১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

থার্ড টার্মিনালে যাত্রীসেবা দিতে প্রথম বছরেই ১২ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা

প্রকাশ: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
থার্ড টার্মিনালে যাত্রীসেবা দিতে প্রথম বছরেই ১২ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালের দ্বিতীয় অপারেটর হিসেবে যাত্রীসেবা (প্যাসেঞ্জার হ্যান্ডলিং) প্রদানের চুক্তি পেলে প্রথম বছরই ১২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক বৈশ্বিক এভিয়েশন সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘মেনজিস এভিয়েশন’।

প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এ বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রথম বছরেই ১ হাজারের বেশি মানুষের সরাসরি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি সার্বিক অর্থনীতি ও সরবরাহশৃঙ্খলে (সাপ্লাই চেইন) আরও সাড়ে ৪ হাজারের বেশি পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে তারা অনুমান করছে।

গতকাল ঢাকার একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে এসব বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন মেনজিস এভিয়েশনের মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা অঞ্চলের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট (অপারেশনস) জন হেন্ডারসন, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও এশিয়া অঞ্চলের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট চার্লস উইলি এবং ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশনের ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ডিরেক্টর সাকিব এরশাদ।

মেনজিস জানায়, তাদের প্রস্তাবিত বিনিয়োগ কেবল বিমানবন্দর পরিচালনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং স্থানীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপরও বিশেষভাবে জোর দেওয়া হবে।

এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক মানের এভিয়েশন প্রশিক্ষণ প্রদান এবং বাংলাদেশি নাগরিকের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ারের সুযোগ তৈরিতে ঢাকায় একটি ‘মেনজিস ট্রেনিং একাডেমি’ গড়ে তোলা হবে।

এ ছাড়া এভিয়েশন সম্পর্কিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, ইন্টার্নশিপ ও গ্র্যাজুয়েট পাথওয়ে তৈরির লক্ষ্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে কোম্পানিটির।

মেনজিস জানায়, এ উদ্যোগের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের জ্ঞান ও দক্ষতার আদানপ্রদান সহজ হবে। ফলে স্থানীয় অপারেশনাল, টেকনিক্যাল ও ব্যবস্থাপনাগত দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাংলাদেশি কর্মীদের আন্তর্জাতিক এভিয়েশন খাতে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ তৈরি হবে।

দ্বিতীয় প্যাসেঞ্জার হ্যান্ডলিং অপারেটর নির্বাচনের ক্ষেত্রে ভূরাজনৈতিক বিবেচনা বা রাজনৈতিক প্রভাব কোনো ভূমিকা রাখবে কি না? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ব্রিটিশ হাইকমিশনের ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ডিরেক্টর সাকিব এরশাদ জানান, তাঁরা দৃঢ় আশাবাদী যে এ প্রক্রিয়াটি কোনো ভূরাজনৈতিক প্রভাবের ওপর নয়, বরং সম্পূর্ণ মুক্ত ও সুষ্ঠু প্রতিযোগিতার ওপর ভিত্তি করে সম্পন্ন হবে।

মেনজিস মনে করে, তাদের প্রস্তাবিত এ বিনিয়োগ বাণিজ্যিক সম্পর্ক বৃদ্ধি ও দক্ষতা বিনিময়ের মাধ্যমে যুক্তরাজ্য-বাংলাদেশ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে অবদান রাখবে।

এক দশকে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স প্রায় দ্বিগুণ, জানাল জাতিসংঘ

প্রকাশ: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
এক দশকে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স প্রায় দ্বিগুণ, জানাল জাতিসংঘ

বিশ্বের নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স গত এক দশকে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ২০২৫ সালে এসব দেশে মোট ৭২৮ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা ২০১৬ সালের তুলনায় ৯৪ শতাংশ বেশি।

জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল (আইএফএডি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একই সময়ে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলো থেকে অভিবাসীর সংখ্যা বেড়েছে ২৮ শতাংশ। অর্থাৎ শুধু অভিবাসীর সংখ্যা বাড়ার কারণে রেমিট্যান্স বেড়েছে—বিষয়টি এমন নয়; বিদেশে থাকা প্রবাসীরা গড়ে আগের তুলনায় বেশি অর্থ দেশে পাঠাচ্ছেন।

আইএফএডির হিসাবে, বর্তমানে প্রায় ২২ কোটি প্রবাসী ও প্রবাসী-সম্প্রদায়ের মানুষ আনুমানিক ১১০ কোটি স্বজনকে আর্থিকভাবে সহায়তা করছেন। সাধারণত প্রতিবার ৩০০ থেকে ৪০০ ডলার পাঠানো হয় এবং বছরে গড়ে ৯ থেকে ১০ বার অর্থ পাঠানো হয়।

সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২৫ সালে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ বৈশ্বিক সরকারি উন্নয়ন সহায়তার চার গুণেরও বেশি ছিল। একই সময়ে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণকেও ছাড়িয়ে গেছে রেমিট্যান্স।

প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ লাখ লাখ পরিবারের দৈনন্দিন জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আইএফএডির হিসাবে, রেমিট্যান্সের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ খাবার, বাসস্থান ও ইউটিলিটি বিলের মতো তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটাতে ব্যয় হয়।

বাকি প্রায় এক-চতুর্থাংশ অর্থ স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, আবাসন, সঞ্চয় ও ব্যবসায় ব্যবহৃত হয়। ২০২৫ সালে প্রায় ২৩৩ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স গ্রামীণ অর্থনীতিতে পৌঁছেছে। এর একটি অংশ কৃষি ও খাদ্যব্যবস্থায়ও বিনিয়োগ করা হচ্ছে।

আইএফএডির ফাইন্যান্সিং ফ্যাসিলিটি ফর রেমিট্যান্সের ব্যবস্থাপক পেদ্রো দে ভাসকনসেলোস বলেন, রেমিট্যান্সের পরিমাণ বিপুল হলেও এর পেছনে রয়েছে পরিবারগুলোর প্রয়োজন। পরিবারের জন্য রেমিট্যান্স গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটি সরকারি বিনিয়োগ, সামাজিক সুরক্ষা, মানবিক সহায়তা বা জলবায়ু অর্থায়নের বিকল্প হতে পারে না।

রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভরশীলতার ক্ষেত্রে মধ্য আমেরিকার কয়েকটি দেশ উল্লেখযোগ্য। ২০২৫ সালে হন্ডুরাসে রেমিট্যান্সের পরিমাণ দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৩০ শতাংশের সমান ছিল। এল সালভাদরে এই হার ২৮ শতাংশ এবং নিকারাগুয়ায় ২৭ শতাংশ।

আইএফএডির উদ্ধৃত এক গবেষণায় দেখা গেছে, গুয়াতেমালায় জরিপে অংশ নেওয়া দেশে ফিরে আসা অভিবাসীদের ৬১ শতাংশই তাঁদের পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী ছিলেন। ফলে কোনো প্রবাসী বাধ্য হয়ে দেশে ফিরলে তাঁর পরিবারের আয় হঠাৎ কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

২০২৫ সালে লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে রেমিট্যান্স সবচেয়ে দ্রুত বেড়েছে। এক দশকে অঞ্চলটিতে রেমিট্যান্স ১৩২ শতাংশ বেড়ে ১৬৮ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

অন্যদিকে মোট রেমিট্যান্স পাওয়ার দিক থেকে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল শীর্ষে। ২০২৫ সালে এ অঞ্চলে গেছে ৩৮৪ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার, যা বৈশ্বিক মোট রেমিট্যান্সের ৫৩ শতাংশ। আফ্রিকার দেশগুলো পেয়েছে ১২৪ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার, যা এক দশকে ৮৬ শতাংশ বেশি। আফ্রিকায় সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স পাওয়া দেশের তালিকায় নাইজেরিয়াকে ছাড়িয়ে শীর্ষে উঠেছে মিসর।

রেমিট্যান্স পাঠানোর পদ্ধতিতেও পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে অর্ধেকের বেশি রেমিট্যান্স ডিজিটাল মাধ্যমে শুরু হয়। তবে প্রেরক থেকে গ্রহীতা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া ডিজিটালভাবে সম্পন্ন হয় এমন সেবার হার ২০২৫ সালে ছিল ৩৫ শতাংশ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডিজিটাল মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠানোর গড় খরচ ছিল ৪ দশমিক ৬ শতাংশ। অ-ডিজিটাল সেবায় এ হার ৭ দশমিক ৩ শতাংশ।

রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ আরও কমানো এবং লেনদেনে স্বচ্ছতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে আইএফএডি। পাশাপাশি প্রবাসীদের পরিবারের জন্য সঞ্চয়, বিমা ও বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংস্থাটি।

তবে প্রবাসীদের ওপর নির্ভরশীল পরিবার ও অর্থনীতিগুলো বিভিন্ন ঝুঁকির মধ্যেও রয়েছে। প্রবাসীদের দেশে ফেরত পাঠানো, কর্মসংস্থানে বিধিনিষেধ কিংবা বিদেশের শ্রমবাজারে চাহিদা কমে গেলে রেমিট্যান্সের প্রবাহ কমে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে আইএফএডি।

দে ভাসকনসেলোসের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে এখন পর্যন্ত রেমিট্যান্সে বড় ধরনের সামগ্রিক পতন দেখা যায়নি। সংকটের সময়ও পরিবারের প্রয়োজন থাকায় অনেক ক্ষেত্রে রেমিট্যান্স প্রবাহ স্থিতিশীল থাকে।

থার্ড টার্মিনালে যাত্রীসেবা দিতে প্রথম বছরেই ১২ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা

প্রকাশ: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
থার্ড টার্মিনালে যাত্রীসেবা দিতে প্রথম বছরেই ১২ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালের দ্বিতীয় অপারেটর হিসেবে যাত্রীসেবা (প্যাসেঞ্জার হ্যান্ডলিং) প্রদানের চুক্তি পেলে প্রথম বছরই ১২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক বৈশ্বিক এভিয়েশন সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘মেনজিস এভিয়েশন’।

প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এ বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রথম বছরেই ১ হাজারের বেশি মানুষের সরাসরি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি সার্বিক অর্থনীতি ও সরবরাহশৃঙ্খলে (সাপ্লাই চেইন) আরও সাড়ে ৪ হাজারের বেশি পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে তারা অনুমান করছে।

গতকাল ঢাকার একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে এসব বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন মেনজিস এভিয়েশনের মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা অঞ্চলের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট (অপারেশনস) জন হেন্ডারসন, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও এশিয়া অঞ্চলের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট চার্লস উইলি এবং ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশনের ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ডিরেক্টর সাকিব এরশাদ।

মেনজিস জানায়, তাদের প্রস্তাবিত বিনিয়োগ কেবল বিমানবন্দর পরিচালনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং স্থানীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপরও বিশেষভাবে জোর দেওয়া হবে।

এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক মানের এভিয়েশন প্রশিক্ষণ প্রদান এবং বাংলাদেশি নাগরিকের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ারের সুযোগ তৈরিতে ঢাকায় একটি ‘মেনজিস ট্রেনিং একাডেমি’ গড়ে তোলা হবে।

এ ছাড়া এভিয়েশন সম্পর্কিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, ইন্টার্নশিপ ও গ্র্যাজুয়েট পাথওয়ে তৈরির লক্ষ্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে কোম্পানিটির।

মেনজিস জানায়, এ উদ্যোগের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের জ্ঞান ও দক্ষতার আদানপ্রদান সহজ হবে। ফলে স্থানীয় অপারেশনাল, টেকনিক্যাল ও ব্যবস্থাপনাগত দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাংলাদেশি কর্মীদের আন্তর্জাতিক এভিয়েশন খাতে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ তৈরি হবে।

দ্বিতীয় প্যাসেঞ্জার হ্যান্ডলিং অপারেটর নির্বাচনের ক্ষেত্রে ভূরাজনৈতিক বিবেচনা বা রাজনৈতিক প্রভাব কোনো ভূমিকা রাখবে কি না? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ব্রিটিশ হাইকমিশনের ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ডিরেক্টর সাকিব এরশাদ জানান, তাঁরা দৃঢ় আশাবাদী যে এ প্রক্রিয়াটি কোনো ভূরাজনৈতিক প্রভাবের ওপর নয়, বরং সম্পূর্ণ মুক্ত ও সুষ্ঠু প্রতিযোগিতার ওপর ভিত্তি করে সম্পন্ন হবে।

মেনজিস মনে করে, তাদের প্রস্তাবিত এ বিনিয়োগ বাণিজ্যিক সম্পর্ক বৃদ্ধি ও দক্ষতা বিনিময়ের মাধ্যমে যুক্তরাজ্য-বাংলাদেশ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে অবদান রাখবে।

বাংলাদেশ থেকে ওমানে যাবে বৈদ্যুতিক বাইক, সমঝোতা স্মারক সই

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
বাংলাদেশ থেকে ওমানে যাবে বৈদ্যুতিক বাইক, সমঝোতা স্মারক সই
ওমানে বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল (ইভি বাইক) রপ্তানি, প্রযুক্তি বিনিময় ও যৌথ বিনিয়োগের লক্ষ্যে দেশটির প্রতিষ্ঠান স্টার ড্রোনসের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই। ছবি: সংগৃহীত

ওমানে বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল (ইভি বাইক) রপ্তানি, প্রযুক্তি বিনিময় ও যৌথ বিনিয়োগের লক্ষ্যে দেশটির প্রতিষ্ঠান স্টার ড্রোনসের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে বাংলাদেশের পিটন ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় নভোথিয়েটারে ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার-২০২৬’-এর অনুষ্ঠানস্থলের লাউঞ্জে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেনের উপস্থিতিতে এই দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক সই হয়।

পিটন ইন্ডাস্ট্রিজের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ ইকবাল জাহেদী এবং মডার্ন স্টার বিজনেসেস এলএলসির (স্টার ড্রোনস) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদ আব্দুল গাফুর সাইফ উদ্দিন চুক্তিতে সই করেন।

মেলায় বাংলাদেশি পণ্যের মান ও তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবন দেখে এই যৌথ বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয় ওমানি প্রতিনিধিদল। সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী ওমানের ফুড ডেলিভারি অ্যাপ ‘বিজ’-এর জন্য বাংলাদেশ থেকে ইভি বাইক সংগ্রহ করা হবে।

এ ছাড়া রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে দুই দেশের প্রযুক্তি বিনিময় এবং পরবর্তীতে মধ্যপ্রাচ্যের বাজার ধরতে ওমানে একটি পূর্ণাঙ্গ অ্যাসেম্বলি লাইন স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, দেশে প্রথমবারের মতো একাডেমিয়া, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তাদের নিয়ে এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

চুক্তি অনুযায়ী স্টার ড্রোনস তাদের ড্রোন প্রযুক্তির সঙ্গে বাংলাদেশের তৈরি ইভি বাইক সমন্বয় করে আধুনিক ডেলিভারি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলবে। পাশাপাশি ওমান থেকে মূলধন ও ড্রোন প্রযুক্তি এনে বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে বড় পরিসরে যৌথ বিনিয়োগ করা হবে।

অনুষ্ঠানে ওমান দূতাবাসের উপরাষ্ট্রদূত ফাথিয়া বিনতে আহমেদ আল বালুশি, সৌদি আরব-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এসএবিসিসিআই) সভাপতি আশরাফুল হক চৌধুরী, পিটন ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান শামসুল আলম লিটন ও ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর আলী আজগর অপু উপস্থিত ছিলেন।

জুলাইয়ে মানবতাবিরোধী মামলায় ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ডের রায়

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
জুলাইয়ে মানবতাবিরোধী মামলায় ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ডের রায়

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।


মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এ রায় ঘোষণা করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো: মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।


মৃত্যুদণ্ড পাওয়া অন্য আসামিরা হলেন দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।

মৃত্যুদণ্ড পাওয়া সব আসামিই পলাতক রয়েছেন।

এর আগে, সোমবার উভয়পক্ষের শুনানি ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ থাকার পর বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ রায়ের দিন ধার্য করেন।

গত বছরের নভেম্বরে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জুলাইয়ের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল।

গণঅভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। এরপর পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরু হয়।

লোহিত সাগরে হুথি সংকট, বড় ঝুঁকির মুখে বাংলাদেশের অর্থনীতি

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
লোহিত সাগরে হুথি সংকট, বড় ঝুঁকির মুখে বাংলাদেশের অর্থনীতি

লোহিত সাগর ও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মানদেব প্রণালী ঘিরে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের তৎপরতা নতুন করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও ভূ-রাজনৈতিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে তীব্র উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের জেরে এই জলপথে উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হলে এর নেতিবাচক প্রভাব কেবল ওই অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন আমদানিনির্ভর ও উন্নয়নশীল অর্থনীতিকেও এর চড়া মূল্য দিতে হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশ্লেষকরা।

বিশ্ব বাণিজ্যে লোহিত সাগর ও বাব আল-মানদেবের গুরুত্ব

বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম লাইফলাইন বা প্রধান ধমনী হিসেবে পরিচিত লোহিত সাগর। এর দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত বাব আল-মানদেব প্রণালী আরব সাগর ও ভারত মহাসাগরকে লোহিত সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। মূলত এই পথ পাড়ি দিয়েই পণ্যবাহী জাহাজগুলো সুয়েজ খালের মাধ্যমে খুব সহজেই ইউরোপের বাজারে পৌঁছাতে পারে। এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের মধ্যে সংক্ষিপ্ততম দূরত্বে বিপুল পরিমাণ পণ্য পরিবহনের প্রধান মাধ্যম এই সমুদ্রপথ।

কিন্তু বর্তমান নিরাপত্তা সংকটের কারণে জাহাজগুলো যদি এই রুট এড়িয়ে চলতে বাধ্য হয়, তবে তাদের আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত ঘুরে কেপ অব গুড হোপ (Cape of Good Hope) হয়ে বিকল্প দীর্ঘ পথ বেছে নিতে হয়। এর ফলে জাহাজের স্বাভাবিক যাত্রাপথ কয়েক হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত বেড়ে যায়।

বিকল্প রুটের বাড়তি চাপ ও অর্থনৈতিক ক্ষতি

লোহিত সাগর এড়িয়ে কেপ অব গুড হোপ ঘুরে যাওয়ার কারণে বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ধরনের ধাক্কা লাগছে:

  • সময় বৃদ্ধি: যে পণ্যগুলো সাধারণত স্বাভাবিক রুটে প্রায় ২৮ দিনে গন্তব্যে পৌঁছাত, বিকল্প রুটে সেখানে প্রায় ৪৫ দিন বা তার বেশি সময় লেগে যাচ্ছে।

  • লজিস্টিক ব্যয় বৃদ্ধি: দীর্ঘ দূরত্বের কারণে জ্বালানি খরচ, জাহাজের ভাড়া, ক্রু বা নাবিকদের বেতন এবং সামুদ্রিক বিমা বা ইনস্যুরেন্স প্রিমিয়াম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও রপ্তানি খাতে বড় আঘাত

বাংলাদেশের বৈদেশিক আয়ের সবচেয়ে বড় মাধ্যম হলো তৈরি পোশাক (RMG) খাত। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও পশ্চিমা দেশগুলোর বাজারে আমাদের পোশাকের বড় একটি অংশ সমুদ্রপথেই রপ্তানি করা হয়। লোহিত সাগরের এই সংকট প্রলম্বিত হলে পোশাক রপ্তানিকারকদের নানামুখী সংকটের মুখে পড়তে হচ্ছে:

  • নির্ধারিত সময়ে ক্রেতার কাছে পণ্য পৌঁছাতে না পারার ঝুঁকি।

  • কন্টেইনার ও জাহাজের ভাড়া বৃদ্ধির কারণে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়া।

  • সময়মতো চালান না পৌঁছালে অনেক সময় ক্রেতাদের জরিমানা গুনতে হয় বা কার্যাদেশ (অর্ডার) বাতিলের আশঙ্কা তৈরি হয়।

  • সার্বিক উৎপাদন ও সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় তৈরি হয় দীর্ঘসূত্রতা।

আমদানি ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা

বাংলাদেশ কেবল রপ্তানির জন্যই নয়, বরং বিভিন্ন নিত্যপণ্য ও শিল্প কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রেও আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথের ওপর বহুলাংশে নির্ভরশীল। সমুদ্রপথের দূরত্ব ও সময় বাড়ার কারণে শুধু জাহাজভাড়া নয়, আমদানিকৃত পণ্যের সামগ্রিক লজিস্টিক ব্যয়ও বহুগুণ বেড়ে যায়। এর প্রভাবে আমদানিকারকরা বাড়তি ব্যয়ের চাপ শেষ পর্যন্ত পণ্যের দামের ওপর ফেলেন, যা দেশের বাজারে সাধারণ মানুষের জন্য মূল্যস্ফীতি আরও বাড়িয়ে তোলার আশঙ্কা তৈরি করে।

পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে জ্বালানি তেল, তরলীকৃত গ্যাস (LNG) ও অন্যান্য জ্বালানি পণ্য আমদানির ক্ষেত্রেও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে। যদিও জ্বালানির স্থানীয় দাম কেবল পরিবহন খরচের ওপর নির্ভর করে না—এর সাথে আন্তর্জাতিক বাজারের তেলের দাম, ডলারের বিনিময় হার, সরকারি নীতি এবং দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিও জড়িত; তবুও এই নৌপথের দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা দেশের সামগ্রিক জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে।

সংকট উত্তরণে ভূ-রাজনৈতিক পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা

মূলত গাজা যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক ভূ-রাজনীতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে হুথিদের এই লোহিত সাগরমুখী আগ্রাসন। বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা ও হুমকি বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও এই সংকটের স্থায়ী সমাধান না হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে সরবরাহ সংকট আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে। আর তাই বাংলাদেশের মতো উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর সুরক্ষায় বিকল্প বাণিজ্যিক রুট সন্ধান এবং বৈশ্বিক কূটনীতিতে জোরালো ভূমিকা রাখার তাগিদ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট অর্থনীতিবিদরা।