২২ অক্টোবর ২০২৬

প্রকাশ্যে এল মক্কা চুক্তির মূল দলিল, কী আছে এতে

প্রকাশ: বুধবার, অক্টোবর ২১, ২০২৬
প্রকাশ্যে এল মক্কা চুক্তির মূল দলিল, কী আছে এতে

সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে সাক্ষরিত মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির মূল পাঠ পার্লামেন্টে পেশ করেছে আঙ্কারা। তুরস্কের সরকার গতকাল মঙ্গলবার মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির মূল পাঠটি দেশটির পার্লামেন্ট পেশ করে। লন্ডন থেকে প্রকাশিত মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এই চুক্তির মূল পাঠের তথ্য প্রকাশ করেছে।

তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তান গত আগস্টে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। এর মাধ্যমে একটি নতুন আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা জোট তৈরি হয়, যা স্বাক্ষরকারী দেশগুলোকে একে অপরের সুরক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ করে। অনেকটা ন্যাটোর অনুচ্ছেদ ৫ এর মতো।

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির মূল পাঠে কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা অঞ্চলকে সরাসরি হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। তবে জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে, জোটভুক্ত কোনো দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব বা আঞ্চলিক অখণ্ডতার ওপর সশস্ত্র হামলা হলে অন্য অংশগ্রহণকারী দেশগুলো একে অপরকে সাহায্য করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে।

চুক্তির প্রথম অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘যদি কোনো ‘পক্ষের’ আঞ্চলিক অখণ্ডতা, সার্বভৌমত্ব বা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমানা হুমকি বা বিপদের মুখে পড়ে, তবে ‘পক্ষগুলো’ সেই হুমকি বা বিপদ দূর করতে প্রয়োজনীয় সব পথ অবলম্বন করবে।’ ২ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘বাইরে থেকে কোনো ‘পক্ষের’ ওপর সশস্ত্র হামলা চালানো হলে তা সব ‘পক্ষের’ ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে।’ একই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, “যদি কোনো একটি ‘পক্ষ’ অন্য কোনো দেশ বা জোটের মাধ্যমে সশস্ত্র হামলা বা সামরিক আগ্রাসনের শিকার হয়, তবে অন্য ‘পক্ষগুলো’ তাৎক্ষণিকভাবে আক্রান্ত দেশকে সাহায্য করবে এবং একে অপরকে দেওয়ার মতো সব ধরনের সহযোগিতার সর্বোচ্চ ব্যবহার করবে।”

এই অনুচ্ছেদে আরও বলা হয়, কী পরিমাণ ও কেমন সাহায্য প্রয়োজন—তা একটি নিরপেক্ষ মূল্যায়নের মাধ্যমে ঠিক করা হবে। এরপর দেশগুলো তাদের সাধ্যের মধ্যে থাকা সামরিক ক্ষমতা ও প্রয়োজনীয় সম্পদ দিয়ে একে অপরকে সহযোগিতা করবে।

এ ছাড়া, প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়ন, সশস্ত্র বাহিনীর প্রশিক্ষণ এবং একে অপরকে সামরিক সরঞ্জাম, জ্বালানি ও অন্যান্য প্রতিরক্ষা উপকরণ সরবরাহের ক্ষেত্রে সহযোগিতার কথা বলা হয়েছে এতে। গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের জন্য একটি ফ্রেমওয়ার্ক বা কাঠামো তৈরির বিধানও এই চুক্তিতে রাখা হয়েছে।

১৬টি অনুচ্ছেদবিশিষ্ট এই চুক্তির নির্দিষ্ট কোনো মেয়াদ বা সমাপ্তির তারিখ নেই। চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর অন্তত ১০ বছর পার হলে তবেই কোনো দেশ এতে থেকে নাম প্রত্যাহার করতে পারবে। তবে এর জন্য অন্য দেশগুলোকে অন্তত তিন মাস আগে লিখিতভাবে নিজের ইচ্ছার কথা জানাতে হবে।

নিচে চুক্তিটির পুরো পাঠ দেওয়া হলো

এই চুক্তির পক্ষগুলো হলো তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরব। একে অপরের সার্বভৌমত্বের প্রতি পারস্পরিক সম্মান, জাতিসংঘ সনদের নীতিসমূহ, আন্তর্জাতিক আইন এবং নিজ নিজ দেশের বিদ্যমান আইনের মূল নীতিগুলোকে বিবেচনায় রেখে; এবং প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব সম্পর্কিত বিদ্যমান সহযোগিতা, সমন্বয় ও সংহতকরণ ব্যবস্থাকে একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে রূপান্তর করতে সম্মত হয়ে,

যৌথ স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে ‘পক্ষগুলোর’ নিজেদের মধ্যে সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার ইচ্ছা পুনর্ব্যক্ত করে, যা তাদের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যকার পারস্পরিক কাজের সক্ষমতা, প্রস্তুতি ও কার্যকারিতা বৃদ্ধি করবে এবং এর মাধ্যমে ‘পক্ষগুলো’ ও তাদের জনগণের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করবে,

একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, সার্বভৌম সমতা, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমানার পবিত্রতা রক্ষার নীতিগুলোর গুরুত্ব আবারও নিশ্চিত করে এবং ঘোষণা করে যে, কোনো পক্ষের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার ওপর সশস্ত্র হামলা হলে পারস্পরিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জরুরি,

আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যৌথ প্রচেষ্টা ও সমন্বয়ের গুরুত্বের কথা প্রকাশ করে,

সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় ‘পক্ষগুলোর‘ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যকার বিদ্যমান সহযোগিতা আরও গভীর করার ইচ্ছা প্রকাশ করে,

আন্তর্জাতিক বিষয়ে অভিন্ন অবস্থান নেওয়ার লক্ষ্যে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে ‘পক্ষগুলোর‘ মধ্যকার বিদ্যমান সহযোগিতা জোরদার করার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে,

‘পক্ষগুলোর’ মধ্যে প্রতিরক্ষা ও প্রতিরক্ষা-শিল্পের সহযোগিতা আরও বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে,

নিম্নলিখিত বিষয়গুলোতে সম্মত হয়েছে

অনুচ্ছেদ ১

‘পক্ষগুলো’ একে অপরের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমানার পবিত্রতা নিশ্চিত ও রক্ষা করতে একে অপরকে সহযোগিতা করবে। যদি কোনো ‘পক্ষের’ আঞ্চলিক অখণ্ডতা, সার্বভৌমত্ব বা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমানা হুমকির মুখে পড়ে বা বিপন্ন হয়, তবে ‘পক্ষগুলো’ সেই হুমকি বা বিপদ দূর করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

অনুচ্ছেদ ২

বাইরে থেকে কোনো ‘পক্ষের’ ওপর সশস্ত্র আক্রমণ হলে তা সব ‘পক্ষের’ ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচিত হবে। যদি কোনো ‘পক্ষ’ অন্য কোনো দেশ বা একাধিক দেশের মাধ্যমে সশস্ত্র আক্রমণ বা সামরিক আগ্রাসনের শিকার হয়, তবে অন্য ‘পক্ষগুলো’ তাৎক্ষণিকভাবে আক্রান্ত ‘পক্ষকে’ সাহায্য করবে এবং একে অপরকে দেওয়া যায় এমন সব ধরনের সহায়তার পুরো ব্যবহার নিশ্চিত করবে। এই উদ্দেশ্যে, জাতিসংঘ সনদের ৫১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আত্মরক্ষার অধিকার বাস্তবায়নের জন্য সাহায্য চাওয়ার পর একটি নিরপেক্ষ মূল্যায়নের মাধ্যমে সহায়তার পরিধি ও ধরণ নির্ধারণ করা হবে। ‘পক্ষগুলো’ তাদের সামরিক সক্ষমতা ও অন্যান্য সম্পদসহ উপলব্ধ সব উপায়ের মধ্য থেকে সহযোগিতা করবে।

অনুচ্ছেদ ৩

এই চুক্তির ২ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ‘পক্ষগুলো‘ প্রতিরক্ষা, প্রতিরক্ষা শিল্প এবং নিরাপত্তা ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে; নিজ নিজ সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে সম্পর্ক বাড়াবে এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার করার জন্য সম্মত হওয়া বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

অনুচ্ছেদ ৪

চুক্তিতে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো (পক্ষগুলো) আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিষয়ে নিয়মিত আলোচনা করবে। তারা নিজ নিজ এবং যৌথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা করতে এবং যে কোনো হুমকি ও বিপদ দূর করতে সাধারণ মূল্যায়নের ভিত্তিতে পারস্পরিক সহায়তার ধারা বজায় রাখবে।

অনুচ্ছেদ ৫

আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর সব ধরনের সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় দেশগুলো কৌশলগত ও মাঠপর্যায়ে বিদ্যমান সহযোগিতা আরো জোরদার করবে।

অনুচ্ছেদ ৬

প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে যুদ্ধ ও শান্তি—উভয় সময়েই দেশগুলো তাদের সামরিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কর্মী বিনিময়, যৌথ প্রশিক্ষণ, যৌথ মহড়া এবং সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বিতভাবে কাজ করার ক্ষমতা বাড়ানোর কার্যক্রম উৎসাহিত করবে।

অনুচ্ছেদ ৭

প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে প্রযুক্তি ভাগাভাগি, যৌথ প্রযুক্তি উন্নয়ন, যৌথ উৎপাদন এবং নিম্নোক্ত ক্ষেত্রগুলোতে প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলোর মধ্যে সহযোগিতায় সাহায্য করা হবে—

ক) প্রতিরক্ষা খাতে যৌথ উৎপাদনকে উৎসাহিত করা।

খ) বিশেষ দক্ষতার প্রয়োজন হয় এমন প্রযুক্তিতে যৌথ গবেষণা ও উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা উদ্ভাবন বাস্তবায়ন করা।

গ) অংশগ্রহণকারী যে কোনো দেশের বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে অন্য দেশের ভূখণ্ডে সামরিক শিল্পের প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেওয়া।

ঘ) প্রতিরক্ষা শিল্প, গবেষণা, উন্নয়ন ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা ও অর্জিত শিক্ষা বিনিময় করা।

ঙ) পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে গৃহীত অন্যান্য ক্ষেত্র।

অনুচ্ছেদ ৮

১. চুক্তি বাস্তবায়নে কৌশলগত দিকনির্দেশনা দেওয়া, নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানো এবং বাধা দূর করতে প্রধান দেশগুলো (কোর পার্টিস) একটি ‘কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটি’ গঠন করবে। এতে সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং সেনাপ্রধানগণ থাকবেন। এই কমিটির বৈঠক বছরে দুবার অনুষ্ঠিত হবে এবং দেশগুলো পর্যায়ক্রমে আয়োজক হবে। প্রয়োজন মনে করলে দেশগুলোর শীর্ষ নেতারা বছরে একবার বৈঠক করতে পারেন।

২. প্রয়োজন মনে করলে এই কমিটি সাব-কমিটি গঠন করতে পারবে।

৩. চুক্তির বিষয়গুলো বাস্তবায়নে প্রয়োজন অনুযায়ী দেশগুলোর মধ্যে আলাদা চুক্তি বা প্রোটোকল সই হতে পারে।

৪. প্রধান দেশগুলোর সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে নতুন কোনো দেশের এই চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার নিয়ম ও নীতি নির্ধারণের ক্ষমতা কমিটির থাকবে।

৫. কমিটির কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সৌদি আরবে একটি স্থায়ী সচিবালয় থাকবে। সচিবালয় পরিচালন সংক্রান্ত নিয়ম, কাঠামো ও মূল নীতিগুলো পরে প্রধান দেশগুলোর সর্বসম্মতিতে ঠিক করা হবে।

৬. সচিবালয়ের প্রধান হবেন একজন মহাসচিব, যিনি তিন বছরের মেয়াদে প্রধান দেশগুলোর মধ্যে পর্যায়ক্রমে নিযুক্ত হবেন। প্রথম মহাসচিব হবেন পাকিস্তান ইসলামী প্রজাতন্ত্রের একজন নাগরিক।

৭. এই অনুচ্ছেদের নিয়মগুলো দেশগুলোর মধ্যে বিদ্যমান অন্যান্য সামরিক সহযোগিতা কমিটির কাজে কোনো প্রভাব ফেলবে না।

অনুচ্ছেদ ৯

গোয়েন্দা সহযোগিতা আরো গভীর করতে তথ্য নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা মেনে দেশগুলো নির্ধারিত নিরাপদ মাধ্যমে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করবে।

অনুচ্ছেদ ১০

সরঞ্জাম ও রসদ সহায়তার প্রাপ্যতা ও উপযোগীতার ওপর ভিত্তি করে যুদ্ধ, শান্তি কিংবা জরুরি পরিস্থিতিতে দেশগুলো একে অপরকে অস্ত্র, গোলাবারুদ, জ্বালানি, খুচরা যন্ত্রাংশসহ প্রয়োজনীয় রসদ সহায়তা দেবে।

মক্কা চুক্তি: নয়া আঞ্চলিক নিরাপত্তার সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ

অনুচ্ছেদ ১১

আন্তর্জাতিক আইন এবং দেশগুলোর নিজস্ব অভ্যন্তরীণ আইন বজায় রেখে, দেশগুলো এই চুক্তিকে বাস্তবায়নের আইনি ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত আইনি ব্যবস্থার প্রস্তাব করবে।

অনুচ্ছেদ ১২

এই চুক্তিটি দেশগুলোর পূর্বে করা অন্যান্য আন্তর্জাতিক চুক্তির অধিকার বা বাধ্যবাধকতার ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না।

অনুচ্ছেদ ১৩

১. এই চুক্তির মাধ্যমে পাওয়া সমস্ত গোপন তথ্য ও দলিলের গোপনীয়তা দেশগুলো রক্ষা করবে এবং জাতীয় আইন মেনে চলবে।

২. এসব গোপন তথ্য ও দলিল অন্য কোনো রাষ্ট্র, কোম্পানি বা ব্যক্তির সাথে শেয়ার করা যাবে না।

৩. কেবল যাদের জানা জরুরি (নিড-টু-নো) এবং যাদের উপযুক্ত নিরাপত্তা ছাড়পত্র আছে, তারাই এসব গোপন তথ্য দেখার সুযোগ পাবেন।

অনুচ্ছেদ ১৪

এই চুক্তির ব্যাখ্যা বা বাস্তবায়ন নিয়ে কোনো বিরোধ দেখা দিলে তা দেশগুলোর মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করা হবে।

অনুচ্ছেদ ১৫

প্রধান দেশগুলোর সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত ও আলোচনার মাধ্যমে এই চুক্তি সংশোধন করা যাবে।

অনুচ্ছেদ ১৬

১. নিজ নিজ দেশের আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী চুক্তিটি অনুমোদিত হতে হবে। সচিবালয়ে চূড়ান্ত অনুমোদনের দলিল জমা দেওয়ার দিন থেকে চুক্তিটি কার্যকর হবে।

২. এই চুক্তি অনির্দিষ্টকালের জন্য কার্যকর থাকবে।

৩. চুক্তি কার্যকর হওয়ার ১০ বছর পর, যেকোনো দেশ কূটনৈতিক মাধ্যমে অন্তত ৩ মাস আগে লিখিত নোটিশ দিয়ে বের হয়ে যেতে (অব্যাহতি নিতে) পারবে।

৪. চুক্তির সমাপ্তি বা কোনো দেশের বের হয়ে যাওয়া—পূর্বে গৃহীত ও চলমান কোনো প্রকল্প বা কার্যক্রমকে প্রভাবিত করবে না।

৫. গোপন তথ্য সুরক্ষার দায়িত্ব চুক্তি শেষ হওয়ার পরও বজায় থাকবে।

ফ্রান্সে বিক্ষোভকারীদের নতুন স্লোগান ‘বিসমিল্লাহ’, যেভাবে উৎপত্তি

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২২, ২০২৬
ফ্রান্সে বিক্ষোভকারীদের নতুন স্লোগান ‘বিসমিল্লাহ’, যেভাবে উৎপত্তি

গত সপ্তাহে ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের সমর্থনে রাস্তায় নেমে আসেন লাখ লাখ মানুষ । এ সময় অনেকের হাতে থাকা কার্ডবোর্ডের প্ল্যাকার্ডে দেখা যায় একটি স্লোগান, ‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’।

আরবি শব্দ ‘বিসমিল্লাহ’ অর্থ ‘আল্লাহর নামে’। আর ফরাসি বাক্যাংশ ‘সে লে তেনেব্র’ অর্থ ‘এটি অন্ধকার’। এ দুইয়ের মিশেলে তৈরি হয়েছে স্লোগানটি। বাক্যটির অর্থ আপাতদৃষ্টিতে অস্পষ্ট মনে হতে পারে।

তবে এর আক্ষরিক অর্থের চেয়ে তাৎপর্য অনেক বেশি। গত মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার অভাবের প্রতিবাদে তরুণদের আন্দোলন শুরু হওয়ার পর থেকেই এটি প্রজন্মগত ব্যবধানের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। এই বিক্ষোভই পরে ব্যাপক অস্থিরতায় রূপ নেয়।

কোথা থেকে এ স্লোগানের উৎপত্তি

ধারণা করা হচ্ছে, স্ন্যাপচ্যাটে প্রকাশিত একটি বার্তা থেকেই স্লোগানটির সূত্রপাত। ফ্রান্সের শিক্ষার্থী আন্দোলনের আয়োজকদের একটি ব্যক্তিগত চ্যাট গ্রুপে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন এমন এক ব্যক্তি বার্তাটি পাঠান।

বার্তার শুরুতে লেখা ছিল ‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’, যা ফ্রান্সের তরুণদের মধ্যে প্রচলিত আরবি ও ফরাসি ভাষার মিশ্র কথ্যরীতির অনুকরণ বলে মনে হয়। এরপর ওই ব্যক্তি লেখেন, ‘আমরা সবকিছু ভেঙে ফেলব।’

একই ব্যক্তি ভিন্ন ভিন্ন প্রোফাইল ব্যবহার করে একাধিকবার বার্তাটি পাঠিয়েছিলেন বলে ধারণা করা হয়। এসব প্রোফাইলে মামাদু ও আবদেল্লাহর মতো নাম এবং আলজেরিয়ার পতাকার ইমোজি দেখা গিয়েছিল।

বার্তাগুলোর ভাষা হাস্যকর মনে হওয়ায় স্ন্যাপচ্যাটের অন্য ব্যবহারকারীরা সেগুলোর স্ক্রিনশট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। তবে বার্তাগুলোর প্রকৃত উৎস স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এরপর কী ঘটেছিল

অনেক তরুণের সন্দেহ, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে অনুপ্রবেশের উদ্দেশ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাই হয়তো এসব বার্তা পাঠিয়েছিলেন। তাদের ধারণা, তরুণদের কথাবার্তার ধরন অনুকরণ করতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা হাস্যকরভাবে ব্যর্থ হয়েছেন।

এরপর বিক্ষোভকারীরা ব্যঙ্গাত্মক স্লোগান হিসেবে ‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’ গ্রহণ করেন। এর উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দমানোর প্রচেষ্টায় নিয়োজিত কর্তৃপক্ষকে উপহাস করা।

এখন স্লোগানটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যকার দীর্ঘদিনের উত্তেজনার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও বর্ণগত সংখ্যালঘুদের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্কের টানাপোড়েন এতে প্রতিফলিত হয়েছে।

ফ্রান্সের সাবেক উপনিবেশগুলো থেকে আসা অভিবাসীদের সন্তান, কৃষ্ণাঙ্গ ও আরব বংশোদ্ভূত ফরাসিরা দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্যের শিকার হওয়ার অভিযোগ করে আসছেন। তাদের মতে, আলোচিত বার্তাগুলো কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাদের ভুল বোঝা এবং তাদের সম্পর্কে পূর্বধারণা পোষণের বিষয়টিও তুলে ধরে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এটি স্পষ্ট করেনি যে তাদের কোনো এজেন্ট এই শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করেছিলেন কি না। তবে মন্ত্রণালয় স্বীকার করেছে, বেআইনি কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনায় সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে তদন্তকারীরা কখনো কখনো অনলাইনে ছদ্মপরিচয় ব্যবহার করেন।

মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই প্রেক্ষাপটে তদন্তকারীরা ছদ্মনাম ব্যবহার করতে পারেন, যাতে অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে এমন ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা যায়। সেই সঙ্গে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়।’

কেন স্লোগানটি এত আলোড়ন তুলেছে

শিক্ষার্থী বিক্ষোভকারীদের কাছে স্লোগানটির অস্বাভাবিক ভাষা তাদের আন্দোলন এবং সরকারের অবস্থানের মধ্যে প্রজন্মগত ব্যবধানকে স্পষ্ট করে তুলেছে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, তাদের আন্দোলনের পেছনের বাস্তবতা ও তরুণদের ভাষা—দুটিই কর্তৃপক্ষ যথাযথভাবে বুঝতে ব্যর্থ হচ্ছে।

ফ্রান্সের একটি বিশিষ্ট ছাত্র সংগঠনের মুখপাত্র সাবরিন খারবাখ বলেন, ‘কোনো তরুণ এভাবে কথা বলে না।’

তার ভাষ্য, তরুণেরা এই বাক্যকে নিজেদের মতো করে গ্রহণ করেছেন। এর মাধ্যমে তারা বোঝাতে চান, তাদের আন্দোলনে নজরদারি ও অনুপ্রবেশের চেষ্টা তাদের চোখ এড়ায় না। একই সঙ্গে সব বাধা সত্ত্বেও নিজেদের সংগঠিত করার সক্ষমতাও তারা তুলে ধরতে চান।

বোর্দো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী সাদানি সাবাদি বলেন, স্ন্যাপচ্যাটের বার্তাগুলোতে একধরনের পূর্বধারণা প্রকাশ পেয়েছে। তারা মনে করেন, যারা অবরোধ সৃষ্টি করছে বা সবকিছু ভাঙচুর করতে চাইছে, তারা নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীর মানুষ।

আবারও চালু হচ্ছে স্বপ্নের ডিভি লটারি, আবেদন করবেন যেভাবে

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২২, ২০২৬
আবারও চালু হচ্ছে স্বপ্নের ডিভি লটারি, আবেদন করবেন যেভাবে

দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর যুক্তরাষ্ট্রের ডাইভারসিটি ইমিগ্র্যান্ট ভিসা (ডিভি) লটারি ২০২৭-এর নিবন্ধনপ্রক্রিয়া চালুর নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির একটি ফেডারেল আদালত।

আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ১ নভেম্বরের মধ্যে আবেদন গ্রহণ শুরু করতে হবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে। এর আগে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে আবেদনসংক্রান্ত বিস্তারিত সময়সূচি প্রকাশ করতে হবে। খবর ফোর্বসের

নির্ধারিত সময়ে ডিভি লটারির নিবন্ধন শুরু না হওয়ার কারণে দায়ের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (১৯ অক্টোবর) ক্যালিফোর্নিয়ার ফেডারেল আদালতের বিচারক জিনসুক ওহতা এ নির্দেশ দেন। মামলাটিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে বিবাদী করা হয়।

আদালতের আদেশ অনুযায়ী, ২৯ অক্টোবরের মধ্যে ডিভি লটারির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হবে। আবেদনের জন্য নির্ধারিত পোর্টাল চালু করার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে নভেম্বরের ১ তারিখ।

নিবন্ধন কার্যক্রম অন্তত ৩০ দিন চালু থাকবে। এ ছাড়া ৩ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচিত আবেদনকারীদের বিষয়ে নোটিশ দেওয়ার সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে।

আবেদনপ্রক্রিয়া ও যোগ্যতা

ডিভি লটারি যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পাওয়ার একটি কর্মসূচি। এতে নির্বাচিত হলে আবেদনকারীরা নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে অভিবাসী ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন।

তবে লটারিতে নাম উঠলেই ভিসা বা গ্রিন কার্ড নিশ্চিত হয় না। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই, যোগ্যতা নির্ধারণ এবং নিরাপত্তা যাচাইসহ সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, আবেদনকারীর অন্তত উচ্চমাধ্যমিক বা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হয়।

বিকল্প হিসেবে নির্ধারিত যোগ্যতাসম্পন্ন পেশায় নির্দিষ্ট সময়ের কাজের অভিজ্ঞতাও গ্রহণযোগ্য হতে পারে। এ কর্মসূচিতে আবেদনের জন্য কোনো মার্কিন নিয়োগকর্তার চাকরির প্রস্তাব সাধারণত প্রয়োজন হয় না।

ফ্রান্সে বিক্ষোভকারীদের নতুন স্লোগান ‘বিসমিল্লাহ’, যেভাবে উৎপত্তি

বাংলাদেশিরা আবেদন করতে পারবেন?

ডিভি লটারি ২০২৭-এ বাংলাদেশে জন্মগ্রহণকারীরা আবেদন করতে পারবেন কি না, তা নিশ্চিত হতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনার অপেক্ষা করতে হবে। আদালতের নির্দেশে নিবন্ধন চালুর সময়সীমা নির্ধারিত হলেও বাংলাদেশের যোগ্যতার বিষয়টি আলাদাভাবে নিশ্চিত করা জরুরি।

আবেদনকারীদের মার্কিন সরকারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। লটারিতে নির্বাচিত করে দেওয়ার নিশ্চয়তা দিয়ে অর্থ দাবি করা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে দপ্তরটির তরফ থেকে। আবেদন শুরুর তারিখ, যোগ্য দেশের তালিকা এবং আবেদনপদ্ধতি সম্পর্কে চূড়ান্ত তথ্যের জন্য মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নির্দেশনাই অনুসরণ করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে সেখানে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে জাতীয় নিরাপত্তা পরীক্ষা জোরদার করার জন্য বৈশ্বিকভাবে ডিভি লটারি (Green Card Lottery) কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিল মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।

ফ্রান্সে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে পাইলট নিহত

প্রকাশ: বুধবার, অক্টোবর ২১, ২০২৬
ফ্রান্সে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে পাইলট নিহত

ফ্রান্সের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে প্রশিক্ষণ চলাকালে বিমান বাহিনীর একটি মিরাজ ২০০০ডি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে পাইলট নিহত হয়েছেন এবং নেভিগেটর নিখোঁজ রয়েছেন। বুধবার (২১ অক্টোবর) দেশটির সশস্ত্র বাহিনী মন্ত্রণালয় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ফরাসি সম্প্রচারমাধ্যম বিএফএমটিভি জানায়, ন্যান্সি-ওশে বিমানঘাঁটি থেকে ওড়া দুই সদস্য বিশিষ্ট ক্রুবাহী বিমানটি মঙ্গলবার গভীর রাতে ন্যান্সি শহরের কাছে মার্থ-এ-মোজেল বিভাগে দুর্ঘটনায় পড়ে। স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে ন্যান্সির উত্তরে রোজেভিল, দোমেভ্র-অঁ-হে এবং ত্রঁবলেকুর গ্রামের মধ্যবর্তী এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

কর্মকর্তারা পাইলটের মৃত্যু নিশ্চিত করেছেন এবং নিখোঁজ নেভিগেটরকে উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রেখেছেন। নিকটবর্তী পঁত-আ-মুসঁ শহরের মেয়র অঁরি ল্যমোয়ান জানান, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের বিপুল সংখ্যক সদস্য উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছেন। রোজেভিলে একটি সংকট সমন্বয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং ড্রোন দিয়ে বিমানের ধ্বংসাবশেষ চিহ্নিত করা হয়েছে।

দুর্ঘটনার কারণ ও পরিস্থিতি উন্মোচনে একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত শুরু করা হয়েছে। পুলিশ ও উদ্ধার তৎপরতার কারণে আশপাশের সড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে সতর্ক করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

সুদানে ড্রোন হামলায় ৩০০ জনের বেশি নিহত, সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ

প্রকাশ: বুধবার, অক্টোবর ২১, ২০২৬
সুদানে ড্রোন হামলায় ৩০০ জনের বেশি নিহত, সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ
ড্রোন হামলায় আহত ব্যক্তিদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

আফ্রিকার দেশ সুদানের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে একাধিক ড্রোন হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এসব হামলায় ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে অনেকে একটি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নিতে যাচ্ছিলেন। এ ছাড়া একটি বাজারেও প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটেছে।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত রোববার সন্ধ্যায় সুদানের ওয়েস্ট করদোফান রাজ্যের দুটি এলাকায় ড্রোন হামলায় অন্তত ১৫০ জন নিহত হন। সুদানের চলমান সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘সুদান ওয়ার অবজারভেটরি’র কাছে কয়েকটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

এর পরদিন সোমবার সুদান ও দক্ষিণ সুদানের মধ্যবর্তী বিরোধপূর্ণ সীমান্ত অঞ্চল আবেইয়ের একটি বাজারে ড্রোন হামলা চালানো হয়। এতে ১৫৩ জন নিহত হন বলে জানা গেছে। সুদানের সামরিক বাহিনীর একটি সূত্র বিবিসিকে জানিয়েছে, এ হামলাও দেশটির সেনাবাহিনী চালিয়েছে। সূত্রটির দাবি, বাজারটি আধা সামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) জ্বালানি সরবরাহকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল।

একের পর এক প্রাণঘাতী ড্রোন হামলায় উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক সোমবার বলেন, সুদানে ধারাবাহিক ড্রোন হামলায় শিশুদের পাশাপাশি বেসামরিক নাগরিকেরাও নিহত হচ্ছেন। একই সঙ্গে জরুরি সেবাব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে।

২০২৩ সালে সুদানের সেনাবাহিনী ও আধা সামরিক বাহিনী আরএসএফের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব থেকে সংঘাত শুরু হয়। এরপর থেকে দেশটিতে সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। চলমান যুদ্ধে ড্রোন ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হয়ে উঠেছে। আংশিক অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কয়েকটি দেশ সংঘাতে জড়িত উভয় পক্ষকে ড্রোন সরবরাহ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

আবেই অঞ্চলে হামলার পর সুদান ও দক্ষিণ সুদানের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। তেলসমৃদ্ধ এই অঞ্চলটি যৌথভাবে পরিচালনা করে দেশ দুটি। ২০১১ সালে দক্ষিণ সুদান স্বাধীনতা লাভ করলেও আবেইয়ের মালিকানা নিয়ে দুই দেশের বিরোধের সমাধান হয়নি। সাম্প্রতিক হামলার প্রতিবাদ জানাতে সুদানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে দক্ষিণ সুদান।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে সুদানের অভ্যন্তরীণ সংঘাত সীমান্ত পেরিয়ে বিস্তৃত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাতে সুদান ও দক্ষিণ সুদানের বিস্তৃত অঞ্চলে মানবিক সংকট আরও তীব্র হয়েছে। সুদানের যুদ্ধকে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকট হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সংঘাতে বিপুলসংখ্যক মানুষ নিহত হয়েছেন এবং এক কোটি ৪০ লাখের বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন।

সূত্র: বিবিসি

ইকুয়েডরে গির্জায় প্রার্থনা চলাকালীন ক্রুশ ধসে পাদ্রীর মৃত্যু

প্রকাশ: বুধবার, অক্টোবর ২১, ২০২৬
ইকুয়েডরে গির্জায় প্রার্থনা চলাকালীন ক্রুশ ধসে পাদ্রীর মৃত্যু

ইকুয়েডরের গুয়াকিল শহরের আওয়ার লেডি অফ পারপেচুয়াল হেল্প গির্জায় প্রার্থনা চলাকালীন ক্রুশ ধসে এক ধর্মযাজকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) অনুষ্ঠানটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারও করা হচ্ছিল।

প্রার্থনা শুরু হওয়ার প্রায় ২৭ মিনিটের মাথায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। ধর্মযাজক ফাদার প্যাট্রিসিও আলফ্রেডো সানচেজ মোলিনারি যখন ভক্তদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখছিলেন, ঠিক তখনই দেয়ালে ঝোলানো বিশালাকার ও ভারী কাঠের ক্রুশবিদ্ধ যিশুর মূর্তিটি তার ওপরে পড়ে।

ক্রুশটি ধসে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্তম্ভিত হয়ে পড়েন উপস্থিত উপাসকরা। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, উপস্থিত সবাই এ ঘটনায় দিশেহারা হয়ে পড়েন।

পরবর্তীতে গুয়াকিলের আর্চডায়োসিস থেকে একটি আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সানচেজ মোলিনারির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। তারা গভীর শোক প্রকাশ করে নিহত যাজকের পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং রিডেম্পটোরিস্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতি সমবেদনা জানান।

সানচেজ মোলিনারি ওই গির্জার মূল ধর্মযাজক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং তিনি ছিলেন ‘কংগ্রেগেশন অফ দ্য মোস্ট হোলি রিডিমার’-এর একজন অন্যতম সদস্য।

বিশাল কাঠের ক্রুশটি কীভাবে হঠাৎ খসে পড়ল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এর পেছনে দেয়াল বা ভবনের কোনো কাঠামোগত দুর্বলতা ছিল নাকি যে জিনিস দিয়ে ক্রুশটি ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল তাতে ত্রুটি ছিল- সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।

ফাদার মোলিনারি আঘাত লাগার পর ঘটনাস্থলে প্রাণ হারিয়েছেন নাকি হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়েছে, সে তথ্যও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি।