১ নভেম্বর ২০২৬

জেলেনস্কি যুদ্ধ শেষ করতে চান না: ট্রাম্প

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৬
জেলেনস্কি যুদ্ধ শেষ করতে চান না: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যুদ্ধ শেষ করতে চান না।

একই সঙ্গে রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার সিদ্ধান্তের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের দাবি, মস্কোকে আলোচনার টেবিলে ধরে রাখতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রাশিয়ার ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের কয়েক দিন আগে সেগুলো স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এ বিষয়ে বক্তব্য দেন ট্রাম্প।

ইসরায়েল থেকে আসা বিমানে বোমা আতঙ্ক, বুলগেরিয়ায় জরুরি অবতরণ

তিনি লেখেন, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। এমন কিছু করতে চান না, যা রাশিয়াকে আলোচনার টেবিল থেকে দূরে ঠেলে দেয়।

এ সিদ্ধান্তের জেরে গত এক সপ্তাহে ট্রাম্প ও জেলেনস্কির মধ্যে বড় ধরনের কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। জেলেনস্কি বলেছেন, ২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরু করা রাশিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলে তা ইউক্রেনের ক্ষতি করবে। রোববার এনবিসির ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এমন পদক্ষেপ রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের যুদ্ধ প্রচেষ্টাকে আরও শক্তিশালী করবে।

জেলেনস্কি বলেন, আমার সঙ্গে পুতিনের তুলনা চলে না। পুতিন একজন আগ্রাসী, যিনি ইউক্রেনের ভূখণ্ড দখল করেছেন এবং তার বাহিনী প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশুদের হত্যা করেছে। পুতিনকে সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ট্রাম্প এ বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করবেন।

বেলজিয়ামে বিক্ষোভে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ, গ্রেপ্তার ১৯৫

ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে আরও অভিযোগ করেন, কিয়েভ রাশিয়ার ডিজেল শোধনাগারগুলোতে হামলা চালাচ্ছে, যদিও এতে বিশ্ববাজারে ডিজেলের সরবরাহ ও দামের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ইউরোপের কাছ থেকে বিপুল অর্থ সহায়তা পাওয়ায় জেলেনস্কি যুদ্ধ শেষ করতে চান না, এমনকি শুরু থেকেই হয়তো তা চাননি।

৯ অক্টোবর ট্রাম্প ঘোষণা করেন, রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ববাজারে তিন লাখ মেট্রিক টনের বেশি ডিজেল সরবরাহ করবে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় তেহরান হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ করে দেয়। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট জ্বালানি রপ্তানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হতো।

রুশ জ্বালানি গ্রহণের বিষয়ে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে কিয়েভের পাশাপাশি ইউরোপীয় অংশীদার ও যুক্তরাষ্ট্রের অনেক কর্মকর্তাও ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তাঁদের মতে, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার সাড়ে চার বছর ধরে চলা যুদ্ধের মধ্যে এমন পদক্ষেপ মস্কোকে পুরস্কৃত করার শামিল।

ফিলিস্তিনিদের ভূমি ও ক্ষোভের স্বীকৃতি দিতে হবে! বারাক ওবামা

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রেখেছে ইউক্রেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জেলেনস্কি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট-নিযুক্ত দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে প্রায় অবিরাম যোগাযোগের অংশ হিসেবে এ আলোচনা হয়েছে। এর লক্ষ্য কূটনীতির পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা।

জেলেনস্কি লেখেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় ইউক্রেন নিজেদের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সবকিছু করছে। যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান যেন শক্তিশালী থাকে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ ত্বরান্বিত হয়, তা নিশ্চিত করতে চায়। রাশিয়া ছাড়া বাকি সবাই গত সাড়ে চার বছর ধরে এমন শান্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

জেলেনস্কির সঙ্গে উইটকফ ও কুশনারের আলোচনা চলার সময়ও রাশিয়া ও ইউক্রেন একে অপরের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালিয়েছে। রাশিয়ার হামলায় হাজার হাজার মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়ার ওপর সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন, যার লক্ষ্যবস্তু ছিল সেন্ট পিটার্সবার্গ।

২৫টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার জিতে বিশ্বমঞ্চে চমক দেখালো কাতারি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র 'সনদ'

দুই ভাইয়ের ভালোবাসার গল্পে নির্মিত ‘সনদ’: ঢাকা থেকে লন্ডন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত কাতারি চলচ্চিত্র
প্রকাশ: রবিবার, নভেম্বর ০১, ২০২৬
২৫টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার জিতে বিশ্বমঞ্চে চমক দেখালো কাতারি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র 'সনদ'

দুই ভাইয়ের খুনসুটি, প্রতিযোগিতা এবং অমলিন ভালোবাসার গল্প নিয়ে নির্মিত কাতারি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘সনদ’ (SANAD) বিশ্বমঞ্চে এক অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে। কাতারি প্রখ্যাত নির্মাতা নূর আল-নাসর (Noor al-Nasr) পরিচালিত এই ছবিটি এ পর্যন্ত বিশ্বের ৫০টি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়ে ২৫টি মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার ঝুলিতে পুরেছে।

লন্ডন থেকে ঢাকা: বিশ্বজুড়ে প্রশংসার জোয়ার

কাতারি এই স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটি লন্ডনের ‘লন্ডন ইন্ডিপেন্ডেন্ট ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডস’ এবং সুইডেনের ‘সুইডেন ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডস’-এ সেরা স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র (Best Short Film) হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছে। পাশাপাশি ইতালির ‘মিলানো ইন্ডি মুভি অ্যাওয়ার্ডস’-এ লাভ করেছে সেরা চিত্রনাট্যের (Best Screenplay) পুরস্কার।

এছাড়া ঐতিহ্যবাহী সারায়েভো ফিল্ম ফেস্টিংভাল, মেক্সিকোর গুয়ানাহুয়াতো ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিংভাল এবং বাংলাদেশের ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের (Dhaka International Film Festival) পর্দায় প্রদর্শিত হয়ে আন্তর্জাতিক দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে এটি। নিজ দেশ কাতারেও এটি জনপ্রিয় ‘আজয়াল ফিল্ম ফেস্টিংভাল’-এ অফিসিয়ালি নির্বাচিত ও প্রদর্শিত হয়।

কী গল্প বলছে ‘সনদ’?

আরবি ‘সনদ’ শব্দটির অর্থ হলো ‘আস্থা বা ভরসার জায়গা’— যে প্রতিকূল সময়ে পাশে এসে দাঁড়ায়। ছবির মূল গল্পটি আবর্তিত হয়েছে আলী ও জসিম নামের দুই ভাইয়ের সম্পর্কের গল্প ঘিরে।

একটি সামান্য ও নির্দোষ প্র্যাংক বা কৌতুক কীভাবে আস্তে আস্তে প্রতিশোধের খেলায় রূপ নেয় এবং শেষপর্যন্ত এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা তাদের রক্তের সম্পর্ককে কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলে দেয়— তা-ই এতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। হাস্যরস, টানটান উত্তেজনা এবং আবেগের মিশেলে নির্মিত চলচ্চিত্রটি তুলে ধরেছে যে ভাইয়ে-ভাইয়ে যত দ্বন্দ্বই থাকুক না কেন, বিপদের দিনে ভাইয়ের নিরাপত্তায় এগিয়ে আসাই মূল স্তম্ভ।

পরিচালকের অনুভূতি

পরিচালক নূর আল-নাসর বলেন, “আমি সবসময় সাধারণ মানুষের জীবনের গল্পগুলোকে ভিন্ন কোণ থেকে দেখতে পছন্দ করি। ‘সনদ’-এর মাধ্যমে আমি ভাই-বোনের পারস্পরিক রাগ-অনুরাগ ও প্রতিযোগিতার পাশাপাশি একে অপরকে রক্ষা করার সুপ্ত মানসিকতাটি ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছি।”

তিনি আরও যোগ করেন, “এই অর্জন পুরো টিমের। ছবির দক্ষ অভিনয়শিল্পী, ক্রু সদস্য এবং দোহা ফিল্ম ইনস্টিটিউট (DFI)-এর অসামান্য সমর্থন ও উৎসাহের জন্যই আজ বিশ্বজুড়ে এই গল্পটি এত মানুষের হৃদয়ে পৌঁছাতে পেরেছে।”

‘সনদ’-এর এই বিপুল আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি কাতারি চলচ্চিত্র শিল্প ও গল্প বলার ধারাকে বিশ্বমঞ্চে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল।

কাতারি প্রতিনিধিদের সাথে দোহায় পৌঁছাল ইরানি প্রতিনিধিদল

প্রকাশ: রবিবার, নভেম্বর ০১, ২০২৬
কাতারি প্রতিনিধিদের সাথে দোহায় পৌঁছাল ইরানি প্রতিনিধিদল

তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার পরোক্ষ আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতির পর কাতারের রাজধানী দোহায় পৌঁছেছে এক ইরানি প্রতিনিধিদল। কাতারের একটি সংবাদপত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

আল-আরাবি আল-জাদিদের প্রতিবেদনে এক ইরানি সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির একজন উপপ্রতিনিধিসহ পুরো প্রতিনিধিদলটি কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে যোগাযোগের সুবিধা নিশ্চিত করতে দোহায় অবস্থান করছে।

তেহরানে কাতারি প্রতিনিধিদলের নিবিড় আলোচনার পরই এই সাফল্য আসে, যার ভিত্তিতে ইরানি আলোচক দল কাতারি প্রতিনিধিদের সঙ্গেই দোহায় ফিরে যায়। সংবাদমাধ্যমটিকে ওই ইরানি সূত্র নিশ্চিত করেছে, মার্কিন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা কোনও সরাসরি প্রক্রিয়ায় নয়, বরং মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে পরোক্ষভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

কাতার ও পাকিস্তানের যৌথ মধ্যস্থতা প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবগত সূত্রগুলো জানিয়েছে, দোহায় এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় একটি মার্কিন প্রতিনিধিদলও যোগ দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। এমনকি দোহায় পৌঁছানোর পর মার্কিন প্রতিনিধিদলটি ইরানি আলোচকদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সম্ভাব্য সমঝোতার আওতায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল এবং তেহরানের জন্য আর্থিক প্রণোদনা সংক্রান্ত প্রাথমিক বিষয়াবলীতে ঐকমত্য হতে পারে, যা উভয় পক্ষকে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা পুনরারম্ভের পথ দেখাবে।

এ ছাড়া এই চুক্তির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে চীন ও রাশিয়া গ্যারান্টার হিসেবে ভূমিকা রাখবে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ শিক্ষার্থী

কাতারে বাংলাদেশ স্কুলের সাফল্য: এইচএসসিতে পাসের হার ৯২.৭৭

প্রকাশ: রবিবার, নভেম্বর ০১, ২০২৬
কাতারে বাংলাদেশ স্কুলের সাফল্য: এইচএসসিতে পাসের হার ৯২.৭৭

কাতারের মাটিতে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে কাতারস্থ বাংলাদেশ এমএইচএম স্কুল অ্যান্ড কলেজ। ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির চার শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। তাদের এ সাফল্যে আনন্দ ও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ, অধ্যক্ষ, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও অভিভাবকরা।

কর্তৃপক্ষ জানায়, এবার প্রতিষ্ঠানটির বিজ্ঞান বিভাগে মোট ৩৯ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৩৭ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে চারজন, জিপিএ-৪ বা তার বেশি পেয়েছে ১৭ জন এবং জিপিএ-৩-এর বেশি পেয়েছে ১৬ জন শিক্ষার্থী। এ বিভাগে অকৃতকার্য হয়েছে দুজন। বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৯৫ শতাংশ।

অন্যদিকে, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে মোট ২১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১৯ জন। এ বিভাগে পাসের হার ৯১ শতাংশ।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে মুহাম্মদ ওয়াদিস সাবা চৌধুরী, ইয়াছিন আরাফাত রাফিও, তাসনিমুল হাসান রাকিন ও মোঃ তামিম উল্লাহ।

করোনাকালীন সময়ের পর এবারই প্রথম পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। প্রবাসজীবনের নানা ব্যস্ততা ও সীমাবদ্ধতার মধ্যেও শিক্ষার্থীদের এ অর্জন নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক। এ সাফল্যের পেছনে রয়েছে শিক্ষার্থীদের অধ্যবসায়, শিক্ষকদের আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং অভিভাবকদের নিরলস সহযোগিতা। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের সুশৃঙ্খল শিক্ষার পরিবেশ ও নিয়মিত পাঠদানের ধারাবাহিকতাও এ অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মোহাম্মদ হোসাইন আহমদ বলেন, কাতারে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোঃ হযরত আলী খান এবং পরিচালনা পর্ষদের দিকনির্দেশনা, এখানকার সুশৃঙ্খল শিক্ষার পরিবেশ, কলেজ প্রশাসনের আন্তরিক প্রচেষ্টা, অভিজ্ঞ শিক্ষকদের নিবিড় তত্ত্বাবধান, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনা এবং অভিভাবকদের নিরলস সহযোগিতার ফলেই এ সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে।

তিনি এ অর্জনের সঙ্গে সম্পৃক্ত সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও পরিচালনা পর্ষদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ এমএইচএম স্কুল অ্যান্ড কলেজকে কাতারের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

প্রবাসে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাফল্য শুধু পরীক্ষার ফলাফলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে নতুন প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নির্মাণ, জ্ঞানচর্চার প্রসার এবং নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতির শিকড়কে আঁকড়ে রাখার প্রত্যয়। সে বিবেচনায় বাংলাদেশ এমএইচএম স্কুল অ্যান্ড কলেজের এ অর্জন প্রবাসী বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের জন্যও আনন্দের উপলক্ষ।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পারস্পরিক সহযোগিতা এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার ধারাবাহিক প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল অর্জন করবে। প্রবাসের মাটিতে বাংলাদেশের শিক্ষার মর্যাদা সমুন্নত রাখার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে যোগ্য, মানবিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতেও প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তাঁরা।

পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক নগর উন্নয়নে কাতারের আশগাল-এর বড় মেগা প্ল্যান

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ৩১, ২০২৬
পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক নগর উন্নয়নে কাতারের আশগাল-এর বড় মেগা প্ল্যান

প্রতি বছরের ন্যায় আজ ৩১ অক্টোবর বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব শহর দিবস ২০২৬’ (World Cities Day 2026)। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— “শহরের পুনরুজ্জীবন: সবার জন্য উপযুক্ত আবাসন”।

দ্রুত নগরায়ণ ও দূরদর্শী আবাসন পরিকল্পনার সাথে সামঞ্জস্য রেখে কাতারের জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে দেশজুড়ে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ এবং সম্প্রসারণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে কাতার গণপূর্ত কর্তৃপক্ষ আশগাল।

আবাসিক এলাকাগুলোর ব্যাপক আধুনিকায়ন

আশগালের প্রজেক্ট অ্যাফেয়ার্স ডিরেক্টর প্রকৌশলী খালিদ সাইফ আল-খায়ারীন কাতার নিউজ এজেন্সিকে জানিয়েছেন, কাতারের বিভিন্ন আবাসন অঞ্চলগুলোতে নিরাপদ ও উন্নত পরিবেশ তৈরিতে কাজ করছে সংস্থাটি।

বর্তমানে ওয়েস্ট উম্মে সালাল, আল ইব, আল সুমামা, আল ওয়াব, আল মেশাফ, আল মামুরা, দক্ষিণ-পশ্চিম মুয়াইদার, আল খারাইতিয়াত এবং রওজাত আল হামামাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে নতুন ও পুরোনো সড়ক উন্নয়ন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা স্থাপন এবং পাবলিক সার্ভিস আধুনিকায়নের কাজ জোরকদমে চলছে।

টেকসই উন্নয়ন ও সবুজ প্রযুক্তি ব্যবহারের মূল ক্ষেত্রসমূহ:

স্থানীয় কাঁচামালের ব্যবহার: আশগালের অবকাঠামো প্রকল্পে ব্যবহৃত সামগ্রীর ৭৫ শতাংশেরই যোগান দেওয়া হচ্ছে স্থানীয় দেশীয় শিল্প থেকে, যা আমদানি নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করছে।

পুনর্ব্যবহার ও সৌরশক্তি: নির্মাণকাজে তোলাপাথর, কংক্রিট ও অ্যাসফল্ট পুনর্ব্যবহার (Recycle) করা হচ্ছে এবং প্রজেক্ট সাইট ও সাইনবোর্ডে ব্যাপকভাবে সৌরশক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়েছে।

পানি ব্যবস্থাপনা: বৃষ্টির পানি জমার সমস্যা সমাধানে ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক ও পাম্পিং স্টেশনগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ অতিরিক্ত পানি উন্নয়ন কাজে পুনরায় ব্যবহার করা হচ্ছে।

নিরাপদ পদচারণ ও সাইকেলিং: নাগরিক জীবনে সুস্থ অভ্যাসের অংশ হিসেবে এলাকাগুলোতে নিরাপদে হাঁটার পথ, সাইকেল ট্র্যাক ও সবুজ পার্ক তৈরি করা হচ্ছে।

আগামী ৫ বছরে ৩৩ হাজার প্লটে উন্নয়ন প্রকল্প

‘কাতার ন্যাশনাল ভিশন ২০৩০’-এর লক্ষ্য অর্জনে আগামী পাঁচ বছরে আরও বড় পরিসরে কাজ শুরু করতে যাচ্ছে আশগাল।

আগামী ৫ বছরের মহাপরিকল্পনার আওতায় নাগরিকদের জন্য বরাদ্দকৃত প্রায় ৩৩,০০০ আবাসিক প্লটে সুনির্দিষ্ট নাগরিক সুবিধা ও সংযোগ সড়ক নিশ্চিত করতে ৩০টিরও বেশি মেগা রোড ও অবকাঠামো প্রজেক্টের দরপত্র (Tender) আহ্বান করা হবে। কাজের গতি বৃদ্ধি ও নির্ভুল নগর পরিকল্পনার জন্য আশগাল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার বাড়াচ্ছে।

মার্কিন-ইরান সংঘাত এড়াতে তেহরানে কাতারি প্রতিনিধি দল

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ৩১, ২০২৬
মার্কিন-ইরান সংঘাত এড়াতে তেহরানে কাতারি প্রতিনিধি দল

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা যখন আবার নতুন করে চরম রূপ নেওয়ার আশঙ্কায়, ঠিক তখনই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান বরফ গলাতে তৎপর হয়ে উঠেছে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো। ওয়াশিংটন-তেহরান শান্তি আলোচনা নতুন করে শুরুর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এবার ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করতে তেহরানে পৌঁছেছে কাতারের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ইরনা শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) কাতারি প্রতিনিধিদলের এ তেহরান সফরের খবরটি নিশ্চিত করেছে। কাতারের প্রধানমন্ত্রীর একজন জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা প্রতিনিধিদলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তারা মূলত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি বর্তমান সংবেদনশীল আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে ইরানের নীতি নির্ধারকদের সঙ্গে বিশদ আলোচনা করছেন।

গত কয়েকদিনে আরও কয়েকটি দেশের শীর্ষ কর্মকর্তারা ইরানের রাজধানী সফর করেছেন। ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের কাছ থেকে পাঠানো একটি বার্তা পেয়েছে তেহরান। চিঠিটি মূলত ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মহসিন রেজাইয়ের উদ্দেশে পাঠানো হয়।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, চিঠিতে এখনই কোনো সরাসরি শান্তিচুক্তির শর্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়নি। বরং ভবিষ্যতে কীভাবে আলোচনার টেবিলে বসা যায় বা আলোচনার একটি সম্ভাব্য কাঠামো কেমন হতে পারে, সেটার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ‘দ্য নিউইয়র্ক টাইমস’ জানায়, ভ্যান্স গত সপ্তাহে কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে এ বিশেষ যোগাযোগের উদ্যোগ নেন এবং চিঠিটি সফলভাবে জেনারেল মহসdন রেজাইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

চলতি বছরের এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নের পর থেকে শান্তি আলোচনাকে গতিশীল রাখতে কাতার ও পাকিস্তান জোর চেষ্টা চালিয়ে আসছে। ইরানি এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবারও কাতারের একটি প্রতিনিধিদল তেহরানে অবস্থান করে পরিস্থিতি মূল্যায়নের কাজ করেছিল।

এমনকি গত মঙ্গলবার মস্কোয় একটি বৈঠকের ফাঁকে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা করেন।

শুধু কাতারই নয়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চলতি সপ্তাহে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাও তেহরানে এসে ধারাবাহিক বৈঠক করেছেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সম্প্রতি আগস্টে মক্কায় একটি প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল এই তিন দেশ।

তবে পরিস্থিতি এখনও বেশ জটিল। যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ইরানের বন্দরগুলোতে কঠোর অবরোধ আরোপ করে রেখেছে, যা দেশটির তেল রপ্তানি ও সার্বিক আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে চরম সংকটে ফেলেছে। তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, বিশ্ববাজারের জন্য হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দিতে হলে ওয়াশিংটনকে সাতটি সুনির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি, বিভিন্ন দেশে আটকে থাকা ইরানের জাতীয় সম্পদ অবমুক্ত করা, দেশটির তেল খাতের ওপর থেকে আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া।

সূত্র: আল জাজিরা