১ নভেম্বর ২০২৬

সৌদি ফেরার পরদিনই হামলায় নিহত হন শাহেদ, বিবাহবার্ষিকীতে হলো দাফন

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ২৪, ২০২৬
সৌদি ফেরার পরদিনই হামলায় নিহত হন শাহেদ, বিবাহবার্ষিকীতে হলো দাফন

দুই মাসের ছুটি কাটিয়ে স্বজনদের মায়া ছেড়ে আবার পরবাসে ফিরেছিলেন শাহেদ আহম্মেদ আশিক (৩২)। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগমুহূর্তেই নিভে গেল তার জীবনের আলো।

প্রিয়জনের সঙ্গে কাটানো শেষ স্মৃতিগুলোর রেশ কাটার আগেই সৌদি আরবে হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় লাশ হয়ে দেশে ফিরতে হলো তাকে। আর যে দিনটিতে স্ত্রীর সঙ্গে দাম্পত্য জীবনের বিবাহবার্ষিকী উদযাপনের কথা ছিল, সেদিনই চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন শাহেদ।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা পূর্বপাড়া গ্রামে শাহেদের মরদেহ এসে পৌঁছায়। এরপর সরকারি মাদলা চাচাইতারা যুক্ত উচ্চবিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাদার কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।

গত ৯ অক্টোবর ছুটি শেষে সৌদির উদ্দেশে দেশ ছাড়েন শাহেদ। পরদিন ১০ অক্টোবর স্থানীয় সময় বিকেল পাঁচটার দিকে তিনি রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। টার্মিনাল-৩ এলাকা থেকে স্ত্রী কাকলী বেগমের সঙ্গে ফোনে কথাও বলছিলেন তিনি।

শাহেদের স্ত্রী জানান, ২০১৩ সালের ২৩ অক্টোবর তাদের বিয়ে হয়েছিল। বিমানবন্দরে নেমে ফোনে স্বামী তাকে বলেছিলেন, 'আমি রিয়াদে এসে পৌঁছেছি। আর এক-দেড় ঘণ্টা পর জেদ্দায় পৌঁছাব। তোমাকে ফোন দেব।'

এ সময় বাচ্চাদের সঙ্গেও কথা বলেন শাহেদ। কিন্তু কথা শেষ হওয়ার আগেই হঠাৎ একটি বিকট শব্দে ফোন কেটে যায়। স্ত্রী প্রথমে নেটওয়ার্কের সমস্যা মনে করলেও পরে জানতে পারেন, সেই মুহূর্তেই বিমানবন্দরে ঘটা ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন তার স্বামী। সেটিই ছিল স্ত্রীর সঙ্গে তার শেষ কথা।

মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। বাবার কফিন জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়ে শাহেদের দুই সন্তান কাউছার (১১) ও আবদুল্লাহ (৬)। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। তাকে শেষবারের মতো দেখতে সকাল থেকেই আশপাশের শত শত মানুষ ভিড় জমান।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, জীবিকার তাগিদে দুই বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন শাহেদ। তার বাবা রফিকুল ইসলামও প্রায় ২০ বছর ধরে সৌদিতে থাকেন। ছেলের অকালমৃত্যুর পর মা দেশে ফিরতে পারলেও ভিসা জটিলতায় বাবা এখনো আসতে পারেননি। শাহেদকে হারিয়ে দুই ছোট সন্তানকে নিয়ে এখন ঘোর অনিশ্চয়তায় পড়েছেন স্ত্রী কাকলী বেগম।

শাহেদের ফুপা আমজাদ হোসেন জানান, শাহেদের মৃত্যুতে তার স্ত্রী বিধবা ও দুই সন্তান এতিম হয়ে পড়েছে। পরিবারের এমন কঠিন পরিস্থিতিতে দুই সন্তান ও তাদের মায়ের পাশে দাঁড়াতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে শাহেদের মরদেহ গ্রামে পৌঁছানোর পর জানাজায় অংশ নেন বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা। তিনি শোকাহত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সমবেদনা জানান।

মালয়েশিয়া কর্মী পাঠাতে অননুমোদিত স্বাস্থ্য পরীক্ষায় নিষেধাজ্ঞা

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৯, ২০২৬
মালয়েশিয়া কর্মী পাঠাতে অননুমোদিত স্বাস্থ্য পরীক্ষায় নিষেধাজ্ঞা

মালয়েশিয়ায় কাজ করতে ইচ্ছুক কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা আগামী ৩১ অক্টোবর থেকে অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারগুলোতে শুরু হবে। এর আগে কোনো স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা বা করানো যাবে না। অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারের তালিকা খুব শিগ‌গিরই ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈ‌দে‌শিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞ‌প্তি‌তে এই তথ‌্য জা‌নি‌য়ে‌ছে।

বিজ্ঞ‌প্তি‌তে মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে তালিকাভুক্ত মেডিকেল সেন্টারগুলোর বিষয়ে খোঁজখবর রাখার জন্য কর্মীদের অনুরোধ করা হলো। কোনো মেডিকেল সেন্টার সরকারি নির্দেশনা পরিপালনে ব্যর্থ হলে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে।

৩১ অক্টোবরের আগে করা কোনো স্বাস্থ্য পরীক্ষা গ্রহণযোগ্য হবে না এবং ইমিগ্রেশন ক্লিয়ারেন্সের জন্য প্রক্রিয়াকরণ করা হবে না।

কোনো মেডিকেল সেন্টার বা রিক্রুটিং এজেন্সি মন্ত্রণালয়ের সরকারি নির্দেশনা ও অনুমোদন ছাড়া কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে বা করাতে পারবে না। কিছু দালাল ও অসাধু এজেন্সি অনুমতি ছাড়া মেডিকেল পরীক্ষা করানোর কথা বলে কর্মীদের নিকট থেকে পাসপোর্ট ও টাকা নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে মন্ত্রণালয়ের নজরে এসেছে। কর্মীদের এ ধরনের প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ার এবং অনুমোদন নিশ্চিত না হয়ে কারও কাছে পাসপোর্ট বা টাকা জমা না দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।

পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিএমইটি ছাড়পত্রের জন্য আবেদনকারী এজেন্সিগুলোকে অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারে পরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র এবং ভিডিআর ভিসার কাগজপত্র জমা দিতে হবে।

নির্দেশনা অমান্যকারী মেডিকেল সেন্টার ও রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী যথাসম্ভব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নির্দেশনা অমান্যকারী মেডিকেল সেন্টারের কার্যক্রম বন্ধ, সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সির বিদেশে কর্মী নিয়োগের কার্যক্রম স্থগিত এবং মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন বাতিল করা হতে পারে।

অবৈধ বা অনুমোদনহীন স্বাস্থ্য পরীক্ষা কিংবা এ ধরনের কার্যক্রমের তথ্য জানা থাকলে ঘটনার তারিখ, স্থান, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম এবং প্রমাণসহ মন্ত্রণালয়কে জানানোর জন্য কর্মীদের অনুরোধ করা হচ্ছে (ইমেইল[email protected])।

কর্মীদের নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় মন্ত্রণালয় এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে নজরদারি অব্যাহত রাখবে। সব সংশ্লিষ্ট কর্মী, রিক্রুটিং এজেন্সি ও মেডিকেল সেন্টারকে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার জন্য সতর্ক করা হচ্ছে।

জনস্বার্থে সরকারি এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর করা হবে।

লিবিয়ার বন্দিশালা থেকে ফিরছেন আরও ১৭২ প্রবাসী বাংলাদেশি

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৯, ২০২৬
লিবিয়ার বন্দিশালা থেকে ফিরছেন আরও ১৭২ প্রবাসী বাংলাদেশি
লিবিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল হাবীব উল্লাহ মিসরাতা শহরে প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন

লিবিয়ার বিভিন্ন বন্দিশালায় আটক থাকা আরও ১৭২ বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ভোর ৬টার দিকে তাঁদের ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। দূতাবাস ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহযোগিতায় মিসরাতা শহর থেকে তাঁদের দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ফেরত আসা বাংলাদেশিরা বুরাক এয়ারের একটি ফ্লাইটে দেশে ফিরছেন। তাঁরা ঝুঁকিপূর্ণ ও বিপজ্জনক পরিস্থিতি থেকে স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে সম্মত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৮ জন অসুস্থ রয়েছেন।

দেশে ফেরার আগে লিবিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল হাবীব উল্লাহ মিসরাতা শহরে তাঁদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় প্রি-ডিপার্চার ব্রিফিংয়ে তিনি অনিয়মিত অভিবাসনের ঝুঁকি এবং এর শারীরিক, মানসিক, আর্থিক, পারিবারিক ও সামাজিক ক্ষতিকর দিক তুলে ধরেন। একই সঙ্গে মানবপাচারকারী ও দালাল চক্রের প্রলোভন থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, লিবিয়ায় আটক এবং স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে আগ্রহী বিপদগ্রস্ত বাংলাদেশিদের নিরাপদ ও মানবিক প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে দূতাবাস কাজ করছে। এ লক্ষ্যে বেনগাজীর গানফুদা ও ত্রিপলীর তাজুরা বন্দিশালায় আটক বাংলাদেশিসহ অন্যান্য বিপদগ্রস্ত অভিবাসীদের দ্রুত দেশে ফেরাতে আইওএমের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় করা হচ্ছে।

এর আগে গত মঙ্গলবার লিবিয়ার বন্দিশালা থেকে আরও ১৭৪ জন বাংলাদেশি দেশে ফেরেন।

কুয়েতে ভারতকে হারিয়ে 'কিংস প্রিমিয়ার লিগ' চ্যাম্পিয়ন জিলিব প্রবাসী ক্রিকেট ক্লাব

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ২৬, ২০২৬
কুয়েতে ভারতকে হারিয়ে 'কিংস প্রিমিয়ার লিগ' চ্যাম্পিয়ন জিলিব প্রবাসী ক্রিকেট ক্লাব
চ্যাম্পিয়ন ‘জিলিব প্রবাসী ক্রিকেট ক্লাব’, ছবি: আরব টাইমস, কুয়েত।

কুয়েতে অভিবাসীদের নিয়ে আয়োজিত ‘কিংস প্রিমিয়ার লিগ’ (কেপিএল) টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের দল ‘জিলিব প্রবাসী ক্রিকেট ক্লাব’।

শুক্রবার কুয়েতের সুলাইবিয়া ক্রিকেট মাঠে টুর্নামেন্টের ফাইনালে ভারতীয় প্রবাসীদের দল ‘এশিয়ান ব্রাদার্স’-কে ৭ উইকেটের ব্যবধানে হারিয়ে ট্রফি নিজেদের করে নেয় তারা।

কুয়েতের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম আরব টাইমস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের প্রবাসীদের মোট ১২টি দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। দীর্ঘ ছয় মাসের লড়াই শেষে ফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়।

ফাইনালে টস জিতে শুরুতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন জিলিব প্রবাসী ক্রিকেট ক্লাবের অধিনায়ক মোয়াজ্জেম হোসেন। আঁটসাঁট বোলিংয়ের মুখে পড়ে এশিয়ান ব্রাদার্স নির্ধারিত ২০ ওভারে ১২৪ রান তুলতেই অলআউট হয়ে যায়।

জবাবে ১২৫ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের সূচনা করে জিলিব প্রবাসী দল। ১১ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে জয়ের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে যায় তারা। ফাইনালে অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের জন্য ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হন রাজু আহমেদ।

জয়ের পর অধিনায়ক মোয়াজ্জেম হোসেন প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলেন, “এই টুর্নামেন্টটি কুয়েতে অবস্থানরত বহুভাষী ও বহুজাতির প্রবাসীদের মাঝে ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শনের এক অনন্য প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক মানের এসব দলের বিপক্ষে লড়াই করে চ্যাম্পিয়ন হওয়া আমাদের পুরো স্কোয়াডের জন্য যেমন গর্বের, তেমনি কুয়েতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার ক্ষেত্রেও এটি এক দারুণ অর্জন।”

বাংলাদেশিদের এই কৃতিত্বে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব কুয়েতের সভাপতি মইন উদ্দিন সরকার সুমন।

তিনি বলেন, “প্রবাসে কঠোর দৈনন্দিন কর্মব্যস্ততার মাঝেও আমাদের শ্রমজীবী প্রবাসী ভাইয়েরা যেভাবে খেলার মাঠে দক্ষতা, একাগ্রতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।

সঠিক সহায়তা ও সুযোগ পেলে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রবাসীদের এই সম্ভাবনা আরও সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখবে।”

সৌদি ফেরার পরদিনই হামলায় নিহত হন শাহেদ, বিবাহবার্ষিকীতে হলো দাফন

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ২৪, ২০২৬
সৌদি ফেরার পরদিনই হামলায় নিহত হন শাহেদ, বিবাহবার্ষিকীতে হলো দাফন

দুই মাসের ছুটি কাটিয়ে স্বজনদের মায়া ছেড়ে আবার পরবাসে ফিরেছিলেন শাহেদ আহম্মেদ আশিক (৩২)। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগমুহূর্তেই নিভে গেল তার জীবনের আলো।

প্রিয়জনের সঙ্গে কাটানো শেষ স্মৃতিগুলোর রেশ কাটার আগেই সৌদি আরবে হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় লাশ হয়ে দেশে ফিরতে হলো তাকে। আর যে দিনটিতে স্ত্রীর সঙ্গে দাম্পত্য জীবনের বিবাহবার্ষিকী উদযাপনের কথা ছিল, সেদিনই চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন শাহেদ।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা পূর্বপাড়া গ্রামে শাহেদের মরদেহ এসে পৌঁছায়। এরপর সরকারি মাদলা চাচাইতারা যুক্ত উচ্চবিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাদার কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।

গত ৯ অক্টোবর ছুটি শেষে সৌদির উদ্দেশে দেশ ছাড়েন শাহেদ। পরদিন ১০ অক্টোবর স্থানীয় সময় বিকেল পাঁচটার দিকে তিনি রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। টার্মিনাল-৩ এলাকা থেকে স্ত্রী কাকলী বেগমের সঙ্গে ফোনে কথাও বলছিলেন তিনি।

শাহেদের স্ত্রী জানান, ২০১৩ সালের ২৩ অক্টোবর তাদের বিয়ে হয়েছিল। বিমানবন্দরে নেমে ফোনে স্বামী তাকে বলেছিলেন, 'আমি রিয়াদে এসে পৌঁছেছি। আর এক-দেড় ঘণ্টা পর জেদ্দায় পৌঁছাব। তোমাকে ফোন দেব।'

এ সময় বাচ্চাদের সঙ্গেও কথা বলেন শাহেদ। কিন্তু কথা শেষ হওয়ার আগেই হঠাৎ একটি বিকট শব্দে ফোন কেটে যায়। স্ত্রী প্রথমে নেটওয়ার্কের সমস্যা মনে করলেও পরে জানতে পারেন, সেই মুহূর্তেই বিমানবন্দরে ঘটা ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন তার স্বামী। সেটিই ছিল স্ত্রীর সঙ্গে তার শেষ কথা।

মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। বাবার কফিন জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়ে শাহেদের দুই সন্তান কাউছার (১১) ও আবদুল্লাহ (৬)। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। তাকে শেষবারের মতো দেখতে সকাল থেকেই আশপাশের শত শত মানুষ ভিড় জমান।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, জীবিকার তাগিদে দুই বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন শাহেদ। তার বাবা রফিকুল ইসলামও প্রায় ২০ বছর ধরে সৌদিতে থাকেন। ছেলের অকালমৃত্যুর পর মা দেশে ফিরতে পারলেও ভিসা জটিলতায় বাবা এখনো আসতে পারেননি। শাহেদকে হারিয়ে দুই ছোট সন্তানকে নিয়ে এখন ঘোর অনিশ্চয়তায় পড়েছেন স্ত্রী কাকলী বেগম।

শাহেদের ফুপা আমজাদ হোসেন জানান, শাহেদের মৃত্যুতে তার স্ত্রী বিধবা ও দুই সন্তান এতিম হয়ে পড়েছে। পরিবারের এমন কঠিন পরিস্থিতিতে দুই সন্তান ও তাদের মায়ের পাশে দাঁড়াতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে শাহেদের মরদেহ গ্রামে পৌঁছানোর পর জানাজায় অংশ নেন বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা। তিনি শোকাহত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সমবেদনা জানান।

ইউরোপের ৩ দেশ থেকে একযোগে ফেরত পাঠানো হলো ৩৫ বাংলাদেশিকে!

প্রকাশ: শুক্রবার, অক্টোবর ২৩, ২০২৬
ইউরোপের ৩ দেশ থেকে একযোগে ফেরত পাঠানো হলো ৩৫ বাংলাদেশিকে!

৩৫ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠিয়েছে ইউরোপ। এর মধ্যে ইতালি থেকে ১৯ জন, গ্রিস থেকে ১০ জন এবং সাইপ্রাস থেকে ছয়জন বাংলাদেশি দেশে ফিরছেন। ইমিগ্রেশন পুলিশ ও বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল সোয়া আটটায় একটি বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে (পিভিজি ৯৪৪৫) তারা ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সিভিল এভিয়েশন সিকিউরিটি ও প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের সহযোগিতায় ফেরত আসা বাংলাদেশিদের জরুরি সহায়তা, কাউন্সেলিং এবং নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছানোর জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করে ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম। এ সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

৩৫ জনের ফেরত আসার বিষয়ে জানতে চাইলে ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক (মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম অ্যান্ড ইয়ুথ প্ল্যাটফর্ম) শরিফুল হাসান জানান, একটি বিশেষ বিমানে করে ৩৫ বাংলাদেশি শুক্রবার সকালে ঢাকায় এসেছেন।

এর মধ্যে ইতালি থেকে ১৯ জন, গ্রিস থেকে ১০ জন এবং সাইপ্রাস থেকে ছয়জন বাংলাদেশি দেশে ফিরছেন। তাদের সবাইকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ব্র্যাকের যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রত্যাশা-২ প্রকল্প থেকে বিমানবন্দরে সহায়তা দেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে কাউন্সিলিং ও প্রশিক্ষণ শেষে সবাইকে অর্থনৈতিক সহায়তা করা হবে।

ইউরোপ থেকে নথিপত্রহীন বা অনিয়মিত বাংলাদেশিদের ফেরত আনতে বাংলাদেশ সরকার ২০১৭ সালে ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউরস (এসওপি) চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এর আওতায় এ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ হাজার বাংলাদেশি ফেরত এসেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ফেরত এসেছেন সাইপ্রাস, ইতালি, রোমানিয়া ও ফ্রান্স থেকে।

শরিফুল জানান, গত কয়েকবছরে ইউরোপ থেকে ফেরত আসা সবচেয়ে বেশি লোক তারা পেয়েছেন ইতালি, গ্রীস ও জার্মান থেকে। যারা ফেরত এসেছেন তাদেরকে বিমানবন্দরে জরুরি সহায়তা, কাউন্সেলিং ও পরে অর্থনৈতিক সহায়তা দেয়া হয় যাতে তারা ফের ঘুরে দাঁড়াতে পারেন।‌ পাশাপাশি ঝুঁকি নিয়ে যেন লোকজন ইউরোপে না যায় সেজন্য সারাদেশে সচেতনতা তৈরির কাজ চলছে। পাশাপাশি ইউরোপ বৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।