১৮ অক্টোবর ২০২৬

“আমি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হতে পারি!” ট্রাম্পের কৌতুক

প্রকাশ: রবিবার, অক্টোবর ১৮, ২০২৬
“আমি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হতে পারি!” ট্রাম্পের কৌতুক

বিশ্ব মানচিত্রে এমন একটি দেশ রয়েছে, যেখানে ভোটযুদ্ধে দাঁড়ালে ডোনাল্ড ট্রাম্প খুব অনায়সেই যেকোনো জাতীয় নির্বাচনে জিততে পারেন, এবং তিনি নিজেও বিষয়টি খুব ভালো করেই জানেন।

"আমি চাইলে সেখানকার প্রধানমন্ত্রী পদে নির্বাচন করতে পারি," গত মে মাসে কৌতুকের ছলে এ কথা বলেছিলেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, সেখানে তাঁর জনপ্রিয়তা ৯৯ শতাংশ! যদিও কোনো জনমত জরিপেই এ ধরনের ৯৯ শতাংশ সমর্থনের অঙ্ক মেলেনি। কিন্তু তাঁর এই কৌতুকটি ইসরায়েলি রাজনীতিতে এক বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছিল, কারণ এটি নেহাৎ রসিকতা ছিল না—এর পেছনে লুকিয়ে ছিল গভীর এক রাজনৈতিক বাস্তবতা।

আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে জাতীয় নির্বাচন। তবে নির্বাচনের ঠিক ১০ দিন আগে এসে দেখা যাচ্ছে, এই পুরো নির্বাচনী প্রচারণার সবচেয়ে জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ হলেন স্বয়ং ডোনাল্ড ট্রাম্প—যদিও ব্যালট পেপারে তাঁর কোনো নাম নেই! থাকার কথাও নয়, যেহেতু তিনিই বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

কিন্তু, যে ব্যক্তি বিগত এক দশক ধরে ট্রাম্পের সাথে গভীর সখ্য তৈরি করে নিজের রাজনীতি টিকিয়ে রেখেছেন—বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু—তিনি আজ তিক্তভাবে আবিষ্কার করছেন যে, ট্রাম্পের সেই উষ্ণ আলিঙ্গন এখন অনেকটাই আলগা হয়ে এসেছে।

এক বছরের 'বীর বন্দনা' ও সখ্যতা

ট্রাম্প ও ইসরায়েলি রাজনীতির মধ্যকার এই মধুচন্দ্রিমার সম্পর্ক গত বছরের এই সময়ে এক চরম শিখরে পৌঁছেছিল। ২০২৫ সালের ১৩ অক্টোবর ট্রাম্পের টিমের মধ্যস্থতায় সম্পাদিত এক গাজা চুক্তির আওতায়, হামাসের কাছে বন্দি জীবিত থাকা শেষ ২০ জন ইসরায়েলি স্বদেশে ফিরে আসেন এবং একই দিনে ট্রাম্প ইসরায়েলি সংসদ 'নেসেট'-এ ভাষণ দেন।

ইসরায়েলি টেলিভিশন চ্যানেলগুলো ট্রাম্পের সেই ভাষণ এবং জিম্মিদের পরিবারের সাথে পুনর্মিলনের দৃশ্য একইসঙ্গে সম্প্রচার করেছিল। ফলে সাধারণ ইসরায়েলিদের কাছে এই দুটি দৃশ্য যেন এক ও অভিন্ন হয়ে ফুটে উঠেছিল।

এর পরপরই শুরু হয় ট্রাম্পকে সম্মান জানানোর পালা। নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে ইসরায়েলের "ইতিহাসের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বন্ধু" হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং দীর্ঘদিনের প্রথা ভেঙে কেবল নিজ দেশের নাগরিকদের জন্য সংরক্ষিত রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা 'ইসরায়েল পুরস্কার' একজন বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান—ট্রাম্পকে দেওয়ার ঘোষণা দেন।

এরপর আসে ২০২৬ সাল: ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সূচনা, এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি এবং জুলাই মাসে ট্রাম্প কর্তৃক ঘোষিত হামাসের অস্ত্রসংবরণ চুক্তি।

অর্থাৎ, ইসরায়েলের চাহিদামাফিক তেল আবিবের চিহ্নিত শত্রুদের বিরুদ্ধে ট্রাম্প যুদ্ধ শুরু করেছেন। আবার হামাসের হাত থেকে ইসরায়েলি বন্দি মুক্তিতেও ভূমিকা রেখেছেন। ইসরায়েল যেখানে সামরিক অভিযান চালিয়েও সফল হয়নি, হামাসের থেকে সেই যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি আদায় করেছে ট্রাম্পের কূটনীতিক চাপ। তাই তাঁর প্রতি ইসরায়েলিদের সমর্থন কম তো হওয়ার নয়।

আর সেটা ৯৯ শতাংশ না হলেও, মোটেও কম নয়। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক জরিপে দেখা যায়, ৬৯ শতাংশ ইসরায়েলি ট্রাম্পের ওপর গভীর আস্থা রাখেন।

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে 'জ্যুইশ পিপল পলিসি ইনস্টিটিউট'-এর এক গবেষণায় দেখা যায়, ৭৩ শতাংশ মানুষ ট্রাম্পকে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো সাধারণ প্রেসিডেন্টের চেয়ে বহুগুণ ভালো বলে মনে করেন।

তেল আবিব ইউনিভার্সিটির গবেষকরা একে বর্ণনা করেছেন "ট্রাম্প ইফেক্ট" হিসেবে: ইসরায়েলের সাধারণ ইহুদিরা—বিশেষ করে কট্টর ডানপন্থীরা—ফিলিস্তিনিদের সাথে আলোচনার ক্ষেত্রে অনেকটাই নমনীয় হয়ে ওঠেন, যখন তাদের বলা হয় যে এই শান্তি প্রস্তাবের নেপথ্যে ট্রাম্প রয়েছেন। এভাবে কোনো ইসরায়েলি রাজনৈতিক নেতা যা করতে পারেননি, ট্রাম্প তা অনায়াসেই করে দেখিয়েছেন।

যে সমর্থন আর কখনোই মিলছে না

২০১৯ সালের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর দল 'লিকুদ পার্টি' আয়ালোন মহাসড়কে বিশাল আকারের বিলবোর্ড ঝুলিয়েছিল: সেখানে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু হাত মেলাচ্ছেন এবং নিচে লেখা ছিল "অন্য উচ্চতার নেতৃত্ব" (ইন অ্যানাদার লিগ)। ট্রাম্প নিজেও সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছিলেন।

সমীকরণটা ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট: বিবি (নেতানিয়াহু) ট্রাম্পের জৌলুস ধার করে নিজের রাজনীতি চালাতেন, আর ট্রাম্প সেই প্রশংসা ও শ্রদ্ধা উপভোগ করতেন।

কিন্তু এবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট যেন তাঁর হাত দুটি নিজের পকেটেই গুটিয়ে রেখেছেন!

গত জুনে তিনি বলেছিলেন, নির্বাচনে প্রতিপক্ষের ওপর ভিত্তি করে তিনি "সম্ভবত" নেতানিয়াহুকেই সমর্থন করবেন। কিন্তু যখন গাদি আইজেনকোট নির্বাচনী ময়দানে নামলেন, ট্রাম্প মন্তব্য করে বসলেন যে আইজেনকোটের বিরুদ্ধে তিনি খারাপ কিছু শোনেননি। এমনকি টাইম ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহুকে সমর্থনের প্রশ্নটি তিনি অন্তত তিনবার কৌশলে এড়িয়ে গেছেন।

গত মঙ্গলবার 'মেরিন ওয়ান' হেলিকপ্টারে ওঠার আগে ট্রাম্প কেবল রহস্যময়ভাবে এটুকুই বলেন: "আমরা হয়তো কাউকে সমর্থন দিতে পারি।" কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম তিনি মুখে আনেননি।

সবচেয়ে কাছাকাছি তিনি যেটি করেছিলেন তা হলো—গত সেপ্টেম্বরে ট্রাম্পের নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল-এ নিউজম্যাক্স-এর একটি খবরের লিঙ্ক শেয়ার করা, যেখানে এক জরিপে নেতানিয়াহুর জোটকে এগিয়ে রাখা হয়েছিল। তবে ট্রাম্প নিজে সেটি পোস্ট করেছিলেন কিনা তা নিয়ে ঘোর সন্দেহ রয়েছে।

এর মধ্যেই ইসরায়েলি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, প্রতিপক্ষ গাদি আইজেনকোট এবং নাফতালি বেনেটের শিবিরগুলো ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠদের সাথে গোপনে কথা বলে তাঁকে এই নির্বাচনে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকার অনুরোধ জানিয়েছে। আর এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাদের সেই অনুরোধ পূরণ হচ্ছে বলেই মনে হচ্ছে।

ইসরায়েলের এই জাতীয় নির্বাচন এতটাই হাড্ডাহাড্ডি হতে যাচ্ছে যে, ট্রাম্পের এই নীরবতা একটি বড় ধরণের পরিবর্তন ঘটিয়ে দিতে পারে। গত মাসের পাঁচটি পৃথক জরিপ পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, আইজেনকোটের দল ইয়াশার গড়ে ২২.২টি আসন পেতে যাচ্ছে, যেখানে নেতানিয়াহুর লিকুদ পাচ্ছে ২১.২টি আসন।

আর জোটের হিসাবে, নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট পাচ্ছে গড়ে ৫৪.৪টি আসন এবং বিরোধী জায়নবাদী জোট পাচ্ছে ৫১টি আসন। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন কিন্তু কোনো পক্ষই এককভাবে ছুঁতে পারছে না।

বেদিতে দেখা দেওয়া ফাটল

এই দূরত্ব কিন্তু কেবল একতরফা নয়, দুই তরফ থেকেই তৈরি হয়েছে। গ্রীষ্মকালীন সময়ে ট্রাম্প প্রশাসন যখন তেহরানের সাথে পারমাণবিক চুক্তি ও দরকষাকষি নিয়ে ব্যস্ত ছিল, তখন তিনি লেবাননে সামরিক অভিযান সীমিত করতে এবং সিরিয়ার কিছু অঞ্চল থেকে সরে আসতে ইসরায়েলের ওপর মারাত্মক মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করেছিলেন।

এক উত্তপ্ত ফোনালাপের সময় নেতানিয়াহুকে "পাগল" বলেও ডাকার কথা ট্রাম্প স্বীকার করেছেন। ইসরায়েলঘনিষ্ঠ মার্কিন গণমাধ্যম অ্যাক্সিওস তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ট্রাম্প তাঁর ঘনিষ্ঠদের কাছে নাকি প্রায়ই বলেন— "বিবি (নেতানিয়াহু) নিজেই নিজের সবচেয়ে বড় শত্রু।"

ইসরায়েলি জনগণও বিষয়টি গভীরভাবে প্রত্যক্ষ করেছে। ইসরায়েল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউট-এর গ্রীষ্মকালীন এক জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্প ইসরায়েলের নিরাপত্তাকে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেন বলে বিশ্বাস করা মানুষের সংখ্যা মে মাসের ৪৪ শতাংশ থেকে কমে জুনে মাত্র ২৮ শতাংশে নেমে এসেছে।

কেবল ইহুদি উত্তরদাতাদের মধ্যে, ট্রাম্পের ওপর ইসরায়েল সম্পূর্ণ নির্ভর করতে পারে—এই বিশ্বাসের হার মার্চ থেকে জুনের মধ্যে ৩৮ পয়েন্টের বিশাল পতন ঘটেছে। মাত্র এক-তৃতীয়াংশ ইসরায়েলি মনে করেন, ইরান যুদ্ধের আগের তুলনায় বর্তমানে ইসরায়েলের কৌশলগত অবস্থান ভালো রয়েছে।

তবে সবচেয়ে অদ্ভুত বিষয় হলো, নীতিগত বিষয়ে অবিশ্বাস থাকা সত্ত্বেও ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা কিন্তু ইসরায়েলে এক চুলও কমেনি! ইসরায়েলিরা তাঁর নীতিকে সন্দেহ করতে পারে, কিন্তু ব্যক্তি ট্রাম্পকে তারা ঠিকই ভালোবাসে।

নেতানিয়াহুর নিজের প্রচারণাতেই এর প্রমাণ মেলে: সম্প্রতি লিকুদ পার্টির প্রার্থী তালিকায় নেতানিয়াহু এক ব্যবসায়ীকে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন, যিনি অতীতে ট্রাম্পকে "নৈতিকভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত" বলে সমালোচনা করেছিলেন। বিষয়টি জানাজানি হতেই কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নেতানিয়াহু আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চান এবং ট্রাম্পকে হোয়াইট হাউসে ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় বন্ধু বলে আখ্যা দেন।

এভাবে ইসরায়েলে বসে ট্রাম্পের সামান্য সমালোচনা করাও এখন নির্বাচনী প্রচারণার জন্য এক চরম ঝুঁকিপূর্ণ কাজ।

তাহলে এই দেশ আসলে কার?

ইসরায়েলের ওপর একচ্ছত্র ট্রাম্পের মালিকানা, "ট্রাম্পের দেশ" উক্তি আসলে সেটা বোঝায় না। এর অর্থ হলো—ট্রাম্প এখন এমন এক কেন্দ্রে পরিণত হয়েছেন, যাকে ঘিরে সব ইসরায়েলি রাজনীতিবিদদের ঘুরতে হয়। নেতানিয়াহু নির্বাচন করছেন ট্রাম্পের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু পরিচয়ে।

আবার আইজেনকোট নির্বাচন করছেন ট্রাম্পের শত্রু না হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে। পুরো রাজনীতির ময়দান এখন কেবল একটি বিতর্ক নিয়েই ব্যস্ত—কে ট্রাম্পকে সবচেয়ে ভালোভাবে সামলাতে পারবেন?

আন্তর্জাতিক স্তরে ও জাতীয়ভাবে দম্ভ ও অহমিকার এক দেশ ইসরায়েল; যার রয়েছে তীব্র রাজনৈতিক মতভেদে বিভক্ত, কিন্তু গণতান্ত্রিক একটি ইহুদিবাদী সমাজব্যবস্থা। তাদের জন্য এই ধরনের অন্ধ পরনির্ভরতা সত্যিই এক নজিরবিহীন ঘটনা। এবং এটি অদ্ভুত কিছু বার্তাও দিচ্ছে।

ট্রাম্প একসময় নেতানিয়াহুকে এমন এক ২০ দফার গাজা পরিকল্পনা মানতে বাধ্য করেছিলেন, যা কোনো ইসরায়েলি শাসক জোট কখনোই মেনে নিত না। আবার তিনিই প্রেসিডেন্ট হারজগকে চিঠি লিখে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে চলা ফৌজদারি মামলায় তাঁর খাস ক্ষমা প্রার্থনার দাবি তুলেছিলেন—যে ধরনের হস্তক্ষেপ অন্য কোনো বিদেশি নেতার কাছ থেকে এলে তেল আবিবে চরম হট্টগোল পড়ে যেত।

আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলিরা তাদের নিজেদের প্রধানমন্ত্রী বেছে নেওয়ার জন্য ভোট দেবেন। তবে ভোট দিতে যাওয়ার সময় অনেক ইসরায়েলির মনেই নীরবে একটি অভিন্ন প্রশ্ন ঘুরপাক খাবে: বিজয়ের শুভেচ্ছা জানিয়ে ওয়াশিংটন থেকে কার কাছে আগে ফোন আসবে?

অতএব, স্বাগতম ইসরায়েলে—যেখানে নির্বাচনের সবচেয়ে প্রভাবশালী ও দিকনির্ণায়ক মানুষটি (ট্রাম্প) নিজে কোনো ভোট দিতে পারবেন না, এবং আপাতত তিনি একটা শব্দও উচ্চারণ করছেন না!

লেখক: লিওন হাদার একজন আন্তর্জাতিক সাংবাদিক, ব্লগার, ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক, গ্রন্থকার এবং পরামর্শক।

ফিলিস্তিনিদের ভূমি ও ক্ষোভের স্বীকৃতি দিতে হবে! বারাক ওবামা

মেয়াপ্তোত্তীর্ণ QID নিয়ে কি কাতারে ফেরা সম্ভব? জেনে নিন আইনি উপায়

প্রকাশ: রবিবার, অক্টোবর ১৮, ২০২৬
মেয়াপ্তোত্তীর্ণ QID নিয়ে কি কাতারে ফেরা সম্ভব? জেনে নিন আইনি উপায়

কাতারে বসবাসরত অনেক প্রবাসীদের মনেই একটি সাধারণ প্রশ্ন জাগে—রেসিডেন্সি পারমিট (QID) মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে কি পুনরায় কাতারে প্রবেশ করা সম্ভব? সাম্প্রতিক তথ্য ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (MoI) বিধিমালা অনুযায়ী, আকামার মেয়াদ শেষ হলেও সঠিক আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নির্ধারিত উপায়ে কাতার রেসিডেন্সিতে পুনরায় ফিরে আসা সম্ভব। সে বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (MoI) বিধিমালা অনুযায়ী নির্দেশনামূলক তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

কাতার থেকে বিদেশে ভ্রমণের সময় বা কাতার আইডির মেয়াদ শেষ হওয়ার মুখোমুখি হলে প্রবাসীদের বেশ কিছু জরুরি আইনি ও প্রযুক্তিগত নিয়ম অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।

বৈধ আকামা থাকা অবস্থায় কাতারে প্রবেশের শর্তাবলী

সাধারণ নিয়মে কাতার আইডি বা রেসিডেন্সি পারমিটের মেয়াদ থাকা অবস্থায় যেকোনো কাতার প্রবাসী দেশে ফিরতে পারেন। তবে এ ক্ষেত্রে কয়েকটি মূল বিষয়ে নজর রাখা জরুরি।

বৈধ কাতার আইডি নিয়ে প্রবেশের শর্তাবলি

  • মেয়াদের শর্ত: কাতারে নামার মুহূর্ত পর্যন্ত কাতার আইডির মেয়াদ বহাল থাকতে হবে।

  • পাসপোর্টের মেয়াদ: ভ্রমণের সময় পাসপোর্টের ন্যূনতম ছয় মাসের মেয়াদ থাকা বাধ্যতামূলক।

  • ১৮০ দিনের সীমা: বিদেশে অবস্থানের সময়সীমা কোনোভাবেই টানা ১৮০ দিন বা ছয় মাস অতিক্রম করা যাবে না। এই নির্দিষ্ট সময় পার হয়ে গেলে বিমানবন্দরে এয়ারলাইনস থেকে বোর্ডিং পাস প্রদান না করার ঝুঁকি থাকে।

মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে কীভাবে ফিরবেন? প্রবেশ করার উপায় ('রিটার্ন পারমিট')

যদি কোনো কারণে আকামার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়, তবে কাতার প্রবেশের জন্য সংশ্লিষ্ট কাতার প্রবাসী নিজে সরাসরি টিকিট কেটে চলে আসতে পারবেন না। এ ক্ষেত্রে প্রবাসীর কফিল বা স্পন্সরকে (কোম্পানি বা ফ্যামিলি স্পন্সর) মেত্রাশ (Metrash) অ্যাপের মাধ্যমে 'রিটার্ন পারমিট' (Return Permit)-এর জন্য আবেদন করতে হবে।

  • আবেদন পদ্ধতি: স্পন্সর তার স্মার্টফোন থেকে অ্যাপে প্রবেশ করে 'Travel' অপশনে গিয়ে 'Return Permit' সেকশন সিলেক্ট করবেন। সেখানে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করে আবেদন দাখিল করতে হবে।

  • মেয়াদ ও ফি: কোম্পানি বা পারিবারিক স্পন্সরশিপের অধীনে এই পারমিটের জন্য সরকারি ফি ৫০০ কাতারি রিয়াল। রিটার্ন পারমিট ইস্যু হওয়ার পর এটি মাত্র ৩০ দিনের জন্য বৈধ থাকবে। এই সময়ের মধ্যেই কাতারে পৌঁছাতে হবে।

  • জরুরি পরামর্শ: আইডি বাতিল হওয়া বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিস্টেমে বাতিল ঠেকাতে আইডির মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত এক দিন আগে কিংবা মেয়াদ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই মেট্রাশে রিটার্ন পারমিটের আবেদন করা উচিত। অ্যাপে আবেদন প্রত্যাখ্যাত বা কোনো জটিলতা দেখা দিলে কাতারস্থ ওয়াদি আল বানাত (Wadi Al Banat) ইমিগ্রেশন অফিসে সরাসরি যোগাযোগ করা যেতে পারে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের নিজস্ব বিবেচনা ও দেরিতে ফেরার যৌক্তিক কারণ পর্যালোচনা করে এই পারমিট মঞ্জুর করে থাকে।

মেয়াদোত্তীর্ণ আইডির জরিমানা সংক্রান্ত তথ্য

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো প্রবাসীর রেসিডেন্স পারমিটের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যদি তিনি বিদেশে অবস্থান অব্যাহত রাখেন, তবে ৯০ দিনের বেশি বা নির্দিষ্ট মেয়াদের অতিরিক্ত প্রতি দিনের জন্য দৈনিক ১০ কাতারি রিয়াল হারে জরিমানার বিধান রয়েছে।

ভ্রমণের আগে টিকিট বুকিং না করে অবশ্যই স্পন্সরের মাধ্যমে আইডির সঠিক স্ট্যাটাস এবং রিটার্ন পারমিট নিশ্চিত করে নেওয়ার জন্য প্রবাসীদের প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

কাতারে চেক ডিজঅনার বা বাউন্স মামলার আইনি প্রক্রিয়া: প্রবাসীদের যা জানা জরুরি

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
কাতারে চেক ডিজঅনার বা বাউন্স মামলার আইনি প্রক্রিয়া: প্রবাসীদের যা জানা জরুরি

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারে চেক ডিজঅনার বা চেক বাউন্স হওয়া একটি অত্যন্ত গুরুতর আর্থিক অপরাধ। ব্যবসায়িক লেনদেন বা ব্যক্তিগত পাওনা আদায়ের ক্ষেত্রে চেক প্রদান করার পর যদি তা পর্যাপ্ত তহবিলের অভাব বা অন্য কোনো কারণে ব্যাংকে প্রত্যাখ্যাত হয়, তবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আইনি প্রক্রিয়ায় এর প্রতিকার পেতে পারেন। কাতারে চেক বাউন্স হলে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সুনির্দিষ্ট কিছু ধাপ অনুসরণ করতে হয়।

কাতারে চেক ডিজঅনার বা বাউন্স মামলার আইনি প্রক্রিয়া: প্রবাসীদের যা জানা প্রয়োজন

চেক বাউন্স হলে কী ঘটে?

একটি সাধারণ আইনি প্রক্রিয়ায় নিচের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকে:

  • চেক ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়।
  • ব্যাংক অর্থ পরিশোধ না করে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ উল্লেখ করে চেকটি ফেরত দেয়।
  • সুবিধাভোগী (Beneficiary) বা পাওনাদার চেক ডিজঅনার হওয়ার প্রমাণপত্র বা মেমো সংগ্রহ করেন।
  • এরপর তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দায়ের করতে পারেন।
  • পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে বিষয়টি তদন্ত ও প্রসিকিউশনের মাধ্যমে সামনে এগোতে পারে।
  • আদালত একইসঙ্গে ফৌজদারি দিক এবং চেকের অর্থ উদ্ধারের বিষয়টি পরিচালনা করতে পারেন।

কাতার সেন্ট্রাল ব্যাংকের (QCB) ক্লিয়ারিং-সিস্টেমের নিয়ম অনুযায়ী, ফেরত আসা চেকের সাথে অবশ্যই প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ উল্লেখ করে একটি দাপ্তরিক নথি যুক্ত থাকতে হবে।

আরও পড়ুন

কাতারে শিক্ষাগত সার্টিফিকেট বা ডিগ্রি অ্যাটেস্টেশন: নিয়মকানুন ও প্রক্রিয়া

কাতারে খোলা জায়গায় গাড়ি ধোয়া নিষিদ্ধ: অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা

ফৌজদারি শাস্তি

কাতার দণ্ডবিধির ৩৫৭ অনুচ্ছেদে চেক সংক্রান্ত একাধিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপরাধের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত তহবিল নেই জেনেও চেক ইস্যু করা, চেক ইস্যু করার পর অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ তুলে নেওয়া, অথবা চেকটি নগদায়ন করা সম্ভব নয় জেনেও তা প্রদান করা।

এই আইন অনুযায়ী, অপরাধীর কমপক্ষে তিন মাস থেকে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড এবং/অথবা ৩,০০০ থেকে ১০,০০০ রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। আদালত অপরাধীকে চেকের সমপরিমাণ অর্থ এবং সুবিধাভোগীর আইনি খরচ পরিশোধেরও নির্দেশ দিতে পারেন। তবে লক্ষণীয় যে, ব্যাংক থেকে ফেরত আসা প্রতিটি চেক স্বয়ংক্রিয়ভাবে অভিন্ন ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় না। চেক প্রদানের প্রেক্ষাপট এবং এর সাথে জড়িত পরিস্থিতিগুলো এক্ষেত্রে বিচার্য বিষয়।

প্রবাসীদের করণীয় কী?

আপনি যদি এমন কোনো চেক দিয়ে থাকেন যা বাউন্স করেছে, তবে পুলিশ, পাবলিক প্রসিকিউশন, আদালত বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের যোগাযোগ কোনোভাবেই এড়িয়ে চলবেন না। নিচের কাগজপত্রগুলোর কপি সবসময় নিজের সংগ্রহে রাখুন:

  • মূল চেকের কপি এবং চেকের নম্বর
  • ব্যাংক রিটার্ন মেমো (বাউন্স স্লিপ)
  • ব্যাংক স্টেটমেন্ট
  • অর্থ প্রদান বা আপস-মীমাংসার রেকর্ড
  • সুবিধাভোগীর সাথে যোগাযোগের প্রমাণ
  • চেকের সাথে সম্পর্কিত যেকোনো চুক্তিপত্র বা ইনভয়েস
  • আইডি এবং রেসিডেন্স পারমিট (QID)

আর আপনি যদি পাওনাদার বা সুবিধাভোগী হন, তবে মূল চেক এবং ব্যাংক থেকে পাওয়া চেক প্রত্যাখ্যাত হওয়ার প্রমাণপত্র সযত্নে সংরক্ষণ করুন। কাতারের বিচার মন্ত্রণালয়ের নির্দেশিকা অনুযায়ী চেক সংক্রান্ত আইনি সেবার ক্ষেত্রে এই নথিপত্রগুলো অপরিহার্য।

কাতারে চেকের মামলা করার ধাপে ধাপে আইনি প্রক্রিয়া নিচে তুলে ধরা হলো:

ব্যাংকের বাউন্স স্লিপ বা মেমো সংগ্রহ

চেক ব্যাংকে জমা দেওয়ার পর যদি তা ডিজঅনার হয়, তবে প্রথমেই ব্যাংক থেকে একটি অফিসিয়াল “চেক ডিজঅনার মেমো” বা বাউন্স স্লিপ সংগ্রহ করতে হবে। এই নথিতে চেক বাউন্স হওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ—যেমন অপর্যাপ্ত তহবিল (Insufficient Funds), অ্যাকাউন্ট বন্ধ থাকা বা স্বাক্ষরের অমিল—স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে।

থানায় অভিযোগ বা পুলিশ রিপোর্ট দায়ের: বাউন্স স্লিপ হাতে পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করতে হয়।

থানায় অভিযোগ: যে এলাকার ব্যাংকে চেকটি জমা দেওয়া হয়েছিল বা যে থানাধীনে চেকটি ইস্যু করা হয়েছে, সেই এলাকার পুলিশ স্টেশনে যোগাযোগ করতে হবে।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র: মূল চেক এবং এর উভয় পিঠের ফটোকপি, ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত বাউন্স স্লিপ, নিজের কাতার আইডি (QID)-এর কপি এবং বাণিজ্যিক বা চুক্তিভিত্তিক লেনদেন হলে সংশ্লিষ্ট চুক্তিপত্র বা ইনভয়েস সাথে রাখতে হবে। পুলিশ থানায় অভিযোগ নথিভুক্ত করার পর অভিযুক্ত ব্যক্তিকে (যিনি চেক প্রদান করেছেন) ডেকে পাঠাবে অথবা আইনগত তলব করবে।

প্রসিকিউশন ও আদালত

থানায় প্রাথমিক তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর পুলিশ মামলাটি পাবলিক প্রসিকিউশনে হস্তান্তর করে। পাবলিক প্রসিকিউশন তথ্য-প্রমাণ ও সত্যতা যাচাই করে মামলাটি ফৌজদারি আদালতে (Criminal Court) পাঠায়। কাতারের ফৌজদারি আইন (Qatar Penal Code No. 11 of 2004 - Article 357) অনুযায়ী, চেক ডিজঅনারের অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তির আর্থিক জরিমানা অথবা ৩ মাস থেকে ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

পাওনা টাকা আদায়ের দেওয়ানি প্রক্রিয়া

ফৌজদারি আদালতে অভিযুক্ত ব্যক্তির সাজা বা জরিমানা হলেও মূল পাওনা টাকা উদ্ধারের জন্য অনেক সময় দেওয়ানি বা বাণিজ্যিক আদালতে (Civil/Commercial Court) আলাদা দাবি বা মামলা দায়ের করতে হয়। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পুলিশ স্টেশন বা প্রসিকিউশন পর্যায়েই বিবাদী ব্যক্তি গ্রেফতার বা আইনি সাজা এড়াতে দেনা পরিশোধ করে দেন কিংবা পারস্পরিক সমঝোতায় পৌঁছান।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরামর্শ:

নির্ধারিত সময়: চেক বাউন্স হওয়ার পর কালক্ষেপণ না করে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। সময় বাড়লে নথিপত্র ও আইনি প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হতে পারে।

অনুবাদ: কোনো চুক্তিপত্র বা সহায়ক কাগজপত্র আরবি ছাড়া অন্য ভাষায় থাকলে তা কাতারের অনুমোদিত আইনি অনুবাদক দিয়ে আরবিতে অনুবাদ করিয়ে নেওয়া বাধ্যতামূলক।

আইনি সহায়তা: পাওনা বা মামলার আর্থিক পরিমাণ বড় হলে কিংবা প্রক্রিয়াটি দ্রুত সম্পন্ন করতে কাতারের লাইসেন্সপ্রাপ্ত স্থানীয় কোনো আইনজীবী বা লিগ্যাল কনসালটেন্টের পরামর্শ নেওয়া নিরাপদ।

চেকের মামলা থাকলে কি কাতার ত্যাগ করা যায়?

এটি এমন একটি বিষয় যেখানে প্রবাসীদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। এর পরিণতি মামলার বাস্তব অবস্থার ওপর নির্ভর করে। দেশ ত্যাগ করলেই চেকের মামলা বাতিল হয়ে যাবে—এমনটা ভাবা একেবারেই অনুচিত। ভ্রমণের আগে আপনার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ বা আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে কি না, তা জানতে কাতারের কোনো যোগ্য আইনজীবীর পরামর্শ নিন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আপনার আইনি অবস্থা (Legal Status) যাচাই করে নিন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত কোনো গুজবে কান দেবেন না। নির্দিষ্ট কোনো চেক বাউন্স হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা (Exit ban), গ্রেফতার, নির্বাসন বা কারাদণ্ড হবেই—এমন তথ্যের ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে মামলার বর্তমান অবস্থা এবং প্রযোজ্য আইনি প্রক্রিয়ার ওপর ভরসা করা উচিত।

আপনি যদি বিষয়টি মীমাংসা করতে চান

সম্ভব হলে কেবল মৌখিক চুক্তির ওপর নির্ভর না করে যেকোনো আপস-মীমাংসা বা অর্থ লেনদেনের লিখিত প্রমাণ সংগ্রহ করুন। আনুষ্ঠানিকভাবে আইনি প্রক্রিয়া বন্ধ বা প্রত্যাহার করতে কী কী পদক্ষেপ প্রয়োজন তা নিশ্চিত করতে একজন আইনজীবীর পরামর্শ নিন। কারণ, চেকের অর্থ পরিশোধ করা এবং আনুষ্ঠানিকভাবে একটি ফৌজদারি অভিযোগ নিষ্পত্তি করা একই বিষয় নয়।

(সতর্কীকরণ: কাতারের চেক সংক্রান্ত আইনি ও প্রশাসনিক পদ্ধতি পরিবর্তনশীল। উপরের তথ্যগুলো ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রাপ্ত আইন ও সরকারি নির্দেশনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে এবং এটি সাধারণ তথ্য মাত্র। কোনো চলমান ফৌজদারি অভিযোগ, সমন, গ্রেফতার ঝুঁকি বা ভ্রমণ সংক্রান্ত আইনি সমস্যার জন্য অবিলম্বে কাতারের লাইসেন্সপ্রাপ্ত আইনজীবীর পরামর্শ গ্রহণ করুন।)

আরও পড়ুন

কাতারে না জানিয়ে কারো ছবি বা ভিডিও ধারণ করলেই জেল-জরিমানা

সবুজে সেজে উঠছে কাতার: সবুজায়ন ও বৃক্ষরোপণে নতুন মাইলফলক

পাবলিক ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া ট্যাক্সি, লিমুজিন ও বাস চালানো নিষিদ্ধ: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

কাতারে শিক্ষাগত সার্টিফিকেট বা ডিগ্রি অ্যাটেস্টেশন: নিয়মকানুন ও প্রক্রিয়া

প্রকাশ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬
কাতারে শিক্ষাগত সার্টিফিকেট বা ডিগ্রি অ্যাটেস্টেশন: নিয়মকানুন ও প্রক্রিয়া

কাতারে চাকুরিতে আবেদন, নিয়োগকর্তা পরিবর্তন কিংবা পেশাদার লাইসেন্সিংয়ের প্রয়োজনীয়তা মেটাতে শিক্ষাগত সার্টিফিকেট বা ডিগ্রির বৈধতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। কাতারে অফিসিয়াল ব্যবহারের জন্য বিদেশ থেকে অর্জিত ডিপ্লোমা, বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি কিংবা চিকিৎসা শিক্ষার সনদ কাতার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (MOFA) মাধ্যমে অনুমোদন বা অ্যাটেস্ট করাতে হয়।

কাতারে শিক্ষাগত নথি অনুমোদনের নিয়মাবলী ও প্রক্রিয়া নিচে তুলে ধরা হলো:

নথি গ্রহণের শর্ত ও নিয়মাবলি:

বিদেশে জারি করা নথির ক্ষেত্রে নিজ দেশের যথাযথ প্রক্রিয়া শেষ করে অবশ্যই কাতারের সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক মিশন অথবা কাতারে অবস্থিত অনুমোদিত কোনো বিদেশী মিশনের মাধ্যমে অ্যাটেস্টেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

বিদেশে জারি করা যেকোনো স্নাতক ডিগ্রির সাথে মার্কশিট বা ট্রান্সক্রিপ্ট বাধ্যতামূলকভাবে জমা দিতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় যোগ্যতার ক্ষেত্রে সনদটি অবশ্যই একটি স্বীকৃত এবং অনুমোদিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হতে হবে। নথিতে প্রয়োজনীয় সিল এবং স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক।

ফিলিপাইনের নথির ক্ষেত্রে বিশেষ নির্দেশনা: ফিলিপাইন থেকে ইস্যুকৃত নথির ক্ষেত্রে অ্যাপোস্টিল (Apostille) কনভেনশন পুরোপুরি প্রযোজ্য না হওয়ায় অতিরিক্ত দূতাবাস বা কনস্যুলার বৈধতার প্রয়োজন হতে পারে। তাই নথিপত্র কাতারে পাঠানোর আগে ফিলিপাইন ডিএফএ (DFA)-এর নিয়মগুলো যাচাই করে নেওয়া উচিত।

অনলাইন আবেদন ও ফি:

আবেদনকারীরা খুব সহজেই অফিসিয়াল কাতার এমওএফএ (MOFA) ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইন আবেদন করতে পারেন। এছাড়া কনস্যুলার বিষয়ক বিভাগ এবং নির্বাচিত সরকারি সেবা কেন্দ্রের মাধ্যমেও আবেদন করা সম্ভব।

সাধারণ সার্টিফিকেটের অনুমোদন ফি: QAR ১০০।

কোম্পলিট অ্যাটেস্টেশন আউটসাইড কাতার:

বিদেশে বসেই এই সেবার মাধ্যমে এমওএফএ-এর সহযোগিতায় কাতারি মিশনে নথি পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় বৈধতা সম্পন্ন করা যায়। এই সেবার ক্ষেত্রে অনুমোদন সম্পন্ন করতে QAR ১৫০, কাতারি মিশনের ফি বাবদ প্রায় QAR ১২০ এবং সংশ্লিষ্ট দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত চার্জ প্রযোজ্য হতে পারে।

যোগাযোগ ও সহায়তা:

যেকোনো প্রয়োজনে বাসিন্দারা কাতারের সরকারি যোগাযোগ কেন্দ্র ১০৯ নম্বরে (২৪/৭ চালু) অথবা এমওএফএ অনুমোদন বিভাগে ৪০১১ ১১৮৮ নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন।

কাতারে ট্রাফিক পুলিশের নিলামে কম দামে গাড়ি কেনার সুযোগ: তারিখ, সময় ও শর্তাবলি

প্রকাশ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬
কাতারে ট্রাফিক পুলিশের নিলামে কম দামে গাড়ি কেনার সুযোগ: তারিখ, সময় ও শর্তাবলি

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাধারণ ট্রাফিক পরিচালনা অধিদপ্তরের উদ্যোগে আগামী ৪ অক্টোবর ২০২৬ থেকে শুরু হতে যাচ্ছে আটককৃত যানবাহনের পাবলিক নিলাম। ইন্ডাস্ট্রিয়াল এরিয়া ৫২ নম্বর স্ট্রিটের ভেহিকেল ইম্পাউন্ড ইয়ার্ডে এই নিলাম অনুষ্ঠিত হবে।

টানা দুই সপ্তাহব্যাপী এই নিলাম প্রতিদিন বিকেল ৩:০০ টা থেকে সন্ধ্যা ৬:০০ টা পর্যন্ত চলবে।

যানবাহন পরিদর্শনের সময়সূচি:

নিলামে তোলার আগে আগ্রহী ক্রেতারা নির্ধারিত সময়ে গাড়িগুলো সরেজমিনে দেখে নিতে পারবেন:

  • তারিখ: ৩০ সেপ্টেম্বর এবং ১ অক্টোবর ২০২৬

  • সময়: সকাল ৭:০০ টা থেকে দুপুর ১২:০০ টা পর্যন্ত

নিলামে অংশগ্রহণের মূল শর্তাবলি:

বিডিং কার্ড (Bidding Card): নিলামে অংশ নিতে ইচ্ছুকদের নিলাম চত্বরে প্রবেশের আগে ৩,০০০ কিউএআর (QAR 3,000) ক্যাশ ডিপোজিট বা জামানত দিয়ে বিডিং কার্ড সংগ্রহ করতে হবে। কার্ড ফেরত দিলে দিনের শেষে এই জামানত ফেরত পাওয়া যাবে অথবা পরবর্তী লেনদেনের জন্য জমা রাখা যাবে। তবে গাড়ি ক্রয়ে ব্যর্থ হলে কার্ডটি ডাউন পেমেন্ট হিসেবে গণ্য হবে।

ডাউন পেমেন্ট ও পরিশোধ: নিলামে গাড়ি ক্রয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার পর বিক্রয় মূল্যের ২০% তাৎক্ষণিক বা পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নন-refundable ডাউন পেমেন্ট হিসেবে পরিশোধ করতে হবে এবং পরের দিনই সম্পূর্ণ মূল্য পরিশোধ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ মূল্য পরিশোধ না করলে কমিটি পুনরায় গাড়িটি নিলামে তোলার অধিকার রাখে এবং পূর্বের ডাউন পেমেন্টের অর্থ ফেরত দেওয়া হবে না।

অন্যান্য নিয়ম: নাম পরিবর্তনের জন্য ২০০ কিউএআর ফি প্রযোজ্য এবং তা কেবল সম্পূর্ণ মূল্য পরিশোধের পরেই করা যাবে। নিলাম সম্পন্ন করার সময় অবশ্যই মূল আইডি কার্ড প্রদর্শন করতে হবে। এছাড়া নিলামের কার্যক্রমে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং আগের কোনো বকেয়া না থাকা সাপেক্ষে যেকোনো ব্যক্তিকে কমিটি বাদ দেওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করে।

নিলাম সংক্রান্ত বিস্তারিত নিয়মাবলি ও শর্ত জানতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্ধারিত সময়ে ইম্পাউন্ড ইয়ার্ডে উপস্থিত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কাতার থেকে হজের আবেদন ও শর্তাবলি ঘোষণা

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬
কাতার থেকে হজের আবেদন ও শর্তাবলি ঘোষণা

আসন্ন ১৪৪৮ হিজরির পবিত্র হজ পালনে ইচ্ছুক নাগরিকদের জন্য আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নিবন্ধনের সময়সূচি ঘোষণা করেছে কাতারের আওকাফ ও ইসলামিক বিষয়ক মন্ত্রণালয়। আগামী ২০ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে ২০ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত অফিসিয়াল হজ ওয়েবসাইটের (hajj.gov.qa) মাধ্যমে এই নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

এক সংবাদ সম্মেলনে হজ ও ওমরাহ বিষয়ক বিভাগের পরিচালক আলি সুলতান আল-মুসাইফ্রি এই ঘোষণা দেন। বিগত বছরগুলোতে আগাম নিবন্ধনের ফলে ইতিবাচক ফলাফল পাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, এর মাধ্যমে হজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো (কাফেলা) তাদের চুক্তি ও অপারেশনাল প্রস্তুতি অনেক আগেই সম্পন্ন করতে পারে, যা সেবার মান বাড়াতে সরাসরি ভূমিকা রাখে। সৌদি আরব সরকারের নির্ধারিত আগাম সময়সীমা এবং কোটা বরাদ্দের সাথে সামঞ্জস্য রেখেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

১৪৪৮ হিজরিতে কাতার থেকে হজের কোটা ও যোগ্যতা

আসন্ন হিজরি সেশনের জন্য কাতার থেকে হজের মোট কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪,৪০০ জন। সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য ও ফিটনেস মানদণ্ড অনুযায়ী এবারও আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

আবেদনের সুনির্দিষ্ট শর্তাবলি নিচে তুলে ধরা হলো:

কাতারি নাগরিকদের জন্য:

আবেদনকারীকে অবশ্যই ন্যূনতম ১৮ বছর বয়সী হতে হবে। প্রধান আবেদনে সর্বোচ্চ তিনজন সঙ্গী যুক্ত করা যাবে।

প্রবাসী ও জিসিসি (GCC) নাগরিকদের জন্য:

আবেদনকারীর বয়স ন্যূনতম ৪৫ বছর হতে হবে এবং ইতিপূর্বে কখনো হজ পালন করেননি এমন হতে হবে। তারা কেবল একজন সঙ্গী যুক্ত করতে পারবেন এবং কাতারে অন্তত ১৫ বছর একটানা বসবাস করার শর্ত পূরণ করতে হবে।

আরও পড়ুন

কাতারে ২০২৭ সালের হজের মেডিকেল পরীক্ষা শুরু: বিনা মূল্যে সনদ পাবেন যারা

উন্নত অনলাইন পেমেন্ট ও ইলেকট্রনিক চুক্তি ব্যবস্থা

হজযাত্রীদের সুবিধা নিশ্চিত করতে এবার অনলাইন নিবন্ধন ব্যবস্থায় আরও নমনীয় ও ব্যবহারকারী-বান্ধব পেমেন্ট সিস্টেম যুক্ত করা হয়েছে। সফলভাবে নিবন্ধিত হওয়ার পর ইলেকট্রনিক সিস্টেমে একটি নির্দিষ্ট ডাউন পেমেন্ট বা অগ্রিম ফি প্রদান করতে হবে (যার পরিমাণ পরবর্তীতে জানানো হবে)। এটি কোনো রেজিস্ট্রেশন ফি নয়, বরং এটি চূড়ান্ত চুক্তিমূল্যের অংশ হিসেবে কাটা হবে এবং আবেদনকারীদের আন্তরিকতা নিশ্চিত করতেই এই ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করতে মন্ত্রণালয় থেকে বিভিন্ন নির্দেশিকা ও ডিজিটাল সচেতনতামূলক ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রার্থীরা সঠিক ক্যাফেলাইন্টি নির্বাচন এবং ইলেকট্রনিক চুক্তি সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া সহজে জানতে পারবেন। নিবন্ধিত সব অনুমোদিত কাফেলা ওয়েবসাইটের তালিকাও সেখানে পাওয়া যাবে। যেকোনো জিজ্ঞাসা বা অভিযোগের জন্য অফিশিয়াল হটলাইন নম্বরে (১৩২) যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

নিবন্ধন পরবর্তী স্ক্রিনিং ও স্বাস্থ্য সনদ বাধ্যতামূলক

নিবন্ধন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরপরই ইলেকট্রনিক স্ক্রিনিং শুরু হবে এবং অক্টোবর মাসের শেষ দিক থেকে সফল আবেদনকারীদের মোবাইল নম্বরে এসএমএস-এর মাধ্যমে অনুমোদনের বার্তা পাঠানো হবে।

এদিকে কাতারি হজ মিশনের মেডিকেল ইউনিটের প্রধান ডা. হামাদ আল-রুহাইহি জানিয়েছেন, হজে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের জন্য মেডিকেল ফিটনেস সার্টিফিকেট সংগ্রহ করাই প্রথম এবং অত্যন্ত জরুরি পদক্ষেপ। দেশের যেকোনো স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করার পর এর ফলাফল ইলেকট্রনিক সিস্টেমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে হজ ও ওমরাহ বিভাগের সাথে যুক্ত হয়ে যাবে। তীর্থযাত্রীদের নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে হজ পালন নিশ্চিত করতেই এই মেডিকেল সার্টিফিকেটের কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।