বর্তমান বিশ্বে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের ভ্রমণ অভিজ্ঞতাকে আরও সহজ ও আনন্দদায়ক করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তথ্য খোঁজা বা ভাষা অনুবাদের গণ্ডি পেরিয়ে এখন ভিড় নিয়ন্ত্রণ, জরুরি সেবা প্রদান এবং পর্যটনকেন্দ্রের সার্বিক নিরাপত্তায় প্রযুক্তির বহুমুখী ব্যবহার লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
প্রযুক্তির নানা ব্যবহার ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট:
-
নিরাপত্তা ও যোগাযোগ: সিঙ্গাপুরে মানুষের চলাচল বিশ্লেষণ করে অতিরিক্ত ভিড় এড়ানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় ভাষা সংক্রান্ত বাধা দূর করতে এআই অনুবাদসেবা ও চ্যাটবট ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট ও বিশেষ মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে পর্যটকরা জরুরি সহায়তা ও দিকনির্দেশনা পাচ্ছেন।
-
ডিজিটাল অ্যাপ ও এআই যন্ত্র: থাইল্যান্ডে ট্যুরিস্ট পুলিশ ও পর্যটকদের মধ্যে যোগাযোগ সহজ করতে ডিজিটাল অ্যাপ ব্যবহার করা হচ্ছে। এমনকি কোনো পর্যটক বিপদে পড়লে এআই-সক্ষম পরিধানযোগ্য যন্ত্রের সাহায্যে কর্তৃপক্ষকে দ্রুত সতর্ক করা সম্ভব।
-
ভিড় ব্যবস্থাপনা: ইতালির ভেনিসে অতিরিক্ত পর্যটকদের চাপ ও চলাফেরা নিয়ন্ত্রণে ভিড় বিশ্লেষণ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।
-
ড্রোন নজরদারি: দুবাই, গ্রিস ও চীনের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র ও ঐতিহাসিক স্থানে আকাশপথে নিরাপত্তা ও নজরদারির কাজে ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে।
স্মার্ট পর্যটনের উত্থান ও বৈশ্বিক পরিবর্তন:
২০১৯ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বৈশ্বিক পর্যটনখাত মূলত চারটি ধাপ—কোভিড-পূর্ব শক্তিশালী অবস্থান, ২০২০ সালের মহামারীজনিত ধস, ২০২১-২৩ সালের দ্রুত পুনরুত্থান এবং ২০২৪ সাল থেকে মহামারী পূর্ববর্তী অবস্থাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয়েছে। এই পুনরুদ্ধারের সাথে সাথেই পর্যটনখাতে ডিজিটাল সেবা ও প্রযুক্তির ব্যবহার বহুগুণ বেড়ে গেছে।
বাংলাদেশের পর্যটন খাতের জন্য করণীয়:
বাংলাদেশের পর্যটন খাতের উন্নয়নেও প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার বাড়াতে হবে। পর্যটকদের নিরাপত্তা, সঠিক তথ্যপ্রাপ্তি, ভিড় ব্যবস্থাপনা এবং জরুরি সেবার মান উন্নত করতে আধুনিক প্রযুক্তির সংযোজন জরুরি। প্রশিক্ষিত জনবল এবং সুরক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করার মাধ্যমে দেশের পর্যটনকেন্দ্রগুলোকে আরও আকর্ষণীয় ও প্রতিযোগিতামূলক গন্তব্যে রূপান্তর করা সম্ভব।