রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে মস্কোকে সহায়তা করতে গিয়ে দীর্ঘ দূরত্বে সেনা মোতায়েন ও সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা অর্জন করছে উত্তর কোরিয়া। এর ফলে দেশটির সামরিক সক্ষমতা আরও বাড়ছে বলে সতর্ক করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ায় মার্কিন বাহিনীর কমান্ডার জেনারেল জেভিয়ার ব্রানসন।
মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) আয়োজিত এক আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। দক্ষিণ কোরিয়ার বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপের বরাতে আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ব্রানসন বলেন, রাশিয়াকে সহায়তা করতে গিয়ে উত্তর কোরিয়া কীভাবে নিজ ভূখণ্ড থেকে রাশিয়ায় সেনা, অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠাতে হয়, সে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে।
তিনি বলেন, দীর্ঘ দূরত্বে সেনা ও সরঞ্জাম পরিবহন, সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং সামরিক সম্পদ সংগঠিত করার ক্ষেত্রে উত্তর কোরিয়ার অভিজ্ঞতা বেড়েছে। এর ফলে দেশটির সক্ষমতা শুধু যুদ্ধক্ষেত্রে কৌশল প্রয়োগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; বরং সামরিক অভিযান পরিচালনার বিভিন্ন ক্ষেত্রেও বিস্তৃত হচ্ছে।
মার্কিন এই জেনারেল সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধ থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতা উত্তর কোরিয়া তার সামরিক কার্যক্রমে কাজে লাগাতে পারলে ওয়াশিংটন ও সিউলের জন্য দেশটিকে প্রতিহত করার কৌশল আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
ব্রানসনের দাবি, রাশিয়াও উত্তর কোরিয়াকে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে। এর মধ্যে ইলেকট্রনিক যুদ্ধ পরিচালনায় ব্যবহৃত জ্যামারও রয়েছে। রাশিয়াকে উত্তর কোরিয়ার সহায়তার বিনিময়ে এসব সরঞ্জাম দেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে যুদ্ধকালীন সামরিক বাহিনীর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তরের প্রস্তাব নিয়েও কথা বলেন ব্রানসন।
তিনি শর্তসাপেক্ষে এই নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তরের পক্ষে নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তবে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সক্ষমতা ও প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেন তিনি।
এ ছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা শিল্পের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রস্তাব দেন ব্রানসন। এর মাধ্যমে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক সরঞ্জামের রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের সক্ষমতা গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন।
এর আগে জুলাইয়ে রাশিয়ায় উত্তর কোরিয়ার আরও সেনা মোতায়েনের খবর পর্যবেক্ষণ করছিল দক্ষিণ কোরিয়া। একই সময়ে মস্কো ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক সহযোগিতার নিন্দা জানায় জাপান।