১৭ অক্টোবর ২০২৬

ইরানে হামলায় কেন যুক্তরাষ্ট্র ‘মাদার অব অল বম্বস’ ব্যবহার করতে চায়?

প্রকাশ: শুক্রবার, অক্টোবর ১৬, ২০২৬
ইরানে হামলায় কেন যুক্তরাষ্ট্র ‘মাদার অব অল বম্বস’ ব্যবহার করতে চায়?

ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ও পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার জন্য নিজেদের অস্ত্রভান্ডারের সবচেয়ে শক্তিশালী অপারমাণবিক বোমা ব্যবহারের পরিকল্পনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবার সামরিক অভিযান শুরুর নির্দেশ দিলে ‘মাদার অব অল বম্বস’ বা ‘সব বোমার মা’ নামে পরিচিত এই বোমা ব্যবহার করা হতে পারে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, জিবিইউ-৪৩/বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট (এমওএবি) নামের এই বোমা ব্যবহার করা হলে চলমান সংঘাত আরো তীব্র হতে পারে। এমন এক সময়ে এই পরিকল্পনার কথা জানা গেল, যখন লড়াইয়ের তীব্রতা কিছুটা কমেছে। তবে বোমাটি ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র আসলে কী অর্জন করতে পারবে, তা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরেও উদ্বেগ রয়েছে।

সামরিক পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার বিষয়ে অবগত কর্মকর্তারা সিএনএন ও আল-জাজিরাকে বলেছেন, এমওএবি ব্যবহার করলেও যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত কৌশলগত লক্ষ্য অর্জন নিশ্চিত হবে না। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করার লক্ষ্য পূরণে এই বোমা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

ব্রাসেলসভিত্তিক সামরিক বিশেষজ্ঞ এলিয়াহ ম্যাগনিয়ার আল-জাজিরাকে বলেন, এমওএবি ব্যবহার করলেই ইরানের মাটির গভীরে থাকা পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। তার মতে, এ ধরনের হামলা সামরিক কৌশলের চেয়ে রাজনৈতিক প্রদর্শনীতে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি বেশি।

কী এই ‘মাদার অব অল বম্বস’

এমওএবির পূর্ণ নাম জিবিইউ-৪৩/বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট। এতে প্রায় ৮ হাজার ৫০০ কেজি বা সাড়ে ৮ টন উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক রয়েছে। বোমাটির মোট ওজন প্রায় ৯ হাজার ৮০০ কেজি, অর্থাৎ প্রায় ১০ টন। চারটি সাধারণ সেডান গাড়ির মোট ওজনের কাছাকাছি এটি। এর দৈর্ঘ্য ৯ মিটারের কিছু বেশি, প্রায় ৩০ ফুট।

বোমাটি সাধারণত লকহিড সি-১৩০ হারকিউলিস পরিবহন বিমান থেকে নিক্ষেপ করা হয়। আকার বড় হওয়ায় এটি স্টেলথ বোমারু বিমানে বহন করা যায় না। শত্রুর রাডার এড়িয়ে চলার উপযোগী এসব বিমানের বদলে এ বোমা বহনে ব্যবহার করা হয় বড় পরিবহন বিমান।

২০০২ থেকে ২০০৩ সালের মধ্যে প্রথম বোমাটি তৈরি করা হয়। এরপর এর ১২টি বিস্ফোরণ পরীক্ষা হয়েছে। ‘মাদার অব অল বম্বস’ নামটি এসেছে ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের ‘মাদার অব অল বাটলস’ বা ‘সব যুদ্ধের মা’ কথাটি থেকে।

যুক্তরাষ্ট্র এর আগে মাত্র একবার এমওএবি ব্যবহার করেছে। ২০১৭ সালে আফগানিস্তানে ইসলামিক স্টেট খোরাসান প্রদেশের (আইএসকেপি) যোদ্ধাদের একটি গুহা ও সুড়ঙ্গের জটিল নেটওয়ার্কে হামলা চালাতে এটি ব্যবহার করা হয়।

আফগান কর্তৃপক্ষের দাবি ছিল, ওই বিস্ফোরণে আইএসকেপির ৯৪ জন যোদ্ধা নিহত হন এবং কোনো বেসামরিক মানুষ হতাহত হননি। তবে স্থানীয় পর্যায়ে বেসামরিক মানুষের হতাহতের বিষয়ে কিছু অসমর্থিত খবর পাওয়া গিয়েছিল। বিস্ফোরণে অনেক বাড়িঘরও ধ্বংস হয়।

কতটা ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে পারে

এমওএবি এমনভাবে তৈরি, যাতে মাটির কয়েক ফুট ওপরে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের পর এর প্রচণ্ড তাপ ও চাপের ঢেউ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ভবন, গুহার প্রবেশপথ এবং শক্ত পৃষ্ঠের অন্যান্য স্থাপনা ধ্বংস হতে পারে।

ম্যাগনিয়ার বলেন, বিস্তৃত এলাকায় অত্যন্ত শক্তিশালী বিস্ফোরণের প্রভাব সৃষ্টি করাই এই বোমার উদ্দেশ্য।

সামরিক বিশেষজ্ঞ কর্নেল নিদাল আবু জায়েদ আল-জাজিরাকে বলেন, বিস্ফোরণের জন্য বোমাটির সরাসরি কোনো কিছুর সঙ্গে আঘাত করার প্রয়োজন হয় না। এর প্রচণ্ড বিস্ফোরণে ভূপৃষ্ঠের ওপর প্রায় এক কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকার সবকিছু ধ্বংস হতে পারে।

আবু জায়েদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত ইরানের ভূপৃষ্ঠে থাকা স্থলবাহিনীর অবস্থানগুলো পুরোপুরি ধ্বংস করতে এই উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বোমা ব্যবহারের কথা ভাবছে। একই সঙ্গে ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলোতেও আঘাত হানার চেষ্টা করা হতে পারে। এসব স্থাপনার মধ্যে পিক্যাক্স মাউন্টেনও রয়েছে। ট্রাম্প এর আগে এই স্থাপনায় হামলার হুমকি দিয়েছিলেন।

তবে বিস্ফোরণের ব্যাপ্তি ও ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট এলাকার ভূপ্রকৃতি এবং সেখানে জনবসতি কতটা ঘন, তার ওপর। ম্যাগনিয়ার বলেন, মাটির অনেক গভীরে থাকা লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে এই বোমা খুব কার্যকর নাও হতে পারে।

ইরানের যেসব পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালাতে চাইতে পারে, সেগুলোর মধ্যে ফোরদো পারমাণবিক স্থাপনা এবং নির্মাণাধীন পিক্যাক্স মাউন্টেন স্থাপনা রয়েছে। এগুলো অত্যন্ত সুরক্ষিত এবং মাটির অনেক গভীরে অবস্থিত।

ম্যাগনিয়ার বলেন, এমওএবির বিপুল বিস্ফোরকশক্তি খোলা জায়গায় থাকা সেনাসদস্য, সরঞ্জাম ও দুর্বল স্থাপনার ব্যাপক ক্ষতি করতে পারে। আফগানিস্তানে এর ব্যবহার গুহা ও সুড়ঙ্গের অবস্থানে হামলার ক্ষেত্রে বোমাটির কার্যকারিতা দেখিয়েছে। তবে তাতে সব ধরনের ভূগর্ভস্থ স্থাপনা ধ্বংস করার সক্ষমতা প্রমাণিত হয়নি।

ভূগর্ভস্থ স্থাপনা ধ্বংসে অন্য বোমা বেশি কার্যকর

এমওএবির বিস্ফোরণের প্রভাব ভূগর্ভে পৌঁছাতে পারে। তবে গভীর কংক্রিট বা পাহাড়ের পাথর ভেদ করে ভেতরে বিস্ফোরণ ঘটানোর জন্য বোমাটি বিশেষভাবে তৈরি নয়। এ ধরনের লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আরো উপযোগী অস্ত্র রয়েছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর সবচেয়ে শক্তিশালী ভূগর্ভস্থ স্থাপনা ধ্বংসকারী বোমা হলো জিবিইউ-৫৭ ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স পেনিট্রেটর। এর ওজন প্রায় ১৩ হাজার ৬০০ কেজি বা ৩০ হাজার পাউন্ড। এর মধ্যে ২ হাজার ৭০০ কেজি বা ৬ হাজার পাউন্ডের বিস্ফোরক অংশ রয়েছে।

বোমাটি উচ্চশক্তির ইস্পাত দিয়ে তৈরি এবং নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার জন্য পরিচালিত হয়। বিস্ফোরণের আগে এটি মাটির প্রায় ৬১ মিটার বা ২০০ ফুট গভীরে প্রবেশ করতে পারে। গভীরে পৌঁছানোর পর বিস্ফোরণ ঘটানোর জন্যই এটি তৈরি করা হয়েছে।

ইরানে কি সত্যিই ব্যবহার করা হবে এই বোমা

যুক্তরাষ্ট্র এর আগে আফগানিস্তানে এমওএবি ব্যবহার করেছে। তবে ইরানের ক্ষেত্রে এটি ব্যবহারের পথে কয়েকটি বড় বাধা রয়েছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

ম্যাগনিয়ারের মতে, ইরানের যেসব অঞ্চলে পারমাণবিক স্থাপনাগুলো রয়েছে, সেখানে প্রয়োজনীয় বিমান মোতায়েন করাই কঠিন হতে পারে। স্টেলথ বোমারু বিমান এসব এলাকায় অভিযানের জন্য বেশি উপযোগী হলেও সেগুলো এমওএবির মতো বড় বোমা বহন করতে পারে না।

তিনি আরো বলেন, এই বোমা ব্যবহার করে অবকাঠামো ধ্বংস করা সম্ভব হলেও তাতে ইরানকে কোনো ছাড় দিতে বাধ্য করা যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। ফলে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটানোর পরও ওয়াশিংটন রাজনৈতিকভাবে সামান্য ফল পেতে পারে।

ম্যাগনিয়ার বলেন, যে সামরিক কমান্ডার এ বোমা ব্যবহারের পক্ষে, তাকে একটি সরল প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে—অন্য কোনো অস্ত্র দিয়ে যে কাজ করা সম্ভব নয়, এই অস্ত্র দিয়ে ঠিক কী অর্জন করা যাবে? আর সেই ফল কীভাবে বাস্তবসম্মত রাজনৈতিক সমাধানের পথ তৈরি করবে?

তার ভাষায়, যদি এর পক্ষে যুক্তি হিসেবে শুধু বিস্ফোরণের দৃশ্যমান ব্যাপকতাকে তুলে ধরা হয়, তাহলে প্রস্তাবটি সামরিক কৌশলের চেয়ে রাজনৈতিক প্রদর্শনী হিসেবেই বেশি গ্রহণযোগ্য হবে।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যক্তিগত আলোচনায় ট্রাম্প এমন একটি ‘চূড়ান্ত’ পরিণতি চাইছেন, যাতে যুদ্ধের অবসান ঘটার পাশাপাশি ওয়াশিংটনকে পরাজিত হয়নি—এমন প্রমাণও দেখানো যায়।

ইরানে হামলায় কেন যুক্তরাষ্ট্র ‘মাদার অব অল বম্বস’ ব্যবহার করতে চায়?

প্রকাশ: শুক্রবার, অক্টোবর ১৬, ২০২৬
ইরানে হামলায় কেন যুক্তরাষ্ট্র ‘মাদার অব অল বম্বস’ ব্যবহার করতে চায়?

ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ও পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার জন্য নিজেদের অস্ত্রভান্ডারের সবচেয়ে শক্তিশালী অপারমাণবিক বোমা ব্যবহারের পরিকল্পনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবার সামরিক অভিযান শুরুর নির্দেশ দিলে ‘মাদার অব অল বম্বস’ বা ‘সব বোমার মা’ নামে পরিচিত এই বোমা ব্যবহার করা হতে পারে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, জিবিইউ-৪৩/বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট (এমওএবি) নামের এই বোমা ব্যবহার করা হলে চলমান সংঘাত আরো তীব্র হতে পারে। এমন এক সময়ে এই পরিকল্পনার কথা জানা গেল, যখন লড়াইয়ের তীব্রতা কিছুটা কমেছে। তবে বোমাটি ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র আসলে কী অর্জন করতে পারবে, তা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরেও উদ্বেগ রয়েছে।

সামরিক পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার বিষয়ে অবগত কর্মকর্তারা সিএনএন ও আল-জাজিরাকে বলেছেন, এমওএবি ব্যবহার করলেও যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত কৌশলগত লক্ষ্য অর্জন নিশ্চিত হবে না। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করার লক্ষ্য পূরণে এই বোমা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

ব্রাসেলসভিত্তিক সামরিক বিশেষজ্ঞ এলিয়াহ ম্যাগনিয়ার আল-জাজিরাকে বলেন, এমওএবি ব্যবহার করলেই ইরানের মাটির গভীরে থাকা পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। তার মতে, এ ধরনের হামলা সামরিক কৌশলের চেয়ে রাজনৈতিক প্রদর্শনীতে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি বেশি।

কী এই ‘মাদার অব অল বম্বস’

এমওএবির পূর্ণ নাম জিবিইউ-৪৩/বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট। এতে প্রায় ৮ হাজার ৫০০ কেজি বা সাড়ে ৮ টন উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক রয়েছে। বোমাটির মোট ওজন প্রায় ৯ হাজার ৮০০ কেজি, অর্থাৎ প্রায় ১০ টন। চারটি সাধারণ সেডান গাড়ির মোট ওজনের কাছাকাছি এটি। এর দৈর্ঘ্য ৯ মিটারের কিছু বেশি, প্রায় ৩০ ফুট।

বোমাটি সাধারণত লকহিড সি-১৩০ হারকিউলিস পরিবহন বিমান থেকে নিক্ষেপ করা হয়। আকার বড় হওয়ায় এটি স্টেলথ বোমারু বিমানে বহন করা যায় না। শত্রুর রাডার এড়িয়ে চলার উপযোগী এসব বিমানের বদলে এ বোমা বহনে ব্যবহার করা হয় বড় পরিবহন বিমান।

২০০২ থেকে ২০০৩ সালের মধ্যে প্রথম বোমাটি তৈরি করা হয়। এরপর এর ১২টি বিস্ফোরণ পরীক্ষা হয়েছে। ‘মাদার অব অল বম্বস’ নামটি এসেছে ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের ‘মাদার অব অল বাটলস’ বা ‘সব যুদ্ধের মা’ কথাটি থেকে।

যুক্তরাষ্ট্র এর আগে মাত্র একবার এমওএবি ব্যবহার করেছে। ২০১৭ সালে আফগানিস্তানে ইসলামিক স্টেট খোরাসান প্রদেশের (আইএসকেপি) যোদ্ধাদের একটি গুহা ও সুড়ঙ্গের জটিল নেটওয়ার্কে হামলা চালাতে এটি ব্যবহার করা হয়।

আফগান কর্তৃপক্ষের দাবি ছিল, ওই বিস্ফোরণে আইএসকেপির ৯৪ জন যোদ্ধা নিহত হন এবং কোনো বেসামরিক মানুষ হতাহত হননি। তবে স্থানীয় পর্যায়ে বেসামরিক মানুষের হতাহতের বিষয়ে কিছু অসমর্থিত খবর পাওয়া গিয়েছিল। বিস্ফোরণে অনেক বাড়িঘরও ধ্বংস হয়।

কতটা ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে পারে

এমওএবি এমনভাবে তৈরি, যাতে মাটির কয়েক ফুট ওপরে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের পর এর প্রচণ্ড তাপ ও চাপের ঢেউ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ভবন, গুহার প্রবেশপথ এবং শক্ত পৃষ্ঠের অন্যান্য স্থাপনা ধ্বংস হতে পারে।

ম্যাগনিয়ার বলেন, বিস্তৃত এলাকায় অত্যন্ত শক্তিশালী বিস্ফোরণের প্রভাব সৃষ্টি করাই এই বোমার উদ্দেশ্য।

সামরিক বিশেষজ্ঞ কর্নেল নিদাল আবু জায়েদ আল-জাজিরাকে বলেন, বিস্ফোরণের জন্য বোমাটির সরাসরি কোনো কিছুর সঙ্গে আঘাত করার প্রয়োজন হয় না। এর প্রচণ্ড বিস্ফোরণে ভূপৃষ্ঠের ওপর প্রায় এক কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকার সবকিছু ধ্বংস হতে পারে।

আবু জায়েদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত ইরানের ভূপৃষ্ঠে থাকা স্থলবাহিনীর অবস্থানগুলো পুরোপুরি ধ্বংস করতে এই উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বোমা ব্যবহারের কথা ভাবছে। একই সঙ্গে ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলোতেও আঘাত হানার চেষ্টা করা হতে পারে। এসব স্থাপনার মধ্যে পিক্যাক্স মাউন্টেনও রয়েছে। ট্রাম্প এর আগে এই স্থাপনায় হামলার হুমকি দিয়েছিলেন।

তবে বিস্ফোরণের ব্যাপ্তি ও ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট এলাকার ভূপ্রকৃতি এবং সেখানে জনবসতি কতটা ঘন, তার ওপর। ম্যাগনিয়ার বলেন, মাটির অনেক গভীরে থাকা লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে এই বোমা খুব কার্যকর নাও হতে পারে।

ইরানের যেসব পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালাতে চাইতে পারে, সেগুলোর মধ্যে ফোরদো পারমাণবিক স্থাপনা এবং নির্মাণাধীন পিক্যাক্স মাউন্টেন স্থাপনা রয়েছে। এগুলো অত্যন্ত সুরক্ষিত এবং মাটির অনেক গভীরে অবস্থিত।

ম্যাগনিয়ার বলেন, এমওএবির বিপুল বিস্ফোরকশক্তি খোলা জায়গায় থাকা সেনাসদস্য, সরঞ্জাম ও দুর্বল স্থাপনার ব্যাপক ক্ষতি করতে পারে। আফগানিস্তানে এর ব্যবহার গুহা ও সুড়ঙ্গের অবস্থানে হামলার ক্ষেত্রে বোমাটির কার্যকারিতা দেখিয়েছে। তবে তাতে সব ধরনের ভূগর্ভস্থ স্থাপনা ধ্বংস করার সক্ষমতা প্রমাণিত হয়নি।

ভূগর্ভস্থ স্থাপনা ধ্বংসে অন্য বোমা বেশি কার্যকর

এমওএবির বিস্ফোরণের প্রভাব ভূগর্ভে পৌঁছাতে পারে। তবে গভীর কংক্রিট বা পাহাড়ের পাথর ভেদ করে ভেতরে বিস্ফোরণ ঘটানোর জন্য বোমাটি বিশেষভাবে তৈরি নয়। এ ধরনের লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আরো উপযোগী অস্ত্র রয়েছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর সবচেয়ে শক্তিশালী ভূগর্ভস্থ স্থাপনা ধ্বংসকারী বোমা হলো জিবিইউ-৫৭ ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স পেনিট্রেটর। এর ওজন প্রায় ১৩ হাজার ৬০০ কেজি বা ৩০ হাজার পাউন্ড। এর মধ্যে ২ হাজার ৭০০ কেজি বা ৬ হাজার পাউন্ডের বিস্ফোরক অংশ রয়েছে।

বোমাটি উচ্চশক্তির ইস্পাত দিয়ে তৈরি এবং নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার জন্য পরিচালিত হয়। বিস্ফোরণের আগে এটি মাটির প্রায় ৬১ মিটার বা ২০০ ফুট গভীরে প্রবেশ করতে পারে। গভীরে পৌঁছানোর পর বিস্ফোরণ ঘটানোর জন্যই এটি তৈরি করা হয়েছে।

ইরানে কি সত্যিই ব্যবহার করা হবে এই বোমা

যুক্তরাষ্ট্র এর আগে আফগানিস্তানে এমওএবি ব্যবহার করেছে। তবে ইরানের ক্ষেত্রে এটি ব্যবহারের পথে কয়েকটি বড় বাধা রয়েছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

ম্যাগনিয়ারের মতে, ইরানের যেসব অঞ্চলে পারমাণবিক স্থাপনাগুলো রয়েছে, সেখানে প্রয়োজনীয় বিমান মোতায়েন করাই কঠিন হতে পারে। স্টেলথ বোমারু বিমান এসব এলাকায় অভিযানের জন্য বেশি উপযোগী হলেও সেগুলো এমওএবির মতো বড় বোমা বহন করতে পারে না।

তিনি আরো বলেন, এই বোমা ব্যবহার করে অবকাঠামো ধ্বংস করা সম্ভব হলেও তাতে ইরানকে কোনো ছাড় দিতে বাধ্য করা যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। ফলে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটানোর পরও ওয়াশিংটন রাজনৈতিকভাবে সামান্য ফল পেতে পারে।

ম্যাগনিয়ার বলেন, যে সামরিক কমান্ডার এ বোমা ব্যবহারের পক্ষে, তাকে একটি সরল প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে—অন্য কোনো অস্ত্র দিয়ে যে কাজ করা সম্ভব নয়, এই অস্ত্র দিয়ে ঠিক কী অর্জন করা যাবে? আর সেই ফল কীভাবে বাস্তবসম্মত রাজনৈতিক সমাধানের পথ তৈরি করবে?

তার ভাষায়, যদি এর পক্ষে যুক্তি হিসেবে শুধু বিস্ফোরণের দৃশ্যমান ব্যাপকতাকে তুলে ধরা হয়, তাহলে প্রস্তাবটি সামরিক কৌশলের চেয়ে রাজনৈতিক প্রদর্শনী হিসেবেই বেশি গ্রহণযোগ্য হবে।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যক্তিগত আলোচনায় ট্রাম্প এমন একটি ‘চূড়ান্ত’ পরিণতি চাইছেন, যাতে যুদ্ধের অবসান ঘটার পাশাপাশি ওয়াশিংটনকে পরাজিত হয়নি—এমন প্রমাণও দেখানো যায়।

ইরিত্রিয়া সীমান্তবর্তী শহরে অগ্রসর হচ্ছে ইথিওপীয় সেনারা, যুদ্ধের শঙ্কা

প্রকাশ: বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬
ইরিত্রিয়া সীমান্তবর্তী শহরে অগ্রসর হচ্ছে ইথিওপীয় সেনারা, যুদ্ধের শঙ্কা
ইথিওপিয়ার সরকারপন্থি ‘তিগ্রাই পিস ফোর্স’-এর সদস্যরা সড়কে টহল দিচ্ছেন। ছবি: রয়টার্স

আফ্রিকার হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চলে ইথিওপিয়া ও ইরিত্রিয়ার মধ্যে নতুন করে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সীমান্তবর্তী শহর জালামবেসায় ইথিওপীয় সরকারি বাহিনী অগ্রসর হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে এমন কয়েকটি সূত্র। মঙ্গলবার এ তথ্য জানায় রয়টার্স।

কূটনীতিকরা দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সংঘাত এড়াতে যখন তৎপরতা চালাচ্ছেন, তখনই সীমান্ত এলাকায় সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী একটি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে ইরিত্রিয়ার সেনারা বিদ্রোহীদের সহায়তায় ইথিওপিয়ার উত্তরাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জালামবেসায় প্রবেশ করেছিল। তবে মঙ্গলবার পর্যন্ত সেখানে ইরিত্রিয়ার সেনা কিংবা বিদ্রোহীরা অবস্থান করছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ইরিত্রিয়ার রাজধানী আসমারা ইথিওপিয়ায় সেনা অনুপ্রবেশের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। একই সঙ্গে ইথিওপিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দেশটি। ইরিত্রিয়ার দাবি, তাদের সেনাবাহিনীর অনুপ্রবেশ নিয়ে আদ্দিস আবাবার অভিযোগ কার্যত ‘যুদ্ধ ঘোষণা’র শামিল।

গত মাসে ইথিওপিয়ায় নতুন করে লড়াই শুরু হয়। টাইগ্রে পিপলস লিবারেশন ফ্রন্টের (টিপিএলএফ) নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী জোট অভিযান শুরু করলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। এর মধ্য দিয়ে ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত চলা ভয়াবহ যুদ্ধের পর দেশটিতে আবারও সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। ওই যুদ্ধে কয়েক লাখ মানুষের প্রাণহানি হয়েছিল।

বর্তমানে ইথিওপীয় সরকার ও বিদ্রোহীদের মধ্যে লড়াইয়ে সরকারি বাহিনী পাল্টা অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকটি শহর পুনর্দখল করেছে। এতে বিদ্রোহীরা উত্তর দিকে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে।

ছয়টি সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, মঙ্গলবারের মধ্যে ইথিওপীয় সেনারা জালামবেসায় পৌঁছেছে। সূত্রগুলোর মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে এমন চারজন, একজন কূটনীতিক এবং সংঘাতের পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখা একজন বিশেষজ্ঞ রয়েছেন।

ইথিওপিয়ার সরকারপন্থি একটি মিলিশিয়ার মুখপাত্র শহরটির নিয়ন্ত্রণ সেনাবাহিনীর হাতে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেননি। এ বিষয়ে ইথিওপীয় সেনাবাহিনী ও প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদের মুখপাত্রের কাছ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

জালামবেসা ইরিত্রিয়া সীমান্তের ইথিওপীয় অংশে অবস্থিত প্রায় ১৫ হাজার মানুষের একটি শহর। বর্তমানে সেখানে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

সূত্র: রয়টার্স

সৌদি আরবকে সহায়তায় এরদোয়ানের সঙ্গে ‘কথা বলবেন’ ট্রাম্প

প্রকাশ: বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬
সৌদি আরবকে সহায়তায় এরদোয়ানের সঙ্গে ‘কথা বলবেন’ ট্রাম্প

সৌদি আরবের স্বার্থ রক্ষায় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানকে সহায়তার অনুরোধ জানাতে পারেন বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে ইরান নিয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধের প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়ছে। এ পরিস্থিতিতে ইয়েমেনের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণকারী হুতি বিদ্রোহীরা ‘খুবই খারাপ আচরণ করছে’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ট্রাম্প বলেন, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানকে সৌদি আরবের স্বার্থে সহায়তার জন্য অনুরোধ করার কথা তিনি বিবেচনা করতে পারেন। তাঁর ভাষায়, ‘প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান, আমার মনে হয়, আমি যা বলব, তিনি তা-ই করবেন।’

সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার অংশ হিসেবে তুরস্ক সম্প্রতি রিয়াদকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার প্রেক্ষাপটে এ প্রতিশ্রুতি এসেছে।

এদিকে, ইরানের সঙ্গে চলমান অচলাবস্থা প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র শিগগিরই ইরান বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত নেবে। তবে কী ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।

ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন, সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের (এমবিএস) সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্বার্থ রক্ষায় তুরস্কের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে ট্রাম্পের এই মন্তব্য নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। তবে এরদোয়ানের সঙ্গে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়েছে কি না কিংবা তুরস্ক সরাসরি কোনো পদক্ষেপ নেবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নিয়ে দক্ষতা বাড়াচ্ছে উত্তর কোরিয়া

প্রকাশ: বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬
ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নিয়ে দক্ষতা বাড়াচ্ছে উত্তর কোরিয়া

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে মস্কোকে সহায়তা করতে গিয়ে দীর্ঘ দূরত্বে সেনা মোতায়েন ও সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা অর্জন করছে উত্তর কোরিয়া। এর ফলে দেশটির সামরিক সক্ষমতা আরও বাড়ছে বলে সতর্ক করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ায় মার্কিন বাহিনীর কমান্ডার জেনারেল জেভিয়ার ব্রানসন।

মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) আয়োজিত এক আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। দক্ষিণ কোরিয়ার বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপের বরাতে আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ব্রানসন বলেন, রাশিয়াকে সহায়তা করতে গিয়ে উত্তর কোরিয়া কীভাবে নিজ ভূখণ্ড থেকে রাশিয়ায় সেনা, অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠাতে হয়, সে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে।

তিনি বলেন, দীর্ঘ দূরত্বে সেনা ও সরঞ্জাম পরিবহন, সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং সামরিক সম্পদ সংগঠিত করার ক্ষেত্রে উত্তর কোরিয়ার অভিজ্ঞতা বেড়েছে। এর ফলে দেশটির সক্ষমতা শুধু যুদ্ধক্ষেত্রে কৌশল প্রয়োগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; বরং সামরিক অভিযান পরিচালনার বিভিন্ন ক্ষেত্রেও বিস্তৃত হচ্ছে।

মার্কিন এই জেনারেল সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধ থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতা উত্তর কোরিয়া তার সামরিক কার্যক্রমে কাজে লাগাতে পারলে ওয়াশিংটন ও সিউলের জন্য দেশটিকে প্রতিহত করার কৌশল আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

ব্রানসনের দাবি, রাশিয়াও উত্তর কোরিয়াকে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে। এর মধ্যে ইলেকট্রনিক যুদ্ধ পরিচালনায় ব্যবহৃত জ্যামারও রয়েছে। রাশিয়াকে উত্তর কোরিয়ার সহায়তার বিনিময়ে এসব সরঞ্জাম দেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে যুদ্ধকালীন সামরিক বাহিনীর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তরের প্রস্তাব নিয়েও কথা বলেন ব্রানসন।

তিনি শর্তসাপেক্ষে এই নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তরের পক্ষে নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তবে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সক্ষমতা ও প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেন তিনি।

এ ছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা শিল্পের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রস্তাব দেন ব্রানসন। এর মাধ্যমে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক সরঞ্জামের রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের সক্ষমতা গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন।

এর আগে জুলাইয়ে রাশিয়ায় উত্তর কোরিয়ার আরও সেনা মোতায়েনের খবর পর্যবেক্ষণ করছিল দক্ষিণ কোরিয়া। একই সময়ে মস্কো ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক সহযোগিতার নিন্দা জানায় জাপান।

ইসরায়েলগামী ফ্লাইটে বাংলাদেশসহ ৩১ দেশের পাইলট-ক্রু নিষিদ্ধ

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১২, ২০২৬
ইসরায়েলগামী ফ্লাইটে বাংলাদেশসহ ৩১ দেশের পাইলট-ক্রু নিষিদ্ধ

তেল আবিবগামী ফ্লাইটে বাংলাদেশসহ ৩১ দেশের পাইলট ও কেবিন ক্রুদের দায়িত্ব পালনে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ফরাসি বিমান সংস্থা ‘এয়ার ফ্রান্স’। মূলত ইসরায়েলের পরিবহন মন্ত্রণালয়ের জারি করা নতুন ও বিতর্কিত নির্দেশনার শর্ত মেনেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

ফরাসি গণমাধ্যম ‘মিডিয়াপার্ট’ এবং মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যেসব দেশের সঙ্গে ইসরায়েলের কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই, সেসব দেশের কর্মীদের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়া ৩১টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়াও রয়েছে পাকিস্তান, ইরান, আলজেরিয়া ও তিউনিশিয়ার মতো দেশ।

এই নির্দেশনায় সরাসরি কোনো ধর্মের নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে জাতীয়তার ভিত্তিতে আরোপিত এই নিষেধাজ্ঞার ফলে দেশগুলোর মুসলিম পাইলট ও কেবিন ক্রুরা কার্যত চরম বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।

এয়ার ফ্রান্স ইতিমধ্যে তাদের কর্মীদের দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকলে তা দ্রুত প্রশাসনকে জানানোর নির্দেশ দিয়েছে। তথ্য গোপন করলে বা নির্দেশনা অমান্য করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। তবে এমন বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্তের কারণে ফ্রান্সে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে এয়ার ফ্রান্স।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম এন১২-এর তথ্যমতে, গত ৩০ সেপ্টেম্বর ‘ফ্লাইদুবাই’য়ের এক ওমানি সহ-পাইলট দুবাই থেকে তেল আবিবগামী একটি বিমান ইসরায়েলের বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনার পর নিরাপত্তার অজুহাতে গত ১ অক্টোবর ইসরায়েল এই নতুন নিয়ম কার্যকর করে।

এই নির্দেশনার পর থেকে ইসরায়েলি বিমান সংস্থাগুলোও তাদের প্রায় আড়াই হাজার পাইলট ও কেবিন ক্রুর অতীত ইতিহাস যাচাইবাছাই শুরু করেছে। এদিকে, এয়ার ফ্রান্সের এই পদক্ষেপ নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হলেও প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।