হরমুজ প্রণালিকে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ নামে উল্লেখ করে একটি মানচিত্রের ছবি প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কৌশলগত এ জলপথ পুনরায় খুলে দেয়ার জন্য ইরান সাত দিনের পরিকল্পনা প্রস্তাব করার কয়েক ঘণ্টা পরই শুক্রবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ছবিটি পোস্ট করেন ট্রাম্প।
এর আগে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়ার বিনিময়ে যুদ্ধ বন্ধসহ একটি নতুন চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। শুক্রবার হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধ নিয়ে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তাদের আলোচনা ‘ইতিবাচক ও গঠনমূলক’ পর্যায়ে রয়েছে। তবে আলোচনার বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ চুক্তি বাস্তবায়িত হলে সাতদিনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি পুনরায় চালু করা সম্ভব। দেশটি আরো ইঙ্গিত দিয়েছে, এমন একটি সমঝোতা মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের জন্য সহায়ক হতে পারে।
তারা আরো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শর্তগুলো মেনে নেয়ার পর দেশটির পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনায় বসতে প্রস্তুত তারা। তবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার বা উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠানোর মতো বিষয়ে কোনো ছাড় দেবে না ইরান। অন্যদিকে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে সরিয়ে নেয়া যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দাবি।
ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে ইরানের বিরুদ্ধে পরমাণু অস্ত্র তৈরির প্রচেষ্টার অভিযোগ করে আসছে। এর মধ্যে ইরানের ইউরেনিয়াম ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ করার বিষয়টিও তারা উল্লেখ করে। বেসামরিক ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় মাত্রার তুলনায় এ হার অনেক বেশি এবং পরমাণু অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় ৯০ শতাংশের কাছাকাছি। তবে ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে—এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পরমাণু স্থাপনায় হামলা চালানোর সময় দেশটির কাছে ৬০ শতাংশ মাত্রায় সমৃদ্ধ ৪৪০ দশমিক ৯ কেজি ইউরেনিয়াম ছিল। এর কতটা এখনো অবশিষ্ট আছে, তা স্পষ্ট নয়।