১০ অক্টোবর ২০২৬

৮১টি মার্কিন বিমান ধ্বংস করেছে ইরান: সিআরএস

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ০৮, ২০২৬
৮১টি মার্কিন বিমান ধ্বংস করেছে ইরান: সিআরএস

ইরানকে ঘিরে চলমান সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৮১টি সামরিক উড়োজাহাজ ধ্বংস, বিধ্বস্ত বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার ও চালকবিহীন ড্রোন রয়েছে। মার্কিন কংগ্রেসের গবেষণা সংস্থা কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিস (সিআরএস) ৫ অক্টোবর হালনাগাদ করা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

তবে এই ৮১টি উড়োজাহাজের সবগুলোই স্থায়ীভাবে ধ্বংস হয়নি। সিআরএস জানিয়েছে, তালিকায় ধ্বংস ও বিধ্বস্ত হওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত উড়োজাহাজও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি মেরামত শেষে আবার কার্যক্রমে ফিরেছে। চলমান সামরিক অভিযান এবং শ্রেণিবদ্ধ তথ্যের কারণে ভবিষ্যতে এ সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আল আরাবিয়ার প্রতিবেদনে সিআরএসের তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে এমকিউ-৯ ‘রিপার’ ড্রোন। ইরানকে ঘিরে পরিচালিত অভিযানে অন্তত ৪৫টি এ ধরনের ড্রোন হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ ছাড়া এফ-১৫ই ‘স্ট্রাইক ঈগল’ যুদ্ধবিমানের ১২টি ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এফ-১৫ইগুলোর মধ্যে মার্চে কুয়েতের আকাশে নিজেদের বাহিনীর ভুল হামলায় তিনটি ধ্বংস হয়। এ ছাড়া এপ্রিল মাসে ইরানের আকাশসীমায় আরও একটি এফ-১৫ই ধ্বংস হওয়ার তথ্য রয়েছে। সেপ্টেম্বরে জর্ডানের মুওয়াফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে ইরানি হামলায় আটটি এফ-১৫ই ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সেগুলোর কয়েকটি পরে আবার কার্যক্রমে ফিরেছে।

সিআরএসের তালিকায় আরও রয়েছে একটি এফ-৩৫এ ‘লাইটনিং টু’, দুটি এ-১০ ‘থান্ডারবোল্ট টু’, সাতটি কেসি-১৩৫ আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান এবং একটি ই-৩ ‘সেন্ট্রি’ সতর্কতা ও নিয়ন্ত্রণ বিমান।

এ ছাড়া বিশেষ অভিযানে ব্যবহৃত দুটি এমসি-১৩০জে, একটি এইচএইচ-৬০ডব্লিউ উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার, একটি এমকিউ-৪সি ‘ট্রাইটন’ এবং তিনটি এমকিউ-১ ড্রোনের ক্ষয়ক্ষতির তথ্যও প্রতিবেদনে রয়েছে।

হেলিকপ্টারের তালিকায় রয়েছে হরমুজ প্রণালিতে ভূপাতিত একটি এএইচ-৬৪ ‘অ্যাপাচি’, উদ্ধার অভিযান চলাকালে ধ্বংস হওয়া চারটি এএইচ-৬ ‘লিটল বার্ড’ এবং আরব সাগরে বিধ্বস্ত একটি এমএইচ-৬০ ‘সি হক’।

সিআরএস বলছে, বিপুলসংখ্যক উড়োজাহাজের ক্ষয়ক্ষতি মার্কিন কংগ্রেসের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস হওয়া উড়োজাহাজ প্রতিস্থাপনে পেন্টাগনের পর্যাপ্ত অর্থ ও সক্ষমতা রয়েছে কি না, তা নিয়ে পর্যালোচনার প্রয়োজন হতে পারে।

এ ছাড়া ই-৩ ‘সেন্ট্রি’র মতো তুলনামূলকভাবে সীমিত সংখ্যায় থাকা গুরুত্বপূর্ণ উড়োজাহাজের ক্ষতি হলে মার্কিন সামরিক সক্ষমতায় কোনো ঘাটতি তৈরি হবে কি না, সেটিও কংগ্রেসের নজরদারির বিষয় হতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মার্কিন প্রতিরক্ষা শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা, সরবরাহব্যবস্থা এবং একই সময়ে বিদেশে সামরিক সরঞ্জামের চাহিদা-সব মিলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত উড়োজাহাজ দ্রুত প্রতিস্থাপন করা কঠিন হতে পারে।

কাতারের উত্তর উপকূলে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ১০, ২০২৬
কাতারের উত্তর উপকূলে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

কাতারের উত্তর উপকূলের অদূরে বহুজাতিক একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানায় বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য বিষয়ক সংস্থা ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বুধবার মদিনাত আশ শামাল থেকে ৯৪ কিলোমিটার (৫৮ মাইল) উত্তরে সমুদ্রসীমায় জাহাজটিতে এই হামলা চালানো হয়। ইউকেএমটিও এই ঘটনায় কতজন নিহত বা আহত হয়েছেন তা স্পষ্টভাবে জানায়নি, তবে কর্তৃপক্ষ ঘটনাটির তদন্ত চালাচ্ছে। এছাড়া আক্রান্ত জাহাজটি কোন দেশের সে বিষয়েও কিছু জানানো হয়নি।

পারস্য উপসাগরের মধ্যবর্তী এলাকায় বা পশ্চিমাংশে ট্যাঙ্কারে হামলার ঘটনা বিরল বলে জানিয়েছে বাণিজ্যিক নৌ পরিবহন বিষয়ক সাময়িকী দ্য মেরিটাইম এক্সিকিউটিভ। কাতার তাদের এক্সক্লুসিভ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ঘটা এই হামলার বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে গুরুত্বপূর্ণ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১২৫টি বড় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করত, যা বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের ২০ শতাংশ সরবরাহ নিশ্চিত করত। তবে যুদ্ধের পর ইরান প্রণালীটি অবরুদ্ধ করে এবং ওয়াশিংটনও ইরানি বন্দরে অবরোধ বজায় রাখে।

ইউকেএমটিও জানিয়েছে, চলতি মাসের শুরুতেই হরমুজ প্রণালিতে ৯টি তেলবাহী জাহাজে হামলা হয়েছে, যা সেপ্টেম্বর মাসের মোট আক্রমণের প্রায় অর্ধেক। তথ্য সংস্থা কেপলারের মতে, এসব হামলা সত্ত্বেও গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানি যুদ্ধপূর্ব গড়ে ১৮ মিলিয়ন ব্যারেল থেকে বৃদ্ধি পেয়ে দৈনিক ১৮ দশমিক ৩ মিলিয়ন ব্যারেলে পৌঁছেছে।

ড্রাইভিং স্কুলের স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধে কাতারের বড় পদক্ষেপ! দেওয়া হলো ১ মাসের সময়সীমা

ড্রাইভিং স্কুলের স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধে কাতারের বড় পদক্ষেপ! দেওয়া হলো ১ মাসের সময়সীমা

প্রকাশ: শুক্রবার, অক্টোবর ০৯, ২০২৬

গ্রাহকদের অধিকার সুরক্ষা এবং সেবা প্রদান প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ করতে কাতারের ড্রাইভিং স্কুলগুলোর জন্য নতুন ও কঠোর নিয়মকানুন প্রবর্তন করেছে বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় (MoCI)। ২০০৮ সালের ৮ নম্বর ভোক্তা সুরক্ষা আইনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করে এই নীতিমালা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

নতুন এই নিয়মগুলোর মূল লক্ষ্য হলো ড্রাইভিং স্কুল এবং প্রশিক্ষণার্থী বা গ্রাহকদের মধ্যকার চুক্তিভিত্তিক সম্পর্ক সুনির্দিষ্ট ও সুশৃঙ্খল করা।

নতুন নীতিমালার মূল দিকসমূহ:

  • লিখিত চুক্তি বাধ্যতামূলক: সেবা প্রদানের জন্য স্পষ্ট ও লিখিত চুক্তি ছাড়া কোনো গ্রাহকের কাছ থেকে কোনো ধরনের ফি বা অর্থ সংগ্রহ করতে পারবে না ড্রাইভিং স্কুলগুলো।

  • প্রশিক্ষণ শুরুর নির্দিষ্ট তারিখ: চুক্তির মধ্যে অবশ্যই ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ শুরুর প্রকৃত তারিখ স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে।

  • পারমিট নম্বর প্রাপ্তির সুযোগ: সাধারণ ডাইরেক্টরেট অব ট্রাফিক (General Directorate of Traffic) কর্তৃক ইস্যুকৃত পারমিট নম্বর যেন গ্রাহকরা সহজেই সংগ্রহ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে।

সময়সীমা ও নজরদারি:

নিয়ম লঙ্ঘনকারী ড্রাইভিং স্কুলগুলোকে তাদের বর্তমান অবস্থা সংশোধন এবং নতুন শর্তাবলী মেনে চলার জন্য নোটিশ জারির তারিখ থেকে এক মাসের একটি গ্রেস পিরিয়ড বা সময়সীমা দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত এই সময়সীমা শেষ হওয়ার পর, কাতার জুড়ে মাঠপর্যায়ে বিশেষ পরিদর্শণ অভিযান পরিচালনা করবে বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়, যাতে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান সঠিকভাবে নিয়ম মেনে চলছে কি না তা যাচাই করা যায়।

কোনো ড্রাইভিং স্কুল নিয়ম অমান্য করলে বা কোনো অনিয়ম দেখা দিলে তা তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে অভিযোগ বা তথ্যের জন্য বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের কল সেন্টার ১৬০০১ নম্বরে অথবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের অফিশিয়াল পেজে যোগাযোগ করা যাবে।

সুমধুর কণ্ঠে কুরআন তেলাওয়াত

কাতারে বাংলাদেশি কর্মী ফখরুল ইসলামকে সম্মাননা জানালেন পৌরসভা মন্ত্রী

প্রকাশ: শুক্রবার, অক্টোবর ০৯, ২০২৬
কাতারে বাংলাদেশি কর্মী ফখরুল ইসলামকে সম্মাননা জানালেন পৌরসভা মন্ত্রী

কাতারের পৌরসভামন্ত্রী আবদুল্লাহ বিন হামাদ বিন আবদুল্লাহ আল আত্তিয়াহ-এর কাছ থেকে সম্মাননা পেলেন বাংলাদেশি পরিচ্ছন্নতাকর্মী ফখরুল ইসলাম দুদু। সিলেটের বাসিন্দা ফখরুল ইসলাম কাতারের পৌরসভা মন্ত্রণালয়ের পরিচ্ছন্নতা বিভাগে কর্মরত।

ফখরুল ইসলামের বাড়ি বাংলাদেশের সিলেট জেলার কানাইঘাট উপজেলার ৮ নং ঝিঙ্গাবাড়ি ই্উনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের বাখাইরপাড় গ্রামে। তার বাবার নাম লাল মিয়া।

কাতারে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত পরিবেশ বিষয় সম্মেলন ও প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সুমধুর কণ্ঠে কুরআন তেলাওয়াত করে উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করেন ফখরুল ইসলাম। এই বিশেষ অংশগ্রহণের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এ সম্মাননা জানান কাতারি মন্ত্রী।

কাতার পৌরসভা মন্ত্রণালয়ের কর্মীদের প্রচেষ্টা ও প্রতিভার স্বীকৃতি দেওয়ার অংশ হিসেবেই এ সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি কর্মীদের নিজস্ব দক্ষতা ও প্রতিভা তুলে ধরতে এবং মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে উৎসাহিত করাও এর উদ্দেশ্য।

কাতারের পরিচ্ছন্নতা বিভাগে কর্মরত একজন বাংলাদেশি হিসেবে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অনুষ্ঠানে নিজের প্রতিভা তুলে ধরে মন্ত্রীর কাছ থেকে সম্মাননা পাওয়া ফখরুল ইসলাম দুদুর জন্য যেমন বিশেষ অর্জন, তেমনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্যও এটি আনন্দের খবর।

২০৩৬ অলিম্পিকের আয়োজক হতে প্রস্তুত কাতার: ৯৫ শতাংশ অবকাঠামো আগেই তৈরি

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ০৮, ২০২৬
২০৩৬ অলিম্পিকের আয়োজক হতে প্রস্তুত কাতার: ৯৫ শতাংশ অবকাঠামো আগেই তৈরি

ফিফা বিশ্বকাপের সফল আয়োজন এবং এর দীর্ঘমেয়াদি উত্তরাধিকারকে পুঁজি করে এবার অলিম্পিক ও প্যারালিম্পিক গেমস ২০৩৬ আয়োজনের লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলেছে কাতার। বিশ্বের বৃহত্তম এই ক্রীড়াযজ্ঞ দোহায় নিয়ে আসার মাধ্যমে দেশটি তাদের ক্রীড়া ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচনা করতে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট আয়োজনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, শক্তিশালী ক্রীড়া অবকাঠামো এবং দক্ষ সাংগঠনিক কাঠামোর ওপর ভিত্তি করেই মূলত এই বিড বা দরপ্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে।

২০৩০ এশিয়ান গেমস: প্রস্তুতির বড় পরীক্ষা

কাতারের অলিম্পিক যাত্রায় পরবর্তী বড় মাইলফলক হতে চলেছে ২০৩০ সালের এশিয়ান গেমসের পতাকা গ্রহণ। আসন্ন এশিয়ান গেমস দেশটির অবকাঠামো ও সাংগঠনিক কাঠামোর সার্বিক প্রস্তুতি এবং মহাদেশীয় পর্যায়ের বৃহৎ পরিসরের প্রতিযোগিতা আয়োজনের সক্ষমতা যাচাইয়ের একটি চমৎকার ব্যবহারিক পরীক্ষা হিসেবে কাজ করবে। এশিয়ান গেমসের এই আয়োজন কেবল প্রতিযোগিতার মাঝেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি এশিয়ার অলিম্পিক কাউন্সিল এবং ক্রীড়া সম্প্রদায়ের সেই আস্থারই প্রতিফলন, যা কাতারের ওপর প্রতিনিয়ত বজায় রয়েছে।

আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির স্বীকৃতি ও জোয়ান বিন হামাদের নেতৃত্ব

আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (IOC) পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ২০৩৬ সালের গেমস আয়োজনে আগ্রহী দেশগুলোর তালিকায় কাতারের অন্তর্ভুক্তি এই বিডের শক্ত ভিত্তি তৈরি করেছে। কাতারের এই উদ্যোগ কেবল একটি একক ক্রীড়া ইভেন্ট আয়োজনের চেয়ে অনেক বড়, যার মূল লক্ষ্য হলো একটি ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা উপহার দেওয়া। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে কাতার অলিম্পিক কমিটির প্রেসিডেন্ট এবং বিড কমিটির চেয়ারম্যান মহামান্য শেখ জোয়ান বিন হামাদ আল-থানির নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির সাথে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়।

বিদ্যমান অবকাঠামো ও অপারেশনাল প্রস্তুতি

কাতারের অলিম্পিক বিডের অন্যতম বড় শক্তি হলো এর উন্নত ক্রীড়া ইকোসিস্টেম। বিভিন্ন পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গেমস আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর প্রায় ৯৫ শতাংশই ইতোমধ্যে প্রস্তুত রয়েছে। এর পেছনে রয়েছে আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়া ভেন্যু, আধুনিক স্টেডিয়াম, বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, জলক্রীড়া কমপ্লেক্স এবং অ্যাথলেটিক্স ও দলগত ক্রীড়ার উন্নত সুযোগ-সুবিধা। পাশাপাশি আবাসন, উন্নত যাতায়াত ব্যবস্থা, সড়ক ও পরিবহন নেটওয়ার্ক এবং লজিস্টিক সেবার সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করা হয়েছে। নতুন করে কোনো অলিম্পিক সিটি বা অবকাঠামো শূন্য থেকে গড়ে তোলার পরিবর্তে, বিদ্যমান অবকাঠামোর সঠিক ব্যবহার ও রূপান্তরই এই বিডের মূল ভিত্তি।

আরব বিশ্বের সর্বাত্মক সমর্থন

কাতারের এই অলিম্পিক ও প্যারালিম্পিক বিড কেবল প্রযুক্তিগত ও সাংগঠনিক শক্তির ওপরই দাঁড়িয়ে নেই, বরং এর সাথে যুক্ত হয়েছে আরব লীগ কাউন্সিলের মন্ত্রিপর্যায়ের রাজনৈতিক সমর্থন। এই আঞ্চলিক সমর্থন কাতারের কারিগরি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতিকে আরও সুদৃঢ় করেছে।

বিশ্বকাপের বর্ণাঢ্য উত্তরাধিকারকে সাথে নিয়ে এবং বিদ্যমান পরিকাঠামোকে কাজে লাগিয়ে ২০৩৬ সালের অলিম্পিক আয়োজনের মাধ্যমে কাতার বিশ্বমঞ্চে নিজেদের সক্ষমতার আরেকটি নতুন ইতিহাস রচনার পথে রয়েছে।

সৌদির নিরাপত্তায় মক্কা জোটকে সমর্থন, কাতার-ইরান বৈঠক সম্পন্ন

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ০৮, ২০২৬
সৌদির নিরাপত্তায় মক্কা জোটকে সমর্থন, কাতার-ইরান বৈঠক সম্পন্ন

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ সংলাপ ও তথ্য আদান-প্রদান অব্যাহত রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে কাতার। সংঘাত নিরসন ও টেকসই কূটনৈতিক সমাধানের লক্ষ্যে পাকিস্তান ও কাতার যৌথভাবে দুটি পরাশক্তির মধ্যে মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।

মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইব্রাহিম আল-হাশেমি জানান, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে এমন একটি অগ্রগতির ভিত্তি তৈরির চেষ্টা চলছে, যার ওপর ভর করে ভবিষ্যতে আনুষ্ঠানিক আলোচনা এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। তিনি স্পষ্ট করেন, দুই পক্ষের মধ্যে দোহার এই মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা নিরবচ্ছিন্নভাবে চালু রয়েছে এবং কোনো পর্যায়েই তা বন্ধ হয়নি।

ইতোমধ্যে আলোচনার ধারাবাহিকতায় ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইস্কান্দার মোমেনি কাতার সফর করছেন। সফরের অংশ হিসেবে দুই দেশের মধ্যে আঞ্চলিক পরিস্থিতি ছাড়াও স্পর্শকাতর সামরিক ও নিরাপত্তা ইস্যুতে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে সংঘাতের সময় ভূপাতিত ইরানি বিমান ও পাইলটদের উদ্ধার সংক্রান্ত বিষয়ে একটি কারিগরি প্রতিনিধি দল দোহায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে তেহরান।

এদিকে আঞ্চলিক ভূরাজনীতি প্রসঙ্গে কাতারি মুখপাত্র জানান, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষায় যেকোনো পদক্ষেপকে কাতার স্বাগত জানায়। এ প্রসঙ্গে তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের সমন্বয়ে গঠিত ‘মাক্কাহ অ্যালায়েন্স ফর ডিফেন্স’ বা মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের প্রশংসা করে তিনি বলেন, এটি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

একই সঙ্গে সৌদি আরবের পবিত্র স্থান ও বেসামরিক অবকাঠামোতে ইয়েমেনের হুথি বাহিনীর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে কাতার। রিয়াদের ভূখণ্ড ও নিরাপত্তা সুরক্ষায় সৌদি সরকারের নেওয়া সমস্ত পদক্ষেপের প্রতি দোহার পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।