১৮ অক্টোবর ২০২৬

ট্রাম্পের ভাইরাল স্যুট কি ‘মেড ইন বাংলাদেশ’? ভিডিওতে ট্যাগ ফাঁস হতেই মার্কিন রাজনীতি গরম!

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ১০, ২০২৬
ট্রাম্পের ভাইরাল স্যুট কি ‘মেড ইন বাংলাদেশ’? ভিডিওতে ট্যাগ ফাঁস হতেই মার্কিন রাজনীতি গরম!

সম্প্রতি নেব্রাস্কা অঙ্গরাজ্যের একটি অনুষ্ঠানে যে স্যুট পরে হাজির হন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, সেটির ব্র্যান্ডের ট্যাগ দেখা যাওয়ার ঘটনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এর মাধ্যমে ট্রাম্পের সমালোচনা হলেও বিশ্ববাজারে পুরুষদের পোশাক সরবরাহে আবারও নজরে এসেছে বাংলাদেশের ভূমিকা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টেক্সটাইল টাইমস এক পোস্টে জানিয়েছে, গত ৫ অক্টোবর নেব্রাস্কার গ্র্যান্ড আইল্যান্ডে ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ শীর্ষক সমাবেশে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় পোশাক ব্র্যান্ড জোস. এ. ব্যাংক-এর একটি নেভি ব্লু রঙয়ের স্যুট পরে উপস্থিত হন।

সমাবেশে ট্রাম্প গায়ে থেকে স্যুট জ্যাকেটটি খুলে ফেলেন। বিষয়টি নিয়ে পরে প্রশ্ন ওঠে যে, যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি স্যুটের বিকল্প থাকা সত্ত্বেও কেন ট্রাম্প আমদানি করা স্যুট পরেছেন।

ঘটনাটি তার দীর্ঘদিনের বিলাসবহুল জীবনযাপনের ভাবমূর্তির সঙ্গে কিছুটা বেমানান বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন বাড়ানো এবং দেশীয় শিল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি- ট্রাম্পের বহুল প্রচারিত ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির সঙ্গেও বিষয়টি প্রশ্ন তৈরি করেছে।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

তবে সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজনীতিতে নারীদের পোশাক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যে ধরনের অযাচিত আলোচনা চলে আসছে, তা বিবেচনায় নিলে পোশাককে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে না রাখাই ভালো। কিন্তু ট্রাম্পের ক্ষেত্রে বিষয়টি কিছুটা ভিন্ন। কারণ, তিনি একজন ধনকুবের, যার ব্যক্তিগত ভাবমূর্তির সঙ্গে বিলাসিতা, আভিজাত্য ও সম্পদের প্রদর্শন ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে আছে।

ট্রাম্পের স্যুটের ট্যাগটি জোস এ. ব্যাংকের ‘ট্রাভেলার’ সংগ্রহের স্যুটের আলাদা অংশের ট্যাগের সঙ্গে কিছুটা মিলে যায়। ব্র্যান্ডটির কালো রঙের বড় ও লম্বা গড়নের পুরুষদের জন্য তৈরি একটি স্যুটের দাম বর্তমানে ছাড়ে ২৭৯ ডলার। পণ্যটির বিজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এটি সহজে কুঁচকে যায় না এবং দাগ প্রতিরোধী। ফলে দীর্ঘ ভ্রমণের জন্য এটি ব্যবহারিক একটি পোশাক হতে পারে।

তবে ট্যাগের মিল থেকে ট্রাম্পের পরা স্যুটটির সঠিক মডেল বা দাম নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করা যায়নি।

স্যুটটি কি বাংলাদেশে তৈরি?

ট্রাম্পের স্যুট নিয়ে আলোচনার আরেকটি কারণ এর সম্ভাব্য উৎপাদনস্থল। জোস এ. ব্যাংক বৃহত্তর পোশাক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান টেইলর্ড ব্র্যান্ডসের অংশ। এই গোষ্ঠীর মালিকানায় রয়েছে ‘মেনস ওয়্যারহাউস’ ব্র্যান্ডটিও।

গোষ্ঠীটির কিছু পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি হয়। এর মধ্যে তাদের ‘জোসেফ অ্যাবাউড’ ব্র্যান্ডের কিছু পোশাকের দাম প্রায় ৭০০ ডলার। জোস এ. ব্যাংকের ‘আমেরিকান বেসপোক’ নামের একটি সংগ্রহও রয়েছে, যেটিকে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি বলে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। তবে ওই সংগ্রহের ট্যাগের সঙ্গে ট্রাম্পের পোশাকে দেখা ট্যাগের মিল নেই।

এ কারণে ট্রাম্পের স্যুটটি চীন কিংবা বাংলাদেশে তৈরি হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে পোশাকটির উৎপাদনস্থল নিশ্চিত করা যায়নি।

যদি স্যুটটি সত্যিই বিদেশে তৈরি হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির সঙ্গে একটি অস্বস্তিকর বৈপরীত্য তৈরি করতে পারে। কারণ, তার অন্যতম রাজনৈতিক অঙ্গীকার হলো যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন বাড়ানো, দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিদেশি পণ্যের ওপর নির্ভরতা কমানো।

অবশ্য বিদেশে তৈরি একটি স্যুট পরা মানেই তার প্রশাসনের উৎপাদননীতি ব্যর্থ- এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। তবে রাজনৈতিক প্রতীক ও ব্যক্তিগত জীবনযাপনের মধ্যে সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ তৈরি হয়।

ট্রাম্পের অনলাইন স্টোরে বিক্রি হওয়া ‘ভাইনইয়ার্ড ভাইন্স’ ব্র্যান্ডের যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি টাইয়ের দাম ১২৫ ডলার। কিন্তু একটি দেশীয় টাই ব্যবহার করা আর পুরো পোশাক দেশেই তৈরি হওয়া এক বিষয় নয়।

জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে চাপে থাকা মানুষের সঙ্গে কি সংযোগ তৈরি করতে চান?

ট্রাম্পের পোশাক নিয়ে সমালোচনা এবারই প্রথম নয়। এর আগে তার অতিরিক্ত লম্বা টাই নিয়ে ব্যঙ্গ করা হয়েছে। গত মাসে ওয়াশিংটনের মৃদু আবহাওয়ায় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে স্বাগত জানানোর সময় ওভারকোট ও গ্লাভস পরা নিয়েও সমালোচকেরা কটাক্ষ করেছিলেন। এবার স্যুটের ট্যাগও আলোচনার বিষয় হয়েছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বিগ্ন সাধারণ মানুষের কেউ কেউ ট্রাম্পের এই পোশাক পছন্দকে সাধারণ মানুষের কাছাকাছি থাকার ইঙ্গিত হিসেবে দেখতে পারেন। সাশ্রয়ী পোশাক ব্যবহারিক এবং মধ্যবিত্তের নাগালের মধ্যে- এমন বার্তা এতে তৈরি হতে পারে।

ইচ্ছাকৃতভাবে কি স্যুটের ট্যাগ দেখিয়েছেন?

ট্রাম্পের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও বক্তব্যের কারণে ষড়যন্ত্রতত্ত্বে বিশ্বাসী ব্যক্তিদের মতো তার সমালোচকেরাও অনেক সময় সাধারণ ঘটনাকে বিশেষ উদ্দেশ্যের সঙ্গে যুক্ত করেন। সে কারণে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলতে পারেন, স্যুটের ট্যাগটি কি ইচ্ছাকৃতভাবে দেখানো হয়েছিল, যাতে তাকে সাধারণ মানুষের কাছাকাছি বলে মনে হয়?

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে সাধারণ মানুষের মতো দেখানোর জন্য পোশাক ব্যবহারের নজির অবশ্য রয়েছে। সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আল গোরের সোয়েটার, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির ছদ্মবেশী সামরিক পোশাকের মতো দেখতে শিকারের জ্যাকেট কিংবা সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশের কাউবয় বুট- এসব পোশাকও একসময় আলোচনায় এসেছিল।

তবে ট্রাম্পের ক্ষেত্রে স্যুটের ট্যাগ দেখানোটি পরিকল্পিত ছিল বলে মনে করার মতো স্পষ্ট প্রমাণ নেই। ভিডিওতে দেখা যায়, মঞ্চে নাচার সময় তিনি স্যুটের সামনের অংশ খুললে ট্যাগটি দৃশ্যমান হয়। ফলে এটি নিছক অনিচ্ছাকৃত ঘটনা হয়ে থাকতে পারে।

চলতি বছরের শুরুর দিকে ট্রাম্প তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের জন্য ‘ফ্লোরশেইম’ ব্র্যান্ডের জুতা কিনেছিলেন বলেও খবর প্রকাশিত হয়। এটি তুলনামূলক সাশ্রয়ী এবং কাজের উপযোগী জুতার ব্র্যান্ড। তখন ট্রাম্প জুতাগুলোকে ‘চমৎকার’ বলে প্রশংসা করেন এবং মন্ত্রিসভার সদস্যদের স্নিকার্সের পরিবর্তে এগুলো পরার পক্ষে মত দেন।

এসব ঘটনা বিবেচনায় নিয়ে কেউ কেউ মনে করছেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ট্রাম্পের পোশাক বাছাইয়ের রুচি হয়তো কিছুটা বদলাচ্ছে। তবে তা যেকোনও রাজনৈতিক কৌশলের অংশ, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর ভিত্তি নেই।

পোশাকের প্রচারেও কি ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য থাকতে পারে?

ট্রাম্প অতীতে নিজের পরিচিতি ও ভাবমূর্তিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করেছেন। জর্জিয়ার একটি মামলায় গ্রেফতারের পর তোলা তার মাগশট ছবির সময় পরা স্যুটের কাপড়ের নমুনাও বিক্রি করেছিলেন। এছাড়া বাইবেল, ঘড়ি, স্টেক, ওয়াইন ও পানির মতো পণ্যও তার ব্যবসায়িক উদ্যোগের অংশ হয়েছে।

তাই কেউ কেউ প্রশ্ন তুলতে পারেন, জোস এ. ব্যাংক ব্র্যান্ডের ট্যাগ দৃশ্যমান হওয়ার পেছনে কোনও ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য ছিল কি না। তবে এ বিষয়ে কোনও প্রমাণ সামনে আসেনি।

ট্রাম্পের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি যে পোশাকটি রাজনৈতিকভাবে যুক্ত, সেটি হলো লাল রঙের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ বা ‘মাগা’ টুপি। তার জনপ্রিয়তাবাদী রাজনৈতিক আন্দোলনের অন্যতম প্রতীক এই টুপির দাম তার অনলাইন স্টোরে ৫৫ ডলার। পণ্যটির বিজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এটি যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি।
শেষ পর্যন্ত স্যুটের ট্যাগটি ট্রাম্পের পোশাকের পছন্দে পরিবর্তনের ইঙ্গিত, নিছক অনিচ্ছাকৃত দৃশ্য, নাকি তার ভাবমূর্তি নিয়ে নতুন বিতর্কের উপলক্ষ- তা নিশ্চিত নয়।

সূত্র: সিএনএন

মেয়াপ্তোত্তীর্ণ QID নিয়ে কি কাতারে ফেরা সম্ভব? জেনে নিন আইনি উপায়

প্রকাশ: রবিবার, অক্টোবর ১৮, ২০২৬
মেয়াপ্তোত্তীর্ণ QID নিয়ে কি কাতারে ফেরা সম্ভব? জেনে নিন আইনি উপায়

কাতারে বসবাসরত অনেক প্রবাসীদের মনেই একটি সাধারণ প্রশ্ন জাগে—রেসিডেন্সি পারমিট (QID) মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে কি পুনরায় কাতারে প্রবেশ করা সম্ভব? সাম্প্রতিক তথ্য ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (MoI) বিধিমালা অনুযায়ী, আকামার মেয়াদ শেষ হলেও সঠিক আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নির্ধারিত উপায়ে কাতার রেসিডেন্সিতে পুনরায় ফিরে আসা সম্ভব। সে বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (MoI) বিধিমালা অনুযায়ী নির্দেশনামূলক তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

কাতার থেকে বিদেশে ভ্রমণের সময় বা কাতার আইডির মেয়াদ শেষ হওয়ার মুখোমুখি হলে প্রবাসীদের বেশ কিছু জরুরি আইনি ও প্রযুক্তিগত নিয়ম অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।

বৈধ আকামা থাকা অবস্থায় কাতারে প্রবেশের শর্তাবলী

সাধারণ নিয়মে কাতার আইডি বা রেসিডেন্সি পারমিটের মেয়াদ থাকা অবস্থায় যেকোনো কাতার প্রবাসী দেশে ফিরতে পারেন। তবে এ ক্ষেত্রে কয়েকটি মূল বিষয়ে নজর রাখা জরুরি।

বৈধ কাতার আইডি নিয়ে প্রবেশের শর্তাবলি

  • মেয়াদের শর্ত: কাতারে নামার মুহূর্ত পর্যন্ত কাতার আইডির মেয়াদ বহাল থাকতে হবে।

  • পাসপোর্টের মেয়াদ: ভ্রমণের সময় পাসপোর্টের ন্যূনতম ছয় মাসের মেয়াদ থাকা বাধ্যতামূলক।

  • ১৮০ দিনের সীমা: বিদেশে অবস্থানের সময়সীমা কোনোভাবেই টানা ১৮০ দিন বা ছয় মাস অতিক্রম করা যাবে না। এই নির্দিষ্ট সময় পার হয়ে গেলে বিমানবন্দরে এয়ারলাইনস থেকে বোর্ডিং পাস প্রদান না করার ঝুঁকি থাকে।

মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে কীভাবে ফিরবেন? প্রবেশ করার উপায় ('রিটার্ন পারমিট')

যদি কোনো কারণে আকামার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়, তবে কাতার প্রবেশের জন্য সংশ্লিষ্ট কাতার প্রবাসী নিজে সরাসরি টিকিট কেটে চলে আসতে পারবেন না। এ ক্ষেত্রে প্রবাসীর কফিল বা স্পন্সরকে (কোম্পানি বা ফ্যামিলি স্পন্সর) মেত্রাশ (Metrash) অ্যাপের মাধ্যমে 'রিটার্ন পারমিট' (Return Permit)-এর জন্য আবেদন করতে হবে।

  • আবেদন পদ্ধতি: স্পন্সর তার স্মার্টফোন থেকে অ্যাপে প্রবেশ করে 'Travel' অপশনে গিয়ে 'Return Permit' সেকশন সিলেক্ট করবেন। সেখানে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করে আবেদন দাখিল করতে হবে।

  • মেয়াদ ও ফি: কোম্পানি বা পারিবারিক স্পন্সরশিপের অধীনে এই পারমিটের জন্য সরকারি ফি ৫০০ কাতারি রিয়াল। রিটার্ন পারমিট ইস্যু হওয়ার পর এটি মাত্র ৩০ দিনের জন্য বৈধ থাকবে। এই সময়ের মধ্যেই কাতারে পৌঁছাতে হবে।

  • জরুরি পরামর্শ: আইডি বাতিল হওয়া বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিস্টেমে বাতিল ঠেকাতে আইডির মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত এক দিন আগে কিংবা মেয়াদ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই মেট্রাশে রিটার্ন পারমিটের আবেদন করা উচিত। অ্যাপে আবেদন প্রত্যাখ্যাত বা কোনো জটিলতা দেখা দিলে কাতারস্থ ওয়াদি আল বানাত (Wadi Al Banat) ইমিগ্রেশন অফিসে সরাসরি যোগাযোগ করা যেতে পারে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের নিজস্ব বিবেচনা ও দেরিতে ফেরার যৌক্তিক কারণ পর্যালোচনা করে এই পারমিট মঞ্জুর করে থাকে।

মেয়াদোত্তীর্ণ আইডির জরিমানা সংক্রান্ত তথ্য

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো প্রবাসীর রেসিডেন্স পারমিটের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যদি তিনি বিদেশে অবস্থান অব্যাহত রাখেন, তবে ৯০ দিনের বেশি বা নির্দিষ্ট মেয়াদের অতিরিক্ত প্রতি দিনের জন্য দৈনিক ১০ কাতারি রিয়াল হারে জরিমানার বিধান রয়েছে।

ভ্রমণের আগে টিকিট বুকিং না করে অবশ্যই স্পন্সরের মাধ্যমে আইডির সঠিক স্ট্যাটাস এবং রিটার্ন পারমিট নিশ্চিত করে নেওয়ার জন্য প্রবাসীদের প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

কাতারে চেক ডিজঅনার বা বাউন্স মামলার আইনি প্রক্রিয়া: প্রবাসীদের যা জানা জরুরি

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
কাতারে চেক ডিজঅনার বা বাউন্স মামলার আইনি প্রক্রিয়া: প্রবাসীদের যা জানা জরুরি

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারে চেক ডিজঅনার বা চেক বাউন্স হওয়া একটি অত্যন্ত গুরুতর আর্থিক অপরাধ। ব্যবসায়িক লেনদেন বা ব্যক্তিগত পাওনা আদায়ের ক্ষেত্রে চেক প্রদান করার পর যদি তা পর্যাপ্ত তহবিলের অভাব বা অন্য কোনো কারণে ব্যাংকে প্রত্যাখ্যাত হয়, তবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আইনি প্রক্রিয়ায় এর প্রতিকার পেতে পারেন। কাতারে চেক বাউন্স হলে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সুনির্দিষ্ট কিছু ধাপ অনুসরণ করতে হয়।

কাতারে চেক ডিজঅনার বা বাউন্স মামলার আইনি প্রক্রিয়া: প্রবাসীদের যা জানা প্রয়োজন

চেক বাউন্স হলে কী ঘটে?

একটি সাধারণ আইনি প্রক্রিয়ায় নিচের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকে:

  • চেক ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়।
  • ব্যাংক অর্থ পরিশোধ না করে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ উল্লেখ করে চেকটি ফেরত দেয়।
  • সুবিধাভোগী (Beneficiary) বা পাওনাদার চেক ডিজঅনার হওয়ার প্রমাণপত্র বা মেমো সংগ্রহ করেন।
  • এরপর তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দায়ের করতে পারেন।
  • পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে বিষয়টি তদন্ত ও প্রসিকিউশনের মাধ্যমে সামনে এগোতে পারে।
  • আদালত একইসঙ্গে ফৌজদারি দিক এবং চেকের অর্থ উদ্ধারের বিষয়টি পরিচালনা করতে পারেন।

কাতার সেন্ট্রাল ব্যাংকের (QCB) ক্লিয়ারিং-সিস্টেমের নিয়ম অনুযায়ী, ফেরত আসা চেকের সাথে অবশ্যই প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ উল্লেখ করে একটি দাপ্তরিক নথি যুক্ত থাকতে হবে।

আরও পড়ুন

কাতারে শিক্ষাগত সার্টিফিকেট বা ডিগ্রি অ্যাটেস্টেশন: নিয়মকানুন ও প্রক্রিয়া

কাতারে খোলা জায়গায় গাড়ি ধোয়া নিষিদ্ধ: অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা

ফৌজদারি শাস্তি

কাতার দণ্ডবিধির ৩৫৭ অনুচ্ছেদে চেক সংক্রান্ত একাধিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপরাধের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত তহবিল নেই জেনেও চেক ইস্যু করা, চেক ইস্যু করার পর অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ তুলে নেওয়া, অথবা চেকটি নগদায়ন করা সম্ভব নয় জেনেও তা প্রদান করা।

এই আইন অনুযায়ী, অপরাধীর কমপক্ষে তিন মাস থেকে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড এবং/অথবা ৩,০০০ থেকে ১০,০০০ রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। আদালত অপরাধীকে চেকের সমপরিমাণ অর্থ এবং সুবিধাভোগীর আইনি খরচ পরিশোধেরও নির্দেশ দিতে পারেন। তবে লক্ষণীয় যে, ব্যাংক থেকে ফেরত আসা প্রতিটি চেক স্বয়ংক্রিয়ভাবে অভিন্ন ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় না। চেক প্রদানের প্রেক্ষাপট এবং এর সাথে জড়িত পরিস্থিতিগুলো এক্ষেত্রে বিচার্য বিষয়।

প্রবাসীদের করণীয় কী?

আপনি যদি এমন কোনো চেক দিয়ে থাকেন যা বাউন্স করেছে, তবে পুলিশ, পাবলিক প্রসিকিউশন, আদালত বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের যোগাযোগ কোনোভাবেই এড়িয়ে চলবেন না। নিচের কাগজপত্রগুলোর কপি সবসময় নিজের সংগ্রহে রাখুন:

  • মূল চেকের কপি এবং চেকের নম্বর
  • ব্যাংক রিটার্ন মেমো (বাউন্স স্লিপ)
  • ব্যাংক স্টেটমেন্ট
  • অর্থ প্রদান বা আপস-মীমাংসার রেকর্ড
  • সুবিধাভোগীর সাথে যোগাযোগের প্রমাণ
  • চেকের সাথে সম্পর্কিত যেকোনো চুক্তিপত্র বা ইনভয়েস
  • আইডি এবং রেসিডেন্স পারমিট (QID)

আর আপনি যদি পাওনাদার বা সুবিধাভোগী হন, তবে মূল চেক এবং ব্যাংক থেকে পাওয়া চেক প্রত্যাখ্যাত হওয়ার প্রমাণপত্র সযত্নে সংরক্ষণ করুন। কাতারের বিচার মন্ত্রণালয়ের নির্দেশিকা অনুযায়ী চেক সংক্রান্ত আইনি সেবার ক্ষেত্রে এই নথিপত্রগুলো অপরিহার্য।

কাতারে চেকের মামলা করার ধাপে ধাপে আইনি প্রক্রিয়া নিচে তুলে ধরা হলো:

ব্যাংকের বাউন্স স্লিপ বা মেমো সংগ্রহ

চেক ব্যাংকে জমা দেওয়ার পর যদি তা ডিজঅনার হয়, তবে প্রথমেই ব্যাংক থেকে একটি অফিসিয়াল “চেক ডিজঅনার মেমো” বা বাউন্স স্লিপ সংগ্রহ করতে হবে। এই নথিতে চেক বাউন্স হওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ—যেমন অপর্যাপ্ত তহবিল (Insufficient Funds), অ্যাকাউন্ট বন্ধ থাকা বা স্বাক্ষরের অমিল—স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে।

থানায় অভিযোগ বা পুলিশ রিপোর্ট দায়ের: বাউন্স স্লিপ হাতে পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করতে হয়।

থানায় অভিযোগ: যে এলাকার ব্যাংকে চেকটি জমা দেওয়া হয়েছিল বা যে থানাধীনে চেকটি ইস্যু করা হয়েছে, সেই এলাকার পুলিশ স্টেশনে যোগাযোগ করতে হবে।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র: মূল চেক এবং এর উভয় পিঠের ফটোকপি, ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত বাউন্স স্লিপ, নিজের কাতার আইডি (QID)-এর কপি এবং বাণিজ্যিক বা চুক্তিভিত্তিক লেনদেন হলে সংশ্লিষ্ট চুক্তিপত্র বা ইনভয়েস সাথে রাখতে হবে। পুলিশ থানায় অভিযোগ নথিভুক্ত করার পর অভিযুক্ত ব্যক্তিকে (যিনি চেক প্রদান করেছেন) ডেকে পাঠাবে অথবা আইনগত তলব করবে।

প্রসিকিউশন ও আদালত

থানায় প্রাথমিক তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর পুলিশ মামলাটি পাবলিক প্রসিকিউশনে হস্তান্তর করে। পাবলিক প্রসিকিউশন তথ্য-প্রমাণ ও সত্যতা যাচাই করে মামলাটি ফৌজদারি আদালতে (Criminal Court) পাঠায়। কাতারের ফৌজদারি আইন (Qatar Penal Code No. 11 of 2004 - Article 357) অনুযায়ী, চেক ডিজঅনারের অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তির আর্থিক জরিমানা অথবা ৩ মাস থেকে ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

পাওনা টাকা আদায়ের দেওয়ানি প্রক্রিয়া

ফৌজদারি আদালতে অভিযুক্ত ব্যক্তির সাজা বা জরিমানা হলেও মূল পাওনা টাকা উদ্ধারের জন্য অনেক সময় দেওয়ানি বা বাণিজ্যিক আদালতে (Civil/Commercial Court) আলাদা দাবি বা মামলা দায়ের করতে হয়। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পুলিশ স্টেশন বা প্রসিকিউশন পর্যায়েই বিবাদী ব্যক্তি গ্রেফতার বা আইনি সাজা এড়াতে দেনা পরিশোধ করে দেন কিংবা পারস্পরিক সমঝোতায় পৌঁছান।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরামর্শ:

নির্ধারিত সময়: চেক বাউন্স হওয়ার পর কালক্ষেপণ না করে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। সময় বাড়লে নথিপত্র ও আইনি প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হতে পারে।

অনুবাদ: কোনো চুক্তিপত্র বা সহায়ক কাগজপত্র আরবি ছাড়া অন্য ভাষায় থাকলে তা কাতারের অনুমোদিত আইনি অনুবাদক দিয়ে আরবিতে অনুবাদ করিয়ে নেওয়া বাধ্যতামূলক।

আইনি সহায়তা: পাওনা বা মামলার আর্থিক পরিমাণ বড় হলে কিংবা প্রক্রিয়াটি দ্রুত সম্পন্ন করতে কাতারের লাইসেন্সপ্রাপ্ত স্থানীয় কোনো আইনজীবী বা লিগ্যাল কনসালটেন্টের পরামর্শ নেওয়া নিরাপদ।

চেকের মামলা থাকলে কি কাতার ত্যাগ করা যায়?

এটি এমন একটি বিষয় যেখানে প্রবাসীদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। এর পরিণতি মামলার বাস্তব অবস্থার ওপর নির্ভর করে। দেশ ত্যাগ করলেই চেকের মামলা বাতিল হয়ে যাবে—এমনটা ভাবা একেবারেই অনুচিত। ভ্রমণের আগে আপনার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ বা আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে কি না, তা জানতে কাতারের কোনো যোগ্য আইনজীবীর পরামর্শ নিন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আপনার আইনি অবস্থা (Legal Status) যাচাই করে নিন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত কোনো গুজবে কান দেবেন না। নির্দিষ্ট কোনো চেক বাউন্স হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা (Exit ban), গ্রেফতার, নির্বাসন বা কারাদণ্ড হবেই—এমন তথ্যের ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে মামলার বর্তমান অবস্থা এবং প্রযোজ্য আইনি প্রক্রিয়ার ওপর ভরসা করা উচিত।

আপনি যদি বিষয়টি মীমাংসা করতে চান

সম্ভব হলে কেবল মৌখিক চুক্তির ওপর নির্ভর না করে যেকোনো আপস-মীমাংসা বা অর্থ লেনদেনের লিখিত প্রমাণ সংগ্রহ করুন। আনুষ্ঠানিকভাবে আইনি প্রক্রিয়া বন্ধ বা প্রত্যাহার করতে কী কী পদক্ষেপ প্রয়োজন তা নিশ্চিত করতে একজন আইনজীবীর পরামর্শ নিন। কারণ, চেকের অর্থ পরিশোধ করা এবং আনুষ্ঠানিকভাবে একটি ফৌজদারি অভিযোগ নিষ্পত্তি করা একই বিষয় নয়।

(সতর্কীকরণ: কাতারের চেক সংক্রান্ত আইনি ও প্রশাসনিক পদ্ধতি পরিবর্তনশীল। উপরের তথ্যগুলো ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রাপ্ত আইন ও সরকারি নির্দেশনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে এবং এটি সাধারণ তথ্য মাত্র। কোনো চলমান ফৌজদারি অভিযোগ, সমন, গ্রেফতার ঝুঁকি বা ভ্রমণ সংক্রান্ত আইনি সমস্যার জন্য অবিলম্বে কাতারের লাইসেন্সপ্রাপ্ত আইনজীবীর পরামর্শ গ্রহণ করুন।)

আরও পড়ুন

কাতারে না জানিয়ে কারো ছবি বা ভিডিও ধারণ করলেই জেল-জরিমানা

সবুজে সেজে উঠছে কাতার: সবুজায়ন ও বৃক্ষরোপণে নতুন মাইলফলক

পাবলিক ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া ট্যাক্সি, লিমুজিন ও বাস চালানো নিষিদ্ধ: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

কাতারে শিক্ষাগত সার্টিফিকেট বা ডিগ্রি অ্যাটেস্টেশন: নিয়মকানুন ও প্রক্রিয়া

প্রকাশ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬
কাতারে শিক্ষাগত সার্টিফিকেট বা ডিগ্রি অ্যাটেস্টেশন: নিয়মকানুন ও প্রক্রিয়া

কাতারে চাকুরিতে আবেদন, নিয়োগকর্তা পরিবর্তন কিংবা পেশাদার লাইসেন্সিংয়ের প্রয়োজনীয়তা মেটাতে শিক্ষাগত সার্টিফিকেট বা ডিগ্রির বৈধতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। কাতারে অফিসিয়াল ব্যবহারের জন্য বিদেশ থেকে অর্জিত ডিপ্লোমা, বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি কিংবা চিকিৎসা শিক্ষার সনদ কাতার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (MOFA) মাধ্যমে অনুমোদন বা অ্যাটেস্ট করাতে হয়।

কাতারে শিক্ষাগত নথি অনুমোদনের নিয়মাবলী ও প্রক্রিয়া নিচে তুলে ধরা হলো:

নথি গ্রহণের শর্ত ও নিয়মাবলি:

বিদেশে জারি করা নথির ক্ষেত্রে নিজ দেশের যথাযথ প্রক্রিয়া শেষ করে অবশ্যই কাতারের সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক মিশন অথবা কাতারে অবস্থিত অনুমোদিত কোনো বিদেশী মিশনের মাধ্যমে অ্যাটেস্টেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

বিদেশে জারি করা যেকোনো স্নাতক ডিগ্রির সাথে মার্কশিট বা ট্রান্সক্রিপ্ট বাধ্যতামূলকভাবে জমা দিতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় যোগ্যতার ক্ষেত্রে সনদটি অবশ্যই একটি স্বীকৃত এবং অনুমোদিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হতে হবে। নথিতে প্রয়োজনীয় সিল এবং স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক।

ফিলিপাইনের নথির ক্ষেত্রে বিশেষ নির্দেশনা: ফিলিপাইন থেকে ইস্যুকৃত নথির ক্ষেত্রে অ্যাপোস্টিল (Apostille) কনভেনশন পুরোপুরি প্রযোজ্য না হওয়ায় অতিরিক্ত দূতাবাস বা কনস্যুলার বৈধতার প্রয়োজন হতে পারে। তাই নথিপত্র কাতারে পাঠানোর আগে ফিলিপাইন ডিএফএ (DFA)-এর নিয়মগুলো যাচাই করে নেওয়া উচিত।

অনলাইন আবেদন ও ফি:

আবেদনকারীরা খুব সহজেই অফিসিয়াল কাতার এমওএফএ (MOFA) ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইন আবেদন করতে পারেন। এছাড়া কনস্যুলার বিষয়ক বিভাগ এবং নির্বাচিত সরকারি সেবা কেন্দ্রের মাধ্যমেও আবেদন করা সম্ভব।

সাধারণ সার্টিফিকেটের অনুমোদন ফি: QAR ১০০।

কোম্পলিট অ্যাটেস্টেশন আউটসাইড কাতার:

বিদেশে বসেই এই সেবার মাধ্যমে এমওএফএ-এর সহযোগিতায় কাতারি মিশনে নথি পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় বৈধতা সম্পন্ন করা যায়। এই সেবার ক্ষেত্রে অনুমোদন সম্পন্ন করতে QAR ১৫০, কাতারি মিশনের ফি বাবদ প্রায় QAR ১২০ এবং সংশ্লিষ্ট দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত চার্জ প্রযোজ্য হতে পারে।

যোগাযোগ ও সহায়তা:

যেকোনো প্রয়োজনে বাসিন্দারা কাতারের সরকারি যোগাযোগ কেন্দ্র ১০৯ নম্বরে (২৪/৭ চালু) অথবা এমওএফএ অনুমোদন বিভাগে ৪০১১ ১১৮৮ নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন।

কাতারে ট্রাফিক পুলিশের নিলামে কম দামে গাড়ি কেনার সুযোগ: তারিখ, সময় ও শর্তাবলি

প্রকাশ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬
কাতারে ট্রাফিক পুলিশের নিলামে কম দামে গাড়ি কেনার সুযোগ: তারিখ, সময় ও শর্তাবলি

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাধারণ ট্রাফিক পরিচালনা অধিদপ্তরের উদ্যোগে আগামী ৪ অক্টোবর ২০২৬ থেকে শুরু হতে যাচ্ছে আটককৃত যানবাহনের পাবলিক নিলাম। ইন্ডাস্ট্রিয়াল এরিয়া ৫২ নম্বর স্ট্রিটের ভেহিকেল ইম্পাউন্ড ইয়ার্ডে এই নিলাম অনুষ্ঠিত হবে।

টানা দুই সপ্তাহব্যাপী এই নিলাম প্রতিদিন বিকেল ৩:০০ টা থেকে সন্ধ্যা ৬:০০ টা পর্যন্ত চলবে।

যানবাহন পরিদর্শনের সময়সূচি:

নিলামে তোলার আগে আগ্রহী ক্রেতারা নির্ধারিত সময়ে গাড়িগুলো সরেজমিনে দেখে নিতে পারবেন:

  • তারিখ: ৩০ সেপ্টেম্বর এবং ১ অক্টোবর ২০২৬

  • সময়: সকাল ৭:০০ টা থেকে দুপুর ১২:০০ টা পর্যন্ত

নিলামে অংশগ্রহণের মূল শর্তাবলি:

বিডিং কার্ড (Bidding Card): নিলামে অংশ নিতে ইচ্ছুকদের নিলাম চত্বরে প্রবেশের আগে ৩,০০০ কিউএআর (QAR 3,000) ক্যাশ ডিপোজিট বা জামানত দিয়ে বিডিং কার্ড সংগ্রহ করতে হবে। কার্ড ফেরত দিলে দিনের শেষে এই জামানত ফেরত পাওয়া যাবে অথবা পরবর্তী লেনদেনের জন্য জমা রাখা যাবে। তবে গাড়ি ক্রয়ে ব্যর্থ হলে কার্ডটি ডাউন পেমেন্ট হিসেবে গণ্য হবে।

ডাউন পেমেন্ট ও পরিশোধ: নিলামে গাড়ি ক্রয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার পর বিক্রয় মূল্যের ২০% তাৎক্ষণিক বা পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নন-refundable ডাউন পেমেন্ট হিসেবে পরিশোধ করতে হবে এবং পরের দিনই সম্পূর্ণ মূল্য পরিশোধ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ মূল্য পরিশোধ না করলে কমিটি পুনরায় গাড়িটি নিলামে তোলার অধিকার রাখে এবং পূর্বের ডাউন পেমেন্টের অর্থ ফেরত দেওয়া হবে না।

অন্যান্য নিয়ম: নাম পরিবর্তনের জন্য ২০০ কিউএআর ফি প্রযোজ্য এবং তা কেবল সম্পূর্ণ মূল্য পরিশোধের পরেই করা যাবে। নিলাম সম্পন্ন করার সময় অবশ্যই মূল আইডি কার্ড প্রদর্শন করতে হবে। এছাড়া নিলামের কার্যক্রমে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং আগের কোনো বকেয়া না থাকা সাপেক্ষে যেকোনো ব্যক্তিকে কমিটি বাদ দেওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করে।

নিলাম সংক্রান্ত বিস্তারিত নিয়মাবলি ও শর্ত জানতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্ধারিত সময়ে ইম্পাউন্ড ইয়ার্ডে উপস্থিত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কাতার থেকে হজের আবেদন ও শর্তাবলি ঘোষণা

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬
কাতার থেকে হজের আবেদন ও শর্তাবলি ঘোষণা

আসন্ন ১৪৪৮ হিজরির পবিত্র হজ পালনে ইচ্ছুক নাগরিকদের জন্য আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নিবন্ধনের সময়সূচি ঘোষণা করেছে কাতারের আওকাফ ও ইসলামিক বিষয়ক মন্ত্রণালয়। আগামী ২০ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে ২০ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত অফিসিয়াল হজ ওয়েবসাইটের (hajj.gov.qa) মাধ্যমে এই নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

এক সংবাদ সম্মেলনে হজ ও ওমরাহ বিষয়ক বিভাগের পরিচালক আলি সুলতান আল-মুসাইফ্রি এই ঘোষণা দেন। বিগত বছরগুলোতে আগাম নিবন্ধনের ফলে ইতিবাচক ফলাফল পাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, এর মাধ্যমে হজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো (কাফেলা) তাদের চুক্তি ও অপারেশনাল প্রস্তুতি অনেক আগেই সম্পন্ন করতে পারে, যা সেবার মান বাড়াতে সরাসরি ভূমিকা রাখে। সৌদি আরব সরকারের নির্ধারিত আগাম সময়সীমা এবং কোটা বরাদ্দের সাথে সামঞ্জস্য রেখেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

১৪৪৮ হিজরিতে কাতার থেকে হজের কোটা ও যোগ্যতা

আসন্ন হিজরি সেশনের জন্য কাতার থেকে হজের মোট কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪,৪০০ জন। সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য ও ফিটনেস মানদণ্ড অনুযায়ী এবারও আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

আবেদনের সুনির্দিষ্ট শর্তাবলি নিচে তুলে ধরা হলো:

কাতারি নাগরিকদের জন্য:

আবেদনকারীকে অবশ্যই ন্যূনতম ১৮ বছর বয়সী হতে হবে। প্রধান আবেদনে সর্বোচ্চ তিনজন সঙ্গী যুক্ত করা যাবে।

প্রবাসী ও জিসিসি (GCC) নাগরিকদের জন্য:

আবেদনকারীর বয়স ন্যূনতম ৪৫ বছর হতে হবে এবং ইতিপূর্বে কখনো হজ পালন করেননি এমন হতে হবে। তারা কেবল একজন সঙ্গী যুক্ত করতে পারবেন এবং কাতারে অন্তত ১৫ বছর একটানা বসবাস করার শর্ত পূরণ করতে হবে।

আরও পড়ুন

কাতারে ২০২৭ সালের হজের মেডিকেল পরীক্ষা শুরু: বিনা মূল্যে সনদ পাবেন যারা

উন্নত অনলাইন পেমেন্ট ও ইলেকট্রনিক চুক্তি ব্যবস্থা

হজযাত্রীদের সুবিধা নিশ্চিত করতে এবার অনলাইন নিবন্ধন ব্যবস্থায় আরও নমনীয় ও ব্যবহারকারী-বান্ধব পেমেন্ট সিস্টেম যুক্ত করা হয়েছে। সফলভাবে নিবন্ধিত হওয়ার পর ইলেকট্রনিক সিস্টেমে একটি নির্দিষ্ট ডাউন পেমেন্ট বা অগ্রিম ফি প্রদান করতে হবে (যার পরিমাণ পরবর্তীতে জানানো হবে)। এটি কোনো রেজিস্ট্রেশন ফি নয়, বরং এটি চূড়ান্ত চুক্তিমূল্যের অংশ হিসেবে কাটা হবে এবং আবেদনকারীদের আন্তরিকতা নিশ্চিত করতেই এই ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করতে মন্ত্রণালয় থেকে বিভিন্ন নির্দেশিকা ও ডিজিটাল সচেতনতামূলক ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রার্থীরা সঠিক ক্যাফেলাইন্টি নির্বাচন এবং ইলেকট্রনিক চুক্তি সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া সহজে জানতে পারবেন। নিবন্ধিত সব অনুমোদিত কাফেলা ওয়েবসাইটের তালিকাও সেখানে পাওয়া যাবে। যেকোনো জিজ্ঞাসা বা অভিযোগের জন্য অফিশিয়াল হটলাইন নম্বরে (১৩২) যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

নিবন্ধন পরবর্তী স্ক্রিনিং ও স্বাস্থ্য সনদ বাধ্যতামূলক

নিবন্ধন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরপরই ইলেকট্রনিক স্ক্রিনিং শুরু হবে এবং অক্টোবর মাসের শেষ দিক থেকে সফল আবেদনকারীদের মোবাইল নম্বরে এসএমএস-এর মাধ্যমে অনুমোদনের বার্তা পাঠানো হবে।

এদিকে কাতারি হজ মিশনের মেডিকেল ইউনিটের প্রধান ডা. হামাদ আল-রুহাইহি জানিয়েছেন, হজে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের জন্য মেডিকেল ফিটনেস সার্টিফিকেট সংগ্রহ করাই প্রথম এবং অত্যন্ত জরুরি পদক্ষেপ। দেশের যেকোনো স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করার পর এর ফলাফল ইলেকট্রনিক সিস্টেমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে হজ ও ওমরাহ বিভাগের সাথে যুক্ত হয়ে যাবে। তীর্থযাত্রীদের নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে হজ পালন নিশ্চিত করতেই এই মেডিকেল সার্টিফিকেটের কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।