১ নভেম্বর ২০২৬

মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তথ্য চেয়ে সৌদিকে চিঠি

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ১৭, ২০২৬
মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তথ্য চেয়ে সৌদিকে চিঠি

সৌদি আরবের পবিত্র মক্কায় মসজিদ এলাকায় ‘অনৈতিক’ কাজের দায়ে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বিষয়টি আগে জানত না বাংলাদেশ।

গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর বাংলাদেশ বিষয়টি জানতে পেরেছে। এরপর এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়ে সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে গতকাল বৃহস্পতিবার চিঠি দিয়েছে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট।

ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং জেদ্দায় বাংলাদেশ কলস্যুলেটের সূত্র গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছে।

শুক্রবার বিকেলে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের একটি সূত্র জানান, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আগে সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।

গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হওয়ার পরই বিষয়টি তাদের নজরে আসে। এরপর গতকাল জেদ্দার কনস্যুলেট থেকে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি পাঠিয়ে ঘটনার বিস্তারিত জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।

সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) গত বুধবার দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার তথ্য নিশ্চিত করে। জানা গেছে, মৃত্যদণ্ডে দণ্ডিত ব্যক্তিরা হলেন নজরুল ইসলাম ও সুইটি আখতার।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ জানিয়েছে, মক্কার একটি মসজিদে অনৈতিক ও অশালীন কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে সৌদি নিরাপত্তাবাহিনী তাদের গ্রেপ্তার করেছিল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক তদন্ত শেষে ওই দুজনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে আদালতে পাঠানো হয়। শরিয়াহ আইনের অধীনে ‘তাআজির’ অর্থাৎ বিচারকের স্বেচ্ছাধীন শাস্তির বিধানে আদালত তাঁদের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।

মসজিদের পবিত্রতা ক্ষুণ্ন করা এবং যে পরিস্থিতিতে অপরাধ ঘটেছে, তা বিবেচনায় নিয়েই বিচারক এ শাস্তি দেন বলে জানানো হয়েছে। পরে উচ্চতর বিচারিক কর্তৃপক্ষ রায় বহাল রাখলে তা চূড়ান্ত রূপ পায় এবং রাজকীয় আদেশে দণ্ড কার্যকর করার নির্দেশ জারি হয়।

সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে পবিত্র মসজিদের নিরাপত্তা রক্ষা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং ধর্মীয় পবিত্রতা লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে শরিয়াহ আইন কার্যকর করার বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে পবিত্র স্থানে এ ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি হলে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

সৌদি আরব থেকে বেসরকারি সূত্রে জানা গেছে, কয়েক মাস ধরে জেদ্দার আদালতে বিচারপ্রক্রিয়া চলছিল। আর বিচারপ্রক্রিয়া চলার সময় বাংলাদেশের দুজন বিশিষ্ট নাগরিক দোভাষী হিসেবে সহযোগিতা করেছেন।

প্রসঙ্গত কনস্যুলার সম্পর্কবিষয়ক ভিয়েনা সনদে পক্ষভুক্ত বাংলাদেশ ও সৌদি আরব দুই দেশই। সনদের ৩৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো দেশের নাগরিক বিদেশে গ্রেপ্তার হলে বন্দীর অনুরোধে আটককারী দেশকে অবিলম্বে তার দেশের কনস্যুলেটকে জানাতে হয় এবং কনস্যুলার সহায়তার সুযোগ দিতে হয়। এ ক্ষেত্রে বন্দীরা কনস্যুলেটকে জানানোর অনুরোধ করেছিলেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা বলছেন, সৌদি কর্তৃপক্ষ দুই বাংলাদেশিকে আটক করে খুব দ্রুত মৃত্যদণ্ড কার্যকর করেছে, এমনটা হওয়ার কথা নয়। এখন আটক দুজনের পক্ষে কেউ মিশনে যোগাযোগ করল না কেন, সেটাও রহস্যজনক।

নিহত দুজনের সৌদি আরবে অবস্থানের ধরন ও মেয়াদ, বিচারে কোনো আইনি সহায়তা বা আপিলের সুযোগ নেওয়া হয়েছিল কি না, এসব বিষয়েও এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

সূত্র: প্রথম আলো

২৫টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার জিতে বিশ্বমঞ্চে চমক দেখালো কাতারি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র 'সনদ'

দুই ভাইয়ের ভালোবাসার গল্পে নির্মিত ‘সনদ’: ঢাকা থেকে লন্ডন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত কাতারি চলচ্চিত্র
প্রকাশ: রবিবার, নভেম্বর ০১, ২০২৬
২৫টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার জিতে বিশ্বমঞ্চে চমক দেখালো কাতারি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র 'সনদ'

দুই ভাইয়ের খুনসুটি, প্রতিযোগিতা এবং অমলিন ভালোবাসার গল্প নিয়ে নির্মিত কাতারি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘সনদ’ (SANAD) বিশ্বমঞ্চে এক অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে। কাতারি প্রখ্যাত নির্মাতা নূর আল-নাসর (Noor al-Nasr) পরিচালিত এই ছবিটি এ পর্যন্ত বিশ্বের ৫০টি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়ে ২৫টি মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার ঝুলিতে পুরেছে।

লন্ডন থেকে ঢাকা: বিশ্বজুড়ে প্রশংসার জোয়ার

কাতারি এই স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটি লন্ডনের ‘লন্ডন ইন্ডিপেন্ডেন্ট ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডস’ এবং সুইডেনের ‘সুইডেন ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডস’-এ সেরা স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র (Best Short Film) হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছে। পাশাপাশি ইতালির ‘মিলানো ইন্ডি মুভি অ্যাওয়ার্ডস’-এ লাভ করেছে সেরা চিত্রনাট্যের (Best Screenplay) পুরস্কার।

এছাড়া ঐতিহ্যবাহী সারায়েভো ফিল্ম ফেস্টিংভাল, মেক্সিকোর গুয়ানাহুয়াতো ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিংভাল এবং বাংলাদেশের ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের (Dhaka International Film Festival) পর্দায় প্রদর্শিত হয়ে আন্তর্জাতিক দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে এটি। নিজ দেশ কাতারেও এটি জনপ্রিয় ‘আজয়াল ফিল্ম ফেস্টিংভাল’-এ অফিসিয়ালি নির্বাচিত ও প্রদর্শিত হয়।

কী গল্প বলছে ‘সনদ’?

আরবি ‘সনদ’ শব্দটির অর্থ হলো ‘আস্থা বা ভরসার জায়গা’— যে প্রতিকূল সময়ে পাশে এসে দাঁড়ায়। ছবির মূল গল্পটি আবর্তিত হয়েছে আলী ও জসিম নামের দুই ভাইয়ের সম্পর্কের গল্প ঘিরে।

একটি সামান্য ও নির্দোষ প্র্যাংক বা কৌতুক কীভাবে আস্তে আস্তে প্রতিশোধের খেলায় রূপ নেয় এবং শেষপর্যন্ত এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা তাদের রক্তের সম্পর্ককে কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলে দেয়— তা-ই এতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। হাস্যরস, টানটান উত্তেজনা এবং আবেগের মিশেলে নির্মিত চলচ্চিত্রটি তুলে ধরেছে যে ভাইয়ে-ভাইয়ে যত দ্বন্দ্বই থাকুক না কেন, বিপদের দিনে ভাইয়ের নিরাপত্তায় এগিয়ে আসাই মূল স্তম্ভ।

পরিচালকের অনুভূতি

পরিচালক নূর আল-নাসর বলেন, “আমি সবসময় সাধারণ মানুষের জীবনের গল্পগুলোকে ভিন্ন কোণ থেকে দেখতে পছন্দ করি। ‘সনদ’-এর মাধ্যমে আমি ভাই-বোনের পারস্পরিক রাগ-অনুরাগ ও প্রতিযোগিতার পাশাপাশি একে অপরকে রক্ষা করার সুপ্ত মানসিকতাটি ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছি।”

তিনি আরও যোগ করেন, “এই অর্জন পুরো টিমের। ছবির দক্ষ অভিনয়শিল্পী, ক্রু সদস্য এবং দোহা ফিল্ম ইনস্টিটিউট (DFI)-এর অসামান্য সমর্থন ও উৎসাহের জন্যই আজ বিশ্বজুড়ে এই গল্পটি এত মানুষের হৃদয়ে পৌঁছাতে পেরেছে।”

‘সনদ’-এর এই বিপুল আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি কাতারি চলচ্চিত্র শিল্প ও গল্প বলার ধারাকে বিশ্বমঞ্চে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল।

কাতারি প্রতিনিধিদের সাথে দোহায় পৌঁছাল ইরানি প্রতিনিধিদল

প্রকাশ: রবিবার, নভেম্বর ০১, ২০২৬
কাতারি প্রতিনিধিদের সাথে দোহায় পৌঁছাল ইরানি প্রতিনিধিদল

তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার পরোক্ষ আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতির পর কাতারের রাজধানী দোহায় পৌঁছেছে এক ইরানি প্রতিনিধিদল। কাতারের একটি সংবাদপত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

আল-আরাবি আল-জাদিদের প্রতিবেদনে এক ইরানি সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির একজন উপপ্রতিনিধিসহ পুরো প্রতিনিধিদলটি কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে যোগাযোগের সুবিধা নিশ্চিত করতে দোহায় অবস্থান করছে।

তেহরানে কাতারি প্রতিনিধিদলের নিবিড় আলোচনার পরই এই সাফল্য আসে, যার ভিত্তিতে ইরানি আলোচক দল কাতারি প্রতিনিধিদের সঙ্গেই দোহায় ফিরে যায়। সংবাদমাধ্যমটিকে ওই ইরানি সূত্র নিশ্চিত করেছে, মার্কিন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা কোনও সরাসরি প্রক্রিয়ায় নয়, বরং মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে পরোক্ষভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

কাতার ও পাকিস্তানের যৌথ মধ্যস্থতা প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবগত সূত্রগুলো জানিয়েছে, দোহায় এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় একটি মার্কিন প্রতিনিধিদলও যোগ দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। এমনকি দোহায় পৌঁছানোর পর মার্কিন প্রতিনিধিদলটি ইরানি আলোচকদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সম্ভাব্য সমঝোতার আওতায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল এবং তেহরানের জন্য আর্থিক প্রণোদনা সংক্রান্ত প্রাথমিক বিষয়াবলীতে ঐকমত্য হতে পারে, যা উভয় পক্ষকে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা পুনরারম্ভের পথ দেখাবে।

এ ছাড়া এই চুক্তির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে চীন ও রাশিয়া গ্যারান্টার হিসেবে ভূমিকা রাখবে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

নভেম্বর ২০২৬-এর জন্য জ্বালানি তেলের নতুন দর ঘোষণা কাতার এনার্জির

প্রকাশ: রবিবার, নভেম্বর ০১, ২০২৬
নভেম্বর ২০২৬-এর জন্য জ্বালানি তেলের নতুন দর ঘোষণা কাতার এনার্জির

কাতারের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি সংস্থা 'কাতারএনার্জি' (QatarEnergy) নভেম্বর ২০২৬ মাসের জন্য জ্বালানি তেলের নতুন বাজারদর ঘোষণা করেছে।

নতুন নির্ধারিত এই তালিকায় দেখা গেছে, চলতি মাসে প্রিমিয়াম পেট্রোল, সুপার পেট্রোল এবং ডিজেলের দামে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি; অর্থাৎ অক্টোবর মাসের দরই অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

নভেম্বর ২০২৬ মাসের জ্বালানি তেলের নির্ধারিত মূল্য:

  • প্রিমিয়াম পেট্রোল (91): ১.৯৫ কাতারি রিয়াল (প্রতি লিটার)

  • সুপার পেট্রোল (95): ২.১০ কাতারি রিয়াল (প্রতি লিটার)

  • ডিজেল: ২.০৫ কাতারি রিয়াল (প্রতি লিটার)

মাসের প্রথম দিন থেকেই কাতারের সমস্ত ফিলিং স্টেশন বা পেট্রোল পাম্পগুলোতে এই নতুন মূল্যে জ্বালানি তেল বিক্রি শুরু হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের মূল্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে কাতারএনার্জি প্রতি মাসের শেষে পরবর্তী মাসের জন্য জ্বালানির মূল্য নির্ধারণ করে থাকে।

পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক নগর উন্নয়নে কাতারের আশগাল-এর বড় মেগা প্ল্যান

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ৩১, ২০২৬
পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক নগর উন্নয়নে কাতারের আশগাল-এর বড় মেগা প্ল্যান

প্রতি বছরের ন্যায় আজ ৩১ অক্টোবর বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব শহর দিবস ২০২৬’ (World Cities Day 2026)। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— “শহরের পুনরুজ্জীবন: সবার জন্য উপযুক্ত আবাসন”।

দ্রুত নগরায়ণ ও দূরদর্শী আবাসন পরিকল্পনার সাথে সামঞ্জস্য রেখে কাতারের জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে দেশজুড়ে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ এবং সম্প্রসারণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে কাতার গণপূর্ত কর্তৃপক্ষ আশগাল।

আবাসিক এলাকাগুলোর ব্যাপক আধুনিকায়ন

আশগালের প্রজেক্ট অ্যাফেয়ার্স ডিরেক্টর প্রকৌশলী খালিদ সাইফ আল-খায়ারীন কাতার নিউজ এজেন্সিকে জানিয়েছেন, কাতারের বিভিন্ন আবাসন অঞ্চলগুলোতে নিরাপদ ও উন্নত পরিবেশ তৈরিতে কাজ করছে সংস্থাটি।

বর্তমানে ওয়েস্ট উম্মে সালাল, আল ইব, আল সুমামা, আল ওয়াব, আল মেশাফ, আল মামুরা, দক্ষিণ-পশ্চিম মুয়াইদার, আল খারাইতিয়াত এবং রওজাত আল হামামাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে নতুন ও পুরোনো সড়ক উন্নয়ন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা স্থাপন এবং পাবলিক সার্ভিস আধুনিকায়নের কাজ জোরকদমে চলছে।

টেকসই উন্নয়ন ও সবুজ প্রযুক্তি ব্যবহারের মূল ক্ষেত্রসমূহ:

স্থানীয় কাঁচামালের ব্যবহার: আশগালের অবকাঠামো প্রকল্পে ব্যবহৃত সামগ্রীর ৭৫ শতাংশেরই যোগান দেওয়া হচ্ছে স্থানীয় দেশীয় শিল্প থেকে, যা আমদানি নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করছে।

পুনর্ব্যবহার ও সৌরশক্তি: নির্মাণকাজে তোলাপাথর, কংক্রিট ও অ্যাসফল্ট পুনর্ব্যবহার (Recycle) করা হচ্ছে এবং প্রজেক্ট সাইট ও সাইনবোর্ডে ব্যাপকভাবে সৌরশক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়েছে।

পানি ব্যবস্থাপনা: বৃষ্টির পানি জমার সমস্যা সমাধানে ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক ও পাম্পিং স্টেশনগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ অতিরিক্ত পানি উন্নয়ন কাজে পুনরায় ব্যবহার করা হচ্ছে।

নিরাপদ পদচারণ ও সাইকেলিং: নাগরিক জীবনে সুস্থ অভ্যাসের অংশ হিসেবে এলাকাগুলোতে নিরাপদে হাঁটার পথ, সাইকেল ট্র্যাক ও সবুজ পার্ক তৈরি করা হচ্ছে।

আগামী ৫ বছরে ৩৩ হাজার প্লটে উন্নয়ন প্রকল্প

‘কাতার ন্যাশনাল ভিশন ২০৩০’-এর লক্ষ্য অর্জনে আগামী পাঁচ বছরে আরও বড় পরিসরে কাজ শুরু করতে যাচ্ছে আশগাল।

আগামী ৫ বছরের মহাপরিকল্পনার আওতায় নাগরিকদের জন্য বরাদ্দকৃত প্রায় ৩৩,০০০ আবাসিক প্লটে সুনির্দিষ্ট নাগরিক সুবিধা ও সংযোগ সড়ক নিশ্চিত করতে ৩০টিরও বেশি মেগা রোড ও অবকাঠামো প্রজেক্টের দরপত্র (Tender) আহ্বান করা হবে। কাজের গতি বৃদ্ধি ও নির্ভুল নগর পরিকল্পনার জন্য আশগাল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার বাড়াচ্ছে।

মার্কিন-ইরান সংঘাত এড়াতে তেহরানে কাতারি প্রতিনিধি দল

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ৩১, ২০২৬
মার্কিন-ইরান সংঘাত এড়াতে তেহরানে কাতারি প্রতিনিধি দল

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা যখন আবার নতুন করে চরম রূপ নেওয়ার আশঙ্কায়, ঠিক তখনই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান বরফ গলাতে তৎপর হয়ে উঠেছে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো। ওয়াশিংটন-তেহরান শান্তি আলোচনা নতুন করে শুরুর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এবার ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করতে তেহরানে পৌঁছেছে কাতারের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ইরনা শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) কাতারি প্রতিনিধিদলের এ তেহরান সফরের খবরটি নিশ্চিত করেছে। কাতারের প্রধানমন্ত্রীর একজন জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা প্রতিনিধিদলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তারা মূলত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি বর্তমান সংবেদনশীল আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে ইরানের নীতি নির্ধারকদের সঙ্গে বিশদ আলোচনা করছেন।

গত কয়েকদিনে আরও কয়েকটি দেশের শীর্ষ কর্মকর্তারা ইরানের রাজধানী সফর করেছেন। ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের কাছ থেকে পাঠানো একটি বার্তা পেয়েছে তেহরান। চিঠিটি মূলত ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মহসিন রেজাইয়ের উদ্দেশে পাঠানো হয়।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, চিঠিতে এখনই কোনো সরাসরি শান্তিচুক্তির শর্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়নি। বরং ভবিষ্যতে কীভাবে আলোচনার টেবিলে বসা যায় বা আলোচনার একটি সম্ভাব্য কাঠামো কেমন হতে পারে, সেটার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ‘দ্য নিউইয়র্ক টাইমস’ জানায়, ভ্যান্স গত সপ্তাহে কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে এ বিশেষ যোগাযোগের উদ্যোগ নেন এবং চিঠিটি সফলভাবে জেনারেল মহসdন রেজাইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

চলতি বছরের এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নের পর থেকে শান্তি আলোচনাকে গতিশীল রাখতে কাতার ও পাকিস্তান জোর চেষ্টা চালিয়ে আসছে। ইরানি এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবারও কাতারের একটি প্রতিনিধিদল তেহরানে অবস্থান করে পরিস্থিতি মূল্যায়নের কাজ করেছিল।

এমনকি গত মঙ্গলবার মস্কোয় একটি বৈঠকের ফাঁকে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা করেন।

শুধু কাতারই নয়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চলতি সপ্তাহে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাও তেহরানে এসে ধারাবাহিক বৈঠক করেছেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সম্প্রতি আগস্টে মক্কায় একটি প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল এই তিন দেশ।

তবে পরিস্থিতি এখনও বেশ জটিল। যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ইরানের বন্দরগুলোতে কঠোর অবরোধ আরোপ করে রেখেছে, যা দেশটির তেল রপ্তানি ও সার্বিক আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে চরম সংকটে ফেলেছে। তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, বিশ্ববাজারের জন্য হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দিতে হলে ওয়াশিংটনকে সাতটি সুনির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি, বিভিন্ন দেশে আটকে থাকা ইরানের জাতীয় সম্পদ অবমুক্ত করা, দেশটির তেল খাতের ওপর থেকে আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া।

সূত্র: আল জাজিরা