৫ নভেম্বর ২০২৬

হুথিদের গোপনে সহায়তা করছে সংযুক্ত আরব আমিরাত!

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ৩১, ২০২৬
হুথিদের গোপনে সহায়তা করছে সংযুক্ত আরব আমিরাত!

ইয়েমেনে সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইরানপন্থি হুথি বিদ্রোহীদের গোপনে সহায়তা করছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)।

শুধু তাই নয়, সৌদি সমর্থিত বাহিনীকে লক্ষ্যবস্তু করতে হুথিদের গোয়েন্দা তথ্যও সরবরাহ করছে দেশটি।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ড্রপ সাইট নিউজের এক প্রতিবেদনে এমন চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এমন দাবির পক্ষে বা বিপক্ষে কিছু বলেনি আমিরাত।

প্রতিবেদনে চারটি সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, আমিরাতের ঘনিষ্ঠ ইয়েমেনি বাহিনী হুথিদের লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে সহায়তা করছে। বিষয়টি জেনেও নীরব ভূমিকা পালন করছে আবুধাবি।

এর মধ্যে দুটি সূত্রের দাবি, আমিরাত সরাসরি হুথিদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করেছে, যাতে তারা ইয়েমেনের ভেতরে সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনীর ওপর হামলা চালাতে পারে।

দুই পক্ষের যোগাযোগব্যবস্থা সম্পর্কে অবগত এক ইয়েমেনি সূত্র জানিয়েছে, আমিরাত সানাভিত্তিক হুথি প্রশাসনকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গোয়েন্দা তথ্য দিয়েছে।

দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগের পথ এখনো খোলা রয়েছে। এমনকি আমিরাতপন্থি সামরিক কমান্ডারদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য নিজস্ব চ্যানেলও তৈরি করেছে হুথিরা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমিরাত ও হুথিদের মধ্যে কথিত এই সহযোগিতা আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আমিরাত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র হলেও হুথিদের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক গভীর।

তবে চলতি বছরের শুরুতে ইয়েমেনে সৌদি আরবের কাছে আমিরাতের প্রভাব কমে যাওয়ার পর দুই পক্ষের স্বার্থের কিছুটা মিল তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে ড্রপ সাইট নিউজ।

এর মাধ্যমে ইয়েমেনে নিজেদের কৌশলগত প্রভাব পুনরুদ্ধারের সুযোগ দেখছে আবুধাবি। এদিকে সৌদি আরবে হুথিদের হামলা এবং ইয়েমেনের অভ্যন্তরে সংঘর্ষ আরও তীব্র হয়েছে।

সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও প্রধান বিমানবন্দরে হামলায় ১২ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

এসব হামলার জেরে ‘ডাভোস ইন দ্য ডেজার্ট’ নামে পরিচিত ফিউচার ইনভেস্টমেন্ট ইনিশিয়েটিভ সম্মেলনও বাতিল হয়েছে।

অন্যদিকে ইয়েমেনের সরকারি কর্মকর্তারা তাইজ শহরে হুথিদের অবরোধ জোরদার এবং আবাসিক এলাকায় হামলার অভিযোগ তুলে আন্তর্জাতিক সহায়তা চেয়েছেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সৌদি ও আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তার ঘোষণাও দিয়েছে কায়রো। অন্যদিকে ইরান সংলাপের মাধ্যমে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।

মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয়: ডেমোক্র্যাটরা কী ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারবে

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ০৫, ২০২৬
মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয়: ডেমোক্র্যাটরা কী ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারবে
মার্কিন কংগ্রেস অধিবেশন

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিকে পরাজিত করে কংগ্রেসের দুই কক্ষ- প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা।

জানুয়ারির শুরুতে বসতে যাওয়া কংগ্রেসের নতুন অধিবেশনটি ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দুই বছর থেকে একেবারেই ভিন্ন হতে যাচ্ছে। এতদিন রিপাবলিকানরা দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রেখেছিল।

এখন ডেমোক্র্যাটদের হাতে ট্রাম্পের নীতি ও সিদ্ধান্তগুলো যাচাই-বাছাই করা এবং তাদের অপছন্দের আইন আটকে দেওয়ার ক্ষমতা এলো। তবে সব বাধা সত্ত্বেও, কংগ্রেসের সরাসরি অনুমোদন ছাড়াও একজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্প অনেক কিছুই করার ক্ষমতা রাখেন। তবে ডেমোক্র্যাটদের এ জয়ে মার্কিন রাজনীতি ও ট্রাম্পের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোতে পরিবর্তন আসতে পারে।

ইরানের যুদ্ধ ও এর বাজেট

নির্বাচনে রিপাবলিকানদের হারের পেছনে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের একটি ভূমিকা ছিল বলে স্বীকার করেছেন ট্রাম্প নিজেই। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আমি মনে করি এর একটি অংশ ছিল ইরান, কিন্তু একই সঙ্গে, ইরানের বিষয়ে আমি যা করেছি তার গুরুত্বও মানুষ বুঝতে পেরেছে।

মূলত মূল্যস্ফীতি এবং জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে সাধারণ মানুষের চরম ক্ষোভকে কাজে লাগিয়েই জয় ছিনিয়ে নিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়াই ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করলেও এবার বাজেট নিয়ে নতুন কংগ্রেসের মুখোমুখি হতে পারেন তিনি। ১১ ডিসেম্বর বর্তমান সরকারি অর্থায়ন বিলের মেয়াদ শেষ হলে ট্রাম্পের সামরিক সিদ্ধান্তের ওপর বাজেট কাটছাঁটের বড় ধরনের চাপ আসতে পারে।

তবে ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের গবেষক জেমস বয়েসের মতে, সৈন্য মোতায়েন থাকা অবস্থায় যুদ্ধ ফান্ডের অর্থ বন্ধ করা সহজ হবে না। অন্যদিকে ১৯৭৩ সালের যুদ্ধ ক্ষমতা প্রস্তাব ব্যবহার করে ট্রাম্পকে আটকানোও কঠিন হতে পারে, কারণ এটি বাতিল করতে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন- যা ডেমোক্র্যাটদের নেই।

তা সত্ত্বেও কিছু রিপাবলিকান নেতার সহায়তায় কংগ্রেস ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়াতে পারে। যেমন রাজনীতির আন্তর্জাতিক বিষয়ের অধ্যাপক স্কট লুকাস জানান, উপরাষ্ট্রপতি জেডি ভ্যান্স যুদ্ধের বিরোধিতা করেছেন এবং শুরু থেকেই তা করে আসছেন। এমনকি সম্প্রতি ভ্যান্স আলোচনা ফেরাতে ইরানের নিরাপত্তা প্রধানকে চিঠিও পাঠিয়েছেন।

অবশ্য জেমস বয়েসের মতে, সংবিধানে দুই মেয়াদের বেশি থাকার সুযোগ না থাকায় ট্রাম্প হয়তো মেয়াদের শেষভাগে এসে নিজেকে পুরোপুরি স্বাধীন মনে করতে পারেন। এমনকি মধ্যপ্রাচ্যে নিজের আলাদা একটি রাজনৈতিক প্রভাব বা লেগ্যাসি তৈরির জন্য তিনি আগ্রাসী নীতি আরও বাড়াতে পারেন।

শুল্কনীতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য

বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে ট্রাম্প প্রায় ৯০টি দেশের পণ্যে ১০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছিলেন। সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করলেও ট্রাম্প নতুন নির্বাহী আদেশে বিকল্প পথে শুল্ক বহাল রেখেছেন।

ডেমোক্র্যাটদের দাবি, এ শুল্কের চূড়ান্ত বোঝা পড়ছে সাধারণ মার্কিন ক্রেতাদের ওপর এবং এর ফলে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে। তাই তারা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে জনগণের পকেট কাটার অভিযোগ তুলছেন। ডেমোক্র্যাট নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস হয়তো ব্যবসায়ীদের কিছু সাময়িক স্বস্তি দেওয়ার জন্য দরকষাকষি করতে পারে, তবে মার্কিন শুল্কনীতিতে বড় কোনো পরিবর্তন আনতে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

এর পাশাপাশি, কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে দুই দলই একমতে পৌঁছাতে পারে। বিশেষ করে চীনের দূরবর্তী প্রযুক্তি ব্যবহার বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চিপ পাচার রোধে কড়া বিধিনিষেধ আরোপের ক্ষেত্রে কংগ্রেসের যৌথ সম্মতি দেখা যেতে পারে।

অভিবাসন নীতি ও ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তদন্ত

মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয়ের ফলে কংগ্রেসের সব গুরুত্বপূর্ণ তদন্ত কমিটির শীর্ষ পদগুলো এখন ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে যাবে। এর ফলে ট্রাম্প পরিবারের ব্যবসা, জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে ট্রাম্পের যোগাযোগ কিংবা প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের ভূমিকা নিয়ে কড়া তদন্ত শুরু হতে পারে। এমনকি ট্রাম্পকে তৃতীয়বারের মতো অভিশংসনের প্রচেষ্টাও অস্বাভাবিক নয়।

পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসনের বহুল আলোচিত অভিবাসী বিতাড়ন অভিযান নিয়েও তল্লাশি চালাবে ডেমোক্র্যাটরা। সম্প্রতি মার্কিন কর সংস্থা ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটির মধ্যে যে তথ্য আদান-প্রদান হচ্ছে, সমন জারি করে সেগুলোর বিস্তারিত খতিয়ে দেখার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

নির্বাচনের আগেই ফক্স নিউজের জরিপে উঠে এসেছিল যে ৫৩ শতাংশ ভোটার অভিবাসন বিরোধী এ অভিযানকে অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি হিসেবে দেখছেন। প্রশাসন দাবি করেছিল আটক হওয়া অভিবাসীদের ৭০ শতাংশই অপরাধী, তবে সেই পরিসংখ্যানে বড় ধরনের গলদ ছিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

অধ্যাপক স্কট লুকাসের মতে, এ পরিবর্তনের ফলে এখন ডেমোক্র্যাট এবং দায়িত্বশীল রিপাবলিকানরা রাজ্য ও স্থানীয় পর্যায়ে সমাজের ক্ষতগুলো সারিয়ে তুলতে এবং আরও ভারসাম্যপূর্ণ নীতি নিয়ে কাজ করার সুযোগ পাবেন।

নিউইয়র্কের আইনসভায় প্রথম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত নারী আবের কাওয়াস

প্রকাশ: বুধবার, নভেম্বর ০৪, ২০২৬
নিউইয়র্কের আইনসভায় প্রথম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত নারী আবের কাওয়াস

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আইনসভার নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত আবের কাওয়াস। এর মধ্য দিয়ে তিনি অঙ্গরাজ্যটির আইনসভায় নির্বাচিত প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান এবং প্রথম হিজাব পরা নারী হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন।

নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটের ১২ নম্বর আসনে ৭৫ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হন কাওয়াস। ভোট গণনার ৯০ শতাংশ শেষে নিউইয়র্ক টাইমস তার বিজয় ঘোষণা করে।

কাওয়াসের নির্বাচনী স্লোগান ছিল ‘মর্যাদায় বিনিয়োগ, ধ্বংসের বিরুদ্ধে লড়াই’। তিনি সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা, উন্নত গণপরিবহন, সাশ্রয়ী আবাসন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, অভিবাসীদের অধিকার রক্ষা এবং যুদ্ধে অর্থায়ন বন্ধের পক্ষে প্রচার চালান। তার প্রতি সমর্থন জানান নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি, সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স ও কংগ্রেস সদস্য রাশিদা তালাইব।

রাজনীতিতে আসার আগে ১৫ বছরের বেশি সময় শ্রমিক, অভিবাসী ও ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে কাজ করেছেন কাওয়াস। নিউইয়র্কের অলাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন বন্ধের উদ্যোগেও যুক্ত ছিলেন তিনি।

ব্রুকলিনে ফিলিস্তিনি অভিবাসী বাবা-মায়ের ঘরে জন্ম ও বেড়ে ওঠা কাওয়াস অভিবাসীদের অধিকার রক্ষার পক্ষে কাজ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা আইসিইর সঙ্গে নিউইয়র্কের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা বন্ধের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।

ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে সরব কাওয়াস ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফরের বিরুদ্ধেও বিক্ষোভ করেছিলেন। ওই কর্মসূচিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হলেও পরে ছেড়ে দেওয়া হয়।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর আবদুল এল-সাইয়েদ

প্রকাশ: বুধবার, নভেম্বর ০৪, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর আবদুল এল-সাইয়েদ

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন চিকিৎসক ও প্রগতিশীল রাজনীতিক আবদুল এল-সাইয়েদ। মিশিগান অঙ্গরাজ্যের বহুল আলোচিত সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করে এ ইতিহাস গড়েছেন তিনি।

বুধবার (৪ নভেম্বর) ডেট্রয়েটে মিশিগান ডেমোক্রেটিক পার্টির কার্যালয়ে সমর্থকদের সামনে নিজের বিজয় ঘোষণা করেন এল-সাইয়েদ।

বিজয় ভাষণে তিনি বলেন, ‘আপনারা আমাকে নিজেদের বাড়িতে, গির্জায় ও সিনাগগে জায়গা দিয়েছেন।’ দীর্ঘ দেড় বছরের নির্বাচনি প্রচারণায় মিশিগানের বড় শহর থেকে ছোট জনপদ পর্যন্ত মানুষের সমর্থন পাওয়ার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

এল-সাইয়েদ বলেন, কঠিন সময়ে ভোটারদের সমর্থনই তাকে শক্তি জুগিয়েছে। তার ভাষায়, ‘তারা এমন একটি আমেরিকা চায়, যেখানে আমাদের কারও কারও জায়গা নেই। কিন্তু আমরা জানি, আমেরিকা আমাদের সবার জন্য যথেষ্ট বড়।’

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনি প্রচারণায় এল-সাইয়েদের মুসলিম পরিচয়কে কেন্দ্র করে নানা বিতর্ক তৈরি হয়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ তার বিরোধীরা তাকে উদ্দেশ্য করে ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্য দেন। ট্রাম্প তাকে ‘জিহাদি’ বলেও আখ্যা দিয়েছিলেন। তবে এসব আক্রমণের জবাবে এল-সাইয়েদ বলেন, জীবনযাত্রার ব্যয়, জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে প্রশ্নের উত্তর দিতে না পেরে প্রতিপক্ষ বিভাজনের রাজনীতি করেছে।

মিশিগানের সাবেক স্বাস্থ্য পরিচালক এল-সাইয়েদ ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাথমিক নির্বাচনেও বড় চমক দেখিয়েছিলেন। দলীয় নেতৃত্বের পছন্দের প্রার্থী হেইলি স্টিভেন্সকে হারিয়ে মনোনয়ন পান তিনি।

নির্বাচনী প্রচারণায় সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার জন্য ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ কর্মসূচির পক্ষে অবস্থান নেন এল-সাইয়েদ। একই সঙ্গে ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা বন্ধের আহ্বান জানান তিনি।

তার প্রচারণা ঠেকাতে ইসরায়েলপন্থি লবি সংগঠন এআইপ্যাকের সুপার পিএসি ইউনাইটেড ডেমোক্রেসি প্রজেক্ট প্রাথমিক নির্বাচনে প্রায় ৩ কোটি ডলার ব্যয় করে। একটি নির্বাচনি লড়াইয়ে এ ধরনের ব্যয়কে রেকর্ড হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিজয় ভাষণে এল-সাইয়েদ বলেন, ‘আমরা চাই আমাদের করের টাকা এখানেই ব্যয় হোক- আমাদের স্কুল, স্বাস্থ্যসেবা ও অবকাঠামোর জন্য। বর্ণবাদী শাসন, গণহত্যা কিংবা যুদ্ধের পেছনে আমাদের অর্থ ব্যয় হোক, তা আমরা চাই না।’

অন্যদিকে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স সাবেক কংগ্রেস সদস্য। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিলেও প্রচারণার শেষ দিকে শুল্কনীতি ও ইরান যুদ্ধের বিষয়ে তার অবস্থানে পরিবর্তন আনেন তিনি।

উল্লেখ্য, মিশিগানের এ আসনটি থেকে বিদায়ী সিনেটর গ্যারি পিটার্স ২০১৫ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তার অবসরের কারণে আসনটি শূন্য হয়। মিশিগানের এই নির্বাচনকে একটি সুইং স্টেটে প্রগতিশীল প্রার্থীর জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছিল।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।

মার্কিন রাজনীতিতে নতুন মোড়: ট্রাম্প যুগের অবসান?

প্রকাশ: বুধবার, নভেম্বর ০৪, ২০২৬
মার্কিন রাজনীতিতে নতুন মোড়: ট্রাম্প যুগের অবসান?

মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি মার্কিন ভোটারদের স্পষ্ট প্রত্যাখ্যানের বার্তা দিয়েছে। এক দশকের বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার করে আসা ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে।

কংগ্রেস নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের এই ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবেও পরিচিত অঙ্গরাজ্যগুলোতে। দুবার ট্রাম্পকে হোয়াইট হাউসে পৌঁছে দেয়া ভোটার জোটের ওপরও তাঁর আগের মতো নিয়ন্ত্রণ আর নেই।

নিউ ইয়র্ক টাইমস বুধবার (৪ নভেম্বর) জানায়, মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারে ট্রাম্প ভোটারদের বারবার বলেছিলেন, ‘এমনভাবে ভোট দিন, যেন ব্যালটে আমার নাম আছে।’ এবারের শরতে তিনি অন্তত ৪৭ বার এ কথা বলেছেন। ভোটাররা তাঁর কথামতোই ভোট দিয়েছেন। তবে ফল হয়েছে তাঁর প্রত্যাশার উল্টো।

রিপাবলিকানদের হারে ইরান যুদ্ধের প্রভাব স্বীকার করলেন ট্রাম্প

হিস্টোরিক মিডটার্ম রাউট সার্ভস অ্যাজ আ সুইপিং রিপিউক অব ট্রাম্প এরা নামের বিশ্লেষণ-নিবন্ধের লেখক পিটার বেকার নিউ ইয়র্ক টাইমসের হোয়াইট হাউসবিষয়ক প্রধান সংবাদদাতা। ১৯৮৬ সালে প্রথম মধ্যবর্তী নির্বাচন কভার করেন তিনি।

ট্রাম্পের আগের কোনো প্রেসিডেন্ট মধ্যবর্তী নির্বাচনকে নিজের জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের এত বড় পরীক্ষায় পরিণত করেননি। ট্রাম্প নিজেই এবারের নির্বাচনকে তাঁর শাসনামলের ওপর গণভোটের রূপ দিয়েছিলেন। এখন সেই সিদ্ধান্তের মূল্য দিতে হচ্ছে তাঁকে।

রিপাবলিকানদের হটিয়ে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিল ডেমোক্র্যাটরা

জ্বালানির উচ্চমূল্য, ইরানের সাথে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ এবং ট্রাম্প ও তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের বিরুদ্ধে ক্ষমতায় থেকে বিপুল অর্থ উপার্জনের অভিযোগে ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসা একজন বহিরাগত নেতার ওপর যারা একসময় আস্থা রেখেছিলেন, তাঁদের অনেকেই এবার তাঁর দলকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। কেউ কেউ ভোট দিতেই যাননি।

বুধবার ভোর পর্যন্ত পাওয়া হিসাব অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদের আসনগুলোর জন্য জাতীয়ভাবে ডেমোক্র্যাটদের ভোটের ব্যবধান প্রায় ১৩ শতাংশ হতে পারে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের হিসাব বলছে, অন্তত ১৯৭৬ সালের পর কংগ্রেস নির্বাচনে কোনো দল এত বড় ব্যবধানে জয় পায়নি।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে নতুন ঊর্ধ্বগতি

বিল ক্লিনটন প্রেসিডেন্ট থাকার সময় ১৯৯৪ সালে এবং বারাক ওবামার শাসনামলে ২০১০ সালে রিপাবলিকানরা যে বড় জয় পেয়েছিল, এবারের ব্যবধান তার চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে।

তবে নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণের কারণে এই ব্যবধান আসন সংখ্যায় ততটা প্রতিফলিত নাও হতে পারে। নিজেদের সুবিধামতো নির্বাচনী এলাকার সীমানা সাজিয়ে নেয়ায় এখন বিরোধী দলের পক্ষে অন্য দলের আসন কেড়ে নেয়া আগের চেয়ে কঠিন।

তারপরও ডেমোক্র্যাটদের বিপুল ভোটের ব্যবধান একটি বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের হাতে আরো দুই বছর ক্ষমতা থাকলেও ভোটের ফল বলছে, তাঁর শাসনামলের অবসানের সূচনা হতে পারে।

কাতারের হাত ধরে ফের শান্তি চুক্তি? মার্কিন-ইরান চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সায়

সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের রাজনৈতিক পরিচালক ডগলাস বি. সোসনিক এবারের নির্বাচনে ঘনিষ্ঠ নজর রেখেছিলেন। তিনি বলেন, ‘এটি মূলত ট্রাম্প, রিপাবলিকান পার্টি এবং গত দুই বছরে তারা যা করেছে, তার প্রতি ভোটারদের প্রত্যাখ্যান।’

সোসনিকের মতে, নির্বাচনের পরদিন থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি নতুন এক পর্যায়ে প্রবেশ করবে। আগামী দুই বছর হবে পরিবর্তনের সময়। আর এই সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি গত দুই বছরের তুলনায় অনেক বেশি অস্থির হতে পারে।

তবে নির্বাচনে ভরাডুবির পরপরই নিজের অবস্থান সামাল দেয়ার চেষ্টা করেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, ডেমোক্র্যাটদের কাছে এই পরাজয় আসলে তাঁর বিরুদ্ধে ভোটারদের রায় নয়। কারণ, তিনি নিজে নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন না। অথচ প্রচারের সময় ভোটারদের বারবার তাঁর পক্ষে ভোট দিতে বলেছিলেন।

মঙ্গলবার রাতে নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি ব্যালটে ছিলাম না। আর আমি ব্যালটে না থাকায় পর্যাপ্ত মানুষকে ভোটকেন্দ্রে নিয়ে আসা সম্ভব হয়নি।’

তাঁর এই বক্তব্য শুনে অনেক রিপাবলিকানও বিরক্তি প্রকাশ করবেন। কারণ, এবারের নির্বাচনী প্রচারের প্রায় সবকিছুই আবর্তিত হয়েছে ট্রাম্পকে ঘিরে।

কাতারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের এলএনজি নিতে চায় ভারত

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছিলেন ট্রাম্প। এর প্রভাব পড়েছে জ্বালানির বাজারে। বেড়েছে পেট্রল ও ডিজেলের দাম। প্রার্থী বাছাই থেকে শুরু করে নির্বাচনের ইস্যু, কৌশল ও প্রচারের বার্তা—সবকিছুই নির্ধারণ করেছেন তিনি। দলের প্রার্থীদের কাছে নিঃশর্ত আনুগত্যও দাবি করেছেন। তাঁর কাছ থেকে দূরত্ব তৈরির সাহস অনেক রিপাবলিকান প্রার্থী দেখাতে পারেননি।

এ ছাড়া ক্ষমতায় থেকে নিজের অর্থ উপার্জনের নৈতিকতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নও তিনি এড়িয়ে গেছেন। এতে দুর্নীতি নিয়ে ভোটারদের উদ্বেগ আরো বেড়েছে।

রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি টেক্সাস ও সাউথ ক্যারোলাইনায় ট্রাম্পের ব্যক্তিগত পছন্দের দুই সিনেট প্রার্থীর পরাজয় তাঁর হস্তক্ষেপের পরিণতি সামনে এনেছে। তুলনামূলক বেশি জয়ের সম্ভাবনা থাকা প্রার্থীদের বাদ দিয়ে তিনি কেন প্যাক্সটন ও ডারলিন গ্রাহামকে বেছে নিয়েছিলেন, এখন সেই সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

এ ছাড়া দশক শেষ হওয়ার আগেই প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচনী এলাকার সীমানা নতুন করে সাজিয়ে রিপাবলিকানদের সুবিধা দেয়ার উদ্যোগও উল্টো ফল দিয়েছে।

অনেক ভোটার জরিপকারী ও সাক্ষাৎকার গ্রহণকারীদের বলেছেন, ট্রাম্প তাঁদের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ঠকিয়েছেন। তাঁরা ভেবেছিলেন, তিনি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমাবেন, নতুন যুদ্ধ শুরু করবেন না। সীমান্ত বন্ধ করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করা মানুষদের বিরুদ্ধে কঠোর ধরপাকড় দেখে তাঁরা ক্ষুব্ধ হয়েছেন। ভোক্তাদের খরচ বাড়িয়ে দেয়া শুল্কনীতির বিরুদ্ধেও তাঁদের ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

নির্বাচনের আগের দিন ট্রাম্পের শেষ ভাষণেও ভোটারদের মনোভাবের সাথে তাঁর রাজনৈতিক চিন্তাভাবনার দূরত্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয় নিয়ে মানুষের উদ্বেগ কমানোর পরিকল্পনার কথা বলার বদলে তিনি ওয়াশিংটনের রিফ্লেক্টিং পুলের সামনে দাঁড়িয়ে শেওলা ও পানির পাইপ নিয়ে কথা বলেন।

ওয়াশিংটনে নিজের পছন্দের নির্মাণ প্রকল্প নিয়ে তাঁর অতিরিক্ত আগ্রহের বিষয়টি আবারো সামনে আসে। অথচ এসব উদ্যোগ নিয়ে ভোটারদের বিরক্তির লক্ষণ আগেই দেখা যাচ্ছিল। বিষয়টি অনেকটা এমন, যেন রিচার্ড এম. নিক্সন ওয়াটারগেট ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে নির্বাচনের আগে শেষ ভাষণ দিচ্ছেন।

ট্রাম্পের রাজনৈতিক ধারা বা ট্রাম্পবাদ কিছুটা পিছু হটলেও আগামী দুই বছর প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা তাঁর হাতেই থাকছে। নিজের রাজনৈতিক আধিপত্য ধরে রাখতে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। তাঁর ঘনিষ্ঠরা মনে করছেন, এই পরাজয় দেখে তাঁকে রাজনৈতিকভাবে শেষ ধরে নেয়া ঠিক হবে না।

সৌদির সঙ্গে আলোচনা, বিদেশি সেনামুক্ত মধ্যপ্রাচ্য চায় ইরান

রক্ষণশীল অর্থনৈতিক নীতির পক্ষে কাজ করা সংগঠন ক্লাব ফর গ্রোথের প্রেসিডেন্ট ডেভিড ম্যাকিনটোশ বলেন, ‘ট্রাম্পের সমালোচকেরা আগেও তাঁর রাজনৈতিক মৃত্যুর ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু প্রতিবারই তাঁরা ভুল প্রমাণিত হয়েছেন।’

তাঁর মতে, রিপাবলিকানদের ঘুরে দাঁড়াতে হলে নিজেদের মূলনীতিতে ফিরে যেতে হবে। ২০২৮ সালের নির্বাচনে জিততে হলে সেটিই হবে পথ।

বড় ব্যবধানে মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয় পেলে সাধারণত দেশের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের আভাস খোঁজা হয়। এবারের ফলও তেমন পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিতে পারে। তবে ইতিহাসে এমন অনেক উদাহরণ আছে, যখন এ ধরনের পরিবর্তন বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। মঙ্গলবারের ভোট যুক্তরাষ্ট্রের ভোটারদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি আদর্শিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির পর ১৯৭৪ সালের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের পর মনে করা হয়েছিল, রিপাবলিকানদের দীর্ঘদিন রাজনৈতিক ক্ষমতার বাইরে থাকতে হবে। কিন্তু মাত্র ছয় বছরের মাথায় রোনাল্ড রিগ্যান দলটিকে আবার হোয়াইট হাউসে ফিরিয়ে আনেন।

একইভাবে ১৯৯৪ ও ২০১০ সালের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় জয়কে ক্লিনটন ও ওবামার প্রেসিডেন্সির অবসানের পূর্বাভাস হিসেবে দেখা হয়েছিল। কিন্তু দুজনই দুই বছর পর সহজ ব্যবধানে পুনর্নির্বাচিত হন।

শাহজালালে পরিত্যক্ত বিমান ভাঙারি হিসেবে বিক্রির উদ্যোগ

ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের লস অ্যাঞ্জেলেস ক্যাম্পাসের আমেরিকান রাজনীতি ও জননীতি বিভাগের অধ্যাপক লিন ভ্যাভরেক মনে করেন, এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে পেট্রলের আকাশছোঁয়া দাম। তাই এই ফলকে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক চরিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রমাণ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।

তিনি বলেন, ‘এর অর্থ এই নয় যে মাগা জোট ভেঙে পড়ছে। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার ঝলক যে কিছুটা কমেছে, তা বলা যায়। মানুষ তাঁর প্রতি আগের মতো আকৃষ্ট নয়—আমার মনে হয়, এর উত্তর হ্যাঁ।’

তবে তাঁর মতে, এর অর্থ এই নয় যে অভিবাসন ও বৈচিত্র্যের মতো ইস্যুতে ট্রাম্পের আমলে রিপাবলিকান পার্টির নেয়া পরিচয়ভিত্তিক নীতি থেকে দলটি সরে আসবে।

কারণ, ট্রাম্প দলটিকে নিজের আদলে নতুন করে গড়ে তুলেছেন। যারা তাঁর প্রতি আনুগত্য দেখিয়েছেন, তাঁদের ক্ষমতায়িত করেছেন। আর যারা স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে চেয়েছেন, তাঁদের দল থেকে সরিয়ে দিয়েছেন।

ফোর্ডহ্যাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক ক্রিস্টিনা এম. গ্রিয়ার বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট এখন কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাবেন, তা আমরা জানি না। তবে এখন পর্যন্ত তাঁর দলের সদস্যদের তাঁকে মেনে চলতেই দেখেছি।’

সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির শঙ্কায় সতর্ক অবস্থানে উপসাগরীয় দেশগুলো: দ্য গার্ডিয়ান

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের অভ্যন্তরীণ নীতিবিষয়ক উপদেষ্টা জো গ্রোগানের মতে, নির্বাচনের ফল যা-ই হোক, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির চেহারা বদলে দিয়েছেন ট্রাম্প। আগে যথেষ্ট গুরুত্ব না পাওয়া কিছু বিষয় তিনি সামনে এনেছেন।

এর মধ্যে রয়েছে আরো ভালো বাণিজ্য চুক্তির চেষ্টা এবং ন্যাটোর সদস্যদেশগুলোর সামরিক ব্যয় বাড়ানোর উদ্যোগ। তাঁর মতে, রিপাবলিকান পার্টি আর আগের অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে না।

ভোটকেন্দ্র বন্ধ হওয়ার আগে গ্রোগান বলেন, ‘আজ রাতে যা-ই ঘটুক, আমরা এখনো ট্রাম্পের দলেই আছি। যারা মনে করছেন, ট্রাম্পবাদের প্রত্যাখ্যান ঘটবে, তাঁরা ভুল করছেন। দলের মধ্যে কিছু বিতর্ক হবে, যা দলের জন্য ভালো। কিন্তু জর্জ ডব্লিউ বুশের নেতৃত্বে পরপর দুটি নির্বাচনে জয়ী হওয়া পুরোনো রিপাবলিকান পার্টিতে ফিরে যাওয়ার পক্ষে বড় কোনো জনসমর্থন আমি দেখছি না।’

অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটদের মধ্যেও এবারের জয়কে কীভাবে দেখা হবে, তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হতে পারে। এ বছর তাদের প্রধান পরিচয় ছিল ট্রাম্পবিরোধিতা। আর সেটিই জয়ের জন্য যথেষ্ট হয়েছে। তবে প্রগতিশীল নেতারা বলবেন, বামপন্থীদের সক্রিয়তা এই জয়ের মূল শক্তি।

অন্যদিকে মধ্যপন্থীরা মনে করবেন, টেক্সাস ও কানসাসের মতো অঙ্গরাজ্যে ট্রাম্পের ওপর অসন্তুষ্ট রিপাবলিকান ভোটারদের সমর্থন পাওয়াই ছিল জয়ের বড় কারণ।

শিকাগোর সাবেক ডেমোক্র্যাট মেয়র ও যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত রাহম ইমানুয়েল বলেন, ‘সবচেয়ে বড় ঘটনা হলো, মাগা-সমর্থক নন এমন রিপাবলিকানরা তাঁদের দল থেকে সরে এসেছেন। এখন প্রশ্ন হলো, আমরা এই নির্বাচনকে শুধু তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখব, নাকি বড় পরিবর্তনের সুযোগ হিসেবে নেব? ২০২৭ সালে আমরা কী করব, তার ওপরই সেটি নির্ভর করছে।’

১৯৭৪ সালের ওয়াটারগেট-পরবর্তী ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের সময় প্রথমবার কংগ্রেসে নির্বাচিত হয়েছিলেন জেমস ব্ল্যানচার্ড। পরে তিনি মিশিগানের গভর্নর হন। তাঁর কাছে এবারের নির্বাচন সেই ঐতিহাসিক বছরের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে ট্রাম্পের আগের যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ফিরে যাওয়া সম্ভব।

তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা আর পেছনে ফিরতে পারব না। আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে।’

এরপর তিনি যোগ করেন, ‘এটি ট্রাম্পের শেষের শুরু, যদিও তিনি এখনো ক্ষমতায় থাকবেন।’

কীসের আশঙ্কায় খাবার-পানি মজুতের নির্দেশ দিচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ?

রিপাবলিকানদের হারে ইরান যুদ্ধের প্রভাব স্বীকার করলেন ট্রাম্প

প্রকাশ: বুধবার, নভেম্বর ০৪, ২০২৬
রিপাবলিকানদের হারে ইরান যুদ্ধের প্রভাব স্বীকার করলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল নিয়ে ফক্স নিউজ-এর সঙ্গে কথা বলেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ সময় ইরানের কিছু অংশে হামলার পরিকল্পনা নিয়ে প্রকাশিত খবর প্রসঙ্গেও কথা বলেন তিনি।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের বড় কিছু করতে হবে।’ এর মধ্যে ‘বড় ধরনের আঘাত’ হানার বিষয়টিও থাকতে পারে বলে জানান তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘তারা (ইরান) কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না।’

সাক্ষাৎকারে মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের খারাপ ফলের পেছনে জ্বালানির উচ্চমূল্যের প্রভাবও স্বীকার করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, জ্বালানির জন্য বেশি দাম দিতে হওয়ায় মানুষ ‘খুশি ছিল না’।

কংগ্রেসের উভয় কক্ষে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের আভাস মিললেও এই ফলকে নিজের প্রেসিডেন্সির ওপর ‘আঘাত’ হিসেবে দেখছেন না ট্রাম্প। তার মতে, ডেমোক্র্যাটরা বহু বছর ধরে এমন বড় জয় পাওয়ার চেষ্টা করছিল। শেষ পর্যন্ত তারা তা অর্জন করেছে। এ জন্য দলটির প্রশংসাও করেন তিনি।

ফক্স নিউজের সাক্ষাৎকারে গত দুই বছরের সরকারের অর্জনের কথাও তুলে ধরেন ট্রাম্প। অর্থনীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ সীমান্তের নিরাপত্তাকে নিজের সরকারের প্রধান সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।