১ নভেম্বর ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও ভিসা জটিলতায় থমকে গেছে বৈদেশিক কর্মসংস্থান

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ১৭, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও ভিসা জটিলতায় থমকে গেছে বৈদেশিক কর্মসংস্থান

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, আঞ্চলিক নিরাপত্তাহীনতা এবং আন্তর্জাতিক ভিসা প্রক্রিয়ার জটিলতায় একের পর এক বাধার মুখে পড়েছে বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাত।

একদিকে যুদ্ধের অভিঘাতে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজারগুলোতে নতুন নিয়োগের গতি কমেছে, অন্যদিকে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি পেয়েও ভিসা, দূতাবাসের সাক্ষাৎকার ও বিমান চলাচলের জটিলতায় আটকে যাচ্ছেন অনেক কর্মী।

ছুটিতে দেশে এসে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভিসা বাতিল হয়ে যাওয়ায় কর্মস্থলে ফিরতে না পারার অভিযোগ যেমন রয়েছে, তেমনি ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কাজের অনুমতিপত্র পেয়েও ভারতে গিয়ে পাসপোর্ট জমা দিতে না পারায় অনিশ্চয়তায় পড়েছেন অনেকে। এর সঙ্গে সৌদি আরবে নিরাপত্তাঝুঁকি ও ফ্লাইট বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

সব মিলিয়ে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সংকুচিত হওয়ার পাশাপাশি চাকরি হারানো, নিয়োগ বাতিল, আর্থিক ক্ষতি এবং দেশে ফিরে আসার আশঙ্কা বাড়ছে। অথচ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস প্রবাসী আয় এখনো ঊর্ধ্বমুখী। তবে অর্থনীতির এই আপাত স্বস্তির আড়ালে নতুন কর্মী বিদেশে যাওয়ার ধারাবাহিক পতন ভবিষ্যতে রেমিট্যান্স প্রবাহের গতি নিয়ে সংশয় তৈরি করছে।

অপরদিকে জনশক্তি রপ্তানিতে চট্টগ্রাম একসময় দেশের অগ্রগামী জেলাগুলোর একটি থাকলেও তাতে ধস দেখা দিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে চট্টগ্রামের প্রবাসী পরিবারগুলোর বিস্তৃত যোগাযোগ এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের প্রতিষ্ঠিত নেটওয়ার্ক থাকলেও এখন হিসেব–নিকেশ পাল্টে গেছে। বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চাঁদপুরের মতো কয়েকটি জেলার তুলনায় পিছিয়ে পড়ছে চট্টগ্রাম। তবে প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রে এখনো দেশের অন্যতম শীর্ষ জেলা চট্টগ্রাম।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে জেলায় ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসী আয় এসেছে ৩ দশমিক ২৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে এসেছে প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ডলার। তবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও নিরাপত্তা অনিশ্চয়তা, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে নিয়োগের পরিবর্তন এবং বিদেশে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ায় নানা জটিলতা জেলার বৈদেশিক কর্মসংস্থান ক্রমে কমে আসছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

জনশক্তি ও কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) সূত্র জানায়, ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৩১ মে পর্যন্ত চট্টগ্রাম জেলা থেকে ৮৭ হাজার ৫২৪ জন কর্মী বিদেশে গেছেন। একই সময়ে কুমিল্লা থেকে গেছেন ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬৩৩ জন এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ১ লাখ ৪২ হাজার ৩৩৮ জন। বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রতিবেশী কয়েকটি জেলার তুলনায় চট্টগ্রামের অবস্থান পিছিয়ে পড়েছে।

চট্টগ্রাম থেকে বিদেশে কর্মী যাওয়ার প্রবণতায় পরিবর্তনের পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে উল্লেখ করে বিএমইটির কর্মকর্তারা জানান, নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের প্রতি আগ্রহ, সব ধরনের পেশায় যুক্ত হওয়ার প্রবণতা না থাকা এবং নিজ জেলায় কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ায় বিদেশে যাওয়ার আগ্রহ কমে আসছে।

বিদেশের শ্রমবাজারে চাহিদা, নিয়োগের ব্যয়, দক্ষতার ঘাটতি, ভিসা পাওয়ার সুযোগ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক অস্থিরতার কারণে বিদেশে জনশক্তি রপ্তানি কমছে।

২০২৫–২৬ অর্থবছরে চট্টগ্রাম জেলায় প্রবাসী আয় এসেছে ৩ দশমিক ২৭ বিলিয়ন ডলার। ওই অর্থবছরে দেশে মোট প্রবাসী আয় ছিল প্রায় ৩৫ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার। ফলে জাতীয় প্রবাসী আয়ের উল্লেখযোগ্য অংশ এসেছে চট্টগ্রামের ব্যাংক শাখাগুলোর মাধ্যমে। চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসের হিসাবেও এ প্রবাহের ধারাবাহিকতা দেখা যায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের জেলাভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে চট্টগ্রাম জেলায় প্রবাসী আয় এসেছে ২০১ দশমিক ৮ মিলিয়ন ডলার। আগস্টে ১৯৯ দশমিক ৯ মিলিয়ন এবং সেপ্টেম্বরে ১৯৬ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলার। তিন মাসে মোট প্রবাসী আয় দাঁড়িয়েছে ৫৯৮ দশমিক ১ মিলিয়ন ডলার।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাতে সংকট তৈরি করেছে। চট্টগ্রামের প্রবাসীদের বেশির ভাগ সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কাজ বা ব্যবসা করেন। বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিকদের একটি বড় অংশ ওইসব দেশের ওপর নির্ভরশীল।

যুদ্ধসহ সার্বিক পরিস্থিতিতে উপরোক্ত দেশগুলোতে নতুন নিয়োগ কমে গেছে। শুধু মধ্যপ্রাচ্যের প্রচলিত শ্রমবাজারের ওপর নির্ভর না করে ইউরোপ ও এশিয়ার অন্যান্য দেশে কর্মী পাঠানোর সুযোগ বাড়ানো গেলে এই পরিস্থিতির উত্তরণ সম্ভব বলে মন্তব্য করে সূত্র বলেছে, বিশেষ করে কারিগরি প্রশিক্ষণ, ভাষা শিক্ষা, পেশাগত দক্ষতা অর্জন এবং নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে সুফল মিলবে।

দক্ষ কর্মীর চাহিদা বাড়ছে এমন খাতগুলো চিহ্নিত করে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা গেলে জেলার তরুণদের জন্য বিদেশে কাজের সুযোগ বাড়তে পারে।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘মান্থলি ইকোনমিক ট্রেন্ডস, সেপ্টেম্বর ২০২৬’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বিদেশে যাওয়া কর্মীর সংখ্যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৬ দশমিক ৪৭ শতাংশ কমেছে। জুলাইয়ে ৭১ হাজার ৮৪ জন কর্মী বিদেশে গেলেও আগস্টে এ সংখ্যা নেমে আসে ৬২ হাজার ৯২৯ জনে।

এক মাসে কর্মী যাওয়ার সংখ্যা কমেছে ১১ দশমিক ৪৭ শতাংশ। এর আগে ২০২৫–২৬ অর্থবছরের এপ্রিল–জুন প্রান্তিকে বিদেশে গিয়েছিলেন ১ লাখ ৬০ হাজার ২৮৩ জন। সাম্প্রতিক মাসগুলোর পরিসংখ্যানে বিদেশে কর্মী পাঠানোর গতি ধারাবাহিকভাবে কমে আসার ক্ষেত্রে যুদ্ধকেন্দ্রিক বৈশ্বিক সংকটকে দায়ী করা হচ্ছে।

২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধের অভিঘাতে গত মার্চ থেকে মে মাসে বিদেশে গেছেন ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৩৬ জন বাংলাদেশি কর্মী। ২০২৫ সালের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৬০ হাজার ৪৩৮ জন। এক বছরের ব্যবধানে কর্মী যাওয়ার সংখ্যা কমেছে অর্ধেকের কাছাকাছি।

২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের হামলার পর থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সাড়ে পাঁচ মাসে বিদেশগামী পুরুষ কর্মীর সংখ্যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ লাখ ৮ হাজার ১৭৮ জন কমেছে।

তবে একই সময়ে বিদেশে যাওয়া নারী কর্মীর সংখ্যা বেড়েছে। ৪৭টি দেশে গত পাঁচ মাস ১৫ দিনে ২৫ হাজার ৯১৫ জন নারী কর্মী গেছেন। আগের বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ২৩ হাজার ৯৩৬ জন।

সূত্র বলেছে, সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। দেশটিতে প্রায় ৩৫ লাখ বাংলাদেশি বসবাস করেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে সৌদি আরব থেকে দেশে ১ দশমিক ৯৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিটেন্স এসেছে, যা দেশের মোট প্রবাসী আয়ের ১৯ দশমিক ২ শতাংশ। আগের অর্থবছরে দেশটি থেকে রেমিট্যান্স এসেছিল প্রায় ৫ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলার।

সৌদি আরবে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা তৈরি হলে তা শুধু কর্মসংস্থান নয়, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বায়রার (বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজ) একাধিক কর্মকর্তা।

সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হওয়ায় প্রবাসী কর্মীদের কর্মস্থলে ফেরা, নতুন কর্মীদের যোগদান এবং যাত্রী পরিবহন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্র জানিয়েছে, সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে ফ্লাইট চলাচলে নিষেধাজ্ঞা ও বিঘ্নের কারণে অনেক ফ্লাইট ও ট্রানজিট ফ্লাইট বাতিল হয়েছে; যার খেসারত দিতে হচ্ছে হাজার হাজার প্রবাসীকে। এদের অনেকের নির্ধারিত সময়ে কাজে যোগ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও পারেননি।

নতুন টিকিট কেনা, ভিসার মেয়াদ নিয়ে জটিলতা এবং অতিরিক্ত যাতায়াত ব্যয়ও তাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। সৌদি আরব এখনো বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার হলেও সেখানে কর্মী যাওয়ার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ১ মার্চ থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সৌদি আরবে গেছেন ১ লাখ ৩৩ হাজার ২৬৪ জন বাংলাদেশি কর্মী। আগের বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ২১ হাজার ৪৬৪ জন। শুধু সৌদি আরবেই কর্মী যাওয়ার সংখ্যা কমেছে ১ লাখ ৮৮ হাজার ২০০ জন।

বায়রার একটি সূত্র জানায়, বর্তমানে বিদেশে যাওয়া কর্মীদের বড় অংশের নিয়োগপ্রক্রিয়া যুদ্ধ শুরুর আগেই অনুমোদিত চাহিদা ও সম্পন্ন হওয়া ভিসার ভিত্তিতে এগোচ্ছে। নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মী নেওয়ার চাহিদা কমে যাওয়ায় পরবর্তী মাসগুলোতে এই সংকট আরো প্রকট হবে।

তারা বলেন, সৌদি আরব ছাড়া বাংলাদেশের জন্য বড় শ্রমবাজারগুলোতে নিয়োগের সুযোগ সীমিত। সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মী নেওয়া হয় কম। কাতার ও কুয়েতে নিয়োগের পরিমাণও বেশি নয়। মালয়েশিয়ার বড় শ্রমবাজার এখনো পুরোপুরি চালু না হওয়ায় পরিস্থিতি সংকটজনক করে তুলছে। এছাড়া বিকল্প বাজার না থাকায় সংকট আরো জটিল হচ্ছে।

ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে। ছুটিতে দেশে আসা প্রবাসীদের একটি অংশের ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় সাড়ে চার হাজার বাংলাদেশির ভিসা বাতিল হয়েছে। তারা আর কাজে ফিরে যেতে পারেননি।

শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, ইউরোপে কাজের সুযোগ পাওয়া কর্মীদেরও বিদেশযাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। ইউরোপের কয়েকটি দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকলেও ভিসা প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা এবং কনস্যুলার জটিলতা বিরাট বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

ইউরোপের কয়েকটি দেশের দূতাবাস ও কনস্যুলার কার্যক্রমের অংশ ভারতের দিল্লিসহ বিভিন্ন শহরে পরিচালিত হওয়ায় বাংলাদেশি আবেদনকারীদের কোনো কোনো ক্ষেত্রে সেখানে গিয়ে সাক্ষাৎকার দেওয়া বা পাসপোর্ট জমা দিতে হয়।

কিন্তু ভারতের ভিসা পেতে সীমাবদ্ধতা থাকায় নির্ধারিত সময়ে সেখানে যেতে পারছেন না অনেক আবেদনকারী। এতে কাজের অনুমতিপত্র পাওয়ার পরও নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষ করা যাচ্ছে না। একই সমস্যায় পড়ছেন বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরাও।

সাক্ষাৎকারের সময় পেরিয়ে যাওয়া, নতুন তারিখের জন্য অপেক্ষা এবং শিক্ষাবর্ষ শুরুর সময়সীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা তাদের পরিকল্পনাকে অনিশ্চিত করছে।

বিদেশে কর্মী যাওয়ার সংখ্যা কমলেও প্রবাসী আয়ে এখনো ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে দেশে প্রবাসী আয় এসেছে ৫৮২ কোটি ৫৩ লাখ মার্কিন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ বেশি। শুধু আগস্ট মাসে এসেছে ২৯৬ কোটি ৬৬ লাখ ৮০ হাজার ডলার। এর আগে ২০২৫–২৬ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ৩ জুন পর্যন্ত বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে এসেছিল ৩৩ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলার।

তবে এই আয় কমে যাবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করে অর্থনীতি সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বৃদ্ধি, প্রণোদনা এবং প্রবাসীদের সঞ্চয় দেশে পাঠানোর সিদ্ধান্ত প্রবাসী আয়ের প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। যুদ্ধ ও অনিশ্চয়তার কারণে কেউ কেউ ভবিষ্যতের ঝুঁকি বিবেচনায় সঞ্চিত অর্থ দেশে পাঠিয়ে দিচ্ছেন।

বর্তমানে প্রবাসী আয়ের বড় অংশ আসছে আগে থেকে বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের কাছ থেকে। নতুন কর্মী যাওয়ার সুযোগ সংকুচিত থাকলে এবং বিদেশে অবস্থানরত শ্রমিকদের আয় কমে গেলে প্রবাসী আয়ের এই প্রবৃদ্ধি ধসে যাবে।

সৌদি আরবের মতো গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজারে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে যাওয়ার পাশাপাশি একপর্যায়ে প্রবাসী শ্রমিকদের দেশে ফিরে আসার পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে বলে মন্তব্য করে সূত্র বলেছে, এই মুহূর্তে সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

কারণ সৌদি আরবে প্রবাসীদের মাঝে শঙ্কা তৈরি হলে তারা দলে দলে দেশে ফিরে আসার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যা দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

জনশক্তি রপ্তানির জন্য নতুন বাজার খোঁজা এবং বিদ্যমান বাজারগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ অব্যাহত রাখারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা। অবশ্য মালয়েশিয়া, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের মতো গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজারে কর্মী পাঠানোর সুযোগ বাড়াতে কূটনৈতিক আলোচনা চলছে বলে সরকার জানিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের উন্নয়ন প্রকল্প, অবকাঠামো, পর্যটন, হোটেল ও সেবাখাতে ভবিষ্যতে নতুন চাহিদা তৈরি হলে বাংলাদেশের কর্মীদের জন্য সুযোগ বাড়তে পারে।

তবে এসব সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ দিতে হলে শ্রমবাজার পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং ভিসা ও কনস্যুলার জটিলতা নিরসন জরুরি মন্তব্য করে তারা কূটনৈতিক সমন্বয় জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

ফ্লাইদুবাইয়ের বিমান রক্ষা করায় পাইলট ও ক্রুদের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৯, ২০২৬
ফ্লাইদুবাইয়ের বিমান রক্ষা করায় পাইলট ও ক্রুদের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা
ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছাড় ও ক্রুদের ‘অর্ডার অফ জায়েদ টু, ফার্স্ট ক্লাস’ প্রদান করা হয়েছে

গত মাসে সহ-পাইলটের হামলা মোকাবিলা করে দুবাই থেকে ইসরায়েলগামী একটি ফ্লাইট নিরাপদে অবতরণ করানোর জন্য ফ্লাইদুবাইয়ের ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছাড় এবং তার ক্রু সদস্যদের সর্বোচ্চ সাহসিকতাসূচক সম্মাননায় ভূষিত করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।

মাঝ-আকাশের ওই ঘটনায় তাদের কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রপতি শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান ।

এমিরেটস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) এক অনুষ্ঠানে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিমানটিকে সুরক্ষিত রাখার ক্ষেত্রে তাদের সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ মাচ্ছাড় ও ক্রুদের ‘অর্ডার অফ জায়েদ টু, ফার্স্ট ক্লাস’ প্রদান করা হয়েছে। দুবাইয়ের যুবরাজ শেখ হামদান বিন মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুমও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এবং ফ্লাইদুবাই কর্মীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

ওই হামলায় মাচ্ছাড় গুরুতর আহত হন, তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাহায্য করার জন্য ক্রু সদস্য, ছুটিতে থাকা পাইলট এবং যাত্রীদেরও কৃতিত্ব দেন তিনি। ককপিটে সংঘর্ষের পর বিমানটি সৌদি আরবে নিরাপদে অবতরণ করে। পরবর্তীতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইনজীবীরা ঘটনাটিকে ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে বিমানটি বিধ্বস্ত করার উদ্দেশ্যে চালানো একটি সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে বর্ণনা করেন। এ ঘটনার পর ফ্লাইদুবাই তেল আবিবগামী সকল ফ্লাইট স্থগিত করে।

বিমান সংস্থাটি এখনো ইসরায়েলি শহরটিতে পরিষেবা পুনরায় চালু করেনি এবং দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের মধ্যে ফ্লাইট স্থগিতাদেশ অক্টোবরের শেষ পর্যন্ত বাড়িয়েছে।

সূত্র: নিউ আরব

ইসরাইলগামী সব ফ্লাইট বন্ধ করল ফ্লাই দুবাই

ইসরায়েলের অস্ত্র রপ্তানি বেড়েছে ১৩০ শতাংশ, বড় ক্রেতা আমিরাত

ফ্লাই দুবাইয়ের পাইলটকে হাসপাতালে গিয়ে সম্মান জানালেন দুবাইয়ের ক্রাউন প্রিন্স

ডেলিভারির ফাঁকে কুরআন তিলাওয়াত করে প্রশংসায় ভাসছেন উগান্ডার মনসুর

আমিরাতের উপকূলে ভয়াবহ বিপর্যয়! সব সৈকত বন্ধ ঘোষণা

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ২৬, ২০২৬
আমিরাতের উপকূলে ভয়াবহ বিপর্যয়! সব সৈকত বন্ধ ঘোষণা

সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাস আল খাইমাহর সব সৈকত পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। প্রতিবেশী উম্ম আল কুয়াইন ও শারজাহর উপকূলে তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় ওই দুই এলাকার সৈকত বন্ধের এক দিন পর শনিবার (২৪ অক্টোবর) এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

রাস আল খাইমাহ পুলিশের সদর দফতরের মাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সৈকত বন্ধের ঘোষণা দেয় আমিরাতটির পাবলিক সার্ভিসেস ডিপার্টমেন্ট। তবে, এ সিদ্ধান্তের সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি।

ইউএই কর্তৃপক্ষ জানায়, সমুদ্র উপকূলে একটি ট্যাংকার থেকে ছড়িয়ে পড়া তেল নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে। এ ঘটনায় পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন করছে দেশটির জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয় জানায়, কারিগরি দলগুলোর মূল্যায়ন শেষ না হওয়া এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও সামুদ্রিক পরিবেশ সুরক্ষার ব্যবস্থা নির্ধারিত না হওয়া পর্যন্ত উম্ম আল কুয়াইনের সব সৈকত ও উপকূলীয় এলাকা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে।

পাশাপাশি জেলে ও সমুদ্রে চলাচলকারীদের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা এড়িয়ে চলার এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এদিকে, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে উম্ম আল কুয়াইনের সীমান্তসংলগ্ন আল হামরিয়াহ সৈকতও সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে শারজাহ কর্তৃপক্ষ।

শারজাহ, আজমান ও উম্ম আল কুয়াইনের কয়েকটি এলাকায় অস্বাভাবিক দুর্গন্ধের কথা জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

শুক্রবার উম্ম আল কুয়াইনেও তীব্র দুর্গন্ধ ছিল। তবে ইউএইর পরিবেশ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ দুর্গন্ধে স্বাস্থ্যের জন্য কোনো ঝুঁকি নেই।

তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় জড়িত ট্যাংকারটির নাম প্রকাশ করেনি আমিরাত কর্তৃপক্ষ। কী কারণে তেল ছড়িয়ে পড়েছে, সে বিষয়েও কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর উপসাগরীয় অঞ্চলের নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। পাশাপাশি এ সংঘাতের পরিবেশগত প্রভাব নিয়েও আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সৈকত ও বিলাসবহুল অবকাশকেন্দ্রের জন্য পরিচিত রাস আল খাইমাহর আল মারজান দ্বীপে উইন রিসোর্টসের একটি ক্যাসিনো রিসোর্ট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি ২০২৪ সালে ইউএইর প্রথম বাণিজ্যিক গেমিং লাইসেন্স পায়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ২০২৭ সালের প্রথম প্রান্তিকে রিসোর্টটি চালুর লক্ষ্য রয়েছে তাদের।

ইরান যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হলেও গত মার্চে উইন জানায়, সাময়িক বিরতির পর রিসোর্টটির নির্মাণকাজ আবার শুরু হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে পুরো জিসিসিকে এক হওয়ার ডাক আমিরাতের

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১২, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্য সংকটে পুরো জিসিসিকে এক হওয়ার ডাক আমিরাতের
আবুধাবিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ

সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা আনোয়ার গালগাশ অঞ্চলের যৌথ নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করতে জরুরিভিত্তিতে ‘যৌথ উপসাগরীয় পদক্ষেপ’ বা যৌথ সুরক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় তিনি সতর্ক করে বলেছেন যে, আমরা একটি যুদ্ধ এড়াতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আক্রমণকারীদের ভুল ধারণার কারণে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর ওপর পরপর আক্রমণ চালানো হয়েছে। এতে স্পষ্ট হয়ে গেছে যে আমরা সবাই এখন প্রতিপক্ষের লক্ষ্যবস্তু এবং আমাদের নিরাপত্তা কোনোভাবেই একে অপরের থেকে আলাদা নয়।

তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের ওপর অব্যাহত আক্রমণ কেবল একক কোনো দেশের বিষয় নয়, বরং তা সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ সমগ্র উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তার ভিত্তিকেই হুমকির মুখে ফেলে দিচ্ছে।

আনোয়ার গালগাশের মতে, বিশেষ করে নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে যৌথ উপসাগরীয় উদ্যোগগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং সম্মিলিত নিরাপত্তা কাঠামোকে সুদৃঢ় করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। দীর্ঘদিন ধরে সুরক্ষার এই দিকটিতে মারাত্মক অবহেলা করা হয়েছে, যার সুযোগ নিয়ে শত্রুপক্ষ আজ আমাদের ভূখণ্ডে আঘাত হানার সুযোগ পাচ্ছে।

যৌথ নিরাপত্তা রক্ষা করা পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের একটি যৌথ দায়িত্ব, যেখানে কোনো ধরনের শিথিলতা বা বিলম্বের কোনো সুযোগ নেই।

আরও পড়ুন

সৌদি আরব হুথিদের হামলা ঠেকাতে পারছে না কেন?

এই সপ্তাহে হুথিরা কতবার সৌদি বিমানবন্দরগুলোতে হামলা চালিয়েছে?

সৌদি আরবে হুতি হামলায় নিহত ২ , আইসিইউতে ৪ বাংলাদেশি: ঢাকায় আটকে পড়েছেন ৩ হাজার প্রবাসী

ডেলিভারির ফাঁকে কুরআন তিলাওয়াত করে প্রশংসায় ভাসছেন উগান্ডার মনসুর

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ০৫, ২০২৬
ডেলিভারির ফাঁকে কুরআন তিলাওয়াত করে প্রশংসায় ভাসছেন উগান্ডার মনসুর

ডেলিভারির ফাঁকে বাইকের পাশে বসে গভীর মনোযোগে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ইন্টারনেটে ব্যাপক প্রশংসায় ভাসছেন উগান্ডার নাগরিক মনসুর কাতাবালওয়া।

তবে তার কাছে এটি স্রেফ নেটিজেনদের নজর কাড়ার বিষয় নয়, বরং পরিবার ছেড়ে প্রবাসে কাজের মাঝে নিজের ঈমান ও প্রয়াত স্বজনদের স্মৃতি আঁকড়ে রাখার এক দৈনন্দিন প্রচেষ্টা।

গত দুবছর ধরে আরব আমিরাতে বসবাস করছেন মনসুর। আর গত পাঁচ মাস ধরে তিনি জনপ্রিয় রাইড শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম ‘তালাবাত’-এর ডেলিভারি রাইডার হিসেবে কাজ করছেন।

দেশে থাকা স্ত্রী ও দুই সন্তানের মুখে হাসি ফোটাতে এবং তাদের একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ উপহার দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই তিনি প্রবাসে পাড়ি জমিয়েছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, অর্ডারের ফাঁকে বাইকটি দাঁড় করিয়ে হাতে একটি কুরআন শরীফ নিয়ে পরম তৃপ্তিতে তিলাওয়াত করছেন মনসুর।

তিনি জানান, ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার অনেক আগে থেকেই তিনি এটি নিয়মিত করে আসছেন। এর পেছনে রয়েছে তার জীবনের এক বিষাদময় অধ্যায়।

তিন বছর আগে মাত্র কিছুদিনের ব্যবধানে নিজের বাবা-মা এবং ভাইকে হারান মনসুর। প্রিয়জনদের হারানোর এই গভীর শোক ও বেদনা তাকে ইসলামের অনুশাসনের আরও কাছে নিয়ে আসে এবং তিনি পুরো কোরআন হিফজ (মুখস্থ) করেন।

ডেলিভারির কাজে দিনের বেশিরভাগ সময় তাকে রাস্তায় বাইক চালিয়ে পার করতে হয়। কুরআন যেন ভুলে না যান, তাই বাইক চালানোর সময় তিনি মোবাইলে তিলাওয়াত শোনেন। আর রাইডের মাঝে যখনই খানিকটা অবসর মেলে, সাথে রাখা কুরআন শরিফ খুলে তিলাওয়াত করতে বসে যান।

মনসুর বলেন, ‘কাজের বিরতিতে কুরআন পড়লে তা আমাকে গভীরভাবে মনোযোগী হতে সাহায্য করে এবং মানসিকভাবে আল্লাহর কাছাকাছি অনুভব করি।’ প্রয়াত মা-বাবার মাগফিরাত কামনা করেই মূলত তার এই তিলাওয়াত।

তিনি আরও বলেন, ‘আমি আমার প্রয়াত মা-বাবার আত্মার মাগফিরাত ও জান্নাতুল ফেরদাউস প্রার্থনার নিয়তেই কোরআন পাঠ ও চর্চা করি।’

ফ্লাই দুবাইয়ের পাইলটকে হাসপাতালে গিয়ে সম্মান জানালেন দুবাইয়ের ক্রাউন প্রিন্স

প্রকাশ: রবিবার, অক্টোবর ০৪, ২০২৬
ফ্লাই দুবাইয়ের পাইলটকে হাসপাতালে গিয়ে সম্মান জানালেন দুবাইয়ের ক্রাউন প্রিন্স

ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে সহপাইলটের হামলার পর ১৭২ যাত্রীর জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছারকে হাসপাতালে দেখতে গেছেন দুবাইয়ের ক্রাউন প্রিন্স শেখ হামদান বিন মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম। হামলার সময় গুরুতর আহত হওয়ার পর দুবাইয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মাচ্ছার।

সাক্ষাতের পর মাচ্ছারের প্রতি ‘পূর্ণ শ্রদ্ধা ও প্রশংসা’ জানিয়েছেন ক্রাউন প্রিন্স। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লিখেছেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে এবং দেশের নেতৃত্বের পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা ও প্রশংসা রয়েছে। আমরা গর্বিত যে তিনি আমাদের দলের অংশ, আমাদের দেশের ইতিহাসের অংশ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত যে মূল্যবোধের প্রতিনিধিত্ব করে, তারও অংশ। এটি সহমর্মিতা, শান্তি ও জীবনের পক্ষে থাকা একটি দেশ।’

ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গে মাচ্ছারের সাক্ষাতের ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে তাঁকে পাইলটের সঙ্গে কথা বলতে ও তাঁকে আলিঙ্গন করতে দেখা যায়।

দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের ওই বিমানের ক্যাপ্টেন ছিলেন মাচ্ছার। তাঁর সহপাইলট ছিলেন ওমানের নাগরিক হামাম আল-হাম্মামি। গত বুধবার উড্ডয়নের পর হামাম ককপিটে থাকা কুঠার দিয়ে মাচ্ছারকে আক্রমণ করেন বলে অভিযোগ। একই সঙ্গে বিমানটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

দুই পাইলটের ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে কয়েক মিনিটের মধ্যে বিমানটি কয়েক হাজার ফুট নিচে নেমে যায়। গুরুতর আহত অবস্থাতেও পরিস্থিতি সামাল দিতে মাচ্ছার ককপিটের দরজা খুলে দেন এবং যাত্রীদের সতর্ক করেন। এরপর কয়েকজন যাত্রী ককপিটে ঢুকে হামামকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে দায়িত্বের বাইরে থাকা অন্য পাইলটরা বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করান।

মাচ্ছারের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বিমানটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টার পেছনে হামামের উদ্দেশ্য কী ছিল, তা এখনো তদন্তাধীন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কট্টরপন্থী মতাদর্শ নিয়ে উদ্বেগের কারণে এর আগে ওমানে হামামকে উড়োজাহাজ চালানো থেকে বিরত রাখা হয়েছিল।

ঘটনার তদন্তের নেতৃত্ব দিচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনাটির সঙ্গে কোনো ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা উদ্দেশ্যের’ যোগসূত্র ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।