আফ্রিকার হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চলে ইথিওপিয়া ও ইরিত্রিয়ার মধ্যে নতুন করে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সীমান্তবর্তী শহর জালামবেসায় ইথিওপীয় সরকারি বাহিনী অগ্রসর হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে এমন কয়েকটি সূত্র। মঙ্গলবার এ তথ্য জানায় রয়টার্স।
কূটনীতিকরা দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সংঘাত এড়াতে যখন তৎপরতা চালাচ্ছেন, তখনই সীমান্ত এলাকায় সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী একটি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে ইরিত্রিয়ার সেনারা বিদ্রোহীদের সহায়তায় ইথিওপিয়ার উত্তরাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জালামবেসায় প্রবেশ করেছিল। তবে মঙ্গলবার পর্যন্ত সেখানে ইরিত্রিয়ার সেনা কিংবা বিদ্রোহীরা অবস্থান করছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ইরিত্রিয়ার রাজধানী আসমারা ইথিওপিয়ায় সেনা অনুপ্রবেশের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। একই সঙ্গে ইথিওপিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দেশটি। ইরিত্রিয়ার দাবি, তাদের সেনাবাহিনীর অনুপ্রবেশ নিয়ে আদ্দিস আবাবার অভিযোগ কার্যত ‘যুদ্ধ ঘোষণা’র শামিল।
গত মাসে ইথিওপিয়ায় নতুন করে লড়াই শুরু হয়। টাইগ্রে পিপলস লিবারেশন ফ্রন্টের (টিপিএলএফ) নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী জোট অভিযান শুরু করলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। এর মধ্য দিয়ে ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত চলা ভয়াবহ যুদ্ধের পর দেশটিতে আবারও সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। ওই যুদ্ধে কয়েক লাখ মানুষের প্রাণহানি হয়েছিল।
বর্তমানে ইথিওপীয় সরকার ও বিদ্রোহীদের মধ্যে লড়াইয়ে সরকারি বাহিনী পাল্টা অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকটি শহর পুনর্দখল করেছে। এতে বিদ্রোহীরা উত্তর দিকে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে।
ছয়টি সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, মঙ্গলবারের মধ্যে ইথিওপীয় সেনারা জালামবেসায় পৌঁছেছে। সূত্রগুলোর মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে এমন চারজন, একজন কূটনীতিক এবং সংঘাতের পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখা একজন বিশেষজ্ঞ রয়েছেন।
ইথিওপিয়ার সরকারপন্থি একটি মিলিশিয়ার মুখপাত্র শহরটির নিয়ন্ত্রণ সেনাবাহিনীর হাতে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেননি। এ বিষয়ে ইথিওপীয় সেনাবাহিনী ও প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদের মুখপাত্রের কাছ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
জালামবেসা ইরিত্রিয়া সীমান্তের ইথিওপীয় অংশে অবস্থিত প্রায় ১৫ হাজার মানুষের একটি শহর। বর্তমানে সেখানে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সূত্র: রয়টার্স