১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চিত্রনায়ক সালমান শাহর লাশ কবর থেকে তোলার নির্দেশ

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুন ১১, ২০২৬
চিত্রনায়ক সালমান শাহর লাশ কবর থেকে তোলার নির্দেশ

হত্যার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে প্রখ্যাত চিত্রনায়ক সালমান শাহর (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) লাশ কবর থেকে তোলার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা গত ২৪ মে এই আদেশ দেন।

এর আগে গত ২০ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ এই আবেদন করেন। আদালত আদেশে লাশ তোলার পর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন।

আজ বুধবার তদন্ত কর্মকর্তা জিয়াউল মোর্শেদ বলেন, ‘হত্যার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে প্রখ্যাত চিত্রনায়ক সালমান শাহর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনপূর্বক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার অনুমতির আবেদন করি। আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন। কিছু কার্যক্রম আছে, তা শেষ করে আমরা লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করব।’

আবেদনে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, মামলার বাদী মো. আলমগীর (৬৮) আদালত থেকে তথ্য প্রদানকারী নিলুফা জামান চৌধুরীর (নীলা চৌধুরী) পক্ষে ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়ে জানান যে, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাদীর বোন নিলুফা জামান চৌধুরী, বাদীর বোনের জামাই মৃত কমর উদ্দিন আহমদ চৌধুরী ও তাঁদের ছোট ছেলে শাহরান শাহ্‌সহ তাঁরা নিউ ইস্কাটন রোডে ইস্কাটন প্লাজা ১১/বি ঠিকানার বাসায় তাঁর ভাগনে চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমনের (সালমান শাহ) সঙ্গে দেখা করতে যান। তখন স্ত্রী সামিরা হক ও কর্মচারী আবুল তাঁদের জানান, সালমান শাহ ঘুমিয়ে আছেন। তাঁরা তাঁদের গ্রিন রোডের বাসায় চলে যাওয়ার পর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সালমান শাহর বাসা থেকে টেলিফোন করে জানানো হয়, তাঁর কী যেন হয়েছে। তখন তাঁরা দ্রুত সালমান শাহর বাসায় গিয়ে দেখেন, সালমান শাহ তাঁর ঘরে বিছানার ওপর পড়ে আছেন। তাৎক্ষণিক তাঁরা সালমান শাহকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে চিকিৎসক সালমান শাহকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর ময়নাতদন্ত শেষে সিলেটে হজরত শাহজালালের (র.) মাজার প্রাঙ্গণ কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রমনা থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়।

পরে সালমান শাহর লাশ আদালতের নির্দেশে কবর থেকে তুলে সুরতহালসহ ময়নাতদন্ত করা হয়। দুই দফা ময়নাতদন্তেই চিকিৎসক জানান, ফাঁসিতে ঝুলে শ্বাসরোধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে সালমান শাহর।

ঘটনার ২৯ বছর পর আদালতের নির্দেশে সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় গত বছরের ২১ অক্টোবর রমনা থানায় হত্যা মামলা করা হয়। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাঁর লাশ পুনরায় কবর থেকে তুলে সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা একান্ত প্রয়োজন বলে তদন্ত কর্মকর্তা তাঁর আবেদনে উল্লেখ করেন।

হত্যা মামলার আসামিরা হলেন সালমান শাহর স্ত্রী সামিরা হক, শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস সাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ফরহাদ (১৭)। এ ছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও অনেককে আসামি করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে বাদী মো. আলমগীর উল্লেখ করেন, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তাঁর বোন নিলুফা জামান চৌধুরী (নীলা চৌধুরী), বোনের স্বামী কমর উদ্দিন আহমদ চৌধুরী ও তাঁদের ছোট ছেলে শাহরান শাহ নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহর সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে গিয়ে তাঁরা জানতে পারেন যে, সালমান শাহ ঘুমাচ্ছেন। কিছুক্ষণ পর প্রোডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে জানান, সালমান শাহর কিছু হয়েছে। তখন দ্রুত তাঁরা বাসায় ফিরে দেখেন যে, সালমান শাহ শয়নকক্ষে নিথর পড়ে আছেন এবং কয়েকজন বহিরাগত নারী তাঁর হাত-পায়ে তেল মালিশ করছেন। পাশের কক্ষে সামিরার আত্মীয় রুবি বসে ছিলেন। সালমানের মা চিৎকার করে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়ার অনুরোধ করেন। পথে তাঁরা সালমানের গলায় দড়ির এবং মুখমণ্ডল ও পায়ে নীলচে দাগ দেখতে পান। তাঁরা সালমান শাহকে প্রথমে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে তাঁকে ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক জানান, সালমান শাহ অনেক আগেই মারা গেছেন।

মো. আলমগীর এজাহারে আরও জানান, সালমান শাহর বাবা কমর উদ্দিন আহমদ চৌধুরী তাঁর মৃত্যুর আগে ছেলের মৃত্যুকে হত্যা বলে সন্দেহ করে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি দরখাস্ত দাখিল করেন। এতে তিনি রমনা থানার অপমৃত্যু মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ এবং সিআইডির মাধ্যমে তদন্তের আবেদন জানান। সালমান শাহর বাবার মৃত্যুর পর মোহাম্মদ আলমগীর তাঁর বোনের পক্ষ থেকে মামলাটি পরিচালনা করছেন।

কাতারে অনুমোদিত রাইড-শেয়ারিং অ্যাপসের তালিকা প্রকাশ

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
কাতারে অনুমোদিত রাইড-শেয়ারিং অ্যাপসের তালিকা প্রকাশ

আধুনিক প্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক অ্যাপসের মাধ্যমে কাতারে ল্যান্ড ট্রান্সপোর্ট বা যাত্রী পরিবহন সেবা পরিচালনার জন্য অনুমোদিত ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত কোম্পানির তালিকা প্রকাশ করেছে কাতারের পরিবহন মন্ত্রণালয়। ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত হালনাগাদ করা এই তালিকায় মোট ১১টি অ্যাপসকে বৈধ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, তালিকাভুক্ত নয় এমন কোনো কোম্পানি বা অবৈধ যানবাহন এই সেবা পরিচালনা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অনুমোদিত রাইড-শেয়ারিং অ্যাপসের তালিকা:

* Uber
* badrgo
* Aabir
* Karwa
* Ryde
* EzGo
* Wer2GO
* iDriver
* WaselGo
* QGlide
* BDrive

যাত্রীদের নিরাপদ ও মানসম্মত পরিবহন সেবা নিশ্চিত করতেই এই তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তাই যাতায়াতের সময় যেকোনো ধরনের আইনি জটিলতা এড়াতে তালিকাভুক্ত অনুমোদিত অ্যাপসগুলো ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

ইরান যুদ্ধের ধাক্কা:

যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি কিনছে কাতার

প্রকাশ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি কিনছে কাতার

যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বব্যাপী মোট এলএনজি রপ্তানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশের যোগান দিত কাতার। ইরান যুদ্ধের প্রভাবে কাতারের গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা চরমভাবে ব্যাহত হওয়ায় দেশটি নিজস্ব গ্রাহকদের চাহিদাও যথাযথভাবে পূরণ করতে পারছে না। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানিকারক কাতার দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহকারীদের কাছ থেকে এলএনজি আমদানির বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের বরাতে বিশ্বের বিভিন্ন গণমাধ্যম এমন তথ্য জানিয়েছে।

আলোচনাটি খুবই গোপনীয় হওয়ায় নাম প্রকাশ না করা শর্তে ওই ব্যক্তিরা জানান, চালু থাকা ও নির্মাণাধীন রপ্তানি প্রকল্পগুলো থেকে গ্যাস পেতে আগ্রহী কাতারের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান কাতারএনার্জি। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম মধ্যপ্রাচ্যের গণ্ডি পেরিয়ে নিজস্ব সরবরাহ বাড়াতে বিকল্প খুঁজছে কাতার।

সম্ভাব্য এই চুক্তিগুলো থেকে বোঝা যায়, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ কীভাবে কাতারকে তার গ্রাহকদের চাহিদা মেটাতে গ্যাসের বিকল্প উৎস খুঁজতে বাধ্য করছে।

একসময় বিশ্বের মোট এলএনজির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ একাই সরবরাহ করত কাতার। কিন্তু হরমুজ প্রণালি দিয়ে গ্যাস ট্যাংকার চলাচলের ঝুঁকির কারণে তাদের সরবরাহ এখন প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে কাতারএনার্জি সাড়া দেয়নি।

ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে কাতার তাদের রাস লাফান এলএনজি রপ্তানি কেন্দ্র থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে উৎপাদন প্রায় দ্বিগুণ করার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছিল। তবে বিশ্বের সর্ববৃহৎ এই স্থাপনা সংঘাতের প্রথম কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এটি পুরোপুরি মেরামত করতে তিন থেকে পাঁচ বছরের মতো সময় লাগতে পারে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিগগিরই যুদ্ধ শেষ হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই। সংঘাত আরও বাড়াতে প্রস্তুত ইরান। শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, এ যুদ্ধ ২০২৯ সাল পর্যন্ত চলতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাতের আশঙ্কাই হয়তো কাতারকে বাণিজ্যের ওপর আরও বেশি মনোযোগ দিতে বাধ্য করছে।

কাতারের হাতে ইতিমধ্যেই মার্কিন সরবরাহের কিছু সুযোগ রয়েছে। তারা টেক্সাসে অবস্থিত গোল্ডেন পাস এলএনজি কারখানার অন্যতম মালিক। কারখানাটি গত এপ্রিলে রপ্তানি শুরু করেছে, ক্রমাগত উৎপাদনও বাড়াচ্ছে।

পারস্য উপসাগরীয় দেশটি তাদের কাতারএনার্জি ট্রেডিং ইউনিটের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি পরিবহনের সক্ষমতাও ধারাবাহিকভাবে বাড়াচ্ছে। এই ইউনিটটি মূলত স্বল্পমেয়াদি ব্যবসার ওপর কাজ করে।

বাতাস থেকে সুপেয় পানি উৎপাদনে লখুইয়ার অভিনব প্রযুক্তি ‘বদর’ সিস্টেম উদ্ভাবন

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
বাতাস থেকে সুপেয় পানি উৎপাদনে লখুইয়ার অভিনব প্রযুক্তি ‘বদর’ সিস্টেম উদ্ভাবন

বায়ুুমণ্ডলে থাকা আর্দ্রতা বা জলীয় বাষ্পকে টেনে তা থেকে বিশুদ্ধ ও সুপেয় পানীয় জল উৎপাদনের জন্য একটি অত্যন্ত আধুনিক ও যুগান্তকারী সিস্টেম তৈরি করেছে কাতারের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনী ‘লখুইয়া’ (Lekhwiya)। বাহিনীর সিকিউরিটি টেকনোলজি ডিপার্টমেন্ট এই উদ্ভাবনটি করেছে, যা জরুরি পরিস্থিতিতে পানীয় জলের বিকল্প উৎস হিসেবে এক বিরাট সাফল্য বলে মনে করা হচ্ছে।

লখুইয়ার উদ্ভাবিত এই অত্যাধুনিক সিস্টেমটি দুটি ভিন্ন মডেলের সমন্বয়ে তৈরি করা হয়েছে, যা মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন অপারেশনাল প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম:

  • প্রথম মডেল (ইনডোর বা অভ্যন্তরীণ ব্যবহার): এই মডেলটি মূলত বিভিন্ন স্থাপনা বা ক্যাম্পের অভ্যন্তরে ব্যবহারের উপযোগী। এর দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা ২০০ লিটার, যা প্রায় ৬০০টি ৩৩০ মিলিলিটারের পানির বোতলের সমান।

  • দ্বিতীয় মডেল (উচ্চ ধারণক্ষমতা): বৃহত্তর পরিসর বা যেসব এলাকায় পানির চাহিদা বেশি, সেসব জায়গার জন্য তৈরি করা হয়েছে এই মডেলটি। এর দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা সর্বোচ্চ ৫,০০০ লিটার, যা প্রায় ১২,০০০টি ৩৩০ মিলিলিটারের বোতলের সমান।

নিরাপত্তা, তেজস্ক্রিয়তা রোধ ও সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার

এই সিস্টেমটির অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো—এটি যেকোনো ধরনের রাসায়নিক ও তেজস্ক্রিয় দূষণ (chemical and radioactive contaminants) মোকাবিলা করতে সক্ষম এবং এটি সর্বোচ্চ মানের সুরক্ষা ও বিশুদ্ধতা বজায় রেখে পানি উৎপাদন করে। পাশাপাশি, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই শক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে সিস্টেমটি সম্পূর্ণ সৌরশক্তি (solar energy) বা সোলার পাওয়ারের সাহায্যে পরিচালনা করার উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে, যা এর অপারেশনাল কার্যকারিতাকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

শহীদ বদর আল-দোসারির স্মৃতির প্রতি উৎসর্গ: ‘বদর’ সিস্টেম

গত বছর দোহায় সংঘটিত ইসরায়েলি আগ্রাসনের সময় কর্তব্যরত অবস্থায় শাহাদাতবরণকারী লখুইয়ার বীর সদস্য বদর সাদ মোহাম্মদ আল-হামিদি আল-দোসারির পবিত্র স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই উদ্ভাবনী প্রযুক্তির নামকরণ করা হয়েছে ‘বদর’ (Badr) সিস্টেম।

জরুরি পরিস্থিতিতে অত্যন্ত কার্যকর বিকল্প

বিশেষ করে যুদ্ধকালীন বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে, যেখানে প্রচলিত পানি সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হতে পারে বা সুপেয় পানির সংকট দেখা দিতে পারে—সেখানে এই এয়ার-টু-ওয়াটার (air-to-water) প্রযুক্তিটি জীবন রক্ষাকারী এক নির্ভরযোগ্য বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। লখুইয়ার এই উদ্যোগ প্রমাণ করে যে, আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক প্রয়োগ এবং টেকসই সমাধানের মাধ্যমে যেকোনো সংকট মোকাবিলায় তারা কতটা প্রস্তুত ও উদ্ভাবনমুখী।

আরও পড়ুন

কাতারে নির্মিত হচ্ছে প্রথম বৈদ্যুতিক গাড়ির কারখানা

হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্রিতে শাটল সার্ভিস চালু

কাতারে খোলা জায়গায় গাড়ি ধোয়া নিষিদ্ধ: অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা

সহানুভূতি নয়, দক্ষতা! প্রতিবন্ধীদের সরাসরি কর্মসংস্থানে যুক্ত করছে কাতার

আলোচনার টেবিল যখন লক্ষ্যবস্তু:

দোহায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের এক বছর ও কূটনৈতিক মূল্যবোধের সংকট

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
দোহায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের এক বছর ও কূটনৈতিক মূল্যবোধের সংকট

গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর বিকাল ৩টা বেজে ৪৬ মিনিট। ওই মুহূর্তটি কেবল কাতারের ইতিহাসে নয়, বরং সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতিতে একটি বিপজ্জনক মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। সেদিন যুদ্ধক্ষেত্রের নির্মম বাস্তবতা এসে আছড়ে পড়েছিল শান্তির দূত হিসেবে পরিচিত দোহা শহরের বুকে। যুদ্ধবিরতির আলোচনা যখন চলছে, ঠিক সেই মুহূর্তে হামাসের একটি আলোচনা প্রতিনিধিদলের ব্যবহৃত আবাসিক ভবনে আকস্মিক বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল।

এই নৃশংস হামলায় ঘটনাস্থলে কর্তব্যরত অবস্থায় প্রাণ হারান ২২ বছর বয়সি কাতার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর (লখুইয়া) সদস্য বদর সাদ মোহাম্মদ আল-হুমাইদি আল-দোসারিসহ বেশ কয়েকজন। আহত হন অন্যান্য নিরাপত্তাকর্মী ও সাধারণ নাগরিক। এই হামলার এক বছর পূর্তি কেবল কোনো স্মরণের দিন নয়, এটি মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক কাঠামোর একটি বড় রাজনৈতিক ও নৈতিক পরীক্ষার মুহূর্ত।

মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতির তিনটি মৌলিক ভিত্তির ওপর আঘাত

ইসরায়েলের এই হামলা এমন তিনটি ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছিল, যা এতদিন মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতিকে টিকিয়ে রেখেছিল। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—সার্বভৌমত্ব বলবৎ থাকে শক্তির সীমার মধ্যে, মধ্যরাষ্ট্র বা মধ্যস্থতাকারীরা রাজনৈতিক সুরক্ষায় থাকে, এবং আলোচনার টেবিল সবসময় যুদ্ধক্ষেত্রের পরিধি থেকে সম্পূর্ণ আলাদা রাখা হয়।

ইসরায়েলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল যে তাদের লক্ষ্য ছিল হামাস, কাতার নয়। কিন্তু এই কৌশলগত যুক্তিটি পুরো ঘটনাটির ভয়াবহতাকে আড়াল করে। কোনো সার্বভৌম রাষ্ট্রের ভূখণ্ডে কেবল শত্রুর উপস্থিতি রয়েছে—এই অজুহাতে অন্য কোনো দেশের ওপর শক্তি প্রয়োগ করার লাইসেন্স কোনো রাষ্ট্র পেতে পারে না। তাছাড়া, কাতার যাদের আশ্রয় দিয়েছিল তারা কোনো সাধারণ স্থানে লুকিয়ে থাকা কেউ ছিলেন না, বরং তারা ছিলেন একটি পরিচিত রাজনৈতিক আলোচনার চ্যানেল বা প্রক্রিয়ার অংশ। ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র, হামাস এবং অন্যান্য পক্ষগুলোর পারস্পরিক যোগাযোগের স্বার্থেই দোহা সেই রাজনৈতিক পরিসরটি তৈরি করে দিয়েছিল। কারণ সরাসরি কথা বলতে না পারা পক্ষগুলোর মধ্যে মধ্যস্থতা করার জন্য একজন বিশ্বস্ত মধ্যস্থতাকারীর প্রয়োজন ছিল।

মধ্যস্থতার মূল শর্তই হলো—প্রতিপক্ষরা আলোচনা টেবিলে একে অপরকে যতই অপছন্দ করুক বা শর্তে রাজি না হোক না কেন, মধ্যস্থতাকারীর সেই নির্দিষ্ট ভূখণ্ড ও পরিসরটি সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকতে হবে। আলোচনার আয়োজক দেশেই যদি মধ্যস্থতাকারীদের বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়া যায়, তবে যেকোনো ধরনের মধ্যস্থতা কেবল শারীরিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণই নয়, বরং রাজনৈতিকভাবে বোকামিতে পরিণত হয়।

দ্বিমুখী নীতি এবং আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ার ব্যর্থতা

এই হামলা ইসরায়েলি নীতির একটি মৌলিক স্ববিরোধিতাকেও উন্মোচন করেছিল। একদিকে কাতারকে হামাসের সাথে যোগাযোগ বজায় রাখার জন্য বিভিন্ন মহলে সমালোচনার মুখে পড়তে হতো, অন্যদিকে ঠিক সেই যোগাযোগের মাধ্যমটিকেই জিম্মি মুক্তি, মানবিক সহায়তা এবং যুদ্ধবিরতির চুক্তি স্বাক্ষরের কাজে ব্যবহার করা হতো। কোনো পক্ষ যখন ছাড় পাওয়ার জন্য মধ্যস্থতাকে অপরিহার্য মনে করে, আবার কূটনৈতিক পরিস্থিতি প্রতিকূল হলেই সেই একই মাধ্যমকে অবৈধ ঘোষণা করে—তখন সেই নীতিতে কোনো নৈতিকতা থাকে না।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ও মানবাধিকার কমিশন এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে কাতারের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও বড় শক্তিগুলো কেবল কূটনৈতিক স্তরে নিন্দা জানিয়েই দায় সেরেছে, যা প্রমাণ করে যে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় মধ্যস্থতাকারীদের আইনি ও রাজনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এখনও বড় ধরনের ঘাটতি রয়ে গেছে। ছোট বা মাঝারি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব যদি বড় শক্তির সামরিক ক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তবে আন্তর্জাতিক আইনের কোনো কার্যকারিতা অবশিষ্ট থাকে না।

মধ্যস্থতার প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে যায়নি

হামলার পরও কাতার ভেঙে পড়েনি বা মধ্যস্থতার ভূমিকা থেকে সরে দাঁড়ায়নি। কারণ কাতার বুঝেছিল যে হামলা চালিয়ে কোনো দেশকে দমিয়ে রাখা গেলেও আঞ্চলিক আস্থার সংকটে মধ্যস্থতার বিকল্প তৈরি হয় না। দোহা তার মার্কিন, মিশরীয় এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সাথে কাজ চালিয়ে গেছে এবং ফলস্বরূপ, ২০২৫ সালের অক্টোবরের যুদ্ধবিরতি চুক্তির কূটনৈতিক কাঠামোর কেন্দ্রবিন্দুতেও কাতারকেই ফিরে আসতে হয়েছিল।

দোহায় ইসরায়েলি হামলার এক বছর পর আজ সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—আমরা ভবিষ্যতে কেমন মধ্যপ্রাচ্য দেখতে চাই? এমন এক অঞ্চল যেখানে গায়ের জোর ও সামরিক সক্ষমতাই ঠিক করে কার সার্বভৌমত্ব টিকবে, নাকি আন্তর্জাতিক আইন এবং কূটনীতিই ক্ষমতার ওপর সঠিক বাধানিষেধ আরোপ করবে?

কাতারের পক্ষ থেকে এই হামলার জবাবে কোনো দুর্বলতা প্রকাশ করা হয়নি। বরং হামলার পরও মধ্যস্থতা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত প্রমাণ করেছে যে সহিংসতা দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক নিয়ম নির্ধারণ করা যায় না। যারা সত্যি শান্তি ও আলোচনা চান, তাদের মনে রাখা উচিত—আলোচনার টেবিল নিজেই কখনো আরেকটি সামরিক লক্ষ্যবস্তু হতে পারে না।

মতামতভিত্তিক নিবন্ধের মূল লেখক: কাতারের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবদুল্লাহ বান্দার আল-আইতাইবি। এটি দোহা নিউজে প্রকাশিত একটি বিশেষ প্রবন্ধের ভাবানুবাদ ও সম্পাদিত রূপ।

দোহায় ইসরায়েলি হামলার এক বছর:

উপসাগরীয় অঞ্চলের পরিবর্তিত নিরাপত্তা সমীকরণ ও কাতারের নতুন কৌশল

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
উপসাগরীয় অঞ্চলের পরিবর্তিত নিরাপত্তা সমীকরণ ও কাতারের নতুন কৌশল

আজ থেকে ঠিক এক বছর আগের কথা। গাজা যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে চলমান মধ্যস্থতার অংশ হিসেবে হামাস নেতাদের এক বৈঠকের সময় দোহায় অবস্থিত একটি কম্পাউন্ডে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদভুক্ত (GCC) কোনো সদস্য দেশের মূল ভূখণ্ডে সরাসরি এই সামরিক আগ্রাসন চালায় তেল আবিব। নজিরবিহীন এই হামলায় পাঁচজন হামাস সদস্যের পাশাপাশি এক কাতারি নিরাপত্তাকর্মীও প্রাণ হারান।

হামলার পর এক বছর পেরিয়ে গেছে। এই একটি বছর কাতার এবং এর আশপাশের উপসাগরীয় অঞ্চলে নিজেদের নিরাপত্তা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ছাতার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে ভাবার এক বড় উপলক্ষ এনে দিয়েছে।

ওয়াশিংটনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ও কাতারের আত্মতুষ্টিতে ধাক্কা

দোহায় এই হামলার ঘটনা বিশেষভাবে হতবাক করেছিল কারণ কাতারের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। ২০২২ সাল থেকে কাতার যুক্তরাষ্ট্রের ‘মেজর নন-ন্যাটো অ্যালি’ বা প্রধান মিত্র হিসেবে স্বীকৃতি পেয়ে আসছে। তাছাড়া, আল-উদেদ বিমান ঘাঁটিতে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে মার্কিন সেনট্রকমের (CENTCOM) ফরোয়ার্ড হেডকোয়ার্টার অবস্থিত। কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক অংশীদার হিসেবেও কাতার নিজেকে দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটনের অন্যতম ভরসার জায়গা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে আসছিল।

ফলে, ইসরায়েলের এই হামলা কাতারের সেই দীর্ঘদিনের ধারণাকে মারাত্মকভাবে নাড়া দেয়, যেখানে দেশটি বিশ্বাস করত যে মার্কিন মিত্রতার সুবাদে তাদের ভূখণ্ড পুরোপুরি সুরক্ষিত। হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে প্রকাশ্যে তিরস্কার করেন এবং কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করলেও—দোহা ও অন্যান্য উপসাগরীয় রাজধানীতে এই প্রশ্ন জোরালোভাবে দেখা দেয় যে, আমেরিকার সবচেয়ে বড় মিত্র দেশ হয়েও যদি কাতার এমন হামলার শিকার হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থার বাস্তব গ্যারান্টি আসলে কতটুকু কার্যকর?

উপসাগরীয় দেশগুলোর অভিন্ন প্রতিক্রিয়া ও সংহতি

দোহায় হামলার পরপরই জিসিসিভুক্ত অন্য দেশগুলো অভাবনীয় ঐক্য প্রদর্শন করে। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (UAE) প্রতিক্রিয়া ছিল সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য। ২০২০-এর দশকে দোহার সাথে আবুধাবির কিছু রাজনৈতিক টানাপোড়েন থাকলেও, ইব্রাহিম অ্যাকর্ড চুক্তির সুবাদে ইসরায়েলের সাথে আমিরাতের ঘনিষ্ঠতা এবং হামাসের প্রতি আমিরাতি নেতৃত্বের দীর্ঘদিনের কঠোর অবস্থান সত্ত্বেও—আবুধাবি পরিষ্কার ভাষায় এই হামলাকে কাতারের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন বলে অভিহিত করে।

হামলার পরদিনই আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদের দোহা সফর উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যকার এই অখণ্ড ঐক্যেরই বার্তা দেয়। উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্য রাজধানীগুলোতে তখন থেকেই একটি অস্বস্তিকর প্রশ্ন ঘুরেফিরে বেড়াতে শুরু করে: ইসরায়েল যদি এমন একটি দেশ আক্রমণ করতে পারে যারা বছরের পর বছর ধরে মার্কিন প্রশাসনের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে, তবে অন্য কোনো জিসিসি দেশকে রক্ষা করার মতো আর কে বা কী আছে?

কাতারের কূটনৈমিতিক কৌশলে পরিবর্তন এবং আঞ্চলিক মিত্রতা অন্বেষণ

এই ঘটনার পর কাতার তার নিজস্ব বৈদেশিক ও কূটনৈতিক নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের কথা চিন্তা করতে বাধ্য হয়। হামাসসহ বিভিন্ন পক্ষের সাথে আলোচনার সেতু নির্মাণ করে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করা যে সবসময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করে না, সে পাঠ কাতার খুব ভালোভাবেই পেয়েছে। ওয়াশিংটনের ওপর অন্ধ নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাতার এখন আঞ্চলিক সহযোগিতার নেটওয়ার্ক বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে।

তারই ধারাবাহিকতায়, সৌদি আরব এবং পাকিস্তানের মধ্যকার কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং পরবর্তী সময়ে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যকার ‘মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট’—যেগুলোকে কাতার ইতিবাচক হিসেবেই স্বাগত জানিয়েছে। বিশেষ করে প্রতিরক্ষা, কূটনীতি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতায় তুরস্কের সাথে দোহার অংশীদারিত্ব এখন এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। ওয়াশিংটনের সাথে ঐতিহাসিক মিত্রতা বজায় রেখেই বিকল্প আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা কাঠামোর ভেতরে নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে কাতার।

ইরানি আগ্রাসন এবং নতুন ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা

২০২৬ সালের সাম্প্রতিক ঘটনাবলি উপসাগরীয় অঞ্চলের এই নিরাপত্তাহীনতাকে আরও তীব্র করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কর্তৃক ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত বেপরোয়া যুদ্ধের জেরে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে কাতারের ওপরও দফায় দফায় ইরানি হামলার ঘটনা ঘটে। এর মাধ্যমে কাতার এক দ্বিমুখী হুমকির মুখে পড়ে— একদিকে ইসরায়েল, অন্যদিকে ইরান।

পরিশেষে বলা যায়, বিগত এক বছরে কাতারের ওপর ইসরায়েলি হামলার সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো—আমেরিকার ওপর একশ ভাগ নির্ভর না করে নিজস্ব প্রতিরক্ষা বলয় তৈরি করা। ভবিষ্যতের উপসাগরীয় বৈদেশিক নীতি হয়তো এই দুই নীতির ওপরই দাঁড়িয়ে থাকবে: একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ঐতিহ্যগত কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখা, অন্যদিকে বাইরের যেকোনো আগ্রাসন থেকে নিজেদের রক্ষা করতে আঞ্চলিক ও মুসলিম বিশ্বের শক্তিশালী অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা।