১৪ অক্টোবর ২০২৬

ট্রাম্পের ভাইরাল স্যুট কি ‘মেড ইন বাংলাদেশ’? ভিডিওতে ট্যাগ ফাঁস হতেই মার্কিন রাজনীতি গরম!

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ১০, ২০২৬
ট্রাম্পের ভাইরাল স্যুট কি ‘মেড ইন বাংলাদেশ’? ভিডিওতে ট্যাগ ফাঁস হতেই মার্কিন রাজনীতি গরম!

সম্প্রতি নেব্রাস্কা অঙ্গরাজ্যের একটি অনুষ্ঠানে যে স্যুট পরে হাজির হন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, সেটির ব্র্যান্ডের ট্যাগ দেখা যাওয়ার ঘটনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এর মাধ্যমে ট্রাম্পের সমালোচনা হলেও বিশ্ববাজারে পুরুষদের পোশাক সরবরাহে আবারও নজরে এসেছে বাংলাদেশের ভূমিকা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টেক্সটাইল টাইমস এক পোস্টে জানিয়েছে, গত ৫ অক্টোবর নেব্রাস্কার গ্র্যান্ড আইল্যান্ডে ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ শীর্ষক সমাবেশে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় পোশাক ব্র্যান্ড জোস. এ. ব্যাংক-এর একটি নেভি ব্লু রঙয়ের স্যুট পরে উপস্থিত হন।

সমাবেশে ট্রাম্প গায়ে থেকে স্যুট জ্যাকেটটি খুলে ফেলেন। বিষয়টি নিয়ে পরে প্রশ্ন ওঠে যে, যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি স্যুটের বিকল্প থাকা সত্ত্বেও কেন ট্রাম্প আমদানি করা স্যুট পরেছেন।

ঘটনাটি তার দীর্ঘদিনের বিলাসবহুল জীবনযাপনের ভাবমূর্তির সঙ্গে কিছুটা বেমানান বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন বাড়ানো এবং দেশীয় শিল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি- ট্রাম্পের বহুল প্রচারিত ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির সঙ্গেও বিষয়টি প্রশ্ন তৈরি করেছে।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

তবে সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজনীতিতে নারীদের পোশাক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যে ধরনের অযাচিত আলোচনা চলে আসছে, তা বিবেচনায় নিলে পোশাককে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে না রাখাই ভালো। কিন্তু ট্রাম্পের ক্ষেত্রে বিষয়টি কিছুটা ভিন্ন। কারণ, তিনি একজন ধনকুবের, যার ব্যক্তিগত ভাবমূর্তির সঙ্গে বিলাসিতা, আভিজাত্য ও সম্পদের প্রদর্শন ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে আছে।

ট্রাম্পের স্যুটের ট্যাগটি জোস এ. ব্যাংকের ‘ট্রাভেলার’ সংগ্রহের স্যুটের আলাদা অংশের ট্যাগের সঙ্গে কিছুটা মিলে যায়। ব্র্যান্ডটির কালো রঙের বড় ও লম্বা গড়নের পুরুষদের জন্য তৈরি একটি স্যুটের দাম বর্তমানে ছাড়ে ২৭৯ ডলার। পণ্যটির বিজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এটি সহজে কুঁচকে যায় না এবং দাগ প্রতিরোধী। ফলে দীর্ঘ ভ্রমণের জন্য এটি ব্যবহারিক একটি পোশাক হতে পারে।

তবে ট্যাগের মিল থেকে ট্রাম্পের পরা স্যুটটির সঠিক মডেল বা দাম নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করা যায়নি।

স্যুটটি কি বাংলাদেশে তৈরি?

ট্রাম্পের স্যুট নিয়ে আলোচনার আরেকটি কারণ এর সম্ভাব্য উৎপাদনস্থল। জোস এ. ব্যাংক বৃহত্তর পোশাক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান টেইলর্ড ব্র্যান্ডসের অংশ। এই গোষ্ঠীর মালিকানায় রয়েছে ‘মেনস ওয়্যারহাউস’ ব্র্যান্ডটিও।

গোষ্ঠীটির কিছু পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি হয়। এর মধ্যে তাদের ‘জোসেফ অ্যাবাউড’ ব্র্যান্ডের কিছু পোশাকের দাম প্রায় ৭০০ ডলার। জোস এ. ব্যাংকের ‘আমেরিকান বেসপোক’ নামের একটি সংগ্রহও রয়েছে, যেটিকে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি বলে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। তবে ওই সংগ্রহের ট্যাগের সঙ্গে ট্রাম্পের পোশাকে দেখা ট্যাগের মিল নেই।

এ কারণে ট্রাম্পের স্যুটটি চীন কিংবা বাংলাদেশে তৈরি হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে পোশাকটির উৎপাদনস্থল নিশ্চিত করা যায়নি।

যদি স্যুটটি সত্যিই বিদেশে তৈরি হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির সঙ্গে একটি অস্বস্তিকর বৈপরীত্য তৈরি করতে পারে। কারণ, তার অন্যতম রাজনৈতিক অঙ্গীকার হলো যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন বাড়ানো, দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিদেশি পণ্যের ওপর নির্ভরতা কমানো।

অবশ্য বিদেশে তৈরি একটি স্যুট পরা মানেই তার প্রশাসনের উৎপাদননীতি ব্যর্থ- এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। তবে রাজনৈতিক প্রতীক ও ব্যক্তিগত জীবনযাপনের মধ্যে সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ তৈরি হয়।

ট্রাম্পের অনলাইন স্টোরে বিক্রি হওয়া ‘ভাইনইয়ার্ড ভাইন্স’ ব্র্যান্ডের যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি টাইয়ের দাম ১২৫ ডলার। কিন্তু একটি দেশীয় টাই ব্যবহার করা আর পুরো পোশাক দেশেই তৈরি হওয়া এক বিষয় নয়।

জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে চাপে থাকা মানুষের সঙ্গে কি সংযোগ তৈরি করতে চান?

ট্রাম্পের পোশাক নিয়ে সমালোচনা এবারই প্রথম নয়। এর আগে তার অতিরিক্ত লম্বা টাই নিয়ে ব্যঙ্গ করা হয়েছে। গত মাসে ওয়াশিংটনের মৃদু আবহাওয়ায় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে স্বাগত জানানোর সময় ওভারকোট ও গ্লাভস পরা নিয়েও সমালোচকেরা কটাক্ষ করেছিলেন। এবার স্যুটের ট্যাগও আলোচনার বিষয় হয়েছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বিগ্ন সাধারণ মানুষের কেউ কেউ ট্রাম্পের এই পোশাক পছন্দকে সাধারণ মানুষের কাছাকাছি থাকার ইঙ্গিত হিসেবে দেখতে পারেন। সাশ্রয়ী পোশাক ব্যবহারিক এবং মধ্যবিত্তের নাগালের মধ্যে- এমন বার্তা এতে তৈরি হতে পারে।

ইচ্ছাকৃতভাবে কি স্যুটের ট্যাগ দেখিয়েছেন?

ট্রাম্পের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও বক্তব্যের কারণে ষড়যন্ত্রতত্ত্বে বিশ্বাসী ব্যক্তিদের মতো তার সমালোচকেরাও অনেক সময় সাধারণ ঘটনাকে বিশেষ উদ্দেশ্যের সঙ্গে যুক্ত করেন। সে কারণে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলতে পারেন, স্যুটের ট্যাগটি কি ইচ্ছাকৃতভাবে দেখানো হয়েছিল, যাতে তাকে সাধারণ মানুষের কাছাকাছি বলে মনে হয়?

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে সাধারণ মানুষের মতো দেখানোর জন্য পোশাক ব্যবহারের নজির অবশ্য রয়েছে। সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আল গোরের সোয়েটার, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির ছদ্মবেশী সামরিক পোশাকের মতো দেখতে শিকারের জ্যাকেট কিংবা সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশের কাউবয় বুট- এসব পোশাকও একসময় আলোচনায় এসেছিল।

তবে ট্রাম্পের ক্ষেত্রে স্যুটের ট্যাগ দেখানোটি পরিকল্পিত ছিল বলে মনে করার মতো স্পষ্ট প্রমাণ নেই। ভিডিওতে দেখা যায়, মঞ্চে নাচার সময় তিনি স্যুটের সামনের অংশ খুললে ট্যাগটি দৃশ্যমান হয়। ফলে এটি নিছক অনিচ্ছাকৃত ঘটনা হয়ে থাকতে পারে।

চলতি বছরের শুরুর দিকে ট্রাম্প তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের জন্য ‘ফ্লোরশেইম’ ব্র্যান্ডের জুতা কিনেছিলেন বলেও খবর প্রকাশিত হয়। এটি তুলনামূলক সাশ্রয়ী এবং কাজের উপযোগী জুতার ব্র্যান্ড। তখন ট্রাম্প জুতাগুলোকে ‘চমৎকার’ বলে প্রশংসা করেন এবং মন্ত্রিসভার সদস্যদের স্নিকার্সের পরিবর্তে এগুলো পরার পক্ষে মত দেন।

এসব ঘটনা বিবেচনায় নিয়ে কেউ কেউ মনে করছেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ট্রাম্পের পোশাক বাছাইয়ের রুচি হয়তো কিছুটা বদলাচ্ছে। তবে তা যেকোনও রাজনৈতিক কৌশলের অংশ, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর ভিত্তি নেই।

পোশাকের প্রচারেও কি ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য থাকতে পারে?

ট্রাম্প অতীতে নিজের পরিচিতি ও ভাবমূর্তিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করেছেন। জর্জিয়ার একটি মামলায় গ্রেফতারের পর তোলা তার মাগশট ছবির সময় পরা স্যুটের কাপড়ের নমুনাও বিক্রি করেছিলেন। এছাড়া বাইবেল, ঘড়ি, স্টেক, ওয়াইন ও পানির মতো পণ্যও তার ব্যবসায়িক উদ্যোগের অংশ হয়েছে।

তাই কেউ কেউ প্রশ্ন তুলতে পারেন, জোস এ. ব্যাংক ব্র্যান্ডের ট্যাগ দৃশ্যমান হওয়ার পেছনে কোনও ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য ছিল কি না। তবে এ বিষয়ে কোনও প্রমাণ সামনে আসেনি।

ট্রাম্পের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি যে পোশাকটি রাজনৈতিকভাবে যুক্ত, সেটি হলো লাল রঙের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ বা ‘মাগা’ টুপি। তার জনপ্রিয়তাবাদী রাজনৈতিক আন্দোলনের অন্যতম প্রতীক এই টুপির দাম তার অনলাইন স্টোরে ৫৫ ডলার। পণ্যটির বিজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এটি যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি।
শেষ পর্যন্ত স্যুটের ট্যাগটি ট্রাম্পের পোশাকের পছন্দে পরিবর্তনের ইঙ্গিত, নিছক অনিচ্ছাকৃত দৃশ্য, নাকি তার ভাবমূর্তি নিয়ে নতুন বিতর্কের উপলক্ষ- তা নিশ্চিত নয়।

সূত্র: সিএনএন

প্রবাসী বাবার দুর্দিনে সংসারের হাল ধরেছিলেন ফয়সাল, সড়কেই ঝরলো প্রাণ

প্রকাশ: মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৩, ২০২৬
প্রবাসী বাবার দুর্দিনে সংসারের হাল ধরেছিলেন ফয়সাল, সড়কেই ঝরলো প্রাণ

প্রবাসে কাজ না থাকায় দীর্ঘ দিন ধরে বাড়িতে টাকা পারছেন না প্রবাসী বাবা। তাই চারজনের ছোট্ট সংসারটির দায়িত্ব এসে পড়ে ১৮ বছরের তরুণ মো. ফয়সালের কাঁধে। কিন্তু হঠাৎ সড়ক দুর্ঘটনায় সড়কের ঝরে গেল সেই ফয়সালের প্রাণ।

পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলেকে হারিয়ে শোকে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন মা। প্রবাসী বাবার সংসারের হাল ধরা ফয়সালের মৃত্যুতে পরিবারে চলছে শোকের মাতম।

সোমবার (১২ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের ছগুড়া-হাতিমারা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ফয়সাল কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার পারুয়ারা গ্রামের জমশের বাড়ির প্রবাসী খোরশেদ আলমের বড় ছেলে। তিনি দেবিদ্বার জেলা পরিষদ মার্কেটের একটি কাপড়ের দোকানে কাজ করতেন।

নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকালে মোটরসাইকেল নিয়ে কর্মস্থলের উদ্দেশে বের হয়েছিলেন ১৮ বছরের তরুণ। কিন্তু আর ফেরা হলো না ১৮ বছর বয়সী তরুণ মো. ফয়সালের। কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে বাস ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই নিহত হন তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দেবিদ্বারগামী একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে কুমিল্লাগামী মর্ডান পরিবহনের একটি বাসের সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলচালক ফয়সাল ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো সোমবার সকালে মোটরসাইকেল নিয়ে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন ফয়সাল। তার বাবা খোরশেদ আলম প্রবাসে থাকলেও কাজ না থাকায় নিয়মিত বাড়িতে টাকা পাঠাতে পারতেন না। ফলে অল্প বয়সেই পরিবারের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিতে হয়েছিল ফয়সালকে। কাপড়ের দোকানে কাজ করে পরিবারের খরচ চালাতে সহযোগিতা করতেন তিনি।

ফয়সালের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারটি এখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। যে তরুণের আয়ের ওপর নির্ভরশীল ছিল পরিবার, তার চলে যাওয়া শোকের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি করেছে।

এদিকে স্থানীয়রা জানান, এই দুর্ঘটনার পর ফয়সালের বাড়িতে চলছে মাতম। এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। সন্তান হারানোর শোকে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন মা। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে বাড়ির পরিবেশ।

ফয়সালের ছোট ভাই সিয়াম (১৪) জানায়, সকালে খাওয়া-দাওয়া করে বাড়ি থেকে বের হয় তার ভাই। পরে তারা খবর পান, ফয়সাল সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন।

মিরপুর হাইওয়ে থানার ওসি মো. আনিছুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থলে আমাদের টিম গিয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাইনি। ঘাতক বাসটিও খুঁজে পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরকীয়ার অভিযোগ তুলে প্রবাসীর স্ত্রীর চুল কাটার অভিযোগ, ভিডিও ভাইরাল

প্রকাশ: মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৩, ২০২৬
পরকীয়ার অভিযোগ তুলে প্রবাসীর স্ত্রীর চুল কাটার অভিযোগ, ভিডিও ভাইরাল

পরকীয়ার অভিযোগ তুলে এক গৃহবধূকে আটকে রেখে মারধর, মাথার চুল কেটে দেওয়া এবং গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে দুই যুবকের বিরুদ্ধে। নির্যাতনের ঘটনার দুটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

ঘটনাটি ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের বেপারীডাঙ্গী গ্রামের। নির্যাতনের শিকার নারী রিক্তা বেগম (২৮)। তিনি ওই গ্রামের সৌদি আরবপ্রবাসী রাজিব বেপারীর স্ত্রী।

রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও দুটি ছড়িয়ে পড়ে। এরপর অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযানে নামে পুলিশ।

ছড়িয়ে পড়া ১ মিনিট ৩৮ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক গৃহবধূকে চেয়ারে বসিয়ে রাখা হয়েছে। কালো টি-শার্ট পরা এক যুবক তার হাত ধরে রেখেছেন। এ সময় চেক টি-শার্ট পরা আরেক যুবক ধারালো কাঁচি দিয়ে তার মাথার চুল কাটছেন। ওই নারী চিৎকার করে নিজেকে রক্ষার চেষ্টা করলেও চুল কাটা বন্ধ করেননি তারা। ভিডিওর শেষ দিকে ওই নারীর মুখে থাপ্পড় মারতেও দেখা যায়।

অন্যদিকে, ১ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের আরেকটি ভিডিওতে রাতে ওই নারী ও এক যুবককে গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে রাখার দৃশ্য দেখা যায়। এ সময় ওই নারীকে মারধর করতেও দেখা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (১০ অক্টোবর) বাবার বাড়ি থেকে স্বামীর বাড়িতে আসেন রিক্তা বেগম। ওই রাতেই তার কক্ষে এক যুবককে দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। তারা দুজনকে আটক করেন। এ সময় ওই যুবক পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজন তাকে ধরে রাখেন।

স্থানীয়দের দাবি, এরপর ওই নারী ও যুবককে আটকে রাখা হয়। পরদিন রোববার বিকেলে গৃহবধূর চুল কেটে তাকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। আটক যুবককে পরে ছেড়ে দেওয়া হয় বলেও জানান তারা।

স্থানীয় সূত্রে নির্যাতনে জড়িত হিসেবে সুমন হোসেন (২৬) ও জয় হোসেন (২৮) নামে দুই যুবকের নাম এসেছে। সুমন স্থানীয় বাসিন্দা ইউসুফ বেপারীর নাতি বলে জানা গেছে। তবে তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নির্যাতনের শিকার রিক্তা বেগমের বাবার বাড়ি সদরপুর উপজেলার পাশের ভাষাণচর ইউনিয়নের কারীরহাট গ্রামে। সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আ. জলিল মোল্যা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে এ বিষয়ে নির্যাতনের শিকার নারী ও তার পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ভিডিও দুটি কে বা কারা ধারণ করেছেন এবং কারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নির্যাতনের ঘটনায় কারা সরাসরি জড়িত এবং এর পেছনে অন্য কারও ভূমিকা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন শাহ বলেন, ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশের একাধিক দল কাজ শুরু করেছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। কেউ অপরাধ করলে তার বিচারের জন্য আইন রয়েছে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। তিনি জানান, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিনিও সংশ্লিষ্ট এলাকায় অভিযানে রয়েছেন।

মালয়েশিয়ায় ভিসা কোটা জালিয়াতি চক্র উন্মোচিত: ২৬৫ বাংলাদেশির পাসপোর্টসহ আটক ২০

প্রকাশ: রবিবার, অক্টোবর ১১, ২০২৬
মালয়েশিয়ায় ভিসা কোটা জালিয়াতি চক্র উন্মোচিত: ২৬৫ বাংলাদেশির পাসপোর্টসহ আটক ২০

মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মী নিয়োগের কোটা অপব্যবহার করে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগে একটি চক্রের সন্ধান পেয়েছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। এ ঘটনায় দুই ব্যবসায়ী, ছয় স্থানীয় নারী কর্মী ও ১২ বিদেশি গ্রাহকসহ মোট ২০ জনকে আটক করা হয়েছে। অভিযানে বাংলাদেশি নাগরিকদের ২৬৫টিসহ বিভিন্ন দেশের মোট ৩৫২টি পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৭টায় সেলাঙ্গর রাজ্যের আমপাংয়ের তামান দাতো আহমাদ রাজালি এলাকার একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ জেআইএম জানায়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগ এবং দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বোর্ডের সহযোগিতায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। জনসাধারণের দেওয়া তথ্য ও গোয়েন্দা অনুসন্ধানের ভিত্তিতে অভিযানটি চালানো হয়।

অভিযানে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন পুরুষকে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিক ও পরিচালনাকারী হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে। এ ছাড়া ছয়জন স্থানীয় নারী কর্মী এবং নয়জন পুরুষ ও তিনজন নারীসহ ১২ বিদেশি গ্রাহককে আটক করা হয়েছে। আটক বিদেশি গ্রাহকদের জাতীয়তা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

অভিবাসন বিভাগের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, চক্রটি ‘মালিক এ থেকে মালিক বি’ পদ্ধতিতে বিদেশি কর্মী নিয়োগের কোটা অপব্যবহার করছিল। এ পদ্ধতিতে একটি প্রতিষ্ঠান বিদেশি কর্মী নিয়োগের কোটা অনুমোদন করিয়ে অস্থায়ী কর্মসংস্থান পাসের মাধ্যমে কর্মীদের মালয়েশিয়ায় নিয়ে আসত। পরে ওই কর্মীদের কোটা অনুমোদনকারী প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ না দিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানে কাজের জন্য সরবরাহ করা হতো।

তদন্তকারীদের ধারণা, এভাবে প্রতিজন বিদেশি কর্মীর কাছ থেকে ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৫ হাজার রিঙ্গিত পর্যন্ত আয় করত চক্রটি। কোটা অনুমোদন পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো প্রকৃত ব্যবসায়িক কার্যক্রমের সাথে অসংগতিপূর্ণ তথ্য জমা দিয়েছিল বলেও প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

অভিযানকালে বাংলাদেশি নাগরিকদের ২৬৫টি, ইন্দোনেশীয় নাগরিকদের ৬৩টি, পাকিস্তানি নাগরিকদের ১২টি এবং ভারতীয় নাগরিকদের ১২টি পাসপোর্ট জব্দ করা হয়। সব মিলিয়ে জব্দ করা পাসপোর্টের সংখ্যা ৩৫২টি।

এ ছাড়া সরকারি কর ফাঁকি দেওয়ার উদ্দেশ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো প্রকৃত হিসাবের তুলনায় কম মুনাফা দেখিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একইসাথে ২০২০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ব্যক্তিগত আয় ঘোষণা না করার অভিযোগে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিকের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বোর্ড

মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ জানিয়েছে, দেশটির আইন লঙ্ঘন করে বিদেশি কর্মী নিয়োগের কোটা অপব্যবহার, অবৈধভাবে কর্মী সরবরাহ এবং এসব কর্মকাণ্ড থেকে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। শুধু আইন লঙ্ঘনকারী বিদেশি কর্মী নয়, বরং এসব কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী, পরিচালনাকারী ও সুবিধাভোগীদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

বিদেশে গিয়ে নরকযন্ত্রণা, দেশে ফিরে সামাজিক কটূক্তি! বিদেশফেরত নারী শ্রমিকদের মানবেতর জীবন

প্রকাশ: রবিবার, অক্টোবর ১১, ২০২৬
বিদেশে গিয়ে নরকযন্ত্রণা, দেশে ফিরে সামাজিক কটূক্তি! বিদেশফেরত নারী শ্রমিকদের মানবেতর জীবন

প্রবাসে নির্যাতনের শিকার হয়ে ঘরে ফিরেও জীবন নিয়ে স্বস্তিতে নেই বিদেশফেরত নারী শ্রমিকরা। শূন্য হাতে দেশে ফেরার পরও তাদের নতুন করে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে চরম সংকটের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীর সন্দেহ, কটূক্তি আর নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে ভয়াবহ মানসিক বিপর্যয়ে দিন পার করতে হচ্ছে তাদের।

ভুক্তভোগী নারী কর্মীরা জানান, প্রতারণা ও নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফেরার পর নেতিবাচক সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিতে আরেকটি বিপর্যয় নেমে আসছে জীবনে। সবাই দূরে থাকে, মিশতে চায় না। স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সরকারের পক্ষ থেকে কোনোরূপ সহায়তা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা থেকেও বঞ্চিত থাকছেন তারা।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় বলছে, প্রত্যাগত নারী শ্রমিকদের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তাদের জন্য একটি নীতিমালা তৈরি হওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। কিন্তু ঠিক কতজন নারী কর্মী বিদেশফেরত হয়েছেনÑএর কোনো তালিকা নেই প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কাছে।

এদিকে বিদেশফেরত কর্মীদের জন্য ‘প্রত্যাগত অভিবাসীকর্মী পুনঃএকত্রীকরণ নীতি, ২০২৫’ শীর্ষক নীতিমালা থাকলেও বাস্তবে তা কতটুকু বাস্তবায়ন হচ্ছে তা নিয়ে ভুক্তভোগীরা প্রশ্ন তুলছেন। তারা বলছেন, এসব নীতিমালা কেবল কাগজে-কলমে। সরকার থেকে কোনো খোঁজখবর রাখা হয় না।

বিদেশে গিয়ে ভালো জীবনের স্বপ্ন দেখেছিলেন নরসিংদীর রনি বেগম। পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফিরবে, সন্তানের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত হবে—এমন আশায় কাজের ভিসায় গত জুলাইয়ে পাড়ি দিয়েছিলেন মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবে। কিন্তু সেখানে গিয়ে কাজ না পাওয়া, নির্যাতন ও প্রতারণার শিকার হন। প্রায় দেড় মাস বন্দি থাকার পর শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে দেশে ফিরতে হয় তাকে।

রনি বেগম বলেন, আমার স্বামী রিকশা চালায়। একমাত্র ছেলের ভবিষ্যৎ ও স্বামীর কষ্ট দেখে বিদেশ যাওয়ার চিন্তা মাথায় আসে। ভালো কাজের আশায় ঋণ করে সৌদি আরবে গেলেও তা সুখকর হয়নি। কিন্তু দেশে আসার পর পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন কিংবা প্রতিবেশীরা বিদেশযাত্রা ও ফিরে আসার কারণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ফলে প্রয়োজনীয় সহমর্মিতা ও মানসিক সমর্থনের বদলে মুখোমুখি অপমান, অবিশ্বাস কিংবা সামাজিক দূরত্বের মুখে পড়তে হচ্ছে।

জানা যায়, ‘প্রত্যাগত অভিবাসীকর্মী পুনঃএকত্রীকরণ নীতি, ২০২৫’ নীতিমালায় উল্লেখ আছে, প্রত্যাগত অভিবাসী কর্মীদের যৌক্তিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক অধিকার সমুন্নত এবং সুরক্ষিতকরণ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি জেন্ডার সমতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিবাসী নারী কর্মীকে বৈষম্যহীন ও সমান সুযোগ প্রদান নিশ্চিত করতে হবে।

এখানে আরো বলা হয়, প্রত্যাগত নারী অভিবাসীকর্মীরা অভিবাসনজনিত যেসব সামাজিক সমস্যা, নেতিবাচক ধারণা ও মনোভাবের সম্মুখীন হন তা দূর করতে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট প্ল্যাটফর্মের (বিএমইটি) তথ্যনুযায়ী, ২০২৪-এর জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের অক্টোবরের ১০ তারিখ পর্যন্ত এক লাখ ৭২ হাজার ২০৮ জন নারী শ্রমিক বিদেশে গেছেন। এর মধ্যে ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বরে বিদেশ গেছেন ৬১ হাজার ২৫৬ জন নারী শ্রমিক। ২০২৫ সালে গেছেন ৬২ হাজার ৩৫৫ জন ও ২০২৬ সালের অক্টোবর ১০ তারিখ পর্যন্ত ৪৮ হাজার ৬৯৭ জন বিদেশে পাড়ি জমান।

ওই সময়ে যেসব দেশে বাংলাদেশ থেকে বেশি নারী শ্রমিক গেছেন তার মধ্যে সৌদি আরবের সংখ্যা বেশি। অর্থাৎ আড়াই বছরে সৌদি গেছেন এক লাখ ১৮ হাজার ২৮ জন নারী শ্রমিক, জর্ডান গেছেন ৩৭ হাজার ২৮৭ জন, কাতারে ৫,৮৯৯ জন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২,৪৮১ জন, লেবানন ১,১৩০ জন ও কুয়েতে গেছেন ১,১৩০ জন নারী শ্রমিক।

কতজন নারী শ্রমিক প্রত্যাগত হয়েছেন তা জানতে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) পরিচালক (প্রশাসন) নাজমুল ইসলাম সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি সিস্টেম অ্যানালিস্টের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। পরবর্তী সময়ে সিস্টেম অ্যানালিস্ট আবু রায়হানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, প্রত্যাগত নারী কর্মীদের তালিকা এন্ট্রি নেই তাদের কাছে।

সাতক্ষীরার সুমি বেগম। ২০২৩ সালে স্থানীয় দালালের মাধ্যমে ভালো বেতনের প্রস্তাবে কাজের ভিসায় তিনি সৌদি আরবে যান। সেখানে একটি বাসায় কাজের জন্য নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে যাওয়ার পর সুখের বদলে জীবনে নেমে আসে দুর্বিষহ নির্যাতন। তিনি বলেন, একটা বাসায় কাজ করতাম। তারা আমাকে ঠিকমতো বেতন দেয়নি। শেষে যখন আট মাসের বেতন পুরোটাই আটকে ফেলেছে, তখন অনেক কান্নাকাটি করার পর আমি মুক্তি পাই।

সুমি বলেন, দেশে আসার পর আমাকে নানান প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। প্রতিবেশীরা ভিন্নদৃষ্টিতে দেখে। অথচ আমার অপরাধ কী সেটাই তো আমি জানি না। সংসারের হাল ধরতেই তো আমি বিদেশে গেছি। এটাই কি আমার অপরাধ? সরকার যদি আমাদের সম্মান দিতে না পারে, তাহলে বিদেশে কেন নারী শ্রমিক পাঠাচ্ছে?

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার তাহিরুন্নেসা বলেন, আমার স্বামীর দুর্ঘটনার পর ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য গৃহপরিচারিকার কাজে আমি সৌদি আরবে যাই। সেখানে আমাকে অনেক নির্যাতন সহ্য করে অবশেষে দেশে ফিরতে হয়েছে। তিনি বলেন, দেশে ফেরার পর আত্মীয়স্বজনরা আমার থেকে দূরে থাকে। কোনো সামাজিক অনুষ্ঠানেও সেভাবে তারা আমাকে দাওয়াত দেয় না। মনোভাব এমন, আমি তাদের সঙ্গে মিশলে সম্মানহানি হবে। এসব বিষয় নিয়ে প্রতিনিয়ত মানসিক যুদ্ধ করে বেঁচে আছি।

তাহিরুন্নেসা বলেন, ঋণ করে বিদেশে গিয়েছিলাম, নিঃস্ব হয়ে ফিরেছি। কিন্তু সরকারের কোনো চিন্তা নেই আমাদের জন্য। কোনো সহায়তাও মিলছে না। আমি অসুস্থ স্বামী ও চারজন সন্তান নিয়ে কীভাবে বেঁচে থাকবÑসে চিন্তায় তিলে তিলে শেষ হয়ে যাচ্ছি।

সম্মানের সঙ্গে পুনর্বাসন জরুরি

অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর আমার দেশকে বলেন, বিদেশফেরত নারী শ্রমিকদের পুনর্বাসন বলতে শুধু আর্থিক সহায়তা বা প্রশিক্ষণ বোঝালে চলবে না। তাদের সামাজিক মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কেউ বিদেশ গেলেই যে তাকে নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখতে হবে, সে মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন। তাদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, কাউন্সেলিংয়ের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদেরও সচেতন করতে হবে, যাতে তারা ভুক্তভোগী নারীকে দোষারোপ না করে পুনর্বাসনে সহযোগিতা করেন।

সরকারি উদ্যোগ নিয়ে এ বিশেষজ্ঞ বলেন, প্রত্যাগত নারী শ্রমিকদের নিয়ে সরকারি উদ্যোগগুলো যথেষ্ট নয়। এক্ষেত্রে প্রচার ও সামাজিক উদ্যোগ প্রয়োজন। এছাড়া ‘প্রত্যাগত অভিবাসীকর্মী পুনঃএকত্রীকরণ নীতি, ২০২৫’ নীতিমালা বাস্তবায়নে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় প্রয়োজন। কতজন প্রত্যাগত হয়েছেন, এর তালিকা অবশ্যই থাকা প্রয়োজন। বিশেষ করে যেসব নারী শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফেরেন, তাদের পরিচয় ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার গোপনীয়তা রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি।

এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, প্রত্যাগত নারী শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়টি আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। বিশেষ করে যারা বিধবা ও আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী নয়, তাদের কীভাবে স্বাবলম্বী করা যায় এবং এজন্য ডিসেম্বরের মধ্যেই ভালো কিছু করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।

সূত্র: আমার দেশ

ইউরোপের স্বপ্নে বিভোর প্রবাসীরা ঝুঁকি নিচ্ছেন বসনিয়া সীমান্তে, শীর্ষ তালিকায় বাংলাদেশ

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ১০, ২০২৬
ইউরোপের স্বপ্নে বিভোর প্রবাসীরা ঝুঁকি নিচ্ছেন বসনিয়া সীমান্তে, শীর্ষ তালিকায় বাংলাদেশ

বসনিয়া-হারৎসেগোভিনায় চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে অনিয়মিতভাবে সীমান্ত পারাপার করতে গিয়ে বা এ ধরনের চেষ্টার সময় শনাক্ত হওয়া অভিবাসীর সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭৬ শতাংশ বেড়েছে।

এ সময়ে শনাক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে বাংলাদেশের ৬৮ জন নাগরিক রয়েছেন। তালিকায় বাংলাদেশ ছাড়াও মিশর, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও তুরস্কের নাগরিকেরা রয়েছেন।

বসনিয়া-হারৎসেগোভিনার মন্ত্রিপরিষদ গৃহীত ‘দেশটিতে অভিবাসন পরিস্থিতি’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে দেশটির সীমান্ত পুলিশ অনিয়মিতভাবে সীমান্ত পারাপার করতে গিয়ে বা এ ধরনের চেষ্টার সময় মোট ১ হাজার ১৯৩ জনকে শনাক্ত করেছে। গত বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল তুলনামূলকভাবে কম।

অনিয়মিত সীমান্ত পারাপারের চেষ্টায় সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হয়েছেন মিশরের নাগরিকেরা। তাদের সংখ্যা ১৩৬। এরপর আফগানিস্তানের ১১৫ জন, পাকিস্তানের ১১৩ জন, বাংলাদেশের ৬৮ জন এবং তুরস্কের ৬৩ জন নাগরিক রয়েছেন।

দেশটির বিদেশি নাগরিকবিষয়ক পরিষেবার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে বসনিয়া-হারৎসেগোভিনায় মোট ৩ হাজার ৪৬৮ জন অভিবাসীর তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা ৬৬ শতাংশ বেশি।

এ সময়ে দেশটির অস্থায়ী অভ্যর্থনা কেন্দ্রগুলোতে অবস্থানরত অভিবাসীর সংখ্যাও বেড়েছে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে এসব কেন্দ্রে গড়ে প্রায় ৯২৪ জন অবস্থান করেছেন। গত বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল গড়ে ৫৮১ জন।

এদিকে, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে দেশটিতে ৪ হাজার ৫৬৯টি অস্থায়ী বসবাসের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা ২৩ শতাংশ বেশি। অস্থায়ী বসবাসের অনুমতি দেওয়ার সবচেয়ে সাধারণ কারণ ছিল কর্মসংস্থান।

বসনিয়া-হারৎসেগোভিনার মন্ত্রিপরিষদ গত বছরের সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কৌশল বাস্তবায়নের কর্মপরিকল্পনা নিয়েও একটি প্রতিবেদন গ্রহণ করেছে।

কর্মপরিকল্পনায় সীমান্তে তল্লাশি ও নজরদারি, আন্তসীমান্ত অপরাধ দমন, আন্তর্জাতিক সুরক্ষা এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সঙ্গে আচরণসংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি ঝুঁকি বিশ্লেষণ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া দেশটির রাষ্ট্রীয় তদন্ত ও সুরক্ষা সংস্থার (সিপা) জন্য বিশেষায়িত সরকারি যানবাহন কেনা ও ব্যবহারের শর্তাবলি নিয়ে একটি বিধিমালার প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ।

প্রস্তাবিত বিধিমালায় চারটি শ্রেণিতে মোট ১৮০টি বিশেষায়িত যানবাহনের কথা বলা হয়েছে। প্রতিটি যানবাহনের ক্রয়মূল্য ৩৫ হাজার থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার বসনীয় মার্কের মধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে।

দুর্নীতিবিরোধী রাষ্ট্রসমূহের জোট (গ্রেকো)-এর পঞ্চম মূল্যায়ন পর্বে দেওয়া সুপারিশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি সম্পর্কিত তথ্যও গ্রহণ করেছে বসনিয়া-হারৎসেগোভিনার মন্ত্রিপরিষদ।

২০২৪ সালের নভেম্বরে গ্রেকো জানিয়েছিল, সংস্থাটির দেওয়া মোট ২৫টি সুপারিশের মধ্যে বসনিয়া-হারৎসেগোভিনা মাত্র দুটি সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন করেছে। ১৫টি সুপারিশ আংশিক বাস্তবায়ন করা হয়েছে এবং বাকি আটটি বাস্তবায়ন করা হয়নি।

নতুন তথ্যের ভিত্তিতে আগামী নভেম্বরে সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দেশটির অগ্রগতি পুনর্মূল্যায়ন করার কথা রয়েছে গ্রেকোর।

এছাড়া, গত বছরের জন্য দেশটিতে সংগঠিত অপরাধ দমনের কৌশল বাস্তবায়নসংক্রান্ত একটি প্রতিবেদনও গ্রহণ করেছে মন্ত্রিপরিষদ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চারটি কৌশলগত লক্ষ্যের আওতায় মোট ৫১টি কার্যক্রম পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এর মধ্যে ২৯টি কার্যক্রম, অর্থাৎ ৫৬ দশমিক ৮৬ শতাংশ, সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বাকি ২২টি কার্যক্রম, অর্থাৎ ৪৩ দশমিক ১৪ শতাংশ, আংশিক বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

সূত্র: ইনফোমাইগ্রেন্টস