২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পাল্টাপাল্টি হুমকি, জাতিসংঘে আসলে কী হয়েছিলো?

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পাল্টাপাল্টি হুমকি, জাতিসংঘে আসলে কী হয়েছিলো?

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক যোগাযোগ শুরু হলেও তা স্বস্তির বদলে তৈরি করেছে নতুন অনিশ্চয়তা। একদিকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে, অন্যদিকে ওয়াশিংটন ও তেহরান একে অপরকে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।ফলে যুদ্ধ অবসানের সম্ভাব্য কূটনৈতিক পথটি একই সঙ্গে সামরিক উত্তেজনার চাপের মধ্যেও এগোচ্ছে।

২৩ সেপ্টেম্বর ইরান সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালালে তার জবাব আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী হবে। একই সময়ে ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুদ্ধ বন্ধ, অবরোধ প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়ে তেহরানের কয়েকটি শর্ত রয়েছে।

এর আগের দিন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেছিলেন, শান্তি চুক্তি না হলে তিনি ইসলামিক রিপাবলিককে ‘অ্যানিহিলেট’ বা ধ্বংস করে দিতে পারেন। একই ভাষণে তিনি অবশ্য একটি চুক্তির সম্ভাবনাও উন্মুক্ত রেখেছিলেন।

নতুন কূটনৈতিক তৎপরতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও নৌপথটি যুদ্ধের কারণে ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হওয়ায় এর নিরাপদ ও স্বাভাবিক চলাচল পুনঃস্থাপন আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ইরানের বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রকে প্রথমে তেহরানের নির্ধারিত শর্ত মেনে নিতে হবে। এরপরই হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার বিষয়ে অগ্রসর হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই বলেছেন, আগের ধরনের কূটনৈতিক কাঠামোয় ইরান আর ফিরবে না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সাতটি শর্ত পূরণ করতে হবে এবং এরপরই হরমুজ খোলা ও আলোচনা নিয়ে অগ্রগতি সম্ভব।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাইয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ, মার্কিন সামরিক অভিযান থামানো, নৌ অবরোধ ও অর্থনৈতিক যুদ্ধের অবসান এবং ইরানের জব্দ করা সম্পদ মুক্ত করা।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির মধ্যে যোগাযোগ নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

মার্কিন পক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টা আলোচনা করেন। উইটকফ পরে জানান, মধ্যস্থতাকারীরা দুই পক্ষের মধ্যে যাতায়াত করে দীর্ঘ আলোচনা চালিয়েছেন এবং আলোচনার একটি পর্ব শেষ হয়েছে।

তবে ইরানের বক্তব্যে বিষয়টিকে সরাসরি দ্বিপক্ষীয় আলোচনা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি। তেহরান বলেছে, কাতারের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান হয়েছে এবং মূল উদ্দেশ্য ছিল ইরানের শর্তগুলো ওয়াশিংটনের কাছে পৌঁছে দেওয়া।

এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আলোচনার অস্তিত্ব নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে অস্বীকার নেই, কিন্তু সেটি সরাসরি বৈঠক নাকি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যোগাযোগ—তা নিয়ে বয়ানে পার্থক্য রয়েছে।

নিউইয়র্কের যোগাযোগ ইরানের অভ্যন্তরেও রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে, মার্কিন পক্ষের অনুরোধে আরাগচি উইটকফের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার বিষয়ে ইরানের শর্ত তুলে ধরেন।

কিন্তু ইরানের কট্টরপন্থী ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস-ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম এই ব্যাখ্যার সমালোচনা করেছে। তাসনিম নিউজ আরাগচির ব্যাখ্যাকে কঠোর ভাষায় আক্রমণ করে প্রশ্ন তুলেছে—মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যদি ইরানের শর্ত আগেই জানানো হয়ে থাকে, তাহলে সরাসরি বৈঠকের প্রয়োজন কেন হলো?

ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিটির মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজাইও আরাগচির কাছে জানতে চেয়েছেন, তিনি কী ধরনের অনুমোদন নিয়ে এ যোগাযোগ করেছেন।

অন্যদিকে পার্লামেন্ট সদস্য মোজতবা জারেই আরাগচির পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেছেন, তাঁর পর্যালোচনা অনুযায়ী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এ যোগাযোগের অনুমোদন ছিল। তিনি একই সঙ্গে দাবি করেছেন, কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি; বরং ইরানের সাতটি শর্ত মার্কিন প্রতিনিধির কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

অর্থাৎ, কূটনৈতিক উদ্যোগটি শুধু ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার মতপার্থক্যের মধ্যেই আটকে নেই; ইরানের অভ্যন্তরেও আলোচনার ধরন ও সীমা নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের জাতিসংঘের ভাষণেও এই দ্বৈত অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে।

পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, ট্রাম্পের বক্তব্য শোনার পর তিনি নিজের প্রস্তুত করা ভাষণ পরিবর্তন করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তোলেন এবং যুদ্ধে ইরানের প্রতিরোধের কথা তুলে ধরেন।

তবে একই সঙ্গে তিনি শান্তির জন্য আলোচনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ করেননি। তাঁর বক্তব্যে একটি বিষয় স্পষ্ট—ইরান আলোচনায় যেতে পারে, কিন্তু চাপ বা জবরদস্তির ভাষার ভিত্তিতে নয়।

এটি ইরানের বর্তমান কূটনৈতিক অবস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। তেহরান একদিকে সামরিক প্রতিরোধের সক্ষমতা প্রদর্শন করছে, অন্যদিকে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে আলোচনার সম্ভাবনাও ধরে রাখছে। ওয়াশিংটনের অবস্থানও পুরোপুরি একমাত্রিক নয়।

জাতিসংঘে ট্রাম্প ইরানকে কঠোর ভাষায় সতর্ক করলেও একই সময়ে তিনি একটি চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন। নিউইয়র্কে আরব দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পরও তিনি ইরানের সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনার কথা বলেছেন।

তবে ২৩ সেপ্টেম্বর তিনি ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক হুমকিও দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইরান কোলাং ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় কার্যক্রম চালালে যুক্তরাষ্ট্র তাৎক্ষণিকভাবে হামলা চালাতে পারে।

অন্যদিকে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ ও খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার জানায়, নতুন হামলা হলে ইরান আরও শক্তিশালী ও অনির্দেশ্য পাল্টা আঘাতের জন্য প্রস্তুত।

ফলে দুই পক্ষের বক্তব্যে একই সঙ্গে দুটি ধারা দেখা যাচ্ছে—আলোচনার দরজা খোলা রাখা এবং সামরিক বিকল্পের বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখা।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—দুই পক্ষের শর্তগুলো কি এমন কোনো জায়গায় এসে মিলতে পারে, যেখানে যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার একটি স্থায়ী কাঠামো তৈরি হবে?

ইরান চাইছে যুদ্ধ বন্ধ, সামরিক চাপ ও নৌ অবরোধের অবসান এবং জব্দ সম্পদ মুক্ত করার মতো বিষয়গুলোকে আলোচনার ভিত্তি করতে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক ও কৌশলগত সক্ষমতা নিয়ে নিরাপত্তাগত নিশ্চয়তা চায়।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে হরমুজ প্রণালির প্রশ্ন। তেহরান এটিকে আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দর-কষাকষির উপাদান হিসেবে ব্যবহার করছে। ওয়াশিংটনের জন্য আবার হরমুজের অবাধ চলাচল শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয় নয়; এটি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যের সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।

আরেকটি সমস্যা হলো—কে ইরানের হয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। নিউইয়র্কে আরাগচির যোগাযোগ নিয়ে তেহরানের ভেতরে যে বিতর্ক দেখা দিয়েছে, তা দেখাচ্ছে যে আলোচনার কূটনৈতিক অংশের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অনুমোদনও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বর্তমান পরিস্থিতিকে সরলভাবে ‘শান্তির আলোচনা’ কিংবা ‘নতুন যুদ্ধের প্রস্তুতি’—কোনো একটিতে সীমাবদ্ধ করা কঠিন। বরং ওয়াশিংটন ও তেহরান একই সময়ে দুটি পথ অনুসরণ করছে।

একদিকে নিউইয়র্কে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যোগাযোগ হচ্ছে, ইরানের শর্ত নিয়ে আলোচনা হচ্ছে এবং মার্কিন প্রশাসনও সম্ভাব্য সমঝোতার কথা বলছে। অন্যদিকে দুই দেশের নেতারা প্রকাশ্যে সামরিক হুমকি দিচ্ছেন এবং নতুন হামলার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না।

এ অবস্থায় কূটনীতির সাফল্য নির্ভর করবে শুধু আলোচনার টেবিলে কী বলা হচ্ছে তার ওপর নয়; বরং দুই পক্ষ কতটা সামরিক উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, নিজেদের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ সামলাতে পারে এবং হরমুজসহ যুদ্ধ-সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে বাস্তবসম্মত সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে—তার ওপর।

অর্থাৎ, নিউইয়র্কে আলোচনার দরজা খুলেছে ঠিকই, কিন্তু সেই দরজা দিয়ে শান্তির পথে হাঁটার আগে ওয়াশিংটন ও তেহরানকে এখনো অনেক কঠিন রাজনৈতিক ও সামরিক বাধা অতিক্রম করতে হবে।

সৌদিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য জরুরি সতর্কতা জারি

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬
সৌদিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য জরুরি সতর্কতা জারি

সৌদি আরবে থাকা বাংলাদেশিদের সেখানকার আইনকানুন মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে প্রবাসীদের জন্য কিছু জরুরি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের আইন বা শৃঙ্খলার বিরুদ্ধে যায়—এমন কোনো পোস্ট বা ভিডিও ফেসবুকে, ইউটিউবে বা এক্সে দেওয়া যাবে না। এমনকি এমন কোনো পোস্টে লাইক, কমেন্ট বা শেয়ার করা থেকেও দূরে থাকতে হবে। কোনো কাগজ ভালোভাবে না পড়ে তাতে সই বা আঙুলের ছাপ দিতে নিষেধ করা হয়েছে। বিশেষ করে সাদা কাগজে সই দেওয়া যাবে না।

নিজের ইকামা দিয়ে অন্য কারও নামে সিম, গাড়ি বা অন্য কোনো জিনিস কেনা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। এছাড়া এক জায়গার বা এক মালিকের ইকামা দিয়ে অন্য জায়গায় কাজ করা, রাস্তায় পড়ে থাকা জিনিস কুড়িয়ে বিক্রি করা, অনুমতি ছাড়া ব্যবসা করা বা অবৈধভাবে পানি বিক্রি করার মতো কাজগুলো শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

পরিচিত বা অপরিচিত কারও সঙ্গে অবৈধ লেনদেন করা এবং চাকরির ভুয়া লোভ থেকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। কনস্যুলেট জানিয়েছে, আইন মেনে চললে প্রবাসীদের জীবন যেমন নিরাপদ হবে, তেমনি বিদেশের মাটিতে দেশের নামও উজ্জ্বল থাকবে।

মুন্সিগঞ্জে পুকুরে ডুবে কুয়েত প্রবাসীর যমজ সন্তানের মৃত্যু

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬
মুন্সিগঞ্জে পুকুরে ডুবে কুয়েত প্রবাসীর যমজ সন্তানের মৃত্যু

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার চসিমুদ্দিন গ্রামে পুকুরে ডুবে তানিশা ও রায়হান নামের আট বছর বয়সী যমজ ভাই-বোনের মৃত্যু হয়েছে।

রোববার দুপুরে নানাবাড়িতে বেড়াতে এসে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে অচেতন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে বেলা সাড়ে ৩টার দিকে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত তানিশা ও রায়হান ঢাকার ডেমরার ঠুনঠুরলিয়া চেয়ারম্যানবাড়ি এলাকার কুয়েত প্রবাসী মো. শরীফের ছেলেমেয়ে।

নিহত শিশুদের খালা কামরুন নাহার জানান, মায়ের সঙ্গে চসিমুদ্দিন গ্রামে নানাবাড়িতে আসে যমজ ভাই-বোন।

বেলা দেড়টার দিকে বাড়ির পাশের পুকুরপাড়ে খেলতে যায় তারা। খেলার একপর্যায়ে একজন পুকুরে পড়ে গেলে অন্যজন তাকে বাঁচাতে এগিয়ে যায়।

এ সময় দুজনই পানিতে ডুবে যায়। স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলেও বাঁচানো যায়নি শিশু দুটিকে।

নিহত দুই শিশুর নানা কাশেম মিয়া জানান, পরিবারের সদস্যদের অগোচরে পুকুরপাড়ে খেলতে গিয়ে একজন পানিতে পড়ে যায়। তাকে বাঁচাতে গিয়ে অপরজনও পানিতে পড়ে যায়।

পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। অচেতন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।

সিরাজদীখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলাউদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘নানা বাড়িতে বেড়াতে এসে যমজ ভাই-বোনের পানিতে পড়ে মারা যাওয়ার ঘটনাটি শুনেছি। মরদেহ দুটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে।’

দুই শিশুকে রেখে টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে উধাও প্রবাসীর স্ত্রী

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬
দুই শিশুকে রেখে টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে উধাও প্রবাসীর স্ত্রী

রাজবাড়ীর পাংশায় ২ সন্তানকে রেখে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছেন রিক্তা পারভীন (৩৫) নামের এক গৃহবধূ। গত ২১ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) ভোর রাতে তিনি কাউকে কিছু না বলে হঠাৎ বাড়ি থেকে নিরুদ্দেশ হন। নিখোঁজের সময় তাঁর সাথে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার ছিল বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় রিক্তার শ্বশুর বাদি হয়ে পাংশা মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের চরঝিকরি মধ্যপাড়া গ্রামের ইরাক প্রবাসী মোঃ রজব আলী প্রামানিকের (৪৫) স্ত্রী রিক্তা পারভীন। গত ২১ সেপ্টেম্বর ভোর রাতে তিনি পরিবারকে না জানিয়ে গৃহত্যাগ করেন। এরপর থেকে তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি বন্ধ রয়েছে। স্বজনেরা সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনো সন্ধান পাননি।

নিখোঁজ রিক্তা পারভীনের সন্তান মেয়ে আয়শা খাতুন (১৫) এবং ছোট মেয়ে আনিশা আক্তার (৬)। হঠাৎ মাকে হারিয়ে সন্তানেরা অঝোরে কাঁদছে। অন্য দিকে প্রবাসে থাকা স্বামী রজব আলী প্রামানিকও স্ত্রীর এই নিরুদ্দেশ হওয়ার খবরে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

মুন্সিগঞ্জে পুকুরে ডুবে কুয়েত প্রবাসীর যমজ সন্তানের মৃত্যু

রজব আলী প্রামানিক প্রবাস থেকে জানান, স্ত্রী রিক্তার সঙ্গে ফোনে কিছু কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে রিক্তা বাবার বাড়ি চলে যায়। পরে সেখানে রিক্তাকে আনতে তার ছেলে ও ছেলের বউ যায়। রিক্তা ছেলেকে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়ে বলে তুমি চলে যাও আমি তোমার বউ এবং আমার ছোট মেয়ে কে নিয়ে বাড়ি চলে আসবো।

কিন্তু রাত হয়ে যাওয়ায় তাদেরকে নিয়ে বাড়িতে না গিয়ে রাতে এক আত্মীয়র ঘুমিয়ে থাকেন। পরে ভোরবেলা রজবের ছেলের বউ ঘুম থেকে উঠে দেখেন তার শাশুড়ি রিক্তা বিছানায় নেই অনেক খোঁজাখুঁজি করেও আর তাকে পাওয়া যায়নি।

তিনি আরো জানান, বিদেশে অর্জিত সমস্ত টাকা স্ত্রীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠাতেন, যার কোনো সঠিক হিসাব তাঁর কাছে নেই। বাড়ি থেকে যাওয়ার সময় রিক্তা নগদ টাকা ও বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার সাথে নিয়ে গেছেন।

এ বিষয়ে পাংশা মডেল থানার এসআই মিনহাজ জানান, তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ফ্যানের সাথে ঝুলছিল প্রবাসীর স্ত্রীর অর্ধগলিত মরদেহ, উদ্ধার করল পুলিশ

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬
ফ্যানের সাথে ঝুলছিল প্রবাসীর স্ত্রীর অর্ধগলিত মরদেহ, উদ্ধার করল পুলিশ

পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার একদন্ত ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামে নিজ ঘর থেকে চাম্পা খাতুন (২২) নামে এক গৃহবধূর অর্ধগলিত ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চার থেকে পাঁচ দিন আগে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।

৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আমির উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মৃত চাম্পা খাতুন শিবপুর গ্রামের আসলাম হোসেনের স্ত্রী। তার স্বামী মালয়েশিয়া প্রবাসী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার দুপুরে পাশের বাড়ির লোকজন ওই বাড়ির আশপাশে দুর্গন্ধ পান। পরে বিষয়টি এলাকাবাসীকে জানালে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে নিজ ঘরের বৈদ্যুতিক পাখার সঙ্গে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় চাম্পা খাতুনের লাশ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।

মুন্সিগঞ্জে পুকুরে ডুবে কুয়েত প্রবাসীর যমজ সন্তানের মৃত্যু

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, চাম্পা খাতুন মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। স্থানীয়দের ধারণা, চার থেকে পাঁচ দিন আগে তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আমির উদ্দিন বলেন, সকালে পাশের বাড়ির লোকজন দুর্গন্ধ পেয়ে বিষয়টি জানতে পারেন। পরে স্থানীয়রা সেখানে গিয়ে চাম্পা খাতুনের লাশ দেখতে পান।

আটঘরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

বিষাক্ত কেমিক্যাল গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশী প্রবাসীর মর্মান্তিক মৃত্যু

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
বিষাক্ত কেমিক্যাল গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশী প্রবাসীর মর্মান্তিক মৃত্যু

সৌদি আরবের রিয়াদে এক সহকর্মীকে বাঁচাতে গিয়ে বিষাক্ত কেমিক্যাল গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে মো. আব্দুল্লাহ (৩০) নামের এক বাংলাদেশী প্রবাসীর। সহকর্মীর জীবনের তাগিদে নিজের জীবন বিলিয়ে দেওয়া এই আত্মত্যাগী যুবক গাজীপুরের কালীগঞ্জ পৌরসভার দুর্বাটি গ্রামের সাবেক সেনাসদস্য মো. ইসমাঈল হোসেনের তৃতীয় ছেলে।

​বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সৌদি সময় দুপুর ৩টার দিকে রিয়াদের ‘আব্দুল লতিফ কোম্পানি’র একটি কর্মস্থলে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ ৭ বছর ধরে ওই কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন আব্দুল্লাহ। গত মাসেই ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে যোগ দেন তিনি। ঘটনার দিন কাজ করার সময় হঠাৎ বিষাক্ত কেমিক্যাল গ্যাস বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। এক সহকর্মীকে বিপদাপন্ন দেখে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে উদ্ধার করতে এগিয়ে যান পরোপকারী আব্দুল্লাহ। কিন্তু গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে তিনিসহ মোট চারজন ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন।

​নিহতের ভাই মো. আাসাদ উল্লাহ কান্নাভেজা কণ্ঠে জানান, সহকর্মীকে বাঁচাতে গিয়েই তাঁর ভাই নিজের জীবন বিসর্জন দিয়েছেন। আব্দুল্লাহর এই আকস্মিক বিদায়ে পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। বাড়িতে তাঁর বৃদ্ধ বাবা-মায়ের আহাজারির পাশাপাশি ঘরে রেখে যাওয়া গর্ভবতী স্ত্রী ও আড়াই বছরের কন্যাসন্তান আসপিয়া নুরের বুকফাটা কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।

​সহকর্মীর জীবন বাঁচাতে নিজের প্রাণ উৎসর্গ করার এই ঘটনায় রিয়াদের প্রবাসী বাংলাদেশীদের মাঝে গভীর শোক ও শ্রদ্ধার ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের শেষ স্মৃতিটুকু বুকে ধরে রাখতে ও শেষবারের মতো মুখটি দেখতে মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের জরুরী হস্তক্ষেপ চেয়েছে শোকার্ত পরিবার।