২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইরান যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের সংকটে তেলের দাম বাড়ছে, লাভবান হচ্ছে যে দেশ

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
ইরান যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের সংকটে তেলের দাম বাড়ছে, লাভবান হচ্ছে যে দেশ

যানজটে আটকে থাকা সড়কে ধীরগতিতে চলছে ফেরারি ও ল্যাম্বরগিনির মতো বিলাসবহুল গাড়ি। নতুন স্টেকহাউসগুলোতে পরিবেশন করা হচ্ছে আমদানি করা ওয়াগিউ গরুর মাংস। মিয়ামি ও জ্যামাইকা থেকে উড়িয়ে আনা হচ্ছে ডিজেদের। শহরের আলোচনায় এখন বিলাসবহুল বিয়ের আয়োজন।

গায়ানার রাজধানী জর্জটাউনে এখন এমন বিলাসিতার চিত্র দেখা যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়া যুদ্ধ থেকে শহরটি অনেক দূরে হলেও ওই সংঘাত বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বাধা তৈরি করেছে এবং বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতে চাপ ফেলেছে।

কিন্তু দক্ষিণ আমেরিকার ছোট দেশ গায়ানা এই অস্থিরতা থেকে তেল বিক্রির আয়ে বড় সুবিধা পাচ্ছে।

নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলার সীমান্তবর্তী ইংরেজিভাষী দেশটির জনসংখ্যা মাত্র ১০ লাখ। কয়েক বছর আগে তেল উৎপাদন শুরু করা গায়ানা এ বছর আনুমানিক ৬৫০ কোটি ডলার তেল রাজস্ব পেতে যাচ্ছে, যা বছরের শুরুতে করা পূর্বাভাসের দ্বিগুণেরও বেশি।

ইরান যুদ্ধের কারণে তেলের দাম বেড়ে গেছে। হরমুজ, বাব আল-মান্দেবসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পথে চলাচলকারী জাহাজগুলোতে হামলার ঝুঁকি রয়েছে। ফলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ঠিক রাখতে বিভিন্ন দেশের মধ্যে প্রতিযোগিতা চলছে। আর এই প্রতিযোগিতায় আয় বাড়ছে গায়ানার।

এর মধ্য দিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাও রাখছে দেশটি।

তেলের বাজারে আমেরিকা মহাদেশ

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ঘাটতি সামাল দিতে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকায় তেল উৎপাদন বাড়ছে। গায়ানার পাশাপাশি কানাডা, ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনাতেও উৎপাদন বাড়ছে। ভেনেজুয়েলাতেও শিগগির উৎপাদন বাড়তে পারে।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল এনার্জির তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে মোট তেল উৎপাদনের প্রায় ৩৭ শতাংশ এখন আমেরিকা মহাদেশ থেকে আসে। এক দশক আগে এই হার ছিল ২৭ শতাংশ।

জর্জটাউনের অর্থনীতিবিদ রিচার্ড রামবারান নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, গায়ানা দেশ হিসেবে ছোট হলেও হঠাৎ করেই অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে এটি কেবল শুরু।

বর্তমানে দেশটির দৈনিক তেল উৎপাদন প্রায় নয় লাখ ব্যারেল। রামবারানের মতে, ২০৩০ সালের মধ্যে গায়ানার দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা ১৭ লাখ ব্যারেলে পৌঁছাতে পারে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বছরের প্রথম ছয় মাসে গায়ানার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩৩ শতাংশ। নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, এই প্রবৃদ্ধি দেশটিকে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতিতে পরিণত করেছে।
তবে তেলের বাজারে এই জয়জয়কার দেশটিতে উত্তেজনা ও অসন্তোষ বাড়িয়ে তোলার ঝুঁকিও তৈরি করছে।

অনেক গায়ানাবাসীর অভিযোগ, এই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুবিধা সাধারণ মানুষের মধ্যে সমানভাবে পৌঁছাচ্ছে না। বরং একটি ছোট অভিজাত শ্রেণি বিপুল সম্পদ গড়ছে, আর সাধারণ মানুষকে মূল্যস্ফীতি, ব্যাপক দুর্নীতি, আবাসন সংকট ও নিম্নমানের সরকারি সেবার সঙ্গে লড়তে হচ্ছে।

বাড়ছে বৈষম্যের অভিযোগ

বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, গায়ানা এখন উচ্চ আয়ের দেশের মর্যাদা পেয়েছে। দেশটির মাথাপিছু বার্ষিক আয় প্রায় ৩২ হাজার ডলার, যা উরুগুয়ে ও চিলির মতো তুলনামূলক সমৃদ্ধ দেশসহ দক্ষিণ আমেরিকার অন্য সব দেশের চেয়ে বেশি।

তবে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানীর রাস্তায় দাঁড়ালে দেশটি হঠাৎ করে উন্নত অর্থনীতির দেশে পরিণত হয়েছে, এমন হয় না।

জর্জটাউনের খালগুলোতে অপরিশোধিত পয়োনিষ্কাশনের পানি প্রবাহিত হয়। বন্যা বা অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিতে থাকা জরাজীর্ণ বাড়িতে পরিবারগুলো গাদাগাদি করে বসবাস করে। বিশৃঙ্খল মোড় পার হতে পথচারীদের জীবনের ঝুঁকিও রয়েছে। বন্দুকের মুখে ছিনতাইও নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়।

দ্রুত বদলে যাওয়া জর্জটাউনের চেহারাও নতুন করে বিরোধের কারণ হয়ে উঠেছে। নগরীর ঐতিহাসিক কাঠের স্থাপনাগুলো ভেঙে আবাসন ব্যবসায়ীরা সেখানে কংক্রিট ও ইস্পাতের বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন।

জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক থমাস সিং নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, এখন যা কিছু তৈরি করা হচ্ছে, সব কিছুই কুৎসিত।

ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি বাজারে তৈরি হওয়া সংকট গায়ানার একটি বৈপরীত্যও সামনে এনেছে। দেশটি বিপুল পরিমাণ তেল উৎপাদন করলেও তা থেকে গ্যাসোলিন বা ডিজেলের মতো জ্বালানি তৈরির অবকাঠামো নেই। ফলে আমদানির ওপর নির্ভরশীল গায়ানায় বিদ্যুতের দাম বেশি। এই বসন্তেও দেশটি সাময়িকভাবে জ্বালানি সংকটে পড়েছিল।

তেল থেকে পাওয়া অর্থের সুফল অসমভাবে বণ্টিত হওয়া নিয়ে অসন্তোষও বাড়ছে। আবার গায়ানা অন্যান্য দেশের মতো দুর্নীতি, মূল্যস্ফীতি ও তেলবহির্ভূত অর্থনীতির অভাবে পড়বে কি না, তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।

তবে উড়োজাহাজ ও আবাসন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ী জেরি গোভিয়া জুনিয়র এসব আশঙ্কাকে অতিরঞ্জিত বলে মনে করেন।

তিনি বলেন, বিদেশি জ্বালানি কোম্পানিগুলোকে স্থানীয় ব্যবসা ও কর্মীদের কাজে লাগাতে বাধ্য করতে হবে। গায়ানার সার্বভৌম সম্পদ তহবিল এ ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সহায়ক হবে।

গোভিয়া বলেন, ‘অন্য দেশগুলো কোথায় ভুল করেছে, গায়ানার নেতৃত্ব তা জানে।’

অবকাঠামো বিনিয়োগ ও শক্তিশালী কৃষি খাতের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা দেখাচ্ছি যে সবকিছু সঠিকভাবে করার সুযোগ আমাদের রয়েছে।’ তবে গায়ানা সরকার নিউইয়র্ক টাইমসের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এই অর্থনৈতিক উত্থানের সুফল গায়ানার ‘প্রতিটি পরিবার’ পাবে বলে প্রকাশ্য মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইরফান আলী। মূল্যস্ফীতি থেকে নাগরিকদের সুরক্ষায় সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ গায়ানা

গায়ানার এই অর্থনৈতিক উত্থানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রেরও গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ জড়িয়ে পড়েছে। দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম তেল কোম্পানি এক্সনমবিলের অন্যতম প্রধান প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্র হয়ে উঠছে। ট্রাম্প প্রশাসন যখন পশ্চিম গোলার্ধের জ্বালানি সম্পদের ওপর আরও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে, তখন গায়ানার গুরুত্বও বাড়ছে।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেল রাজস্বে মানুষের জীবনযাত্রার মান মৌলিকভাবে উন্নত হচ্ছে বলে দাবি করছেন গায়ানার সরকারি কর্মকর্তা ও অর্থনীতিবিদেরা। তারা কর কমানো, সেতু ও মহাসড়কের মতো নতুন অবকাঠামো নির্মাণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি বাতিল এবং নাগরিকদের প্রায় ৫০০ ডলার করে এককালীন অর্থ দেওয়ার বিষয়গুলো উল্লেখ করছেন।

গায়ানার জনসংখ্যা কম এবং তেলের মজুত বিপুল হওয়ায় এসব উদ্যোগ দ্রুত সাধারণ জীবনের অংশ হয়ে উঠছে। সম্প্রতি মাথাপিছু তেল মজুতের মূল্যমানের হিসাবে কুয়েতের পর গায়ানার অবস্থান বিশ্বে দ্বিতীয় বলে অনুমান করা হয়েছে।

তবে জুলাইয়ে সরকারি মালিকানাধীন একটি ফেরি ডুবে প্রায় ১০০ জন নিহত হওয়ার পর পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ১৯৭৮ সালের জোনসটাউন গণহত্যা ও আত্মহত্যার পর এটিই ছিল গায়ানার সবচেয়ে প্রাণঘাতী ঘটনা।

ঘটনার পর বিক্ষোভ ও শোকসভায় অংশ নেওয়া অনেকে প্রশ্ন তোলেন, বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতিতে এমন ঘটনা কীভাবে ঘটতে পারে।

বিক্ষোভকারীরা বলেন, নিহতদের অনেকেই এমন মানুষ ছিলেন, যারা গায়ানা সরকারের তেলসম্পদ থেকে বাড়তে থাকা অর্থের মধ্যেও জীবন চালিয়ে যেতে সংগ্রাম করছিলেন।

এই ঘটনায় জবাবদিহির দাবিতে বিক্ষোভ করে গ্রেপ্তার হওয়া আইনজীবী রোমোলা লুকাস বলেন, ‘এমন একটি উত্থানের কথা শুনতে শুনতে আমরা ক্লান্ত, যার কোনো সুফল অধিকাংশ গায়ানাবাসীর জীবনে নেই।’

রাজনৈতিক ব্যবস্থায় চাপ

গায়ানার রাজনৈতিক ব্যবস্থাতেও চাপের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।

নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, ২০২০ সালে ক্ষমতায় আসা প্রেসিডেন্ট ইরফান আলী জর্জটাউনের কাছে একটি খামার কেনার ঘটনায় দুর্নীতি হয়েছিল কি না, সে প্রশ্নে সমালোচনার মুখে পড়েছেন। আধুনিক দক্ষিণ আমেরিকার ইতিহাসে অন্যতম দীর্ঘ নির্বাচনী অচলাবস্থার পর তিনি ক্ষমতায় এসেছিলেন।

আলী বারবার কোনো ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে বিরোধীদলীয় নেতা আজরুদ্দিন মোহামেদ ওই খামারকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীনদের বা তাদের ঘনিষ্ঠদের বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগকে সামনে এনেছেন।
মোহামেদ নিজেও দুর্নীতির অভিযোগ থেকে মুক্ত নন। সোনা চোরাচালান ও ঘুষের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ২০২৪ সালে বাইডেন প্রশাসন তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়।

ভেনেজুয়েলার সঙ্গে বিরোধ

প্রতিবেদনে বলা হয়, ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবও পড়ছে গায়ানায়। এক্সন এক দশকেরও বেশি সময় আগে বিরোধপূর্ণ এসেকুইবো অঞ্চলের উপকূলীয় জলসীমায় তেল পাওয়ার পর দুই দেশের বিরোধ আরও তীব্র হয়।

এদিকে ভেনেজুয়েলার নেতারা গায়ানার অর্ধেকেরও বেশি ভূখণ্ডের ওপর দাবি জোরদার করছেন।

ভেনেজুয়েলার সঙ্গে গায়ানার দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনও বাড়ছে। ভেনেজুয়েলা আগে এসেকুইবো সীমান্তের দিকে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করেছে। এক্সনের ভাড়া করা একটি ভূকম্পন গবেষণা জাহাজ তারা আটক করেছিল। সেইসঙ্গে গায়ানার একটি সামরিক জাহাজ লক্ষ্য করে গুলিও চালিয়েছিল।

এক বছরেরও কম সময় আগে জর্জটাউনের একটি মবিল গ্যাস স্টেশনে বিস্ফোরণের ঘটনায় এক ভেনেজুয়েলান নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই ঘটনায় ৬ বছরের একটি শিশু নিহত হয়। কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে সন্ত্রাসী হামলা বলে উল্লেখ করেছিল। এটি গায়ানাকে অস্থিতিশীল করার কোনো প্রচেষ্টার অংশ হতে পারে কি না, সেই সম্ভাবনাও সামনে আসে।

ভেনেজুয়েলার সরকার ওই হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। জানুয়ারিতে মার্কিন বাহিনী মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর গায়ানার অনেকে ভেবেছিলেন, দুই দেশের বিরোধ কমে আসবে।
কিন্তু ঘটেছে উল্টোটা।

ভেনেজুয়েলার নতুন নেতা দেলসি রদ্রিগেজ এই বিরোধকে তার পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার করেছেন। এমনকি জাতিসংঘের অংশ নেদারল্যান্ডসের আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গিয়ে ভেনেজুয়েলার দাবির পক্ষে বক্তব্যও দিয়েছেন তিনি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রদ্রিগেজের এসব পদক্ষেপ গায়ানার কর্মকর্তাদের বিস্মিত করেছে। কারণ এর আগে যুক্তরাষ্ট্র গায়ানাকে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা করতে চেয়েছিল। দেশটির জাহাজে হামলা চালানোর পর গায়ানাকে সমর্থন করেছিল তারা।

এদিকে সীমান্ত নিয়ে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের রায় ২০২৭ সালের শুরুতে আসতে পারে। এর আগে গায়ানার কিছু মানুষ প্রশ্ন তুলছেন, ট্রাম্প প্রশাসন কি কার্যত দুই পক্ষের সঙ্গেই সম্পর্ক রাখছে এবং এসেকুইবোর জ্বালানি সম্পদের ওপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে?

অর্থনীতিবিদ থমাস সিং বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধু নেই, শুধু স্বার্থ আছে।’

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমেরিকা মহাদেশে নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। তবে ভূখণ্ড নিয়ে বিরোধের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি তিনি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গায়ানার আরেকটি চ্যালেঞ্জ হলো জনসংখ্যার পরিবর্তন। কাজের সন্ধানে কিউবা এবং ভেনেজুয়েলা থেকে হাজারো অভিবাসী দেশটিতে প্রবেশ করছেন। শ্রমিক সংকট কমাতে গায়ানা সরকার মূলত এই প্রবাহকে স্বাগত জানিয়েছে।

তাদের আগমন গায়ানা ও ভেনেজুয়েলার বদলে যাওয়া পরিস্থিতির একটি স্পষ্ট উদাহরণ। এক দেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, অন্যটি বছরের পর বছর স্থবিরতা ও পতন থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে।

সম্প্রতি গায়ানায় আসা ৩৯ বছর বয়সী ভেনেজুয়েলান অভিবাসী মিরেলিস রামোস বলেন, ‘এই জায়গায় কাজের সুযোগ আছে।’

ব্যস্ত বোর্দা মার্কেটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে অনেক সময় নিজেকে স্থানীয় মানুষের মতো মনে হয়। ‘আমার ফিরে যাওয়ার কোনো কারণ দেখি না,’ বলেন তিনি।

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি: তিন দেশের সেনাপ্রধানদের বৈঠক, হুতিদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি: তিন দেশের সেনাপ্রধানদের বৈঠক, হুতিদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা

ইয়েমেনে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করা এবং সৌদি আরবের ভূখণ্ডে হুতি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলার প্রেক্ষাপটে পারস্পরিক সামরিক সমন্বয় সুদৃঢ় করতে সৌদি আরবে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মিলিত হয়েছেন ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’ভুক্ত তিন দেশের সেনাপ্রধানেরা।

তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের শীর্ষ সামরিক নেতৃত্বের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ আরব। এর আগে তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল যে তাদের চিফ অব জেনারেল স্টাফ জেনারেল সেলচুক বায়রাকতারোগলু এ বৈঠকে যোগ দিতে সৌদি আরব সফর করছেন এবং শুক্রবার আঙ্কারা তিন দেশের সামরিক প্রধানদের উপস্থিতির আনুষ্ঠানিক ছবি প্রকাশ করে।

প্রায় দেড় মাস আগে প্রতিষ্ঠিত এই ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা জোরদার, প্রযুক্তি ও সমরাস্ত্র শিল্পের বিকাশ এবং সম্মিলিত প্রতিরোধ সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। চুক্তির অন্যতম প্রধান কৌশলগত শর্ত অনুযায়ী, সদস্যভুক্ত যেকোনো একটি দেশের ওপর বহিরাগত সশস্ত্র আক্রমণ হলে তা জোটভুক্ত তিনটি দেশের ওপরই যৌথ হামলা হিসেবে গণ্য হবে। জোটটিকে কার্যকর ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার ধারাবাহিকতায় গত আগস্টের শেষভাগে ইস্তাম্বুলে রাজনৈতিক ও কৌশলগত প্রতিরক্ষা কমিটির প্রথম বৈঠকের পর এবার শীর্ষ সামরিক পর্যায়ে এ সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হলো।

এর আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কে এক যৌথ বৈঠকে বসেন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান, পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। ওই বৈঠকে তিন দেশের সামরিক প্রধানদের জরুরি বৈঠকের রূপরেখা চূড়ান্ত করার পাশাপাশি জোটের সচিবালয় ও বিভিন্ন ওয়ার্কিং কমিটির কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়। মন্ত্রীরা পবিত্র মক্কা নগরী ও সৌদি আরবের বেসামরিক-অর্থনৈতিক অবকাঠামো নিশানা করে চালানো হুতিদের হামলার তীব্র নিন্দা জানান এবং জাতিসংঘ সনদের ৫১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নিজের ভৌগোলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রিয়াদের প্রয়োজনীয় সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের অধিকারের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন।

মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের গুরুত্ব তুলে ধরে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান চুক্তিটিকে ‘সঠিক পথে একটি শক্তিশালী পদক্ষেপ’ বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, ‘একটি কঠিন ভৌগোলিক অঞ্চলে এত গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্যোগ গ্রহণ করতে গেলে কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে, এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘নতুন কোনো ধারণা সামনে আনা হলে কিংবা নতুন কোনো সদিচ্ছা প্রকাশ করা হলে, এমন মানুষ থাকাটাই স্বাভাবিক, যারা তা মেনে নেবে না।’ তবে এই জোটের প্রাতিষ্ঠানিক রূপরেখা সম্পন্ন হলে তিন দেশ আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালীভাবে এগিয়ে যাবে—এ বিষয়ে তাঁর ‘কোনো সন্দেহ নেই’ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

জোটের প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম পরিচালনায় সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদকে স্থায়ী সদর দপ্তর হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া প্রথম তিন বছর মেয়াদের জন্য পাকিস্তানের অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল নওমান মাহমুদকে জোটের প্রথম মহাসচিব হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে অন্য দুই দেশের মধ্যে হস্তান্তর করা হবে।

এর আগে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফও সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন যে, ইয়েমেন সংঘাতের প্রভাব রিয়াদের নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করলে যেকোনো মুহূর্তে এই ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা জোটকে সম্মিলিতভাবে মাঠে নামানো হতে পারে।

লেবাননে ভয়াবহ ফসফরাস হামলা ইসরায়েলের

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
লেবাননে ভয়াবহ ফসফরাস হামলা ইসরায়েলের

দক্ষিণ লেবাননের বেশ কয়েকটি শহরে গোলাবর্ষণের সময় বিপজ্জনক ফসফরাস অস্ত্র ব্যবহার করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এনএনএ-র বরাত দিয়ে আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নাবাতিহ জেলার জওতার আল-শারকিয়াহ, মেফাদুন এবং নাবাতিহ আল-ফাওকার বহির্ভাগে এই গোলার আঘাত হানে। বিশেষ করে নাবাতিহ আল-ফাওকায় সরাসরি ফসফরাস শেল ব্যবহার করা হয় এবং পরবর্তীতে জওতার আল-শারকিয়াহ এলাকায় একই ধরনের অস্ত্র দিয়ে পুনরায় আক্রমণ চালানো হয়। পাশাপাশি, টায়ার জেলার ওয়াদি জিবকিন এবং হারিস ও হাদাসার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতেও ভারী কামানের গোলা বর্ষণ করে ইসরায়েল।

এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লেবানন সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ দল মারজায়ুন ও বিনত জবেইল জেলার মাজদাল সেলম এবং আল-ঘান্দুরিয়াহ এলাকা থেকে ইসরায়েলের নিক্ষেপ করা দুটি অবিস্ফোরিত বিমান বোমা নিষ্ক্রিয় করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে।

লেবাননের কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ মাসের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে অন্তত ৪,৩৮৬ জন নিহত, ১২,৪০৭ জন আহত এবং ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত জুনে একটি সমঝোতা হয়েছিল— যার শর্ত ছিল সংঘাতপূর্ণ লেবাননি ভূখণ্ড থেকে পর্যায়ক্রমে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, সেখানে লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েন এবং হিজবুল্লাহর অস্ত্রসংবরণ। তবে এই সমঝোতা সত্ত্বেও দেশটিতে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে।

গাজায় ইসরায়েলি সামরিক উপস্থিতি, ফাঁস হলো উচ্চ রেজল্যুশনের স্যাটেলাইট ছবি

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
গাজায় ইসরায়েলি সামরিক উপস্থিতি, ফাঁস হলো উচ্চ রেজল্যুশনের স্যাটেলাইট ছবি

ইসরায়েলের সরকারি মানচিত্রে সাময়িকভাবে প্রকাশিত হয়ে গেল গাজার উচ্চ রেজল্যুশনের স্যাটেলাইট ছবি। এতে উত্তর গাজার ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের পাশাপাশি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর একাধিক ঘাঁটি ও স্থাপনার অবস্থানও দেখা গেছে। যদিও পরে মানচিত্রে গাজার অংশগুলো আবার ঝাপসা করে দেওয়া হয়।

ইসরায়েলের সরকারি পাবলিক মানচিত্র সেবা গভম্যাপে এই ভুলটি গত সোমবার একটি এক্স অ্যাকাউন্টের নজরে আসে। ওই অ্যাকাউন্টটি গাজা উপত্যকার বিভিন্ন ঘটনার ভৌগোলিক অবস্থান শনাক্ত করে থাকে।

গভম্যাপে সাধারণত পুরো গাজা উপত্যকার পাশাপাশি ইসরায়েল ও অধিকৃত পশ্চিম তীরের সামরিক ঘাঁটি এবং অন্যান্য সংবেদনশীল স্থান ঝাপসা রাখা হয়। ফলে অল্প সময়ের জন্য স্পষ্ট ছবি প্রকাশ পাওয়ার ঘটনাটি ছিল ব্যতিক্রমী।

প্রকাশিত ছবিগুলোতে উত্তর গাজার বেইত লাহিয়া ও বেইত হানুনের বিভিন্ন এলাকা দেখা যায়। ছবিগুলো ২০২৫ সালের হওয়ায় সামরিক স্থাপনাগুলোর বর্তমান অবস্থা এতে প্রতিফলিত নাও হতে পারে। তবে এসব ছবিতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের পাশাপাশি সামরিক বাফার জোনের ভেতরে অন্তত ১১টি ইসরায়েলি সামরিক স্থাপনা দেখা গেছে।

আরেক এক্স ব্যবহারকারী ছবিগুলোর সংরক্ষিত সংস্করণ প্রকাশ করেন। তবে মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, তারা ছবিগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। একই সঙ্গে আগের বিভিন্ন প্রতিবেদনে গাজায় ইসরায়েলি সামরিক উপস্থিতি ও ধ্বংসযজ্ঞের যে চিত্র উঠে এসেছে, এসব ছবির সঙ্গে তার মিল রয়েছে।

বেইত হানুনের বিভিন্ন এলাকায় পুরো ব্লক ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ার চিত্র দেখা যায়। একইভাবে গাজা সিটির শুযাইয়া এলাকায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া ভবন ও রাস্তাঘাটের চিত্রও উঠে এসেছে।

ছবিতে গাজা সিটির জাইতুন এলাকার দক্ষিণ-পূর্বে কার্নি ক্রসিং এলাকায় ইসরায়েলি সামরিক উপস্থিতিও দেখা যায়। পূর্ব জাবালিয়ায় মাটির তৈরি প্রতিবন্ধক ও সামরিক যানবাহনের উপস্থিতিও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

এদিকে, আলাদা এক প্রতিবেদনে সিবিসি নিউজ জানিয়েছে, গাজার কয়েকটি এলাকায় ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে সেখানে ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটি তৈরির চিত্র স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে। ফোরেনসিক আর্কিটেকচারের গবেষক জুলিয়া নুয়েনো গিতার্তের দাবি, তাদের সংগৃহীত তথ্যের মধ্যে ধ্বংসস্তূপের নিচে মানুষ থাকার ৪৩টি ঘটনা নিশ্চিত করা হয়েছে।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, সামরিক প্রয়োজন ও সেনাদের ঝুঁকি কমানোর জন্য গাজায় স্থাপনা ও ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ করা হচ্ছে। তাদের দাবি, এসব কার্যক্রম আন্তর্জাতিক আইন ও সামরিক নির্দেশনা মেনেই পরিচালিত হচ্ছে।

‘যুদ্ধ শেষ হলেও ট্রাম্প-নেতানিয়াহুকে শাস্তি দেবে ইরান’

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
‘যুদ্ধ শেষ হলেও ট্রাম্প-নেতানিয়াহুকে শাস্তি দেবে ইরান’

যুদ্ধ শেষ হয়ে গেলেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে শাস্তির আওতায় আনার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জ্যেষ্ঠ মুখপাত্র জেনারেল আবুল ফজল শেকারচি।

টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেকারচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উসকানি সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালি ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তেহরানের অনুমোদন ছাড়া কোনো জাহাজই নিরাপদে ওই জলপথ অতিক্রম করতে পারবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।

সাক্ষাৎকারে ১৯৮০-এর দশকের ইরান-ইরাক যুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরে শেকারচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ওই যুদ্ধ ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ব্যাপক প্রাণহানির মধ্য দিয়ে সংঘটিত ওই যুদ্ধ ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে দাবি করেন তিনি। এ ক্ষেত্রে বাসিজ বাহিনীর মাধ্যমে ব্যাপক জনসম্পৃক্ততাকে তিনি অন্যতম অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন।

শেকারচির ভাষ্য অনুযায়ী, বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে ইরানের সামরিক কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। প্রচলিত যুদ্ধকৌশলের পরিবর্তে দেশটি অসম যুদ্ধকৌশল গ্রহণ করে, যেখানে তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল ও সহজ সরঞ্জাম ব্যবহার করে প্রতিপক্ষের ব্যয়বহুল ভারী অস্ত্র মোকাবিলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় আহত সেনাদের জন্য প্রয়োজনীয় মৌলিক চিকিৎসাসামগ্রী কেনার সক্ষমতাও ইরানের ছিল না। তবে বর্তমানে দেশটি আধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে অনেকাংশে স্বনির্ভর হয়েছে।

ইরানের সশস্ত্র বাহিনী অতীতের যুদ্ধগুলো শুরুর সময়ের তুলনায় এখন অনেক বেশি শক্তিশালী বলেও দাবি করেন শেকারচি। তিনি বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রযুক্তি আরো উন্নত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে কোনো ধরনের আগ্রাসন হলে তা মোকাবিলায় নতুন সামরিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ইরানের হাতে ‘চমক’ রয়েছে।

শেকারচি আরো দাবি করেন, ইরান প্রতিবেশী কোনো মুসলিম দেশের সার্বভৌমত্বে হামলা করেনি, বরং দেশটির পাল্টা হামলাগুলো ওই সব দেশের ভেতরে থাকা মার্কিন স্বার্থ ও স্থাপনা লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রতিবেশী মুসলিম দেশগুলোকে নিজেদের অবস্থান পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা তাদের স্বার্থ রক্ষা করবে না। শত্রুর মুখে ইরান ‘সামান্যতমও পিছু হটবে না’ বলেও সতর্ক করেন তিনি।

হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গে শেকারচি বলেন, ইরানের নির্ধারিত রুটের বাইরে দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করলে সেটি নিরাপদ থাকবে না। প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করলে তার জবাব শক্ত হাতে দেওয়া হবে বলেও ওয়াশিংটনকে সতর্ক করেন তিনি।

ইরানকে একটি বৈশ্বিক শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে শেকারচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় তার আগের অবস্থান পুনঃপ্রতিষ্ঠার সুযোগ দেবে না তেহরান। পশ্চিম এশিয়া থেকে মার্কিন বাহিনীর প্রত্যাহারকেই তাদের জন্য নিরাপদ পথ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা যত দ্রুত অঞ্চলটি ছাড়বে, তাদের ক্ষয়ক্ষতিও তত কম হবে।

যুক্তরাষ্ট্র সব প্রস্তাব মানলেও পারমাণবিক কর্মসূচিতে ছাড় দেবে না ইরান

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র সব প্রস্তাব মানলেও পারমাণবিক কর্মসূচিতে ছাড় দেবে না ইরান

যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলতে নৌঅবরোধ প্রত্যাহারসহ ইরানের অন্য প্রস্তাব মেনে নিলেও নিজেদের পরমাণু কর্মসূচিতে কোনো ছাড় দেবে না তেহরান। শুক্রবার দেশটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সব শর্ত পূরণ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে।

ইরানের প্রস্তাব অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে প্রস্তুত তেহরান। এর বিনিময়ে সাত দিনের মধ্যে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি কার্যকর, ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, দেশটির জব্দ করা অর্থ ছাড় এবং ইরানের ওপর থেকে তেল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো পদক্ষেপ নিতে হবে যুক্তরাষ্ট্রকে। বৃহস্পতিবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এসব শর্তের কথা জানান।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাত মাসের যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র হওয়ার প্রেক্ষাপটে এ প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান। একই সময়ে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথিরা সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেন, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই ওয়াশিংটনের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির বিষয়ে একটি সমঝোতা হতে পারে বলে তিনি আশা করছেন।

তেহরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শর্তগুলো মেনে নেয়ার পর দেশটির পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনায় বসতে প্রস্তুত তারা। তবে ওই কর্মকর্তা বলেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার বা উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠানোর মতো বিষয়ে কোনো ছাড় দেবে না ইরান। অন্যদিকে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে সরিয়ে নেয়া যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দাবি।

ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে ইরানের বিরুদ্ধে পরমাণু অস্ত্র তৈরির প্রচেষ্টার অভিযোগ করে আসছে। এর মধ্যে ইরানের ইউরেনিয়াম ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ করার বিষয়টিও তারা উল্লেখ করে। বেসামরিক ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় মাত্রার তুলনায় এ হার অনেক বেশি এবং পরমাণু অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় ৯০ শতাংশের কাছাকাছি। তবে ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে—এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পরমাণু স্থাপনায় হামলা চালানোর সময় দেশটির কাছে ৬০ শতাংশ মাত্রায় সমৃদ্ধ ৪৪০ দশমিক ৯ কেজি ইউরেনিয়াম ছিল। এর কতটা এখনো অবশিষ্ট আছে, তা স্পষ্ট নয়।

এর আগে মে মাসে রয়টার্স জানায়, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি দেশটির উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম (এইচইইউ) বিদেশে পাঠানো যাবে না বলে নির্দেশ দিয়েছেন। রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছিলেন দেশটির দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।