১৮ অক্টোবর ২০২৬

সৌদি আরবে হুতি হামলায় নিহতদের সম্পর্কে সর্বশেষ যা জানা গেল

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১২, ২০২৬
সৌদি আরবে হুতি হামলায় নিহতদের সম্পর্কে সর্বশেষ যা জানা গেল

সৌদি আরবের রিয়াদে বাদশাহ খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতিদের হামলায় ঝুঁকিতে পড়েছেন বাংলাদেশিরা।

বিমানবন্দরে হামলাস্থলে নিহত হয়েছেন দুই বাংলাদেশি। এদের একজন ছিলেন ওমরাহ যাত্রী। অন্যজন চাকরি করতেন রিয়াদে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও চার বাংলাদেশি।

সংকট তৈরি হয়েছে ঢাকায়ও। একের পর এক ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় শিডিউল লন্ডভন্ড হয়ে পড়েছে। এতে ৩ হাজার বাংলাদেশি আটকা পড়েছেন দেশে।

ঢাকায় এসে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌঁছানো প্রবাসী কর্মীরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। আটকা পড়াদের অনেকেরই সৌদি আরবে প্রবেশের সময়সীমা শেষের দিকে থাকায় তৈরি হয়েছে তাদের কাজের অনিশ্চয়তা। সৌদির বিমানবন্দরে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

গতকাল বিকাল পর্যন্ত বাতিল হওয়া ৮টি ফ্লাইটের মধ্যে রয়েছে- বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ২টি, ইউএস-বাংলার ১টি, সৌদিয়ার ৩টি, রিয়াদ এয়ারের ২টি। এসব ফ্লাইটের প্রায় ৩ হাজার যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস আজ দুপুর ১২টায় পরবর্তী ফ্লাইট শিডিউল ঘোষণা করবে।

শনিবার মধ্যরাতে রিয়াদের বাদশাহ খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় হুতি বিদ্রোহীরা। এতে সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায় বিমানবন্দরের কার্যক্রম। বাতিল করা হয় তিন শতাধিক ফ্লাইট। এ ছাড়াও হামলায় ১২ জন নিহত ও ৩০৯ জন আহত হয়েছেন।

সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে সৌদি আরবের চারজন, বাংলাদেশের দুজন এবং যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান ও মিসরের একজন করে নাগরিক রয়েছেন। নিহত বাংলাদেশিরা হলেন- কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরি ও বগুড়ার শাহজাহানপুরে মো. শাহেদ আহম্মেদ। তাদের বাড়িতে চলছে এখন শোকের মাতম।

গতকাল বিকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিরা সৌদির কিং খালেদ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সবার পরিচয় নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও বলেন, আহতদের সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছে রিয়াদের বাংলাদেশ দূতাবাস। আর যারা নিহত হয়েছেন তাদের লাশ রাষ্ট্রীয় খরচে দেশে আনার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এ হামলায় বাংলাদেশি কোনো বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি বলেও জানান শামা ওবায়েদ।

ফ্লাইট শিডিউল লন্ডভন্ড, অনিশ্চয়তায় ৩ হাজার বাংলাদেশি :

রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ঢাকা-রিয়াদ আকাশপথের যোগাযোগ। লন্ডভন্ড হয়ে পড়েছে ফ্লাইট শিডিউল।

গত শনিবার রাত থেকে রবিবার দুপুর পর্যন্ত রিয়াদগামী ৮টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকায় এসে বিমানবন্দরে পৌঁছানো প্রবাসী কর্মীরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। কারও গন্তব্য কর্মস্থল, কারও ফেরার কথা পরিবারের কাছে। কিন্তু ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় সবার যাত্রাই আটকে গেছে অনিশ্চয়তায়।

গতকাল দুপুরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহির্গমন টার্মিনালের বাইরে দেখা যায়, রিয়াদগামী ফ্লাইটের অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা। কেউ টিকিট ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হাতে নিয়ে এয়ারলাইনসের কাউন্টারে খোঁজ নিচ্ছেন, কেউ আবার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ফোনে কথা বলে পরবর্তী করণীয় জানার চেষ্টা করছেন।

দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা এসব প্রবাসীর অনেকেই জানেন না, কবে আবার সৌদি আরবে যাওয়ার সুযোগ পাবেন, কিংবা টিকিটের তারিখ পরিবর্তন করতে কী প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। ফ্লাইট বাতিলের পর বিকল্প যাত্রার নিশ্চয়তা না পেয়ে তাদের চোখেমুখে ছিল দুশ্চিন্তার ছাপ। বিদেশে কর্মস্থলে সময়মতো ফিরতে না পারার আশঙ্কার সঙ্গে যোগ হয়েছে নতুন করে যাতায়াত ও থাকা-খাওয়ার খরচের চাপ।

বিমানবন্দরের বহির্গমন টার্মিনালের বাইরে রিয়াদ প্রবাসী শাহ আলম বলেন, রিয়াদে যাওয়ার জন্য বিমানের টিকিট কেটে আগস্টে দেশে এসেছিলাম। রবিবার দুপুরে আমার ফ্লাইট ছিল। এখন হঠাৎ ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় বিপাকে পড়েছি। দেশের বাড়ি কেরানীগঞ্জের রোহিতপুর থেকে ঢাকায় এসে ফ্লাইট ধরার প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। এখন কবে যেতে পারব, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় আছি। সৌদি আরবে আমার কাজ আছে, সময়মতো ফিরতে না পারলে সমস্যায় পড়তে হবে। ফ্লাইটের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত জানানো হলে আমাদের ভোগান্তি কিছুটা কমত।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ারপোর্ট সিকিউরিটি ম্যানেজার (ফ্লাইট ম্যানেজমেন্ট) স্কোয়াড্রন লিডার সাকিব বলেন, বাতিল হওয়া ৮টি ফ্লাইটে মোট ২ হাজার ৯৫১ জন যাত্রীর রিয়াদে যাওয়ার কথা ছিল। সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলো ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের এ বিষয়ে অবহিত করছে।

যাত্রীদের নিজ নিজ এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরবর্তী যাত্রার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। এটি একটি বৈশ্বিক সংকট। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে ধৈর্য ও সহমর্মিতার সঙ্গে অপেক্ষা করার অনুরোধ জানাচ্ছি।

ফ্লাইটের সময়সূচি আজ দুপুরে জানাবে বিমান :

সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ থাকায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট পুনর্র্নির্ধারণের সময়সূচি জানিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।

গতকাল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ রাখার সময়সীমা ১১ অক্টোবর ইউটিসি ২১টা পর্যন্ত, অর্থাৎ বাংলাদেশ সময় ১২ অক্টোবর রাত ৩টা পর্যন্ত বর্ধিত করেছে। বিমানবন্দরটি পুনরায় চালুর বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১১ ও ১২ অক্টোবর ঢাকা রিয়াদ ও রিয়াদ ঢাকা রুটের নির্ধারিত ইএ৩৩৯ ও ইএ৩৪০ ফ্লাইট দুটি স্থগিত করা হয়েছে। ফ্লাইট এবং সময়সূচি সম্পর্কে আজ বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টায় সবাইকে অবহিত করবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।

বাংলাদেশের তীব্র নিন্দা :

বাদশাহ খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের হামলায় দুজন বাংলাদেশিসহ ১২ জন হতাহতের ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ। গতকাল এক বিবৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহতদের বিস্তারিত তথ্য পেতে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করতে সৌদি সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে রিয়াদের বাংলাদেশ মিশন। বিবৃতিতে বলা হয়, বেসামরিক মানুষের জীবন বিপন্নকারী এবং বেসামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে যেকোনো হামলা গ্রহণযোগ্য নয় এবং এ ধরনের হামলা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।

এ ঘটনায় সৌদি আরবের সঙ্গে সংহতি জানানোর পাশাপাশি সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের সমাধান বের করার আহ্বান আবারও জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে অবিলম্বে শত্রুতা বন্ধ, বেসামরিক নাগরিক ও বেসামরিক অবকাঠামোর সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে চলমান সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানাচ্ছে বাংলাদেশ।

মেয়াপ্তোত্তীর্ণ QID নিয়ে কি কাতারে ফেরা সম্ভব? জেনে নিন আইনি উপায়

প্রকাশ: রবিবার, অক্টোবর ১৮, ২০২৬
মেয়াপ্তোত্তীর্ণ QID নিয়ে কি কাতারে ফেরা সম্ভব? জেনে নিন আইনি উপায়

কাতারে বসবাসরত অনেক প্রবাসীদের মনেই একটি সাধারণ প্রশ্ন জাগে—রেসিডেন্সি পারমিট (QID) মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে কি পুনরায় কাতারে প্রবেশ করা সম্ভব? সাম্প্রতিক তথ্য ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (MoI) বিধিমালা অনুযায়ী, আকামার মেয়াদ শেষ হলেও সঠিক আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নির্ধারিত উপায়ে কাতার রেসিডেন্সিতে পুনরায় ফিরে আসা সম্ভব। সে বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (MoI) বিধিমালা অনুযায়ী নির্দেশনামূলক তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

কাতার থেকে বিদেশে ভ্রমণের সময় বা কাতার আইডির মেয়াদ শেষ হওয়ার মুখোমুখি হলে প্রবাসীদের বেশ কিছু জরুরি আইনি ও প্রযুক্তিগত নিয়ম অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।

বৈধ আকামা থাকা অবস্থায় কাতারে প্রবেশের শর্তাবলী

সাধারণ নিয়মে কাতার আইডি বা রেসিডেন্সি পারমিটের মেয়াদ থাকা অবস্থায় যেকোনো কাতার প্রবাসী দেশে ফিরতে পারেন। তবে এ ক্ষেত্রে কয়েকটি মূল বিষয়ে নজর রাখা জরুরি।

বৈধ কাতার আইডি নিয়ে প্রবেশের শর্তাবলি

  • মেয়াদের শর্ত: কাতারে নামার মুহূর্ত পর্যন্ত কাতার আইডির মেয়াদ বহাল থাকতে হবে।

  • পাসপোর্টের মেয়াদ: ভ্রমণের সময় পাসপোর্টের ন্যূনতম ছয় মাসের মেয়াদ থাকা বাধ্যতামূলক।

  • ১৮০ দিনের সীমা: বিদেশে অবস্থানের সময়সীমা কোনোভাবেই টানা ১৮০ দিন বা ছয় মাস অতিক্রম করা যাবে না। এই নির্দিষ্ট সময় পার হয়ে গেলে বিমানবন্দরে এয়ারলাইনস থেকে বোর্ডিং পাস প্রদান না করার ঝুঁকি থাকে।

মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে কীভাবে ফিরবেন? প্রবেশ করার উপায় ('রিটার্ন পারমিট')

যদি কোনো কারণে আকামার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়, তবে কাতার প্রবেশের জন্য সংশ্লিষ্ট কাতার প্রবাসী নিজে সরাসরি টিকিট কেটে চলে আসতে পারবেন না। এ ক্ষেত্রে প্রবাসীর কফিল বা স্পন্সরকে (কোম্পানি বা ফ্যামিলি স্পন্সর) মেত্রাশ (Metrash) অ্যাপের মাধ্যমে 'রিটার্ন পারমিট' (Return Permit)-এর জন্য আবেদন করতে হবে।

  • আবেদন পদ্ধতি: স্পন্সর তার স্মার্টফোন থেকে অ্যাপে প্রবেশ করে 'Travel' অপশনে গিয়ে 'Return Permit' সেকশন সিলেক্ট করবেন। সেখানে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করে আবেদন দাখিল করতে হবে।

  • মেয়াদ ও ফি: কোম্পানি বা পারিবারিক স্পন্সরশিপের অধীনে এই পারমিটের জন্য সরকারি ফি ৫০০ কাতারি রিয়াল। রিটার্ন পারমিট ইস্যু হওয়ার পর এটি মাত্র ৩০ দিনের জন্য বৈধ থাকবে। এই সময়ের মধ্যেই কাতারে পৌঁছাতে হবে।

  • জরুরি পরামর্শ: আইডি বাতিল হওয়া বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিস্টেমে বাতিল ঠেকাতে আইডির মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত এক দিন আগে কিংবা মেয়াদ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই মেট্রাশে রিটার্ন পারমিটের আবেদন করা উচিত। অ্যাপে আবেদন প্রত্যাখ্যাত বা কোনো জটিলতা দেখা দিলে কাতারস্থ ওয়াদি আল বানাত (Wadi Al Banat) ইমিগ্রেশন অফিসে সরাসরি যোগাযোগ করা যেতে পারে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের নিজস্ব বিবেচনা ও দেরিতে ফেরার যৌক্তিক কারণ পর্যালোচনা করে এই পারমিট মঞ্জুর করে থাকে।

মেয়াদোত্তীর্ণ আইডির জরিমানা সংক্রান্ত তথ্য

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো প্রবাসীর রেসিডেন্স পারমিটের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যদি তিনি বিদেশে অবস্থান অব্যাহত রাখেন, তবে ৯০ দিনের বেশি বা নির্দিষ্ট মেয়াদের অতিরিক্ত প্রতি দিনের জন্য দৈনিক ১০ কাতারি রিয়াল হারে জরিমানার বিধান রয়েছে।

ভ্রমণের আগে টিকিট বুকিং না করে অবশ্যই স্পন্সরের মাধ্যমে আইডির সঠিক স্ট্যাটাস এবং রিটার্ন পারমিট নিশ্চিত করে নেওয়ার জন্য প্রবাসীদের প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

কাতারে ভিসা ব্যবসা এবং অবৈধ প্রবাসীদের ব্যাপারে পুলিশের নির্দেশনা

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ১৭, ২০২৬
কাতারে ভিসা ব্যবসা এবং অবৈধ প্রবাসীদের ব্যাপারে পুলিশের নির্দেশনা

কাতারে যেসব প্রবাসী রেসিডেন্সি বা কাতার আইডির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বেআইনিভাবে অবস্থান করছেন এবং নিজ দেশে ফিরে যেতে ইচ্ছুক, তাদের আত্মগোপনে না থেকে স্বেচ্ছায় এগিয়ে এসে সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (MoI) সার্চ অ্যান্ড ফলো-আপ ডিপার্টমেন্ট।

সম্প্রতি আয়োজিত একটি ওয়েবিনারে এই বিষয়ে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেন কাতার পুলিশের কর্মকর্তা সার্চ অ্যান্ড ফলো-আপ ডিপার্টমেন্টের ডিটেনশন সেকশনের প্রধান মেজর সৌদ হামাদ আল-বুরাইদি। তিনি জানান, যেসব প্রবাসী অনুমোদিত মেয়াদের বেশি সময় কাতারে অবস্থান করেছেন কিন্তু তাদের নামে অন্য কোনো আইনি মামলা বা ফৌজদারি অভিযোগ নেই, তারা স্বেচ্ছায় পুলিশের সিআইডি বিভাগে যোগাযোগ করে নিজ দেশে ফেরার আবেদন জানাতে পারেন।

আবেদনকারীদের ব্যক্তিগত পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের নিরাপদে দেশে ফেরার ব্যবস্থা করা হবে।

অনুষ্ঠানে ভিসাসংক্রান্ত আইন লঙ্ঘন ও অবৈধ ভিসা ব্যবসার শাস্তির বিষয়টিও কঠোরভাবে তুলে ধরে মেজর আল-বুরাইদি জানান, অবৈধ ভিসা বা ফ্রি ভিসা ব্যবসার সাথে জড়িত পাওয়া গেলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার কাতারি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা করা হবে। একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি হলে জরিমানার পরিমাণ বাড়িয়ে এক লাখ রিয়াল পর্যন্ত হতে পারে।

একইভাবে, কোনো নিয়োগকর্তা বা স্পন্সর যদি কর্মীর আইডির মেয়াদ শেষ হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে তা নবায়ন করতে ব্যর্থ হন, তবে তাকে প্রতিটির জন্য ১০ হাজার রিয়াল জরিমানা দিতে হবে।

অবৈধভাবে অবস্থান করা, ভিসার শর্ত ভঙ্গ করে অন্যত্র কাজ করা, আকামা নবায়ন না করা এবং কাজ থেকে পালিয়ে যাওয়ার মতো বিষয়গুলোর বিরুদ্ধে নিয়মিত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে সবাইকে সতর্ক করেন আলবুরাইদি।

তবে সার্চ অ্যান্ড ফলো-আপ ডিপার্টমেন্টের ডিটেনশন সেন্টার কোনো শাস্তিমূলক স্থান নয় বলে জানান তিনি। বরং এটি মূলত দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলাকালে সাময়িক অবস্থানের একটি স্থান, যেখানে ২৪ ঘণ্টা স্বাস্থ্যসেবা, সুষম খাবার এবং নিজ নিজ দূতাবাসের সাথে যোগাযোগের অধিকার নিশ্চিত করা হয়।

রেসিডেন্সিসংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে প্রবাসীরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট কিংবা ইউনিফাইড সার্ভিস সেন্টারগুলোর সহায়তা নিতে পারেন।

এছাড়া যেসব বিষয় এসব সেবা কেন্দ্রে সমাধান সম্ভব নয়, তার জন্য প্রবাসীদের সালওয়া রোডে অবস্থিত সার্চ অ্যান্ড ফলো-আপ ডিপার্টমেন্টের প্রধান কার্যালয়ে সরাসরি যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কাতারে চেক ডিজঅনার বা বাউন্স মামলার আইনি প্রক্রিয়া: প্রবাসীদের যা জানা জরুরি

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
কাতারে চেক ডিজঅনার বা বাউন্স মামলার আইনি প্রক্রিয়া: প্রবাসীদের যা জানা জরুরি

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারে চেক ডিজঅনার বা চেক বাউন্স হওয়া একটি অত্যন্ত গুরুতর আর্থিক অপরাধ। ব্যবসায়িক লেনদেন বা ব্যক্তিগত পাওনা আদায়ের ক্ষেত্রে চেক প্রদান করার পর যদি তা পর্যাপ্ত তহবিলের অভাব বা অন্য কোনো কারণে ব্যাংকে প্রত্যাখ্যাত হয়, তবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আইনি প্রক্রিয়ায় এর প্রতিকার পেতে পারেন। কাতারে চেক বাউন্স হলে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সুনির্দিষ্ট কিছু ধাপ অনুসরণ করতে হয়।

কাতারে চেক ডিজঅনার বা বাউন্স মামলার আইনি প্রক্রিয়া: প্রবাসীদের যা জানা প্রয়োজন

চেক বাউন্স হলে কী ঘটে?

একটি সাধারণ আইনি প্রক্রিয়ায় নিচের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকে:

  • চেক ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়।
  • ব্যাংক অর্থ পরিশোধ না করে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ উল্লেখ করে চেকটি ফেরত দেয়।
  • সুবিধাভোগী (Beneficiary) বা পাওনাদার চেক ডিজঅনার হওয়ার প্রমাণপত্র বা মেমো সংগ্রহ করেন।
  • এরপর তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দায়ের করতে পারেন।
  • পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে বিষয়টি তদন্ত ও প্রসিকিউশনের মাধ্যমে সামনে এগোতে পারে।
  • আদালত একইসঙ্গে ফৌজদারি দিক এবং চেকের অর্থ উদ্ধারের বিষয়টি পরিচালনা করতে পারেন।

কাতার সেন্ট্রাল ব্যাংকের (QCB) ক্লিয়ারিং-সিস্টেমের নিয়ম অনুযায়ী, ফেরত আসা চেকের সাথে অবশ্যই প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ উল্লেখ করে একটি দাপ্তরিক নথি যুক্ত থাকতে হবে।

আরও পড়ুন

কাতারে শিক্ষাগত সার্টিফিকেট বা ডিগ্রি অ্যাটেস্টেশন: নিয়মকানুন ও প্রক্রিয়া

কাতারে খোলা জায়গায় গাড়ি ধোয়া নিষিদ্ধ: অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা

ফৌজদারি শাস্তি

কাতার দণ্ডবিধির ৩৫৭ অনুচ্ছেদে চেক সংক্রান্ত একাধিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপরাধের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত তহবিল নেই জেনেও চেক ইস্যু করা, চেক ইস্যু করার পর অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ তুলে নেওয়া, অথবা চেকটি নগদায়ন করা সম্ভব নয় জেনেও তা প্রদান করা।

এই আইন অনুযায়ী, অপরাধীর কমপক্ষে তিন মাস থেকে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড এবং/অথবা ৩,০০০ থেকে ১০,০০০ রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। আদালত অপরাধীকে চেকের সমপরিমাণ অর্থ এবং সুবিধাভোগীর আইনি খরচ পরিশোধেরও নির্দেশ দিতে পারেন। তবে লক্ষণীয় যে, ব্যাংক থেকে ফেরত আসা প্রতিটি চেক স্বয়ংক্রিয়ভাবে অভিন্ন ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় না। চেক প্রদানের প্রেক্ষাপট এবং এর সাথে জড়িত পরিস্থিতিগুলো এক্ষেত্রে বিচার্য বিষয়।

প্রবাসীদের করণীয় কী?

আপনি যদি এমন কোনো চেক দিয়ে থাকেন যা বাউন্স করেছে, তবে পুলিশ, পাবলিক প্রসিকিউশন, আদালত বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের যোগাযোগ কোনোভাবেই এড়িয়ে চলবেন না। নিচের কাগজপত্রগুলোর কপি সবসময় নিজের সংগ্রহে রাখুন:

  • মূল চেকের কপি এবং চেকের নম্বর
  • ব্যাংক রিটার্ন মেমো (বাউন্স স্লিপ)
  • ব্যাংক স্টেটমেন্ট
  • অর্থ প্রদান বা আপস-মীমাংসার রেকর্ড
  • সুবিধাভোগীর সাথে যোগাযোগের প্রমাণ
  • চেকের সাথে সম্পর্কিত যেকোনো চুক্তিপত্র বা ইনভয়েস
  • আইডি এবং রেসিডেন্স পারমিট (QID)

আর আপনি যদি পাওনাদার বা সুবিধাভোগী হন, তবে মূল চেক এবং ব্যাংক থেকে পাওয়া চেক প্রত্যাখ্যাত হওয়ার প্রমাণপত্র সযত্নে সংরক্ষণ করুন। কাতারের বিচার মন্ত্রণালয়ের নির্দেশিকা অনুযায়ী চেক সংক্রান্ত আইনি সেবার ক্ষেত্রে এই নথিপত্রগুলো অপরিহার্য।

কাতারে চেকের মামলা করার ধাপে ধাপে আইনি প্রক্রিয়া নিচে তুলে ধরা হলো:

ব্যাংকের বাউন্স স্লিপ বা মেমো সংগ্রহ

চেক ব্যাংকে জমা দেওয়ার পর যদি তা ডিজঅনার হয়, তবে প্রথমেই ব্যাংক থেকে একটি অফিসিয়াল “চেক ডিজঅনার মেমো” বা বাউন্স স্লিপ সংগ্রহ করতে হবে। এই নথিতে চেক বাউন্স হওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ—যেমন অপর্যাপ্ত তহবিল (Insufficient Funds), অ্যাকাউন্ট বন্ধ থাকা বা স্বাক্ষরের অমিল—স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে।

থানায় অভিযোগ বা পুলিশ রিপোর্ট দায়ের: বাউন্স স্লিপ হাতে পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করতে হয়।

থানায় অভিযোগ: যে এলাকার ব্যাংকে চেকটি জমা দেওয়া হয়েছিল বা যে থানাধীনে চেকটি ইস্যু করা হয়েছে, সেই এলাকার পুলিশ স্টেশনে যোগাযোগ করতে হবে।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র: মূল চেক এবং এর উভয় পিঠের ফটোকপি, ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত বাউন্স স্লিপ, নিজের কাতার আইডি (QID)-এর কপি এবং বাণিজ্যিক বা চুক্তিভিত্তিক লেনদেন হলে সংশ্লিষ্ট চুক্তিপত্র বা ইনভয়েস সাথে রাখতে হবে। পুলিশ থানায় অভিযোগ নথিভুক্ত করার পর অভিযুক্ত ব্যক্তিকে (যিনি চেক প্রদান করেছেন) ডেকে পাঠাবে অথবা আইনগত তলব করবে।

প্রসিকিউশন ও আদালত

থানায় প্রাথমিক তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর পুলিশ মামলাটি পাবলিক প্রসিকিউশনে হস্তান্তর করে। পাবলিক প্রসিকিউশন তথ্য-প্রমাণ ও সত্যতা যাচাই করে মামলাটি ফৌজদারি আদালতে (Criminal Court) পাঠায়। কাতারের ফৌজদারি আইন (Qatar Penal Code No. 11 of 2004 - Article 357) অনুযায়ী, চেক ডিজঅনারের অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তির আর্থিক জরিমানা অথবা ৩ মাস থেকে ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

পাওনা টাকা আদায়ের দেওয়ানি প্রক্রিয়া

ফৌজদারি আদালতে অভিযুক্ত ব্যক্তির সাজা বা জরিমানা হলেও মূল পাওনা টাকা উদ্ধারের জন্য অনেক সময় দেওয়ানি বা বাণিজ্যিক আদালতে (Civil/Commercial Court) আলাদা দাবি বা মামলা দায়ের করতে হয়। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পুলিশ স্টেশন বা প্রসিকিউশন পর্যায়েই বিবাদী ব্যক্তি গ্রেফতার বা আইনি সাজা এড়াতে দেনা পরিশোধ করে দেন কিংবা পারস্পরিক সমঝোতায় পৌঁছান।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরামর্শ:

নির্ধারিত সময়: চেক বাউন্স হওয়ার পর কালক্ষেপণ না করে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। সময় বাড়লে নথিপত্র ও আইনি প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হতে পারে।

অনুবাদ: কোনো চুক্তিপত্র বা সহায়ক কাগজপত্র আরবি ছাড়া অন্য ভাষায় থাকলে তা কাতারের অনুমোদিত আইনি অনুবাদক দিয়ে আরবিতে অনুবাদ করিয়ে নেওয়া বাধ্যতামূলক।

আইনি সহায়তা: পাওনা বা মামলার আর্থিক পরিমাণ বড় হলে কিংবা প্রক্রিয়াটি দ্রুত সম্পন্ন করতে কাতারের লাইসেন্সপ্রাপ্ত স্থানীয় কোনো আইনজীবী বা লিগ্যাল কনসালটেন্টের পরামর্শ নেওয়া নিরাপদ।

চেকের মামলা থাকলে কি কাতার ত্যাগ করা যায়?

এটি এমন একটি বিষয় যেখানে প্রবাসীদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। এর পরিণতি মামলার বাস্তব অবস্থার ওপর নির্ভর করে। দেশ ত্যাগ করলেই চেকের মামলা বাতিল হয়ে যাবে—এমনটা ভাবা একেবারেই অনুচিত। ভ্রমণের আগে আপনার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ বা আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে কি না, তা জানতে কাতারের কোনো যোগ্য আইনজীবীর পরামর্শ নিন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আপনার আইনি অবস্থা (Legal Status) যাচাই করে নিন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত কোনো গুজবে কান দেবেন না। নির্দিষ্ট কোনো চেক বাউন্স হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা (Exit ban), গ্রেফতার, নির্বাসন বা কারাদণ্ড হবেই—এমন তথ্যের ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে মামলার বর্তমান অবস্থা এবং প্রযোজ্য আইনি প্রক্রিয়ার ওপর ভরসা করা উচিত।

আপনি যদি বিষয়টি মীমাংসা করতে চান

সম্ভব হলে কেবল মৌখিক চুক্তির ওপর নির্ভর না করে যেকোনো আপস-মীমাংসা বা অর্থ লেনদেনের লিখিত প্রমাণ সংগ্রহ করুন। আনুষ্ঠানিকভাবে আইনি প্রক্রিয়া বন্ধ বা প্রত্যাহার করতে কী কী পদক্ষেপ প্রয়োজন তা নিশ্চিত করতে একজন আইনজীবীর পরামর্শ নিন। কারণ, চেকের অর্থ পরিশোধ করা এবং আনুষ্ঠানিকভাবে একটি ফৌজদারি অভিযোগ নিষ্পত্তি করা একই বিষয় নয়।

(সতর্কীকরণ: কাতারের চেক সংক্রান্ত আইনি ও প্রশাসনিক পদ্ধতি পরিবর্তনশীল। উপরের তথ্যগুলো ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রাপ্ত আইন ও সরকারি নির্দেশনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে এবং এটি সাধারণ তথ্য মাত্র। কোনো চলমান ফৌজদারি অভিযোগ, সমন, গ্রেফতার ঝুঁকি বা ভ্রমণ সংক্রান্ত আইনি সমস্যার জন্য অবিলম্বে কাতারের লাইসেন্সপ্রাপ্ত আইনজীবীর পরামর্শ গ্রহণ করুন।)

আরও পড়ুন

কাতারে না জানিয়ে কারো ছবি বা ভিডিও ধারণ করলেই জেল-জরিমানা

সবুজে সেজে উঠছে কাতার: সবুজায়ন ও বৃক্ষরোপণে নতুন মাইলফলক

পাবলিক ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া ট্যাক্সি, লিমুজিন ও বাস চালানো নিষিদ্ধ: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

কাতারে শিক্ষাগত সার্টিফিকেট বা ডিগ্রি অ্যাটেস্টেশন: নিয়মকানুন ও প্রক্রিয়া

প্রকাশ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬
কাতারে শিক্ষাগত সার্টিফিকেট বা ডিগ্রি অ্যাটেস্টেশন: নিয়মকানুন ও প্রক্রিয়া

কাতারে চাকুরিতে আবেদন, নিয়োগকর্তা পরিবর্তন কিংবা পেশাদার লাইসেন্সিংয়ের প্রয়োজনীয়তা মেটাতে শিক্ষাগত সার্টিফিকেট বা ডিগ্রির বৈধতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। কাতারে অফিসিয়াল ব্যবহারের জন্য বিদেশ থেকে অর্জিত ডিপ্লোমা, বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি কিংবা চিকিৎসা শিক্ষার সনদ কাতার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (MOFA) মাধ্যমে অনুমোদন বা অ্যাটেস্ট করাতে হয়।

কাতারে শিক্ষাগত নথি অনুমোদনের নিয়মাবলী ও প্রক্রিয়া নিচে তুলে ধরা হলো:

নথি গ্রহণের শর্ত ও নিয়মাবলি:

বিদেশে জারি করা নথির ক্ষেত্রে নিজ দেশের যথাযথ প্রক্রিয়া শেষ করে অবশ্যই কাতারের সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক মিশন অথবা কাতারে অবস্থিত অনুমোদিত কোনো বিদেশী মিশনের মাধ্যমে অ্যাটেস্টেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

বিদেশে জারি করা যেকোনো স্নাতক ডিগ্রির সাথে মার্কশিট বা ট্রান্সক্রিপ্ট বাধ্যতামূলকভাবে জমা দিতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় যোগ্যতার ক্ষেত্রে সনদটি অবশ্যই একটি স্বীকৃত এবং অনুমোদিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হতে হবে। নথিতে প্রয়োজনীয় সিল এবং স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক।

ফিলিপাইনের নথির ক্ষেত্রে বিশেষ নির্দেশনা: ফিলিপাইন থেকে ইস্যুকৃত নথির ক্ষেত্রে অ্যাপোস্টিল (Apostille) কনভেনশন পুরোপুরি প্রযোজ্য না হওয়ায় অতিরিক্ত দূতাবাস বা কনস্যুলার বৈধতার প্রয়োজন হতে পারে। তাই নথিপত্র কাতারে পাঠানোর আগে ফিলিপাইন ডিএফএ (DFA)-এর নিয়মগুলো যাচাই করে নেওয়া উচিত।

অনলাইন আবেদন ও ফি:

আবেদনকারীরা খুব সহজেই অফিসিয়াল কাতার এমওএফএ (MOFA) ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইন আবেদন করতে পারেন। এছাড়া কনস্যুলার বিষয়ক বিভাগ এবং নির্বাচিত সরকারি সেবা কেন্দ্রের মাধ্যমেও আবেদন করা সম্ভব।

সাধারণ সার্টিফিকেটের অনুমোদন ফি: QAR ১০০।

কোম্পলিট অ্যাটেস্টেশন আউটসাইড কাতার:

বিদেশে বসেই এই সেবার মাধ্যমে এমওএফএ-এর সহযোগিতায় কাতারি মিশনে নথি পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় বৈধতা সম্পন্ন করা যায়। এই সেবার ক্ষেত্রে অনুমোদন সম্পন্ন করতে QAR ১৫০, কাতারি মিশনের ফি বাবদ প্রায় QAR ১২০ এবং সংশ্লিষ্ট দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত চার্জ প্রযোজ্য হতে পারে।

যোগাযোগ ও সহায়তা:

যেকোনো প্রয়োজনে বাসিন্দারা কাতারের সরকারি যোগাযোগ কেন্দ্র ১০৯ নম্বরে (২৪/৭ চালু) অথবা এমওএফএ অনুমোদন বিভাগে ৪০১১ ১১৮৮ নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন।

কাতারে ট্রাফিক পুলিশের নিলামে কম দামে গাড়ি কেনার সুযোগ: তারিখ, সময় ও শর্তাবলি

প্রকাশ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬
কাতারে ট্রাফিক পুলিশের নিলামে কম দামে গাড়ি কেনার সুযোগ: তারিখ, সময় ও শর্তাবলি

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাধারণ ট্রাফিক পরিচালনা অধিদপ্তরের উদ্যোগে আগামী ৪ অক্টোবর ২০২৬ থেকে শুরু হতে যাচ্ছে আটককৃত যানবাহনের পাবলিক নিলাম। ইন্ডাস্ট্রিয়াল এরিয়া ৫২ নম্বর স্ট্রিটের ভেহিকেল ইম্পাউন্ড ইয়ার্ডে এই নিলাম অনুষ্ঠিত হবে।

টানা দুই সপ্তাহব্যাপী এই নিলাম প্রতিদিন বিকেল ৩:০০ টা থেকে সন্ধ্যা ৬:০০ টা পর্যন্ত চলবে।

যানবাহন পরিদর্শনের সময়সূচি:

নিলামে তোলার আগে আগ্রহী ক্রেতারা নির্ধারিত সময়ে গাড়িগুলো সরেজমিনে দেখে নিতে পারবেন:

  • তারিখ: ৩০ সেপ্টেম্বর এবং ১ অক্টোবর ২০২৬

  • সময়: সকাল ৭:০০ টা থেকে দুপুর ১২:০০ টা পর্যন্ত

নিলামে অংশগ্রহণের মূল শর্তাবলি:

বিডিং কার্ড (Bidding Card): নিলামে অংশ নিতে ইচ্ছুকদের নিলাম চত্বরে প্রবেশের আগে ৩,০০০ কিউএআর (QAR 3,000) ক্যাশ ডিপোজিট বা জামানত দিয়ে বিডিং কার্ড সংগ্রহ করতে হবে। কার্ড ফেরত দিলে দিনের শেষে এই জামানত ফেরত পাওয়া যাবে অথবা পরবর্তী লেনদেনের জন্য জমা রাখা যাবে। তবে গাড়ি ক্রয়ে ব্যর্থ হলে কার্ডটি ডাউন পেমেন্ট হিসেবে গণ্য হবে।

ডাউন পেমেন্ট ও পরিশোধ: নিলামে গাড়ি ক্রয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার পর বিক্রয় মূল্যের ২০% তাৎক্ষণিক বা পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নন-refundable ডাউন পেমেন্ট হিসেবে পরিশোধ করতে হবে এবং পরের দিনই সম্পূর্ণ মূল্য পরিশোধ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ মূল্য পরিশোধ না করলে কমিটি পুনরায় গাড়িটি নিলামে তোলার অধিকার রাখে এবং পূর্বের ডাউন পেমেন্টের অর্থ ফেরত দেওয়া হবে না।

অন্যান্য নিয়ম: নাম পরিবর্তনের জন্য ২০০ কিউএআর ফি প্রযোজ্য এবং তা কেবল সম্পূর্ণ মূল্য পরিশোধের পরেই করা যাবে। নিলাম সম্পন্ন করার সময় অবশ্যই মূল আইডি কার্ড প্রদর্শন করতে হবে। এছাড়া নিলামের কার্যক্রমে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং আগের কোনো বকেয়া না থাকা সাপেক্ষে যেকোনো ব্যক্তিকে কমিটি বাদ দেওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করে।

নিলাম সংক্রান্ত বিস্তারিত নিয়মাবলি ও শর্ত জানতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্ধারিত সময়ে ইম্পাউন্ড ইয়ার্ডে উপস্থিত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।