ২৮ শতাংশ এবং নিকারাগুয়ায় ২৭ শতাংশ।

আইএফএডির উদ্ধৃত এক গবেষণায় দেখা গেছে, গুয়াতেমালায় জরিপে অংশ নেওয়া দেশে ফিরে আসা অভিবাসীদের ৬১ শতাংশই তাঁদের পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী ছিলেন। ফলে কোনো প্রবাসী বাধ্য হয়ে দেশে ফিরলে তাঁর পরিবারের আয় হঠাৎ কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

২০২৫ সালে লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে রেমিট্যান্স সবচেয়ে দ্রুত বেড়েছে। এক দশকে অঞ্চলটিতে রেমিট্যান্স ১৩২ শতাংশ বেড়ে ১৬৮ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

অন্যদিকে মোট রেমিট্যান্স পাওয়ার দিক থেকে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল শীর্ষে। ২০২৫ সালে এ অঞ্চলে গেছে ৩৮৪ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার, যা বৈশ্বিক মোট রেমিট্যান্সের ৫৩ শতাংশ। আফ্রিকার দেশগুলো পেয়েছে ১২৪ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার, যা এক দশকে ৮৬ শতাংশ বেশি। আফ্রিকায় সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স পাওয়া দেশের তালিকায় নাইজেরিয়াকে ছাড়িয়ে শীর্ষে উঠেছে মিসর।

রেমিট্যান্স পাঠানোর পদ্ধতিতেও পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে অর্ধেকের বেশি রেমিট্যান্স ডিজিটাল মাধ্যমে শুরু হয়। তবে প্রেরক থেকে গ্রহীতা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া ডিজিটালভাবে সম্পন্ন হয় এমন সেবার হার ২০২৫ সালে ছিল ৩৫ শতাংশ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডিজিটাল মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠানোর গড় খরচ ছিল ৪ দশমিক ৬ শতাংশ। অ-ডিজিটাল সেবায় এ হার ৭ দশমিক ৩ শতাংশ।

রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ আরও কমানো এবং লেনদেনে স্বচ্ছতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে আইএফএডি। পাশাপাশি প্রবাসীদের পরিবারের জন্য সঞ্চয়, বিমা ও বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংস্থাটি।

তবে প্রবাসীদের ওপর নির্ভরশীল পরিবার ও অর্থনীতিগুলো বিভিন্ন ঝুঁকির মধ্যেও রয়েছে। প্রবাসীদের দেশে ফেরত পাঠানো, কর্মসংস্থানে বিধিনিষেধ কিংবা বিদেশের শ্রমবাজারে চাহিদা কমে গেলে রেমিট্যান্সের প্রবাহ কমে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে আইএফএডি।

দে ভাসকনসেলোসের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে এখন পর্যন্ত রেমিট্যান্সে বড় ধরনের সামগ্রিক পতন দেখা যায়নি। সংকটের সময়ও পরিবারের প্রয়োজন থাকায় অনেক ক্ষেত্রে রেমিট্যান্স প্রবাহ স্থিতিশীল থাকে।