১ নভেম্বর ২০২৬

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চাপে ইরানি এয়ারলাইন নিষিদ্ধ করল আমিরাত

প্রকাশ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চাপে ইরানি এয়ারলাইন নিষিদ্ধ করল আমিরাত

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চাপে ইরানের বিমান চলাচল খাত আরও বড় ধাক্কার মুখে পড়েছে। ইরানি এয়ারলাইনগুলোর সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রবেশ ও আমিরাত থেকে ফ্লাইট পরিচালনা স্থগিত করেছে দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।

আমিরাতের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ডব্লিউএএম জানায়, দেশটির জেনারেল সিভিল এভিয়েশন অথরিটি ইরানি এয়ারলাইনগুলোর সব ফ্লাইট স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরানি এয়ারলাইনগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই সিদ্ধান্ত ইরানের আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগে নতুন সংকট তৈরি করেছে। দুবাই ইরানি এয়ারলাইনগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি গন্তব্য। সেখানে ইরানের বড় প্রবাসী জনগোষ্ঠী রয়েছে এবং দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক ও ভ্রমণ যোগাযোগও রয়েছে। বৃহস্পতিবার তেহরান থেকে দুবাইগামী ইরান এয়ারট্যুরের একটি ফ্লাইট নির্ধারিত সময়ের কিছু আগে বাতিল করা হয়। যাত্রীদের টিকিট ইতোমধ্যে ইস্যু করা হয়েছিল বলে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইরানের বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার মুখপাত্র মাজিদ আখাভান জানিয়েছেন, আমিরাতের সঙ্গে কূটনৈতিক ও বিমান চলাচল–সংক্রান্ত আলোচনা চলছে। নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে আবার ফ্লাইট চালুর বিষয়ে সমাধান খোঁজা হচ্ছে। একই সময়ে তুর্কমেনিস্তানও তেহরান থেকে দুশানবেগামী একটি ইরানি ফ্লাইটকে তাদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি। ফলে বিমানটি তেহরানে ফিরে যেতে বাধ্য হয়।

একের পর এক দেশের নিষেধাজ্ঞা

আমিরাতের আগে ওমান, ইরাক, আজারবাইজান, জর্জিয়া ও তুর্কমেনিস্তানও ইরানি বিমান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে বা ফ্লাইট স্থগিত করেছে। ইরাকের বাগদাদ ও নাজাফের পর শুক্রবার এরবিল ও সুলাইমানিয়াহ বিমানবন্দরও ইরানি ফ্লাইট স্থগিত করে। ফলে ইরানের সঙ্গে যেসব চারটি ইরাকি বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলত, সবগুলোতেই এখন তা বন্ধ রয়েছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।

এই পরিস্থিতির পেছনে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা নীতি। চলতি মাসের শুরুতে ওয়াশিংটন ইরানের বিমান চলাচল খাতের বিরুদ্ধে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ইরানের ২৭টি এয়ারলাইন এবং তাদের সহায়তাকারী বিভিন্ন কোম্পানিকে লক্ষ্য করে ব্যবস্থা নেয়।

যুক্তরাষ্ট্রের হুঁশিয়ারি ছিল, ইরানি নিষেধাজ্ঞাভুক্ত এয়ারলাইনকে বিমানবন্দর, জ্বালানি, স্থলসেবা বা অন্যান্য সহায়তা দেওয়া প্রতিষ্ঠানও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এর ফলে ইরানের সঙ্গে সরাসরি ব্যবসা না করা তৃতীয় দেশের কোম্পানিগুলোর ওপরও চাপ তৈরি হয়েছে।

ইরানের বিমান চলাচল খাতে এর প্রভাব ইতোমধ্যে দৃশ্যমান। আলজাজিরার এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্টে ইরান থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের সক্ষমতা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৯ শতাংশ কমে যায়। নতুন বিধিনিষেধের কারণে আন্তর্জাতিক যাত্রীদের একটি অংশকে তুরস্ক ও আর্মেনিয়ার মতো দেশের স্থল সীমান্ত ব্যবহার করতে হচ্ছে।

পাল্টা হুমকি তেহরানের

ইরানি কর্মকর্তারা এরই মধ্যে প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই বলেছেন, যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবে, তাদের বিমানবন্দরও ইরানের সঙ্গে বিমান চলাচল থেকে বঞ্চিত হতে পারে।

শুক্রবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোখবেরও সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি উড়তে এবং বিমানবন্দরসেবা পেতে না পারে, তাহলে অঞ্চলটির অন্য দেশগুলোর ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

এদিকে ইরানের সঙ্গে চীন ও আর্মেনিয়ার কিছু বিমান যোগাযোগ এখনো চালু রয়েছে। তুরস্কের সঙ্গেও কিছু রুট সচল আছে। তবে এসব রুটেও ফ্লাইট বাতিলের ঘটনা ঘটছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের বিমান যোগাযোগে এই চাপ দেশটির অর্থনীতির পাশাপাশি পর্যটন ও সংশ্লিষ্ট খাতেও প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের বিমান চলাচল ও ভ্রমণ খাতে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

২৫টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার জিতে বিশ্বমঞ্চে চমক দেখালো কাতারি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র 'সনদ'

দুই ভাইয়ের ভালোবাসার গল্পে নির্মিত ‘সনদ’: ঢাকা থেকে লন্ডন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত কাতারি চলচ্চিত্র
প্রকাশ: রবিবার, নভেম্বর ০১, ২০২৬
২৫টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার জিতে বিশ্বমঞ্চে চমক দেখালো কাতারি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র 'সনদ'

দুই ভাইয়ের খুনসুটি, প্রতিযোগিতা এবং অমলিন ভালোবাসার গল্প নিয়ে নির্মিত কাতারি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘সনদ’ (SANAD) বিশ্বমঞ্চে এক অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে। কাতারি প্রখ্যাত নির্মাতা নূর আল-নাসর (Noor al-Nasr) পরিচালিত এই ছবিটি এ পর্যন্ত বিশ্বের ৫০টি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়ে ২৫টি মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার ঝুলিতে পুরেছে।

লন্ডন থেকে ঢাকা: বিশ্বজুড়ে প্রশংসার জোয়ার

কাতারি এই স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটি লন্ডনের ‘লন্ডন ইন্ডিপেন্ডেন্ট ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডস’ এবং সুইডেনের ‘সুইডেন ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডস’-এ সেরা স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র (Best Short Film) হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছে। পাশাপাশি ইতালির ‘মিলানো ইন্ডি মুভি অ্যাওয়ার্ডস’-এ লাভ করেছে সেরা চিত্রনাট্যের (Best Screenplay) পুরস্কার।

এছাড়া ঐতিহ্যবাহী সারায়েভো ফিল্ম ফেস্টিংভাল, মেক্সিকোর গুয়ানাহুয়াতো ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিংভাল এবং বাংলাদেশের ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের (Dhaka International Film Festival) পর্দায় প্রদর্শিত হয়ে আন্তর্জাতিক দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে এটি। নিজ দেশ কাতারেও এটি জনপ্রিয় ‘আজয়াল ফিল্ম ফেস্টিংভাল’-এ অফিসিয়ালি নির্বাচিত ও প্রদর্শিত হয়।

কী গল্প বলছে ‘সনদ’?

আরবি ‘সনদ’ শব্দটির অর্থ হলো ‘আস্থা বা ভরসার জায়গা’— যে প্রতিকূল সময়ে পাশে এসে দাঁড়ায়। ছবির মূল গল্পটি আবর্তিত হয়েছে আলী ও জসিম নামের দুই ভাইয়ের সম্পর্কের গল্প ঘিরে।

একটি সামান্য ও নির্দোষ প্র্যাংক বা কৌতুক কীভাবে আস্তে আস্তে প্রতিশোধের খেলায় রূপ নেয় এবং শেষপর্যন্ত এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা তাদের রক্তের সম্পর্ককে কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলে দেয়— তা-ই এতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। হাস্যরস, টানটান উত্তেজনা এবং আবেগের মিশেলে নির্মিত চলচ্চিত্রটি তুলে ধরেছে যে ভাইয়ে-ভাইয়ে যত দ্বন্দ্বই থাকুক না কেন, বিপদের দিনে ভাইয়ের নিরাপত্তায় এগিয়ে আসাই মূল স্তম্ভ।

পরিচালকের অনুভূতি

পরিচালক নূর আল-নাসর বলেন, “আমি সবসময় সাধারণ মানুষের জীবনের গল্পগুলোকে ভিন্ন কোণ থেকে দেখতে পছন্দ করি। ‘সনদ’-এর মাধ্যমে আমি ভাই-বোনের পারস্পরিক রাগ-অনুরাগ ও প্রতিযোগিতার পাশাপাশি একে অপরকে রক্ষা করার সুপ্ত মানসিকতাটি ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছি।”

তিনি আরও যোগ করেন, “এই অর্জন পুরো টিমের। ছবির দক্ষ অভিনয়শিল্পী, ক্রু সদস্য এবং দোহা ফিল্ম ইনস্টিটিউট (DFI)-এর অসামান্য সমর্থন ও উৎসাহের জন্যই আজ বিশ্বজুড়ে এই গল্পটি এত মানুষের হৃদয়ে পৌঁছাতে পেরেছে।”

‘সনদ’-এর এই বিপুল আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি কাতারি চলচ্চিত্র শিল্প ও গল্প বলার ধারাকে বিশ্বমঞ্চে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল।

কাতারি প্রতিনিধিদের সাথে দোহায় পৌঁছাল ইরানি প্রতিনিধিদল

প্রকাশ: রবিবার, নভেম্বর ০১, ২০২৬
কাতারি প্রতিনিধিদের সাথে দোহায় পৌঁছাল ইরানি প্রতিনিধিদল

তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার পরোক্ষ আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতির পর কাতারের রাজধানী দোহায় পৌঁছেছে এক ইরানি প্রতিনিধিদল। কাতারের একটি সংবাদপত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

আল-আরাবি আল-জাদিদের প্রতিবেদনে এক ইরানি সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির একজন উপপ্রতিনিধিসহ পুরো প্রতিনিধিদলটি কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে যোগাযোগের সুবিধা নিশ্চিত করতে দোহায় অবস্থান করছে।

তেহরানে কাতারি প্রতিনিধিদলের নিবিড় আলোচনার পরই এই সাফল্য আসে, যার ভিত্তিতে ইরানি আলোচক দল কাতারি প্রতিনিধিদের সঙ্গেই দোহায় ফিরে যায়। সংবাদমাধ্যমটিকে ওই ইরানি সূত্র নিশ্চিত করেছে, মার্কিন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা কোনও সরাসরি প্রক্রিয়ায় নয়, বরং মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে পরোক্ষভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

কাতার ও পাকিস্তানের যৌথ মধ্যস্থতা প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবগত সূত্রগুলো জানিয়েছে, দোহায় এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় একটি মার্কিন প্রতিনিধিদলও যোগ দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। এমনকি দোহায় পৌঁছানোর পর মার্কিন প্রতিনিধিদলটি ইরানি আলোচকদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সম্ভাব্য সমঝোতার আওতায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল এবং তেহরানের জন্য আর্থিক প্রণোদনা সংক্রান্ত প্রাথমিক বিষয়াবলীতে ঐকমত্য হতে পারে, যা উভয় পক্ষকে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা পুনরারম্ভের পথ দেখাবে।

এ ছাড়া এই চুক্তির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে চীন ও রাশিয়া গ্যারান্টার হিসেবে ভূমিকা রাখবে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

নভেম্বর ২০২৬-এর জন্য জ্বালানি তেলের নতুন দর ঘোষণা কাতার এনার্জির

প্রকাশ: রবিবার, নভেম্বর ০১, ২০২৬
নভেম্বর ২০২৬-এর জন্য জ্বালানি তেলের নতুন দর ঘোষণা কাতার এনার্জির

কাতারের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি সংস্থা 'কাতারএনার্জি' (QatarEnergy) নভেম্বর ২০২৬ মাসের জন্য জ্বালানি তেলের নতুন বাজারদর ঘোষণা করেছে।

নতুন নির্ধারিত এই তালিকায় দেখা গেছে, চলতি মাসে প্রিমিয়াম পেট্রোল, সুপার পেট্রোল এবং ডিজেলের দামে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি; অর্থাৎ অক্টোবর মাসের দরই অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

নভেম্বর ২০২৬ মাসের জ্বালানি তেলের নির্ধারিত মূল্য:

  • প্রিমিয়াম পেট্রোল (91): ১.৯৫ কাতারি রিয়াল (প্রতি লিটার)

  • সুপার পেট্রোল (95): ২.১০ কাতারি রিয়াল (প্রতি লিটার)

  • ডিজেল: ২.০৫ কাতারি রিয়াল (প্রতি লিটার)

মাসের প্রথম দিন থেকেই কাতারের সমস্ত ফিলিং স্টেশন বা পেট্রোল পাম্পগুলোতে এই নতুন মূল্যে জ্বালানি তেল বিক্রি শুরু হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের মূল্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে কাতারএনার্জি প্রতি মাসের শেষে পরবর্তী মাসের জন্য জ্বালানির মূল্য নির্ধারণ করে থাকে।

জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ শিক্ষার্থী

কাতারে বাংলাদেশ স্কুলের সাফল্য: এইচএসসিতে পাসের হার ৯২.৭৭

প্রকাশ: রবিবার, নভেম্বর ০১, ২০২৬
কাতারে বাংলাদেশ স্কুলের সাফল্য: এইচএসসিতে পাসের হার ৯২.৭৭

কাতারের মাটিতে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে কাতারস্থ বাংলাদেশ এমএইচএম স্কুল অ্যান্ড কলেজ। ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির চার শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। তাদের এ সাফল্যে আনন্দ ও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ, অধ্যক্ষ, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও অভিভাবকরা।

কর্তৃপক্ষ জানায়, এবার প্রতিষ্ঠানটির বিজ্ঞান বিভাগে মোট ৩৯ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৩৭ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে চারজন, জিপিএ-৪ বা তার বেশি পেয়েছে ১৭ জন এবং জিপিএ-৩-এর বেশি পেয়েছে ১৬ জন শিক্ষার্থী। এ বিভাগে অকৃতকার্য হয়েছে দুজন। বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৯৫ শতাংশ।

অন্যদিকে, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে মোট ২১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১৯ জন। এ বিভাগে পাসের হার ৯১ শতাংশ।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে মুহাম্মদ ওয়াদিস সাবা চৌধুরী, ইয়াছিন আরাফাত রাফিও, তাসনিমুল হাসান রাকিন ও মোঃ তামিম উল্লাহ।

করোনাকালীন সময়ের পর এবারই প্রথম পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। প্রবাসজীবনের নানা ব্যস্ততা ও সীমাবদ্ধতার মধ্যেও শিক্ষার্থীদের এ অর্জন নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক। এ সাফল্যের পেছনে রয়েছে শিক্ষার্থীদের অধ্যবসায়, শিক্ষকদের আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং অভিভাবকদের নিরলস সহযোগিতা। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের সুশৃঙ্খল শিক্ষার পরিবেশ ও নিয়মিত পাঠদানের ধারাবাহিকতাও এ অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মোহাম্মদ হোসাইন আহমদ বলেন, কাতারে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোঃ হযরত আলী খান এবং পরিচালনা পর্ষদের দিকনির্দেশনা, এখানকার সুশৃঙ্খল শিক্ষার পরিবেশ, কলেজ প্রশাসনের আন্তরিক প্রচেষ্টা, অভিজ্ঞ শিক্ষকদের নিবিড় তত্ত্বাবধান, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনা এবং অভিভাবকদের নিরলস সহযোগিতার ফলেই এ সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে।

তিনি এ অর্জনের সঙ্গে সম্পৃক্ত সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও পরিচালনা পর্ষদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ এমএইচএম স্কুল অ্যান্ড কলেজকে কাতারের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

প্রবাসে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাফল্য শুধু পরীক্ষার ফলাফলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে নতুন প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নির্মাণ, জ্ঞানচর্চার প্রসার এবং নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতির শিকড়কে আঁকড়ে রাখার প্রত্যয়। সে বিবেচনায় বাংলাদেশ এমএইচএম স্কুল অ্যান্ড কলেজের এ অর্জন প্রবাসী বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের জন্যও আনন্দের উপলক্ষ।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পারস্পরিক সহযোগিতা এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার ধারাবাহিক প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল অর্জন করবে। প্রবাসের মাটিতে বাংলাদেশের শিক্ষার মর্যাদা সমুন্নত রাখার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে যোগ্য, মানবিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতেও প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তাঁরা।

পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক নগর উন্নয়নে কাতারের আশগাল-এর বড় মেগা প্ল্যান

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ৩১, ২০২৬
পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক নগর উন্নয়নে কাতারের আশগাল-এর বড় মেগা প্ল্যান

প্রতি বছরের ন্যায় আজ ৩১ অক্টোবর বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব শহর দিবস ২০২৬’ (World Cities Day 2026)। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— “শহরের পুনরুজ্জীবন: সবার জন্য উপযুক্ত আবাসন”।

দ্রুত নগরায়ণ ও দূরদর্শী আবাসন পরিকল্পনার সাথে সামঞ্জস্য রেখে কাতারের জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে দেশজুড়ে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ এবং সম্প্রসারণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে কাতার গণপূর্ত কর্তৃপক্ষ আশগাল।

আবাসিক এলাকাগুলোর ব্যাপক আধুনিকায়ন

আশগালের প্রজেক্ট অ্যাফেয়ার্স ডিরেক্টর প্রকৌশলী খালিদ সাইফ আল-খায়ারীন কাতার নিউজ এজেন্সিকে জানিয়েছেন, কাতারের বিভিন্ন আবাসন অঞ্চলগুলোতে নিরাপদ ও উন্নত পরিবেশ তৈরিতে কাজ করছে সংস্থাটি।

বর্তমানে ওয়েস্ট উম্মে সালাল, আল ইব, আল সুমামা, আল ওয়াব, আল মেশাফ, আল মামুরা, দক্ষিণ-পশ্চিম মুয়াইদার, আল খারাইতিয়াত এবং রওজাত আল হামামাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে নতুন ও পুরোনো সড়ক উন্নয়ন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা স্থাপন এবং পাবলিক সার্ভিস আধুনিকায়নের কাজ জোরকদমে চলছে।

টেকসই উন্নয়ন ও সবুজ প্রযুক্তি ব্যবহারের মূল ক্ষেত্রসমূহ:

স্থানীয় কাঁচামালের ব্যবহার: আশগালের অবকাঠামো প্রকল্পে ব্যবহৃত সামগ্রীর ৭৫ শতাংশেরই যোগান দেওয়া হচ্ছে স্থানীয় দেশীয় শিল্প থেকে, যা আমদানি নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করছে।

পুনর্ব্যবহার ও সৌরশক্তি: নির্মাণকাজে তোলাপাথর, কংক্রিট ও অ্যাসফল্ট পুনর্ব্যবহার (Recycle) করা হচ্ছে এবং প্রজেক্ট সাইট ও সাইনবোর্ডে ব্যাপকভাবে সৌরশক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়েছে।

পানি ব্যবস্থাপনা: বৃষ্টির পানি জমার সমস্যা সমাধানে ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক ও পাম্পিং স্টেশনগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ অতিরিক্ত পানি উন্নয়ন কাজে পুনরায় ব্যবহার করা হচ্ছে।

নিরাপদ পদচারণ ও সাইকেলিং: নাগরিক জীবনে সুস্থ অভ্যাসের অংশ হিসেবে এলাকাগুলোতে নিরাপদে হাঁটার পথ, সাইকেল ট্র্যাক ও সবুজ পার্ক তৈরি করা হচ্ছে।

আগামী ৫ বছরে ৩৩ হাজার প্লটে উন্নয়ন প্রকল্প

‘কাতার ন্যাশনাল ভিশন ২০৩০’-এর লক্ষ্য অর্জনে আগামী পাঁচ বছরে আরও বড় পরিসরে কাজ শুরু করতে যাচ্ছে আশগাল।

আগামী ৫ বছরের মহাপরিকল্পনার আওতায় নাগরিকদের জন্য বরাদ্দকৃত প্রায় ৩৩,০০০ আবাসিক প্লটে সুনির্দিষ্ট নাগরিক সুবিধা ও সংযোগ সড়ক নিশ্চিত করতে ৩০টিরও বেশি মেগা রোড ও অবকাঠামো প্রজেক্টের দরপত্র (Tender) আহ্বান করা হবে। কাজের গতি বৃদ্ধি ও নির্ভুল নগর পরিকল্পনার জন্য আশগাল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার বাড়াচ্ছে।