১ অক্টোবর ২০২৬

পারমাণবিক অস্ত্র পেলে বিশ্বকে জিম্মি করতে পারে ইরান: যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ: বুধবার, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬
পারমাণবিক অস্ত্র পেলে বিশ্বকে জিম্মি করতে পারে ইরান: যুক্তরাষ্ট্র

বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার জন্ম দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক করেছে যে, তেহরান যদি পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হয়, তবে তা সমগ্র বিশ্ব ব্যবস্থার জন্য মারাত্মক হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এই কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক নীতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি জানান, বর্তমানে হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে স্বাভাবিক উপায়েই তেল পরিবহন অব্যাহত রয়েছে এবং ইরানের নিজস্ব তেল বাদ দিলে যুদ্ধপূর্ব সময়ের প্রায় সমপরিমাণ জ্বালানি এই রুট দিয়ে পারাপার হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ পাল্টে যেতে পারে যদি তেহরানের হাতে পরমাণু অস্ত্র পৌঁছে যায়।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আশঙ্কা, পরমাণু ক্ষমতার অধিকারী হলে ইরান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারে। সেখানে বাড়তি শুল্ক বা টোল বসানোর পাশাপাশি কোন দেশ জ্বালানি পাবে আর কোন দেশ বঞ্চিত হবে—সেই সিদ্ধান্তও তারা নিজেদের ইচ্ছামতো এককভাবে চাপিয়ে দিতে পারে। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য এই পরিস্থিতিকে একটি ‘অগ্রহণযোগ্য ঝুঁকি’ বলে অভিহিত করেন তিনি।

বর্তমান ইরানি শাসনব্যবস্থার কঠোর সমালোচনা করে মার্কো রুবিও বলেন, দেশটির রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ার মূল নিয়ন্ত্রণ কট্টরপন্থি কিছু শিয়া ধর্মীয় নেতার হাতে কুক্ষিগত রয়েছে। ভবিষ্যৎ নিয়ে এই ধর্মীয় নেতাদের দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত ‘ধ্বংসাত্মক ও প্রলয়বাদী’। অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা কিংবা বিভিন্ন বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড থেকে অর্জিত বিপুল অর্থ সাধারণ মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে ব্যবহার না করে অস্ত্রভাণ্ডার সমৃদ্ধ করতে এবং নিজেদের বিপ্লবী আদর্শ বিস্তারে ব্যয় করছে তেহরান।

সাক্ষাৎকারে রুবিও আরও অভিযোগ করেন যে, মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা তৈরিতে সরাসরি মদদ দিচ্ছে ইরান। হিজবুল্লাহ, হামাস এবং ইরাকের বিভিন্ন শিয়া মিলিশিয়া গোষ্ঠীকে নিয়মিত বড় অংকের অর্থায়ন করার পাশাপাশি বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও হত্যাচেষ্টার পৃষ্ঠপোষকতায় তেহরানের প্রত্যক্ষ ভূমিকা রয়েছে বলে দাবি করেন এই মার্কিন শীর্ষ কর্মকর্তা।

আরব বিশ্বে নতুন মাইলফলক: তিউনিসিয়ার পর এবার মরক্কোর সরকার প্রধান হলেন কোনো নারী

প্রকাশ: বুধবার, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬
আরব বিশ্বে নতুন মাইলফলক: তিউনিসিয়ার পর এবার মরক্কোর সরকার প্রধান হলেন কোনো নারী

মরক্কোর প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ফাতিমা জাহরা এল মানসুরিকে মনোনীত করেছেন দেশটির বাদশাহ ষষ্ঠ মোহাম্মদ। এর মাধ্যমে তিউনিশিয়ার নাজলা বুদেনের পর তিনি আরব বিশ্বের দ্বিতীয় নারী হিসেবে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পেলেন।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সংসদীয় নির্বাচনে ফাতিমার মধ্যপন্থী দল ‘অথেন্টিসিটি অ্যান্ড মডার্নিটি পার্টি’ (পাম) সর্বাধিক ৯৭টি আসন পেয়ে জয়লাভ করে। জয়ের পর দলটির শীর্ষ নেতা ফৌজি লেকজাকে পেছনে ফেলে ৫০ বছর বয়সী মানসুরিকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেছে নেন বাদশাহ।

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেশায় আইনজীবী মানসুরি মরক্কোর মোহাম্মদ ভি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষে ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে করপোরেট আইনে উচ্চতর ডিগ্রি নেন। ২০০৯ সালে তিনি মারাকেশের প্রথম নারী মেয়র হন এবং পরবর্তীতে বিদায়ি জোটে নগর পরিকল্পনা ও আবাসন মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসার আগে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বাদশাহকে ‘নারীদের সবচেয়ে বড় সমর্থক’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, সরকারের নেতৃত্ব দেওয়া তার জন্য একটি বিরাট সম্মান। তবে রাজনীতিতে নারীদের অধিকার বা উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বিতর্কিত বিষয়ে তিনি সব সময়ই দেখেশুনে কথা বলেছেন। নিজেকে ‘লৌহ নারী’ ভাবতেও নারাজ তিনি।

মরক্কোর সংবিধানে জয়ী দল থেকে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের নিয়ম থাকলেও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য ১৯৮টি আসনের প্রয়োজন হয়।

ফলে পাম দলকে এখন সরকার গঠনের জন্য অন্য দলগুলোর সঙ্গে জোট তৈরি করতে হবে। বিদায়ি ক্ষমতাসীন দল আরএনআইর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হওয়া এবং ইসলামপন্থী পিজেডি পার্টি বিরোধী দলে থাকার ঘোষণা দেওয়ায় নতুন জোট গঠন নিয়ে এখন তৈরি হয়েছে কৌতূহল।

যুক্তরাজ্যকে দুই সপ্তাহের আলটিমেটাম দিল আর্জেন্টিনা

প্রকাশ: বুধবার, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬
যুক্তরাজ্যকে দুই সপ্তাহের আলটিমেটাম দিল আর্জেন্টিনা

দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের কাছে সমুদ্রসীমায় তেল উত্তোলন প্রকল্প নিয়ে যুক্তরাজ্যকে দুই সপ্তাহের আলটিমেটাম দিয়েছে আর্জেন্টিনা। এর মধ্যে তেল উত্তোলন বন্ধ না করলে দেশটির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়ার হুমকি দিয়েছেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেন, সি লায়ন প্রকল্প বন্ধ না হলে দুই সপ্তাহ পর আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনবিষয়ক ট্রাইব্যুনালে যাবে আর্জেন্টিনা।

এ লক্ষ্যে উত্তর ফকল্যান্ড অববাহিকায় সি লায়ন প্রকল্প নিয়ে সালিশি কার্যক্রম শুরুর জন্য তিনি দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইনজীবীদের নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানান তিনি। মিলেই বলেন, ‘আর্জেন্টিনা ওই অঞ্চলের প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনকে অবৈধ মনে করে।’

এদিকে দেশটির প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, জাতিসংঘের সমুদ্র আইনবিষয়ক কনভেনশনের অ্যনেক্স ৭-এর অধীনে এ কার্যক্রম শুরু হবে।

প্রসঙ্গত, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনায় ‘মালভিনাস’ নামে পরিচিত। দ্বীপপুঞ্জটির প্রায় ২২০ কিলোমিটার উত্তরে সি লায়ন তেলক্ষেত্র অবস্থিত। প্রকল্পটির ৬৫ শতাংশ মালিকানা ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠান নাভিটাস পেট্রোলিয়ামের এবং বাকি ৩৫ শতাংশ ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান রকহপার এক্সপ্লোরেশনের।

বিশ্বখ্যাত আন্তর্জাতিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নাভিটাস জানিয়েছে, প্রকল্পটির জন্য চূড়ান্ত বিনিয়োগ অনুমোদন পাওয়া গেছে।

এতে ২০২৮ সালের মার্চে প্রথম তেল উত্তোলনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম ধাপে ভাসমান উৎপাদন, সংরক্ষণ ও সরবরাহকারী জাহাজের সঙ্গে যুক্ত ১১টি সমুদ্রতল কূপ স্থাপন করা হবে।
এদিকে আর্জেন্টিনার অবস্থান প্রত্যাখ্যান করেছে তেল প্রতিষ্ঠানগুলো। তাদের দাবি, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের সরকার আইনসম্মতভাবে তেল অনুসন্ধান ও উত্তোলনের লাইসেন্স দিয়েছে। অনুমোদনের ভিত্তিতেই তারা কাজ করছে এবং এতে যুক্তরাজ্যের সমর্থন রয়েছে।

তবে আর্জেন্টিনার দাবি, বিরোধপূর্ণ অঞ্চলে একতরফাভাবে প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনের উদ্যোগ জাতিসংঘের প্রস্তাবের লঙ্ঘন। এসব প্রস্তাবে ফকল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির প্রচেষ্টাকে জটিল করে তুলতে পারে এমন পদক্ষেপ থেকে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ফকল্যান্ডকে ঘিরে তেল ও গ্যাস কার্যক্রমে যুক্ত প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে মিলেই সরকার। সর্বশেষ উদ্যোগের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের সার্বভৌমত্ব বিরোধটি সমুদ্র আইনবিষয়ক আন্তর্জাতিক সালিসি প্রক্রিয়ায় নেওয়ার উদ্যোগ নিল বুয়েনস আয়ার্স।

অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের অবস্থান হলো, ফকল্যান্ড একটি ব্রিটিশ ওভারসিজ টেরিটরি এবং দ্বীপটির বাসিন্দাদের নিজেদের প্রাকৃতিক সম্পদ উন্নয়নের অধিকার রয়েছে। সেখানে আইনসম্মতভাবে ব্যবসা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে তারা পূর্ণ সমর্থন করে বলেও জানিয়েছে দেশটি।

ইমরানের মুক্তির লড়াইয়ে রাজপথে নতুন মুখ

প্রকাশ: বুধবার, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬
ইমরানের মুক্তির লড়াইয়ে রাজপথে নতুন মুখ

পাকিস্তানের কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে আবারও রাজপথে বড় আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। এই গণআন্দোলনের সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহাইল আফ্রিদি।

৩৭ বছর বয়সী এই তরুণ নেতা এখন আর কেবল প্রাদেশিক প্রধানের দায়িত্বে সীমাবদ্ধ নন। ইমরান খানের অনুপস্থিতিতে পিটিআইয়ের অন্যতম প্রধান সংগঠক হিসেবে জাতীয় রাজনীতিতেও তিনি এখন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব।

তথ্যসূত্র অনুযায়ী, আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে আগামী ৪ অক্টোবর রাজধানী ইসলামাবাদ অভিমুখে 'লং মার্চ' বা দীর্ঘমিছিলের ডাক দিয়েছে পিটিআই। তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্দী ইমরান খানের নিঃশর্ত মুক্তিই এই কর্মসূচির মূল দাবি।

এই নতুন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে শাহবাজ সরকার ও পিটিআইয়ের মধ্যে রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে উঠেছে। আফ্রিদির অভিযোগ, সরকার তাদের নেতাকর্মী ও প্রতিনিধিদের ওপর দমন-পীড়ন ও অভিযান জোরদার করেছে।

প্রথমে গত রোববার এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও ইমরান খানের বোনদের গ্রেপ্তার এবং রাজধানীতে প্রবেশের পথ বন্ধ করায় তা এক সপ্তাহ পেছানো হয়। তবে আফ্রিদির মতে, এটি কোনো পেছানো বা আত্মসমর্পণ নয়, বরং তাদের রাজনৈতিক কৌশল।

নতুন ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, ৪ অক্টোবর দীর্ঘমিছিল শেষে ৫ অক্টোবর ইমরান খানের জন্মদিন উপলক্ষে উদযাপিত হবে ‘বিজয় দিবস’। ১৯৮৯ সালে জন্ম নেওয়া সোহাইল আফ্রিদি ২০২৪ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে বিজয়ী হন এবং ২০২৫ সালের অক্টোবরে ইমরানের নির্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক আমের রাজার মতে, রাজপথের এই লড়াই সোহাইল আফ্রিদির জন্য জাতীয় রাজনীতির এক বিরাট পরীক্ষা হতে যাচ্ছে। ৪ অক্টোবরের কর্মসূচিই নির্ধারণ করবে পিটিআই আন্দোলনের ভবিষ্যৎ গতিপথ।

পারমাণবিক অস্ত্র পেলে বিশ্বকে জিম্মি করতে পারে ইরান: যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ: বুধবার, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬
পারমাণবিক অস্ত্র পেলে বিশ্বকে জিম্মি করতে পারে ইরান: যুক্তরাষ্ট্র

বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার জন্ম দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক করেছে যে, তেহরান যদি পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হয়, তবে তা সমগ্র বিশ্ব ব্যবস্থার জন্য মারাত্মক হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এই কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক নীতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি জানান, বর্তমানে হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে স্বাভাবিক উপায়েই তেল পরিবহন অব্যাহত রয়েছে এবং ইরানের নিজস্ব তেল বাদ দিলে যুদ্ধপূর্ব সময়ের প্রায় সমপরিমাণ জ্বালানি এই রুট দিয়ে পারাপার হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ পাল্টে যেতে পারে যদি তেহরানের হাতে পরমাণু অস্ত্র পৌঁছে যায়।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আশঙ্কা, পরমাণু ক্ষমতার অধিকারী হলে ইরান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারে। সেখানে বাড়তি শুল্ক বা টোল বসানোর পাশাপাশি কোন দেশ জ্বালানি পাবে আর কোন দেশ বঞ্চিত হবে—সেই সিদ্ধান্তও তারা নিজেদের ইচ্ছামতো এককভাবে চাপিয়ে দিতে পারে। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য এই পরিস্থিতিকে একটি ‘অগ্রহণযোগ্য ঝুঁকি’ বলে অভিহিত করেন তিনি।

বর্তমান ইরানি শাসনব্যবস্থার কঠোর সমালোচনা করে মার্কো রুবিও বলেন, দেশটির রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ার মূল নিয়ন্ত্রণ কট্টরপন্থি কিছু শিয়া ধর্মীয় নেতার হাতে কুক্ষিগত রয়েছে। ভবিষ্যৎ নিয়ে এই ধর্মীয় নেতাদের দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত ‘ধ্বংসাত্মক ও প্রলয়বাদী’। অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা কিংবা বিভিন্ন বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড থেকে অর্জিত বিপুল অর্থ সাধারণ মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে ব্যবহার না করে অস্ত্রভাণ্ডার সমৃদ্ধ করতে এবং নিজেদের বিপ্লবী আদর্শ বিস্তারে ব্যয় করছে তেহরান।

সাক্ষাৎকারে রুবিও আরও অভিযোগ করেন যে, মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা তৈরিতে সরাসরি মদদ দিচ্ছে ইরান। হিজবুল্লাহ, হামাস এবং ইরাকের বিভিন্ন শিয়া মিলিশিয়া গোষ্ঠীকে নিয়মিত বড় অংকের অর্থায়ন করার পাশাপাশি বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও হত্যাচেষ্টার পৃষ্ঠপোষকতায় তেহরানের প্রত্যক্ষ ভূমিকা রয়েছে বলে দাবি করেন এই মার্কিন শীর্ষ কর্মকর্তা।

আরব সাগরে নতুন সাবমেরিন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে পাকিস্তান

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬
আরব সাগরে নতুন সাবমেরিন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে পাকিস্তান

পাকিস্তানের নৌবাহিনীতে সদ্য যুক্ত হওয়া হ্যাঙ্গর শ্রেণির একটি সাবমেরিন আরব সাগরে প্রথমবারের মতো সরাসরি অস্ত্র নিক্ষেপের মহড়া চালিয়েছে। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর এ তথ্য জানিয়েছে।

আইএসপিআরের তথ্য অনুযায়ী, মহড়ায় নতুন সাবমেরিন পিএনএস/এম হ্যাঙ্গর থেকে নির্ধারিত দূরপাল্লার একটি লক্ষ্যবস্তুতে অ্যান্টি-শিপ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। ক্ষেপণাস্ত্রটি সফলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।

মহড়াটি প্রত্যক্ষ করেন পাকিস্তান নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল নাভিদ আশরাফ। সাবমেরিনটির যুদ্ধ সক্ষমতার প্রশংসা করার পাশাপাশি সমুদ্রের নিচে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি।

আইএসপিআর বলেছে, এই মহড়া পাকিস্তান নৌবাহিনীর আধুনিক ও যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত বাহিনী গড়ে তোলার সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রদর্শন। দেশের সমুদ্রসীমা সুরক্ষা এবং আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখতেও এ সক্ষমতা ভূমিকা রাখবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

জুনে করাচি বন্দরে পৌঁছায় সাবমেরিন

চীন ও পাকিস্তানের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও গভীর হওয়ার প্রেক্ষাপটে হ্যাঙ্গর শ্রেণির প্রথম সাবমেরিনটি গত জুনে করাচি বন্দরে পৌঁছায়। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ নতুন সাবমেরিনের প্রথম সরাসরি অস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনায় নৌবাহিনী ও এর নেতৃত্বকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, দূরপাল্লার লক্ষ্যবস্তুতে অ্যান্টি-শিপ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল আঘাত পাকিস্তান নৌবাহিনীর সাবমেরিন ইউনিটের প্রস্তুতি, দক্ষতা ও যুদ্ধ সক্ষমতার প্রমাণ।

দেশের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সশস্ত্র বাহিনীর প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতিশ্রুতির কথাও জানান শাহবাজ শরিফ।

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারিও এ ঘটনায় নৌবাহিনীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আধুনিক যুদ্ধ সক্ষমতায় সজ্জিত পাকিস্তান নৌবাহিনী দেশের সমুদ্রসীমা সুরক্ষা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।