১ নভেম্বর ২০২৬

প্রকাশ্যে এল মক্কা চুক্তির মূল দলিল, কী আছে এতে

প্রকাশ: বুধবার, অক্টোবর ২১, ২০২৬
প্রকাশ্যে এল মক্কা চুক্তির মূল দলিল, কী আছে এতে

সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে সাক্ষরিত মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির মূল পাঠ পার্লামেন্টে পেশ করেছে আঙ্কারা। তুরস্কের সরকার গতকাল মঙ্গলবার মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির মূল পাঠটি দেশটির পার্লামেন্ট পেশ করে। লন্ডন থেকে প্রকাশিত মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এই চুক্তির মূল পাঠের তথ্য প্রকাশ করেছে।

তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তান গত আগস্টে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। এর মাধ্যমে একটি নতুন আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা জোট তৈরি হয়, যা স্বাক্ষরকারী দেশগুলোকে একে অপরের সুরক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ করে। অনেকটা ন্যাটোর অনুচ্ছেদ ৫ এর মতো।

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির মূল পাঠে কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা অঞ্চলকে সরাসরি হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। তবে জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে, জোটভুক্ত কোনো দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব বা আঞ্চলিক অখণ্ডতার ওপর সশস্ত্র হামলা হলে অন্য অংশগ্রহণকারী দেশগুলো একে অপরকে সাহায্য করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে।

চুক্তির প্রথম অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘যদি কোনো ‘পক্ষের’ আঞ্চলিক অখণ্ডতা, সার্বভৌমত্ব বা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমানা হুমকি বা বিপদের মুখে পড়ে, তবে ‘পক্ষগুলো’ সেই হুমকি বা বিপদ দূর করতে প্রয়োজনীয় সব পথ অবলম্বন করবে।’ ২ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘বাইরে থেকে কোনো ‘পক্ষের’ ওপর সশস্ত্র হামলা চালানো হলে তা সব ‘পক্ষের’ ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে।’ একই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, “যদি কোনো একটি ‘পক্ষ’ অন্য কোনো দেশ বা জোটের মাধ্যমে সশস্ত্র হামলা বা সামরিক আগ্রাসনের শিকার হয়, তবে অন্য ‘পক্ষগুলো’ তাৎক্ষণিকভাবে আক্রান্ত দেশকে সাহায্য করবে এবং একে অপরকে দেওয়ার মতো সব ধরনের সহযোগিতার সর্বোচ্চ ব্যবহার করবে।”

এই অনুচ্ছেদে আরও বলা হয়, কী পরিমাণ ও কেমন সাহায্য প্রয়োজন—তা একটি নিরপেক্ষ মূল্যায়নের মাধ্যমে ঠিক করা হবে। এরপর দেশগুলো তাদের সাধ্যের মধ্যে থাকা সামরিক ক্ষমতা ও প্রয়োজনীয় সম্পদ দিয়ে একে অপরকে সহযোগিতা করবে।

এ ছাড়া, প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়ন, সশস্ত্র বাহিনীর প্রশিক্ষণ এবং একে অপরকে সামরিক সরঞ্জাম, জ্বালানি ও অন্যান্য প্রতিরক্ষা উপকরণ সরবরাহের ক্ষেত্রে সহযোগিতার কথা বলা হয়েছে এতে। গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের জন্য একটি ফ্রেমওয়ার্ক বা কাঠামো তৈরির বিধানও এই চুক্তিতে রাখা হয়েছে।

১৬টি অনুচ্ছেদবিশিষ্ট এই চুক্তির নির্দিষ্ট কোনো মেয়াদ বা সমাপ্তির তারিখ নেই। চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর অন্তত ১০ বছর পার হলে তবেই কোনো দেশ এতে থেকে নাম প্রত্যাহার করতে পারবে। তবে এর জন্য অন্য দেশগুলোকে অন্তত তিন মাস আগে লিখিতভাবে নিজের ইচ্ছার কথা জানাতে হবে।

নিচে চুক্তিটির পুরো পাঠ দেওয়া হলো

এই চুক্তির পক্ষগুলো হলো তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরব। একে অপরের সার্বভৌমত্বের প্রতি পারস্পরিক সম্মান, জাতিসংঘ সনদের নীতিসমূহ, আন্তর্জাতিক আইন এবং নিজ নিজ দেশের বিদ্যমান আইনের মূল নীতিগুলোকে বিবেচনায় রেখে; এবং প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব সম্পর্কিত বিদ্যমান সহযোগিতা, সমন্বয় ও সংহতকরণ ব্যবস্থাকে একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে রূপান্তর করতে সম্মত হয়ে,

যৌথ স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে ‘পক্ষগুলোর’ নিজেদের মধ্যে সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার ইচ্ছা পুনর্ব্যক্ত করে, যা তাদের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যকার পারস্পরিক কাজের সক্ষমতা, প্রস্তুতি ও কার্যকারিতা বৃদ্ধি করবে এবং এর মাধ্যমে ‘পক্ষগুলো’ ও তাদের জনগণের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করবে,

একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, সার্বভৌম সমতা, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমানার পবিত্রতা রক্ষার নীতিগুলোর গুরুত্ব আবারও নিশ্চিত করে এবং ঘোষণা করে যে, কোনো পক্ষের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার ওপর সশস্ত্র হামলা হলে পারস্পরিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জরুরি,

আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যৌথ প্রচেষ্টা ও সমন্বয়ের গুরুত্বের কথা প্রকাশ করে,

সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় ‘পক্ষগুলোর‘ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যকার বিদ্যমান সহযোগিতা আরও গভীর করার ইচ্ছা প্রকাশ করে,

আন্তর্জাতিক বিষয়ে অভিন্ন অবস্থান নেওয়ার লক্ষ্যে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে ‘পক্ষগুলোর‘ মধ্যকার বিদ্যমান সহযোগিতা জোরদার করার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে,

‘পক্ষগুলোর’ মধ্যে প্রতিরক্ষা ও প্রতিরক্ষা-শিল্পের সহযোগিতা আরও বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে,

নিম্নলিখিত বিষয়গুলোতে সম্মত হয়েছে

অনুচ্ছেদ ১

‘পক্ষগুলো’ একে অপরের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমানার পবিত্রতা নিশ্চিত ও রক্ষা করতে একে অপরকে সহযোগিতা করবে। যদি কোনো ‘পক্ষের’ আঞ্চলিক অখণ্ডতা, সার্বভৌমত্ব বা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমানা হুমকির মুখে পড়ে বা বিপন্ন হয়, তবে ‘পক্ষগুলো’ সেই হুমকি বা বিপদ দূর করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

অনুচ্ছেদ ২

বাইরে থেকে কোনো ‘পক্ষের’ ওপর সশস্ত্র আক্রমণ হলে তা সব ‘পক্ষের’ ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচিত হবে। যদি কোনো ‘পক্ষ’ অন্য কোনো দেশ বা একাধিক দেশের মাধ্যমে সশস্ত্র আক্রমণ বা সামরিক আগ্রাসনের শিকার হয়, তবে অন্য ‘পক্ষগুলো’ তাৎক্ষণিকভাবে আক্রান্ত ‘পক্ষকে’ সাহায্য করবে এবং একে অপরকে দেওয়া যায় এমন সব ধরনের সহায়তার পুরো ব্যবহার নিশ্চিত করবে। এই উদ্দেশ্যে, জাতিসংঘ সনদের ৫১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আত্মরক্ষার অধিকার বাস্তবায়নের জন্য সাহায্য চাওয়ার পর একটি নিরপেক্ষ মূল্যায়নের মাধ্যমে সহায়তার পরিধি ও ধরণ নির্ধারণ করা হবে। ‘পক্ষগুলো’ তাদের সামরিক সক্ষমতা ও অন্যান্য সম্পদসহ উপলব্ধ সব উপায়ের মধ্য থেকে সহযোগিতা করবে।

অনুচ্ছেদ ৩

এই চুক্তির ২ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ‘পক্ষগুলো‘ প্রতিরক্ষা, প্রতিরক্ষা শিল্প এবং নিরাপত্তা ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে; নিজ নিজ সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে সম্পর্ক বাড়াবে এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার করার জন্য সম্মত হওয়া বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

অনুচ্ছেদ ৪

চুক্তিতে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো (পক্ষগুলো) আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিষয়ে নিয়মিত আলোচনা করবে। তারা নিজ নিজ এবং যৌথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা করতে এবং যে কোনো হুমকি ও বিপদ দূর করতে সাধারণ মূল্যায়নের ভিত্তিতে পারস্পরিক সহায়তার ধারা বজায় রাখবে।

অনুচ্ছেদ ৫

আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর সব ধরনের সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় দেশগুলো কৌশলগত ও মাঠপর্যায়ে বিদ্যমান সহযোগিতা আরো জোরদার করবে।

অনুচ্ছেদ ৬

প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে যুদ্ধ ও শান্তি—উভয় সময়েই দেশগুলো তাদের সামরিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কর্মী বিনিময়, যৌথ প্রশিক্ষণ, যৌথ মহড়া এবং সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বিতভাবে কাজ করার ক্ষমতা বাড়ানোর কার্যক্রম উৎসাহিত করবে।

অনুচ্ছেদ ৭

প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে প্রযুক্তি ভাগাভাগি, যৌথ প্রযুক্তি উন্নয়ন, যৌথ উৎপাদন এবং নিম্নোক্ত ক্ষেত্রগুলোতে প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলোর মধ্যে সহযোগিতায় সাহায্য করা হবে—

ক) প্রতিরক্ষা খাতে যৌথ উৎপাদনকে উৎসাহিত করা।

খ) বিশেষ দক্ষতার প্রয়োজন হয় এমন প্রযুক্তিতে যৌথ গবেষণা ও উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা উদ্ভাবন বাস্তবায়ন করা।

গ) অংশগ্রহণকারী যে কোনো দেশের বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে অন্য দেশের ভূখণ্ডে সামরিক শিল্পের প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেওয়া।

ঘ) প্রতিরক্ষা শিল্প, গবেষণা, উন্নয়ন ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা ও অর্জিত শিক্ষা বিনিময় করা।

ঙ) পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে গৃহীত অন্যান্য ক্ষেত্র।

অনুচ্ছেদ ৮

১. চুক্তি বাস্তবায়নে কৌশলগত দিকনির্দেশনা দেওয়া, নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানো এবং বাধা দূর করতে প্রধান দেশগুলো (কোর পার্টিস) একটি ‘কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটি’ গঠন করবে। এতে সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং সেনাপ্রধানগণ থাকবেন। এই কমিটির বৈঠক বছরে দুবার অনুষ্ঠিত হবে এবং দেশগুলো পর্যায়ক্রমে আয়োজক হবে। প্রয়োজন মনে করলে দেশগুলোর শীর্ষ নেতারা বছরে একবার বৈঠক করতে পারেন।

২. প্রয়োজন মনে করলে এই কমিটি সাব-কমিটি গঠন করতে পারবে।

৩. চুক্তির বিষয়গুলো বাস্তবায়নে প্রয়োজন অনুযায়ী দেশগুলোর মধ্যে আলাদা চুক্তি বা প্রোটোকল সই হতে পারে।

৪. প্রধান দেশগুলোর সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে নতুন কোনো দেশের এই চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার নিয়ম ও নীতি নির্ধারণের ক্ষমতা কমিটির থাকবে।

৫. কমিটির কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সৌদি আরবে একটি স্থায়ী সচিবালয় থাকবে। সচিবালয় পরিচালন সংক্রান্ত নিয়ম, কাঠামো ও মূল নীতিগুলো পরে প্রধান দেশগুলোর সর্বসম্মতিতে ঠিক করা হবে।

৬. সচিবালয়ের প্রধান হবেন একজন মহাসচিব, যিনি তিন বছরের মেয়াদে প্রধান দেশগুলোর মধ্যে পর্যায়ক্রমে নিযুক্ত হবেন। প্রথম মহাসচিব হবেন পাকিস্তান ইসলামী প্রজাতন্ত্রের একজন নাগরিক।

৭. এই অনুচ্ছেদের নিয়মগুলো দেশগুলোর মধ্যে বিদ্যমান অন্যান্য সামরিক সহযোগিতা কমিটির কাজে কোনো প্রভাব ফেলবে না।

অনুচ্ছেদ ৯

গোয়েন্দা সহযোগিতা আরো গভীর করতে তথ্য নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা মেনে দেশগুলো নির্ধারিত নিরাপদ মাধ্যমে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করবে।

অনুচ্ছেদ ১০

সরঞ্জাম ও রসদ সহায়তার প্রাপ্যতা ও উপযোগীতার ওপর ভিত্তি করে যুদ্ধ, শান্তি কিংবা জরুরি পরিস্থিতিতে দেশগুলো একে অপরকে অস্ত্র, গোলাবারুদ, জ্বালানি, খুচরা যন্ত্রাংশসহ প্রয়োজনীয় রসদ সহায়তা দেবে।

মক্কা চুক্তি: নয়া আঞ্চলিক নিরাপত্তার সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ

অনুচ্ছেদ ১১

আন্তর্জাতিক আইন এবং দেশগুলোর নিজস্ব অভ্যন্তরীণ আইন বজায় রেখে, দেশগুলো এই চুক্তিকে বাস্তবায়নের আইনি ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত আইনি ব্যবস্থার প্রস্তাব করবে।

অনুচ্ছেদ ১২

এই চুক্তিটি দেশগুলোর পূর্বে করা অন্যান্য আন্তর্জাতিক চুক্তির অধিকার বা বাধ্যবাধকতার ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না।

অনুচ্ছেদ ১৩

১. এই চুক্তির মাধ্যমে পাওয়া সমস্ত গোপন তথ্য ও দলিলের গোপনীয়তা দেশগুলো রক্ষা করবে এবং জাতীয় আইন মেনে চলবে।

২. এসব গোপন তথ্য ও দলিল অন্য কোনো রাষ্ট্র, কোম্পানি বা ব্যক্তির সাথে শেয়ার করা যাবে না।

৩. কেবল যাদের জানা জরুরি (নিড-টু-নো) এবং যাদের উপযুক্ত নিরাপত্তা ছাড়পত্র আছে, তারাই এসব গোপন তথ্য দেখার সুযোগ পাবেন।

অনুচ্ছেদ ১৪

এই চুক্তির ব্যাখ্যা বা বাস্তবায়ন নিয়ে কোনো বিরোধ দেখা দিলে তা দেশগুলোর মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করা হবে।

অনুচ্ছেদ ১৫

প্রধান দেশগুলোর সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত ও আলোচনার মাধ্যমে এই চুক্তি সংশোধন করা যাবে।

অনুচ্ছেদ ১৬

১. নিজ নিজ দেশের আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী চুক্তিটি অনুমোদিত হতে হবে। সচিবালয়ে চূড়ান্ত অনুমোদনের দলিল জমা দেওয়ার দিন থেকে চুক্তিটি কার্যকর হবে।

২. এই চুক্তি অনির্দিষ্টকালের জন্য কার্যকর থাকবে।

৩. চুক্তি কার্যকর হওয়ার ১০ বছর পর, যেকোনো দেশ কূটনৈতিক মাধ্যমে অন্তত ৩ মাস আগে লিখিত নোটিশ দিয়ে বের হয়ে যেতে (অব্যাহতি নিতে) পারবে।

৪. চুক্তির সমাপ্তি বা কোনো দেশের বের হয়ে যাওয়া—পূর্বে গৃহীত ও চলমান কোনো প্রকল্প বা কার্যক্রমকে প্রভাবিত করবে না।

৫. গোপন তথ্য সুরক্ষার দায়িত্ব চুক্তি শেষ হওয়ার পরও বজায় থাকবে।

ক্রিপ্টো ইতিহাসের সবচেয়ে বড় হ্যাক: বাইন্যান্স থেকে ৬৩৬ কোটি ডলার চুরি

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ৩১, ২০২৬
ক্রিপ্টো ইতিহাসের সবচেয়ে বড় হ্যাক: বাইন্যান্স থেকে ৬৩৬ কোটি ডলার চুরি

বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ বাইন্যান্স থেকে ৬৩৬ কোটি ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরি করেছে হ্যাকাররা। বিশ্লেষকদের মতে, ক্রিপ্টোকারেন্সির ইতিহাসে এটি সবচেয়ে বড় হ্যাকের ঘটনা। এ ঘটনায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ডিজিটাল সম্পদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ব্লকচেইন বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান টিআরএম ল্যাবস ও চেইন্যালাইসিসের দাবি অনুযায়ী, এ হামলার পেছনে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা জড়িত। টিআরএম ল্যাবস জানিয়েছে, ১০টি ব্লকচেইনে থাকা বাইন্যান্সের বিভিন্ন ওয়ালেট লক্ষ করে হামলা চালানো হয়। মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে চুরি হওয়া অর্থের বেশিরভাগ সরিয়ে নেয় হামলাকারীরা। এ ঘটনায় সব লেনদেন স্থগিত রাখা হয়েছে।

বাইন্যান্স জানিয়েছে, বিভিন্ন অংশীদার প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় চুরি হওয়া সম্পদের মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০০ কোটি ডলার জব্দ করা সম্ভব হয়েছে। বাকি ৩৩০ কোটি ডলারের বিষয়ে কিছু জানায়নি প্রতিষ্ঠানটি। তবে বাইন্যান্সের সহপ্রতিষ্ঠাতা ই হে বলেছেন, হ্যাকিংয়ের কারণে হওয়া সব ক্ষতির দায় নেবে এক্সচেঞ্জটি।

বাইন্যান্স থেকে ৬৩৬ কোটি ডলার চুরির নেপথ্যে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা!

বাইন্যান্স আরও জানিয়েছে, গ্রাহকদের জমা রাখা অর্থ এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আবারও অর্থ উত্তোলনের সেবা চালু করার আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি। টিআরএম ল্যাবস বলছে, হামলার ধরন ও কৌশলের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার সংশ্লিষ্ট আগের কয়েকটি সাইবার হামলার মিল রয়েছে।

এর মধ্যে ২০২৫ সালে ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ বাইবিটে চালানো হামলার কথাও রয়েছে। ওই হামলার জন্য উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই। এক বিবৃতিতে টিআরএম ল্যাবস বলেছে, উত্তর কোরিয়ার সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তাদের মূল্যায়ন উচ্চ মাত্রায় নিশ্চিত। তবে এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে রয়টার্সের পক্ষ থেকে জেনেভায় উত্তর কোরিয়ার মিশন ও চীনে দেশটির দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

ফোল্ডেবল ফোন এনে হোঁচট খেল প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল

এ ঘটনার পর শুক্রবার এশিয়ার বাজারে ক্রিপ্টোকারেন্সির দামে বড় ধরনের পতন দেখা যায়। বিটকয়েনের দাম ৩ শতাংশের বেশি কমে ছয় সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন ৭৬ হাজার ৩৬৮ ডলারে নেমে আসে। ইথারের দামও ৩ শতাংশের বেশি কমে দুই মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন ২ হাজার ১৭৮ ডলারে দাঁড়ায়। বাইন্যান্সের নিজস্ব ক্রিপ্টো টোকেন বিএনবির দামও গত ২৪ ঘণ্টায় ৫ শতাংশ কমে ৭০৯ ডলার ৭০ সেন্টে নেমে আসে।

ক্রিপ্টো বাজারের তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কয়েনগেকোর হিসাবে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারেও ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ কয়েনবেসের শেয়ারের দাম ৪ দশমিক ৮ শতাংশ কমে যায়। বিটকয়েনে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান স্ট্র‍্যাটেজির শেয়ারের দামও প্রায় ৬ শতাংশ কমে।

বাইন্যান্সের প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, প্রতিষ্ঠানটির একজন প্রকৌশলীর হ্যাক হওয়া ল্যাপটপের মাধ্যমে এ হামলার সূত্রপাত হতে পারে। ওই ল্যাপটপ ব্যবহার করে হামলাকারীরা বাইন্যান্সের একটি সিস্টেমে প্রবেশের সুযোগ পায় এবং অনুমতি ছাড়া অর্থ সরিয়ে নেয়। বাইন্যান্স জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। হ্যাক হওয়া কম্পিউটারটি কীভাবে হামলার প্রবেশপথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে প্রতিষ্ঠানটির নিরাপত্তা দল।

হংকংভিত্তিক হ্যাশকি গ্রুপের জ্যেষ্ঠ গবেষক টিম সান বলেন, এ ঘটনা বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি নেওয়ার আগ্রহ আরও কমিয়ে দিতে পারে। একইসঙ্গে কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত এক্সচেঞ্জে রাখা সম্পদের নিরাপত্তা, প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সক্ষমতা এবং তারল্য নিয়ে নতুন করে ভাবতে পারেন বিনিয়োগকারীরা।

বিশ্বজুড়ে বাইন্যান্সের নিবন্ধিত ব্যবহারকারী ৩৩ কোটি ৫০ লাখ। প্রতিষ্ঠানটির ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাদের হেফাজতে থাকা সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৬ হাজার ২৮০ কোটি ডলার। বাইন্যান্সের গ্রাহকদের সম্পদ সুরক্ষায় একটি বিশেষ তহবিল রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইট অনুযায়ী, বিটকয়েনে রাখা এ তহবিল নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনায় গ্রাহকদের সম্পদ সুরক্ষায় ব্যবহারের জন্য গঠন করা হয়েছে।

এদিকে, স্টেবলকয়েন ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠান টেথার জানিয়েছে, এ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ১৫৭ কোটি ডলারের সম্পদ তারা জব্দ করেছে। আরেক প্রতিষ্ঠান সার্কেল জব্দ করেছে ৮০ কোটি ডলারের বেশি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ক্রিপ্টো প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যানশিয়াল জানিয়েছে, চুরি হওয়া অর্থ জব্দ করতে তারা ক্রিপ্টো সম্পদ সংরক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান বিটগোর সঙ্গে কাজ করেছে।

বাইন্যান্সের সহপ্রতিষ্ঠাতা ই হে জানিয়েছেন, এ ঘটনায় ২ কোটি ৭০ লাখ ডলারের স্টেবলকয়েন এবং ওয়ার্ল্ড লিবার্টির প্রায় ২০ লাখ ডলারের টোকেন জব্দ করা হয়েছে। ক্রিপ্টো প্রতিষ্ঠান রিপলও প্রায় ২০ কোটি ডলারের সম্পদ জব্দ করেছে বলে জানিয়েছেন ই হে।

ফোন স্লো হলেই বারবার রিস্টার্ট করা কি সমাধান? জেনে নিন প্রতিকার

রিপলের স্টেবলকয়েন বিভাগের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট জ্যাক ম্যাকডোনাল্ড বলেছেন, তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে ক্ষতিগ্রস্ত সম্পদ জব্দে কাজ করছেন। রয়টার্সকে ক্রিপ্টো বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান আর্কহ্যামের প্রধান নির্বাহী মিগুয়েল মোরেল বলেন, তাদের তথ্য-উপাত্তে দেখা যাচ্ছে, অজ্ঞাত কোনো পক্ষ বাইন্যান্স থেকে কয়েকশ কোটি ডলারের সম্পদ চুরি করেছে।

ক্রিপ্টো খাতে ধারাবাহিক চুরির ঘটনার মধ্যে সর্বশেষ এ হামলা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। টিআরএম ল্যাবসের গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর প্রায় ১৫০টি পৃথক হামলায় ২৯০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরি হয়েছিল। গত সেপ্টেম্বরে ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ বিটগেটও জানিয়েছিল, তাদের প্ল্যাটফর্ম থেকে প্রায় ৩৫ কোটি ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরি হয়েছে।

ফোল্ডেবল ফোন এনে হোঁচট খেল প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৯, ২০২৬
ফোল্ডেবল ফোন এনে হোঁচট খেল প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল

সম্প্রতি বাজারে ফোল্ডেবল বা ভাঁজযোগ্য ফোন এনেছে অ্যাপল। তবে বহুল প্রতীক্ষিত এই স্মার্টফোন বাজারে আসার কয়েক দিনের মধ্যেই দেখা দিয়েছে বিপত্তি।

বেশ কয়েকজন ক্রেতা আইফোন ডুয়োর স্ক্রিনে সমস্যা দেখা দেওয়ার অভিযোগ করেছেন। পরে অ্যাপলও বিষয়টি স্বীকার করেছে। মঙ্গলবার বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে প্রযুক্তি জগতের বড় প্রতিষ্ঠানটির নতুন এই ডিভাইসের স্ক্রিনে দাগ দেখা যায়।

যুক্তরাজ্যে ফোনটির দাম ১ হাজার ৯৯৯ পাউন্ড (প্রায় ৩ লাখ ২৯ হাজার ৮৩৫ টাকা) থেকে শুরু হয়েছে।

আইফোন ডুও দেখে মুগ্ধ, সমস্যাগুলো জানেন তো?

অ্যাপল জানিয়েছে, অল্প সংখ্যক ফোনের ইনার ডিসপ্লেতে সমস্যা দেখা দেওয়ার বিষয়টি সম্পর্কে তারা অবগত। ডিসপ্লে সমস্যাযুক্ত ফোনগুলো বদলে নতুন ফোন দেওয়া হবে।

ভুক্তভোগী গ্রাহকদের যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

অনলাইনে প্রি-অর্ডার চালুর পর গত সপ্তাহে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অ্যাপলের স্টোরগুলোতে আইফোন ডুয়োর উন্মোচন ঘিরে ক্রেতাদের ভিড় দেখা যায়।

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলোর ফোল্ডেবল ফোনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা এবং ডিভাইসের বাজারে নতুনত্ব আনতে এই ফোন এনেছে অ্যাপল।

আইফোন ডুয়োর কয়েকজন ব্যবহারকারী অনলাইনে ছবি প্রকাশ করে জানিয়েছেন, ফোনের স্ক্রিনের মাঝের ভাঁজ বরাবর ফাটল দেখা দিয়েছে।

এছাড়া অনেকে ফোনটি খোলার সময় মচমচ শব্দ হওয়ার অভিযোগ করেন।

অফলাইনেও সময়মতো পৌঁছে যাবে আপনার জরুরি বার্তা

আইফোন ডুয়োর ব্যবহারকারী জাস্টিন লোকোস ডিসপ্লের ডান পাশে দাগ দেখা যাওয়া একটি ফোনের ছবি প্রকাশ করেন।

পরে ত্রুটিপূর্ণ ফোনটির পাশে নতুন একটি ফোনের ছবি দিয়ে সহায়তার জন্য নিউইয়র্কের একটি অ্যাপল স্টোরকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

সমস্যাটি কতটা ব্যাপক, তা এখনো স্পষ্ট নয়। কতগুলো ফোনে এই ত্রুটি দেখা দিয়েছে, অ্যাপল তা জানায়নি।

এদিকে, ত্রুটিপূর্ণ ফোনের কিছু ছবি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আইফোন ডুয়োর সম্পর্কে ইতিবাচক বা নেতিবাচক সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সতর্ক থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইডিসির প্রযুক্তি বিশ্লেষক ফ্রান্সিসকো জেরোনিমো।

তবে তিনি বলেন, সমস্যার প্রাথমিক প্রতিবেদনগুলো এটাও দেখিয়েছে যে অ্যাপলের মতো কারিগরি সক্ষমতা ও সুসংহত সরবরাহ শৃঙ্খল থাকা প্রতিষ্ঠানও ফোল্ডেবল ফোন তৈরি করতে গিয়ে হোঁচট খেতে পারে।

ডুয়োর ৭ দশমিক ৬ ইঞ্চি (১৯ দশমিক ৩ সেন্টিমিটার) ইনার ডিসপ্লে মাঝখানের একটি হিঞ্জ বা কবজার মাধ্যমে যুক্ত। এটি প্রকৌশলগতভাবে জটিল একটি ব্যবস্থা।

অ্যাপলের কয়েকটি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানের তৈরি ফোল্ডেবল ফোনেও এ ধরনের ডিজাইনের কারণে একই রকম ত্রুটি দেখা গেছে।

স্যামসাংয়ের প্রথম ফোল্ডেবল ফোন গ্যালাক্সি ফোল্ডও ২০১৯ সালে বাজারে আসার শুরুতেই ধাক্কা খেয়েছিল। রিভিউয়াররা ফোনটির স্ক্রিন নষ্ট হওয়ার খবর জানিয়েছিলেন।

অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য ইতোমধ্যে বিভিন্ন ধরনের ফোল্ডেবল ফোনের বিকল্প রয়েছে। ডুয়ো বাজারে আনার আগে এই প্রযুক্তি নিয়ে কয়েক বছর ধরে কাজ করেছে অ্যাপল।

এটি অ্যাপলের ইতিহাসে সবচেয়ে দামি আইফোন। সর্বোচ্চ সুবিধাসম্পন্ন মডেলটির দাম সর্বোচ্চ ৩ হাজার ১৯৯ পাউন্ড (৫ লাখ ২৭ হাজার ৮৩৫ টাকা)।

গত ৯ সেপ্টেম্বর আইফোন ডুয়ো উন্মোচন করা হয়। ১৬ অক্টোবর থেকে ওয়েবসাইটে প্রি-অর্ডার চালু হয়। এরপর ২৩ অক্টোবর নির্দিষ্ট কয়েকটি বাজারে এই ফোন নিয়ে আসে অ্যাপল।

আগামী ৩০ অক্টোবর আরও ২৮টি দেশ ও অঞ্চলে এই ফোন পাওয়া যাবে।

প্রযুক্তি বিশ্লেষক জেরোনিমো বলেন, ডুয়োকে বাজারে প্রতিষ্ঠিত ফোল্ডেবল ফোনগুলোর ‘প্রিমিয়াম বিকল্প’ হিসেবে তুলে ধরেছে অ্যাপল।

তাই শুরুর দিকের এই সমস্যাটি অ্যাপল কীভাবে সামাল দেয়, তার ওপর শুধু এই ফোনের বিক্রি নয়, বরং অ্যাপলের যেকোনো ফোল্ডেবল ফোনের প্রতি ক্রেতাদের আস্থাও নির্ভর করবে।

প্রায় দুই দশকের মধ্যে আইফোনের ডিজাইনে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এই ডুয়ো।

সেপ্টেম্বরে টিম কুকের স্থলাভিষিক্ত হওয়া নতুন প্রধান নির্বাহী জন টার্নাস ফোনটি উন্মোচন করেন।

ফোন স্লো হলেই বারবার রিস্টার্ট করা কি সমাধান? জেনে নিন প্রতিকার

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ২৪, ২০২৬
ফোন স্লো হলেই বারবার রিস্টার্ট করা কি সমাধান? জেনে নিন প্রতিকার

স্মার্টফোন ধীরগতিতে কাজ করলে কিংবা হ্যাং হয়ে গেলে অনেকেই দ্রুত রিস্টার্ট করেন। এতে সাময়িকভাবে সমস্যার সমাধানও হয়। তবে ফোন স্লো হলেই বারবার রিস্টার্ট করা কি কার্যকর সমাধান? নাকি এতে প্রকৃত সমস্যাটি আড়ালেই থেকে যাচ্ছে? বিষয়টি জানা জরুরি।

রিস্টার্ট করলে ফোনে কী ঘটে?

অ্যান্ড্রয়েড কিংবা আইফোন রিস্টার্ট করলে অপারেটিং সিস্টেম বন্ধ হয়ে আবার চালু হয়। একই সঙ্গে চলমান অ্যাপ ও সাময়িক সিস্টেম প্রক্রিয়াগুলো নতুন করে শুরু হয়। ফলে কোনো অ্যাপ আটকে গেলে, ফোন হঠাৎ হ্যাং করলে কিংবা সফটওয়্যারে সাময়িক ত্রুটি দেখা দিলে রিস্টার্টের মাধ্যমে তা ঠিক হতে পারে।

তবে রিস্টার্ট করলেই ফোনের প্রসেসর আরও দ্রুত কাজ করতে শুরু করে, বিষয়টি এমন নয়। এটি মূলত সাময়িক সফটওয়্যারজনিত সমস্যা সমাধানে সাহায্য করে। তাই ফোন ধীরগতিতে কাজ করলেই বারবার রিস্টার্ট করার প্রয়োজন নেই।

কখন ফোন রিস্টার্ট করা উচিত?

কোনো অ্যাপ বারবার বন্ধ হয়ে গেলে, স্ক্রিনে সমস্যা দেখা দিলে কিংবা ফোন অস্বাভাবিকভাবে আটকে গেলে একবার রিস্টার্ট করে দেখতে পারেন। সফটওয়্যার আপডেটের পরও অনেক সময় ফোন পুনরায় চালু করার প্রয়োজন হয়।

তবে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ফোন রিস্টার্ট করতেই হবে, এমন কোনো নিয়ম নেই। আধুনিক স্মার্টফোনে মেমোরি ও ব্যাকগ্রাউন্ডে চলা অ্যাপ পরিচালনার ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে প্রয়োজন অনুযায়ী রিস্টার্ট করাই যথেষ্ট।

ফোন ধীরগতির হওয়ার পেছনে যেসব কারণ

স্মার্টফোন স্লো হওয়ার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—

স্টোরেজ পূর্ণ হয়ে যাওয়া: ফোনের স্টোরেজে জায়গা কমে গেলে বিভিন্ন অ্যাপ ও সিস্টেমের কাজ ব্যাহত হতে পারে।

ভারী অ্যাপের ব্যবহার: বেশি মেমোরি ও প্রসেসিং ক্ষমতা প্রয়োজন হয়, এমন অ্যাপ ফোনের কার্যক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে।

পুরোনো সফটওয়্যার: অপারেটিং সিস্টেম বা অ্যাপের পুরোনো সংস্করণে ত্রুটি থাকলে ফোনের পারফরম্যান্স কমে যেতে পারে।

ব্যাটারির সমস্যা: ব্যাটারি পুরোনো বা ত্রুটিপূর্ণ হলে কিছু ফোনে কার্যক্ষমতা সীমিত হয়ে যেতে পারে।

হার্ডওয়্যারের সীমাবদ্ধতা: পুরোনো ফোনে আধুনিক ও ভারী অ্যাপ চালানোর সময় ধীরগতি দেখা দিতে পারে।

ফোনের গতি বাড়াতে কী করবেন?

ফোন ধীরগতিতে কাজ করলে প্রথমেই অপ্রয়োজনীয় ছবি, ভিডিও ও ফাইল সরিয়ে স্টোরেজ খালি করুন। যেসব অ্যাপ নিয়মিত ব্যবহার করেন না, সেগুলো আনইনস্টল করতে পারেন। পাশাপাশি অপারেটিং সিস্টেম ও অ্যাপের হালনাগাদ সংস্করণ রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করুন।

কোনো নির্দিষ্ট অ্যাপ ব্যবহারের সময় ফোন স্লো হয়ে গেলে সেটি আপডেট করা বা অ্যাপটির ক্যাশ পরিষ্কার করে দেখতে পারেন। তবে ক্যাশ পরিষ্কার করার সঙ্গে অ্যাপের ডেটা মুছে ফেলার বিষয়টি এক নয়—তাই সেটিংস পরিবর্তনের আগে সতর্ক থাকুন।

এসব পদক্ষেপ নেওয়ার পরও ফোন বারবার হ্যাং করলে ব্যাটারি, সফটওয়্যার কিংবা হার্ডওয়্যারের সমস্যা পরীক্ষা করা প্রয়োজন হতে পারে। প্রয়োজনে অনুমোদিত সার্ভিস সেন্টারের সহায়তা নিন।

বারবার রিস্টার্ট করলেই কি ফোনের ক্ষতি হয়?

সাধারণভাবে প্রয়োজন অনুযায়ী ফোন রিস্টার্ট করলে ক্ষতির আশঙ্কা নেই। তবে ঘন ঘন রিস্টার্ট করেও যদি ফোনের ধীরগতি না কমে, তাহলে একই কাজ বারবার করে খুব একটা লাভ হবে না। বরং সমস্যার প্রকৃত কারণ শনাক্ত করা জরুরি।

মনে রাখতে হবে, রিস্টার্ট সাময়িক সফটওয়্যার সমস্যা সমাধানে কার্যকর হলেও স্টোরেজের ঘাটতি, ব্যাটারির ত্রুটি কিংবা হার্ডওয়্যারের সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়। তাই ফোন স্লো হলেই বারবার রিস্টার্ট না করে আগে সমস্যার কারণ খুঁজে বের করুন।

কাতারে সম্পন্ন হলো 'মিলিপোল কাতার ২০২৬': ৮১৯.৭৭ মিলিয়ন রিয়ালের চুক্তি সই

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ২৪, ২০২৬
কাতারে সম্পন্ন হলো 'মিলিপোল কাতার ২০২৬': ৮১৯.৭৭ মিলিয়ন রিয়ালের চুক্তি সই

কাতারে শেষ হয়েছে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষাবিষয়ক প্রদর্শনী ‘মিলিপোল কাতার ২০২৬’-এর ১৬তম আসর।

তিন দিনব্যাপী এ আয়োজনে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ২৭০টির বেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। প্রদর্শনী চলাকালে মোট ৯৬টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার আর্থিক মূল্য ৮১৯.৭৭ মিলিয়ন কাতারি রিয়াল।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রদর্শনীটির সমাপ্তির তথ্য জানায়। রাজধানী দোহার দোহা এক্সিবিশন অ্যান্ড কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে ১৬ হাজারের বেশি দর্শনার্থী অংশ নেন, যা আগের আসরের তুলনায় ১০ শতাংশ বেশি।

সমাপনী সংবাদ সম্মেলনে মিলিপোল কাতার কমিটির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসের বিন ফাহাদ আল থানি বলেন, বর্তমান সময়ের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারি নিরাপত্তা সংস্থা, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও প্রযুক্তি খাতের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো জরুরি। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সহযোগিতা জোরদারের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

এবারের প্রদর্শনীর অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘আন্তর্জাতিক দোহা সম্মেলন অন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি’। সম্মেলনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার, প্রযুক্তির ওপর আস্থা, সুশাসন, সার্বভৌমত্ব এবং দায়িত্বশীল প্রযুক্তি ব্যবহারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

এ ছাড়া প্রদর্শনীর অংশ হিসেবে আয়োজন করা হয় ‘এলিট চ্যাম্পিয়নশিপ ফর দ্য ফিজিক্যাল চ্যালেঞ্জ’। শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, শৃঙ্খলা ও প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব বিকাশে এ আয়োজন ভূমিকা রাখে।

মিলিপোল এক্সিবিশনসের পরিচালক কারেন গালস্তিয়ান বলেন, এ প্রদর্শনী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পেশাগত যোগাযোগ ও অংশীদারত্ব বৃদ্ধির পাশাপাশি নীতিনির্ধারক এবং সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে কার্যকর সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করেছে।

তিনি আরও বলেন, তিন দশক ধরে গড়ে ওঠা এ অংশীদারত্ব আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি সফল দৃষ্টান্ত।

আয়োজকদের ঘোষণা অনুযায়ী, মিলিপোল কাতারের পরবর্তী আসর অনুষ্ঠিত হবে ২০২৮ সালের ৩১ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত।

অফলাইনেও সময়মতো পৌঁছে যাবে আপনার জরুরি বার্তা

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ২৪, ২০২৬
অফলাইনেও সময়মতো পৌঁছে যাবে আপনার জরুরি বার্তা

ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ থাকলেও নির্ধারিত সময়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মেসেজ পৌঁছে যাবে প্রাপকের কাছে—জনপ্রিয় বার্তা আদান-প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপে যুক্ত হতে যাচ্ছে এমনই এক চমকপ্রদ সুবিধা। নতুন এই ‘মেসেজ শিডিউলিং’ ফিচারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা বার্তা, ছবি বা ভিডিও আগে থেকেই নির্দিষ্ট সময়ের জন্য শিডিউল করে রাখতে পারবেন।

ফলে প্রিয়জনের জন্মদিনে রাত ১২টায় শুভেচ্ছা পাঠানো কিংবা জরুরি কোনো তথ্য সময়মতো জানাতে আর নির্দিষ্ট মুহূর্তে অনলাইনে থাকার প্রয়োজন হবে না।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, হোয়াটসঅ্যাপের অ্যান্ড্রয়েড বিটা সংস্করণ ২.২৬.৪০.৭-এ নতুন ফিচারটি পরীক্ষা করা হচ্ছে। এটি চালু হলে ব্যবহারকারীরা কাঙ্ক্ষিত চ্যাটে গিয়ে মেসেজ লেখার পর সেন্ড বাটন কিছুক্ষণ চেপে ধরে রাখলেই একটি পপ-আপ উইন্ডো দেখতে পাবেন। সেখান থেকে মেসেজ পাঠানোর নির্দিষ্ট তারিখ ও সময় নির্বাচন করা যাবে।

শুধু লিখিত বার্তা নয়, ছবি, ভিডিও ও লিংকও নির্ধারিত সময়ে পাঠানোর জন্য শিডিউল করা যাবে। ছবি বা ভিডিও পাঠানোর আগে তাতে ফিল্টার, ক্যাপশন কিংবা ড্রয়িং যুক্ত করার সুবিধাও থাকবে। এতে ব্যবহারকারীরা নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী বার্তা তৈরি করে আগেই পাঠানোর প্রস্তুতি নিতে পারবেন।

নতুন ফিচারের মাধ্যমে অন্তত ১০ মিনিট পর থেকে শুরু করে আগামী ১৪ দিনের মধ্যে যেকোনো সময়ের জন্য মেসেজ শিডিউল করা যাবে। নির্ধারিত সময় আসার ব্যবহারকারীরা আগপর্যন্ত চাইলে শিডিউল করা বার্তা সম্পাদনা কিংবা মুছে ফেলাও সম্ভব হবে। ফলে পরিকল্পনা পরিবর্তন হলে নতুন করে বার্তা তৈরি করার প্রয়োজন পড়বে না।

ব্যক্তিগত চ্যাটের পাশাপাশি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপেও ব্যবহার করা যাবে এ সুবিধা। গ্রুপে জরুরি ঘোষণা, প্রয়োজনীয় তথ্য কিংবা নির্দিষ্ট সময়ে পাঠানোর মতো বার্তা আগেই তৈরি করে রাখা যাবে। এতে ব্যস্ততার কারণে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পাঠাতে ভুলে যাওয়ার আশঙ্কা কমবে।

ফিচারটির উল্লেখযোগ্য দিক হলো, নির্ধারিত সময়ে ফোনে ইন্টারনেট সংযোগ না থাকলেও কিংবা হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাপ খোলা না থাকলেও বার্তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাঠানোর ব্যবস্থা থাকবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়াই বার্তা পাঠানোর বিষয়টি প্রযুক্তিগতভাবে কীভাবে কাজ করবে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো স্পষ্ট নয়।

ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শিডিউল করা বার্তাগুলো এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশনের আওতায় থাকবে বলে জানা গেছে। ফলে নতুন সুবিধা চালু হলেও বার্তা আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে বিদ্যমান নিরাপত্তাব্যবস্থা বজায় রাখার পরিকল্পনা রয়েছে প্ল্যাটফর্মটির।

বর্তমানে ফিচারটি পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। হোয়াটসঅ্যাপের নির্দিষ্টসংখ্যক বিটা ব্যবহারকারী পরীক্ষামূলকভাবে এটি ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছেন। পরীক্ষা শেষ করে কবে নাগাদ ফিচারটি সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি প্রতিষ্ঠানটি।