১১ অক্টোবর ২০২৬

দিল্লিতে নজিরবিহীন ধরপাকড়, উত্তাল পরিস্থিতি! বিমান ও বাড়ি থেকে নেতাদের তুলে নিল দিল্লি পুলিশ

প্রকাশ: রবিবার, অক্টোবর ১১, ২০২৬
দিল্লিতে নজিরবিহীন ধরপাকড়, উত্তাল পরিস্থিতি! বিমান ও বাড়ি থেকে নেতাদের তুলে নিল দিল্লি পুলিশ

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে শনিবার সকাল থেকে অন্তত সাত হাজার বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ।

পশ্চিমবঙ্গের মমতা ব্যানার্জী, দিল্লির অরবিন্দ কেজরিওয়াল, কেরালার পিনারাই বিজয়ন এবং ত্রিপুরার মানিক সরকার — শনিবারের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিতে গিয়ে চারজন সাবেক মুখ্যমন্ত্রীকে সকাল থেকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ।

বিক্ষোভে যোগ দিতে দিল্লিতে পৌঁছনো মাত্রই আটক করা হয়েছে ককরোচ জনতা পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বকে। আটক হয়েছেন বামপন্থী ছাত্র নেত্রী নেহা বোরাও।

বিকেল চারটে নাগাদ জানা যায়, মমতা ব্যানার্জীসহ তার দলীয় সতীর্থদের হরিয়ানার কাছে উত্তর দ্বারকা থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ। এর কিছুক্ষণ আগে, বিকেল সাড়ে তিনটে নাগাদ পুলিশের হাতে আটক হন দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল।

এদিকে গত রাত থেকে দিল্লির কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত শিখ গুরুদোয়ারা বাংলা সাহিবে আশ্রয় নিয়েছিলেন যে কয়েকশ বিক্ষোভকারী, তারা যন্তর মন্তরের দিকে এগোতে গেলে সেখানে লাঠিচার্জ করা হয় বলে জানা যাচ্ছে।

এর আগে, সিজেপির শীর্ষ নেতা অভিজিৎ দীপকে, আশুতোষ রাঙ্কা, সৌরভ দাসকে নাটকীয়ভাবে বিমান থেকেই আটক করেছে পুলিশ। পরিচিত ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে তার বাড়ি থেকেই আটক করে পুলিশ।

সুপ্রিম কোর্টের কয়েকজন আইনজীবীকেও আটক করা হয়েছে; পরে আদালতের হস্তক্ষেপে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

বিক্ষোভের ঘোষিত এলাকা হিসাবে যন্তর মন্তরকে একরকম দুর্গ বানিয়ে ফেলা হলেও দুপুরে হঠাৎই বামপন্থী ছাত্র-নেত্রী নেহা বোরা রাজধানীর কেন্দ্রস্থল থেকে দূরে দিল্লি হাট এলাকায় জড়ো হওয়ার আহ্বান জানান। সেখানে জড়ো হওয়া নেতাকর্মীদেরও আটক করা হয়েছে।

অবরুদ্ধ দিল্লিতে এবার বড় বিক্ষোভের ডাক ইন্ডিয়া জোটের

মানুষের ভোটাধিকার রক্ষায় এবার দিল্লিতে বড় বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে বিরোধী ইন্ডিয়া জোট। শনিবার আলপ্পুঝায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় সর্বভারতীয় কংগ্রেস কমিটির সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল এ কথা জানান।

তিনি বলেন, সংবিধান ও জনগণের ভোটাধিকার সুরক্ষার চলমান লড়াইয়ের অংশ হিসেবে আগামী সোমবার রাজধানী দিল্লিতে এক বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে ইন্ডিয়া জোট। এই ইস্যুতে ইতোমধ্যে নিজেদের উদ্বেগের কথা জানাতে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন জোটের শীর্ষ নেতারা। পাশাপাশি, আগামী সোমবার ভারতের প্রধান বিচারপতির সঙ্গেও তাদের দেখা করার কথা রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে সুরক্ষা দেওয়ার অপচেষ্টার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর তীব্র সমালোচনা করেন বেণুগোপাল। তিনি অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচন কমিশনারকে আড়াল করার এই প্রক্রিয়াই মোদি ও শাহের পতনের কারণ হবে।

তিনি আরও দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী মোদির আচরণ দেখে মনে হচ্ছে তিনি পতনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছেন। বিরোধীদের আন্দোলনকে তিনি ভয় পাচ্ছেন। ককরোচ জনতা পার্টির ঘোষিত শনিবারের বিক্ষোভ ঠেকাতে দিল্লিতে রীতিমতো লকডাউন জারি করেছে সরকার। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে মেট্রো স্টেশন ও সারা দেশের সঙ্গে দিল্লির রেল যোগাযোগ। মাঠে নামানো হয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীর প্রায় ৪১ হাজার সশস্ত্র সদস্য।

একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন ব্যবস্থা গড়ে না ওঠা পর্যন্ত কংগ্রেস এবং ইন্ডিয়া জোট লড়াই চালিয়ে যাবে বলে জানান এই নেতা। কেরালার ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে দলের সতর্ক নজরদারির কথা উল্লেখ করেন কে সি বেণুগোপাল।

কাশ্মীরেও বিক্ষোভ শুরু

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে কংগ্রেসের নেতৃত্বে চলা বিক্ষোভে যোগ দিয়েছে জম্মু-কাশ্মীরের আঞ্চলিক দল ন্যাশনাল কনফারেন্স (এনসি) ও পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টি (পিডিপি)। ভোটার তালিকায় জালিয়াতির অভিযোগ তুলে শনিবার বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র ডাকে কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকায় এই বিক্ষোভ হয়।

এদিকে দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার, ইন্টারনেট বন্ধ ও যাতায়াতে বিধিনিষেধের ঘটনাকে ২০১৯ সালে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পরের পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করেছেন জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ ও পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতি।

শ্রীনগরে কংগ্রেসের কার্যালয়ে এনসি ও পিডিপির কয়েক ডজন নেতা-কর্মী সমবেত হন। তাদের মধ্যে নারীরাও ছিলেন। দলীয় পতাকা হাতে তারা লাল চকের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে নিরাপত্তা বাহিনী তাতে বাধা দেয়।

বিক্ষোভকারীদের হাতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ছবি-সংবলিত প্ল্যাকার্ড ছিল। তারা ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ তুলে সিইসির পদত্যাগ দাবি করেন।

কাশ্মীরের মধ্যাঞ্চলের গান্দেরবাল ও দক্ষিণাঞ্চলের অনন্তনাগেও ইন্ডিয়া জোটের শরিক দলগুলো যৌথ বিক্ষোভ করে।

গান্দেরবালে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া গিয়াস আহমদ বলেন, ন্যাশনাল কনফারেন্স, পিডিপি ও সিপিআই(এম)-এর কর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে একসঙ্গে প্রতিবাদ করছেন। তাদের দাবি, জ্ঞানেশ কুমারের কার্যক্রম তদন্ত করা হোক এবং তাঁকে পদত্যাগ করতে হবে।

দিল্লিতে ধরপাকড় হিটলারের আমলকেও ছাড়িয়ে গেছে: তৃণমূল নেতা

ভারতের দিল্লিতে বিক্ষোভকারীদের ধরপাকড়ের ঘটনায় নরেন্দ্র মোদি সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেছেন, দিল্লিতে পুলিশের দমন-পীড়ন হিটলারের শাসনামলকেও ছাড়িয়ে গেছে।

অভিষেক বলেন, দিল্লিতে বিজেপি সরকার ও পুলিশ প্রায় আড়াই হাজার মানুষকে আটক করেছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে দলীয় কর্মী-সমর্থক, কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা না থাকা সাধারণ মানুষ এবং রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা পথচারীরাও রয়েছেন।

তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে ভোট চুরির প্রতিবাদে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও পাঁচ সংসদ সদস্য বাসস্ট্যান্ডে বসে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করছিলেন। কিন্তু তাদের সেই প্রতিবাদও করতে দেওয়া হয়নি।

অভিষেক প্রশ্ন তোলেন, সরকার যদি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষের প্রতিবাদকে এত ভয় পাচ্ছে কেন?

সিজেপির বিক্ষোভে সংহতি জানাতে গিয়ে আটক অভিনেতা ইমরান খান

ভারতের মুম্বাইয়ে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভের প্রতি সংহতি জানাতে গিয়ে আটক হয়েছেন অভিনেতা ইমরান খান। শনিবার মুম্বাইয়ের আগস্ট ক্রান্তি ময়দান থেকে তাকে আটক করে পুলিশ।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, সিজেপির বিক্ষোভের সমর্থনে আগস্ট ক্রান্তি ময়দানে জড়ো হওয়ার কথা ছিল। তবে সেখানে বিক্ষোভের অনুমতি নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে মুম্বাই পুলিশ।

আটক হওয়ার পর নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে পুলিশের ভ্যানের ভেতর থেকে একটি সেলফি প্রকাশ করেন ইমরান। ছবির ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘দেখে মনে হচ্ছে, আমাকে গাড়িতে ঘুরতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।’

মুম্বাই পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভের জন্য তাদের কাছে কোনো অনুমতি চাওয়া হয়নি। বোম্বে হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী, আজাদ ময়দান ছাড়া অন্য কোথাও বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয় বলেও জানায় তারা। তবে সিজেপির কর্মীদের দাবি, অনুমতি চেয়ে তারা ইমেইল করলেও পুলিশের কাছ থেকে কোনো জবাব পাননি।

৩ হাজার আটক বিক্ষোভকারীর সবাই মুক্তি পেলেও দীপকে ও ধ্রুব রাঠিসহ ৪ জন কারাবন্দি

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে তরুণদের রাজনৈতিক দল ‘কাকরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) ডাকা মহাসমাবেশ ঠেকাতে রাজধানী দিল্লি জুড়ে ব্যাপক দমনপীড়ন ও গণগ্রেফতারের ঘটনা ঘটেছে। শনিবারের এই অভিযানে আপ প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কেরালার পিনারাই বিজয়নসহ অন্তত ৩ হাজার বিক্ষোভকারী ও বিরোধী নেতাকে আটক করে পুলিশ। দিন শেষে নারী ও প্রবীণদের প্রথমে মুক্তি দেওয়া হলেও সিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব এবং ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিসহ চার জন এখনও আটক রয়েছেন।

সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং দলের অন্য দুই নেতা আশুতোশ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে দিল্লিতে অবতরণ করার সাথে সাথেই বিমানবন্দর থেকে আটক করা হয়। এর মধ্যেই মহারাষ্ট্রে অভিজিতের ঠাকুমা মারা গেলেও তাকে শেষকৃত্যে যোগদানের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি। এছাড়া জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকেও গুরুগ্রাম থেকে আটক করা হয়েছিল।

রোববার ফের যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ঘোষণা ককরোচ পার্টির

ভারতের মোদি সরকারের চাপ ও পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দলটির নেতা অজিঙ্ক শিন্ডে জানিয়েছেন, দাবি আদায়ের লক্ষে আগামীকাল রোববার আবারো দিল্লির যন্তরমন্তরের উদ্দেশে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে এগিয়ে যাবেন তারা।

সিজেপির ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত এক পোস্টে অজিঙ্ক শিন্ডে দাবি করেন, বর্তমান সরকার বিরোধীদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে আতঙ্কিত। বিরোধীরা একজোট হয়ে আবারো প্রতিরোধ গড়ে তুললে সরকারের ক্ষমতার ভিত কেঁপে উঠবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মোদি-শাহদের জন্য পরিস্থিতি ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে: রাহুল গান্ধী

ভারতের তরুণদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি বলেছেন, আমরা নিশ্চিত করব যেন এই সরকার এবং যারা সংবিধানের ওপর আঘাত হেনেছে, তারা যেন পরাজিত হয়।

শনিবার চেন্নাইয়ে ‘ছাত্রন কি গুঞ্জ’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এ আহ্বান জানান রাহুল। এ সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) মূল বৈশিষ্ট্য ‘কাপুরুষতা’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রাহুল বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, আরএসএসপ্রধান মোহন ভাগবত, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের জন্য পরিস্থিতি ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রাহুল বলেন, ‘এক দশকেরও বেশি সময় ধরে আমি নরেন্দ্র মোদি ও আরএসএসের বিরুদ্ধে লড়াই করছি। প্রতিপক্ষকে যেভাবে গভীরভাবে চেনা যায়, তাদেরও আমি সেভাবেই চিনি—ভেতর-বাহির সবকিছু, নিজের হাতের তালুর মতো।’

তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আন্দোলন চালিয়ে যান।’ সংবিধানের ওপর আঘাত হেনেছে এমন শক্তিকে পরাজিত করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন কংগ্রেস নেতা।

ট্রাম্পের ভাইরাল স্যুট কি ‘মেড ইন বাংলাদেশ’? ভিডিওতে ট্যাগ ফাঁস হতেই মার্কিন রাজনীতি গরম!

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ১০, ২০২৬
ট্রাম্পের ভাইরাল স্যুট কি ‘মেড ইন বাংলাদেশ’? ভিডিওতে ট্যাগ ফাঁস হতেই মার্কিন রাজনীতি গরম!

সম্প্রতি নেব্রাস্কা অঙ্গরাজ্যের একটি অনুষ্ঠানে যে স্যুট পরে হাজির হন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, সেটির ব্র্যান্ডের ট্যাগ দেখা যাওয়ার ঘটনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এর মাধ্যমে ট্রাম্পের সমালোচনা হলেও বিশ্ববাজারে পুরুষদের পোশাক সরবরাহে আবারও নজরে এসেছে বাংলাদেশের ভূমিকা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টেক্সটাইল টাইমস এক পোস্টে জানিয়েছে, গত ৫ অক্টোবর নেব্রাস্কার গ্র্যান্ড আইল্যান্ডে ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ শীর্ষক সমাবেশে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় পোশাক ব্র্যান্ড জোস. এ. ব্যাংক-এর একটি নেভি ব্লু রঙয়ের স্যুট পরে উপস্থিত হন।

সমাবেশে ট্রাম্প গায়ে থেকে স্যুট জ্যাকেটটি খুলে ফেলেন। বিষয়টি নিয়ে পরে প্রশ্ন ওঠে যে, যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি স্যুটের বিকল্প থাকা সত্ত্বেও কেন ট্রাম্প আমদানি করা স্যুট পরেছেন।

ঘটনাটি তার দীর্ঘদিনের বিলাসবহুল জীবনযাপনের ভাবমূর্তির সঙ্গে কিছুটা বেমানান বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন বাড়ানো এবং দেশীয় শিল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি- ট্রাম্পের বহুল প্রচারিত ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির সঙ্গেও বিষয়টি প্রশ্ন তৈরি করেছে।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

তবে সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজনীতিতে নারীদের পোশাক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যে ধরনের অযাচিত আলোচনা চলে আসছে, তা বিবেচনায় নিলে পোশাককে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে না রাখাই ভালো। কিন্তু ট্রাম্পের ক্ষেত্রে বিষয়টি কিছুটা ভিন্ন। কারণ, তিনি একজন ধনকুবের, যার ব্যক্তিগত ভাবমূর্তির সঙ্গে বিলাসিতা, আভিজাত্য ও সম্পদের প্রদর্শন ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে আছে।

ট্রাম্পের স্যুটের ট্যাগটি জোস এ. ব্যাংকের ‘ট্রাভেলার’ সংগ্রহের স্যুটের আলাদা অংশের ট্যাগের সঙ্গে কিছুটা মিলে যায়। ব্র্যান্ডটির কালো রঙের বড় ও লম্বা গড়নের পুরুষদের জন্য তৈরি একটি স্যুটের দাম বর্তমানে ছাড়ে ২৭৯ ডলার। পণ্যটির বিজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এটি সহজে কুঁচকে যায় না এবং দাগ প্রতিরোধী। ফলে দীর্ঘ ভ্রমণের জন্য এটি ব্যবহারিক একটি পোশাক হতে পারে।

তবে ট্যাগের মিল থেকে ট্রাম্পের পরা স্যুটটির সঠিক মডেল বা দাম নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করা যায়নি।

স্যুটটি কি বাংলাদেশে তৈরি?

ট্রাম্পের স্যুট নিয়ে আলোচনার আরেকটি কারণ এর সম্ভাব্য উৎপাদনস্থল। জোস এ. ব্যাংক বৃহত্তর পোশাক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান টেইলর্ড ব্র্যান্ডসের অংশ। এই গোষ্ঠীর মালিকানায় রয়েছে ‘মেনস ওয়্যারহাউস’ ব্র্যান্ডটিও।

গোষ্ঠীটির কিছু পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি হয়। এর মধ্যে তাদের ‘জোসেফ অ্যাবাউড’ ব্র্যান্ডের কিছু পোশাকের দাম প্রায় ৭০০ ডলার। জোস এ. ব্যাংকের ‘আমেরিকান বেসপোক’ নামের একটি সংগ্রহও রয়েছে, যেটিকে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি বলে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। তবে ওই সংগ্রহের ট্যাগের সঙ্গে ট্রাম্পের পোশাকে দেখা ট্যাগের মিল নেই।

এ কারণে ট্রাম্পের স্যুটটি চীন কিংবা বাংলাদেশে তৈরি হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে পোশাকটির উৎপাদনস্থল নিশ্চিত করা যায়নি।

যদি স্যুটটি সত্যিই বিদেশে তৈরি হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির সঙ্গে একটি অস্বস্তিকর বৈপরীত্য তৈরি করতে পারে। কারণ, তার অন্যতম রাজনৈতিক অঙ্গীকার হলো যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন বাড়ানো, দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিদেশি পণ্যের ওপর নির্ভরতা কমানো।

অবশ্য বিদেশে তৈরি একটি স্যুট পরা মানেই তার প্রশাসনের উৎপাদননীতি ব্যর্থ- এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। তবে রাজনৈতিক প্রতীক ও ব্যক্তিগত জীবনযাপনের মধ্যে সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ তৈরি হয়।

ট্রাম্পের অনলাইন স্টোরে বিক্রি হওয়া ‘ভাইনইয়ার্ড ভাইন্স’ ব্র্যান্ডের যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি টাইয়ের দাম ১২৫ ডলার। কিন্তু একটি দেশীয় টাই ব্যবহার করা আর পুরো পোশাক দেশেই তৈরি হওয়া এক বিষয় নয়।

জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে চাপে থাকা মানুষের সঙ্গে কি সংযোগ তৈরি করতে চান?

ট্রাম্পের পোশাক নিয়ে সমালোচনা এবারই প্রথম নয়। এর আগে তার অতিরিক্ত লম্বা টাই নিয়ে ব্যঙ্গ করা হয়েছে। গত মাসে ওয়াশিংটনের মৃদু আবহাওয়ায় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে স্বাগত জানানোর সময় ওভারকোট ও গ্লাভস পরা নিয়েও সমালোচকেরা কটাক্ষ করেছিলেন। এবার স্যুটের ট্যাগও আলোচনার বিষয় হয়েছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বিগ্ন সাধারণ মানুষের কেউ কেউ ট্রাম্পের এই পোশাক পছন্দকে সাধারণ মানুষের কাছাকাছি থাকার ইঙ্গিত হিসেবে দেখতে পারেন। সাশ্রয়ী পোশাক ব্যবহারিক এবং মধ্যবিত্তের নাগালের মধ্যে- এমন বার্তা এতে তৈরি হতে পারে।

ইচ্ছাকৃতভাবে কি স্যুটের ট্যাগ দেখিয়েছেন?

ট্রাম্পের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও বক্তব্যের কারণে ষড়যন্ত্রতত্ত্বে বিশ্বাসী ব্যক্তিদের মতো তার সমালোচকেরাও অনেক সময় সাধারণ ঘটনাকে বিশেষ উদ্দেশ্যের সঙ্গে যুক্ত করেন। সে কারণে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলতে পারেন, স্যুটের ট্যাগটি কি ইচ্ছাকৃতভাবে দেখানো হয়েছিল, যাতে তাকে সাধারণ মানুষের কাছাকাছি বলে মনে হয়?

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে সাধারণ মানুষের মতো দেখানোর জন্য পোশাক ব্যবহারের নজির অবশ্য রয়েছে। সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আল গোরের সোয়েটার, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির ছদ্মবেশী সামরিক পোশাকের মতো দেখতে শিকারের জ্যাকেট কিংবা সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশের কাউবয় বুট- এসব পোশাকও একসময় আলোচনায় এসেছিল।

তবে ট্রাম্পের ক্ষেত্রে স্যুটের ট্যাগ দেখানোটি পরিকল্পিত ছিল বলে মনে করার মতো স্পষ্ট প্রমাণ নেই। ভিডিওতে দেখা যায়, মঞ্চে নাচার সময় তিনি স্যুটের সামনের অংশ খুললে ট্যাগটি দৃশ্যমান হয়। ফলে এটি নিছক অনিচ্ছাকৃত ঘটনা হয়ে থাকতে পারে।

চলতি বছরের শুরুর দিকে ট্রাম্প তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের জন্য ‘ফ্লোরশেইম’ ব্র্যান্ডের জুতা কিনেছিলেন বলেও খবর প্রকাশিত হয়। এটি তুলনামূলক সাশ্রয়ী এবং কাজের উপযোগী জুতার ব্র্যান্ড। তখন ট্রাম্প জুতাগুলোকে ‘চমৎকার’ বলে প্রশংসা করেন এবং মন্ত্রিসভার সদস্যদের স্নিকার্সের পরিবর্তে এগুলো পরার পক্ষে মত দেন।

এসব ঘটনা বিবেচনায় নিয়ে কেউ কেউ মনে করছেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ট্রাম্পের পোশাক বাছাইয়ের রুচি হয়তো কিছুটা বদলাচ্ছে। তবে তা যেকোনও রাজনৈতিক কৌশলের অংশ, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর ভিত্তি নেই।

পোশাকের প্রচারেও কি ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য থাকতে পারে?

ট্রাম্প অতীতে নিজের পরিচিতি ও ভাবমূর্তিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করেছেন। জর্জিয়ার একটি মামলায় গ্রেফতারের পর তোলা তার মাগশট ছবির সময় পরা স্যুটের কাপড়ের নমুনাও বিক্রি করেছিলেন। এছাড়া বাইবেল, ঘড়ি, স্টেক, ওয়াইন ও পানির মতো পণ্যও তার ব্যবসায়িক উদ্যোগের অংশ হয়েছে।

তাই কেউ কেউ প্রশ্ন তুলতে পারেন, জোস এ. ব্যাংক ব্র্যান্ডের ট্যাগ দৃশ্যমান হওয়ার পেছনে কোনও ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য ছিল কি না। তবে এ বিষয়ে কোনও প্রমাণ সামনে আসেনি।

ট্রাম্পের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি যে পোশাকটি রাজনৈতিকভাবে যুক্ত, সেটি হলো লাল রঙের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ বা ‘মাগা’ টুপি। তার জনপ্রিয়তাবাদী রাজনৈতিক আন্দোলনের অন্যতম প্রতীক এই টুপির দাম তার অনলাইন স্টোরে ৫৫ ডলার। পণ্যটির বিজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এটি যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি।
শেষ পর্যন্ত স্যুটের ট্যাগটি ট্রাম্পের পোশাকের পছন্দে পরিবর্তনের ইঙ্গিত, নিছক অনিচ্ছাকৃত দৃশ্য, নাকি তার ভাবমূর্তি নিয়ে নতুন বিতর্কের উপলক্ষ- তা নিশ্চিত নয়।

সূত্র: সিএনএন

নোবেল কমিটির বিরুদ্ধে গুরুতর যে অভিযোগ তুললেন ট্রাম্প

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ১০, ২০২৬
নোবেল কমিটির বিরুদ্ধে গুরুতর যে অভিযোগ তুললেন ট্রাম্প

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার দক্ষিণ আফ্রিকার বিশিষ্ট বিচারক নাভি পিল্লাইকে দেওয়ায় কঠোর নিন্দা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

তিনি অভিযোগ করেছেন যে নোবেল কমিটি এই সম্মাননা দিয়ে পুরস্কারটির মর্যাদা ক্ষুণ্ন করেছে। ট্রাম্প দাবি করেন, ৮৫ বছর বয়সি পিল্লাই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের কট্টর সমালোচক। তিনি শান্তির জন্য কোনো অবদান রাখেননি।

এর আগে পিল্লাই পুরস্কার পাওয়ার পর মজা করে বলেছিলেন, শ্রোতারা আরও একটু হাততালি দিলে তিনি হয়তো পুরস্কারটি ট্রাম্পের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারেন! মূলত ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের নোবেল পাওয়ার আশা এবং এই রসিকতার পরই ট্রাম্পের পক্ষ থেকে এমন কড়া প্রতিক্রিয়া এল।

জার্মানির নুরেমবার্গে ঐতিহাসিক আদালতের প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে নাভি পিল্লাই তার এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারটি আন্তর্জাতিক অপরাধের শিকার ও বেঁচে যাওয়া মানুষদের উৎসর্গ করেছেন। আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার রক্ষায় দীর্ঘ কর্মজীবন অতিবাহিত করা এই বিচারক অতীতে যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যার বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনার বিপরীতে নাভি পিল্লাইয়ের কাজের জোরালো প্রশংসা করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। এক বিবৃতিতে তিনি জানান, পিল্লাই বিগত কয়েক দশক ধরে আন্তর্জাতিক আইন এবং মানবাধিকারের পক্ষে এক অবিচল কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করে আসছেন।আজকের এই পুরস্কার কেবল তার ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং বিশ্বজুড়ে ন্যায়বিচার ও মানবমর্যাদা রক্ষায় লড়াই করা সকল মানুষের কাজের এক অনন্য স্বীকৃতি।

সূত্র: ফার্স্টপোস্ট

শান্তিতে নোবেল পেলেন দক্ষিণ আফ্রিকার নাভি পিল্লাই

প্রকাশ: শুক্রবার, অক্টোবর ০৯, ২০২৬
শান্তিতে নোবেল পেলেন দক্ষিণ আফ্রিকার নাভি পিল্লাই
দক্ষিণ আফ্রিকার বিচারপতি নাভানেথেম ‘নাভি’ পিল্লাই। ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার বিচারপতি নাভানেথেম ‘নাভি’ পিল্লাই। আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) নরওয়ের রাজধানী অসলোতে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি এ পুরস্কার ঘোষণা করে।

নাভি পিল্লাই দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্টের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী বিচারক ছিলেন। তিনি ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারক এবং রুয়ান্ডার জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রেসিডেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার হিসেবে বিবেচিত নোবেল শান্তি পুরস্কার সাধারণত শান্তি প্রতিষ্ঠা, আন্তর্জাতিক ভ্রাতৃত্ব জোরদার এবং মানবকল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেওয়া হয়।

এ বছর পুরস্কারের জন্য ২৮৭ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে মনোনীত করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে এক-চতুর্থাংশের বেশি ছিল বিভিন্ন সংস্থা। সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন, সুদানের জরুরি সহায়তা দল, ইউক্রেনে শিশুদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন এবং দুটি আন্তর্জাতিক আদালতের নাম আলোচনায় ছিল।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছিলেন। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই এই পুরস্কার পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে আসছিলেন।

নোবেল পুরস্কার বিশ্লেষকদের মতে, নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা, আন্তর্জাতিক সম্প্রীতি এবং এসব লক্ষ্য অর্জনে ভূমিকা রাখা প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমকে গুরুত্ব দেয়।

এর আগে ২০২৫ সালে ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো নোবেল শান্তি পুরস্কার পান। দেশটিতে গণতান্ত্রিক উত্তরণ নিশ্চিত করার সংগ্রামের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে পুরস্কৃত করা হয়। ক্রমবর্ধমান অন্ধকারের মধ্যেও গণতন্ত্রের শিখা জ্বালিয়ে রাখার জন্য তাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল।

৮১টি মার্কিন বিমান ধ্বংস করেছে ইরান: সিআরএস

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ০৮, ২০২৬
৮১টি মার্কিন বিমান ধ্বংস করেছে ইরান: সিআরএস

ইরানকে ঘিরে চলমান সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৮১টি সামরিক উড়োজাহাজ ধ্বংস, বিধ্বস্ত বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার ও চালকবিহীন ড্রোন রয়েছে। মার্কিন কংগ্রেসের গবেষণা সংস্থা কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিস (সিআরএস) ৫ অক্টোবর হালনাগাদ করা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

তবে এই ৮১টি উড়োজাহাজের সবগুলোই স্থায়ীভাবে ধ্বংস হয়নি। সিআরএস জানিয়েছে, তালিকায় ধ্বংস ও বিধ্বস্ত হওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত উড়োজাহাজও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি মেরামত শেষে আবার কার্যক্রমে ফিরেছে। চলমান সামরিক অভিযান এবং শ্রেণিবদ্ধ তথ্যের কারণে ভবিষ্যতে এ সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আল আরাবিয়ার প্রতিবেদনে সিআরএসের তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে এমকিউ-৯ ‘রিপার’ ড্রোন। ইরানকে ঘিরে পরিচালিত অভিযানে অন্তত ৪৫টি এ ধরনের ড্রোন হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ ছাড়া এফ-১৫ই ‘স্ট্রাইক ঈগল’ যুদ্ধবিমানের ১২টি ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এফ-১৫ইগুলোর মধ্যে মার্চে কুয়েতের আকাশে নিজেদের বাহিনীর ভুল হামলায় তিনটি ধ্বংস হয়। এ ছাড়া এপ্রিল মাসে ইরানের আকাশসীমায় আরও একটি এফ-১৫ই ধ্বংস হওয়ার তথ্য রয়েছে। সেপ্টেম্বরে জর্ডানের মুওয়াফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে ইরানি হামলায় আটটি এফ-১৫ই ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সেগুলোর কয়েকটি পরে আবার কার্যক্রমে ফিরেছে।

সিআরএসের তালিকায় আরও রয়েছে একটি এফ-৩৫এ ‘লাইটনিং টু’, দুটি এ-১০ ‘থান্ডারবোল্ট টু’, সাতটি কেসি-১৩৫ আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান এবং একটি ই-৩ ‘সেন্ট্রি’ সতর্কতা ও নিয়ন্ত্রণ বিমান।

এ ছাড়া বিশেষ অভিযানে ব্যবহৃত দুটি এমসি-১৩০জে, একটি এইচএইচ-৬০ডব্লিউ উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার, একটি এমকিউ-৪সি ‘ট্রাইটন’ এবং তিনটি এমকিউ-১ ড্রোনের ক্ষয়ক্ষতির তথ্যও প্রতিবেদনে রয়েছে।

হেলিকপ্টারের তালিকায় রয়েছে হরমুজ প্রণালিতে ভূপাতিত একটি এএইচ-৬৪ ‘অ্যাপাচি’, উদ্ধার অভিযান চলাকালে ধ্বংস হওয়া চারটি এএইচ-৬ ‘লিটল বার্ড’ এবং আরব সাগরে বিধ্বস্ত একটি এমএইচ-৬০ ‘সি হক’।

সিআরএস বলছে, বিপুলসংখ্যক উড়োজাহাজের ক্ষয়ক্ষতি মার্কিন কংগ্রেসের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস হওয়া উড়োজাহাজ প্রতিস্থাপনে পেন্টাগনের পর্যাপ্ত অর্থ ও সক্ষমতা রয়েছে কি না, তা নিয়ে পর্যালোচনার প্রয়োজন হতে পারে।

এ ছাড়া ই-৩ ‘সেন্ট্রি’র মতো তুলনামূলকভাবে সীমিত সংখ্যায় থাকা গুরুত্বপূর্ণ উড়োজাহাজের ক্ষতি হলে মার্কিন সামরিক সক্ষমতায় কোনো ঘাটতি তৈরি হবে কি না, সেটিও কংগ্রেসের নজরদারির বিষয় হতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মার্কিন প্রতিরক্ষা শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা, সরবরাহব্যবস্থা এবং একই সময়ে বিদেশে সামরিক সরঞ্জামের চাহিদা-সব মিলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত উড়োজাহাজ দ্রুত প্রতিস্থাপন করা কঠিন হতে পারে।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ভবনে ট্রাম্পের সাড়ে ৮ ফুট উঁচু নগ্ন ভাস্কর্য ‘অরেঞ্জ প্লেগ’

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ০৮, ২০২৬
ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ভবনে ট্রাম্পের সাড়ে ৮ ফুট উঁচু নগ্ন ভাস্কর্য ‘অরেঞ্জ প্লেগ’
ফ্রান্সে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ভবনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সোনালি রঙের সেই ভাস্কর্যছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া

ফ্রান্সে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের একটি ভবনের ভেতরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশালাকারের একটি ভাস্কর্য প্রদর্শন করা হচ্ছে। সোনালি রঙের এ ভাস্কর্যে তাঁকে নগ্ন অবস্থায় দেখানো হয়েছে। ভাস্কর্য নিয়ে এরই মধ্যে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।

ভাস্কর্যটি সাড়ে আট ফুট উঁচু। নাম ‘অরেঞ্জ প্লেগ’। ভাস্কর্যে ট্রাম্প এক হাতে একটি গলফ খেলার ক্লাব, অন্য হাতে ন্যায়বিচারের পাল্লা ধরে আছেন। সঙ্গে একটি গলফ বল, যা দেখতে পৃথিবীর মতো।

‘অবিচারের রাজা’ বা ‘কিং অব ইনজাস্টিস’ নামেও ভাস্কর্যটি পরিচিতি পেয়েছে। এতে নগ্ন ট্রাম্প অপেক্ষাকৃত ছোট পোশাক পরা এক ব্যক্তির কাঁধে চেপে বসে আছেন। দেখে মনে হচ্ছে, ওই ব্যক্তি ট্রাম্পকে কাঁধে নিয়ে ঘুরছেন।

ভাস্কর্যের বেদিতে লেখা, ‘আমি একজন মানুষের পিঠে চেপে বসেছি। আমার ভারে তিনি তলিয়ে যাচ্ছেন। তাঁকে সহায়তা করতে আমি সবকিছুই করব। শুধু তাঁর পিঠ থেকে নামব না।’

ফ্রান্সের স্ট্রাসবার্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের দুটি ভবনের সংযোগস্থলের অন্যতম ব্যস্ত একটি জায়গায় বিশাল এ ভাস্কর্য রাখা হয়েছে। জানা গেছে, আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সেটা সেখানে থাকবে।

ভাস্কর্যটি বানিয়েছেন ডেনমার্কের শিল্পী জেনস গালচিওট। তিনি বলেন, ‘শাসনতান্ত্রিক বিশ্বব্যবস্থা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ আর জলবায়ু সংকট সমাধানে আমাদের যৌথ প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় হুমকিগুলোর একটি ডোনাল্ড ট্রাম্প। আমাদের অবশ্যই বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে হবে। ধ্বংসাত্মক প্রভাবের বিরুদ্ধে একসঙ্গে রুখে দাঁড়াতে হবে।’

২৩ ক্যারেট সোনার পাতে মোড়ানো ট্রাম্পের এ ভাস্কর্য সম্রাটের নতুন পোশাক (দ্য এম্পেররস নিউ ক্লথস) নামের রূপকথার গল্প থেকে অনুপ্রাণিত বলে জানান শিল্পী জেনস গালচিওট।

এই শিল্পী বলেন, ওই গল্পে একজন দাম্ভিক শাসক সবচেয়ে দামি পোশাক পরে সড়কে ঘুরে বেড়ানোর কথা ভাবছিলেন। কিন্তু তিনি আদতে নগ্নই ছিলেন।

রূপকথার ওই গল্পে শাসকের পাশে চাটুকারে ভরা ছিল। ভয় ও চাটুকারিতার কারণে কেউ শাসককে বলেননি, তিনি নগ্ন হয়ে সড়কে ঘুরছেন। পরে একটি শিশু দাম্ভিক শাসককে দেখিয়ে দেয় যে তিনি নগ্ন। পরে শাসক হাসির পাত্রে পরিণত হন। এমনটাই বলছিলেন জেনস গালচিওট।

‘ভাস্কর্যটি নিয়ে ট্রাম্পের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়ার বিষয়ে মোটেও চিন্তিত নই,’ বলেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ও ডেনমার্কের রাজনীতিক পার ক্লসেন। ট্রাম্পের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ইউরোপীয় পার্লামেন্টে এ ভাস্কর্য প্রদর্শন সহ্য করতে পারলেও বিশ্বমঞ্চে তাঁর কোনো স্থান নেই।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ভবনে এ ভাস্কর্যের প্রদর্শনী নিয়ে হোয়াইট হাউস এ পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

উল্লেখ্য, গত বছর ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের ৩০তম জলবায়ু সম্মেলনে (কপ৩০) সোনালি এ ভাস্কর্য প্রথম প্রদর্শন করা হয়। পরে এ বছর জার্মানিতে মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনের সময়ও এটি দেখা যায়।

সূত্র: প্রথম আলো