২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশে অল্প বয়সে আকস্মিক মৃত্যুর প্রধান পাঁচটি কারণ কী

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬
বাংলাদেশে অল্প বয়সে আকস্মিক মৃত্যুর প্রধান পাঁচটি কারণ কী

কিছুদিন আগে এক দুপুরে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজে কর্তব্যরত অবস্থায় মুকসেমুল হাকিম স্ট্রোক করেন। কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি বুঝতে পারেননি তিনি। রাতে বাসায় ফেরার পর অসুস্থ বোধ করলে পরিবারের সদস্যরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে সেখানেই মারা যান ৪২ বছর বয়সী মি. হাকিম।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা পরিবারের সদস্যদের জানান, দুপুরে একবার তিনি স্ট্রোক করেছিলেন।

হাসপাতালে নেওয়ার সময় স্বজনদের মি. হাকিম জানিয়েছিলেন, দুপুর ১২টায় অফিসে শরীর খুব খারাপ হয়েছিল।

স্বজনদের তিনি জানিয়েছিলেন, দুপুরে ঘাড় ও হাত-পা ব্যথা, বমিভাব এবং মাথা ঝিম ঝিম করার মতো উপসর্গ দেখা দিয়েছিল। তবে, আগে থেকে তার বড় কোন অসুস্থতা ছিল না।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, বাংলাদেশের মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশই ঘটছে স্ট্রোক, ডায়াবেটিস, কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ বা হৃদরোগ, ক্রনিক রেসপিরেটরি ডিজিজ বা দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের রোগ এবং ক্যান্সার ও কিডনি জটিলতার মত রোগে। আর এসব রোগে আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশে মানুষের মৃত্যু বাড়ছে।

এই ৭১ শতাংশের প্রায় অর্ধেক মানুষেরই আকস্মিক বা অকাল মৃত্যু হয় বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

এদিকে, বাংলাদেশের সরকারি প্রতিষ্ঠান রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের এক গবেষণাপত্রে, মানসিক সমস্যাও আকস্মিক মৃত্যুর একটি কারণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

অসংক্রামক রোগ কী

নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ (এনসিডি) বা অসংক্রামক রোগ। এটিকে দীর্ঘমেয়াদী রোগও বলা হয়। জিনগত, শারীরিক, পরিবেশগত এবং আচরণগত বিভিন্ন বিষয়ের সমন্বিত প্রভাবে এ রোগগুলো হয়ে থাকে।

বয়স, অঞ্চল বা দেশ নির্বিশেষে সব ধরনের মানুষই অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত হন। এর মধ্যে প্রধানতম হচ্ছে, হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোক, ডায়াবেটিস, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের রোগ - যেমন ক্রনিক অবস্ট্রাক্টিভ পালমোনারি ডিজিজ ও হাঁপানি, ক্যান্সার এবং কিডনি জটিলতা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, এ রোগগুলোকে সাধারণত বয়স্কদের সমস্যা বলে মনে করা হলেও, প্রায় এক কোটি ৮০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয় ৭০ বছর বয়স হওয়ার আগেই।

এ বয়সে অন্য সব কারণে যত মানুষ মারা যায়, অসংক্রামক রোগের কারণে তার চেয়ে বেশি মারা যান। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, এসব অকাল মৃত্যুর প্রায় ৮২ শতাংশই ঘটে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে।

বিশ্বের মোট অসংক্রামক মৃত্যুর প্রায় তিন-চতুর্থাংশ বা তিন কোটি ২০ লাখ মানুষই এসব দেশে মারা যায়।

বাংলাদেশে ইদানীং প্রায়ই এমন ঘটনার কথা শোনা যায় যে, অফিসে কাজ করছিলেন, হঠাৎ ঢলে পড়ে সেখানেই মারা গিয়েছেন তিনি।

পরে চিকিৎসকদের বরাতে জানা যায়, কী কারণে ওই ব্যক্তি মারা গিয়েছেন।

বাংলাদেশের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতি বছর ৩০ থেকে ৬৯ বছর বয়সী দেড় কোটি লোক অসংক্রামক রোগে মারা যান।

হৃদরোগ বা হার্ট অ্যাটাক

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউট আইইডিসিআরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ বা সিভিডি রোগ, বিশেষ করে করোনারি আর্টারি ডিজিজ ধীরে ধীরে মহামারীর রূপ নিচ্ছে।

একইসঙ্গে, উচ্চ রক্তচাপ ও হার্ট ফেইলিউরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

হৃদযন্ত্রের কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালিত হওয়ার জন্য হার্টে পর্যাপ্ত রক্ত সরবরাহ দরকার হয়।

হার্টে রক্ত সরবরাহকারী রক্তনালী যদি বন্ধ হয়ে যায় এবং এর ফলে যদি রক্ত হার্টে পৌঁছাতে না পারে, তাহলে হার্টের মাংসপেশিতে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছাতে পারে না। আর তখনই হয় হার্ট অ্যাটাক।

হার্ট অ্যাটাক হওয়ার জন্য আগে থেকেই অসুস্থ থাকাটা জরুরি নয়। বরং আপাত দৃষ্টিতে সুস্থ মানুষেরও হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।

হার্ট অ্যাটাকের প্রথম উপসর্গই হচ্ছে বুকে ব্যথা। বুকের ডান বা বাম পাশে ব্যথা হবে না। একেবারে বুকের মাঝ বরাবর ব্যথা হবে। একে 'সেন্ট্রাল চেস্ট পেইন' বলে থাকেন চিকিৎসকরা। এ ব্যথা ক্রমাগত বাড়তে থাকবে।

বুকের ব্যথা একসময় বাম হাত ও ঘাড়ের দিকে ছড়িয়ে পড়ে।

এছাড়া যদি চোয়াল ও পিঠেও ব্যথা অনুভব হয়, তাহলে সেটি হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ হতে পারে। নারীদের মধ্যে এই উপসর্গ বেশি দেখা দেয়।

এছাড়া পেটে তীব্র ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত ঘাম, বমি বমি ভাব ও বমিও হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ হতে পারে।

দেরি না করে এসব ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

স্ট্রোক

হৃদরোগের পর স্ট্রোক মৃত্যুর আরেকটি বড় কারণ। অনেকে স্ট্রোকের সাথে হার্ট অ্যাটাককে গুলিয়ে ফেলেন। কিন্তু দুটি বিষয় সম্পূর্ণ আলাদা।

স্ট্রোক মূলত মানুষের মস্তিষ্কে আঘাত হানে। ব্রিটেনের জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মস্তিষ্কের কোন অংশে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে মস্তিষ্কের কোষগুলো মরে গেলে স্ট্রোক হয়।

সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য শরীরের প্রতিটি কোষে রক্ত সঞ্চালন প্রয়োজন। কারণ এই রক্তের মাধ্যমেই শরীরের কোষে কোষে অক্সিজেন পৌঁছায়।

কোন কারণে মস্তিষ্কের কোষে যদি রক্ত সঞ্চালন বাধাগ্রস্ত হয়, রক্তনালী বন্ধ হয়ে যায় বা ছিঁড়ে যায় তখনই স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকির সৃষ্টি হয়।

সাধারণত ৬০-বছরের বেশি বয়সী রোগীদের স্ট্রোকের ঝুঁকি বেশি থাকলেও তবে ইদানীং তরুণ এমনকি শিশুরাও স্ট্রোকে আক্রান্ত আক্রান্ত হচ্ছেন।

স্ট্রোক তিন ধরনের হয়ে থাকে। মাইল্ড স্ট্রোক, ইসকেমিক স্ট্রোক ও হেমোরেজিক স্ট্রোক।

স্ট্রোক, মস্তিষ্কে কতোটা ক্ষতি করবে এটা নির্ভর করে এটি মস্তিষ্কের কোথায় ঘটেছে এবং কতোটা জায়গা জুড়ে হয়েছে, তার ওপর।

তবে এখানে সবচেয়ে জরুরি হল 'সময়'। যদি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হয় তাহলে মৃত্যুমুখ থেকে রোগীকে স্বাভাবিক জীবন যাপনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

চিকিৎসকরা বলছেন, রোগী যতো দ্রুত চিকিৎসা পাবে, ক্ষতির আশঙ্কা ততোই কমবে।

স্ট্রোকের সাধারণ কিছু লক্ষণ হল:

* আচমকা হাত, পা বা শরীরের কোনও একটা দিক অবশ হয়ে যাওয়া। হাত ওপরে তুলতে না পারা।

* চোখে ঝাপসা দেখা।

* কথা বলতে অসুবিধা হওয়া বা কথা জড়িয়ে যাওয়া।

* ঢোক গিলতে কষ্ট হওয়া।

* জিহ্বা অসাড় হয়ে, মুখ বেঁকে যাওয়া।

* শরীরের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে পড়ে যাওয়া/জ্ঞান হারানো।

* বমি বমি ভাব, বমি, খিঁচুনি হওয়া।

ডায়াবেটিস

বাংলাদেশে সব বয়সী মানুষের মাঝেই ডায়াবেটিস রোগের হার বাড়ছে। আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশনের(আইডিএফ) তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রাপ্তবয়স্ক ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা এক কোটি ৩৮ লাখেরও বেশি।

ডায়াবেটিস রোগীর মোট সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বে অষ্টম স্থানে রয়েছে।

আইডিএফের এক অনুমান করছে, ২০৪৫ সালের মধ্যে এই অবস্থান সাত নম্বর স্থানে চলে যাবে অর্থাৎ ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা বেড়ে দুই কোটি ২৩ লাখে পৌঁছাবে।

এই সংস্থাটি বলছে, বাংলাদেশে ৪৩ শতাংশ মানুষই জানেন না যে তারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত অর্থাৎ রোগ নির্ণয়ের বাইরে রয়েছেন তারা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ ২০২২ সালে দেশের আটটি বিভাগে একটি গবেষণা পরিচালনা করে।

ওই গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে ১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী প্রতি একশো তরুণ-তরুণীর মধ্যে সাতজনেরও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত।

পুরুষদের তুলনায় তরুণ নারীরা এই রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন বলে ওই গবেষণায় পাওয়া গেছে।

অতিরিক্ত ওজন, স্থুলতা এবং উচ্চ রক্তচাপ টাইপ-২ ডায়াবেটিসের সাথে উল্লেখযোগ্যভাবে সম্পৃক্ত বলেও জানিয়েছে আইডিএফ।

দীর্ঘমেয়াদী শ্বাসতন্ত্রের রোগ

সাধারণত অ্যাজমা এবং ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ বা ফুসফুসজনিত রোগে মানুষ আক্রান্ত হন।

বাংলাদেশে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ রোগী জানতেই পারেন না যে তারা অনিরাময়যোগ্য ফুসফুসের সমস্যায় ভুগছেন।

এ রোগের হার শহুরে মানুষদের চেয়ে গ্রামাঞ্চলের মানুষের মাঝে বেশি দেখা যায়। গোবর, ঘুঁটে, লাকড়ি এমন সব জ্বালানির ব্যবহার এবং ধূমপান এ দীর্ঘমেয়াদী শ্বাসতন্ত্রের রোগের সাথে সম্পর্কিত বলে আইইডিসিআরের গবেষণায় দেখা গেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দেশে ৩০ শতাংশের বেশি মানুষ ফুসফুসজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

নারীর তুলনায় পুরুষরা বেশি এ রোগে আক্রান্ত হন।

ক্যান্সার

বাংলাদেশে প্রতিবছরই বাড়ছে ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যা। পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসেবে বাংলাদেশে মৃত্যুর ষষ্ঠতম কারণ ক্যান্সার।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারে ভুগে এক লাখ ১৬ হাজার পাঁচশ' জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন।

সংস্থাটির হিসাবে, একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছেন এক লাখ ৬৭ হাজারেরও বেশি মানুষ। যদিও বাস্তবে সংখ্যাটি আরও বেশি হবে বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা।

শুধু ঢাকার জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালেই গত বছর সাড়ে ৪২ হাজারের মতো ক্যান্সার রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩১ হাজারই নতুন রোগী।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেবে, বাংলাদেশে বর্তমানে ক্যান্সারে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা তিন লাখ ৪৬ হাজারের মতো, যা ২০১৮ সালের তুলনায় প্রায় ১১ শতাংশ বেশি। একই সময়ে ক্যান্সার আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুর হার বেড়েছে প্রায় আট শতাংশ।

পুরুষদের মাঝে ফুসফুস ও মুখের এবং নারীদের মাঝে স্তন ও জরায়ু মুখের ক্যান্সার বেশি দেখা যায়।

গত বছর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় পাওয়া গেছে, বছরে ১১ দশমিক ৯ শতাংশের মৃত্যুর কারণ ক্যান্সার।

ওই গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে ৩৮ ধরনের ক্যান্সার থাকলেও ফুসফুসের ক্যান্সার, কণ্ঠনালীর ক্যান্সার এবং পাকস্থলীর ক্যান্সার সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যুর প্রধান কারন।

গবেষণায় যে পাঁচটি ক্যানসার বেশি দেখা গেছে তার মধ্যে ছিল স্তন ক্যান্সার, ঠোঁট ও মুখগহ্বরের ক্যান্সার, পাকস্থলীর ক্যান্সার, কণ্ঠনালীর ক্যান্সার এবং সার্ভিক্স ক্যান্সার।

রোগের কারণ এবং প্রতিরোধ

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জীবনযাত্রার পদ্ধতিতে পরিবর্তন, তামাক ব্যবহার, খাদ্যাভ্যাসে বদল, বায়ু দূষণসহ নানা কারণ ইদানীং তুলনামূলকভাবে কম বয়সীদের ভেতর আকস্মিক মৃত্যুর হার বেড়ে যাওয়ার জন্য দায়ী।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা, প্রাথমিকভাবে রোগ নির্ণয় করা এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবার সহজলভ্যতা এই তিনটি পদক্ষেপ গ্রহণ করলে অকালমৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব।

মি. হোসেন বলছিলেন, বাংলাদেশে জরুরী স্বাস্থ্য সেবা সহজলভ্য না। তাই রোগ মোকাবেলায় সুস্থ থাকার জন্য ধাপে ধাপে পদক্ষেপ নিতে হবে।

* প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা - শৈশব থেকেই স্বাস্থ্যকর জীবন-যাপনে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

* আর্লি ডিটেকশন - উপসর্গ বা লক্ষণ গুরুত্ব দিয়ে যত দ্রুত সম্ভব যদি রোগ নির্ণয় করা যায়, তাহলে চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব। এজন্য নিয়মিত রক্তচাপ, ডায়াবেটিস পরীক্ষা করা, প্রস্রাব পরীক্ষা ইত্যাদি করা দরকার।

* জরুরি ভিত্তিতে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার সক্ষমতা থাকতে হবে। তাহলে অনাকাঙ্খিত মৃত্যু কমিয়ে আনা যাবে।

অফিসে ঘন ঘন ক্ষুধা পেলে যা করবেন

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬
অফিসে ঘন ঘন ক্ষুধা পেলে যা করবেন

কর্মজীবি মানুষেরা দীর্ঘ সময় পার করেন অফিসে। দীর্ঘ এই সময়ের মাঝে বার বারই ক্ষুদা লাগে। ঘন ঘন এই ক্ষুদা লাগার কারণেই আমরা ভুলভাল কিছু খাবার খেয়ে ফেলি। যার ফলে আমাদের শরীর অলস হয়ে যায় , আমরা ক্লান্ত হয়ে যাই । তখন আর আমাদের কাজের দিকে আগ্রহ থাকে না। তবে এ ভুল করা যাবে না, ঘন ঘন ক্ষুদা লাগলে খাবার খাবেন তবে সেটা স্বাস্থ্যকর নাকি সেটা বিবেচনা করে খাবেন।

বাদাম শরীরের জন্য খুবই উপকারী একটা খাবার। এর মধ্যে থাকে তিনটি প্রধান প্রোটিন থাকে। এদের মধ্যে হেলদি ফ্যাট, উদ্ভিজ্জ প্রোটিন, ডায়েটারি ফাইবার বা আঁশ বাদামে থাকা বেশ উপকারী প্রোটিন। হেলদি ফ্যাট হার্ট ভালো এবং সুস্থ রাখতে যাদুকরির মত কাজ করে। উদ্ভিজ্জ প্রোটিন পেশী গঠন করতে এটি খুবই সাহায্য করে। ডায়েটারি ফাইবার বা আঁশে কার্ভাইড্রেটের পরিমাণ কম থাকে, তবে ফাইবারের পরিমাণ বেশি থাকে। ফলে অনেকটা সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে পাশাপাশি হজম শক্তিতে দারুন কাজ করে।

তাই অফিসের উদেশ্যে যখন বাসা থেকে বের হবেন তখন, হালকা মশলা, পেয়াজ, মরিচ, লেবু এবং লবণ দিয়ে মাখিয়ে একতা ছোট বক্সে করে নিয়ে আসুন। আর কাজের ফাকে সেটা উপভোগ করুন। এতে আপনার মনও ভরলো , স্বাস্থ্যও ভালো থাকলো।

সেদ্ধ ডিম ভাজা

ডিম শরীরের জন্য খুবই স্বাস্থ্যকর একতি খাবার। ডিমে থাকে উচ্চমাত্রার প্রোটিন, ক্যালরি এবং কার্বহাইড্রেট। এছাড়াও ডিমে থাকে প্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থ বা মিনারেলস। যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, হাড় মজবুত ও সুস্থ রাখতে সহায়তা করে এবং রক্তাল্পতা দূর করতে সাহায্য করে।

আবার এটা খুব সহজেই বাসা থেকে ক্যারি করে নিয়ে আসা যায়। তবে সমস্যা হচ্ছে সবাই শুধু সিদ্ধ ডিম খেতে পারে না, তাই একটু অন্যরকম কিছু করে নিন। যেমন ডিম সিদ্ধ করে লম্বালম্বি আধখানা করে ভাগ করে নিন। কড়াইয়ে অল্প তেল বা মাখন দিয়ে পেঁয়াজ, সঙ্গে কাঁচামরিচ যোগ করুন। আঁচ কমিয়ে ডিম উল্টে-পাল্টে নিন। লবণ-গোলমরিচ ছড়িয়ে নিলেই হবে। টিফিনে এমন খাবার খাকলে, বাইরের অস্বাথ্যকর ভাজাভুজিতে কারো নজরই যাবে না।

সবুজ মুগের চাট

সবুজ মুগ স্বাস্থ্যের জন্য খুব উপকারী একটি খাদ্য। এতে রয়েছে কপার, ফাইবার এবং প্রোটিনসহ বিভিন্ন ধরনের পুষ্টিকর উপাদান। এই খাবারে থাকা প্রোটিন ও ফাইবার শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। এদিকে অঙ্কুরিত সবুজ মুগ ত্বক ও রোগ প্রতিরোধের জন্য খুবই দারুন কাজ করে। তাই অফিসের অবসরে অঙ্কুরিত সবুজ মুগ দিয়েই চাট বানিয়ে নিয়ে আসুন। মুগ হালকা ভাপিয়ে তাঁর মধ্যে লেবুর রস, পেয়াজ, মরিচ এবং চাট মশলা দিয়ে মাখিয়ে নিয়ে আসুন। এটি খেতে খুবই সুস্বাদু এবং স্বাস্থ্যকর।

দীর্ঘ ফ্লাইটে শরীর সুস্থ ও সতেজ রাখতে মেনে চলুন এই অভ্যাসগুলো

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬
দীর্ঘ ফ্লাইটে শরীর সুস্থ ও সতেজ রাখতে মেনে চলুন এই অভ্যাসগুলো

হাজার হাজার ফুট উঁচুতে উড়োজাহাজে ঘণ্টার পর ঘণ্টা একই জায়গায় আবদ্ধ থাকা, কেবিনের কৃত্রিম ও শুষ্ক আবহাওয়া, ভিন্ন টাইম জোন এবং শারীরিক দূরত্বের ক্লান্তি আমাদের স্বাভাবিক জীবনকে কিছুটা হলেও ব্যাহত করে।

জেটল্যাগ আর শারীরিক অবসাদ অনেক সময় ভ্রমণের আনন্দ ম্লান করে দেয়। অথচ একটু সচেতনতা, সঠিক পূর্বপ্রস্তুতি এবং ভ্রমণের প্রতিটি ধাপে নিজের প্রতি সামান্য যত্ন এই দীর্ঘ আর নিস্তেজ ভ্রমণকে করে তুলতে পারে দারুণ প্রশান্তিময় ও আরামদায়ক। আপনি যেন গন্তব্যে পৌঁছে ক্লান্তির বদলে একরাশ সতেজতা নিয়ে নামতে পারেন, সে জন্য পুরো ভ্রমণ আরামদায়ক করার কিছু কৌশল জেনে নিন।

ভ্রমণের পূর্বপ্রস্তুতি এবং সঠিক পোশাক নির্বাচন

দীর্ঘ উড়োজাহাজে ভ্রমণের আগে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সঠিক পোশাক বেছে নেওয়া। উড়োজাহাজে দীর্ঘ সময় বসে থাকতে হয় বলে ঢিলেঢালা, আরামদায়ক পোশাক পরা উচিত। লেগিংস বা সোয়েটপ্যান্টস এ ক্ষেত্রে সেরা পছন্দ। বিমানে সাধারণত পায়ের পাতা ফুলে যাওয়ার প্রবণতা থাকে। তাই সহজে খুলে ফেলা যায় এমন জুতা এবং পা গরম রাখার জন্য এক জোড়া সুতি বা উলের মোজা সঙ্গে রাখা ভালো।

ফ্লাইট চলাকালীন নড়াচড়া

একটানা একই জায়গায় বসে থাকা শরীরের রক্ত চলাচলে ব্যাঘাত ঘটায়। তাই ২ থেকে ৩ ঘণ্টা পরপর উঠে দাঁড়ানো এবং করিডরে কিছুটা হাঁটাচলা করা জরুরি। ওয়াশরুমে যাওয়ার বাহানায় অথবা বিমানের পেছনের দিকে খালি জায়গায় গিয়ে শরীর কিছুটা প্রসারিত করে নেওয়া যায়।

পর্যাপ্ত হাইড্রেশন এবং সঠিক খাবার খাওয়া

বিমানের ভেতরে বাতাস শুষ্ক থাকে বলে দ্রুত শরীর পানিশূন্য হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই প্রতি ঘণ্টায় অন্তত ২৫০ মিলিলিটার পানি পান করা উচিত। সিকিউরিটি চেকের পর ব্যবহারের জন্য একটি খালি রিফিলযোগ্য পানির বোতল সঙ্গে রাখলে খুব সহজে বিমানে পানি পান করা যায়। চা, কফি ও অ্যালকোহল জাতীয় পানীয় এড়িয়ে চলা উচিত। কারণ, এগুলো শরীর থেকে দ্রুত পানি বের করে দেয় এবং ডিহাইড্রেশন বাড়ায়। তবে টমেটো জুস পান করা যেতে পারে। এটি বিমানে বেশ পুষ্টিকর এবং বারবার ওয়াশরুমে যাওয়ার প্রয়োজন কমায়। খাবারের ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াজাত ভারী খাবারের বদলে শসা, আঙুর, আপেল বা তরমুজের মতো পানিসমৃদ্ধ ফল এবং কাঠবাদামের মতো হালকা ও সহজে হজমযোগ্য খাবার বেছে নেওয়া ভালো।

ভ্রমণ আরামদায়ক করার অতিরিক্ত সরঞ্জাম

দীর্ঘ যাত্রায় প্রশান্তি এবং ভালো ঘুমের জন্য সঙ্গে কিছু জরুরি জিনিস রাখা বুদ্ধিমানের কাজ। যেমন ঘাড়ের জন্য একটি ভালো নেক পিলো, চোখের মাস্ক, কানের ইয়ারপ্লাগ, ময়শ্চারাইজিং ক্রিম ও লিপবাম সঙ্গে রাখতে পারেন। সম্ভব হলে টিকিট কাটার সময় উইন্ডো সিট বা অতিরিক্ত লেগরুম আছে এমন সিট বেছে নিন। এতে হেলান দিয়ে ঘুমানো সহজ হবে এবং অন্য যাত্রীদের চলাচলের জন্য বারবার উঠতে হবে না।

ডিজিটাল ও মানসিক বিনোদনের সঠিক পরিকল্পনা

ফ্লাইটের দীর্ঘ সময় মানসিক একঘেয়েমি কাটাতে বিনোদনের আগাম প্রস্তুতি নেওয়া খুব দরকার। ফ্লাইটে ওঠার আগে মোবাইল বা ট্যাবলেটে আপনার পছন্দের সিনেমা, ওয়েব সিরিজ বা অডিও বুক ডাউনলোড করে রাখুন। কারণ, অনেক সময় বিমানের বিনোদনব্যবস্থায় বিকল্পের পরিমাণ সীমিত হতে পারে। স্ক্রিন টাইম বেশি হলে চোখ ক্লান্ত হয়ে পড়ে, তাই মাইন্ডফুলনেস মিউজিক বা রিল্যাক্সিং পডকাস্ট শুনে চোখ বন্ধ করে মানসিক বিশ্রাম নিন।

অবতরণের পর শরীর পুনরুদ্ধার

বিমান থেকে নামার পর প্রথম কয়েক ঘণ্টা শরীরে রক্তসঞ্চালন পুনরায় স্বাভাবিক করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিমানবন্দরে এস্কেলেটর বা লিফট ব্যবহার না করে সিঁড়ি দিয়ে হেঁটে যাওয়া ভালো। গন্তব্যে বা হোটেলে পৌঁছে বিছানায় শুয়ে পা দুটি সামান্য উঁচুতে তুলে ধরে বাতাসে সাইকেল চালানোর মতো নড়াচড়া করলে পায়ের ক্লান্তি ও ব্যথা দ্রুত দূর হয়। পর্যাপ্ত পানি পান করে এবং হালকা খাবার খেয়ে শরীর নতুন টাইম জোন ও বায়ুচাপের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সময় দিন।

সূত্র: সেইফ অ্যান্ড হেলদি ট্রাভেল

কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উদ্ভাবন ‘গ্লুকোওয়াচ’: এআই দিয়ে মাপা যাবে ডায়াবেটিস

প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুলাই ২৮, ২০২৬
কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উদ্ভাবন ‘গ্লুকোওয়াচ’:  এআই দিয়ে মাপা যাবে ডায়াবেটিস

ডায়াবেটিস রোগীদের বারবার আঙুল ফোটানোর কষ্ট থেকে মুক্তি দিতে 'গ্লুকোওয়াচ' নামের এক নতুন স্মার্টওয়াচ উদ্ভাবন করেছেন কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। রক্ত না তুলে বা কোনো ধরনের ব্যথা ছাড়াই ডিভাইসটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে রক্তে গ্লুকোজের সঠিক মাত্রা মেপে দিতে পারবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. খালিদ আবু আল সৌদ-এর নেতৃত্বে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের একদল ছাত্রী—নোরা আল বার্দিনি, মাজুন আল শাহওয়ানি, ফাতিমা আল কাবী ও সারা আল মুহান্নাদি এই সাফল্য অর্জন করেছেন। উদ্ভাবনটি ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে পেটেন্টের জন্য নিবন্ধিত হয়েছে।

কীভাবে কাজ করে এই 'গ্লুকোওয়াচ'?

গ্লুকোওয়াচ মূলত হৃদস্পন্দনের গতি, রক্তচাপের রিডিং ও আনুষঙ্গিক তথ্য বিশ্লেষণ করে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে গ্লুকোজের পরিমাণ হিসাব করে।

এর মূল সুবিধাগুলো হলো:

  • ব্যথামুক্ত পর্যবেক্ষণ: কোনো সূঁচ না ফুটিয়ে বা রক্ত না তুলে স্বাভাবিক উপায়ে গ্লুকোজ মাপা যায়।

  • মোবাইল অ্যাপ: একটি স্মার্টফোন অ্যাপের মাধ্যমে ব্যবহারকারী নিজেই নিজের স্বাস্থ্যের আপডেট দেখতে পারবেন।

  • জরুরি সংকেত: গ্লুকোজের মাত্রা বেশি বা কম হলে সাথে সাথে অ্যাপের মাধ্যমে সতর্কবার্তা চলে আসবে, যা চাইলে চিকিৎসক বা স্বজনদের কাছেও পাঠানো যাবে।

প্রজেক্ট থেকে আন্তর্জাতিক স্বর্ণপদক

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি সাধারণ গ্র্যাজুয়েশন প্রজেক্ট হিসেবে কাজটির যাত্রা শুরু হয়েছিল, যা পরে পূর্ণাঙ্গ গবেষণায় রূপ নেয়। ২০২৩ সালে কুয়েতে অনুষ্ঠিত ‘ইন্টারন্যাশনাল ইনভেনশন ফেয়ার অফ দ্য মিডল ইস্ট’-এ এই উদ্ভাবনটি স্বর্ণপদক জয় করে।

সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্য

গবেষক দলটি এখন এর এআই মডেলকে আরও নিখুঁত করার কাজ চালাচ্ছে, যাতে ডিভাইসটির হিসাব একদম নিখুঁত হয়। সব ধরনের বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদন পাওয়ার পর এটি বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

ড. আবু আল সৌদ জানান, 'কাতার ন্যাশনাল ভিশন ২০৩০'-এর অংশ হিসেবেই এই গবেষণা পরিচালিত হয়েছে। অনুমোদন পেলেই সাশ্রয়ী মূল্যে কাতারসহ বিশ্বের ডায়াবেটিস রোগীদের হাতে এটি তুলে দেওয়া সম্ভব হবে।