২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গাজায় ধ্বংসস্তূপের পাহাড়, নিচে চাপা পড়ে আছে ৮ থেকে ১০ হাজার মরদেহ

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬
গাজায় ধ্বংসস্তূপের পাহাড়, নিচে চাপা পড়ে আছে ৮ থেকে ১০ হাজার মরদেহ

গাজা উপত্যকাজুড়ে জমে থাকা ধ্বংসস্তূপের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ কোটি ১০ লাখ টনে। জাতিসংঘের হিসাবে, এসব ধ্বংসাবশেষ সরাতে অন্তত সাত থেকে ১০ বছর সময় লাগতে পারে এবং ব্যয় হতে পারে শত শত কোটি ডলার। একই সঙ্গে ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো ৮ থেকে ১০ হাজার মানুষের মরদেহ চাপা পড়ে থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

গাজা সিটির তেল আল-হাওয়া এলাকার বৈরুত স্ট্রিট এরই একটি উদাহরণ। একসময় দোকানপাট, অফিস ও মানুষের ব্যস্ততায় সরগরম থাকা সড়কটি এখন প্রায় জনশূন্য। রাস্তার পাশে ক্ষতিগ্রস্ত একটি বহুতল ভবন কাত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ভবনটির ভেতরেই ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন কয়েকটি বাস্তুচ্যুত পরিবার। ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে কোথাও কোথাও রাস্তার ওপর দিয়ে নোংরা পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

তীব্র গরমের মধ্যে সারাদিন কাজ করে বৈরুত স্ট্রিটের একটি অংশ পরিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছেন বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির প্রকৌশলী আহমেদ আলিয়ান। দিনের কাজ শেষে চারপাশের ধ্বংসস্তূপের দিকে তাকিয়ে তিনি বলেন, ‘মনে হচ্ছে আমরা হাতে একটা চামচ নিয়ে পুরো সমুদ্র সেঁচে ফেলার চেষ্টা করছি।’

জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির ফিলিস্তিন বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি জ্যাকো সিলিয়ার্স জানিয়েছেন, গাজায় জমে থাকা ধ্বংসস্তূপের পরিমাণ প্রায় ৬ কোটি ১০ লাখ টন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৮ বছরে বিশ্বের বিভিন্ন যুদ্ধে যে পরিমাণ ধ্বংসস্তূপ তৈরি হয়েছে, গাজার পরিমাণ তার প্রায় ২০ গুণ। এই বিপুল ধ্বংসাবশেষ অপসারণ আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম বড় ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার অভিযান হয়ে উঠেছে।

গত দুই বছরের বেশি সময়ে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো গাজার প্রায় ৫৮০ কিলোমিটার সড়ক পরিষ্কার করেছে। এর ফলে ত্রাণবাহী ট্রাক, উদ্ধারকারী দল ও স্থানীয় মানুষের চলাচলের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৯ লাখ ৭ হাজার টন ধ্বংসস্তূপ সরানো হয়েছে এবং ৩ লাখ টনের বেশি পুনর্ব্যবহার বা পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করা হয়েছে। কিন্তু এই পরিমাণ গাজার মোট ধ্বংসস্তূপের মাত্র প্রায় দেড় শতাংশ।

ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজকে আরও কঠিন করে তুলেছে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের সংকট। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খাদ্য ও ওষুধের বাইরে অনেক সরঞ্জামকে ‘দ্বৈত ব্যবহারের’ সামগ্রী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ফলে ভারী যন্ত্রপাতি ও নির্মাণসামগ্রী গাজায় প্রবেশে বিধিনিষেধ রয়েছে। পাশাপাশি যুদ্ধবিরতির মধ্যেও হামলা ও নতুন করে ধ্বংসের ঘটনা ঘটায় কিছু সড়ক একাধিকবার পরিষ্কার করতে হয়েছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির সময় নির্ধারিত ‘ইয়েলো লাইন’ ঘিরে প্রবেশাধিকারও সীমিত রয়েছে। গাজার মাত্র প্রায় ৩০ শতাংশ এলাকায় মানুষ ও ত্রাণকর্মীদের প্রবেশ সম্ভব হচ্ছে বলে দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ আরও জটিল হয়ে পড়েছে।

নতুন যন্ত্রপাতি ও নির্মাণসামগ্রী না পাওয়ায় ধ্বংসস্তূপ পুনর্ব্যবহারের দিকে ঝুঁকেছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি। গাজাজুড়ে পাঁচটি ধ্বংসস্তূপ ভাঙার কেন্দ্র পরিচালনা করছে সংস্থাটি। সেখানে যুদ্ধের আগেই গাজায় থাকা সাতটি পুরোনো যন্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। এর মধ্যে দুটি স্থানীয় প্রকৌশলীরা মেরামত করে আবার সচল করেছেন। প্রথমে ধ্বংসস্তূপ থেকে লোহা ও রড আলাদা করা হয়। পরে কংক্রিট ভেঙে ছোট টুকরোয় পরিণত করা হয়।

তবে পুরোনো যন্ত্রপাতি সচল রাখাও বড় চ্যালেঞ্জ। খুচরা যন্ত্রাংশ, ইঞ্জিনের তেলসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রীর সংকটে মেশিনগুলো প্রায়ই বিকল হয়ে পড়ে। ফলে সীমিত সক্ষমতা নিয়েই চলছে ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কারের কাজ।

বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির প্রকৌশলী নেহাল আবু হাসান জানান, প্রাকৃতিক নির্মাণসামগ্রীর তুলনায় পুনর্ব্যবহৃত ভাঙা কংক্রিটের মান কম এবং এগুলো দিয়ে কাজ করাও কঠিন। তবে পরিস্থিতির কারণে তাদের সামনে অন্য কোনো বিকল্প নেই। এসব কংক্রিটের টুকরো দিয়ে রাস্তা মেরামত ও গর্ত ভরাট করা হচ্ছে। পাশাপাশি তাঁবু ও অস্থায়ী আশ্রয়ের নিচে এগুলো বিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যাতে বৃষ্টির পানি ও পয়ঃনিষ্কাশনের বর্জ্য থেকে কিছুটা সুরক্ষা পাওয়া যায়।

ধ্বংসস্তূপ সরানোর সুফলও কিছুটা পাচ্ছেন স্থানীয়রা। জাবালিয়া থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে তেল আল-হাওয়ায় আশ্রয় নেওয়া ইব্রাহিম দারাদোনা জানান, ধ্বংসাবশেষ সরানোর পর পোকামাকড় ও ইঁদুরের উপদ্রব কমেছে, গাড়ি চলাচল সহজ হয়েছে এবং শিশুদের খেলার জায়গাও কিছুটা নিরাপদ হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত দোকানের সামনের ধ্বংসস্তূপ সরানোর পর প্রায় ২০ দিনের মধ্যেই কিছু ছোট ব্যবসায়ী আবার দোকান খুলতে শুরু করেছেন।

তবে গাজার মানুষের কাছে এসব ধ্বংসস্তূপ শুধু ইট-পাথর বা কংক্রিটের স্তূপ নয়। এর নিচে চাপা পড়ে আছে তাদের ঘরবাড়ি, স্মৃতি এবং প্রিয়জনের মরদেহ। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির হিসাবে, এখনো ৮ থেকে ১০ হাজার মানুষের মরদেহ ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকতে পারে। ফলে ধ্বংসস্তূপ অপসারণের বিষয়টি পরিবারগুলোর জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল।

মরদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি পরিচয় শনাক্তকরণ ও ধর্মীয় মর্যাদায় দাফনের কাজেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটিসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে মানবদেহের অবস্থান শনাক্ত, ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত এবং পরিবারগুলোর প্রয়োজনীয় নথিপত্র দেওয়ার প্রক্রিয়ায় কাজ করছে।

ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকা অবিস্ফোরিত বোমাও উদ্ধারকাজের জন্য বড় ঝুঁকি। এর পাশাপাশি অ্যাসবেস্টসসহ ক্ষতিকর উপাদান এবং আংশিকভাবে দাঁড়িয়ে থাকা দুর্বল ভবনও বিপদের কারণ হয়ে আছে। জাতিসংঘের মাইন অ্যাকশন সার্ভিস, ব্রিটিশ সংস্থা হ্যালো ট্রাস্ট এবং অন্যান্য অংশীদার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা শনাক্ত ও চিহ্নিত করার কাজে সহায়তা করছে। তবে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে পুরো প্রক্রিয়াটি ধীরগতিতে এগোচ্ছে।

জাতিসংঘের হিসাবে, গাজার এই বিপুল ধ্বংসস্তূপ সরানো শুধু পুনর্গঠনের পূর্বশর্ত নয়; একই সঙ্গে এর নিচে থাকা মরদেহ উদ্ধার, অবিস্ফোরিত অস্ত্রের ঝুঁকি কমানো এবং মানুষের চলাচল ও মৌলিক সেবা পুনরায় চালুর সঙ্গেও বিষয়টি সরাসরি যুক্ত।

সৌদিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য জরুরি সতর্কতা জারি

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬
সৌদিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য জরুরি সতর্কতা জারি

সৌদি আরবে থাকা বাংলাদেশিদের সেখানকার আইনকানুন মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে প্রবাসীদের জন্য কিছু জরুরি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের আইন বা শৃঙ্খলার বিরুদ্ধে যায়—এমন কোনো পোস্ট বা ভিডিও ফেসবুকে, ইউটিউবে বা এক্সে দেওয়া যাবে না। এমনকি এমন কোনো পোস্টে লাইক, কমেন্ট বা শেয়ার করা থেকেও দূরে থাকতে হবে। কোনো কাগজ ভালোভাবে না পড়ে তাতে সই বা আঙুলের ছাপ দিতে নিষেধ করা হয়েছে। বিশেষ করে সাদা কাগজে সই দেওয়া যাবে না।

নিজের ইকামা দিয়ে অন্য কারও নামে সিম, গাড়ি বা অন্য কোনো জিনিস কেনা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। এছাড়া এক জায়গার বা এক মালিকের ইকামা দিয়ে অন্য জায়গায় কাজ করা, রাস্তায় পড়ে থাকা জিনিস কুড়িয়ে বিক্রি করা, অনুমতি ছাড়া ব্যবসা করা বা অবৈধভাবে পানি বিক্রি করার মতো কাজগুলো শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

পরিচিত বা অপরিচিত কারও সঙ্গে অবৈধ লেনদেন করা এবং চাকরির ভুয়া লোভ থেকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। কনস্যুলেট জানিয়েছে, আইন মেনে চললে প্রবাসীদের জীবন যেমন নিরাপদ হবে, তেমনি বিদেশের মাটিতে দেশের নামও উজ্জ্বল থাকবে।

মুন্সিগঞ্জে পুকুরে ডুবে কুয়েত প্রবাসীর যমজ সন্তানের মৃত্যু

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬
মুন্সিগঞ্জে পুকুরে ডুবে কুয়েত প্রবাসীর যমজ সন্তানের মৃত্যু

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার চসিমুদ্দিন গ্রামে পুকুরে ডুবে তানিশা ও রায়হান নামের আট বছর বয়সী যমজ ভাই-বোনের মৃত্যু হয়েছে।

রোববার দুপুরে নানাবাড়িতে বেড়াতে এসে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে অচেতন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে বেলা সাড়ে ৩টার দিকে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত তানিশা ও রায়হান ঢাকার ডেমরার ঠুনঠুরলিয়া চেয়ারম্যানবাড়ি এলাকার কুয়েত প্রবাসী মো. শরীফের ছেলেমেয়ে।

নিহত শিশুদের খালা কামরুন নাহার জানান, মায়ের সঙ্গে চসিমুদ্দিন গ্রামে নানাবাড়িতে আসে যমজ ভাই-বোন।

বেলা দেড়টার দিকে বাড়ির পাশের পুকুরপাড়ে খেলতে যায় তারা। খেলার একপর্যায়ে একজন পুকুরে পড়ে গেলে অন্যজন তাকে বাঁচাতে এগিয়ে যায়।

এ সময় দুজনই পানিতে ডুবে যায়। স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলেও বাঁচানো যায়নি শিশু দুটিকে।

নিহত দুই শিশুর নানা কাশেম মিয়া জানান, পরিবারের সদস্যদের অগোচরে পুকুরপাড়ে খেলতে গিয়ে একজন পানিতে পড়ে যায়। তাকে বাঁচাতে গিয়ে অপরজনও পানিতে পড়ে যায়।

পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। অচেতন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।

সিরাজদীখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলাউদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘নানা বাড়িতে বেড়াতে এসে যমজ ভাই-বোনের পানিতে পড়ে মারা যাওয়ার ঘটনাটি শুনেছি। মরদেহ দুটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে।’

দুই শিশুকে রেখে টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে উধাও প্রবাসীর স্ত্রী

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬
দুই শিশুকে রেখে টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে উধাও প্রবাসীর স্ত্রী

রাজবাড়ীর পাংশায় ২ সন্তানকে রেখে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছেন রিক্তা পারভীন (৩৫) নামের এক গৃহবধূ। গত ২১ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) ভোর রাতে তিনি কাউকে কিছু না বলে হঠাৎ বাড়ি থেকে নিরুদ্দেশ হন। নিখোঁজের সময় তাঁর সাথে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার ছিল বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় রিক্তার শ্বশুর বাদি হয়ে পাংশা মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের চরঝিকরি মধ্যপাড়া গ্রামের ইরাক প্রবাসী মোঃ রজব আলী প্রামানিকের (৪৫) স্ত্রী রিক্তা পারভীন। গত ২১ সেপ্টেম্বর ভোর রাতে তিনি পরিবারকে না জানিয়ে গৃহত্যাগ করেন। এরপর থেকে তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি বন্ধ রয়েছে। স্বজনেরা সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনো সন্ধান পাননি।

নিখোঁজ রিক্তা পারভীনের সন্তান মেয়ে আয়শা খাতুন (১৫) এবং ছোট মেয়ে আনিশা আক্তার (৬)। হঠাৎ মাকে হারিয়ে সন্তানেরা অঝোরে কাঁদছে। অন্য দিকে প্রবাসে থাকা স্বামী রজব আলী প্রামানিকও স্ত্রীর এই নিরুদ্দেশ হওয়ার খবরে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

মুন্সিগঞ্জে পুকুরে ডুবে কুয়েত প্রবাসীর যমজ সন্তানের মৃত্যু

রজব আলী প্রামানিক প্রবাস থেকে জানান, স্ত্রী রিক্তার সঙ্গে ফোনে কিছু কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে রিক্তা বাবার বাড়ি চলে যায়। পরে সেখানে রিক্তাকে আনতে তার ছেলে ও ছেলের বউ যায়। রিক্তা ছেলেকে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়ে বলে তুমি চলে যাও আমি তোমার বউ এবং আমার ছোট মেয়ে কে নিয়ে বাড়ি চলে আসবো।

কিন্তু রাত হয়ে যাওয়ায় তাদেরকে নিয়ে বাড়িতে না গিয়ে রাতে এক আত্মীয়র ঘুমিয়ে থাকেন। পরে ভোরবেলা রজবের ছেলের বউ ঘুম থেকে উঠে দেখেন তার শাশুড়ি রিক্তা বিছানায় নেই অনেক খোঁজাখুঁজি করেও আর তাকে পাওয়া যায়নি।

তিনি আরো জানান, বিদেশে অর্জিত সমস্ত টাকা স্ত্রীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠাতেন, যার কোনো সঠিক হিসাব তাঁর কাছে নেই। বাড়ি থেকে যাওয়ার সময় রিক্তা নগদ টাকা ও বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার সাথে নিয়ে গেছেন।

এ বিষয়ে পাংশা মডেল থানার এসআই মিনহাজ জানান, তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ফ্যানের সাথে ঝুলছিল প্রবাসীর স্ত্রীর অর্ধগলিত মরদেহ, উদ্ধার করল পুলিশ

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬
ফ্যানের সাথে ঝুলছিল প্রবাসীর স্ত্রীর অর্ধগলিত মরদেহ, উদ্ধার করল পুলিশ

পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার একদন্ত ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামে নিজ ঘর থেকে চাম্পা খাতুন (২২) নামে এক গৃহবধূর অর্ধগলিত ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চার থেকে পাঁচ দিন আগে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।

৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আমির উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মৃত চাম্পা খাতুন শিবপুর গ্রামের আসলাম হোসেনের স্ত্রী। তার স্বামী মালয়েশিয়া প্রবাসী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার দুপুরে পাশের বাড়ির লোকজন ওই বাড়ির আশপাশে দুর্গন্ধ পান। পরে বিষয়টি এলাকাবাসীকে জানালে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে নিজ ঘরের বৈদ্যুতিক পাখার সঙ্গে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় চাম্পা খাতুনের লাশ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।

মুন্সিগঞ্জে পুকুরে ডুবে কুয়েত প্রবাসীর যমজ সন্তানের মৃত্যু

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, চাম্পা খাতুন মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। স্থানীয়দের ধারণা, চার থেকে পাঁচ দিন আগে তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আমির উদ্দিন বলেন, সকালে পাশের বাড়ির লোকজন দুর্গন্ধ পেয়ে বিষয়টি জানতে পারেন। পরে স্থানীয়রা সেখানে গিয়ে চাম্পা খাতুনের লাশ দেখতে পান।

আটঘরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

বিষাক্ত কেমিক্যাল গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশী প্রবাসীর মর্মান্তিক মৃত্যু

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
বিষাক্ত কেমিক্যাল গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশী প্রবাসীর মর্মান্তিক মৃত্যু

সৌদি আরবের রিয়াদে এক সহকর্মীকে বাঁচাতে গিয়ে বিষাক্ত কেমিক্যাল গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে মো. আব্দুল্লাহ (৩০) নামের এক বাংলাদেশী প্রবাসীর। সহকর্মীর জীবনের তাগিদে নিজের জীবন বিলিয়ে দেওয়া এই আত্মত্যাগী যুবক গাজীপুরের কালীগঞ্জ পৌরসভার দুর্বাটি গ্রামের সাবেক সেনাসদস্য মো. ইসমাঈল হোসেনের তৃতীয় ছেলে।

​বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সৌদি সময় দুপুর ৩টার দিকে রিয়াদের ‘আব্দুল লতিফ কোম্পানি’র একটি কর্মস্থলে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ ৭ বছর ধরে ওই কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন আব্দুল্লাহ। গত মাসেই ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে যোগ দেন তিনি। ঘটনার দিন কাজ করার সময় হঠাৎ বিষাক্ত কেমিক্যাল গ্যাস বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। এক সহকর্মীকে বিপদাপন্ন দেখে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে উদ্ধার করতে এগিয়ে যান পরোপকারী আব্দুল্লাহ। কিন্তু গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে তিনিসহ মোট চারজন ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন।

​নিহতের ভাই মো. আাসাদ উল্লাহ কান্নাভেজা কণ্ঠে জানান, সহকর্মীকে বাঁচাতে গিয়েই তাঁর ভাই নিজের জীবন বিসর্জন দিয়েছেন। আব্দুল্লাহর এই আকস্মিক বিদায়ে পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। বাড়িতে তাঁর বৃদ্ধ বাবা-মায়ের আহাজারির পাশাপাশি ঘরে রেখে যাওয়া গর্ভবতী স্ত্রী ও আড়াই বছরের কন্যাসন্তান আসপিয়া নুরের বুকফাটা কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।

​সহকর্মীর জীবন বাঁচাতে নিজের প্রাণ উৎসর্গ করার এই ঘটনায় রিয়াদের প্রবাসী বাংলাদেশীদের মাঝে গভীর শোক ও শ্রদ্ধার ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের শেষ স্মৃতিটুকু বুকে ধরে রাখতে ও শেষবারের মতো মুখটি দেখতে মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের জরুরী হস্তক্ষেপ চেয়েছে শোকার্ত পরিবার।