১০ অক্টোবর ২০২৬

শান্তিতে ‘নোবেল’ পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য একমাত্র আমি: ট্রাম্প

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ০৮, ২০২৬
শান্তিতে ‘নোবেল’ পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য একমাত্র আমি: ট্রাম্প

ইরানের সাথে সংঘাতে জড়ানো এবং ইউক্রেনে এখনও শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে না পারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য একমাত্র তিনিই। তবে এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে নিজের মনেই সংশয় রয়েছে বলে স্বীকার করেছেন তিনি।

আগামী শুক্রবার নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি ২০২৬ সালের এই পুরস্কারের বিজয়ী ঘোষণা করবে। এ বিষয়ে ট্রাম্প বুধবার (৭ অক্টোবর) সাংবাদিকদের বলেন, তাদের সিদ্ধান্ত কী হতে চলেছে তা আমি জানি না। তবে আমার মতো মানুষদের এই পুরস্কার না দেওয়ার ব্যাপারে তাদের একটি সুনির্দিষ্ট সুখ্যাতি বা দুর্নাম রয়েছে।

রয়টার্স বলছে, গত বছর হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর থেকেই বিশ্বের অন্যতম এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারটি নিজের প্রাপ্য বলে বারবার দাবি করে আসছেন ট্রাম্প।

ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, এখন সেই সময় এসেছে। তবে গতবার প্রাপক নিজেই যখন বলেছিলেন যে ইতিহাসে অন্য কেউ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চেয়ে এর বেশি যোগ্য নয়, তখন পরোক্ষভাবে সেই পুরস্কার পেয়ে আমি অত্যন্ত সম্মানিত বোধ করেছিলাম।

উল্লেখ্য, ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো ভেনেজুয়েলায় নিজের আন্দোলনের জন্য মার্কিন সমর্থন পাওয়ার আশায় গত বছরের জানুয়ারি মাসে তার নিজের পাওয়া ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদকটি ট্রাম্পের হাতে তুলে দিয়েছিলেন।

গত বছরের জানুয়ারিতে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে আটটি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার দাবি করে ট্রাম্প বলেছেন, এসব কারণে তার এই পুরস্কার পাওয়া উচিত। কম্বোডিয়া, ইসরায়েল ও পাকিস্তানের নেতারা তাকে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত করেছেন বলে দাবি করলেও এর কোনো সত্যতা যাচাইয়ের উপায় নেই।

এদিকে, ট্রাম্প যে সংঘাতগুলোর সমাধান করার দাবি করেছেন সেগুলোর পক্ষগুলো মার্কিন প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এমনকি গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র এবং কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ড সীমান্তসহ ওই অঞ্চলগুলোর কিছু কিছু জায়গায় লড়াই আবার নতুন করে শুরু হয়েছে।

দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ট্রাম্প, তবে সেই যুদ্ধ থামানোর কোনো সুরাহা তিনি এখনও করতে পারেননি। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান হামলা সাত মাস ধরে চলা একটি সুপ্ত সংঘাতে রূপ নিয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে ওলটপালট করে দিয়েছে এবং আসন্ন নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে গ্যাসের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।

চলতি বছরের নোবেল পুরস্কারের দৌড়ে পোপ লিও, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত এবং ফিলিস্তিন ভূখণ্ডের বিশেষ র‍্যাপার্টায়ার অন্যতম ফেভারিট হিসেবে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন।

শান্তিতে নোবেল পেলেন দক্ষিণ আফ্রিকার নাভি পিল্লাই

প্রকাশ: শুক্রবার, অক্টোবর ০৯, ২০২৬
শান্তিতে নোবেল পেলেন দক্ষিণ আফ্রিকার নাভি পিল্লাই
দক্ষিণ আফ্রিকার বিচারপতি নাভানেথেম ‘নাভি’ পিল্লাই। ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার বিচারপতি নাভানেথেম ‘নাভি’ পিল্লাই। আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) নরওয়ের রাজধানী অসলোতে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি এ পুরস্কার ঘোষণা করে।

নাভি পিল্লাই দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্টের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী বিচারক ছিলেন। তিনি ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারক এবং রুয়ান্ডার জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রেসিডেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার হিসেবে বিবেচিত নোবেল শান্তি পুরস্কার সাধারণত শান্তি প্রতিষ্ঠা, আন্তর্জাতিক ভ্রাতৃত্ব জোরদার এবং মানবকল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেওয়া হয়।

এ বছর পুরস্কারের জন্য ২৮৭ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে মনোনীত করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে এক-চতুর্থাংশের বেশি ছিল বিভিন্ন সংস্থা। সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন, সুদানের জরুরি সহায়তা দল, ইউক্রেনে শিশুদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন এবং দুটি আন্তর্জাতিক আদালতের নাম আলোচনায় ছিল।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছিলেন। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই এই পুরস্কার পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে আসছিলেন।

নোবেল পুরস্কার বিশ্লেষকদের মতে, নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা, আন্তর্জাতিক সম্প্রীতি এবং এসব লক্ষ্য অর্জনে ভূমিকা রাখা প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমকে গুরুত্ব দেয়।

এর আগে ২০২৫ সালে ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো নোবেল শান্তি পুরস্কার পান। দেশটিতে গণতান্ত্রিক উত্তরণ নিশ্চিত করার সংগ্রামের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে পুরস্কৃত করা হয়। ক্রমবর্ধমান অন্ধকারের মধ্যেও গণতন্ত্রের শিখা জ্বালিয়ে রাখার জন্য তাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল।

৮১টি মার্কিন বিমান ধ্বংস করেছে ইরান: সিআরএস

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ০৮, ২০২৬
৮১টি মার্কিন বিমান ধ্বংস করেছে ইরান: সিআরএস

ইরানকে ঘিরে চলমান সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৮১টি সামরিক উড়োজাহাজ ধ্বংস, বিধ্বস্ত বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার ও চালকবিহীন ড্রোন রয়েছে। মার্কিন কংগ্রেসের গবেষণা সংস্থা কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিস (সিআরএস) ৫ অক্টোবর হালনাগাদ করা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

তবে এই ৮১টি উড়োজাহাজের সবগুলোই স্থায়ীভাবে ধ্বংস হয়নি। সিআরএস জানিয়েছে, তালিকায় ধ্বংস ও বিধ্বস্ত হওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত উড়োজাহাজও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি মেরামত শেষে আবার কার্যক্রমে ফিরেছে। চলমান সামরিক অভিযান এবং শ্রেণিবদ্ধ তথ্যের কারণে ভবিষ্যতে এ সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আল আরাবিয়ার প্রতিবেদনে সিআরএসের তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে এমকিউ-৯ ‘রিপার’ ড্রোন। ইরানকে ঘিরে পরিচালিত অভিযানে অন্তত ৪৫টি এ ধরনের ড্রোন হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ ছাড়া এফ-১৫ই ‘স্ট্রাইক ঈগল’ যুদ্ধবিমানের ১২টি ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এফ-১৫ইগুলোর মধ্যে মার্চে কুয়েতের আকাশে নিজেদের বাহিনীর ভুল হামলায় তিনটি ধ্বংস হয়। এ ছাড়া এপ্রিল মাসে ইরানের আকাশসীমায় আরও একটি এফ-১৫ই ধ্বংস হওয়ার তথ্য রয়েছে। সেপ্টেম্বরে জর্ডানের মুওয়াফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে ইরানি হামলায় আটটি এফ-১৫ই ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সেগুলোর কয়েকটি পরে আবার কার্যক্রমে ফিরেছে।

সিআরএসের তালিকায় আরও রয়েছে একটি এফ-৩৫এ ‘লাইটনিং টু’, দুটি এ-১০ ‘থান্ডারবোল্ট টু’, সাতটি কেসি-১৩৫ আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান এবং একটি ই-৩ ‘সেন্ট্রি’ সতর্কতা ও নিয়ন্ত্রণ বিমান।

এ ছাড়া বিশেষ অভিযানে ব্যবহৃত দুটি এমসি-১৩০জে, একটি এইচএইচ-৬০ডব্লিউ উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার, একটি এমকিউ-৪সি ‘ট্রাইটন’ এবং তিনটি এমকিউ-১ ড্রোনের ক্ষয়ক্ষতির তথ্যও প্রতিবেদনে রয়েছে।

হেলিকপ্টারের তালিকায় রয়েছে হরমুজ প্রণালিতে ভূপাতিত একটি এএইচ-৬৪ ‘অ্যাপাচি’, উদ্ধার অভিযান চলাকালে ধ্বংস হওয়া চারটি এএইচ-৬ ‘লিটল বার্ড’ এবং আরব সাগরে বিধ্বস্ত একটি এমএইচ-৬০ ‘সি হক’।

সিআরএস বলছে, বিপুলসংখ্যক উড়োজাহাজের ক্ষয়ক্ষতি মার্কিন কংগ্রেসের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস হওয়া উড়োজাহাজ প্রতিস্থাপনে পেন্টাগনের পর্যাপ্ত অর্থ ও সক্ষমতা রয়েছে কি না, তা নিয়ে পর্যালোচনার প্রয়োজন হতে পারে।

এ ছাড়া ই-৩ ‘সেন্ট্রি’র মতো তুলনামূলকভাবে সীমিত সংখ্যায় থাকা গুরুত্বপূর্ণ উড়োজাহাজের ক্ষতি হলে মার্কিন সামরিক সক্ষমতায় কোনো ঘাটতি তৈরি হবে কি না, সেটিও কংগ্রেসের নজরদারির বিষয় হতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মার্কিন প্রতিরক্ষা শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা, সরবরাহব্যবস্থা এবং একই সময়ে বিদেশে সামরিক সরঞ্জামের চাহিদা-সব মিলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত উড়োজাহাজ দ্রুত প্রতিস্থাপন করা কঠিন হতে পারে।

ফ্রান্সের জেন-জি বিক্ষোভের উত্তাপ এবার বেলজিয়ামে, আটক শতাধিক শিক্ষার্থী

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ০৮, ২০২৬
ফ্রান্সের জেন-জি বিক্ষোভের উত্তাপ এবার বেলজিয়ামে, আটক শতাধিক শিক্ষার্থী

প্রতিবেশী দেশ ফ্রান্সে চলমান বিক্ষোভের মধ্যেই এবার বেলজিয়ামে ফরাসিভাষী অঞ্চলে পড়াশোনার খরচ ও টিউশন ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু করেছে জেন-জি শিক্ষার্থীরা।

বিক্ষোভ চলাকালে সহিংস পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে পুলিশ শতাধিক শিক্ষার্থীকে আটক করেছে।

আল জাজিরার বরাতে জানা গেছে, বেলজিয়ামের লিয়েজ শহরে গত মঙ্গলবার ও বুধবার শিক্ষার্থীরা ক্লাসকক্ষ সংকট এবং ফরাসিভাষী শিক্ষা ব্যবস্থায় বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তিতে জটিলতার অভিযোগে এই বিক্ষোভের ডাক দেন।

বেলগা সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, লিয়েজ পুলিশের তথ্য মতে বিক্ষোভের সময় মোট ৮০ জনকে সাময়িকভাবে আটক করা হয়েছিল এবং এর মধ্যে ২৭ জনকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কিছু মানুষ জনসম্পত্তির ক্ষতি সাধন করে এবং বিভিন্ন স্থানে আগুন ধরিয়ে দেয়।

আন্দোলনকারীরা জানান, শিক্ষা ব্যবস্থার বিদ্যমান ত্রুটিগুলোর কারণে তাদের রাজপথে নেমে আসা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না।

শিক্ষক হতে ইচ্ছুক ১৯ বছর বয়সি শিক্ষার্থী আমেলিয়া দি সালভ বলেন, যখন আমরা দেখলাম বিক্ষোভ ছাড়া কিছুই বদলাচ্ছে না, তখন আমরা নিজেরা রাস্তায় নামার সিদ্ধান্ত নিলাম। তিনি আরও যোগ করেন যে ফ্রান্সে চলা বিক্ষোভও তাদের কিছুটা প্রভাবিত করেছে।

আরেক ১৯ বছর বয়সি শিক্ষার্থী আলফ্রেড রয়টার্স বার্তা সংস্থাকে বলেন, আমরা একে অপরকে সমর্থন করছি, কারণ আমরা প্রায় একই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছি।

পরিস্থিতি শান্ত করতে এবং পরবর্তী সহিংসতা এড়াতে প্রশাসন বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। লিয়েজ শহরের মেয়র উইলি ডিমেয়ার বেলজিয়ান সম্প্রচারমাধ্যম আরটিবিএফকে জানান, আলোচনার সুযোগ রয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন যে তরুণরা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করতে পারবে এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের কথা গুরুত্বের সঙ্গে শুনবে।

উল্লেখ্য, বেলজিয়ামে শিক্ষা ব্যবস্থাটি দেশটির ভাষাগত সম্প্রদায়ের মাধ্যমে স্বাধীনভাবে পরিচালিত হয় এবং এখানে কোনো একক জাতীয় পাঠ্যক্রম নেই। ফ্ল্যান্ডার্স অঞ্চলের ডাচভাষী জনগোষ্ঠী নিজেদের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করে, আর ফরাসিভাষী ওয়ালোনিয়া অঞ্চল তাদের নিজস্ব পাঠ্যক্রম পরিচালনা করে। এছাড়া দ্বিভাষিক রাজধানী ব্রাসেলসে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের কোথায় ভর্তি করাবেন তা নিজেরাই নির্ধারণ করতে পারেন।

এর আগে, ব্রাসেলসে গ্রীষ্মকালে ফরাসিভাষী অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য টিউশন ফি ৮৩৫ ইউরো (৯৩০ ডলার) থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ১৯৪ ইউরো (১ হাজার ৩৪০ ডলার) করার প্রতিবাদে বিক্ষিপ্ত সহিংস বিক্ষোভ হয়েছিল। বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট এবং আকাশচুম্বী জ্বালানি খরচের কারণে বেলজিয়ামের শিক্ষা বাজেট বর্তমানে চরম চাপের মুখে রয়েছে, যা ফ্রান্সেও ছাত্র বিক্ষোভকে তীব্র করে তুলতে ভূমিকা রাখছে।

শান্তিতে ‘নোবেল’ পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য একমাত্র আমি: ট্রাম্প

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ০৮, ২০২৬
শান্তিতে ‘নোবেল’ পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য একমাত্র আমি: ট্রাম্প

ইরানের সাথে সংঘাতে জড়ানো এবং ইউক্রেনে এখনও শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে না পারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য একমাত্র তিনিই। তবে এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে নিজের মনেই সংশয় রয়েছে বলে স্বীকার করেছেন তিনি।

আগামী শুক্রবার নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি ২০২৬ সালের এই পুরস্কারের বিজয়ী ঘোষণা করবে। এ বিষয়ে ট্রাম্প বুধবার (৭ অক্টোবর) সাংবাদিকদের বলেন, তাদের সিদ্ধান্ত কী হতে চলেছে তা আমি জানি না। তবে আমার মতো মানুষদের এই পুরস্কার না দেওয়ার ব্যাপারে তাদের একটি সুনির্দিষ্ট সুখ্যাতি বা দুর্নাম রয়েছে।

রয়টার্স বলছে, গত বছর হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর থেকেই বিশ্বের অন্যতম এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারটি নিজের প্রাপ্য বলে বারবার দাবি করে আসছেন ট্রাম্প।

ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, এখন সেই সময় এসেছে। তবে গতবার প্রাপক নিজেই যখন বলেছিলেন যে ইতিহাসে অন্য কেউ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চেয়ে এর বেশি যোগ্য নয়, তখন পরোক্ষভাবে সেই পুরস্কার পেয়ে আমি অত্যন্ত সম্মানিত বোধ করেছিলাম।

উল্লেখ্য, ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো ভেনেজুয়েলায় নিজের আন্দোলনের জন্য মার্কিন সমর্থন পাওয়ার আশায় গত বছরের জানুয়ারি মাসে তার নিজের পাওয়া ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদকটি ট্রাম্পের হাতে তুলে দিয়েছিলেন।

গত বছরের জানুয়ারিতে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে আটটি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার দাবি করে ট্রাম্প বলেছেন, এসব কারণে তার এই পুরস্কার পাওয়া উচিত। কম্বোডিয়া, ইসরায়েল ও পাকিস্তানের নেতারা তাকে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত করেছেন বলে দাবি করলেও এর কোনো সত্যতা যাচাইয়ের উপায় নেই।

এদিকে, ট্রাম্প যে সংঘাতগুলোর সমাধান করার দাবি করেছেন সেগুলোর পক্ষগুলো মার্কিন প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এমনকি গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র এবং কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ড সীমান্তসহ ওই অঞ্চলগুলোর কিছু কিছু জায়গায় লড়াই আবার নতুন করে শুরু হয়েছে।

দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ট্রাম্প, তবে সেই যুদ্ধ থামানোর কোনো সুরাহা তিনি এখনও করতে পারেননি। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান হামলা সাত মাস ধরে চলা একটি সুপ্ত সংঘাতে রূপ নিয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে ওলটপালট করে দিয়েছে এবং আসন্ন নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে গ্যাসের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।

চলতি বছরের নোবেল পুরস্কারের দৌড়ে পোপ লিও, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত এবং ফিলিস্তিন ভূখণ্ডের বিশেষ র‍্যাপার্টায়ার অন্যতম ফেভারিট হিসেবে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য আক্রমণ মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিচ্ছে কানাডা

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ০৫, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য আক্রমণ মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিচ্ছে কানাডা

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি গত সপ্তাহে বলেছেন, তিনি এমন এক পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন, যা এক সময় অকল্পনীয় ছিল—আর তা হলো যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন।

যদিও এমনটা হওয়ার আশঙ্কা অত্যন্ত ক্ষীণ বলে মনে করেন কার্নি। তিনি নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সম্পর্ক নতুন মোড় নেওয়ায় সব ধরনের সম্ভাবনার কথা বিবেচনা করা তার দায়িত্ব।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটি শুধু ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার অংশ।’

ট্রাম্পের বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের নীতি এবং বারবার কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য বানানোর ইচ্ছা প্রকাশ করায় যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য আক্রমণের বিষয়টি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় পর্যালোচনা করছে কানাডা।

২০২৫ সালে ট্রাম্প বলেছিলেন, কানাডার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনা ‘অত্যন্ত ক্ষীণ’। এর পরিবর্তে তিনি বলেছিলেন, রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে তিনি অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রাখবেন।

হোয়াইট হাউস সম্প্রতি এক বিবৃতিতে বলেছে, কানাডার জনগণকে রক্ষার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অন্য যে কারও চেয়ে বেশি কাজ করেছেন।’

সামরিক বিশেষজ্ঞদের অনেকে মনে করেন, এমন আগ্রাসনের সম্ভাবনা খুবই কম। বরং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বহুমুখী সহযোগিতার বিষয়টি উল্লেখ করেন তারা। তবে বিষয়টি যে কানাডীয়দের মনে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে, তা স্পষ্ট।

গত জানুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করার পর লেজারের এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, ৩০ শতাংশেরও বেশি কানাডীয় মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের আশঙ্কা রয়েছে।