২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইরান যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের সংকটে তেলের দাম বাড়ছে, লাভবান হচ্ছে যে দেশ

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
ইরান যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের সংকটে তেলের দাম বাড়ছে, লাভবান হচ্ছে যে দেশ

যানজটে আটকে থাকা সড়কে ধীরগতিতে চলছে ফেরারি ও ল্যাম্বরগিনির মতো বিলাসবহুল গাড়ি। নতুন স্টেকহাউসগুলোতে পরিবেশন করা হচ্ছে আমদানি করা ওয়াগিউ গরুর মাংস। মিয়ামি ও জ্যামাইকা থেকে উড়িয়ে আনা হচ্ছে ডিজেদের। শহরের আলোচনায় এখন বিলাসবহুল বিয়ের আয়োজন।

গায়ানার রাজধানী জর্জটাউনে এখন এমন বিলাসিতার চিত্র দেখা যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়া যুদ্ধ থেকে শহরটি অনেক দূরে হলেও ওই সংঘাত বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বাধা তৈরি করেছে এবং বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতে চাপ ফেলেছে।

কিন্তু দক্ষিণ আমেরিকার ছোট দেশ গায়ানা এই অস্থিরতা থেকে তেল বিক্রির আয়ে বড় সুবিধা পাচ্ছে।

নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলার সীমান্তবর্তী ইংরেজিভাষী দেশটির জনসংখ্যা মাত্র ১০ লাখ। কয়েক বছর আগে তেল উৎপাদন শুরু করা গায়ানা এ বছর আনুমানিক ৬৫০ কোটি ডলার তেল রাজস্ব পেতে যাচ্ছে, যা বছরের শুরুতে করা পূর্বাভাসের দ্বিগুণেরও বেশি।

ইরান যুদ্ধের কারণে তেলের দাম বেড়ে গেছে। হরমুজ, বাব আল-মান্দেবসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পথে চলাচলকারী জাহাজগুলোতে হামলার ঝুঁকি রয়েছে। ফলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ঠিক রাখতে বিভিন্ন দেশের মধ্যে প্রতিযোগিতা চলছে। আর এই প্রতিযোগিতায় আয় বাড়ছে গায়ানার।

এর মধ্য দিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাও রাখছে দেশটি।

তেলের বাজারে আমেরিকা মহাদেশ

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ঘাটতি সামাল দিতে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকায় তেল উৎপাদন বাড়ছে। গায়ানার পাশাপাশি কানাডা, ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনাতেও উৎপাদন বাড়ছে। ভেনেজুয়েলাতেও শিগগির উৎপাদন বাড়তে পারে।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল এনার্জির তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে মোট তেল উৎপাদনের প্রায় ৩৭ শতাংশ এখন আমেরিকা মহাদেশ থেকে আসে। এক দশক আগে এই হার ছিল ২৭ শতাংশ।

জর্জটাউনের অর্থনীতিবিদ রিচার্ড রামবারান নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, গায়ানা দেশ হিসেবে ছোট হলেও হঠাৎ করেই অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে এটি কেবল শুরু।

বর্তমানে দেশটির দৈনিক তেল উৎপাদন প্রায় নয় লাখ ব্যারেল। রামবারানের মতে, ২০৩০ সালের মধ্যে গায়ানার দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা ১৭ লাখ ব্যারেলে পৌঁছাতে পারে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বছরের প্রথম ছয় মাসে গায়ানার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩৩ শতাংশ। নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, এই প্রবৃদ্ধি দেশটিকে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতিতে পরিণত করেছে।
তবে তেলের বাজারে এই জয়জয়কার দেশটিতে উত্তেজনা ও অসন্তোষ বাড়িয়ে তোলার ঝুঁকিও তৈরি করছে।

অনেক গায়ানাবাসীর অভিযোগ, এই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুবিধা সাধারণ মানুষের মধ্যে সমানভাবে পৌঁছাচ্ছে না। বরং একটি ছোট অভিজাত শ্রেণি বিপুল সম্পদ গড়ছে, আর সাধারণ মানুষকে মূল্যস্ফীতি, ব্যাপক দুর্নীতি, আবাসন সংকট ও নিম্নমানের সরকারি সেবার সঙ্গে লড়তে হচ্ছে।

বাড়ছে বৈষম্যের অভিযোগ

বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, গায়ানা এখন উচ্চ আয়ের দেশের মর্যাদা পেয়েছে। দেশটির মাথাপিছু বার্ষিক আয় প্রায় ৩২ হাজার ডলার, যা উরুগুয়ে ও চিলির মতো তুলনামূলক সমৃদ্ধ দেশসহ দক্ষিণ আমেরিকার অন্য সব দেশের চেয়ে বেশি।

তবে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানীর রাস্তায় দাঁড়ালে দেশটি হঠাৎ করে উন্নত অর্থনীতির দেশে পরিণত হয়েছে, এমন হয় না।

জর্জটাউনের খালগুলোতে অপরিশোধিত পয়োনিষ্কাশনের পানি প্রবাহিত হয়। বন্যা বা অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিতে থাকা জরাজীর্ণ বাড়িতে পরিবারগুলো গাদাগাদি করে বসবাস করে। বিশৃঙ্খল মোড় পার হতে পথচারীদের জীবনের ঝুঁকিও রয়েছে। বন্দুকের মুখে ছিনতাইও নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়।

দ্রুত বদলে যাওয়া জর্জটাউনের চেহারাও নতুন করে বিরোধের কারণ হয়ে উঠেছে। নগরীর ঐতিহাসিক কাঠের স্থাপনাগুলো ভেঙে আবাসন ব্যবসায়ীরা সেখানে কংক্রিট ও ইস্পাতের বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন।

জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক থমাস সিং নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, এখন যা কিছু তৈরি করা হচ্ছে, সব কিছুই কুৎসিত।

ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি বাজারে তৈরি হওয়া সংকট গায়ানার একটি বৈপরীত্যও সামনে এনেছে। দেশটি বিপুল পরিমাণ তেল উৎপাদন করলেও তা থেকে গ্যাসোলিন বা ডিজেলের মতো জ্বালানি তৈরির অবকাঠামো নেই। ফলে আমদানির ওপর নির্ভরশীল গায়ানায় বিদ্যুতের দাম বেশি। এই বসন্তেও দেশটি সাময়িকভাবে জ্বালানি সংকটে পড়েছিল।

তেল থেকে পাওয়া অর্থের সুফল অসমভাবে বণ্টিত হওয়া নিয়ে অসন্তোষও বাড়ছে। আবার গায়ানা অন্যান্য দেশের মতো দুর্নীতি, মূল্যস্ফীতি ও তেলবহির্ভূত অর্থনীতির অভাবে পড়বে কি না, তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।

তবে উড়োজাহাজ ও আবাসন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ী জেরি গোভিয়া জুনিয়র এসব আশঙ্কাকে অতিরঞ্জিত বলে মনে করেন।

তিনি বলেন, বিদেশি জ্বালানি কোম্পানিগুলোকে স্থানীয় ব্যবসা ও কর্মীদের কাজে লাগাতে বাধ্য করতে হবে। গায়ানার সার্বভৌম সম্পদ তহবিল এ ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সহায়ক হবে।

গোভিয়া বলেন, ‘অন্য দেশগুলো কোথায় ভুল করেছে, গায়ানার নেতৃত্ব তা জানে।’

অবকাঠামো বিনিয়োগ ও শক্তিশালী কৃষি খাতের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা দেখাচ্ছি যে সবকিছু সঠিকভাবে করার সুযোগ আমাদের রয়েছে।’ তবে গায়ানা সরকার নিউইয়র্ক টাইমসের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এই অর্থনৈতিক উত্থানের সুফল গায়ানার ‘প্রতিটি পরিবার’ পাবে বলে প্রকাশ্য মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইরফান আলী। মূল্যস্ফীতি থেকে নাগরিকদের সুরক্ষায় সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ গায়ানা

গায়ানার এই অর্থনৈতিক উত্থানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রেরও গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ জড়িয়ে পড়েছে। দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম তেল কোম্পানি এক্সনমবিলের অন্যতম প্রধান প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্র হয়ে উঠছে। ট্রাম্প প্রশাসন যখন পশ্চিম গোলার্ধের জ্বালানি সম্পদের ওপর আরও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে, তখন গায়ানার গুরুত্বও বাড়ছে।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেল রাজস্বে মানুষের জীবনযাত্রার মান মৌলিকভাবে উন্নত হচ্ছে বলে দাবি করছেন গায়ানার সরকারি কর্মকর্তা ও অর্থনীতিবিদেরা। তারা কর কমানো, সেতু ও মহাসড়কের মতো নতুন অবকাঠামো নির্মাণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি বাতিল এবং নাগরিকদের প্রায় ৫০০ ডলার করে এককালীন অর্থ দেওয়ার বিষয়গুলো উল্লেখ করছেন।

গায়ানার জনসংখ্যা কম এবং তেলের মজুত বিপুল হওয়ায় এসব উদ্যোগ দ্রুত সাধারণ জীবনের অংশ হয়ে উঠছে। সম্প্রতি মাথাপিছু তেল মজুতের মূল্যমানের হিসাবে কুয়েতের পর গায়ানার অবস্থান বিশ্বে দ্বিতীয় বলে অনুমান করা হয়েছে।

তবে জুলাইয়ে সরকারি মালিকানাধীন একটি ফেরি ডুবে প্রায় ১০০ জন নিহত হওয়ার পর পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ১৯৭৮ সালের জোনসটাউন গণহত্যা ও আত্মহত্যার পর এটিই ছিল গায়ানার সবচেয়ে প্রাণঘাতী ঘটনা।

ঘটনার পর বিক্ষোভ ও শোকসভায় অংশ নেওয়া অনেকে প্রশ্ন তোলেন, বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতিতে এমন ঘটনা কীভাবে ঘটতে পারে।

বিক্ষোভকারীরা বলেন, নিহতদের অনেকেই এমন মানুষ ছিলেন, যারা গায়ানা সরকারের তেলসম্পদ থেকে বাড়তে থাকা অর্থের মধ্যেও জীবন চালিয়ে যেতে সংগ্রাম করছিলেন।

এই ঘটনায় জবাবদিহির দাবিতে বিক্ষোভ করে গ্রেপ্তার হওয়া আইনজীবী রোমোলা লুকাস বলেন, ‘এমন একটি উত্থানের কথা শুনতে শুনতে আমরা ক্লান্ত, যার কোনো সুফল অধিকাংশ গায়ানাবাসীর জীবনে নেই।’

রাজনৈতিক ব্যবস্থায় চাপ

গায়ানার রাজনৈতিক ব্যবস্থাতেও চাপের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।

নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, ২০২০ সালে ক্ষমতায় আসা প্রেসিডেন্ট ইরফান আলী জর্জটাউনের কাছে একটি খামার কেনার ঘটনায় দুর্নীতি হয়েছিল কি না, সে প্রশ্নে সমালোচনার মুখে পড়েছেন। আধুনিক দক্ষিণ আমেরিকার ইতিহাসে অন্যতম দীর্ঘ নির্বাচনী অচলাবস্থার পর তিনি ক্ষমতায় এসেছিলেন।

আলী বারবার কোনো ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে বিরোধীদলীয় নেতা আজরুদ্দিন মোহামেদ ওই খামারকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীনদের বা তাদের ঘনিষ্ঠদের বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগকে সামনে এনেছেন।
মোহামেদ নিজেও দুর্নীতির অভিযোগ থেকে মুক্ত নন। সোনা চোরাচালান ও ঘুষের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ২০২৪ সালে বাইডেন প্রশাসন তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়।

ভেনেজুয়েলার সঙ্গে বিরোধ

প্রতিবেদনে বলা হয়, ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবও পড়ছে গায়ানায়। এক্সন এক দশকেরও বেশি সময় আগে বিরোধপূর্ণ এসেকুইবো অঞ্চলের উপকূলীয় জলসীমায় তেল পাওয়ার পর দুই দেশের বিরোধ আরও তীব্র হয়।

এদিকে ভেনেজুয়েলার নেতারা গায়ানার অর্ধেকেরও বেশি ভূখণ্ডের ওপর দাবি জোরদার করছেন।

ভেনেজুয়েলার সঙ্গে গায়ানার দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনও বাড়ছে। ভেনেজুয়েলা আগে এসেকুইবো সীমান্তের দিকে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করেছে। এক্সনের ভাড়া করা একটি ভূকম্পন গবেষণা জাহাজ তারা আটক করেছিল। সেইসঙ্গে গায়ানার একটি সামরিক জাহাজ লক্ষ্য করে গুলিও চালিয়েছিল।

এক বছরেরও কম সময় আগে জর্জটাউনের একটি মবিল গ্যাস স্টেশনে বিস্ফোরণের ঘটনায় এক ভেনেজুয়েলান নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই ঘটনায় ৬ বছরের একটি শিশু নিহত হয়। কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে সন্ত্রাসী হামলা বলে উল্লেখ করেছিল। এটি গায়ানাকে অস্থিতিশীল করার কোনো প্রচেষ্টার অংশ হতে পারে কি না, সেই সম্ভাবনাও সামনে আসে।

ভেনেজুয়েলার সরকার ওই হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। জানুয়ারিতে মার্কিন বাহিনী মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর গায়ানার অনেকে ভেবেছিলেন, দুই দেশের বিরোধ কমে আসবে।
কিন্তু ঘটেছে উল্টোটা।

ভেনেজুয়েলার নতুন নেতা দেলসি রদ্রিগেজ এই বিরোধকে তার পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার করেছেন। এমনকি জাতিসংঘের অংশ নেদারল্যান্ডসের আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গিয়ে ভেনেজুয়েলার দাবির পক্ষে বক্তব্যও দিয়েছেন তিনি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রদ্রিগেজের এসব পদক্ষেপ গায়ানার কর্মকর্তাদের বিস্মিত করেছে। কারণ এর আগে যুক্তরাষ্ট্র গায়ানাকে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা করতে চেয়েছিল। দেশটির জাহাজে হামলা চালানোর পর গায়ানাকে সমর্থন করেছিল তারা।

এদিকে সীমান্ত নিয়ে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের রায় ২০২৭ সালের শুরুতে আসতে পারে। এর আগে গায়ানার কিছু মানুষ প্রশ্ন তুলছেন, ট্রাম্প প্রশাসন কি কার্যত দুই পক্ষের সঙ্গেই সম্পর্ক রাখছে এবং এসেকুইবোর জ্বালানি সম্পদের ওপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে?

অর্থনীতিবিদ থমাস সিং বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধু নেই, শুধু স্বার্থ আছে।’

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমেরিকা মহাদেশে নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। তবে ভূখণ্ড নিয়ে বিরোধের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি তিনি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গায়ানার আরেকটি চ্যালেঞ্জ হলো জনসংখ্যার পরিবর্তন। কাজের সন্ধানে কিউবা এবং ভেনেজুয়েলা থেকে হাজারো অভিবাসী দেশটিতে প্রবেশ করছেন। শ্রমিক সংকট কমাতে গায়ানা সরকার মূলত এই প্রবাহকে স্বাগত জানিয়েছে।

তাদের আগমন গায়ানা ও ভেনেজুয়েলার বদলে যাওয়া পরিস্থিতির একটি স্পষ্ট উদাহরণ। এক দেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, অন্যটি বছরের পর বছর স্থবিরতা ও পতন থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে।

সম্প্রতি গায়ানায় আসা ৩৯ বছর বয়সী ভেনেজুয়েলান অভিবাসী মিরেলিস রামোস বলেন, ‘এই জায়গায় কাজের সুযোগ আছে।’

ব্যস্ত বোর্দা মার্কেটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে অনেক সময় নিজেকে স্থানীয় মানুষের মতো মনে হয়। ‘আমার ফিরে যাওয়ার কোনো কারণ দেখি না,’ বলেন তিনি।

প্রবাসী আয় ও রিজার্ভ বৃদ্ধিতে শক্তিশালী বাংলাদেশের বৈদেশিক খাত

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬
প্রবাসী আয় ও রিজার্ভ বৃদ্ধিতে শক্তিশালী বাংলাদেশের বৈদেশিক খাত

প্রবাসী আয় বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে উন্নতি এবং সার্বিক লেনদেন ভারসাম্যে উদ্বৃত্ত—এই তিন সূচকে বাংলাদেশের বৈদেশিক খাতের অবস্থান শক্তিশালী হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের সার্বিক লেনদেন ভারসাম্যের উদ্বৃত্ত আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। চলতি অর্থবছরের শুরুতেও প্রবাসী আয় ও রিজার্ভ বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সার্বিক লেনদেন ভারসাম্যে ৬৬১ কোটি ডলার উদ্বৃত্ত হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ উদ্বৃত্ত ছিল ৩৩৯ কোটি ডলার।

প্রবাসী আয়েও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। গত আগস্টে প্রবাসীরা দেশে প্রায় ২৯৭ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন। আগের বছরের একই মাসে এসেছিল ২৪২ কোটি ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে আগস্টের প্রবাসী আয় বেড়েছে প্রায় ২২ দশমিক ৫ শতাংশ। জুলাইয়ের ২৮৬ কোটি ডলারের তুলনায় আগস্টে আয় বেড়েছে প্রায় ৩ দশমিক ৮ শতাংশ।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট দুই মাসে দেশে প্রায় ৫৮৩ কোটি ডলার প্রবাসী আয় এসেছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৯ শতাংশ বেশি। এর আগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রেকর্ড প্রায় ৩ হাজার ৫৫৯ কোটি ডলার প্রবাসী আয় এসেছিল। আগের অর্থবছরে এ পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৩৩ কোটি ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক খাতের জন্য ইতিবাচক। আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রবাসীদের আস্থারও প্রতিফলন ঘটছে এতে। আনুষ্ঠানিক মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠানো সহজ ও আকর্ষণীয় করতে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

মার্চ থেকে আগস্ট—এই ছয় মাসে দেশে ১ হাজার ৮৯৪ কোটি ডলার প্রবাসী আয় এসেছে। ২০২৫ সালের একই সময়ে এসেছিল ১ হাজার ৬৭৪ কোটি ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে এ সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১৩ দশমিক ১ শতাংশ।

প্রবাসী আয় বাড়ার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টের শেষে দেশের মোট রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৭৩৫ কোটি ডলার। জুলাইয়ের শেষে তা ছিল ৩ হাজার ৬৪২ কোটি ডলার। এক বছর আগে, ২০২৫ সালের আগস্ট শেষে রিজার্ভ ছিল ৩ হাজার ১১৭ কোটি ডলার।

আইএমএফের বিপিএম৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভও বেড়েছে। আগস্ট শেষে এ হিসাবে রিজার্ভ ছিল ৩ হাজার ২৪৪ কোটি ডলার, জুলাই শেষে যা ছিল ৩ হাজার ১৫৮ কোটি ডলার। এক বছর আগে এ পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৬১৭ কোটি ডলার। অর্থাৎ এক বছরে বিপিএম৬ পদ্ধতির হিসাবে রিজার্ভ বেড়েছে প্রায় ৬২৭ কোটি ডলার।

বৈদেশিক মুদ্রার বাজারেও তুলনামূলক স্থিতিশীলতা রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের লেনদেনভিত্তিক রেফারেন্স রেট অনুযায়ী, ২৩ সেপ্টেম্বর প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২৩ টাকা ১৭ পয়সা। আগস্টের শেষে এ হার ছিল প্রায় ১২৩ টাকা ২১ পয়সা।

এদিকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সার্বিক লেনদেন ভারসাম্যে ৬৬১ কোটি ডলার উদ্বৃত্ত হয়েছে। বাণিজ্য ঘাটতি ও চলতি হিসাবে কিছু ঘাটতি থাকলেও আর্থিক হিসাবে প্রায় ৭৯০ কোটি ডলার উদ্বৃত্ত থাকায় সামগ্রিক বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য ইতিবাচক হয়েছে।

বৈদেশিক খাতের উন্নতির পাশাপাশি আমদানি কার্যক্রমেও গতি ফিরেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আমদানি বেড়েছে ১০ দশমিক ৭ শতাংশ, যেখানে আগের অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ছিল ২ দশমিক ৪৪ শতাংশ। বিশেষ করে মধ্যবর্তী পণ্যের আমদানি বেড়েছে ১৫ দশমিক ১৯ শতাংশ।

এনআরবিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. আলী হোসেন প্রধানিয়া বলেন, আমদানি বৃদ্ধির ধরন গুরুত্বপূর্ণ। শিল্পের কাঁচামাল, মূলধনি যন্ত্রপাতি ও উৎপাদনশীল উপকরণের আমদানি বাড়লে তা অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির জন্য সহায়ক হতে পারে। বৈদেশিক খাতের উন্নত অবস্থান আমদানি ব্যয় ও বৈদেশিক দায় পরিশোধে বাড়তি সক্ষমতা দিচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, সার্বিক লেনদেন ভারসাম্যে উদ্বৃত্ত, মুদ্রানীতির বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং বাজারভিত্তিক বিনিময় হার ব্যবস্থার কারণে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা এসেছে।

বাজার আরও শক্তিশালী করতে গত আগস্টে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে হস্তক্ষেপ ও আন্তব্যাংক লেনদেন পরিচালনার জন্য ফরেন এক্সচেঞ্জ মার্কেট বা এফএক্সএম মডিউলের সরাসরি কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট ও বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের ক্ষেত্রে আরও কিছু সুবিধা চালু করা হয়েছে।

আলী হোসেন প্রধানিয়ার মতে, প্রবাসী আয় ও রিজার্ভ বৃদ্ধির ফলে বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য বাড়ছে এবং আমদানি ব্যয় মেটাতে ব্যাংকগুলোর ডলার সংগ্রহের চাপ কমছে। এই ধারা বজায় রাখতে স্থিতিশীল বিনিময় হার, আনুষ্ঠানিক মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠানোর সেবা উন্নয়ন এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

সংবিধানে ফিরছে ‘মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬
সংবিধানে ফিরছে ‘মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’

সংবিধানের প্রস্তাবনা ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে ‘মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির আহ্বায়ক সালাউদ্দিন আহমদ। তিনি জানিয়েছেন, সংবিধানের প্রস্তাবনাসহ কয়েকটি অনুচ্ছেদে পরিবর্তন আনার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদের গণমাধ্যম সেন্টারে সংবিধান সংশোধন কমিটির তৃতীয় সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে কমিটি জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করে।

সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’কে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী জনগণের কাছ থেকে ম্যান্ডেট পাওয়া বিষয়গুলোও বিবেচনায় নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে সংবিধানের প্রস্তাবনা ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে ৮ অনুচ্ছেদে যুক্ত হওয়া ‘মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ পুনর্বহাল করা হবে। এটি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি।

সাংবাদিকদের মতামত নেবে কমিটি

সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক, বিভিন্ন সাংবাদিক ফোরামের প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তারা সংবিধানের প্রস্তাবনা থেকে শুরু করে বিভিন্ন তফসিল এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ নিয়ে বিস্তারিত মতামত ও প্রস্তাব দিয়েছেন। অনেকে লিখিত প্রস্তাবও দেবেন।

এসব প্রস্তাব ও আলোচনার বিষয়বস্তু প্রতিবেদন ও পুস্তিকা আকারে সংকলন করা হবে বলে জানান তিনি।

বিরোধী দলকে অংশ নেওয়ার আহ্বান

সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, সাংবাদিকদের অনেকে বিরোধী দলের সদস্যদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছেন। কমিটিও এ বিষয়ে একমত।

তিনি বলেন, বিরোধী দলগুলোকে বারবার আহ্বান জানানো হয়েছে, এখনো জানানো হচ্ছে। তারা কমিটিতে যোগ দিলে স্বাগত জানানো হবে। বিভক্তি এড়িয়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনের কাজ এগিয়ে নিতে চায় কমিটি।

যেসব অনুচ্ছেদে পরিবর্তনের সম্ভাবনা

গণভোট প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ৫ আগস্টের ছাত্র-গণ-অভ্যুত্থানের পর সুপ্রিম কোর্টের রায়ে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল হওয়ায় ১৪২ অনুচ্ছেদ পুনরুজ্জীবিত হয়েছে।

তিনি জানান, সংবিধানের প্রস্তাবনা এবং ৮, ৪৮, ৫৬ ও ১৪২ অনুচ্ছেদে পরিবর্তন আনার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে সংশোধনী আনা হলে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের আগে জনগণের গণভোটের প্রয়োজন হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সংসদে বিল পাসের পর এ গণভোট অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানান তিনি।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে প্রস্তাব

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সুরক্ষায় গণভোটের প্রস্তাব প্রসঙ্গে সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে কোনো সংসদ যেন সহজে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করতে না পারে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদগুলোতে এমন বিধান যুক্ত করা যেতে পারে, যাতে এ বিষয়ে পরিবর্তন আনতেও গণভোটের প্রয়োজন হয়।

ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার লক্ষ্য

সংবিধান সংশোধনের সময়সীমা সম্পর্কে কমিটির আহ্বায়ক জানান, ডিসেম্বরের মধ্যেই সংশোধন কমিটির প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপনের জোর প্রচেষ্টা চলছে। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইন মন্ত্রণালয় থেকে একটি সংশোধনী বিল প্রণয়ন করা হবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী বছরের জানুয়ারিতে সংসদের বছরের প্রথম অধিবেশনে বিলটি উত্থাপন করা হতে পারে। এরপর বিলের ওপর আলোচনা ও সংশোধনী প্রক্রিয়া শেষে তা পাস হলে গণভোটের মাধ্যমে সংশোধন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হবে।

সবশেষে গণমাধ্যম ও সম্পাদকদের মাধ্যমে বিরোধী দলগুলোকে সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার আনুষ্ঠানিক আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এআই দিয়ে নারী সেনাসদস্য সেজে ইতালি প্রবাসীর সঙ্গে প্রেম, যুবক গ্রেফতার

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬
এআই দিয়ে নারী সেনাসদস্য সেজে ইতালি প্রবাসীর সঙ্গে প্রেম, যুবক গ্রেফতার
ভুয়া নারী সেনা পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ছবি : সংগৃহীত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নারী সদস্যের পোশাক পরা ছবি ও ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহার করে এক ইতালি প্রবাসীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। পরে বিভিন্ন কৌশলে ওই প্রবাসীর কাছ থেকে প্রায় ৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় তোফায়েল আলম টিটু (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

পিবিআই জানায়, ‘লেডি সোলজার/নারী যোদ্ধা’ নামে একটি ফেসবুক পেজের মাধ্যমে নারী সেজে এক ইতালি প্রবাসীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন টিটু। পরে বিভিন্ন কৌশলে তার কাছ থেকে প্রায় ৭ লাখ টাকা নেওয়া হয়।

এ ঘটনায় গত ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকার দারুস সালাম এলাকা থেকে তোফায়েল আলম টিটুকে গ্রেফতার করে পিবিআই ঢাকা জেলা। এ সময় তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্টের সিমসহ তিনটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) পিবিআই ঢাকা জেলা কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার এম. এন. মোর্শেদ।

এম. এন. মোর্শেদ বলেন, কেরানীগঞ্জ মডেল থানার বারিশুর বাঘবাড়ি এলাকার শাহনাজ বেগমের (৪৬) ইতালি প্রবাসী ছেলে শাহাদাত খান (২২)। ফেসবুকে ‘লেডি সোলজার/নারী যোদ্ধা’ নামে একটি পেজের মাধ্যমে তার সঙ্গে ওই ব্যক্তির পরিচয় হয়। পেজটিতে সেনাবাহিনীর নারী সদস্যের পোশাক পরা ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করা হতো।

পরে নারী সেজে নারীসুলভ কণ্ঠে শাহাদাতের সঙ্গে ফোন ও ইমোতে কথা বলে তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলা হয় বলে অভিযোগ করেন পিবিআইয়ের এই কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, পরে বিভিন্ন কৌশলে শাহাদাত ও তার মায়ের কাছ থেকে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে প্রায় ৭ লাখ টাকা নেওয়া হয়। আসামি নিজের মায়ের অসুস্থতার কথা বলেও বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন বলে তদন্তে জানা গেছে।

এ ঘটনায় প্রথমে আদালতে সিআর মামলা করেন ভুক্তভোগীর মা। মামলাটি তদন্তের সময় পিবিআই প্রতারণার বিভিন্ন তথ্য পায়। পরে বিকাশ ও নগদের লেনদেনের তথ্য সংগ্রহ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এর ভিত্তিতে ১০ সেপ্টেম্বর কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করা হয়। ১৩ সেপ্টেম্বর মামলাটি স্বউদ্যোগে তদন্তের জন্য নেয় পিবিআই ঢাকা জেলা।

পিবিআই জানায়, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. মনজুর রহমান তথ্য ও বিভিন্ন নথি বিশ্লেষণ করে তোফায়েল আলম টিটুর সম্পৃক্ততার তথ্য পান। পরে ২০ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টা ৩৫ মিনিটের দিকে দারুস সালাম এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারের পর ২১ সেপ্টেম্বর তোফায়েল আলম টিটুকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে ২৩ সেপ্টেম্বর তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।

তদন্তের তথ্য জানিয়ে পিবিআই কর্মকর্তা বলেন, তোফায়েল নারীর মতো কণ্ঠে কথা বলতে পারেন। ফেসবুক মেসেঞ্জারে শাহাদাতের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে ইমোতে নারী কণ্ঠে কথা বলার মাধ্যমে সম্পর্ক বজায় রাখতেন তিনি। শাহাদাতের মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেও বিভিন্ন সময়ে টাকা নেওয়া হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

পিবিআইয়ের পিসিপিআর যাচাইয়ে তোফায়েলের বিরুদ্ধে কিশোরগঞ্জ আদালতে একটি সিআর মামলা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। ওই মামলার তদন্ত শেষে আদালত তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেছেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

পিবিআই বলছে, প্রতারণার ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না এবং আত্মসাৎ করা অর্থের বিষয়ে আরও কোনো তথ্য পাওয়া যায় কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক

প্রকাশ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬
কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্ক সফররত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স শেখ সাবাহ খালেদ আল-হামাদ আল-সাবাহ’র সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন।

শুক্রবার স্থানীয় সময় সকালে নিউইয়র্কে কুয়েতের স্থায়ী মিশনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ ও কুয়েতের মধ্যকার ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করার উপায় নিয়ে আলোচনা করেছেন দুই নেতা।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ ও কুয়েতের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন। তিনি দুই দেশের সম্পর্কের বিকাশ ও পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ঐতিহাসিক অবদানের কথা স্মরণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের সময় থেকে বাংলাদেশ ও কুয়েতের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সৌহার্দ্য ও সহযোগিতার যে ভিত্তি গড়ে উঠেছে, তা সময়ের সঙ্গে আরও বিস্তৃত হয়েছে।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক কল্যাণে এই ঐতিহাসিক সম্পর্ককে আরও গভীর ও বহুমাত্রিক করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে শ্রমশক্তি রপ্তানি বৃদ্ধি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন দুই নেতা।

এ সময় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে নিয়মিত যোগাযোগ, সহযোগিতা ও সমন্বয় অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ ও কুয়েতের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে দুই দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ বৃদ্ধির পাশাপাশি অর্থনীতি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জনশক্তি ও অন্যান্য সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বৈঠকে উভয় নেতা বাংলাদেশ ও কুয়েতের জনগণের পারস্পরিক কল্যাণে বিদ্যমান সহযোগিতাকে আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী ও গুতেরেসের বৈঠক, রোহিঙ্গা সংকট ও জলবায়ু ইস্যু নিয়ে আলোচনা!

প্রকাশ: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬
জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী ও গুতেরেসের বৈঠক, রোহিঙ্গা সংকট ও জলবায়ু ইস্যু নিয়ে আলোচনা!

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সাথে এক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সেক্রেটারিয়েট বিল্ডিংয়ের ২৭তম তলায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাতিসংঘের মধ্যকার সহযোগিতা, বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান এবং জাতিসংঘের শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে বাংলাদেশের অব্যাহত অবদানসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় হয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের অগ্রাধিকার ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে জাতিসংঘের সহযোগিতা ও সমর্থনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। একইসাথে তিনি বহুপাক্ষিকতা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং শান্তি ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

জাতিসংঘ মহাসচিব বাংলাদেশের সাথে জাতিসংঘের দীর্ঘদিনের সহযোগিতার সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেয়ার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। বৈঠকে উভয় পক্ষ পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখা এবং অভিন্ন বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।