২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আরব সাগরে নতুন সাবমেরিন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে পাকিস্তান

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬
আরব সাগরে নতুন সাবমেরিন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে পাকিস্তান

পাকিস্তানের নৌবাহিনীতে সদ্য যুক্ত হওয়া হ্যাঙ্গর শ্রেণির একটি সাবমেরিন আরব সাগরে প্রথমবারের মতো সরাসরি অস্ত্র নিক্ষেপের মহড়া চালিয়েছে। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর এ তথ্য জানিয়েছে।

আইএসপিআরের তথ্য অনুযায়ী, মহড়ায় নতুন সাবমেরিন পিএনএস/এম হ্যাঙ্গর থেকে নির্ধারিত দূরপাল্লার একটি লক্ষ্যবস্তুতে অ্যান্টি-শিপ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। ক্ষেপণাস্ত্রটি সফলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।

মহড়াটি প্রত্যক্ষ করেন পাকিস্তান নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল নাভিদ আশরাফ। সাবমেরিনটির যুদ্ধ সক্ষমতার প্রশংসা করার পাশাপাশি সমুদ্রের নিচে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি।

আইএসপিআর বলেছে, এই মহড়া পাকিস্তান নৌবাহিনীর আধুনিক ও যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত বাহিনী গড়ে তোলার সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রদর্শন। দেশের সমুদ্রসীমা সুরক্ষা এবং আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখতেও এ সক্ষমতা ভূমিকা রাখবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

জুনে করাচি বন্দরে পৌঁছায় সাবমেরিন

চীন ও পাকিস্তানের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও গভীর হওয়ার প্রেক্ষাপটে হ্যাঙ্গর শ্রেণির প্রথম সাবমেরিনটি গত জুনে করাচি বন্দরে পৌঁছায়। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ নতুন সাবমেরিনের প্রথম সরাসরি অস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনায় নৌবাহিনী ও এর নেতৃত্বকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, দূরপাল্লার লক্ষ্যবস্তুতে অ্যান্টি-শিপ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল আঘাত পাকিস্তান নৌবাহিনীর সাবমেরিন ইউনিটের প্রস্তুতি, দক্ষতা ও যুদ্ধ সক্ষমতার প্রমাণ।

দেশের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সশস্ত্র বাহিনীর প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতিশ্রুতির কথাও জানান শাহবাজ শরিফ।

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারিও এ ঘটনায় নৌবাহিনীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আধুনিক যুদ্ধ সক্ষমতায় সজ্জিত পাকিস্তান নৌবাহিনী দেশের সমুদ্রসীমা সুরক্ষা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

আরব সাগরে নতুন সাবমেরিন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে পাকিস্তান

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬
আরব সাগরে নতুন সাবমেরিন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে পাকিস্তান

পাকিস্তানের নৌবাহিনীতে সদ্য যুক্ত হওয়া হ্যাঙ্গর শ্রেণির একটি সাবমেরিন আরব সাগরে প্রথমবারের মতো সরাসরি অস্ত্র নিক্ষেপের মহড়া চালিয়েছে। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর এ তথ্য জানিয়েছে।

আইএসপিআরের তথ্য অনুযায়ী, মহড়ায় নতুন সাবমেরিন পিএনএস/এম হ্যাঙ্গর থেকে নির্ধারিত দূরপাল্লার একটি লক্ষ্যবস্তুতে অ্যান্টি-শিপ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। ক্ষেপণাস্ত্রটি সফলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।

মহড়াটি প্রত্যক্ষ করেন পাকিস্তান নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল নাভিদ আশরাফ। সাবমেরিনটির যুদ্ধ সক্ষমতার প্রশংসা করার পাশাপাশি সমুদ্রের নিচে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি।

আইএসপিআর বলেছে, এই মহড়া পাকিস্তান নৌবাহিনীর আধুনিক ও যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত বাহিনী গড়ে তোলার সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রদর্শন। দেশের সমুদ্রসীমা সুরক্ষা এবং আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখতেও এ সক্ষমতা ভূমিকা রাখবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

জুনে করাচি বন্দরে পৌঁছায় সাবমেরিন

চীন ও পাকিস্তানের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও গভীর হওয়ার প্রেক্ষাপটে হ্যাঙ্গর শ্রেণির প্রথম সাবমেরিনটি গত জুনে করাচি বন্দরে পৌঁছায়। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ নতুন সাবমেরিনের প্রথম সরাসরি অস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনায় নৌবাহিনী ও এর নেতৃত্বকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, দূরপাল্লার লক্ষ্যবস্তুতে অ্যান্টি-শিপ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল আঘাত পাকিস্তান নৌবাহিনীর সাবমেরিন ইউনিটের প্রস্তুতি, দক্ষতা ও যুদ্ধ সক্ষমতার প্রমাণ।

দেশের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সশস্ত্র বাহিনীর প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতিশ্রুতির কথাও জানান শাহবাজ শরিফ।

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারিও এ ঘটনায় নৌবাহিনীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আধুনিক যুদ্ধ সক্ষমতায় সজ্জিত পাকিস্তান নৌবাহিনী দেশের সমুদ্রসীমা সুরক্ষা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

মারা গেছেন মাহাথির মোহাম্মদের স্ত্রী সিতি হাসমাহ

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬
মারা গেছেন মাহাথির মোহাম্মদের স্ত্রী সিতি হাসমাহ

১০০ বছর বয়সে মারা গেলেন মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী তুন ড. মাহাথির মোহাম্মদের স্ত্রী তুন ড. সিতি হাসমাহ মোহাম্মদ আলী।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) কুয়ালালামপুরের ন্যাশনাল হার্ট ইনস্টিটিউটে (আইজেএন) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন তার ছেলে তান শ্রী মোখজানি মাহাথির।

আরও পড়ুন

ছাত্রদের আন্দোলনের মুখে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ

এদিকে, সংসদে একটি টাউনহল অধিবেশন চলাকালে তার মৃত্যুর খবর ঘোষণা করা হলে উপস্থিতদের মধ্যে বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়। পরে তার সম্মানে সংক্ষিপ্ত দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

ড. সিতি হাসমাহ মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের দীর্ঘদিনের জীবনসঙ্গী হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন। তিনি চিকিৎসক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

সূত্র : রয়টার্স

ছাত্রদের আন্দোলনের মুখে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬

সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে চলা বিক্ষোভ আর ক্রমবর্ধমান জন অসন্তোষের মুখে অবশেষে পদত্যাগ করলেন সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুচিচ।

রাজধানী বেলগ্রেডে অবস্থিত প্রেসিডেন্টের বাসভবনের বাইরে সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে মি. ভুচিচ বলেছেন, তার নয় বছরের শাসনামলে তিনি দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রেখেছেন।

গত জুন মাসেই তিনি পদত্যাগের ইচ্ছার কথা ঘোষণা করেছিলেন। এখন আসন্ন সংসদীয় নির্বাচনে নিজের দলের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন মি. ভুচিচ।

কারণ সার্বিয়ার সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট পদে তিনি তৃতীয়বারের মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না।

ক্ষমতায় থাকাকালে রুশপন্থী এই জনতুষ্টিবাদী নেতার সরকারের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠেছিল, যা ঘিরে সার্ভিয়ার জনগণের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।

২০২৪ সালে নোভী সাদ রেল স্টেশনের ছাদ ধ্বসে ১৬ জন নিহত হওয়ার ঘটনা তার প্রথম সরকারের বিরুদ্ধে জন্ম নেওয়া ওই ক্ষোভকে উস্কে দিয়েছিল।

এরপর ছাত্র-শিক্ষক থেকে শুরু করে শ্রমিক ও কৃষক পর্যন্ত সমাজের বিভিন্ন স্তরের নাগরিকদের অংশগ্রহণে শুরু হয় বিক্ষোভ। সংস্কারের পর নোভী সাদ রেল স্টেশন সার্বিয়ার অগ্রগতির প্রতীক হওয়ার কথা ছিল।

কিন্তু সেখানে ছাদ ধ্বসে হতাহতের যে ঘটনাটি ঘটে, সেটিকেই মি. ভুচিচের রাজনৈতিক দল প্রগ্রেসিভ পার্টির এক দশকের বেশি সময়ের শাসনামলের প্রকৃতচিত্র বলে মনে করেন বিরোধীরা।

দেশজুড়ে প্রতিবাদ শুরু হওয়ার পর জনরোষ কমিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকার লক্ষ্যে মি. ভুচিচ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের একের পর এক কর্মকর্তা পদত্যাগ করেন। কিন্তু তাতেও বিক্ষোভকারীদের শান্ত করা সম্ভব হয়নি। ফলে পুরো গ্রীষ্মকালজুড়ে বিক্ষোভ অব্যাহত থাকে।

আন্দোলন দমনে একপর্যায়ে সরকার পুলিশ মোতায়েন করলে পরিস্থিতি আরও অশান্ত হয়ে ওঠে। ওই সময় পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে হামলা-নির্যাতনসহ নিপীড়নের নানান অভিযোগ উঠতে দেখা যায়।

বিক্ষোভকারীরা ভুচিচ সরকারের পদত্যাগ দাবি করেন। সেইসঙ্গে, নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট আয়োজনেরও আহ্বান জানান।

প্রেসিডেন্ট পদে মি. ভুচিচের মেয়াদ আগামী বছর শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মেয়াদ পূর্ণ হবার আগেই তিনি পদত্যাগ করায় সার্ভিয়ায় এখন নতুন করে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হবে।

দেশটির সংবিধান অনুযায়ী, বর্তমান প্রেসিডেন্ট পদত্যাগ করার তিন মাসের মধ্যেই পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে।

এদিকে, আগামী অক্টোবরের শেষের দিকে দেশটিতে সংসদীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর অর্থ দাঁড়ায়, সার্বিয়ার জনগণ চলতি বছরে দু'বার ভোট দিতে যাবেন।

মি. ভুচিচ তার ভাষণে বলেন, অক্টোবরে অনুষ্ঠিতব্য সংসদীয় নির্বাচনের এক মাসের কিছু বেশি সময় পর প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

আসন্ন সংসদীয় নির্বাচনে তিনি প্রধানমন্ত্রী পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পরিকল্পনা করছেন। এর ফলে প্রগ্রেসিভ পার্টির শীর্ষপদে তার অবস্থান ধরে রাখার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

দেশটির সংসদের স্পিকার আনা ব্রনাবিচ, যিনিও প্রগ্রেসিভ পার্টির একজন নেতা, তিনি নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

সার্বিয়ার সরকারি গণমাধ্যম আরটিএসের তথ্যমতে, পদত্যাগের আগে মি. ভুচিচ তার সাংবিধানিক ক্ষমতা ব্যবহার করে ৪৯ জনকে ক্ষমা করেছেন। তাদের মধ্যে ২৩ জন শিক্ষার্থী এবং তার দলের অনুগত নেতাকর্মীরা রয়েছেন।

ক্ষমা পাওয়া এসব ব্যক্তিদের অনেকের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ ছিল।

আসন্ন সংসদীয় নির্বাচনে ভুচিচের প্রগ্রেসিভ পার্টির সঙ্গে যেসব দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার কথা রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে অন্যতম 'স্টুডেন্টস উইন'। এটি সাম্প্রতিক দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীদের দ্বারা গঠিত দল।

এছাড়া 'ইউরোপিয়ান সার্বিয়া' নামে পরিচিত আরেকটি জোট রয়েছে, যারা মূলত পশ্চিমাপন্থী বিরোধী দলগুলোর একটি মোর্চা।

গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে মি. ভুচিচ সার্বিয়ার রাজনীতির অবিচ্ছেদ্য এবং গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার তিন বছরের মাথায়, অর্থাৎ ২০১৭ সালে প্রথমবারের মতো তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

মি. ভুচিচ প্রকাশ্যেই বলে থাকেন যে, তিনি সার্বিয়াকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে (ইইউ) যুক্ত করতে চান।

একই সাথে, রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপন এবং চীনা বিনিয়োগের জন্যও সার্বিয়াকে উন্মুক্ত রাখতে চান তিনি।

ট্রাম্প, জেডি ভ্যান্স, ইলন মাস্ক ও নেতানিয়াহুকে হত্যার পরিকল্পনা নস্যাৎ

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
ট্রাম্প, জেডি ভ্যান্স, ইলন মাস্ক ও নেতানিয়াহুকে হত্যার পরিকল্পনা নস্যাৎ

রোমহর্ষক ষড়যন্ত্রের পর্দা ফাঁস করার দাবি করেছে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই। তাদের মতে, হোয়াইট হাউসের চত্বরে ঐতিহাসিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা চলাকালীন সময়ে রক্তগঙ্গা বইয়ে দেওয়ার ভয়ংকর পরিকল্পনা করেছিল একদল উগ্রপন্থী।

গত ১৪ জুন হোয়াইট হাউসের সাউথ লহ্নে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৮০তম জন্মবার্ষিকী এবং দেশটির আড়াইশতম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছিল ‘ইউএফসি ফ্রিডম ২৫০’ শীর্ষক বিশেষ মিশ্র মার্শাল আর্ট ইভেন্ট। আর ঠিক এই জমজমাট আন্তর্জাতিক আয়োজনের দিনেই ঘটে যেতে পারত আমেরিকার ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী এক ট্র্যাজেডি।

এফবিআইয়ের পরিচালক কাশ প্যাটেল জানিয়েছেন, অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এই নাশকতার ছক ভেস্তে দেওয়া হয়েছে। গোয়েন্দাদের সময়োপযোগী তৎপরতায় বিস্ফোরকভর্তি ড্রোন হামলা, স্নাইপার টিম এবং হোয়াইট হাউসের গেট জোর করে দখলের পরিকল্পনা শেষ মুহূর্তে নস্যাৎ করা হয়।

তদন্তে জানা গেছে, হামলাকারীরা পরিকল্পনা করেছিল যে বিস্ফোরণ ঘটানো ড্রোন দিয়ে লড়াইয়ের ভেন্যুর আশপাশের ভবনগুলোকে টার্গেট করা হবে এবং আতঙ্কে মানুষ যখন পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবে, তখন স্নাইপার টিম দিয়ে সাধারণ ভিড়ের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো হবে। ঠিক কতটা নৃশংস ও বর্বরোচিত ছিল সেই পরিকল্পনা, তা তাদের একটি গোপনীয় চ্যাট গ্রুপের মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট। যেখানে অত্যন্ত ঔদ্ধত্যের সঙ্গে লেখা হয়েছিল যে পরিস্থিতি হতে চলেছে এক রক্তক্ষয়ী উন্মত্ততা।

কীভাবে উন্মোচিত হলো এই ভয়ংকর ষড়যন্ত্র? মার্কিন সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ওহাইওর এক তরুণের পরিবারের এক সদস্যের সর্তকতার কারণে বিষয়টি প্রথম পুলিশের নজরে আসে। ওই তরুণ ওয়াশিংটন ডিসিতে কোনো এক বড় ধরনের ক্ষতিকর ঘটনা ঘটানোর কথা বলাবলি করছিলেন, যা নিয়ে তার পরিবার গভীরভাবে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে।

এরপরই এফবিআই এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যৌথভাবে তদন্তে নামে এবং ১৯ বছর বয়সী টাইসেন প্রপার নামের ওই তরুণসহ চক্রের অন্যান্যদের গ্রেপ্তার করে। পুলিশ যখন ওহাইওর ওই তরুণের বাড়িতে পৌঁছায়, তখন দেখা যায় তিনি ও তার সহযোগীরা আগে থেকেই অস্ত্র, গুলি এবং বর্ম বা বডি আর্মারে সজ্জিত ছিলেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ওই তরুণ জানান যে অনলাইনে এই ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকা লোকজনকে তিনি বাস্তবে কখনো দেখেননি, এমনকি তাদের আসল নামও তার জানা ছিল না।

তদন্তে বেরিয়ে এসেছে আরও লোমহর্ষক সব তথ্য। এফবিআইয়ের মতে, টাইসেন প্রপারের ফোন তল্লাশি করে ‘হান্টার্স’ নামে একটি সিগন্যাল গ্রুপের সন্ধান মেলে, যেখানে প্রায় ১৯ জন সদস্য যুক্ত ছিল। টিকটক, টেলিগ্রাম এবং সিমপ্লেক্সের মতো বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপে ফেক বা ভুয়া নাম ব্যবহার করে দিনরাত এই নাশকতার ছক কষতো তারা।

দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে, তা নিয়ে চরম ক্ষুব্ধ ছিল এই উগ্রপন্থীরা। ফেডারেল প্রসিকিউটররা ইতোমধ্যে ছয়টি রাজ্য থেকে আটজন পুরুষকে সন্ত্রাসবাদীদের বস্তুগত সহায়তা প্রদান এবং হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন। এদের মধ্যে টাইসেন প্রপার হলো মামলার সবচেয়ে কমবয়সী আসামি। তবে অভিযুক্ত প্রত্যেকেই আদালতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন।

এই ষড়যন্ত্রের লক্ষ্যবস্তু কারা ছিলেন, তা শুনলে যে কারোরই পিলে চমকে উঠবে। এফবিআইয়ের অনুসন্ধানে জানা গেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ছাড়াও এই উগ্রপন্থীদের প্রধান টার্গেটে ছিলেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

চক্রের ৩০ বছর বয়সী সদস্য ড্যানিয়েল এস্করিজ এবং ৩১ বছর বয়সী আব্রাহাম আলভারেজের মতো উগ্রপন্থীরা চ্যাট গ্রুপে অস্ত্র ও বিস্ফোরক জোগাড় করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিল। তাদের লক্ষ্য ছিল এমন এক রক্তক্ষয়ী বিপ্লব ঘটানো, যা কাঁপিয়ে দেবে গোটা যুক্তরাষ্ট্রকে। এমনকি গ্রেপ্তার হওয়ার পরেও অপর এক সদস্য চ্যাট গ্রুপে লিখেছিলেন যে পিছু হটার আর কোনো উপায় নেই, কারণ ব্রেক আগেই ফেল করা হয়েছে এবং ব্যর্থতা তাদের কাছে কোনো বিকল্প নয়।

তদন্তকারীরা আরও জানতে পেরেছেন যে চক্রের সদস্যরা মাত্র দুইবার বাস্তবে মুখোমুখি বৈঠক করেছিল, বাকি সময়টা পুরোটাই ডিজিটাল মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ বজায় রাখতো। ওহাইওর তরুণ টাইসেন প্রপার ল্যান্ডস্কেপিংয়ের চাকরি ছেড়ে নিজের উচ্চ বিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েশনের জমানো প্রায় তিন হাজার ডলার খরচ করে আমেরিকান পতাকার নকশা করা একটি সেমি-অটোমেটিক শটগান কিনেছিলেন।

তার বেডরুম থেকে পুলিশ অসংখ্য রাজনীতিবিদ ও সেলিব্রিটির নাম সংবলিত একটি ডায়েরি উদ্ধার করেছে, যেখানে সরকারের বিরুদ্ধে চরম ষড়যন্ত্রের কাল্পনিক তত্ত্ব লেখা ছিল। এছাড়া স্নাইপার হিসেবে নির্দিষ্ট দূরত্ব থেকে নিশানা করার দায়িত্ব অর্পিত হয়েছিল ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার ২১ বছর বয়সী চ্যান্ডলার স্ক্যাগসের ওপর।

হোয়াইট হাউসের কাছাকাছি সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক নিরাপত্তার বিঘ্ন ঘটার ঘটনার পর এই বড় মাপের নাশকতার ছক ফাঁস হওয়া মার্কিন প্রশাসনকে আরও বেশি সতর্ক করে তুলেছে। বর্তমানে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি প্রক্রিয়া চলছে এবং ফেডারেল আদালত পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে।

হরমুজকে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ উল্লেখ করে মানচিত্রের ছবি পোস্ট করলেন ট্রাম্প

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
হরমুজকে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ উল্লেখ করে মানচিত্রের ছবি পোস্ট করলেন ট্রাম্প

হরমুজ প্রণালিকে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ নামে উল্লেখ করে একটি মানচিত্রের ছবি প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কৌশলগত এ জলপথ পুনরায় খুলে দেয়ার জন্য ইরান সাত দিনের পরিকল্পনা প্রস্তাব করার কয়েক ঘণ্টা পরই শুক্রবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ছবিটি পোস্ট করেন ট্রাম্প।

এর আগে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়ার বিনিময়ে যুদ্ধ বন্ধসহ একটি নতুন চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। শুক্রবার হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধ নিয়ে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তাদের আলোচনা ‘ইতিবাচক ও গঠনমূলক’ পর্যায়ে রয়েছে। তবে আলোচনার বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ চুক্তি বাস্তবায়িত হলে সাতদিনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি পুনরায় চালু করা সম্ভব। দেশটি আরো ইঙ্গিত দিয়েছে, এমন একটি সমঝোতা মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের জন্য সহায়ক হতে পারে।

তারা আরো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শর্তগুলো মেনে নেয়ার পর দেশটির পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনায় বসতে প্রস্তুত তারা। তবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার বা উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠানোর মতো বিষয়ে কোনো ছাড় দেবে না ইরান। অন্যদিকে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে সরিয়ে নেয়া যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দাবি।

ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে ইরানের বিরুদ্ধে পরমাণু অস্ত্র তৈরির প্রচেষ্টার অভিযোগ করে আসছে। এর মধ্যে ইরানের ইউরেনিয়াম ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ করার বিষয়টিও তারা উল্লেখ করে। বেসামরিক ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় মাত্রার তুলনায় এ হার অনেক বেশি এবং পরমাণু অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় ৯০ শতাংশের কাছাকাছি। তবে ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে—এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পরমাণু স্থাপনায় হামলা চালানোর সময় দেশটির কাছে ৬০ শতাংশ মাত্রায় সমৃদ্ধ ৪৪০ দশমিক ৯ কেজি ইউরেনিয়াম ছিল। এর কতটা এখনো অবশিষ্ট আছে, তা স্পষ্ট নয়।