২০ অক্টোবর ২০২৬

“আমি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হতে পারি!” ট্রাম্পের কৌতুক

প্রকাশ: রবিবার, অক্টোবর ১৮, ২০২৬
“আমি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হতে পারি!” ট্রাম্পের কৌতুক

বিশ্ব মানচিত্রে এমন একটি দেশ রয়েছে, যেখানে ভোটযুদ্ধে দাঁড়ালে ডোনাল্ড ট্রাম্প খুব অনায়সেই যেকোনো জাতীয় নির্বাচনে জিততে পারেন, এবং তিনি নিজেও বিষয়টি খুব ভালো করেই জানেন।

"আমি চাইলে সেখানকার প্রধানমন্ত্রী পদে নির্বাচন করতে পারি," গত মে মাসে কৌতুকের ছলে এ কথা বলেছিলেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, সেখানে তাঁর জনপ্রিয়তা ৯৯ শতাংশ! যদিও কোনো জনমত জরিপেই এ ধরনের ৯৯ শতাংশ সমর্থনের অঙ্ক মেলেনি। কিন্তু তাঁর এই কৌতুকটি ইসরায়েলি রাজনীতিতে এক বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছিল, কারণ এটি নেহাৎ রসিকতা ছিল না—এর পেছনে লুকিয়ে ছিল গভীর এক রাজনৈতিক বাস্তবতা।

আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে জাতীয় নির্বাচন। তবে নির্বাচনের ঠিক ১০ দিন আগে এসে দেখা যাচ্ছে, এই পুরো নির্বাচনী প্রচারণার সবচেয়ে জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ হলেন স্বয়ং ডোনাল্ড ট্রাম্প—যদিও ব্যালট পেপারে তাঁর কোনো নাম নেই! থাকার কথাও নয়, যেহেতু তিনিই বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

কিন্তু, যে ব্যক্তি বিগত এক দশক ধরে ট্রাম্পের সাথে গভীর সখ্য তৈরি করে নিজের রাজনীতি টিকিয়ে রেখেছেন—বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু—তিনি আজ তিক্তভাবে আবিষ্কার করছেন যে, ট্রাম্পের সেই উষ্ণ আলিঙ্গন এখন অনেকটাই আলগা হয়ে এসেছে।

এক বছরের 'বীর বন্দনা' ও সখ্যতা

ট্রাম্প ও ইসরায়েলি রাজনীতির মধ্যকার এই মধুচন্দ্রিমার সম্পর্ক গত বছরের এই সময়ে এক চরম শিখরে পৌঁছেছিল। ২০২৫ সালের ১৩ অক্টোবর ট্রাম্পের টিমের মধ্যস্থতায় সম্পাদিত এক গাজা চুক্তির আওতায়, হামাসের কাছে বন্দি জীবিত থাকা শেষ ২০ জন ইসরায়েলি স্বদেশে ফিরে আসেন এবং একই দিনে ট্রাম্প ইসরায়েলি সংসদ 'নেসেট'-এ ভাষণ দেন।

ইসরায়েলি টেলিভিশন চ্যানেলগুলো ট্রাম্পের সেই ভাষণ এবং জিম্মিদের পরিবারের সাথে পুনর্মিলনের দৃশ্য একইসঙ্গে সম্প্রচার করেছিল। ফলে সাধারণ ইসরায়েলিদের কাছে এই দুটি দৃশ্য যেন এক ও অভিন্ন হয়ে ফুটে উঠেছিল।

এর পরপরই শুরু হয় ট্রাম্পকে সম্মান জানানোর পালা। নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে ইসরায়েলের "ইতিহাসের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বন্ধু" হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং দীর্ঘদিনের প্রথা ভেঙে কেবল নিজ দেশের নাগরিকদের জন্য সংরক্ষিত রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা 'ইসরায়েল পুরস্কার' একজন বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান—ট্রাম্পকে দেওয়ার ঘোষণা দেন।

এরপর আসে ২০২৬ সাল: ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সূচনা, এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি এবং জুলাই মাসে ট্রাম্প কর্তৃক ঘোষিত হামাসের অস্ত্রসংবরণ চুক্তি।

অর্থাৎ, ইসরায়েলের চাহিদামাফিক তেল আবিবের চিহ্নিত শত্রুদের বিরুদ্ধে ট্রাম্প যুদ্ধ শুরু করেছেন। আবার হামাসের হাত থেকে ইসরায়েলি বন্দি মুক্তিতেও ভূমিকা রেখেছেন। ইসরায়েল যেখানে সামরিক অভিযান চালিয়েও সফল হয়নি, হামাসের থেকে সেই যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি আদায় করেছে ট্রাম্পের কূটনীতিক চাপ। তাই তাঁর প্রতি ইসরায়েলিদের সমর্থন কম তো হওয়ার নয়।

আর সেটা ৯৯ শতাংশ না হলেও, মোটেও কম নয়। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক জরিপে দেখা যায়, ৬৯ শতাংশ ইসরায়েলি ট্রাম্পের ওপর গভীর আস্থা রাখেন।

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে 'জ্যুইশ পিপল পলিসি ইনস্টিটিউট'-এর এক গবেষণায় দেখা যায়, ৭৩ শতাংশ মানুষ ট্রাম্পকে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো সাধারণ প্রেসিডেন্টের চেয়ে বহুগুণ ভালো বলে মনে করেন।

তেল আবিব ইউনিভার্সিটির গবেষকরা একে বর্ণনা করেছেন "ট্রাম্প ইফেক্ট" হিসেবে: ইসরায়েলের সাধারণ ইহুদিরা—বিশেষ করে কট্টর ডানপন্থীরা—ফিলিস্তিনিদের সাথে আলোচনার ক্ষেত্রে অনেকটাই নমনীয় হয়ে ওঠেন, যখন তাদের বলা হয় যে এই শান্তি প্রস্তাবের নেপথ্যে ট্রাম্প রয়েছেন। এভাবে কোনো ইসরায়েলি রাজনৈতিক নেতা যা করতে পারেননি, ট্রাম্প তা অনায়াসেই করে দেখিয়েছেন।

যে সমর্থন আর কখনোই মিলছে না

২০১৯ সালের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর দল 'লিকুদ পার্টি' আয়ালোন মহাসড়কে বিশাল আকারের বিলবোর্ড ঝুলিয়েছিল: সেখানে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু হাত মেলাচ্ছেন এবং নিচে লেখা ছিল "অন্য উচ্চতার নেতৃত্ব" (ইন অ্যানাদার লিগ)। ট্রাম্প নিজেও সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছিলেন।

সমীকরণটা ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট: বিবি (নেতানিয়াহু) ট্রাম্পের জৌলুস ধার করে নিজের রাজনীতি চালাতেন, আর ট্রাম্প সেই প্রশংসা ও শ্রদ্ধা উপভোগ করতেন।

কিন্তু এবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট যেন তাঁর হাত দুটি নিজের পকেটেই গুটিয়ে রেখেছেন!

গত জুনে তিনি বলেছিলেন, নির্বাচনে প্রতিপক্ষের ওপর ভিত্তি করে তিনি "সম্ভবত" নেতানিয়াহুকেই সমর্থন করবেন। কিন্তু যখন গাদি আইজেনকোট নির্বাচনী ময়দানে নামলেন, ট্রাম্প মন্তব্য করে বসলেন যে আইজেনকোটের বিরুদ্ধে তিনি খারাপ কিছু শোনেননি। এমনকি টাইম ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহুকে সমর্থনের প্রশ্নটি তিনি অন্তত তিনবার কৌশলে এড়িয়ে গেছেন।

গত মঙ্গলবার 'মেরিন ওয়ান' হেলিকপ্টারে ওঠার আগে ট্রাম্প কেবল রহস্যময়ভাবে এটুকুই বলেন: "আমরা হয়তো কাউকে সমর্থন দিতে পারি।" কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম তিনি মুখে আনেননি।

সবচেয়ে কাছাকাছি তিনি যেটি করেছিলেন তা হলো—গত সেপ্টেম্বরে ট্রাম্পের নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল-এ নিউজম্যাক্স-এর একটি খবরের লিঙ্ক শেয়ার করা, যেখানে এক জরিপে নেতানিয়াহুর জোটকে এগিয়ে রাখা হয়েছিল। তবে ট্রাম্প নিজে সেটি পোস্ট করেছিলেন কিনা তা নিয়ে ঘোর সন্দেহ রয়েছে।

এর মধ্যেই ইসরায়েলি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, প্রতিপক্ষ গাদি আইজেনকোট এবং নাফতালি বেনেটের শিবিরগুলো ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠদের সাথে গোপনে কথা বলে তাঁকে এই নির্বাচনে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকার অনুরোধ জানিয়েছে। আর এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাদের সেই অনুরোধ পূরণ হচ্ছে বলেই মনে হচ্ছে।

ইসরায়েলের এই জাতীয় নির্বাচন এতটাই হাড্ডাহাড্ডি হতে যাচ্ছে যে, ট্রাম্পের এই নীরবতা একটি বড় ধরণের পরিবর্তন ঘটিয়ে দিতে পারে। গত মাসের পাঁচটি পৃথক জরিপ পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, আইজেনকোটের দল ইয়াশার গড়ে ২২.২টি আসন পেতে যাচ্ছে, যেখানে নেতানিয়াহুর লিকুদ পাচ্ছে ২১.২টি আসন।

আর জোটের হিসাবে, নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট পাচ্ছে গড়ে ৫৪.৪টি আসন এবং বিরোধী জায়নবাদী জোট পাচ্ছে ৫১টি আসন। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন কিন্তু কোনো পক্ষই এককভাবে ছুঁতে পারছে না।

বেদিতে দেখা দেওয়া ফাটল

এই দূরত্ব কিন্তু কেবল একতরফা নয়, দুই তরফ থেকেই তৈরি হয়েছে। গ্রীষ্মকালীন সময়ে ট্রাম্প প্রশাসন যখন তেহরানের সাথে পারমাণবিক চুক্তি ও দরকষাকষি নিয়ে ব্যস্ত ছিল, তখন তিনি লেবাননে সামরিক অভিযান সীমিত করতে এবং সিরিয়ার কিছু অঞ্চল থেকে সরে আসতে ইসরায়েলের ওপর মারাত্মক মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করেছিলেন।

এক উত্তপ্ত ফোনালাপের সময় নেতানিয়াহুকে "পাগল" বলেও ডাকার কথা ট্রাম্প স্বীকার করেছেন। ইসরায়েলঘনিষ্ঠ মার্কিন গণমাধ্যম অ্যাক্সিওস তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ট্রাম্প তাঁর ঘনিষ্ঠদের কাছে নাকি প্রায়ই বলেন— "বিবি (নেতানিয়াহু) নিজেই নিজের সবচেয়ে বড় শত্রু।"

ইসরায়েলি জনগণও বিষয়টি গভীরভাবে প্রত্যক্ষ করেছে। ইসরায়েল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউট-এর গ্রীষ্মকালীন এক জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্প ইসরায়েলের নিরাপত্তাকে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেন বলে বিশ্বাস করা মানুষের সংখ্যা মে মাসের ৪৪ শতাংশ থেকে কমে জুনে মাত্র ২৮ শতাংশে নেমে এসেছে।

কেবল ইহুদি উত্তরদাতাদের মধ্যে, ট্রাম্পের ওপর ইসরায়েল সম্পূর্ণ নির্ভর করতে পারে—এই বিশ্বাসের হার মার্চ থেকে জুনের মধ্যে ৩৮ পয়েন্টের বিশাল পতন ঘটেছে। মাত্র এক-তৃতীয়াংশ ইসরায়েলি মনে করেন, ইরান যুদ্ধের আগের তুলনায় বর্তমানে ইসরায়েলের কৌশলগত অবস্থান ভালো রয়েছে।

তবে সবচেয়ে অদ্ভুত বিষয় হলো, নীতিগত বিষয়ে অবিশ্বাস থাকা সত্ত্বেও ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা কিন্তু ইসরায়েলে এক চুলও কমেনি! ইসরায়েলিরা তাঁর নীতিকে সন্দেহ করতে পারে, কিন্তু ব্যক্তি ট্রাম্পকে তারা ঠিকই ভালোবাসে।

নেতানিয়াহুর নিজের প্রচারণাতেই এর প্রমাণ মেলে: সম্প্রতি লিকুদ পার্টির প্রার্থী তালিকায় নেতানিয়াহু এক ব্যবসায়ীকে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন, যিনি অতীতে ট্রাম্পকে "নৈতিকভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত" বলে সমালোচনা করেছিলেন। বিষয়টি জানাজানি হতেই কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নেতানিয়াহু আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চান এবং ট্রাম্পকে হোয়াইট হাউসে ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় বন্ধু বলে আখ্যা দেন।

এভাবে ইসরায়েলে বসে ট্রাম্পের সামান্য সমালোচনা করাও এখন নির্বাচনী প্রচারণার জন্য এক চরম ঝুঁকিপূর্ণ কাজ।

তাহলে এই দেশ আসলে কার?

ইসরায়েলের ওপর একচ্ছত্র ট্রাম্পের মালিকানা, "ট্রাম্পের দেশ" উক্তি আসলে সেটা বোঝায় না। এর অর্থ হলো—ট্রাম্প এখন এমন এক কেন্দ্রে পরিণত হয়েছেন, যাকে ঘিরে সব ইসরায়েলি রাজনীতিবিদদের ঘুরতে হয়। নেতানিয়াহু নির্বাচন করছেন ট্রাম্পের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু পরিচয়ে।

আবার আইজেনকোট নির্বাচন করছেন ট্রাম্পের শত্রু না হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে। পুরো রাজনীতির ময়দান এখন কেবল একটি বিতর্ক নিয়েই ব্যস্ত—কে ট্রাম্পকে সবচেয়ে ভালোভাবে সামলাতে পারবেন?

আন্তর্জাতিক স্তরে ও জাতীয়ভাবে দম্ভ ও অহমিকার এক দেশ ইসরায়েল; যার রয়েছে তীব্র রাজনৈতিক মতভেদে বিভক্ত, কিন্তু গণতান্ত্রিক একটি ইহুদিবাদী সমাজব্যবস্থা। তাদের জন্য এই ধরনের অন্ধ পরনির্ভরতা সত্যিই এক নজিরবিহীন ঘটনা। এবং এটি অদ্ভুত কিছু বার্তাও দিচ্ছে।

ট্রাম্প একসময় নেতানিয়াহুকে এমন এক ২০ দফার গাজা পরিকল্পনা মানতে বাধ্য করেছিলেন, যা কোনো ইসরায়েলি শাসক জোট কখনোই মেনে নিত না। আবার তিনিই প্রেসিডেন্ট হারজগকে চিঠি লিখে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে চলা ফৌজদারি মামলায় তাঁর খাস ক্ষমা প্রার্থনার দাবি তুলেছিলেন—যে ধরনের হস্তক্ষেপ অন্য কোনো বিদেশি নেতার কাছ থেকে এলে তেল আবিবে চরম হট্টগোল পড়ে যেত।

আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলিরা তাদের নিজেদের প্রধানমন্ত্রী বেছে নেওয়ার জন্য ভোট দেবেন। তবে ভোট দিতে যাওয়ার সময় অনেক ইসরায়েলির মনেই নীরবে একটি অভিন্ন প্রশ্ন ঘুরপাক খাবে: বিজয়ের শুভেচ্ছা জানিয়ে ওয়াশিংটন থেকে কার কাছে আগে ফোন আসবে?

অতএব, স্বাগতম ইসরায়েলে—যেখানে নির্বাচনের সবচেয়ে প্রভাবশালী ও দিকনির্ণায়ক মানুষটি (ট্রাম্প) নিজে কোনো ভোট দিতে পারবেন না, এবং আপাতত তিনি একটা শব্দও উচ্চারণ করছেন না!

লেখক: লিওন হাদার একজন আন্তর্জাতিক সাংবাদিক, ব্লগার, ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক, গ্রন্থকার এবং পরামর্শক।

ফিলিস্তিনিদের ভূমি ও ক্ষোভের স্বীকৃতি দিতে হবে! বারাক ওবামা

ইসরায়েলের গণহত্যা

গাজায় ধ্বংসস্তূপ থেকে ৭৫ মরদেহ উদ্ধার, একসঙ্গে জানাজা

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৬
গাজায় ধ্বংসস্তূপ থেকে ৭৫ মরদেহ উদ্ধার, একসঙ্গে জানাজা

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা ৭৫ ফিলিস্তিনিকে শেষ বিদায় জানানো হয়েছে রোববার।

দখলদার ইসরায়েলের চালানো হামলায় ভবন ধসে এসব মানুষ নিহত হয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে তারা সেগুলোর ভেতর পড়ে ছিলেন।

এখন এই মরদেহগুলো উদ্ধার করে একসঙ্গে সবার জানাজা পড়ে তাদের কবরস্থ করা হবে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গতকাল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গাজা সিটির দারাজ এলাকা থেকে ৭৫ ফিলিস্তিনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে গাজার সিভিল ডিফেন্সের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এখনও ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে পড়ে আছে প্রায় আট হাজার ফিলিস্তিনির মরদেহ।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় গণহত্যা শুরু করে দখলদাররা। তিন বছর ধরে চালানো তাদের হামলায় ফিলিস্তিনের এ উপত্যকায় ৭৪ হাজার ৪৬৯ জন নিহত এবং এক লাখ ৭৫ হাজার ৪৯২ জন আহত হয়েছেন।

ধারণা করা হয়, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এই সরকারি হিসাবের তুলনায় আসল নিহত ও আহতের সংখ্যা অনেক বেশি।

এবার সৌদিকে সামরিক সহায়তায় প্রস্তুত মিসর

প্রকাশ: রবিবার, অক্টোবর ১৮, ২০২৬
এবার সৌদিকে সামরিক সহায়তায় প্রস্তুত মিসর

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংঘাতের মধ্যে সৌদি আরবের তিন অঞ্চলে চারটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। এদিকে সৌদি আরবের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়লে দেশটিকে সুরক্ষা দিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছেন মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানান, কয়েক ঘণ্টার মধ্যে রিয়াদ, পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলে চারটি ড্রোন শনাক্ত করে সেগুলো ধ্বংস করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি হুথিদের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার পাশাপাশি তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকেন্দ্রে হামলার ভিডিও প্রকাশ করেন।

গত জুলাইয়ে হুথি বিদ্রোহী ও সৌদি সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের মধ্যে সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ার পর থেকে সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা বেড়েছে। এর মধ্যে রিয়াদের কিং খালিদ বিমানবন্দর অন্তত ২০ বার হামলার শিকার হয়েছে। গত সপ্তাহে বিমানবন্দরে চালানো একটি হামলায় ১৩ জন নিহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সদর দপ্তর এডেনের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হন। এ হামলার জন্য হুথিদের দায়ী করে ইয়েমেন সরকার।

শুক্রবার ইয়েমেন সরকার জানায়, হুথিরা এডেন বিমানবন্দর লক্ষ্য করে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। একই সময়ে সরকারি বাহিনী রাজধানী সানার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত মারিব প্রদেশে অগ্রসর হওয়ার দাবি করে।

সৌদি আরব ইয়েমেন সরকারের হুথিবিরোধী সামরিক অভিযান ‘ডন অব ইয়েমেন’-এ সমর্থন দিচ্ছে। পাশাপাশি রাজধানী সানার একটি তেল স্থাপনাসহ হুথিদের বিভিন্ন অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলাও চালিয়েছে দেশটি।

সৌদিকে সুরক্ষায় প্রস্তুত মিসর

শনিবার মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি বলেন, সৌদি আরবের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হলে দেশটিকে সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় যেকোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে কায়রো।

তিনি বলেন, আঞ্চলিক যুদ্ধে জড়ানোর কোনো ইচ্ছা মিসরের নেই। তবে সৌদি আরবের ক্ষতি করা হলে মিসর নীরব দর্শক হয়ে থাকতে পারে না।

আল-সিসি স্পষ্ট করেন, তার বক্তব্য কাউকে আক্রমণ করা বা কারও সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করার বিষয়ে নয়; বরং এটি কেবল প্রতিরক্ষার প্রশ্ন।

প্রেসিডেন্টের অনুরোধে রোববার মিসরের পার্লামেন্টে জরুরি অধিবেশন ডাকার কথা রয়েছে।

এদিকে সৌদি আরব অভিযোগ করেছে, হুথিদের সাম্প্রতিক উত্তেজনা বৃদ্ধিতে ইরান উৎসাহ জোগাচ্ছে। তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, সংঘাত নিরসনে একটি সমন্বিত রাজনৈতিক প্রক্রিয়াই একমাত্র বাস্তবসম্মত ও টেকসই পথ।

নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির মধ্যে সৌদি আরবে অবস্থিত কয়েকটি দেশের দূতাবাস নাগরিকদের ভ্রমণে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে এবং বিমানবন্দর ব্যবহার না করার বিষয়ে সতর্ক করেছে।

এ ছাড়া হুথিদের সাম্প্রতিক হামলার পরিপ্রেক্ষিতে রিয়াদ ও পার্শ্ববর্তী দিরিয়াহ অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের দূরশিক্ষণ কার্যক্রমের মেয়াদ বাড়িয়েছে সৌদি আরবের শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

২০৩০ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার ঘোষণা সিসির

প্রকাশ: রবিবার, অক্টোবর ১৮, ২০২৬
২০৩০ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার ঘোষণা সিসির

মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি ঘোষণা করেছেন, আগামী ২০৩০ সালেই শেষ হচ্ছে তার প্রেসিডেন্সির মেয়াদ। এই বিষয়টি নিয়ে কোনো রকম আলোচনার সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি পরিষ্কার করে জানিয়েছেন, দেশের সংবিধানেও আর কোনো পরিবর্তন আনা হবে না।

শনিবার মিসরীয় মিলিটারি একাডেমির সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ৭১ বছর বয়সী এই নেতা বলেন, ২০৩০ সালটি তাঁর মেয়াদের চূড়ান্ত সময় হিসেবে নির্ধারিত এবং বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে মীমাংসিত।

রাষ্ট্র পরিচালনায় দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে সক্ষম নেতৃত্ব তৈরি না হওয়া পর্যন্ত তিনি দেশের সেবায় নিয়োজিত থাকবেন উল্লেখ করে সিসি জানান, নতুন প্রজন্মের যোগ্য নেতা তৈরিতে কাজ করে যাচ্ছে মিসরীয় সামরিক একাডেমি।

২০১৩ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মিসরের প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করে সিসি ক্ষমতায় আসেন।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে মিসরের বিভিন্ন কারাগারে ৬০ হাজারের বেশি রাজনৈতিক বন্দি রয়েছেন, যাদের মধ্যে ১ হাজারের বেশি নারী।

এছাড়া চিকিৎসা অবহেলা ও মানবেতর পরিবেশের কারণে সাবেক প্রেসিডেন্ট মুরসি সহ একাধিক বিরোধী নেতার কারাগারে মৃত্যুর খবর উঠে এসেছে এসব সংস্থার প্রতিবেদনে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

সৌদিতে হুতিদের ‘বেপরোয়া’ হামলার তীব্র নিন্দা জানাল জাতিসংঘ

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ১৭, ২০২৬
সৌদিতে হুতিদের ‘বেপরোয়া’ হামলার তীব্র নিন্দা জানাল জাতিসংঘ

সৌদি আরবের ওপর ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের অব্যাহত ও ক্রমবর্ধমান হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। এসব হামলার মধ্যে সৌদি রাজধানী রিয়াদের বিমানবন্দরে চালানো ‘বেপরোয়া হামলাও’ রয়েছে।

বৃহস্পতিবার এক যৌথ বিবৃতিতে নিরাপত্তা পরিষদ এ নিন্দা জানায়। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চলতি মাসের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ২০ বার হামলা চালানো হয়েছে। গত সপ্তাহের শেষ দিকে চালানো একটি হামলায় ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হয়েছে।

নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতি ও গ্রিসের প্রতিনিধি ইভাঞ্জেলোস সেকেরিসের প্রকাশ করা যৌথ বিবৃতিতে ১৫ সদস্যের পরিষদ জানায়, সৌদি আরবের ওপর হুতিদের অব্যাহত ও ক্রমবর্ধমান হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হচ্ছে। একই সঙ্গে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাব প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হুতিদের ধারাবাহিক হামলা ও হুমকিরওদ তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী আত্মরক্ষার ক্ষেত্রে সৌদি আরবের নিজস্ব অধিকার রয়েছে বলে নিরাপত্তা পরিষদ নিশ্চিত করেছে।

বিমানবন্দরে হামলার পর বৃহস্পতিবার সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, তারা মদিনা অঞ্চলে একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। ইসলামের অন্যতম পবিত্র শহর মদিনায় হামলার এ খবর সামনে এলেও হুতিরা এর দায় অস্বীকার করেছে। গোষ্ঠীটি এর আগে একাধিকবার বলেছে, তারা ইসলামের পবিত্র স্থানগুলোতে হামলা চালাবে না।

এদিকে, বৃহস্পতিবার ইয়েমেনের অন্তর্বর্তী রাজধানী এডেনে দেশটির প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে হুতিরা। হামলায় প্রাসাদ চত্বরে অবস্থিত কমান্ড সেন্টারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব কেন্দ্র ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী এবং তাদের সমর্থনকারী সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ব্যবহার করত।

ইয়েমেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কাসিম বুহাইবেহ জানিয়েছেন, এ হামলায় পাঁচজন নিহত এবং ১৬ জন আহত হয়েছেন। নিহত ও আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ওই স্থানের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মী এবং বেসামরিক কর্মচারীরা রয়েছেন।

২০১৫ সাল থেকে ইয়েমেনের সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে চলা যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর গত সেপ্টেম্বরে দেশটিতে গৃহযুদ্ধ নতুন করে তীব্র হয়ে ওঠে।

হরমুজে ভাসছে আইফোন ও দামি পারফিউম, কোথা থেকে এলো এসব?

প্রকাশ: শুক্রবার, অক্টোবর ১৬, ২০২৬
হরমুজে ভাসছে আইফোন ও দামি পারফিউম, কোথা থেকে এলো এসব?
হরমুজ প্রণালিতে সাগরে ভাসতে দেখা গেছে আইফোন ও দামি পারফিউমের বোতল। ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মালিকানাধীন একটি পণ্যবাহী জাহাজ ডুবে যাওয়ার পর সাগরে ভাসতে দেখা গেছে আইফোন ও দামি পারফিউমের বোতল। বুধবার সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী কনটেইনারবাহী জাহাজ জিএফএস প্রাইড ডুবে যাওয়ার পর এসব পণ্য সংগ্রহ করতে ছোট নৌকা নিয়ে সাগরে নামতে দেখা যায় কয়েকজনকে।

জাহাজটি একটি ক্ষেপণাস্ত্র বা অন্য কোনও ধরনের প্রজেক্টাইলের আঘাতে ডুবে গেছে বলে জানিয়েছে সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ। তবে ইরানের দাবি, ‘জাহাজটি নৌমাইনের আঘাতে ডুবেছে’।

ইন্ডিয়া টুডে টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে ডুবে যাওয়া জাহাজের আশপাশে সাগরে ছড়িয়ে থাকা পণ্য ছোট নৌকায় সংগ্রহ করতে দেখা যায়। তবে ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি সংবাদমাধ্যমটি।

জাহাজটিতে আগুন ধরে যাওয়ার পর সেটি ডুবে যায়। সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জাহাজের ২১ জন নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় কেউ আহত হননি।

জিএফএস প্রাইডে দুবাই থেকে পরিবহন করা প্রায় ২ হাজার ৫০০ কনটেইনার পণ্য ছিল বলে জানা গেছে। এসব পণ্যের মধ্যে দামি পারফিউম ও আইফোনও ছিল।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) দাবি, নৌমাইনের আঘাতে জাহাজটি ডুবে গেছে। তবে সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ বলছে, অজ্ঞাত একটি প্রজেক্টাইলের আঘাতে জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়। জাহাজটি কীভাবে ডুবেছে, তা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে।

সূত্র: দ্য সিএস জার্নাল