১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আফ্রিকায় আশ্রয় চেয়েছেন ৬০ হাজারের বেশি বাংলাদেশী

প্রকাশ: বুধবার, সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
আফ্রিকায় আশ্রয় চেয়েছেন ৬০ হাজারের বেশি বাংলাদেশী

ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশী আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা ছিল ২৪ হাজার ৫৬১। পরের বছর তা কমে ৯ হাজার ৭১৯ জনে দাঁড়ায়। ২০২৩ সালে এ সংখ্যা ছিল ৯ হাজার ২৩৯, ২০২৪ সালে সামান্য বেড়ে ৯ হাজার ৩৯৬ ও ২০২৫ সালে আরো কমে ৬ হাজার ৫৪০ জনে নেমে আসে। একই সময়ে দেশটিতে বাংলাদেশী রিফিউজির সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ২০০, ১৫৩, ১৬৯, ১৭৫ ও ১২৩।

এ অঞ্চলের আরেক দেশ সোমালিয়ায় ২০২১-২৫ সাল পর্যন্ত প্রতি বছরই ছয়জন বাংলাদেশী শরণার্থী হিসেবে নথিভুক্ত ছিলেন। অন্যদিকে নামিবিয়ায় শুধু ২০২৩ সালে পাঁচজন বাংলাদেশী আশ্রয়প্রার্থীর তথ্য পাওয়া গেছে।

পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকায় বাংলাদেশী আশ্রয়প্রার্থীর উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে খুবই সীমিত। মালিতে ২০২১ ও ২০২২ সালে ৩২ জন করে মোট ৬৪ বাংলাদেশী আশ্রয়প্রার্থীর তথ্য পাওয়া গেছে। ক্যামেরুনে ২০২৪ সালে আবেদন করেছেন মাত্র পাঁচজন। এ অঞ্চলের কোনো দেশেই আলোচ্য সময়ে বাংলাদেশীদের শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার তথ্য নেই।

জনশক্তি রফতানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজের (বায়রা) সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৭০ হাজার মানুষ আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে আশ্রয় চেয়েছেন। সংখ্যাটি আমার কাছে বিস্ময়কর মনে হয়েছে।

তবে বাংলাদেশী পাসপোর্ট নিয়ে অনেক দেশে সহজে ভিসা পাওয়া যায় না। এ কারণে কেউ কেউ আফ্রিকার কোনো দেশে গিয়ে স্থায়ী হওয়ার পর সেখান থেকে উন্নত দেশে যাওয়ার চেষ্টা করেন। সবাই সরাসরি ইউরোপে প্রবেশের সুযোগ পান না। তাই তুলনামূলক কম খরচে বা বিকল্প পথে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশকে বেছে নিচ্ছেন অনেকে।’

উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশী আশ্রয়প্রার্থীর তথ্য পাওয়া গেছে মরক্কোয়। ২০২১ সালে দেশটিতে ৭২ জন বাংলাদেশী আশ্রয়প্রার্থী ছিলেন। ২০২২ সালে এ সংখ্যা কমে ১৬ জনে, ২০২৩ সালে ১৪ ও ২০২৪ সালে ১০ জনে নেমে আসে। তবে ২০২৫ সালে তা কিছুটা বেড়ে ১৯ জনে দাঁড়ায়। পাঁচ বছরে মরক্কোয় মোট ১৩১ বাংলাদেশীর রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

মিসরে ২০২১-২৫ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর পাঁচজন করে বাংলাদেশী আশ্রয়প্রার্থীর তথ্য রয়েছে। তিউনিসিয়ায় ২০২১ সালে ছয়জন ও ২০২২ সালে পাঁচজনসহ মোট ১১ জন এবং আলজেরিয়ায় শুধু ২০২৫ সালে পাঁচজন বাংলাদেশী আশ্রয়প্রার্থীর তথ্য পাওয়া গেছে। উত্তর আফ্রিকার কোনো দেশেই বাংলাদেশীদের শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার তথ্য নেই।

অভিবাসন ও শরণার্থীবিষয়ক বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীরের মতে, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অভিবাসন নীতি কঠোর হওয়ায় বাংলাদেশীদের একটি অংশ আশ্রয়ের জন্য তুলনামূলকভাবে অভিবাসীবান্ধব দেশগুলোকে বেছে নিচ্ছেন। এসব দেশে বৈধ অভিবাসীর মর্যাদা বা রেসিডেন্সি কার্ড পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সময়ে উন্নত বিশ্বে কর্মসংস্থানের সুযোগ খোঁজার পথও সহজ করতে পারে।

তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশী পাসপোর্টের নানা সীমাবদ্ধতার কারণে অনেকে এসব দেশে দীর্ঘমেয়াদে থেকে রেসিডেন্সি পারমিট পাওয়ার চেষ্টা করেন। এটি পরবর্তী সময়ে ইউরোপ বা অন্য কোনো উন্নত দেশে ভিসা পাওয়া কিংবা পুনরায় অভিবাসনের পথকে সহজ করে তোলে।

দক্ষিণ আফ্রিকা দীর্ঘদিন ধরেই শক্তিশালী ও স্বাবলম্বী গন্তব্য হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশী প্রবাসীরা সেখানে ছোট-বড় ব্যবসা গড়ে তোলার পাশাপাশি নিজেদের ব্যবসা প্রসারে দেশ থেকেই স্বজন বা পরিচিতদের নিয়ে যান। ফলে সেখানে একটি টেকসই চেইন মাইগ্রেশন তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোর কৌশলগত ব্যবহারের ধরন কিছুটা ভিন্ন। তিউনিসিয়া, মরক্কোর মতো দেশগুলো মূলত ইউরোপে প্রবেশের মূল ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়।’

ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর আঞ্চলিক বৈঠক স্থগিত করল ওমান

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর আঞ্চলিক বৈঠক স্থগিত করল ওমান

হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ ও সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলো এবং ইরানের মধ্যে ওমানে অনুষ্ঠিতব্য নির্ধারিত বৈঠক স্থগিত করা হয়েছে। সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা পিছিয়ে দেওয়া হয়।

ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ঐকমত্যের স্বার্থে সালালাহ শহরে আগামীকালের নির্ধারিত আঞ্চলিক বৈঠকটি স্থগিত করা হয়েছে। তবে আমাদের অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ও দীর্ঘস্থায়ী সহযোগিতার জন্য আমরা সংলাপ এগিয়ে নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ব্রিকস জোটের অবস্থানের প্রশংসা করেছে ইরান। ইরানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের চিফ অব প্রটোকল আব্বাস মৌসাভি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, তেহরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসন এবং তাদের আন্তর্জাতিক রীতিনীতি লঙ্ঘনের কারণেই ব্রিকস দেশগুলো এমন সাহসী অবস্থান নিয়েছে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে আচরণের ক্ষেত্রে পেশিশক্তির নির্লজ্জ ব্যবহার, একপেশে নীতি এবং নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে এবারের ব্রিকস সম্মেলন অত্যন্ত স্পষ্ট ও স্বচ্ছ বার্তা দিয়েছে।

উল্লেখ্য, বৈশ্বিক জিডিপির প্রায় ৪০ শতাংশের প্রতিনিধিত্বকারী ১১ সদস্যের ব্রিকস জোটের সম্মেলন গত রবিবার ভারতের নয়াদিল্লিতে শেষ হয়েছে। সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে একটি যৌথ ঘোষণাপত্র গ্রহণ করা হয়।

ওই ঘোষণাপত্রে মধ্যপ্রাচ্যে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানানো হলেও ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলা কিংবা উপসাগরীয় প্রতিবেশীদের লক্ষ্য করে তেহরানের পাল্টা হামলার বিষয়ে কোনো সরাসরি নিন্দা জানানো হয়নি।

ইয়েমেন যুদ্ধে কারা জড়িত ও কার কী ভূমিকা: এক নজরে জটিল এই সংকটের আদ্যোপান্ত

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
ইয়েমেন যুদ্ধে কারা জড়িত ও কার কী ভূমিকা: এক নজরে জটিল এই সংকটের আদ্যোপান্ত

এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ইরান-সমর্থিত হুতিরা সৌদি আরব-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের বাহিনীর বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযান শুরু করেছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ সৌদি আরব লক্ষ্য করে হামলাও চালিয়েছে তারা।

দীর্ঘদিনের এই সংঘাত শুধু ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এতে আঞ্চলিক শক্তি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও একাধিক সশস্ত্র গোষ্ঠী জড়িয়ে পড়েছে। ফলে ইয়েমেনের যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম জটিল ও দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে পরিণত হয়েছে।
সংঘাতের প্রধান পক্ষগুলো হলো—

হুতি

ইরান-সমর্থিত হুতিরা ‘আনসার আল্লাহ’ নামেও পরিচিত। ইয়েমেনের রাজধানী সানা-সহ দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলার মুখেও হুতিরা নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যও হুতিদের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়েছে। কিন্তু এসব সামরিক অভিযান গোষ্ঠীটির সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করতে পারেনি।

২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে হুতিদের পরিচিতি আরও বেড়ে যায়। গাজার প্রতি সংহতি প্রকাশের কথা বলে তারা ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে হামলা এবং লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে আক্রমণ শুরু করে। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথে আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচল ও বৈশ্বিক বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

হুতিদের কার্যক্রম ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধকে আঞ্চলিক সংঘাতের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করেছে।

সৌদি আরব

ইয়েমেনের যুদ্ধে সৌদি আরব সরাসরি সামরিকভাবে জড়িয়ে পড়ে ২০১৫ সালে। রিয়াদের নেতৃত্বে একটি সামরিক জোট হুতিদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে। লক্ষ্য ছিল তৎকালীন ইয়েমেনি প্রেসিডেন্ট আবদ-রাব্বু মনসুর হাদির সরকারকে পুনর্বহাল করা।

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দীর্ঘ সামরিক অভিযান সত্ত্বেও হুতিদের ক্ষমতার ভিত্তি পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া সম্ভব হয়নি। বরং যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় ইয়েমেনে ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়।

তবে পরবর্তী সময়ে সৌদি আরবের অবস্থানে পরিবর্তনের লক্ষণ দেখা যায়। ২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর ফলে দুই আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে তুলনামূলক বাস্তববাদী ও কম সংঘাতপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

এই পরিবর্তনের প্রভাব ইয়েমেন পরিস্থিতিতেও পড়ে এবং রিয়াদ সরাসরি সামরিক সংঘাতের পরিবর্তে রাজনৈতিক সমাধানের পথ খোঁজার দিকে বেশি গুরুত্ব দিতে শুরু করে।

প্রেসিডেনশিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল (পিএলসি)

ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রতিনিধিত্ব করে সৌদি-সমর্থিত প্রেসিডেনশিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল (পিএলসি)। ২০২২ সালে কাউন্সিলটি গঠন করা হয়।

দেশ পরিচালনা এবং একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতির দিকে আলোচনাকে এগিয়ে নেওয়া—পিএলসির অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। কাউন্সিলটিতে উত্তর ও দক্ষিণ ইয়েমেনের বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা এবং সামরিক পটভূমির ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এর মূল উদ্দেশ্য হলো হুতিদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তিকে একটি কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসা এবং সরকারের পক্ষে একটি ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি করা।

তবে পিএলসির ভেতরেও বিভিন্ন পক্ষের রাজনৈতিক স্বার্থ ও মতপার্থক্য রয়েছে। ফলে হুতিদের মোকাবিলায় একটি কার্যকর ও দীর্ঘস্থায়ী ঐক্য ধরে রাখা তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

ইসলাহ পার্টি

ইয়েমেনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক শক্তি হলো ইয়েমেনি কংগ্রেগেশন ফর রিফর্ম, যা সাধারণভাবে ‘ইসলাহ’ নামে পরিচিত। এটি একটি সুন্নি রাজনৈতিক আন্দোলন, যার সঙ্গে ঐতিহাসিকভাবে মুসলিম ব্রাদারহুডের সম্পর্ক রয়েছে। ইসলাহ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং পিএলসি-নেতৃত্বাধীন ইয়েমেন সরকারের একটি অংশ হলেও দলটির নিজস্ব রাজনৈতিক পরিচয় ও সাংগঠনিক কাঠামো রয়েছে।

ইয়েমেনের রাজনৈতিক ও সামরিক সংঘাতে ইসলাহের ভূমিকা দীর্ঘদিনের। হুতিদের বিরোধিতাকারী বিভিন্ন শক্তির মধ্যে দলটির অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হলেও পিএলসির ভেতরে থাকা অন্যান্য গোষ্ঠীর সঙ্গে তাদের রাজনৈতিক স্বার্থের পার্থক্য রয়েছে।

ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সেস

হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াই করা আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক শক্তি হলো ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সেস। এটি ইয়েমেন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত এবং সৌদি আরবের সঙ্গেও তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।

এই বাহিনীর নেতৃত্বে রয়েছেন তারেক সালেহ। তিনি ইয়েমেনের প্রয়াত সাবেক প্রেসিডেন্ট আলি আবদুল্লাহ সালেহর ভাতিজা। তারেক সালেহ ও তার নেতৃত্বাধীন বাহিনী হুতিবিরোধী সামরিক জোটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পিএলসির বৃহত্তর কাঠামোর মধ্যে বিভিন্ন হুতিবিরোধী শক্তিকে একত্রিত করার প্রচেষ্টায় ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সেসের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

কেন ইয়েমেনের যুদ্ধ এত জটিল?

ইয়েমেনের সংঘাতকে শুধু হুতি ও সরকারের মধ্যকার দ্বন্দ্ব হিসেবে দেখলে এর জটিলতা পুরোপুরি বোঝা যায় না। একদিকে হুতিরা দেশের বড় একটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে এবং ইরানের সমর্থন পাচ্ছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সৌদি আরব সমর্থন করছে।

এর পাশাপাশি পিএলসি, ইসলাহ এবং ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সেসের মতো বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তির নিজস্ব স্বার্থ রয়েছে। দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের রাজনৈতিক বিভাজনও সংঘাতকে আরও জটিল করেছে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে লোহিত সাগর ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রশ্ন। গাজা যুদ্ধের পর হুতিদের ইসরায়েল ও আন্তর্জাতিক জাহাজে হামলা ইয়েমেনের সংঘাতকে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর ভূরাজনীতির সঙ্গে যুক্ত করেছে।

ফলে ইয়েমেনে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য শুধু হুতিদের সঙ্গে সরকারের সমঝোতাই যথেষ্ট নয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামরিক গোষ্ঠীর মধ্যে সমঝোতা, সৌদি আরব ও ইরানের মতো আঞ্চলিক শক্তির ভূমিকা এবং ইয়েমেনের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কাঠামো—সবকিছুর সমন্বিত সমাধান প্রয়োজন।

এক দশকের বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধ তাই এখনও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম কঠিন রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংকট হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: আল-জাজিরা

সামরিক হস্তক্ষেপ ও বলপ্রয়োগের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিরসন অসম্ভব: নাবিল ফাহমি

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
সামরিক হস্তক্ষেপ ও বলপ্রয়োগের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিরসন অসম্ভব: নাবিল ফাহমি
আরব লীগের মহাসচিব নাবিল ফাহমি

সামরিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে উপসাগরীয় অঞ্চলের সংঘাত নিরসন করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন আরব লীগের মহাসচিব নাবিল ফাহমি।

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, এই সংকট অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে। রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

ফাহমি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কোনো সংকট সৃষ্টির ঝুঁকি রয়েছে। বলপ্রয়োগের মাধ্যমে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটানো সম্ভব নয়।

তিনি মনে করেন, ইরানের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে আরব দেশগুলোর ‘সুস্পষ্ট ভিত্তি’ গড়ে তোলা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, তেহরানকে অবশ্যই তাদের নীতি পরিবর্তন করতে হবে।

এ সময় তিনি কিছু আরব রাষ্ট্রের প্রতি ইরানের ভূমিকাকে অত্যন্ত নেতিবাচক হিসেবে অভিহিত করেন। লেবাননের বিষয়ে মহাসচিব বলেন, লেবাননের সংকট কেবল হিজবুল্লাহর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর সাথে ইসরায়েলের অব্যাহত দখলদারিত্বের বিষয়টিও জড়িত।

অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের পরিস্থিতির বিষয়ে ফাহমি বলেন, দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান বাস্তবায়ন করা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়েছে।

তিনি আরও বলেন, গাজায় ফিলিস্তিনিরা যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে চললেও, ইসরায়েলের অব্যাহত লঙ্ঘন মাঠপর্যায়ে এই চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সৌদির সঙ্গে আমাদের কোনো যুদ্ধ নেই: হুথি হামলার বিষয়ে অবস্থান পরিষ্কার করল ইরান

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
সৌদির সঙ্গে আমাদের কোনো যুদ্ধ নেই: হুথি হামলার বিষয়ে অবস্থান পরিষ্কার করল ইরান

সৌদি আরবের সঙ্গে যুদ্ধে নেই বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। সেইসঙ্গে আঞ্চলিক দেশগুলোকে একসঙ্গে কাজ করে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি। খবর সামা টিভির

পেজেশকিয়ান বলেন, ‘আমরা সৌদি আরবের সঙ্গে যুদ্ধে নেই। হুথিদের নিজস্ব কিছু বিষয় রয়েছে। আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় সব দেশের একসঙ্গে কাজ করা উচিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের একে অপরের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোর কোনো কারণ নেই।’

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির বিষয়ে জানতে চাইলে পেজেশকিয়ান বলেন, ‘তিনি জীবিত আছেন এবং আগের মতোই দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় নিজের দায়িত্ব পালন করছেন।’

পেজেশকিয়ান বলেন, ‘আমাদের সর্বোচ্চ নেতা জীবিত আছেন এবং আগের মতোই ব্যবস্থার মধ্যে নিজের ভূমিকা পালন করছেন।’

ইরানের প্রেসিডেন্ট আরও অভিযোগ করেন, দেশটির শত্রুরা বর্তমান সর্বোচ্চ নেতার বিরুদ্ধেও তার পূর্বসূরির ক্ষেত্রে নেওয়া একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করছে।

এদিকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপেরও সমালোচনা করেছেন পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, সামরিক সংঘাতের নামে সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত করা উচিত নয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘আমেরিকানরা যদি সত্যিই যোদ্ধা হয়, তাহলে তারা আমাদের সঙ্গে যুদ্ধের ময়দানে মোকাবিলা করুক। সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকাকে কেন লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে?’

পেজেশকিয়ান বলেন, ভয় দেখানো ও চাপ প্রয়োগ করে ইরানকে নতি স্বীকার করানো যাবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের জাতিকে ভয় ও চাপ দিয়ে আত্মসমর্পণ করানো সম্ভব নয়। ইরান আত্মসমর্পণ করবে না।’

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ‘পাহারাদারের’ কোনো প্রয়োজন নেই: ইরানের প্রেসিডেন্ট

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ‘পাহারাদারের’ কোনো প্রয়োজন নেই: ইরানের প্রেসিডেন্ট
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান

মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ‘আঞ্চলিক পাহারাদার’ হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের টানাপোড়েনের মধ্যে শনিবার ওই মন্তব্য করেছেন তিনি।

ভারতে চলমান ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বৈঠকে মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, ‘‘আমাদের কোনো আঞ্চলিক পাহারাদারের দরকার নেই।’’

এক বিবৃতিতে ইরানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় বলেছে, ‘এই অঞ্চলের অখণ্ডতা ও নিরাপত্তা কেবল ভূখণ্ডের মূল অংশীদার এবং এখানকার দেশগুলোই নিশ্চিত করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট।’

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হওয়ার পর থেকে ওই অঞ্চলে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এর জবাবে পুরো অঞ্চলজুড়ে পাল্টা হামলা শুরু করে ইরান। পাশাপাশি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করে দেয় তেহরান; যে পথ দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের পাঁচ ভাগের এক ভাগ পরিবাহিত হতো।

এরপর থেকেই গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের কর্তৃত্ব কবজায় নিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে লড়াই চলছে। যুদ্ধ শুরুর আগে এই প্রণালি দিয়ে মুক্তভাবে জাহাজ চলাচল করতে পারত। তবে ইরান এখন এ পথে চলাচলের জন্য জাহাজগুলোর পূর্বানুমতি বাধ্যতামূলক করেছে এবং সার্ভিস ফি নেওয়ার পরিকল্পনা করছে।

ইরানের নির্দেশ অমান্যকারী জাহাজগুলোতে নিয়মিত হামলা চালানো হচ্ছে। অন্যদিকে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ ভেঙে দিতে পর্যায়ক্রমে দেশটির উপকূলীয় এলাকায় বোমাবর্ষণ করছে মার্কিন বাহিনী।

মধ্যপ্রাচ্যে এই যুদ্ধ ছয় মাস পেরিয়ে যাওয়ার পর হরমুজ প্রণালির অবরোধের প্রভাব সরাসরি তেলের বাজারে পড়েছে। চলতি সপ্তাহে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

পেজেশকিয়ান বলেন, ‘আমাদের ওপর নানামুখী অন্যায়-অবিচার সত্ত্বেও আমরা যুদ্ধ কিংবা এই সংঘাতের দীর্ঘসূত্রতা চাই না। শান্তি প্রতিষ্ঠা করাই আমাদের মূল অগ্রাধিকার।’