১০ অক্টোবর ২০২৬

নোবেল কমিটির বিরুদ্ধে গুরুতর যে অভিযোগ তুললেন ট্রাম্প

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ১০, ২০২৬
নোবেল কমিটির বিরুদ্ধে গুরুতর যে অভিযোগ তুললেন ট্রাম্প

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার দক্ষিণ আফ্রিকার বিশিষ্ট বিচারক নাভি পিল্লাইকে দেওয়ায় কঠোর নিন্দা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

তিনি অভিযোগ করেছেন যে নোবেল কমিটি এই সম্মাননা দিয়ে পুরস্কারটির মর্যাদা ক্ষুণ্ন করেছে। ট্রাম্প দাবি করেন, ৮৫ বছর বয়সি পিল্লাই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের কট্টর সমালোচক। তিনি শান্তির জন্য কোনো অবদান রাখেননি।

এর আগে পিল্লাই পুরস্কার পাওয়ার পর মজা করে বলেছিলেন, শ্রোতারা আরও একটু হাততালি দিলে তিনি হয়তো পুরস্কারটি ট্রাম্পের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারেন! মূলত ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের নোবেল পাওয়ার আশা এবং এই রসিকতার পরই ট্রাম্পের পক্ষ থেকে এমন কড়া প্রতিক্রিয়া এল।

জার্মানির নুরেমবার্গে ঐতিহাসিক আদালতের প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে নাভি পিল্লাই তার এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারটি আন্তর্জাতিক অপরাধের শিকার ও বেঁচে যাওয়া মানুষদের উৎসর্গ করেছেন। আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার রক্ষায় দীর্ঘ কর্মজীবন অতিবাহিত করা এই বিচারক অতীতে যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যার বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনার বিপরীতে নাভি পিল্লাইয়ের কাজের জোরালো প্রশংসা করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। এক বিবৃতিতে তিনি জানান, পিল্লাই বিগত কয়েক দশক ধরে আন্তর্জাতিক আইন এবং মানবাধিকারের পক্ষে এক অবিচল কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করে আসছেন।আজকের এই পুরস্কার কেবল তার ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং বিশ্বজুড়ে ন্যায়বিচার ও মানবমর্যাদা রক্ষায় লড়াই করা সকল মানুষের কাজের এক অনন্য স্বীকৃতি।

সূত্র: ফার্স্টপোস্ট

নোবেল কমিটির বিরুদ্ধে গুরুতর যে অভিযোগ তুললেন ট্রাম্প

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ১০, ২০২৬
নোবেল কমিটির বিরুদ্ধে গুরুতর যে অভিযোগ তুললেন ট্রাম্প

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার দক্ষিণ আফ্রিকার বিশিষ্ট বিচারক নাভি পিল্লাইকে দেওয়ায় কঠোর নিন্দা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

তিনি অভিযোগ করেছেন যে নোবেল কমিটি এই সম্মাননা দিয়ে পুরস্কারটির মর্যাদা ক্ষুণ্ন করেছে। ট্রাম্প দাবি করেন, ৮৫ বছর বয়সি পিল্লাই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের কট্টর সমালোচক। তিনি শান্তির জন্য কোনো অবদান রাখেননি।

এর আগে পিল্লাই পুরস্কার পাওয়ার পর মজা করে বলেছিলেন, শ্রোতারা আরও একটু হাততালি দিলে তিনি হয়তো পুরস্কারটি ট্রাম্পের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারেন! মূলত ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের নোবেল পাওয়ার আশা এবং এই রসিকতার পরই ট্রাম্পের পক্ষ থেকে এমন কড়া প্রতিক্রিয়া এল।

জার্মানির নুরেমবার্গে ঐতিহাসিক আদালতের প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে নাভি পিল্লাই তার এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারটি আন্তর্জাতিক অপরাধের শিকার ও বেঁচে যাওয়া মানুষদের উৎসর্গ করেছেন। আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার রক্ষায় দীর্ঘ কর্মজীবন অতিবাহিত করা এই বিচারক অতীতে যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যার বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনার বিপরীতে নাভি পিল্লাইয়ের কাজের জোরালো প্রশংসা করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। এক বিবৃতিতে তিনি জানান, পিল্লাই বিগত কয়েক দশক ধরে আন্তর্জাতিক আইন এবং মানবাধিকারের পক্ষে এক অবিচল কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করে আসছেন।আজকের এই পুরস্কার কেবল তার ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং বিশ্বজুড়ে ন্যায়বিচার ও মানবমর্যাদা রক্ষায় লড়াই করা সকল মানুষের কাজের এক অনন্য স্বীকৃতি।

সূত্র: ফার্স্টপোস্ট

শান্তিতে নোবেল পেলেন দক্ষিণ আফ্রিকার নাভি পিল্লাই

প্রকাশ: শুক্রবার, অক্টোবর ০৯, ২০২৬
শান্তিতে নোবেল পেলেন দক্ষিণ আফ্রিকার নাভি পিল্লাই
দক্ষিণ আফ্রিকার বিচারপতি নাভানেথেম ‘নাভি’ পিল্লাই। ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার বিচারপতি নাভানেথেম ‘নাভি’ পিল্লাই। আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) নরওয়ের রাজধানী অসলোতে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি এ পুরস্কার ঘোষণা করে।

নাভি পিল্লাই দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্টের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী বিচারক ছিলেন। তিনি ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারক এবং রুয়ান্ডার জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রেসিডেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার হিসেবে বিবেচিত নোবেল শান্তি পুরস্কার সাধারণত শান্তি প্রতিষ্ঠা, আন্তর্জাতিক ভ্রাতৃত্ব জোরদার এবং মানবকল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেওয়া হয়।

এ বছর পুরস্কারের জন্য ২৮৭ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে মনোনীত করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে এক-চতুর্থাংশের বেশি ছিল বিভিন্ন সংস্থা। সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন, সুদানের জরুরি সহায়তা দল, ইউক্রেনে শিশুদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন এবং দুটি আন্তর্জাতিক আদালতের নাম আলোচনায় ছিল।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছিলেন। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই এই পুরস্কার পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে আসছিলেন।

নোবেল পুরস্কার বিশ্লেষকদের মতে, নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা, আন্তর্জাতিক সম্প্রীতি এবং এসব লক্ষ্য অর্জনে ভূমিকা রাখা প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমকে গুরুত্ব দেয়।

এর আগে ২০২৫ সালে ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো নোবেল শান্তি পুরস্কার পান। দেশটিতে গণতান্ত্রিক উত্তরণ নিশ্চিত করার সংগ্রামের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে পুরস্কৃত করা হয়। ক্রমবর্ধমান অন্ধকারের মধ্যেও গণতন্ত্রের শিখা জ্বালিয়ে রাখার জন্য তাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল।

৮১টি মার্কিন বিমান ধ্বংস করেছে ইরান: সিআরএস

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ০৮, ২০২৬
৮১টি মার্কিন বিমান ধ্বংস করেছে ইরান: সিআরএস

ইরানকে ঘিরে চলমান সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৮১টি সামরিক উড়োজাহাজ ধ্বংস, বিধ্বস্ত বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার ও চালকবিহীন ড্রোন রয়েছে। মার্কিন কংগ্রেসের গবেষণা সংস্থা কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিস (সিআরএস) ৫ অক্টোবর হালনাগাদ করা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

তবে এই ৮১টি উড়োজাহাজের সবগুলোই স্থায়ীভাবে ধ্বংস হয়নি। সিআরএস জানিয়েছে, তালিকায় ধ্বংস ও বিধ্বস্ত হওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত উড়োজাহাজও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি মেরামত শেষে আবার কার্যক্রমে ফিরেছে। চলমান সামরিক অভিযান এবং শ্রেণিবদ্ধ তথ্যের কারণে ভবিষ্যতে এ সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আল আরাবিয়ার প্রতিবেদনে সিআরএসের তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে এমকিউ-৯ ‘রিপার’ ড্রোন। ইরানকে ঘিরে পরিচালিত অভিযানে অন্তত ৪৫টি এ ধরনের ড্রোন হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ ছাড়া এফ-১৫ই ‘স্ট্রাইক ঈগল’ যুদ্ধবিমানের ১২টি ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এফ-১৫ইগুলোর মধ্যে মার্চে কুয়েতের আকাশে নিজেদের বাহিনীর ভুল হামলায় তিনটি ধ্বংস হয়। এ ছাড়া এপ্রিল মাসে ইরানের আকাশসীমায় আরও একটি এফ-১৫ই ধ্বংস হওয়ার তথ্য রয়েছে। সেপ্টেম্বরে জর্ডানের মুওয়াফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে ইরানি হামলায় আটটি এফ-১৫ই ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সেগুলোর কয়েকটি পরে আবার কার্যক্রমে ফিরেছে।

সিআরএসের তালিকায় আরও রয়েছে একটি এফ-৩৫এ ‘লাইটনিং টু’, দুটি এ-১০ ‘থান্ডারবোল্ট টু’, সাতটি কেসি-১৩৫ আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান এবং একটি ই-৩ ‘সেন্ট্রি’ সতর্কতা ও নিয়ন্ত্রণ বিমান।

এ ছাড়া বিশেষ অভিযানে ব্যবহৃত দুটি এমসি-১৩০জে, একটি এইচএইচ-৬০ডব্লিউ উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার, একটি এমকিউ-৪সি ‘ট্রাইটন’ এবং তিনটি এমকিউ-১ ড্রোনের ক্ষয়ক্ষতির তথ্যও প্রতিবেদনে রয়েছে।

হেলিকপ্টারের তালিকায় রয়েছে হরমুজ প্রণালিতে ভূপাতিত একটি এএইচ-৬৪ ‘অ্যাপাচি’, উদ্ধার অভিযান চলাকালে ধ্বংস হওয়া চারটি এএইচ-৬ ‘লিটল বার্ড’ এবং আরব সাগরে বিধ্বস্ত একটি এমএইচ-৬০ ‘সি হক’।

সিআরএস বলছে, বিপুলসংখ্যক উড়োজাহাজের ক্ষয়ক্ষতি মার্কিন কংগ্রেসের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস হওয়া উড়োজাহাজ প্রতিস্থাপনে পেন্টাগনের পর্যাপ্ত অর্থ ও সক্ষমতা রয়েছে কি না, তা নিয়ে পর্যালোচনার প্রয়োজন হতে পারে।

এ ছাড়া ই-৩ ‘সেন্ট্রি’র মতো তুলনামূলকভাবে সীমিত সংখ্যায় থাকা গুরুত্বপূর্ণ উড়োজাহাজের ক্ষতি হলে মার্কিন সামরিক সক্ষমতায় কোনো ঘাটতি তৈরি হবে কি না, সেটিও কংগ্রেসের নজরদারির বিষয় হতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মার্কিন প্রতিরক্ষা শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা, সরবরাহব্যবস্থা এবং একই সময়ে বিদেশে সামরিক সরঞ্জামের চাহিদা-সব মিলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত উড়োজাহাজ দ্রুত প্রতিস্থাপন করা কঠিন হতে পারে।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ভবনে ট্রাম্পের সাড়ে ৮ ফুট উঁচু নগ্ন ভাস্কর্য ‘অরেঞ্জ প্লেগ’

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ০৮, ২০২৬
ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ভবনে ট্রাম্পের সাড়ে ৮ ফুট উঁচু নগ্ন ভাস্কর্য ‘অরেঞ্জ প্লেগ’
ফ্রান্সে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ভবনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সোনালি রঙের সেই ভাস্কর্যছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া

ফ্রান্সে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের একটি ভবনের ভেতরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশালাকারের একটি ভাস্কর্য প্রদর্শন করা হচ্ছে। সোনালি রঙের এ ভাস্কর্যে তাঁকে নগ্ন অবস্থায় দেখানো হয়েছে। ভাস্কর্য নিয়ে এরই মধ্যে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।

ভাস্কর্যটি সাড়ে আট ফুট উঁচু। নাম ‘অরেঞ্জ প্লেগ’। ভাস্কর্যে ট্রাম্প এক হাতে একটি গলফ খেলার ক্লাব, অন্য হাতে ন্যায়বিচারের পাল্লা ধরে আছেন। সঙ্গে একটি গলফ বল, যা দেখতে পৃথিবীর মতো।

‘অবিচারের রাজা’ বা ‘কিং অব ইনজাস্টিস’ নামেও ভাস্কর্যটি পরিচিতি পেয়েছে। এতে নগ্ন ট্রাম্প অপেক্ষাকৃত ছোট পোশাক পরা এক ব্যক্তির কাঁধে চেপে বসে আছেন। দেখে মনে হচ্ছে, ওই ব্যক্তি ট্রাম্পকে কাঁধে নিয়ে ঘুরছেন।

ভাস্কর্যের বেদিতে লেখা, ‘আমি একজন মানুষের পিঠে চেপে বসেছি। আমার ভারে তিনি তলিয়ে যাচ্ছেন। তাঁকে সহায়তা করতে আমি সবকিছুই করব। শুধু তাঁর পিঠ থেকে নামব না।’

ফ্রান্সের স্ট্রাসবার্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের দুটি ভবনের সংযোগস্থলের অন্যতম ব্যস্ত একটি জায়গায় বিশাল এ ভাস্কর্য রাখা হয়েছে। জানা গেছে, আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সেটা সেখানে থাকবে।

ভাস্কর্যটি বানিয়েছেন ডেনমার্কের শিল্পী জেনস গালচিওট। তিনি বলেন, ‘শাসনতান্ত্রিক বিশ্বব্যবস্থা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ আর জলবায়ু সংকট সমাধানে আমাদের যৌথ প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় হুমকিগুলোর একটি ডোনাল্ড ট্রাম্প। আমাদের অবশ্যই বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে হবে। ধ্বংসাত্মক প্রভাবের বিরুদ্ধে একসঙ্গে রুখে দাঁড়াতে হবে।’

২৩ ক্যারেট সোনার পাতে মোড়ানো ট্রাম্পের এ ভাস্কর্য সম্রাটের নতুন পোশাক (দ্য এম্পেররস নিউ ক্লথস) নামের রূপকথার গল্প থেকে অনুপ্রাণিত বলে জানান শিল্পী জেনস গালচিওট।

এই শিল্পী বলেন, ওই গল্পে একজন দাম্ভিক শাসক সবচেয়ে দামি পোশাক পরে সড়কে ঘুরে বেড়ানোর কথা ভাবছিলেন। কিন্তু তিনি আদতে নগ্নই ছিলেন।

রূপকথার ওই গল্পে শাসকের পাশে চাটুকারে ভরা ছিল। ভয় ও চাটুকারিতার কারণে কেউ শাসককে বলেননি, তিনি নগ্ন হয়ে সড়কে ঘুরছেন। পরে একটি শিশু দাম্ভিক শাসককে দেখিয়ে দেয় যে তিনি নগ্ন। পরে শাসক হাসির পাত্রে পরিণত হন। এমনটাই বলছিলেন জেনস গালচিওট।

‘ভাস্কর্যটি নিয়ে ট্রাম্পের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়ার বিষয়ে মোটেও চিন্তিত নই,’ বলেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ও ডেনমার্কের রাজনীতিক পার ক্লসেন। ট্রাম্পের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ইউরোপীয় পার্লামেন্টে এ ভাস্কর্য প্রদর্শন সহ্য করতে পারলেও বিশ্বমঞ্চে তাঁর কোনো স্থান নেই।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ভবনে এ ভাস্কর্যের প্রদর্শনী নিয়ে হোয়াইট হাউস এ পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

উল্লেখ্য, গত বছর ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের ৩০তম জলবায়ু সম্মেলনে (কপ৩০) সোনালি এ ভাস্কর্য প্রথম প্রদর্শন করা হয়। পরে এ বছর জার্মানিতে মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনের সময়ও এটি দেখা যায়।

সূত্র: প্রথম আলো

ফ্রান্সের জেন-জি বিক্ষোভের উত্তাপ এবার বেলজিয়ামে, আটক শতাধিক শিক্ষার্থী

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ০৮, ২০২৬
ফ্রান্সের জেন-জি বিক্ষোভের উত্তাপ এবার বেলজিয়ামে, আটক শতাধিক শিক্ষার্থী

প্রতিবেশী দেশ ফ্রান্সে চলমান বিক্ষোভের মধ্যেই এবার বেলজিয়ামে ফরাসিভাষী অঞ্চলে পড়াশোনার খরচ ও টিউশন ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু করেছে জেন-জি শিক্ষার্থীরা।

বিক্ষোভ চলাকালে সহিংস পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে পুলিশ শতাধিক শিক্ষার্থীকে আটক করেছে।

আল জাজিরার বরাতে জানা গেছে, বেলজিয়ামের লিয়েজ শহরে গত মঙ্গলবার ও বুধবার শিক্ষার্থীরা ক্লাসকক্ষ সংকট এবং ফরাসিভাষী শিক্ষা ব্যবস্থায় বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তিতে জটিলতার অভিযোগে এই বিক্ষোভের ডাক দেন।

বেলগা সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, লিয়েজ পুলিশের তথ্য মতে বিক্ষোভের সময় মোট ৮০ জনকে সাময়িকভাবে আটক করা হয়েছিল এবং এর মধ্যে ২৭ জনকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কিছু মানুষ জনসম্পত্তির ক্ষতি সাধন করে এবং বিভিন্ন স্থানে আগুন ধরিয়ে দেয়।

আন্দোলনকারীরা জানান, শিক্ষা ব্যবস্থার বিদ্যমান ত্রুটিগুলোর কারণে তাদের রাজপথে নেমে আসা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না।

শিক্ষক হতে ইচ্ছুক ১৯ বছর বয়সি শিক্ষার্থী আমেলিয়া দি সালভ বলেন, যখন আমরা দেখলাম বিক্ষোভ ছাড়া কিছুই বদলাচ্ছে না, তখন আমরা নিজেরা রাস্তায় নামার সিদ্ধান্ত নিলাম। তিনি আরও যোগ করেন যে ফ্রান্সে চলা বিক্ষোভও তাদের কিছুটা প্রভাবিত করেছে।

আরেক ১৯ বছর বয়সি শিক্ষার্থী আলফ্রেড রয়টার্স বার্তা সংস্থাকে বলেন, আমরা একে অপরকে সমর্থন করছি, কারণ আমরা প্রায় একই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছি।

পরিস্থিতি শান্ত করতে এবং পরবর্তী সহিংসতা এড়াতে প্রশাসন বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। লিয়েজ শহরের মেয়র উইলি ডিমেয়ার বেলজিয়ান সম্প্রচারমাধ্যম আরটিবিএফকে জানান, আলোচনার সুযোগ রয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন যে তরুণরা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করতে পারবে এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের কথা গুরুত্বের সঙ্গে শুনবে।

উল্লেখ্য, বেলজিয়ামে শিক্ষা ব্যবস্থাটি দেশটির ভাষাগত সম্প্রদায়ের মাধ্যমে স্বাধীনভাবে পরিচালিত হয় এবং এখানে কোনো একক জাতীয় পাঠ্যক্রম নেই। ফ্ল্যান্ডার্স অঞ্চলের ডাচভাষী জনগোষ্ঠী নিজেদের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করে, আর ফরাসিভাষী ওয়ালোনিয়া অঞ্চল তাদের নিজস্ব পাঠ্যক্রম পরিচালনা করে। এছাড়া দ্বিভাষিক রাজধানী ব্রাসেলসে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের কোথায় ভর্তি করাবেন তা নিজেরাই নির্ধারণ করতে পারেন।

এর আগে, ব্রাসেলসে গ্রীষ্মকালে ফরাসিভাষী অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য টিউশন ফি ৮৩৫ ইউরো (৯৩০ ডলার) থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ১৯৪ ইউরো (১ হাজার ৩৪০ ডলার) করার প্রতিবাদে বিক্ষিপ্ত সহিংস বিক্ষোভ হয়েছিল। বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট এবং আকাশচুম্বী জ্বালানি খরচের কারণে বেলজিয়ামের শিক্ষা বাজেট বর্তমানে চরম চাপের মুখে রয়েছে, যা ফ্রান্সেও ছাত্র বিক্ষোভকে তীব্র করে তুলতে ভূমিকা রাখছে।