১৮ অক্টোবর ২০২৬

সৌদি আরব হুথিদের হামলা ঠেকাতে পারছে না কেন?

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১২, ২০২৬
সৌদি আরব হুথিদের হামলা ঠেকাতে পারছে না কেন?

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা একের পর এক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে সৌদি আরবের অভ্যন্তরে হামলা চালাচ্ছে।

ইরান-সমর্থিত এই সশস্ত্র গোষ্ঠী আনসার আল্লাহ নামেও পরিচিত। তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে সৌদি রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও।

গত সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে বিমানবন্দরটিতে একাধিকবার হামলা চালিয়েছে হুথিরা। শনিবারের হামলায় ১২ জন নিহত ও ৩০৯ জন আহত হওয়ার খবর জানিয়েছে সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। এক দশকের বেশি সময়ের মধ্যে সৌদি আরবে এটিকে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

হামলার পর বিমানবন্দরটির কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। সব ফ্লাইট অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। এ ছাড়া সৌদি আরবে ভ্রমণের বিষয়ে নতুন সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য।

চলতি সপ্তাহের শুরুতেও বিমানবন্দরটিতে আরও দুটি হামলার দাবি করেছে হুথিরা। রোববার সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলো এড়িয়ে চলতে মানুষকে সতর্ক করেছে গোষ্ঠীটি।

সৌদি আরব বিশ্বের অন্যতম আধুনিক ও সুসজ্জিত সামরিক বাহিনীর অধিকারী। দেশটির রয়েছে একাধিক স্তরের উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। এরপরও কীভাবে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দেশটির প্রতিরক্ষা ভেদ করছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

হুথিদের অস্ত্রভান্ডার কতটা শক্তিশালী?

রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় ঠিক কোন ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি। তবে ২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনে সামরিক হস্তক্ষেপ শুরু করার পর থেকে সৌদি আরব লক্ষ্য করে শত শত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে হুথিরা।

২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখলের পর থেকে গোষ্ঠীটির অস্ত্রভান্ডারে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ইসরায়েল পর্যন্ত পৌঁছেছে। নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতাও দেখিয়েছে তারা। সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনাও তাদের হামলার লক্ষ্য হয়েছে।

হুথিরা বিভিন্ন গতির ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র একসঙ্গে ব্যবহার করে। এতে প্রতিপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার পক্ষে সব হামলা শনাক্ত করা ও প্রতিহত করা কঠিন হয়ে পড়ে। ইয়েমেনের স্থলযুদ্ধেও একই ধরনের কৌশল দেখা গেছে। সরকারি বাহিনীর অবস্থানে কয়েক সপ্তাহ ধরে হামলা চালানোর পর গত মাসে দ্রুত অভিযান চালিয়ে লোহিত সাগর উপকূলের কিছু এলাকা দখল করে তারা।

গোষ্ঠীটির উন্নত অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘প্যালেস্টাইন-২’। দুই ধাপের এই কঠিন জ্বালানিচালিত ক্ষেপণাস্ত্রটির পাল্লা প্রায় ২ হাজার কিলোমিটার বলে ধারণা করা হয়। এটি হাইপারসনিক গতিতে চলতে সক্ষম বলেও দাবি রয়েছে।

আরেকটি ক্ষেপণাস্ত্র হলো ‘তুফান’। এটি ইরানের ‘ঘদর’ ক্ষেপণাস্ত্রের পরিবর্তিত সংস্করণ বলে মনে করা হয়। এর পাল্লা প্রায় ১ হাজার ৩৫০ থেকে ১ হাজার ৯৫০ কিলোমিটার।

কিছু ক্ষেপণাস্ত্রে গুচ্ছবোমা বহনের সক্ষমতা রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। ইয়েমেন থেকে প্রায় ২ হাজার কিলোমিটার দূরের ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ভেদ করে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে এ ধরনের অস্ত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে ধারণা করা হয়।

এ ছাড়া হুথিদের হাতে ‘বুরকান’ ও ‘বাদর’ সিরিজের স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। এগুলোও ইরানি প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে তৈরি বলে ধারণা করা হয়। সৌদি আরবের সীমান্তবর্তী এলাকায় হামলায় এসব ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।

কিংস কলেজ লন্ডনের যুদ্ধ অধ্যয়ন বিভাগের জ্যেষ্ঠ গবেষক নওয়াফ ওবায়েদের মতে, হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্রভান্ডারের বড় অংশই ইরানের অস্ত্রপ্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল। এতে চীনা প্রযুক্তিরও কিছু প্রভাব রয়েছে।

তিনি বলেন, নিজস্ব প্রযুক্তিতে বড় ধরনের উদ্ভাবনের উল্লেখযোগ্য প্রমাণ হুথিদের ক্ষেত্রে খুব কম। তাদের স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা মূলত অপেক্ষাকৃত কম উন্নত কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তৈরির মধ্যে সীমাবদ্ধ।

গত মাসে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী অভিযোগ করে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হুথিদের নতুন ধরনের অস্ত্র—লক্ষ্যবস্তুর ওপর ঘোরাফেরা করে আঘাত হানতে সক্ষম ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র—উন্নয়নে সহায়তা করছে।

কেন সৌদির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যর্থ হচ্ছে?

সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত সপ্তাহে তাদের বাহিনী বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য উড়ন্ত বস্তু ভূপাতিত করেছে। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার রাজধানী লক্ষ্য করে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও রয়েছে। তবে শনিবার কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আঘাত হানা বস্তুটি প্রতিহত করতে পারেনি তারা।

নওয়াফ ওবায়েদ আল জাজিরাকে বলেন, সৌদি আরবের আয়তন এবং ইয়েমেনের সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্তের কারণে মাঝেমধ্যে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ভেদ করে হামলা হওয়া অস্বাভাবিক নয়।

তার ভাষায়, একাধিক স্তরের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা থাকলেও কোনো না কোনো ক্ষেপণাস্ত্র ফাঁক গলে বেরিয়ে যেতে পারে। তার মতে, হুথিদের বহু হামলা প্রতিহত করার পরও কিছু হামলা সফল হতে পারে।

নিরাপত্তানীতি ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক উলফগ্যাং পুস্তাই বলেন, সৌদি আরবের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মূল লক্ষ্য ছিল ইরান থেকে আসা হুমকি মোকাবিলা করা। তবে হুথিদের হামলা বাড়তে থাকায় সৌদি আরব ইয়েমেনের দিক থেকে আসা হুমকি মোকাবিলায় প্রতিরক্ষাব্যবস্থার কিছু অংশের অবস্থান ও ব্যবহার পরিবর্তন করছে বলে তার ধারণা।

আরেকটি বড় সমস্যা হলো প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত। সৌদি আরবসহ যুক্তরাষ্ট্রের অনেক আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক মিত্রের কাছে প্যাট্রিয়ট ও টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স (থাড) ব্যবস্থার প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত সীমিত।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের শুরুর মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা এসব প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যাপকভাবে ব্যবহার করেছিল। ফলে মজুতের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।

গত মাসে হুথিদের হামলা থেকে নিজেদের রক্ষা করতে কয়েকটি বন্ধুদেশের কাছে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও অন্যান্য সামরিক সহায়তা চেয়েছিল রিয়াদ বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

হুথিদেরও রয়েছে সীমাবদ্ধতা

হুথিরা শক্তিশালী অস্ত্র ব্যবহার করলেও তাদের সামরিক সক্ষমতার ওপর নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। জাতিসংঘের আরোপিত অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা, সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের অবরোধ এবং ইয়েমেনের বিভিন্ন রণাঙ্গনে একসঙ্গে লড়াই করার চাপ তাদের জন্য বড় বাধা।

নওয়াফ ওবায়েদের মতে, সামরিক শক্তির দিক থেকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট এগিয়ে থাকলেও হুথিরা মাঝেমধ্যে সৌদি আরবে হামলা চালিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের শিরোনাম হতে পারছে।

বিশ্বের বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর একটি এবং জি-২০-এর সদস্য হওয়ায় সৌদি আরবের ওপর বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহের দায়িত্ব রয়েছে। ফলে দেশটির বিমানবন্দর বা তেল স্থাপনায় হামলার প্রভাব শুধু সৌদি আরবেই সীমাবদ্ধ থাকে না। আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল ও জ্বালানি বাজারেও উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।

তবে হুথিদের হাতে ঠিক কতটি ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, তা জানা যায়নি। একই সময়ে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হামলা এবং ইয়েমেনের স্থলযুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মতো পর্যাপ্ত অস্ত্র তাদের আছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

ওবায়েদ বলেন, ইয়েমেনে সৌদি আরবের বিমান হামলার বড় লক্ষ্য হচ্ছে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্রের গুদাম, ভূগর্ভস্থ স্থাপনা ও ড্রোন তৈরির কারখানা ধ্বংস করা। তাঁর মতে, এসব হামলায় হুথিদের সামরিক সক্ষমতার ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।

পুস্তাইয়ের ধারণা, হুথিদের হাতে স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত সম্ভবত সীমিত হয়ে এসেছে। এ কারণে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়ে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে চাপে ফেলার মতো বড় আকারের হামলা চালানো তাদের পক্ষে কঠিন হতে পারে।

এর পরিবর্তে তারা কম সুরক্ষিত বেসামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে একটি বা অল্প কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে পারে। এতে ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার কার্যক্রম ব্যাহত করে বড় ধরনের কৌশলগত প্রভাব তৈরির চেষ্টা করতে পারে তারা।

সব মিলিয়ে, সৌদি আরবের উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা দেশটির নিরাপত্তার জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। তবে মাঝেমধ্যে কিছু হামলা সফল হওয়া মানেই সৌদি প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পুরোপুরি অকার্যকর—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। বরং দীর্ঘ সীমান্ত, বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রের সম্মিলিত ব্যবহার এবং প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতের সীমাবদ্ধতা এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

সূত্র: আল-জাজিরা

মেয়াপ্তোত্তীর্ণ QID নিয়ে কি কাতারে ফেরা সম্ভব? জেনে নিন আইনি উপায়

প্রকাশ: রবিবার, অক্টোবর ১৮, ২০২৬
মেয়াপ্তোত্তীর্ণ QID নিয়ে কি কাতারে ফেরা সম্ভব? জেনে নিন আইনি উপায়

কাতারে বসবাসরত অনেক প্রবাসীদের মনেই একটি সাধারণ প্রশ্ন জাগে—রেসিডেন্সি পারমিট (QID) মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে কি পুনরায় কাতারে প্রবেশ করা সম্ভব? সাম্প্রতিক তথ্য ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (MoI) বিধিমালা অনুযায়ী, আকামার মেয়াদ শেষ হলেও সঠিক আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নির্ধারিত উপায়ে কাতার রেসিডেন্সিতে পুনরায় ফিরে আসা সম্ভব। সে বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (MoI) বিধিমালা অনুযায়ী নির্দেশনামূলক তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

কাতার থেকে বিদেশে ভ্রমণের সময় বা কাতার আইডির মেয়াদ শেষ হওয়ার মুখোমুখি হলে প্রবাসীদের বেশ কিছু জরুরি আইনি ও প্রযুক্তিগত নিয়ম অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।

বৈধ আকামা থাকা অবস্থায় কাতারে প্রবেশের শর্তাবলী

সাধারণ নিয়মে কাতার আইডি বা রেসিডেন্সি পারমিটের মেয়াদ থাকা অবস্থায় যেকোনো কাতার প্রবাসী দেশে ফিরতে পারেন। তবে এ ক্ষেত্রে কয়েকটি মূল বিষয়ে নজর রাখা জরুরি।

বৈধ কাতার আইডি নিয়ে প্রবেশের শর্তাবলি

  • মেয়াদের শর্ত: কাতারে নামার মুহূর্ত পর্যন্ত কাতার আইডির মেয়াদ বহাল থাকতে হবে।

  • পাসপোর্টের মেয়াদ: ভ্রমণের সময় পাসপোর্টের ন্যূনতম ছয় মাসের মেয়াদ থাকা বাধ্যতামূলক।

  • ১৮০ দিনের সীমা: বিদেশে অবস্থানের সময়সীমা কোনোভাবেই টানা ১৮০ দিন বা ছয় মাস অতিক্রম করা যাবে না। এই নির্দিষ্ট সময় পার হয়ে গেলে বিমানবন্দরে এয়ারলাইনস থেকে বোর্ডিং পাস প্রদান না করার ঝুঁকি থাকে।

মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে কীভাবে ফিরবেন? প্রবেশ করার উপায় ('রিটার্ন পারমিট')

যদি কোনো কারণে আকামার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়, তবে কাতার প্রবেশের জন্য সংশ্লিষ্ট কাতার প্রবাসী নিজে সরাসরি টিকিট কেটে চলে আসতে পারবেন না। এ ক্ষেত্রে প্রবাসীর কফিল বা স্পন্সরকে (কোম্পানি বা ফ্যামিলি স্পন্সর) মেত্রাশ (Metrash) অ্যাপের মাধ্যমে 'রিটার্ন পারমিট' (Return Permit)-এর জন্য আবেদন করতে হবে।

  • আবেদন পদ্ধতি: স্পন্সর তার স্মার্টফোন থেকে অ্যাপে প্রবেশ করে 'Travel' অপশনে গিয়ে 'Return Permit' সেকশন সিলেক্ট করবেন। সেখানে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করে আবেদন দাখিল করতে হবে।

  • মেয়াদ ও ফি: কোম্পানি বা পারিবারিক স্পন্সরশিপের অধীনে এই পারমিটের জন্য সরকারি ফি ৫০০ কাতারি রিয়াল। রিটার্ন পারমিট ইস্যু হওয়ার পর এটি মাত্র ৩০ দিনের জন্য বৈধ থাকবে। এই সময়ের মধ্যেই কাতারে পৌঁছাতে হবে।

  • জরুরি পরামর্শ: আইডি বাতিল হওয়া বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিস্টেমে বাতিল ঠেকাতে আইডির মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত এক দিন আগে কিংবা মেয়াদ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই মেট্রাশে রিটার্ন পারমিটের আবেদন করা উচিত। অ্যাপে আবেদন প্রত্যাখ্যাত বা কোনো জটিলতা দেখা দিলে কাতারস্থ ওয়াদি আল বানাত (Wadi Al Banat) ইমিগ্রেশন অফিসে সরাসরি যোগাযোগ করা যেতে পারে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের নিজস্ব বিবেচনা ও দেরিতে ফেরার যৌক্তিক কারণ পর্যালোচনা করে এই পারমিট মঞ্জুর করে থাকে।

মেয়াদোত্তীর্ণ আইডির জরিমানা সংক্রান্ত তথ্য

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো প্রবাসীর রেসিডেন্স পারমিটের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যদি তিনি বিদেশে অবস্থান অব্যাহত রাখেন, তবে ৯০ দিনের বেশি বা নির্দিষ্ট মেয়াদের অতিরিক্ত প্রতি দিনের জন্য দৈনিক ১০ কাতারি রিয়াল হারে জরিমানার বিধান রয়েছে।

ভ্রমণের আগে টিকিট বুকিং না করে অবশ্যই স্পন্সরের মাধ্যমে আইডির সঠিক স্ট্যাটাস এবং রিটার্ন পারমিট নিশ্চিত করে নেওয়ার জন্য প্রবাসীদের প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

কাতারে ভিসা ব্যবসা এবং অবৈধ প্রবাসীদের ব্যাপারে পুলিশের নির্দেশনা

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ১৭, ২০২৬
কাতারে ভিসা ব্যবসা এবং অবৈধ প্রবাসীদের ব্যাপারে পুলিশের নির্দেশনা

কাতারে যেসব প্রবাসী রেসিডেন্সি বা কাতার আইডির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বেআইনিভাবে অবস্থান করছেন এবং নিজ দেশে ফিরে যেতে ইচ্ছুক, তাদের আত্মগোপনে না থেকে স্বেচ্ছায় এগিয়ে এসে সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (MoI) সার্চ অ্যান্ড ফলো-আপ ডিপার্টমেন্ট।

সম্প্রতি আয়োজিত একটি ওয়েবিনারে এই বিষয়ে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেন কাতার পুলিশের কর্মকর্তা সার্চ অ্যান্ড ফলো-আপ ডিপার্টমেন্টের ডিটেনশন সেকশনের প্রধান মেজর সৌদ হামাদ আল-বুরাইদি। তিনি জানান, যেসব প্রবাসী অনুমোদিত মেয়াদের বেশি সময় কাতারে অবস্থান করেছেন কিন্তু তাদের নামে অন্য কোনো আইনি মামলা বা ফৌজদারি অভিযোগ নেই, তারা স্বেচ্ছায় পুলিশের সিআইডি বিভাগে যোগাযোগ করে নিজ দেশে ফেরার আবেদন জানাতে পারেন।

আবেদনকারীদের ব্যক্তিগত পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের নিরাপদে দেশে ফেরার ব্যবস্থা করা হবে।

অনুষ্ঠানে ভিসাসংক্রান্ত আইন লঙ্ঘন ও অবৈধ ভিসা ব্যবসার শাস্তির বিষয়টিও কঠোরভাবে তুলে ধরে মেজর আল-বুরাইদি জানান, অবৈধ ভিসা বা ফ্রি ভিসা ব্যবসার সাথে জড়িত পাওয়া গেলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার কাতারি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা করা হবে। একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি হলে জরিমানার পরিমাণ বাড়িয়ে এক লাখ রিয়াল পর্যন্ত হতে পারে।

একইভাবে, কোনো নিয়োগকর্তা বা স্পন্সর যদি কর্মীর আইডির মেয়াদ শেষ হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে তা নবায়ন করতে ব্যর্থ হন, তবে তাকে প্রতিটির জন্য ১০ হাজার রিয়াল জরিমানা দিতে হবে।

অবৈধভাবে অবস্থান করা, ভিসার শর্ত ভঙ্গ করে অন্যত্র কাজ করা, আকামা নবায়ন না করা এবং কাজ থেকে পালিয়ে যাওয়ার মতো বিষয়গুলোর বিরুদ্ধে নিয়মিত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে সবাইকে সতর্ক করেন আলবুরাইদি।

তবে সার্চ অ্যান্ড ফলো-আপ ডিপার্টমেন্টের ডিটেনশন সেন্টার কোনো শাস্তিমূলক স্থান নয় বলে জানান তিনি। বরং এটি মূলত দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলাকালে সাময়িক অবস্থানের একটি স্থান, যেখানে ২৪ ঘণ্টা স্বাস্থ্যসেবা, সুষম খাবার এবং নিজ নিজ দূতাবাসের সাথে যোগাযোগের অধিকার নিশ্চিত করা হয়।

রেসিডেন্সিসংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে প্রবাসীরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট কিংবা ইউনিফাইড সার্ভিস সেন্টারগুলোর সহায়তা নিতে পারেন।

এছাড়া যেসব বিষয় এসব সেবা কেন্দ্রে সমাধান সম্ভব নয়, তার জন্য প্রবাসীদের সালওয়া রোডে অবস্থিত সার্চ অ্যান্ড ফলো-আপ ডিপার্টমেন্টের প্রধান কার্যালয়ে সরাসরি যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কাতারে চেক ডিজঅনার বা বাউন্স মামলার আইনি প্রক্রিয়া: প্রবাসীদের যা জানা জরুরি

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
কাতারে চেক ডিজঅনার বা বাউন্স মামলার আইনি প্রক্রিয়া: প্রবাসীদের যা জানা জরুরি

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারে চেক ডিজঅনার বা চেক বাউন্স হওয়া একটি অত্যন্ত গুরুতর আর্থিক অপরাধ। ব্যবসায়িক লেনদেন বা ব্যক্তিগত পাওনা আদায়ের ক্ষেত্রে চেক প্রদান করার পর যদি তা পর্যাপ্ত তহবিলের অভাব বা অন্য কোনো কারণে ব্যাংকে প্রত্যাখ্যাত হয়, তবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আইনি প্রক্রিয়ায় এর প্রতিকার পেতে পারেন। কাতারে চেক বাউন্স হলে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সুনির্দিষ্ট কিছু ধাপ অনুসরণ করতে হয়।

কাতারে চেক ডিজঅনার বা বাউন্স মামলার আইনি প্রক্রিয়া: প্রবাসীদের যা জানা প্রয়োজন

চেক বাউন্স হলে কী ঘটে?

একটি সাধারণ আইনি প্রক্রিয়ায় নিচের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকে:

  • চেক ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়।
  • ব্যাংক অর্থ পরিশোধ না করে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ উল্লেখ করে চেকটি ফেরত দেয়।
  • সুবিধাভোগী (Beneficiary) বা পাওনাদার চেক ডিজঅনার হওয়ার প্রমাণপত্র বা মেমো সংগ্রহ করেন।
  • এরপর তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দায়ের করতে পারেন।
  • পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে বিষয়টি তদন্ত ও প্রসিকিউশনের মাধ্যমে সামনে এগোতে পারে।
  • আদালত একইসঙ্গে ফৌজদারি দিক এবং চেকের অর্থ উদ্ধারের বিষয়টি পরিচালনা করতে পারেন।

কাতার সেন্ট্রাল ব্যাংকের (QCB) ক্লিয়ারিং-সিস্টেমের নিয়ম অনুযায়ী, ফেরত আসা চেকের সাথে অবশ্যই প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ উল্লেখ করে একটি দাপ্তরিক নথি যুক্ত থাকতে হবে।

আরও পড়ুন

কাতারে শিক্ষাগত সার্টিফিকেট বা ডিগ্রি অ্যাটেস্টেশন: নিয়মকানুন ও প্রক্রিয়া

কাতারে খোলা জায়গায় গাড়ি ধোয়া নিষিদ্ধ: অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা

ফৌজদারি শাস্তি

কাতার দণ্ডবিধির ৩৫৭ অনুচ্ছেদে চেক সংক্রান্ত একাধিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপরাধের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত তহবিল নেই জেনেও চেক ইস্যু করা, চেক ইস্যু করার পর অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ তুলে নেওয়া, অথবা চেকটি নগদায়ন করা সম্ভব নয় জেনেও তা প্রদান করা।

এই আইন অনুযায়ী, অপরাধীর কমপক্ষে তিন মাস থেকে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড এবং/অথবা ৩,০০০ থেকে ১০,০০০ রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। আদালত অপরাধীকে চেকের সমপরিমাণ অর্থ এবং সুবিধাভোগীর আইনি খরচ পরিশোধেরও নির্দেশ দিতে পারেন। তবে লক্ষণীয় যে, ব্যাংক থেকে ফেরত আসা প্রতিটি চেক স্বয়ংক্রিয়ভাবে অভিন্ন ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় না। চেক প্রদানের প্রেক্ষাপট এবং এর সাথে জড়িত পরিস্থিতিগুলো এক্ষেত্রে বিচার্য বিষয়।

প্রবাসীদের করণীয় কী?

আপনি যদি এমন কোনো চেক দিয়ে থাকেন যা বাউন্স করেছে, তবে পুলিশ, পাবলিক প্রসিকিউশন, আদালত বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের যোগাযোগ কোনোভাবেই এড়িয়ে চলবেন না। নিচের কাগজপত্রগুলোর কপি সবসময় নিজের সংগ্রহে রাখুন:

  • মূল চেকের কপি এবং চেকের নম্বর
  • ব্যাংক রিটার্ন মেমো (বাউন্স স্লিপ)
  • ব্যাংক স্টেটমেন্ট
  • অর্থ প্রদান বা আপস-মীমাংসার রেকর্ড
  • সুবিধাভোগীর সাথে যোগাযোগের প্রমাণ
  • চেকের সাথে সম্পর্কিত যেকোনো চুক্তিপত্র বা ইনভয়েস
  • আইডি এবং রেসিডেন্স পারমিট (QID)

আর আপনি যদি পাওনাদার বা সুবিধাভোগী হন, তবে মূল চেক এবং ব্যাংক থেকে পাওয়া চেক প্রত্যাখ্যাত হওয়ার প্রমাণপত্র সযত্নে সংরক্ষণ করুন। কাতারের বিচার মন্ত্রণালয়ের নির্দেশিকা অনুযায়ী চেক সংক্রান্ত আইনি সেবার ক্ষেত্রে এই নথিপত্রগুলো অপরিহার্য।

কাতারে চেকের মামলা করার ধাপে ধাপে আইনি প্রক্রিয়া নিচে তুলে ধরা হলো:

ব্যাংকের বাউন্স স্লিপ বা মেমো সংগ্রহ

চেক ব্যাংকে জমা দেওয়ার পর যদি তা ডিজঅনার হয়, তবে প্রথমেই ব্যাংক থেকে একটি অফিসিয়াল “চেক ডিজঅনার মেমো” বা বাউন্স স্লিপ সংগ্রহ করতে হবে। এই নথিতে চেক বাউন্স হওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ—যেমন অপর্যাপ্ত তহবিল (Insufficient Funds), অ্যাকাউন্ট বন্ধ থাকা বা স্বাক্ষরের অমিল—স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে।

থানায় অভিযোগ বা পুলিশ রিপোর্ট দায়ের: বাউন্স স্লিপ হাতে পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করতে হয়।

থানায় অভিযোগ: যে এলাকার ব্যাংকে চেকটি জমা দেওয়া হয়েছিল বা যে থানাধীনে চেকটি ইস্যু করা হয়েছে, সেই এলাকার পুলিশ স্টেশনে যোগাযোগ করতে হবে।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র: মূল চেক এবং এর উভয় পিঠের ফটোকপি, ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত বাউন্স স্লিপ, নিজের কাতার আইডি (QID)-এর কপি এবং বাণিজ্যিক বা চুক্তিভিত্তিক লেনদেন হলে সংশ্লিষ্ট চুক্তিপত্র বা ইনভয়েস সাথে রাখতে হবে। পুলিশ থানায় অভিযোগ নথিভুক্ত করার পর অভিযুক্ত ব্যক্তিকে (যিনি চেক প্রদান করেছেন) ডেকে পাঠাবে অথবা আইনগত তলব করবে।

প্রসিকিউশন ও আদালত

থানায় প্রাথমিক তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর পুলিশ মামলাটি পাবলিক প্রসিকিউশনে হস্তান্তর করে। পাবলিক প্রসিকিউশন তথ্য-প্রমাণ ও সত্যতা যাচাই করে মামলাটি ফৌজদারি আদালতে (Criminal Court) পাঠায়। কাতারের ফৌজদারি আইন (Qatar Penal Code No. 11 of 2004 - Article 357) অনুযায়ী, চেক ডিজঅনারের অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তির আর্থিক জরিমানা অথবা ৩ মাস থেকে ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

পাওনা টাকা আদায়ের দেওয়ানি প্রক্রিয়া

ফৌজদারি আদালতে অভিযুক্ত ব্যক্তির সাজা বা জরিমানা হলেও মূল পাওনা টাকা উদ্ধারের জন্য অনেক সময় দেওয়ানি বা বাণিজ্যিক আদালতে (Civil/Commercial Court) আলাদা দাবি বা মামলা দায়ের করতে হয়। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পুলিশ স্টেশন বা প্রসিকিউশন পর্যায়েই বিবাদী ব্যক্তি গ্রেফতার বা আইনি সাজা এড়াতে দেনা পরিশোধ করে দেন কিংবা পারস্পরিক সমঝোতায় পৌঁছান।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরামর্শ:

নির্ধারিত সময়: চেক বাউন্স হওয়ার পর কালক্ষেপণ না করে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। সময় বাড়লে নথিপত্র ও আইনি প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হতে পারে।

অনুবাদ: কোনো চুক্তিপত্র বা সহায়ক কাগজপত্র আরবি ছাড়া অন্য ভাষায় থাকলে তা কাতারের অনুমোদিত আইনি অনুবাদক দিয়ে আরবিতে অনুবাদ করিয়ে নেওয়া বাধ্যতামূলক।

আইনি সহায়তা: পাওনা বা মামলার আর্থিক পরিমাণ বড় হলে কিংবা প্রক্রিয়াটি দ্রুত সম্পন্ন করতে কাতারের লাইসেন্সপ্রাপ্ত স্থানীয় কোনো আইনজীবী বা লিগ্যাল কনসালটেন্টের পরামর্শ নেওয়া নিরাপদ।

চেকের মামলা থাকলে কি কাতার ত্যাগ করা যায়?

এটি এমন একটি বিষয় যেখানে প্রবাসীদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। এর পরিণতি মামলার বাস্তব অবস্থার ওপর নির্ভর করে। দেশ ত্যাগ করলেই চেকের মামলা বাতিল হয়ে যাবে—এমনটা ভাবা একেবারেই অনুচিত। ভ্রমণের আগে আপনার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ বা আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে কি না, তা জানতে কাতারের কোনো যোগ্য আইনজীবীর পরামর্শ নিন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আপনার আইনি অবস্থা (Legal Status) যাচাই করে নিন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত কোনো গুজবে কান দেবেন না। নির্দিষ্ট কোনো চেক বাউন্স হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা (Exit ban), গ্রেফতার, নির্বাসন বা কারাদণ্ড হবেই—এমন তথ্যের ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে মামলার বর্তমান অবস্থা এবং প্রযোজ্য আইনি প্রক্রিয়ার ওপর ভরসা করা উচিত।

আপনি যদি বিষয়টি মীমাংসা করতে চান

সম্ভব হলে কেবল মৌখিক চুক্তির ওপর নির্ভর না করে যেকোনো আপস-মীমাংসা বা অর্থ লেনদেনের লিখিত প্রমাণ সংগ্রহ করুন। আনুষ্ঠানিকভাবে আইনি প্রক্রিয়া বন্ধ বা প্রত্যাহার করতে কী কী পদক্ষেপ প্রয়োজন তা নিশ্চিত করতে একজন আইনজীবীর পরামর্শ নিন। কারণ, চেকের অর্থ পরিশোধ করা এবং আনুষ্ঠানিকভাবে একটি ফৌজদারি অভিযোগ নিষ্পত্তি করা একই বিষয় নয়।

(সতর্কীকরণ: কাতারের চেক সংক্রান্ত আইনি ও প্রশাসনিক পদ্ধতি পরিবর্তনশীল। উপরের তথ্যগুলো ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রাপ্ত আইন ও সরকারি নির্দেশনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে এবং এটি সাধারণ তথ্য মাত্র। কোনো চলমান ফৌজদারি অভিযোগ, সমন, গ্রেফতার ঝুঁকি বা ভ্রমণ সংক্রান্ত আইনি সমস্যার জন্য অবিলম্বে কাতারের লাইসেন্সপ্রাপ্ত আইনজীবীর পরামর্শ গ্রহণ করুন।)

আরও পড়ুন

কাতারে না জানিয়ে কারো ছবি বা ভিডিও ধারণ করলেই জেল-জরিমানা

সবুজে সেজে উঠছে কাতার: সবুজায়ন ও বৃক্ষরোপণে নতুন মাইলফলক

পাবলিক ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া ট্যাক্সি, লিমুজিন ও বাস চালানো নিষিদ্ধ: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

কাতারে শিক্ষাগত সার্টিফিকেট বা ডিগ্রি অ্যাটেস্টেশন: নিয়মকানুন ও প্রক্রিয়া

প্রকাশ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬
কাতারে শিক্ষাগত সার্টিফিকেট বা ডিগ্রি অ্যাটেস্টেশন: নিয়মকানুন ও প্রক্রিয়া

কাতারে চাকুরিতে আবেদন, নিয়োগকর্তা পরিবর্তন কিংবা পেশাদার লাইসেন্সিংয়ের প্রয়োজনীয়তা মেটাতে শিক্ষাগত সার্টিফিকেট বা ডিগ্রির বৈধতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। কাতারে অফিসিয়াল ব্যবহারের জন্য বিদেশ থেকে অর্জিত ডিপ্লোমা, বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি কিংবা চিকিৎসা শিক্ষার সনদ কাতার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (MOFA) মাধ্যমে অনুমোদন বা অ্যাটেস্ট করাতে হয়।

কাতারে শিক্ষাগত নথি অনুমোদনের নিয়মাবলী ও প্রক্রিয়া নিচে তুলে ধরা হলো:

নথি গ্রহণের শর্ত ও নিয়মাবলি:

বিদেশে জারি করা নথির ক্ষেত্রে নিজ দেশের যথাযথ প্রক্রিয়া শেষ করে অবশ্যই কাতারের সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক মিশন অথবা কাতারে অবস্থিত অনুমোদিত কোনো বিদেশী মিশনের মাধ্যমে অ্যাটেস্টেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

বিদেশে জারি করা যেকোনো স্নাতক ডিগ্রির সাথে মার্কশিট বা ট্রান্সক্রিপ্ট বাধ্যতামূলকভাবে জমা দিতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় যোগ্যতার ক্ষেত্রে সনদটি অবশ্যই একটি স্বীকৃত এবং অনুমোদিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হতে হবে। নথিতে প্রয়োজনীয় সিল এবং স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক।

ফিলিপাইনের নথির ক্ষেত্রে বিশেষ নির্দেশনা: ফিলিপাইন থেকে ইস্যুকৃত নথির ক্ষেত্রে অ্যাপোস্টিল (Apostille) কনভেনশন পুরোপুরি প্রযোজ্য না হওয়ায় অতিরিক্ত দূতাবাস বা কনস্যুলার বৈধতার প্রয়োজন হতে পারে। তাই নথিপত্র কাতারে পাঠানোর আগে ফিলিপাইন ডিএফএ (DFA)-এর নিয়মগুলো যাচাই করে নেওয়া উচিত।

অনলাইন আবেদন ও ফি:

আবেদনকারীরা খুব সহজেই অফিসিয়াল কাতার এমওএফএ (MOFA) ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইন আবেদন করতে পারেন। এছাড়া কনস্যুলার বিষয়ক বিভাগ এবং নির্বাচিত সরকারি সেবা কেন্দ্রের মাধ্যমেও আবেদন করা সম্ভব।

সাধারণ সার্টিফিকেটের অনুমোদন ফি: QAR ১০০।

কোম্পলিট অ্যাটেস্টেশন আউটসাইড কাতার:

বিদেশে বসেই এই সেবার মাধ্যমে এমওএফএ-এর সহযোগিতায় কাতারি মিশনে নথি পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় বৈধতা সম্পন্ন করা যায়। এই সেবার ক্ষেত্রে অনুমোদন সম্পন্ন করতে QAR ১৫০, কাতারি মিশনের ফি বাবদ প্রায় QAR ১২০ এবং সংশ্লিষ্ট দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত চার্জ প্রযোজ্য হতে পারে।

যোগাযোগ ও সহায়তা:

যেকোনো প্রয়োজনে বাসিন্দারা কাতারের সরকারি যোগাযোগ কেন্দ্র ১০৯ নম্বরে (২৪/৭ চালু) অথবা এমওএফএ অনুমোদন বিভাগে ৪০১১ ১১৮৮ নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন।

কাতারে ট্রাফিক পুলিশের নিলামে কম দামে গাড়ি কেনার সুযোগ: তারিখ, সময় ও শর্তাবলি

প্রকাশ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬
কাতারে ট্রাফিক পুলিশের নিলামে কম দামে গাড়ি কেনার সুযোগ: তারিখ, সময় ও শর্তাবলি

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাধারণ ট্রাফিক পরিচালনা অধিদপ্তরের উদ্যোগে আগামী ৪ অক্টোবর ২০২৬ থেকে শুরু হতে যাচ্ছে আটককৃত যানবাহনের পাবলিক নিলাম। ইন্ডাস্ট্রিয়াল এরিয়া ৫২ নম্বর স্ট্রিটের ভেহিকেল ইম্পাউন্ড ইয়ার্ডে এই নিলাম অনুষ্ঠিত হবে।

টানা দুই সপ্তাহব্যাপী এই নিলাম প্রতিদিন বিকেল ৩:০০ টা থেকে সন্ধ্যা ৬:০০ টা পর্যন্ত চলবে।

যানবাহন পরিদর্শনের সময়সূচি:

নিলামে তোলার আগে আগ্রহী ক্রেতারা নির্ধারিত সময়ে গাড়িগুলো সরেজমিনে দেখে নিতে পারবেন:

  • তারিখ: ৩০ সেপ্টেম্বর এবং ১ অক্টোবর ২০২৬

  • সময়: সকাল ৭:০০ টা থেকে দুপুর ১২:০০ টা পর্যন্ত

নিলামে অংশগ্রহণের মূল শর্তাবলি:

বিডিং কার্ড (Bidding Card): নিলামে অংশ নিতে ইচ্ছুকদের নিলাম চত্বরে প্রবেশের আগে ৩,০০০ কিউএআর (QAR 3,000) ক্যাশ ডিপোজিট বা জামানত দিয়ে বিডিং কার্ড সংগ্রহ করতে হবে। কার্ড ফেরত দিলে দিনের শেষে এই জামানত ফেরত পাওয়া যাবে অথবা পরবর্তী লেনদেনের জন্য জমা রাখা যাবে। তবে গাড়ি ক্রয়ে ব্যর্থ হলে কার্ডটি ডাউন পেমেন্ট হিসেবে গণ্য হবে।

ডাউন পেমেন্ট ও পরিশোধ: নিলামে গাড়ি ক্রয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার পর বিক্রয় মূল্যের ২০% তাৎক্ষণিক বা পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নন-refundable ডাউন পেমেন্ট হিসেবে পরিশোধ করতে হবে এবং পরের দিনই সম্পূর্ণ মূল্য পরিশোধ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ মূল্য পরিশোধ না করলে কমিটি পুনরায় গাড়িটি নিলামে তোলার অধিকার রাখে এবং পূর্বের ডাউন পেমেন্টের অর্থ ফেরত দেওয়া হবে না।

অন্যান্য নিয়ম: নাম পরিবর্তনের জন্য ২০০ কিউএআর ফি প্রযোজ্য এবং তা কেবল সম্পূর্ণ মূল্য পরিশোধের পরেই করা যাবে। নিলাম সম্পন্ন করার সময় অবশ্যই মূল আইডি কার্ড প্রদর্শন করতে হবে। এছাড়া নিলামের কার্যক্রমে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং আগের কোনো বকেয়া না থাকা সাপেক্ষে যেকোনো ব্যক্তিকে কমিটি বাদ দেওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করে।

নিলাম সংক্রান্ত বিস্তারিত নিয়মাবলি ও শর্ত জানতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্ধারিত সময়ে ইম্পাউন্ড ইয়ার্ডে উপস্থিত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।