২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইরান যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের সংকটে তেলের দাম বাড়ছে, লাভবান হচ্ছে যে দেশ

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
ইরান যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের সংকটে তেলের দাম বাড়ছে, লাভবান হচ্ছে যে দেশ

যানজটে আটকে থাকা সড়কে ধীরগতিতে চলছে ফেরারি ও ল্যাম্বরগিনির মতো বিলাসবহুল গাড়ি। নতুন স্টেকহাউসগুলোতে পরিবেশন করা হচ্ছে আমদানি করা ওয়াগিউ গরুর মাংস। মিয়ামি ও জ্যামাইকা থেকে উড়িয়ে আনা হচ্ছে ডিজেদের। শহরের আলোচনায় এখন বিলাসবহুল বিয়ের আয়োজন।

গায়ানার রাজধানী জর্জটাউনে এখন এমন বিলাসিতার চিত্র দেখা যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়া যুদ্ধ থেকে শহরটি অনেক দূরে হলেও ওই সংঘাত বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বাধা তৈরি করেছে এবং বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতে চাপ ফেলেছে।

কিন্তু দক্ষিণ আমেরিকার ছোট দেশ গায়ানা এই অস্থিরতা থেকে তেল বিক্রির আয়ে বড় সুবিধা পাচ্ছে।

নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলার সীমান্তবর্তী ইংরেজিভাষী দেশটির জনসংখ্যা মাত্র ১০ লাখ। কয়েক বছর আগে তেল উৎপাদন শুরু করা গায়ানা এ বছর আনুমানিক ৬৫০ কোটি ডলার তেল রাজস্ব পেতে যাচ্ছে, যা বছরের শুরুতে করা পূর্বাভাসের দ্বিগুণেরও বেশি।

ইরান যুদ্ধের কারণে তেলের দাম বেড়ে গেছে। হরমুজ, বাব আল-মান্দেবসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পথে চলাচলকারী জাহাজগুলোতে হামলার ঝুঁকি রয়েছে। ফলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ঠিক রাখতে বিভিন্ন দেশের মধ্যে প্রতিযোগিতা চলছে। আর এই প্রতিযোগিতায় আয় বাড়ছে গায়ানার।

এর মধ্য দিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাও রাখছে দেশটি।

তেলের বাজারে আমেরিকা মহাদেশ

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ঘাটতি সামাল দিতে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকায় তেল উৎপাদন বাড়ছে। গায়ানার পাশাপাশি কানাডা, ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনাতেও উৎপাদন বাড়ছে। ভেনেজুয়েলাতেও শিগগির উৎপাদন বাড়তে পারে।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল এনার্জির তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে মোট তেল উৎপাদনের প্রায় ৩৭ শতাংশ এখন আমেরিকা মহাদেশ থেকে আসে। এক দশক আগে এই হার ছিল ২৭ শতাংশ।

জর্জটাউনের অর্থনীতিবিদ রিচার্ড রামবারান নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, গায়ানা দেশ হিসেবে ছোট হলেও হঠাৎ করেই অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে এটি কেবল শুরু।

বর্তমানে দেশটির দৈনিক তেল উৎপাদন প্রায় নয় লাখ ব্যারেল। রামবারানের মতে, ২০৩০ সালের মধ্যে গায়ানার দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা ১৭ লাখ ব্যারেলে পৌঁছাতে পারে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বছরের প্রথম ছয় মাসে গায়ানার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩৩ শতাংশ। নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, এই প্রবৃদ্ধি দেশটিকে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতিতে পরিণত করেছে।
তবে তেলের বাজারে এই জয়জয়কার দেশটিতে উত্তেজনা ও অসন্তোষ বাড়িয়ে তোলার ঝুঁকিও তৈরি করছে।

অনেক গায়ানাবাসীর অভিযোগ, এই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুবিধা সাধারণ মানুষের মধ্যে সমানভাবে পৌঁছাচ্ছে না। বরং একটি ছোট অভিজাত শ্রেণি বিপুল সম্পদ গড়ছে, আর সাধারণ মানুষকে মূল্যস্ফীতি, ব্যাপক দুর্নীতি, আবাসন সংকট ও নিম্নমানের সরকারি সেবার সঙ্গে লড়তে হচ্ছে।

বাড়ছে বৈষম্যের অভিযোগ

বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, গায়ানা এখন উচ্চ আয়ের দেশের মর্যাদা পেয়েছে। দেশটির মাথাপিছু বার্ষিক আয় প্রায় ৩২ হাজার ডলার, যা উরুগুয়ে ও চিলির মতো তুলনামূলক সমৃদ্ধ দেশসহ দক্ষিণ আমেরিকার অন্য সব দেশের চেয়ে বেশি।

তবে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানীর রাস্তায় দাঁড়ালে দেশটি হঠাৎ করে উন্নত অর্থনীতির দেশে পরিণত হয়েছে, এমন হয় না।

জর্জটাউনের খালগুলোতে অপরিশোধিত পয়োনিষ্কাশনের পানি প্রবাহিত হয়। বন্যা বা অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিতে থাকা জরাজীর্ণ বাড়িতে পরিবারগুলো গাদাগাদি করে বসবাস করে। বিশৃঙ্খল মোড় পার হতে পথচারীদের জীবনের ঝুঁকিও রয়েছে। বন্দুকের মুখে ছিনতাইও নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়।

দ্রুত বদলে যাওয়া জর্জটাউনের চেহারাও নতুন করে বিরোধের কারণ হয়ে উঠেছে। নগরীর ঐতিহাসিক কাঠের স্থাপনাগুলো ভেঙে আবাসন ব্যবসায়ীরা সেখানে কংক্রিট ও ইস্পাতের বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন।

জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক থমাস সিং নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, এখন যা কিছু তৈরি করা হচ্ছে, সব কিছুই কুৎসিত।

ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি বাজারে তৈরি হওয়া সংকট গায়ানার একটি বৈপরীত্যও সামনে এনেছে। দেশটি বিপুল পরিমাণ তেল উৎপাদন করলেও তা থেকে গ্যাসোলিন বা ডিজেলের মতো জ্বালানি তৈরির অবকাঠামো নেই। ফলে আমদানির ওপর নির্ভরশীল গায়ানায় বিদ্যুতের দাম বেশি। এই বসন্তেও দেশটি সাময়িকভাবে জ্বালানি সংকটে পড়েছিল।

তেল থেকে পাওয়া অর্থের সুফল অসমভাবে বণ্টিত হওয়া নিয়ে অসন্তোষও বাড়ছে। আবার গায়ানা অন্যান্য দেশের মতো দুর্নীতি, মূল্যস্ফীতি ও তেলবহির্ভূত অর্থনীতির অভাবে পড়বে কি না, তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।

তবে উড়োজাহাজ ও আবাসন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ী জেরি গোভিয়া জুনিয়র এসব আশঙ্কাকে অতিরঞ্জিত বলে মনে করেন।

তিনি বলেন, বিদেশি জ্বালানি কোম্পানিগুলোকে স্থানীয় ব্যবসা ও কর্মীদের কাজে লাগাতে বাধ্য করতে হবে। গায়ানার সার্বভৌম সম্পদ তহবিল এ ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সহায়ক হবে।

গোভিয়া বলেন, ‘অন্য দেশগুলো কোথায় ভুল করেছে, গায়ানার নেতৃত্ব তা জানে।’

অবকাঠামো বিনিয়োগ ও শক্তিশালী কৃষি খাতের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা দেখাচ্ছি যে সবকিছু সঠিকভাবে করার সুযোগ আমাদের রয়েছে।’ তবে গায়ানা সরকার নিউইয়র্ক টাইমসের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এই অর্থনৈতিক উত্থানের সুফল গায়ানার ‘প্রতিটি পরিবার’ পাবে বলে প্রকাশ্য মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইরফান আলী। মূল্যস্ফীতি থেকে নাগরিকদের সুরক্ষায় সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ গায়ানা

গায়ানার এই অর্থনৈতিক উত্থানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রেরও গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ জড়িয়ে পড়েছে। দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম তেল কোম্পানি এক্সনমবিলের অন্যতম প্রধান প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্র হয়ে উঠছে। ট্রাম্প প্রশাসন যখন পশ্চিম গোলার্ধের জ্বালানি সম্পদের ওপর আরও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে, তখন গায়ানার গুরুত্বও বাড়ছে।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেল রাজস্বে মানুষের জীবনযাত্রার মান মৌলিকভাবে উন্নত হচ্ছে বলে দাবি করছেন গায়ানার সরকারি কর্মকর্তা ও অর্থনীতিবিদেরা। তারা কর কমানো, সেতু ও মহাসড়কের মতো নতুন অবকাঠামো নির্মাণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি বাতিল এবং নাগরিকদের প্রায় ৫০০ ডলার করে এককালীন অর্থ দেওয়ার বিষয়গুলো উল্লেখ করছেন।

গায়ানার জনসংখ্যা কম এবং তেলের মজুত বিপুল হওয়ায় এসব উদ্যোগ দ্রুত সাধারণ জীবনের অংশ হয়ে উঠছে। সম্প্রতি মাথাপিছু তেল মজুতের মূল্যমানের হিসাবে কুয়েতের পর গায়ানার অবস্থান বিশ্বে দ্বিতীয় বলে অনুমান করা হয়েছে।

তবে জুলাইয়ে সরকারি মালিকানাধীন একটি ফেরি ডুবে প্রায় ১০০ জন নিহত হওয়ার পর পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ১৯৭৮ সালের জোনসটাউন গণহত্যা ও আত্মহত্যার পর এটিই ছিল গায়ানার সবচেয়ে প্রাণঘাতী ঘটনা।

ঘটনার পর বিক্ষোভ ও শোকসভায় অংশ নেওয়া অনেকে প্রশ্ন তোলেন, বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতিতে এমন ঘটনা কীভাবে ঘটতে পারে।

বিক্ষোভকারীরা বলেন, নিহতদের অনেকেই এমন মানুষ ছিলেন, যারা গায়ানা সরকারের তেলসম্পদ থেকে বাড়তে থাকা অর্থের মধ্যেও জীবন চালিয়ে যেতে সংগ্রাম করছিলেন।

এই ঘটনায় জবাবদিহির দাবিতে বিক্ষোভ করে গ্রেপ্তার হওয়া আইনজীবী রোমোলা লুকাস বলেন, ‘এমন একটি উত্থানের কথা শুনতে শুনতে আমরা ক্লান্ত, যার কোনো সুফল অধিকাংশ গায়ানাবাসীর জীবনে নেই।’

রাজনৈতিক ব্যবস্থায় চাপ

গায়ানার রাজনৈতিক ব্যবস্থাতেও চাপের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।

নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, ২০২০ সালে ক্ষমতায় আসা প্রেসিডেন্ট ইরফান আলী জর্জটাউনের কাছে একটি খামার কেনার ঘটনায় দুর্নীতি হয়েছিল কি না, সে প্রশ্নে সমালোচনার মুখে পড়েছেন। আধুনিক দক্ষিণ আমেরিকার ইতিহাসে অন্যতম দীর্ঘ নির্বাচনী অচলাবস্থার পর তিনি ক্ষমতায় এসেছিলেন।

আলী বারবার কোনো ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে বিরোধীদলীয় নেতা আজরুদ্দিন মোহামেদ ওই খামারকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীনদের বা তাদের ঘনিষ্ঠদের বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগকে সামনে এনেছেন।
মোহামেদ নিজেও দুর্নীতির অভিযোগ থেকে মুক্ত নন। সোনা চোরাচালান ও ঘুষের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ২০২৪ সালে বাইডেন প্রশাসন তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়।

ভেনেজুয়েলার সঙ্গে বিরোধ

প্রতিবেদনে বলা হয়, ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবও পড়ছে গায়ানায়। এক্সন এক দশকেরও বেশি সময় আগে বিরোধপূর্ণ এসেকুইবো অঞ্চলের উপকূলীয় জলসীমায় তেল পাওয়ার পর দুই দেশের বিরোধ আরও তীব্র হয়।

এদিকে ভেনেজুয়েলার নেতারা গায়ানার অর্ধেকেরও বেশি ভূখণ্ডের ওপর দাবি জোরদার করছেন।

ভেনেজুয়েলার সঙ্গে গায়ানার দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনও বাড়ছে। ভেনেজুয়েলা আগে এসেকুইবো সীমান্তের দিকে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করেছে। এক্সনের ভাড়া করা একটি ভূকম্পন গবেষণা জাহাজ তারা আটক করেছিল। সেইসঙ্গে গায়ানার একটি সামরিক জাহাজ লক্ষ্য করে গুলিও চালিয়েছিল।

এক বছরেরও কম সময় আগে জর্জটাউনের একটি মবিল গ্যাস স্টেশনে বিস্ফোরণের ঘটনায় এক ভেনেজুয়েলান নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই ঘটনায় ৬ বছরের একটি শিশু নিহত হয়। কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে সন্ত্রাসী হামলা বলে উল্লেখ করেছিল। এটি গায়ানাকে অস্থিতিশীল করার কোনো প্রচেষ্টার অংশ হতে পারে কি না, সেই সম্ভাবনাও সামনে আসে।

ভেনেজুয়েলার সরকার ওই হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। জানুয়ারিতে মার্কিন বাহিনী মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর গায়ানার অনেকে ভেবেছিলেন, দুই দেশের বিরোধ কমে আসবে।
কিন্তু ঘটেছে উল্টোটা।

ভেনেজুয়েলার নতুন নেতা দেলসি রদ্রিগেজ এই বিরোধকে তার পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার করেছেন। এমনকি জাতিসংঘের অংশ নেদারল্যান্ডসের আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গিয়ে ভেনেজুয়েলার দাবির পক্ষে বক্তব্যও দিয়েছেন তিনি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রদ্রিগেজের এসব পদক্ষেপ গায়ানার কর্মকর্তাদের বিস্মিত করেছে। কারণ এর আগে যুক্তরাষ্ট্র গায়ানাকে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা করতে চেয়েছিল। দেশটির জাহাজে হামলা চালানোর পর গায়ানাকে সমর্থন করেছিল তারা।

এদিকে সীমান্ত নিয়ে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের রায় ২০২৭ সালের শুরুতে আসতে পারে। এর আগে গায়ানার কিছু মানুষ প্রশ্ন তুলছেন, ট্রাম্প প্রশাসন কি কার্যত দুই পক্ষের সঙ্গেই সম্পর্ক রাখছে এবং এসেকুইবোর জ্বালানি সম্পদের ওপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে?

অর্থনীতিবিদ থমাস সিং বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধু নেই, শুধু স্বার্থ আছে।’

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমেরিকা মহাদেশে নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। তবে ভূখণ্ড নিয়ে বিরোধের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি তিনি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গায়ানার আরেকটি চ্যালেঞ্জ হলো জনসংখ্যার পরিবর্তন। কাজের সন্ধানে কিউবা এবং ভেনেজুয়েলা থেকে হাজারো অভিবাসী দেশটিতে প্রবেশ করছেন। শ্রমিক সংকট কমাতে গায়ানা সরকার মূলত এই প্রবাহকে স্বাগত জানিয়েছে।

তাদের আগমন গায়ানা ও ভেনেজুয়েলার বদলে যাওয়া পরিস্থিতির একটি স্পষ্ট উদাহরণ। এক দেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, অন্যটি বছরের পর বছর স্থবিরতা ও পতন থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে।

সম্প্রতি গায়ানায় আসা ৩৯ বছর বয়সী ভেনেজুয়েলান অভিবাসী মিরেলিস রামোস বলেন, ‘এই জায়গায় কাজের সুযোগ আছে।’

ব্যস্ত বোর্দা মার্কেটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে অনেক সময় নিজেকে স্থানীয় মানুষের মতো মনে হয়। ‘আমার ফিরে যাওয়ার কোনো কারণ দেখি না,’ বলেন তিনি।

গাজায় ১৩ লাখ লিটার জ্বালানি পাঠাবে কাতার, জাতিসংঘের সঙ্গে চুক্তি

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
গাজায় ১৩ লাখ লিটার জ্বালানি পাঠাবে কাতার, জাতিসংঘের সঙ্গে চুক্তি

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় মানবিক সহায়তা জোরদার করতে জাতিসংঘের সঙ্গে নতুন একটি চুক্তি করেছে কাতার। এ চুক্তির আওতায় গাজায় ১৩ লাখ লিটার জ্বালানি সরবরাহ করবে দেশটি, যা হাসপাতাল, পানি সরবরাহ ব্যবস্থা ও অন্যান্য জরুরি মানবিক সেবা সচল রাখতে ব্যবহার করা হবে।

কাতারের রাজধানী দোহা জানিয়েছে, জাতিসংঘের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে এই জ্বালানি সরবরাহ করা হবে। এটি গাজায় চলমান মানবিক সহায়তা কর্মসূচির সম্প্রসারিত উদ্যোগের অংশ।

দীর্ঘদিনের সংঘাতের কারণে গাজায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এতে হাসপাতালের জরুরি সেবা, পানি সরবরাহ ব্যবস্থা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পরিচালনা ব্যাহত হচ্ছে।

কাতার জানিয়েছে, সরবরাহ করা ১৩ লাখ লিটার জ্বালানি কেবল মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে ব্যবহৃত হবে এবং জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে তা বিতরণ করা হবে।

গাজায় চলমান যুদ্ধের ফলে খাদ্য, পানি, চিকিৎসা ও জ্বালানির সংকট আরও গভীর হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে কাতারসহ বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা মানবিক সহায়তা বাড়াতে নতুন নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে।

কাতার বোট শো ২০২৬-এর টিকিট বিক্রি শুরু: জেনে নিন সময়সূচি ও মূল্য

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
কাতার বোট শো ২০২৬-এর টিকিট বিক্রি শুরু: জেনে নিন সময়সূচি ও মূল্য

ওল্ড দোহার পোর্টে জমকালো আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া তৃতীয় ‘কাতার বোট শো ২০২৬’ -এর টিকিট বিক্রি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। আগামী ৪ নভেম্বর থেকে ৭ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত চার দিনব্যাপী এই মেগা ইভেন্টটি অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুল রহমান বিন জসিম আল থানির পৃষ্ঠপোষকতায় এই প্রদর্শনী পরিচালিত হচ্ছে।

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ইয়ট ও বোট প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান, সামুদ্রিক খাতের পেশাদার এবং জলপথপ্রেমীদের নিয়ে আয়োজিত এই প্রদর্শনী কাতারের সামুদ্রিক ঐতিহ্য ও আধুনিক উদ্ভাবনকে একসঙ্গে তুলে ধরে। গত বছর দ্বিতীয় সংস্করণে এই বোট শোতে ২৭ হাজারের বেশি দর্শনার্থী এবং ৫০৫টি ব্র্যান্ড অংশ নিয়েছিল। এবারের আসরটি “ক্রাফটিং ওয়ান্ডারফুল” থিয়েনের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে।

টিকিটের ক্যাটাগরি ও মূল্যতালিকা:

দর্শনার্থীরা তাদের পছন্দ অনুযায়ী বিভিন্ন অপশন থেকে টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন:

  • সিঙ্গেল-ডে জেনারেল অ্যাডমিশন টিকিট: প্রতি ব্যক্তি প্রতি দিন ৫০ রিয়াল।

  • ৪ দিনের জেনারেল অ্যাডমিশন পাস: চার দিনের জন্য পুরো অ্যাক্সেস পেতে প্রতি ব্যক্তি ১৬০ রিয়াল।

  • হসপিটালিটি পাস: আরও উন্নত ও ভিআইপি অভিজ্ঞতার জন্য প্রতিদিনের পাস ৪৫০ রিয়াল।

হসপিটালিটি টিকিটের সুবিধাসমূহ:

  • ভিআইপি ও হসপিটালিটি লাউঞ্জে প্রবেশাধিকার।

  • ভিআইপি রেজিস্ট্রেশন এরিয়া ব্যবহারের সুবিধা।

  • ফ্রি ভিআইপি পার্কিং সুবিধা।

প্রদর্শনী প্রতিদিনের সময়সূচি:

  • বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬: বিকেল ৪:০০ টা – রাত ৯:০০ টা

  • বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬: বিকেল ৪:০০ টা – রাত ১০:০০ টা

  • শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬: বিকেল ৪:০০ টা – রাত ১০:০০ টা

  • শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬: বিকেল ৪:০০ টা – রাত ৯:০০ টা

ওল্ড দোহার পোর্টের ঐতিহাসিক জলপ্রান্তে আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে লেটেস্ট মেরিন ইনোভেশন, সুপারইয়ট এবং বিশ্বমানের সামুদ্রিক ব্র্যান্ডগুলোর সমাহার দেখতে আগ্রহী দর্শনার্থীরা অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (boatshowqatar.com/tickets) থেকে টিকিট বুকিং করতে পারবেন।

২০তম এশিয়ান গেমসের মার্চপাস্টে বর্ণিল উপস্থিতি ও কুচকাওয়াজে অংশ নিল টিম কাতার

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
২০তম এশিয়ান গেমসের মার্চপাস্টে বর্ণিল উপস্থিতি ও কুচকাওয়াজে অংশ নিল টিম কাতার

নানা চড়াই-উতরাই ও প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা পেরিয়ে জাপানের নাগোয়া শহরের পালোমা মিজু স্টেডিয়ামে বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে ২০তম এশিয়ান গেমস। জাপানের সম্রাট নারুহিতো আনুষ্ঠানিকভাবে গেমসের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। আগামী ৪ অক্টোবর পর্যন্ত এই মেগা স্পোর্টিং ইভেন্ট চলবে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় বিকেলে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাপানের সম্রাট ও সম্রাজ্ঞীকে সম্মানজনক অভ্যর্থনা জানানো হয়। অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) সভাপতি কার্স্টি কভেন্ট্রির পাশের আসনে তাদের বসানো হয়। প্রায় দুই ঘণ্টার এই আয়োজনে জাপানের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর অ্যাথলেট ও কর্মকর্তাদের মার্চপাস্ট। স্টেডিয়ামে নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিদল প্রবেশের সময় দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। অলিম্পিকে স্বর্ণপদকজয়ী জাপানের সাবেক অ্যাথলেটরা এশিয়ান অলিম্পিক কাউন্সিলের (ওসিএ) পতাকা বহন করেন। গেমসের মশালও বহন করেন বিভিন্ন সময়ে অলিম্পিকে স্বর্ণপদকজয়ী সাবেক অ্যাথলেটরা।

এবারের এই মহাদেশীয় বহু-ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় এশিয়ার ৪৫টি দেশ ও অঞ্চলের প্রায় ১১,০০০ অ্যাথলেট অংশ নিচ্ছেন। অলিম্পিক ও বিশ্ব চ্যাম্পিয়নসহ বিভিন্ন দেশের শীর্ষ অ্যাথলেটরা মোট ৪৩টি খেলা এবং ৭১টি ডিসিপ্লিনে পদকের জন্য লড়বেন। এটি এশিয়ান মহাদেশের সর্ববৃহৎ মাল্টি-স্পোর্টস ইভেন্ট।

সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও কুচকাওয়াজ

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইচি ও নাগোয়ার নিজস্ব ঐতিহ্য এবং জাপানি সংস্কৃতির পাশাপাশি এশিয়ান মহাদেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ফুটিয়ে তোলে নানা আকর্ষণীয় শৈল্পিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী ৪৫টি ন্যাশনাল অলিম্পিক কমিটির প্রতিনিধিদলের কুচকাওয়াজ বা প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়। এর অংশ হিসেবে গর্বের সাথে স্টেডিয়ামে প্রবেশ করে টিম কাতার, যা এই প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক সূচনাকে চিহ্নিত করে।

মাঠ ও ট্র্যাক ইভেন্টে লড়বেন ১৬ জন কাতারি অ্যাথলেট:

২০তম এশিয়ান গেমসে বিভিন্ন ফিল্ড এবং ট্র্যাক ইভেন্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে কাতারের মোট ১৬ জন অ্যাথলেট জাপানে অবস্থান করছেন। অ্যাথলেটিক্সের এই প্রতিযোগিতারা আগামী ২৪ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নাগোয়ার ভেন্যুতে সকাল ও সন্ধ্যার সেশনে পদকের জন্য লড়বেন। জাতীয় দলের এই স্কোয়াডে অলিম্পিক, বিশ্ব ও মহাদেশীয় পর্যায়ে পূর্বে পদকজয়ী অভিজ্ঞ তারকারা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন

নিরাপত্তা ও সামরিক সহযোগিতা বাড়াতে রিয়াদে বৈঠকে বসেছেন কাতার ও সৌদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
নিরাপত্তা ও সামরিক সহযোগিতা বাড়াতে রিয়াদে বৈঠকে বসেছেন কাতার ও সৌদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কাতার ও সৌদি আরবের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং নিরাপত্তা ও সামরিক খাতের সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে রিয়াদে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স আব্দুল আজিজ বিন সৌদ বিন নায়েফ বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদের সাথে বৈঠক করেছেন কাতারের স্বরাষ্ট্রপতির পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনী ‘লেখউইয়া’-এর কমান্ডার খলিফা বিন হামাদ বিন খলিফা আল থানি।

চতুর্থ যৌথ নিরাপত্তা কমিটির বৈঠক:

কাতার-সৌদি সমন্বয় কাউন্সিলের অধীনে গঠিত নিরাপত্তা ও সামরিক কমিটির চতুর্থ সভার অংশ হিসেবে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে আলোচ্য সূচিতে থাকা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয় এবং দুই দেশের মধ্যকার পারস্পরিক সামরিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানোর নতুন উপায়গুলো খতিয়ে দেখা হয়।

এশিয়ান গেমসের টর্চ রিলেতে অংশ নিলেন শেখ জোয়ান, জাপান আসরে লড়বেন ১৬ কাতারি অ্যাথলেট

সভা শেষে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর:

বৈঠক শেষে কাতারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ‘লেখউইয়া’ কমান্ডারের সাথে সৌদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কাতার-সৌদি সমন্বয় কাউন্সিলের নিরাপত্তা ও সামরিক কমিটির চতুর্থ বৈঠকের কার্যবিবরণী বা মিনিটস স্বাক্ষর করেন। এর মাধ্যমে দুই দেশের যৌথ নিরাপত্তা অংশীদারিত্বের পরিধি আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।

এশিয়ান গেমসের টর্চ রিলেতে অংশ নিলেন শেখ জোয়ান, জাপান আসরে লড়বেন ১৬ কাতারি অ্যাথলেট

প্রকাশ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
এশিয়ান গেমসের টর্চ রিলেতে অংশ নিলেন শেখ জোয়ান, জাপান আসরে লড়বেন ১৬ কাতারি অ্যাথলেট

আজ জাপানের আইচি-নাগোয়ায় শুরু হচ্ছে ২০তম এশিয়ান গেমস। এ উপলক্ষে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ঠিক আগে জাপানের নাগোয়ার হিসায়া-ওদোরি পার্কে আয়োজিত এশিয়ান গেমসের চূড়ান্ত ধাপের টর্চ রিলেতে অংশ নিয়েছেন এশিয়া অলিম্পিক কাউন্সিল (OCA) ও কাতার অলিম্পিক কমিটির (QOC) সভাপতি মহামান্য শেখ জোয়ান বিন হামাদ আল থানি। টর্চ রিলে অনুষ্ঠানে বিভিন্ন জাতীয় অলিম্পিক কমিটির প্রতিনিধি এবং ক্রীড়া অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন

গত ১৮ আগস্ট টোকিওতে একটি শিখা প্রজ্বলন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই টর্চ রিলের যাত্রা শুরু হয়েছিল। পরবর্তীতে হিরোশিমা হয়ে নাগোয়ায় পৌঁছানোর আগে এটি বিভিন্ন পৌরসভা ও স্কুল প্রাঙ্গণে ভ্রমণ করে এবং ১৭ ও ১৮ সেপ্টেম্বর এর সমাপনী ধাপ সম্পন্ন হয়। আজ থেকে শুরু হওয়া এই গেমস আগামী ৪ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে এবং এতে ৪৫টি জাতীয় অলিম্পিক কমিটির অ্যাথলেটরা অংশ নিচ্ছেন

মাঠ ও ট্র্যাক ইভেন্টে লড়বেন ১৬ জন কাতারি অ্যাথলেট:

২০তম এশিয়ান গেমসে বিভিন্ন ফিল্ড এবং ট্র্যাক ইভেন্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে কাতারের মোট ১৬ জন অ্যাথলেট জাপানে অবস্থান করছেন। অ্যাথলেটিক্সের এই প্রতিযোগিতারা আগামী ২৪ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নাগোয়ার ভেন্যুতে সকাল ও সন্ধ্যার সেশনে পদকের জন্য লড়বেন। জাতীয় দলের এই স্কোয়াডে অলিম্পিক, বিশ্ব ও মহাদেশীয় পর্যায়ে পূর্বে পদকজয়ী অভিজ্ঞ তারকারা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন

ক্ষেত্র বা ফিল্ড ইভেন্টস: ডিসকাস থ্রো, হ্যামার থ্রো, হাই জাম্প, শট পুট এবং পোল ভল্ট। এই ইভেন্টগুলোতে কাতারি অ্যাথলেটদের পূর্বের রেকর্ড ও শক্তিশালী সক্ষমতার কারণে বিশেষ পদকের প্রত্যাশা রয়েছে

ট্র্যাক ইভেন্টস: ৪০০ মিটার হার্ডলস, ৪০০ মিটার, ৮০০ মিটার, ১,৫০০ মিটার এবং ৩,০০০ মিটার স্টিপলচেজ ছাড়াও মিশ্র রিলে ও ৪×৪০০ মিটার রিলে প্রতিযোগিতা

নজর কাড়বেন যারা:

এবারের আসরে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে অন্যতম হলেন অলিম্পিক ও বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন মুতাজ বারশিম। গুয়াংজু ২০১০, ইনচিয়ন ২০১৪ এবং হাংজু ২০২২—এর পর তিনি তার ক্যারিয়ারের চতুর্থ এশিয়ান গেমস পদক জয়ের লক্ষ্য নিয়ে হাই জাম্প ইভেন্টে মাঠে নামবেন। এছাড়া আবদুর রহমান সাম্বা, আশরাফ এলসাইফি, জাকারিয়া ইব্রাহিম, আবদুর রহমান ইব্রাহিম এবং মোয়াজ ইব্রাহিমের মতো প্রতিভাবান অ্যাথলেটরা জাপানের মাটিতে কাতারের পূর্বের মহাদেশীয় সাফল্য অব্যাহত রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ